কলামিস্টদের নাম
মিজানুর রহমান খান এর কলামগুলো

রানা প্লাজার অজানা কাহিনি-৩
যমুনা ও এক্সিম ব্যাংকের পাঁচ কোটি টাকা
উপ-সম্পদকীয়
প্রথম আলো
২৪ মে, ২০১৩
যমুনা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে মেসার্স রানা প্লাজার নামে ছয়তলা ভবন নির্মাণে ঋণ নেওয়া হয়েছে, কাগজপত্রে কখনো ১০ তলা দাবি করা হয়নি। নির্মাতা কাজী সায়ফুলকে দেওয়া সাড়ে ৩০ শতাংশ জমির তথ্যও ব্যাংকের কাছে রানারা গোপন করেছেন। ১৩ কোটি টাকা দাম দেখানো রানা প্লাজার ৫০ শতাংশ জমি এখনো এক্সিম ব্যাংকের কাছে বন্ধক আছে। ধসে পড়ার সময় বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্য এক সূত্রের দাবি, রানা প্লাজা নির্মাণে ঋণগ্রস্ত হয়ে এর মূল নির্মাতা ...
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির অবাক সিদ্ধান্ত
সরল গরল
প্রথম আলো
০৫ এপ্রিল, ২০১৩
টমটমে চড়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহপুরের মানুষের কাছে গিয়েছেন। বলেছেন, তাঁকে আটবার নির্বাচিত করার জন্য তিনি তাঁদের কাছে চিরঋণী। কিন্তু তাঁর দুটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত তাঁর ঋণ আসলে কার কাছে, সেই প্রশ্ন তীক্ষ করেছে। গুরুতর অসদাচরণের দায়ে জাতীয় সংসদে তিরস্কৃত একজন বিচারককে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ। অন্যদিকে আওয়ামীপন্থী একদল চিকিৎসক নেতাকে অধ্যাপনায় পদোন্নতি প্রদান। এতে প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবদুল হামিদের তুলনামূলক নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি কলুষিত হয়েছে। এবং সেটা এমন একটি প্রেক্ষাপটে ঘটল, যখন রাজনীতিতে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে এবং তাঁকে ঘিরে নির্বাচনকালীন একটা ...
জামায়াত নিষিদ্ধে ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
সরল গরল
প্রথম আলো
২৪ মার্চ, ২০১৩
আমরা নীতিগতভাবে একমত যে স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত জামায়াতের রাজনীতি করার অধিকার নেই। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে তিনটি বিকল্প আলোচিত। হাইকোর্টের রিট, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাহী আদেশ। রিটে নিষিদ্ধ নয়, কেবল নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্ন আছে। তিয়াত্তরের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে বিচ্ছিন্নভাবে ‘সংগঠন’ শব্দটি ঢোকানো ঠিক হয়নি। এটি সরকারের পলায়নপরতা। কারণ, বর্তমান অবস্থায় অভিযুক্ত দলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলাই করা যাবে না। বাকি থাকে সরকারের নির্বাহী আদেশ। বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা এখন অনুপস্থিত। তবে সেটি আলোচনার আগে ভারতীয় অভিজ্ঞতার বিস্তারিত আমরা জেনে নিতে পারি। ...
জামায়াত নিষিদ্ধে ঐতিহাসিক স্ববিরোধিতা
সরল গরল
প্রথম আলো
২৩ মার্চ, ২০১৩
পাকিস্তানে একবার এবং ভারতে দুবার জামায়াত নির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধের স্বাদ পেয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী করেছিলেন আইয়ুবের ১১ বছর পর। বাংলাদেশ কখনো নির্দিষ্টভাবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি। গোলাম আযমের মামলার রায়ে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রকারান্তরে আক্ষেপ করেন এই বলে যে এই ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেছেন। শান্তি কমিটি সংগঠিত করেছেন। রাজাকারদের শিবিরে শিবিরে বক্তৃতা করেছেন। পাকিস্তানের শত্রুদের ‘খতম’ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এর দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। বাংলাদেশে জামায়াতবিরোধিতার একটা ঐতিহাসিক স্ববিরোধিতা ও পলায়নপরতা আছে। আমরা কথায় কথায় ১৯৯৬ সালের শেখ হাসিনা-মওদুদ-নিজামী আঁতাতের দৃষ্টান্ত টানি। কিন্তু ধর্মভিত্তিক দল নিয়ে আওয়ামী লীগের দ্বিধাদ্বন্দ্বের শিকড় অনেক গভীরে। ...
’৭১-পরবর্তী বাংলাদেশবিরোধিতায় জামায়াত
সরল গরল
প্রথম আলো
২২ মার্চ, ২০১৩
যুদ্ধাপরাধ নয়, আজ আমরা দেখব, স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতার অভিযোগ এবং সে বিষয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তারা এর বিচার করেনি। বিএনপি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের অপতৎপরতার তথ্য সুপ্রিম কোর্টে পেশ করেছে। এ-সংক্রান্ত নথিপত্র নিশ্চয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সরকার রেখে গিয়েছিল। ১৯৯৩ সালে সংসদে জামায়াত নিষিদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ অভিন্ন সুরে শোরগোল তুলেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে গোলাম আযমের রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচার করেননি। সুতরাং উভয় দল জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি করেছে। জামায়াত স্বীকার করে, অবিভক্ত পাকিস্তানের পক্ষে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল। এই একটি স্বীকৃতিই দণ্ড প্রদানের জন্য যথেষ্ট। কারণ, বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের বিরুদ্ধে এমনকি আকারে-ইঙ্গিতেও বিরুদ্ধাচরণ করা রাষ্ট্রদ্রোহ। এ জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জামায়াত তাহলে বলুক, তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর ’৭১-পরবর্তী অপতৎপরতার জন্য শাস্তি মাথা পেতে নেবে কি না। ...
সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আর মিছিল হবে না?
সরল গরল
প্রথম আলো
২ মার্চ, ২০১৩
সুপ্রিম কোর্ট সংস্কারের পথে একটা বিরাট অগ্রগতি দেখিয়েছেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা পুরোনো—তোমার পতাকা যারে দাও/ তারে বহিবারে দাও শকতি। দেড় শ বছর আগে যে আইন দিয়ে ফোর্ট উইলিয়ামে হাইকোর্ট যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই আইন (হাইকোর্ট রুলস) গত ২২ ফেব্রুয়ারিতে বদলে গেল। মাঝখানে ব্রিটিশ, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চারটা দশক পেরিয়ে গেল। তবু দীর্ঘকালের একটা দাবি পূরণ হলো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণ এ থেকে কি সুফল পাবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, হাইকোর্ট আইন মানবে কি না। মানাবে কি না, না ...
আগের দণ্ডিত রাজাকারদেরও খুঁজে বের করুন
সরল গরল
প্রথম আলো
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
আমাদের এই লেখা কেবল শাহবাগের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নিবেদন করলাম। তাঁরা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে দেশব্যাপী জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। এখন এই অদম্য তরুণদের সামনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্তত ৩০ জন যুদ্ধাপরাধীর দণ্ডের তথ্য হাজির করব। এই দণ্ডিতরা সম্ভবত কাদের মোল্লার চেয়ে কম মারাত্মক অপরাধী। কিন্তু এ দেশেরই আদালত তাঁদের দালাল-যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তি দিয়েছিলেন। সে সময় যাবজ্জীবনের মেয়াদ ছিল ২০ বছর। কিন্তু কতজন দণ্ডিত, কে কত সাজা ভোগ করেছেন, তা জানা যায় না। এমনকি ফাঁসির হুকুমও কারও কারও হয়েছিল। অবাক ...
সোভিয়েতরা যুদ্ধ করেছে কাশ্মীরে!
গোপন মার্কিন দলিল
প্রথম আলো
৯ ডিসেম্বর ২০১২
একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছিল তারা আশঙ্কা করছে যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়াতে পারে। আর লন্ডন থেকে মার্কিন মিশন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানিয়েছিল যে ব্রিটেন মনস্থির করে ফেলেছে যে ঢাকার পতন ঘটলে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে লন্ডনের ‘বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের’ যোগাযোগ ঘটেছে। ভারতের ব্রিটিশ হাইকমিশনার ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন যে ঢাকার পতন ঘটিয়ে তাঁরা যেন বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ বনাম কাশ্মীর: এই দিনই অপর এক অতিগোপনীয় বার্তায় (নম্বর ১১২২৬) লন্ডনের মার্কিন মিশন বাংলাদেশের যুদ্ধপরিস্থিতির বিবরণ দেয়। এতে বলা হয়, ৮ ডিসেম্বরে ভারতের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক দিল্লিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা অ্যাটাশেকে বলেছেন, ‘তিনি পূর্ব পাকিস্তানে আরও কঠিন লড়াইয়ের আশঙ্কা করছেন। কারণ, কাশ্মীরের অংশবিশেষ দখল করার লক্ষ্য অর্জনযোগ্য মনে করা পর্যন্ত বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের যুদ্ধের মনোবল অটুট থাকবে। ...
‘ক্যারিশমেটিক’ জিয়া সেনাবাহিনীর রাজনীতিকীকরণ করেছেন
গোপন মার্কিন দলিল
প্রথম আলো
৮ ডিসেম্বর ২০১২
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করার পাশাপাশি বলেছে, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাজনীতিকীকরণকে তিনি আরও বিস্তৃত করেছিলেন।’ সিআইএর প্রতিবেদন বলেছে, ‘সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হলেও জিয়া ছিলেন ক্যারিশমেটিক নেতা। প্রায় ছয় বছরের নেতৃত্বে এক আশাবিহীন দরিদ্র ও বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে তিনি বাংলাদেশকে সমস্যা মোকাবিলা করার উপযোগী করে তুলেছিলেন।’ প্রতিবেদনে এ কথাও বলা হয়, ‘একজন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।’ ১৯৮২ সালের নভেম্বরে প্রস্তুত সিআইএর বাংলাদেশ-বিষয়ক হ্যান্ডবুকে দেশের প্রথম দশকের রাজনীতি মূল্যায়ন করে বলা ...
বর্মিরাজ মিনডন থেকে বারাক ওবামা
মিয়ানমার
প্রথম আলো
২৪ নভেম্বর ২০১২
বারাক ওবামা, অং সান সু চি ও থেইন সেইন—তিনজনই সংলাপ করলেন। ইয়াঙ্গুন-ওয়াশিংটন সম্পর্কের মাইলফলক সফরটি হলো। ওবামাই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি মিয়ানমার সফর করলেন। কিন্তু বিস্মৃতির আড়ালেই থাকলেন এক রাজা। তিনি প্রজাবৎসল, মানবতাবাদী ও আর পরমতসহিষ্ণু। রাজপ্রাসাদের কক্ষ। হঠাৎ তিনি এক আততায়ীর মুখোমুখি। উন্মুক্ত কৃপাণ হাতে আততায়ী লজ্জিত। সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে রাজার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেন। রাজা শুধু ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি। মুহূর্ত কালবিলম্ব না করে আততায়ীর নিরাপদ পলায়ন নিশ্চিত করলেন। পরধর্ম-সহিষ্ণুতারও অনুপম দৃষ্টান্ত তিনি। নিজে বৌদ্ধধর্মের দিকপাল হয়েও মুসলিমদের ...
ওয়াশিংটনের দৃষ্টি দক্ষিণ চীন সমুদ্রের প্রতি
কূটনীতি
প্রথম আলো
২০ নভেম্বর ২০১২
একদিকে নতুন চীনা নেতা শি জিনপিং আর অন্যদিকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নতুন নেতৃত্ব আর তাঁদের নতুন রণক্ষেত্র হলো দক্ষিণ চীন সমুদ্র। বহু দশক বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ছিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট। তা থেকে দৃষ্টি সরে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায়। ইরাক-আফগানিস্তানও বহুকাল খবরের শিরোনাম হয়েছে। এবারে মনে হচ্ছে, নতুন শিরোনাম: দক্ষিণ চীন সমুদ্র তুমি কার? স্ট্যাচু অব লিবার্টির দেশ এবারে স্বাধীনতার ধারণা জনপ্রিয় করবে সমুদ্রে। এটা হলো সামুদ্রিক স্বাধীনতা, সমুদ্রে নৌ চালনার স্বাধীনতা। অবশ্য এরও রয়েছে দীর্ঘ ...
ওবামার নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্র
প্রথম আলো
১৮ নভেম্বর ২০১২
নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বের দেশগুলোর জন্য তো বটেই, মার্কিন জনগণের জন্যও যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক। জন কেরি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলে তাঁর সিনেট আসনটি হাতছাড়া হওয়ার বিপদ কম নয়। তবে কেরিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হলে বিশ্ব চার বছরের জন্য যুদ্ধমুক্ত থাকতে পারে বলে অনেকে ভাবতে পারেন। এবারের নির্বাচনে মার্কিন জনগণ যুদ্ধবিরোধী বিদেশনীতির সমর্থনে ভোট দিয়েছে। আগে শোনা গিয়েছিল কেরিই হবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এখন শোনা যাচ্ছে সুসান রাইসের নাম। কেরির ভাবমূর্তি যুদ্ধবিরোধী। ওবামার নতুন মন্ত্রিসভার জন্য পথ করে দিতে শুধু হিলারিই নন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা, অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার, অর্থমন্ত্রী টিমোথি যাই-যাই করছেন। ওবামা যাঁকেই মনোনীত করুন, তাঁকে সিনেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্র যাতে করায়ত্ত না করতে পারে সে জন্য আপনি কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান? রমনির উত্তর ছিল: ‘ওবামা ইরান প্রশ্নে সম্পূর্ণ ভ্রান্তিতে আছেন। ওবামাকে পুনর্নির্বাচিত করলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে। রমনিকে করলে পাবে না।’ শুধু তা-ই নয়, ‘রাসায়নিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আমি প্রয়োজনে সিরিয়ায় সেনা পাঠাব।’ ‘জেনারেলরা যখন বলবে তখনই ...
ওবামার এই স্বপ্ন পূরণ হোক
সরেজমিন
প্রথম আলো
৮ নভেম্বর ২০১২
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে এমন জয় পাওয়ার কথা ছিল না। নির্বাচনী প্রচার অভিযান যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন জরিপ ও সমীক্ষায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ধারণা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সুইং বা দোদুল্যমান হিসেবে চিহ্নিত ৮ থেকে ১০টি রাজ্যের অধিকাংশেই ওবামা এগিয়ে যান। সে কারণেই ওবামার পুনর্নির্বাচিত হওয়া নিউইয়র্ক টাইমস-এর কথায়, ‘নাটকীয়’ এবং এপির বর্ণনায় ‘তাঁর আবারও প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ছিল না।’ উপরন্তু আরও একটি আশঙ্কা ছিল, ওবামা যদি জিতেও যান তা হলেও সিনেটে তাঁর ...
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী-শিশু
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৯ অক্টোবর ২০১২
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের একটি ঘটনা। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। রংপুরের বদরগঞ্জে এক মাদ্রাসা ছাত্রীর অভিভাবক বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ঐ ছাত্রীর অশ্লীল ভিডিও বাজারে প্রচার করে এক বখাটে যুবক। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় প্রকাশ, মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের আতিয়ারের কন্যা ও এহিয়াগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে মাদ্রাসা থেকে মিথ্যা কথা বলে ডেকে নিয়ে আসে কুতুবপুর ইউনিয়নের কচুয়াপাড়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের দুই সন্তানের জনক রাজমিস্ত্রি মানিকুল। এরপর তিনি কৌশলে মাদ্রাসা ছাত্রীকে স্থানীয় অবসর পিকনিক কর্নারে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে বখাটে মানিকুল জোরপূর্বক মাদ্রাসাছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায় ও এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে। এদিকে মানিকুল মাদ্রাসার ঐ ছাত্রীকে বিয়ে করার জন্য তার পরিবারের কাছের প্রস্তাব পাঠায়। তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি মাদ্রাসা ছাত্রীর পরিবার। এরপর বখাটে মানিকুল গত ৮ সেপ্টে¤¦র সকাল থেকে স্থানীয় কম্পিউটারের দোকানগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইলে মাদ্রাসা ছাত্রীর অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। এ তো গেল একটি ঘটনা। এ রকম অসংখ্য ঘটনায় অনেক নারী আত্মহননের ...
রামু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের মরীচিকা
সরল গরল
প্রথম আলো
১৪ অক্টোবর ২০১২
রামুর ঘটনায় নিজেরা তদন্তে নামার ঘোষণা না দিয়ে রাষ্ট্রের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে আমাদের নাগরিক সমাজ। তারা কি আরেকবার প্রমাণ করছে, তারা গড়পড়তা সুবিধাবাদী? ১৯৫৬ সালের একটি আইনে তদন্ত কমিশন হয়। কমিশন সিভিল কোর্টের মতো কাজ করতে পারে। কমিশনের সদস্যরা পাবলিক সার্ভেন্ট বলে গণ্য হন। কোথাও দাঙ্গা বা এমনতর শান্তি বিনষ্ট হলে জাতীয়ভাবে যে বড় তদন্ত করা হয়, রাষ্ট্র নিজের গরজেই তার প্রধান হিসেবে কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে আনে। বাংলাদেশে তার উল্টো। এখানে সরকারি আতর না মাখানো হলে ...
বিচারপতি সিনহার রায় ও উপনির্বাচনে প্রাপ্তি
সরল গরল
প্রথম আলো
৩ অক্টোবর, ২০১২
গাজীপুর-৪ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের কম উপস্থিতির বিষয়টি আমাদেরকে বিচারপতি এস কে সিনহার পর্যবেক্ষণ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তিনি আপিল বিভাগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বিচারক। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মামলায় তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ চার বিচারকের অন্যতম। মূল রায়দানকারী প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ৩৪২ পৃষ্ঠার মতামত ও রায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হয়েও তিনি ১৯০ পৃষ্ঠার মতামত ও রায় দিয়েছেন। বিচারপতি খায়রুল হকের চেয়ে বিচারক সিনহা যা কিছু পৃথক ও স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তার বোধযোগ্য মূল্য অত্যধিক। বিচারপতি সিনহা তাঁর রায়ের ৩৯৪ পৃষ্ঠায় এমন একটি প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন, যাতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণবিহীন নির্বাচনের বৈধতার বিষয়টি পরোক্ষভাবে মূল্যায়িত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। হিসাবটা খুব সরল। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজের প্রতিযোগী ছিলেন বিএনপির একজন অখ্যাত নেতা। ...
রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিলেন খালেদা জিয়া
সরল গরল
গত বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যখন সংবাদ সম্মেলন হচ্ছিল, এই লেখক তখন একজন বিশিষ্ট আইনবিদের মুখোমুখি ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় নিয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করছিলেন। তখনই বার্তা রটল, বিরোধীদলীয় নেতা ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট, অগ্রহণযোগ্য ও বাতিলযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন। দ্রুত আইনবিদের মনোযোগ আকর্ষণ করি। তিনি ত্বরিত উত্তর দিলেন, ‘বিরোধী দলের উচিত রায়ের ৩৩৮ পৃষ্ঠার শেষ প্যারাগ্রাফটি পাঠ করা। সেখানেই তাঁরা সন্তুষ্টি খুঁজে পেতে পারেন।’ এখন পর্যন্ত রায়টিকে শুধু আওয়ামী লীগই বর্ম করতে পারছে। তবে ...
সংবিধান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভুল ব্যাখ্যা
সরল গরল
প্রথম আলো
২২ সেপ্টেম্বর ২০১২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। স্পিকার, আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ও সংবিধানবিষয়ক উপদেষ্টারা যথারীতি নীরবতা পালন করেছেন। না জানা কিংবা জেনেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত-ভাবে সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া আমাদের দেশে অবাক করা বিষয় নয়। তবে দেখার বিষয় হলো, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর যথোচিত সমালোচনা করতে ব্যর্থ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। দুই নেত্রী জেনেশুনে এ দেশের জাতীয় সংসদকে পঙ্গু বানিয়ে রেখেছেন। তাঁরা উভয়ে চেয়েছেন এবং চাইছেন, সংসদ শুধু তাঁদের কথায় উঠুক-বসুক। সে কারণে সংসদকে ব্যক্তির ক্রীড়নকে পরিণত করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া দ্বাদশ সংশোধনীতে যে সর্বনাশ ঘটিয়েছিলেন ১৯৯১ সালে, শেখ হাসিনা তা নতুন করে সমুন্নত করেন ২০১১ সালে। তাঁরা স্থির করেছেন, সংসদ ভাঙা প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি যেন কিছু বলতে না পারেন। আর এখন শেখ হাসিনা যখন অসত্য তথ্য দিচ্ছেন, তখন খালেদা জিয়া নীরব। কারণ, এ নিয়ে মুখ খুললে তাঁদের প্রত্যেকের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের রাজারা সংসদ ভাঙতে চাইতেন না। কারণ, সংসদ ভাঙলে ...
তাঁরা কেন ছোট কোর্টে গেলেন না?
সরল গরল
প্রথম আলো
০৯/০৫/২০১২
হরতালীয় নাশকতার দুটি মামলার এজাহার পাঠ করে অনেকের কাছে খটকা লাগতে পারে। কিন্তু আজ সেটা আলোচনা করা লক্ষ্য নয়, এটা আমরা বুঝতে চাইব যে এতসব হুলুস্থুল কাণ্ড করে বড় নেতারা কেন রাতবিরাতে বড় কোর্টে আসেন। ছোট কোর্টে কেন যান না। ছোট কোর্ট পুরান ঢাকায়। সেখানকার একটি খাবার হলো ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। আমরা যারা বড় বাপের পোলা, তারা কেন পুরান ঢাকায় যাই না। বিএনপির নেতারা বড় কোর্টে বলেছেন, ছোট কোর্টেই যাব। তবে পথে পুলিশ ধরে ফেলবে। তাই আগাম জামিন ...
বঙ্গবন্ধু কেন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন?
সরল গরল
প্রথম আলো
২৪/০৮/২০১২
সাংবিধানিক বিতর্ক ১ ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র চার দিনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বাংলাদেশের তারিখ বইয়ে এ রকম একটি চমকপ্রদ ঘটনার উল্লেখ দেখে আমরা অনুসন্ধান চালাই। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর কী ধারণার ভিত্তিতে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন, সেটা এক বিরাট প্রশ্ন। কারণ, সেদিন যে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল, আগামী বছরেই শেখ হাসিনার হাতে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে, বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ...
বিচারক নিয়োগে কমিশন নাকচ করা বিস্ময়কর
সরল গরল
দেশে বিদেশে
০৮/০৮/২০১২
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবকে ‘ব্যাপক বিতর্কিত’ বিষয় বলে বিস্ময়করভাবে নাকচ করে দিয়েছে আইন কমিশন। তবে আইন কমিশন প্রথমবারের মতো হাইকোর্টের আইনজীবী ও জেলা জজদের বাইরে আইনের অধ্যাপক ও গবেষকদের বিচারক নিয়োগের মতো একটি নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছে। ড. এম জহির ও ড. শাহ্দীন মালিক আইনের অধ্যাপকদের অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। জহির প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও অধ্যাপকেরা বিচারপতি হতে পারেন। বিচারপতি সৈয়দ আমীর-উল ইসলাম অবশ্য ভিন্নমত দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, আইনের অধ্যাপকদের প্রায়োগিক জ্ঞান সীমিত থাকে। বর্তমান সরকার শুরু থেকেই কমিশন গঠনের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। তারা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে পাস করেনি। আর এখন কমিশন বিচারক নিয়োগকে ‘নির্বাহী এখতিয়ার’ বলেছে। ...
পাকিস্তান পেরেছে, আমরা পারছি না কেন?
সরল গরল
প্রথম আলো
২৫/০৭/২০১২
শুনানি চলছিল আইএসআইয়ের পলিটিক্যাল সেল নিয়ে, ১৬ জুলাই পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টে। এই অশুভ সেল গঠন বিষয়ে কে যে কবে কী নির্দেশ দিয়েছিল, তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খানের আলোচিত সেই রিটের শুনানিতে এসব তথ্য মিলছে। সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত যে ১৯৯০ সালে বেনজিরের বিরুদ্ধে প্রচারণায় নির্বাচনে টাকা বিলিয়েছিল এই সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। প্রধান বিচারপতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যদি এখনো থেকেও থাকে, তাহলে ওই সেলকে কাজ চালাতে দেওয়া যাবে না। ২০০৯ সালের রায়ের পরে তারা আর ওই ...
প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী সংবিধান ভাঙছেন
সরল গরল
দেশে বিদেশে
২৫/০৭/২০১২
আইনসচিব পদে একজন কনিষ্ঠের দলবাজি কাকে বলে, সেটার প্রমাণ হলো, উপসচিব (প্রশাসন) হিসেবে তিনি গত সাড়ে তিন বছরে বদলি ও শৃঙ্খলামূলক যে আদেশগুলো লিখেছেন, সেসব। তিনি দিনকে রাত, রাতকে দিন করছেন। তাঁর জন্য সাত খুন মাফ। আইন-কানুন তাঁর পকেটে। দেশের প্রায় ১৬০০ বিচারকের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হলেন আইনসচিব। তিনি তাঁদের বাস্তব ও কর্মজীবনে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারেন। সে কারণেই আমরা এই পদে চতুর্থবারের মতো সুপ্রিম কোর্টকে পাশ কাটানোয় উদ্বিগ্ন। এবার সকল সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নতুন সচিবের চেয়ে জ্যেষ্ঠ অন্তত ৫০ জন আছেন, যাঁরা ১০ থেকে ১৬ বছর আগে জেলা জজ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারাও আছেন। তাঁদের একজনও আওয়ামী লীগের চেতনার ধারক এবং প্রশাসন বোঝেনই না, এমনটা আমরা ধরে নিতে পারি না। এর পরও একটি আজগুবি আদেশ দেখে আমরা হতভম্ব। ...
বিদেশি হাতে পিলখানা প্রতিবেদন ও মন্ত্রীদের প্রত্যাখ্যান
সরল গরল
দেশে বিদেশে
০৮/০৭/২০১২
নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এবারের আলোচিত প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ও গণমাধ্যমের ব্যর্থতার একটি প্রামাণ্য দলিল বলে প্রতীয়মান হতে পারে। সরকার জনগণের কাছে যা গোপন রেখেছে, দেশের গণমাধ্যম যা উদ্ঘাটন করতে পারেনি, সেটা যেন করে দিয়েছে বিদেশি সংস্থা। আর আমাদের মন্ত্রীরা বুঝে না-বুঝে কেবল র‌্যাব ভেঙে দেওয়ার বিরুদ্ধে গেল গেল বলে শোরগোল তুললেন। পুরোটাই যেন সত্য আড়ালের চেষ্টা। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহসংশ্লিষ্ট ঘটনাবলির কারণ খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত সচিব আনিস-উজ-জামানের নেতৃত্বে কমিশন হয়েছিল। র‌্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক এর সদস্য ছিলেন। এর নাম নাকি ছিল গভর্নমেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশন। এর একটি সারসংক্ষেপ সরকার প্রকাশ করেছিল। অন্য কমিটি সেনাবাহিনীর ২০ সদস্যকে নিয়ে গঠিত। এর প্রতিবেদনের নামকরণ ‘একটি মতামত’ বলে দাবি করেছে ওয়াচ। তবে সেনা তদন্ত আদালতের প্রতিবেদনের বরাতে প্রথম আলোসহ পত্রপত্রিকায় ২০১০ সালে এ বিষয়ক কিছু খবর ছাপা হয়েছিল। ...
অধ্যাপক সায়ীদের স্বস্তি, স্পিকারের অস্বস্তি
সরল গরল
দেশে বিদেশে
১৩/০৬/২০১২
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে কেন্দ্র করে স্পিকার মো. আবদুল হামিদের রুলিংয়ের চেতনাকে আমরা সর্বান্তঃকরণে স্বাগত জানাই। ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী অনুশোচনার যে সলতে জ্বেলেছিলেন, স্পিকার তাকেই আনুষ্ঠানিকতার একটা মোড়ক দিলেন। কিন্তু তাতে ফাঁক ও ফাঁকি দুটোই এমনভাবে চোখে লাগল যে দুই ছত্র লিখতেই হলো। নাগরিক বিদ্বেষ, তাকে আহত কিংবা খাটো করা আমাদের সংসদে বিরল নয়। তবে ভুল স্বীকার করে সংসদের দুঃখ প্রকাশ একটি বিরল ঘটনা। শিষ্টাচার অনুশীলনের প্রাথমিক পর্বের পাঠ বলে একে আমাদের গুরুত্ব দিতেই হবে। বিষয়টি অধ্যাপকের জন্য স্বস্তির বটে। কিন্তু স্পিকারের রুলিংয়ে বর্তমান সংসদের অস্বস্তি চাপা থাকেনি। যুক্তি ও আইনগত বিচারে স্পিকারের রুলিং অনেকটা স্ববিরোধী ও পক্ষপাতদুষ্ট। অধ্যাপক সায়ীদের বিরুদ্ধে সংসদ অবমাননার অভিযোগ আনা হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল সাংসদদের দ্বারা সংসদ অবমাননা। ...
গোপন সিডি কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না?
সরল গরল
দেশে বিদেশে
২৭/০৫/২০১২
বাস পোড়ানোর মামলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এ কথা বিচারিক আদেশেই লেখা হয়েছে। বিচার ছাড়াই কী করে এটা লেখা সম্ভব হলো, তা হাইকোর্ট বিভাগ খতিয়ে দেখতে পারেন। তবে গতকাল বিরোধীদলীয় পাঁচজন সংসদ সদস্যকে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার প্রেক্ষাপটে আমি একটি অনুরোধ করতে চাই। সেটি হলো, একটি সিডি জাতির সামনে প্রকাশ করা। ওই মামলার অন্য আসামিদের কেন মুক্তি দেওয়া হবে না, সে মর্মে রাষ্ট্র কী অবস্থান নিতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের একটা ধারণা আছে। আর সেখানে ওই সিডি হতে পারে একটি বিরাট হাতিয়ার। কারণ, মির্জা ফখরুলেরা বাস পোড়াতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে যেসব গোপনীয় সলাপরামর্শ করেছেন, তা নাকি সব বন্দী আছে ওই সিডিতে। অন্তত জামিন নাকচ করে দেওয়া মহানগর হাকিম ও মহানগর দায়রা জজের লেখা আদেশগুলো পড়ে তেমনটাই প্রতীয়মান হয়েছে। আমি দুঃখিত যে বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনে গতকালের জামিন দেওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগের তেমন স্বাধীনতা দেখি না। ...
পাকিস্তানে সুপ্রিম কোর্ট ও ক্যান্টনমেন্ট সমান
সরল গরল
প্রথম আলো
৩০/০৪/২০১২
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ২৬ এপ্রিল ৩০ সেকেন্ডের যে প্রতীকী দণ্ড দিয়েছেন, তা পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম। বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশ পায়নি। তবে সংক্ষিপ্ত আদেশ পড়ে প্রতীয়মান হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এ বেঞ্চ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ থেকে গিলানির প্রস্থান চাইছেন। কিন্তু এই আদেশ ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নসাপেক্ষ। আমার প্রাথমিক মন্তব্য হচ্ছে, নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ামাত্রই ...
একটি বাকস্বাধীনতার মামলা ও বাদীর জবানবন্দি
সরল গরল
প্রথম আলো
২৮/০৪/২০১২
২৪ এপ্রিল ২০১২ অপরাহ্নে আমি ব্যারিস্টার নওশের আলী মোল্লার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলি। সে অভিজ্ঞতা যুগপৎ বিস্ময়কর ও চমকপ্রদ। তিনি রাষ্ট্রদ্রোহিতা (সেডিশন) ও বিশ্বাসঘাতকতার (ট্রিজন) দায়ে আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বিচার চাইছেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতার চেয়ে অধম বিশ্বাসঘাতকতা। বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদমতে, ‘অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের কোনো কার্যে সহযোগিতা, উস্কানি বা সমর্থন’ দিলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারামতে যাবজ্জীবন। আমাদের আইনে অবশ্য ট্রিজনের শাস্তি নেই। ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ আদালতে এ মামলার শুনানিকালে আসিফ যা বলেননি, তাই নিয়ে মামলা হয়েছে ...
রাজনীতি বা 'দানব' ও 'দস্যু'র গল্প
সরল গরল
প্রথম আলো
০৫/০৩/২০১২
ড. আকবর আলি খান গল্প বলেছিলেন। ছেলে বড় হলে কী হবে, তা এক মা বুঝতে চেয়েছিলেন। তাই মন্ত্রণামতো একটা টেবিলে তিনি টুপি, মানিব্যাগ ও পিস্তল রাখলেন। টুপি নিলে এলেমদার, মানিব্যাগ নিলে পকেটমার ও পিস্তল নিলে মাস্তান। ছেলেটি প্রথমে মাথায় টুপি দিল। এরপর মানিব্যাগটি পকেটে পুরল। সবশেষে হাতে তুলে নিল পিস্তল। তখন ছেলেটির মাকে বলা হলো, তার ছেলে ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদ হবে। অন্যদের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ হাসিতে যোগ দেননি। হাত দিয়ে মুখ ঢেকেছিলেন। তিনি বললেন, বাংলাদেশের এ অবস্থার জন্য রাজনীতিবিদেরা নন, ...
আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠতা, না মেধার লড়াই!
সরল গরল
প্রথম আলো
০৭/০১/২০১২
এই মুহূর্তে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট অনেকের মনে সাত ভাই চম্পার কথা স্মরণে এনে দিতে পারেন। আপিল বিভাগে আগে ছিলেন চারজন। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর ছুটিতে যান বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান। ২৩ ফেব্রুয়ারি শপথ অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রথম দেখা গেল। চারজনের অভিষেকে তিনি শামিল হন। নবাগতদের একজন নারী। তাই বলি সাত ভাই এক বোন। তিনি বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তিনিই আমাদের ইতিহাসের প্রথম নারী, যিনি হাইকোর্টের পরে আপিল বিভাগেও প্রথম হলেন। ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সান্দ্রা ডে ও’কন্নোর, ২০০৪ সালে ব্রিটেনের হাইকোর্টে লেডি ডেম ব্রেন্ডা হেল, ১৯৮৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফাতিমা বিবির পর এই গৌরবের উত্তরাধিকার হলো বাংলাদেশ; পাকিস্তান যা আজও পারেনি। ...
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ!
সরল গরল
প্রথম আলো
০৩/০১/২০১২
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্মানজনকভাবে বিদায় দেওয়ার ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আমাদের নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই ধারাবাহিকতা। এই কাণ্ড ঘটিয়ে ভিন্নমতকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আনুগত্যহীনদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এই নিকৃষ্ট রূপটি নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে তাজউদ্দীন আহমদের কথা। ওই সময়ে তাঁর অবস্থান অন্য সতীর্থদের মতো ছিল না। অনেক বিষয়ে তাঁর ভিন্নমত ছিল। সে জন্য তাঁকে খেসারত দিতে হয়। ড. ইউনূস নোবেল জিতেছিলেন বলে কি রুষ্ট হন শেখ হাসিনা? ইউনূস দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ...
সংবিধান পুনর্মুদ্রণে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি
সরল গরল
প্রথম আলো
০১/০২/২০১১
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জাল টিকিট উদ্ধারের চমক কাটতে না কাটতেই আমরা একটা তঞ্চকতাপূর্ণ সংবিধানও পেলাম। বাংলাদেশের সংবিধান পুনর্মুদ্রণের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি হয়েছে। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ এ পর্যন্ত ১১৬ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে মুদ্রণপ্রমাদ স্বীকার করেন। অবশ্য প্রথম আলোর প্রতিবেদক শুধু একটি বিষয়ে তাঁর মত জানতে চেয়েছিলেন। তবে আমাদের কাছে তাঁর বর্ণিত ‘মুদ্রণপ্রমাদ’ এর অর্থ হলো দুর্নীতি ও দুরভিসন্ধি যে ঘটেছে, সেটার একটা স্বীকৃতি। এখানে যে জাল-জালিয়াতি ঘটেছে, সেটা আমরা দালিলিকভাবে প্রমাণ দিতেও সক্ষম। এটা আসলে এমনই চরম অসততা, জাতির সঙ্গে যা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। শাসকগোষ্ঠীর কেউ কেউ সংবিধানকে খোলামকুচি মনে করে। আর সে কারণেই তাঁরা এমন অভাবনীয় দুষ্কর্ম করতে পারল। সংসদীয় বিশেষ কমিটি কিংবা যেসব বিশেষজ্ঞকে এর আগে কমিটিতে ডাকা হয়েছিল, তাঁরা এ বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারেন না। ...
বাংলাদেশকে ঠেকাতে কাশ্মীরকে জিম্মি
গোপন মার্কিন দলিল
প্রথম আলো
৭ ডিসেম্বর ২০১২
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্বে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কুশীলবদের তৈরি করা মূল নথিপত্র দেখে ৪১ বছর আগের ডিসেম্বরকে তরতাজা উপস্থাপনের তাৎক্ষণিক চেষ্টা এটি। এই নথিগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইনের আওতায় অবমুক্ত করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানই কাশ্মীরে হামলা চালিয়ে ভারতকে দোষারোপ করেছিল, এটা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা এত দিনে স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু কেন তারা সেটা করেছিল, এর একটা উত্তরও মিলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অপারেশন সেন্টারের প্রস্তুত করা প্রতিবেদন বলেছে, ‘মার্কিন গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষসমূহ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে সব ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, পশ্চিম ফ্রন্টে পাকিস্তানই হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা শুরু করার জন্য সময় দরকার এবং সে উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ভারতের কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের একটি অংশ দখলে রাখার পরিকল্পনা থেকে ওই হামলা চালিয়েছিল বলেই প্রতীয়মান হয়। পাকিস্তানি সেনারা পাঞ্জাবের ফজিলকা থেকে পাঠানকোট এলাকার সীমান্ত ঘেঁষে পাঁচ থেকে সাত মাইল ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। তারা পুঞ্চ ও চম্ব দখলের দাবি করলেও কাশ্মীরে এখন পর্যন্ত বড় অভিযান চালায়নি। ...
দৈনিক আমার দেশ ও প্যান্ডোরার বাক্স
সরল গরল
প্রথম আলো
২০ এপ্রিল ২০১৩
বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার স্বৈরাচারী সরকার ১৯৮১ সালে নিতান্ত কারিগরি যুক্তিতে কৃষ্ণাঙ্গ মালিকানাধীন চারটি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। আমার দেশ বন্ধেও বর্তমান সরকার সেই একই কারিগরি চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি রোষানলে সংবাদপত্র বন্ধ করার যে ভীতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের সরকার দূর করে গিয়েছিল, সেই ভীতি প্রায় আড়াই দশক পরে এক নতুন রূপে ফিরে এসেছে। আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে ক্ষমতাসীন দলের এই সংবাদক্ষেত্র দলন কেবল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এক প্রচারপ্রিয় ব্যক্তির সম্পাদিত প্রচারধর্মী দৈনিকের টুঁটি চেপে ধরার ...
হিস্পানিকরাই তুরুপের তাস?
সরেজমিন
প্রথম আলো
৬ নভেম্বর ২০১২
হিস্পানিক আমেরিকানরা এবার বারাক ওবামার ভাগ্য খুলতে সহায়ক হতে পারেন। তাঁরা যেদিকে কাত হবেন, সেদিকে পাল্লা ভারী হবে। এমনিতেই সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী নারী, তরুণ ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা ডেমোক্র্যাটদের দিকেই ঝুঁকছেন বলে ধারণা মিলছে। হিস্পানিকদের মন জয় করতে রিপাবলিকানরাও বসে নেই। দোদুল্যমান ফ্লোরিডায় গিয়ে সাবেক রিপাবলিকান গভর্নর বব মার্টিনেজ ও জেব বুশ শনিবার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মিট রমনি হিস্পানিকদের মনে আসন করে নিয়েছেন। বুশ বলেন, এই ভোটাররা জানতে চাইছেন, ওবামা কেন তাঁর মেয়াদের প্রথম দুই বছরে অভিবাসন সংস্কারে হাতে ...
আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে কারণ দর্শাও
দল নিবন্ধনের শর্ত
প্রথম আলো
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে শোকজ করার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের হাতছাড়া করা উচিত হবে না। কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তা নতুন কিছু নয়। দুই নেত্রী সময় সময় এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু কখনোই তাঁরা এমন কোনো উদ্যোগ নেননি, যাতে এর পুনরাবৃত্তি বন্ধ হতে পারে। সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁরা অবশ্য দায় ঠেকে দুটি বিষয় মেনে নিয়েছিলেন। এর একটি হলো, তাঁদের দলীয় গঠনতন্ত্রে লেখা থাকবে শিক্ষক-ছাত্র বা পেশাজীবী সংগঠনগুলো স্বাধীনভাবে সংগঠিত হবে, তারা স্বাধীনভাবে সকল প্রকার গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার চর্চা ও প্রয়োগ করবে। কিন্তু আইনের বিধানাবলি মেনে তাঁরা ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক দলের খাতায় নাম লেখাতে পারবেন। এই বিধানের কারণে দুই প্রধান দল বিরাট অস্বস্তিতে পড়ে। ...
অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবের তাৎপর্য
সরল গরল
প্রথম আলো
০৪/০৮/২০১২
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সন্দেহজনক ভূমিকার প্রশ্নটি অনিষ্পন্ন রেখে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব বিস্ময়কর নয়। তবে ১৯৭৫-পরবর্তী ৩৭ বছরের সংঘাত ও বিরোধাত্মক রাজনীতিকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা বলতে চাই, এই উচ্চারণ খুবই সহজ ছিল না। এর কৃত্রিমতা ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ইত্যাদি ধরনের সন্দেহ নিয়েও বলব, জাতীয় ঐক্যের জন্য এটি যেন আলোর ইশারা। দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিএনপিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবকে রাষ্ট্রনায়কোচিত এবং এর মাধ্যমে সব সংকটের অবসান ঘটেছে বলে দাবি করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য মূল্যায়নযোগ্য, কিন্তু সেটা তাঁর বর্ণিত কারণে মোটেই নয়। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হওয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। তাই আমরা নতুন প্রস্তাবকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করি। যদি ধর্মনিরপেক্ষ ও অধিকতর সুশাসনমুখী তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান অনিশ্চিত থাকে; যদি নির্বাচিত সরকারের চলতি কাঠামো ধরে রাখার মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রের অনুশীলন বজায় রাখি, তাহলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিনামীয় রাজনৈতিক দলকে জোড়াতালি দিয়ে ...
দলবাজি করে আইনসচিব
সরল গরল
দেশে বিদেশে
২৪/০৬/২০১২
বিচার প্রশাসনে বজ্রপাত ঘটেছে। প্রায় ১৭০ জন জ্যেষ্ঠ জেলা জজকে ডিঙিয়ে বিচার প্রশাসনের শীর্ষ পদ, যা একসময়ে কর্মরত হাইকোর্টের বিচারকও অলংকৃত করতেন, সেখানে এখন একজন আগন্তুকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তিনি আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক। জেলা জজ হিসেবে যাঁর একটি রায় লেখারও অভিজ্ঞতা নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মতিতে তথাকথিত ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ আইনসচিব নিয়োগের ঘটনা অবশ্য এই সরকারের আমলে এবারই প্রথম নয়। স্পিকার-বিচারকের অসতর্ক উক্তিকে যখন অহেতুক বিচার বিভাগ-সংসদ মুখোমুখি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তখন সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার দৃশ্যত মিলেমিশে একাকার। সরকার যে ফ্রিস্টাইলে বিচার প্রশাসন চালাচ্ছে, তার সর্বশেষ নজির কনিষ্ঠকে সর্বজ্যেষ্ঠদের ‘স্যার’ বানিয়ে দেওয়া। কিন্তু এ নিয়ে না সুপ্রিম কোর্ট, না সংসদ—কারও ভ্রুক্ষেপ নেই। ...
বিএনপির হরতাল ও আইন প্রতিমন্ত্রীর 'পোস্ট বক্স'
সরল গরল
প্রথম আলো
১৮/০৫/২০১২
বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় ৩৩ জন নেতাকে তাৎক্ষণিক কোনো কারণ না দেখিয়ে জামিন নাকচ করেছেন নিম্ন আদালত। দীর্ঘ শুনানির পরে দু-তিনটি বাক্য উচ্চারণ করেছেন আদালত। যে ঘটনা দেশব্যাপী একটি হরতালের জন্ম দিল, সেখানে বিচারকের জবানিতে জামিন নাকচের কারণ জানতে পারলাম না। অথচ জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কেন জামিন পাবেন বা পাবেন না, তার কারণ বিচারকেরা যাতে লেখেন, সে রকম বাধ্যবাধকতা সিআরপিসির ৪৯৭ ধারায় আছে। তবে ৩৩ নেতাকে জামিন না দিতে এই আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, সেটা আদালতের চূড়ান্ত ...
বিএনপির হরতাল ও আইন প্রতিমন্ত্রীর ‘পোস্ট বক্স’
সরল গরল
দেশে বিদেশে
১৮/০৫/২০১২
বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় ৩৩ জন নেতাকে তাৎক্ষণিক কোনো কারণ না দেখিয়ে জামিন নাকচ করেছেন নিম্ন আদালত। দীর্ঘ শুনানির পরে দু-তিনটি বাক্য উচ্চারণ করেছেন আদালত। যে ঘটনা দেশব্যাপী একটি হরতালের জন্ম দিল, সেখানে বিচারকের জবানিতে জামিন নাকচের কারণ জানতে পারলাম না। অথচ জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কেন জামিন পাবেন বা পাবেন না, তার কারণ বিচারকেরা যাতে লেখেন, সে রকম বাধ্যবাধকতা সিআরপিসির ৪৯৭ ধারায় আছে। তবে ৩৩ নেতাকে জামিন না দিতে এই আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, সেটা আদালতের চূড়ান্ত লিখিত আদেশ দেখে বলা যাবে। জামিন নাকচ করার মুখ্য কারণ আসামিদের পালানোর আশঙ্কা, যা এ ক্ষেত্রে ছিল না। তবে যে কারণে এই নিবন্ধ, তা হলো সুপ্রিম কোর্টের বিএনপির আইনজীবীদের সুবিধাবাদী ও খণ্ডিত প্রতিক্রিয়া। আদালতের স্বাধীনতার জন্য তারা হরতাল করেনি। ...
মাননীয় প্রধান বিচারপতি রায়টি প্রকাশ করুন
সরল গরল
দেশে বিদেশে
১৩/০৫/২০১২
অনেক দিন পর নির্দিষ্ট খবর পেলাম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রিম কোর্টের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানালেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বহুল আলোচিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চূড়ান্ত করেছেন। তবে এটা গল্পের শুরু না শেষ, তা স্পষ্ট নয়। এই রায়ে আমাদের সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির প্রাণভোমরা লুকিয়ে আছে বললে ভুল হবে না। বিরোধী দল এখন ইলিয়াস আলীতে, পরে অন্য ইস্যুতে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে যেতে পারে। মুখে তারা যা-ই বলুক, তাদের অন্তরে মসনদ, সেখানে যাওয়ার মওকা হিসেবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। আমরা চাই সাংবিধানটা যাতে আস্ত থাকে। তা ছাড়া ক্ষমতাসীনেরা ও তাঁদের দ্বারা পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত এমন কিছু করে দেখাতে পারেনি, যাতে আমরা ভরসা করতে পারি। অন্যদিকে বিরোধী দলের এমন মুরোদ নেই যে, তারা শান্তি বজায় রেখে ১৫তম সংশোধনীতে বিলোপ হওয়া তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থাটা ফিরিয়ে আনতে পারে। ...
পড়ন্ত বিকেলের অতিথি হিলারি -
সরল গরল
প্রথম আলো
০৫/০৫/২০১২
এক পড়ন্ত বিকেলের অতিথি হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে আজ আসছেন। মেয়াদের দিক থেকে এই পড়ন্ত বিকেল শেখ হাসিনা ও বারাক ওবামা উভয়ের জন্য সত্য। শেখ হাসিনার জন্য বেশি সত্য। তবু বেইজিং থেকে ঢাকা হয়ে হিলারির দিল্লি সফর বিশ্বকূটনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব নিশ্চিত করেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা-অধ্যুষিত বাংলাদেশে ২০০৮ সালে একটি জঙ্গিবাদবিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তির বিজয়ের পর ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অগ্রগতি ও যতটা গতিসঞ্চার প্রত্যাশিত ছিল, সেটা ঘটেনি। ...
মন্ত্রিসভার বৈধতা ও শহীদ সোলেমান পরিবারের প্রা
সরল গরল
প্রথম আলো
২১/০৪/২০১২
ভারপ্রাপ্ত রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালো বিড়ালকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিড়াল কালো কি ধলা, সেটা বড় প্রশ্ন নয়। বিড়াল ইঁদুর ধরে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। বোঝা যাচ্ছে, বিড়ালবিষয়ক গল্প আর ফুরাবে না। এ দেশের ইঁদুরেরাই বিড়াল ধরছে! প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার সমালোচনা করছেন। অথচ তিনি নিজেই ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মন্ত্রীদের পদত্যাগকেও তিনি সম্ভবত ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের চশমায় দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া আর সব ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে চলতে হয়। কিন্তু মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ তাঁদের কারও ইচ্ছাধীন ...
ইলিয়াসের ‘গুমের’ বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে?
সরল গরল
দেশে বিদেশে
২১/০৪/২০১২
এনকাউন্টার, ক্রসফায়ার ইত্যাদি বিতর্কের আড়ালে বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা ক্রমেই ভয়ংকর দিকে ধাবিত হচ্ছে। গণমাধ্যমের উচিত অপহরণ, নিখোঁজ ও গুম শব্দের ব্যবহারে সতর্ক হওয়া। ইংরেজিতে যা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স, তার অর্থ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় সংস্থা মেরে ফেলবে; সাধারণত লাশ মিলবে না। মিডিয়া যখন এমন অভিযোগ পাবে, তখন ‘গুম’ কথাটি প্রয়োগের প্রবণতা দেখাবে। জমিজমা নিয়ে বিরোধে কাউকে ‘নিখোঁজ’ করা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অর্থে ‘গুম’ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে বলেছেন, গুম কথাটি বাংলাদেশের আইনে নেই। ইলিয়াস আলীকে নিয়ে বিএনপির হরতাল প্রমাণ করে যে এই রাষ্ট্র-সরকারব্যবস্থার কাছ থেকে কিছু পেতে হলে চরম পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প কমই আছে। কিন্তু অন্য সবার জন্য কী হবে? তা ছাড়া ঘন ঘন কি এই অস্ত্র প্রয়োগ করা যাবে? ইলিয়াস আলীর জন্য লাগাতার হরতাল হলে পরে কী হবে? ক্যানসার হলে কেমোথেরাপি দিতেই হবে। ...
মন্ত্রিসভার বৈধতা ও শহীদ সোলেমান পরিবারের প্রার্থনা
সরল গরল
দেশে বিদেশে
২০/০৪/২০১২
ভারপ্রাপ্ত রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালো বিড়ালকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিড়াল কালো কি ধলা, সেটা বড় প্রশ্ন নয়। বিড়াল ইঁদুর ধরে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। বোঝা যাচ্ছে, বিড়ালবিষয়ক গল্প আর ফুরাবে না। এ দেশের ইঁদুরেরাই বিড়াল ধরছে! প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার সমালোচনা করছেন। অথচ তিনি নিজেই ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মন্ত্রীদের পদত্যাগকেও তিনি সম্ভবত ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের চশমায় দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া আর সব ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে চলতে হয়। কিন্তু মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ তাঁদের কারও ইচ্ছাধীন নয়। দলীয় সাংসদদের পদত্যাগপত্র নেত্রীর দেরাজে ফেলে রাখার রাজনীতির সঙ্গে আমরা পরিচিত। কিন্তু সেটা এখানে খাটবে না। মন্ত্রীকে শুধু ‘পদত্যাগপত্র প্রদান’ করতে হয়। তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দপ্তরবিহীন মন্ত্রিত্ব তাঁর নৈতিক রাজনৈতিক কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকেছে। প্রধানমন্ত্রী কোন দোষে মিডিয়ার সমালোচনা করলেন? ...
সৌদি কর্মকর্তা খালাফের খুনি কে?
সরল গরল
প্রথম আলো
০৯/০৪/২০১২
বন্ধুপ্রতিম দেশ সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ বিন মোহাম্মদ সালেম আল-আলী হত্যারহস্যের জট যে এখনো খোলেনি, সেটা অবশ্যই পরিতাপের। তদন্তকারীরা আমাদের অন্ধকারে রাখছেন। কে খুনি? কেন এই খুন? এর কোনো ইঙ্গিতও মিলছে না। তাই বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টুইটারে ইরানকে ইঙ্গিত করা মন্ত্যবটি নিয়ে আলোচনা প্রাসঙ্গিক মনে হলো। উপরন্তু ওয়াকিফহাল একজন কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনার পরে তিনি জানালেন, কুয়েত টাইমস-এও এমন একটি ইঙ্গিতপূর্ণ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এমনকি কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সেই ইঙ্গিত করেছেন বলে পত্রিকাটির দাবি। বাংলাদেশি কূটনীতিকেরা এ বিষয়ে হয়তো সংগত কারণেই ...
শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য নতুন আইন দরকার
সরল গরল
প্রথম আলো
১২/০৩/২০১২
জনসভার স্বাধীনতা এবং তা নিয়ন্ত্রণের নামে দুই বড় দল সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। তারা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও দমনপীড়নে অভ্যস্ত হয়ে পড়লেও নিজেদের তারা আইনের আওতায় নিতে অনাগ্রহ দেখিয়ে চলেছে। তারা পারতপক্ষে আইন মানছে না। আইন থাকলেও তারা তা ভঙ্গ করারই প্রবণতা দেখিয়ে থাকে। মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তারা সভা করে, সভা ভাঙে। আর মুখে বলে, এ সবই তারা করছে গণতন্ত্রের নামে। একটি রাষ্ট্রে প্রায় কোনো স্বাধীনতাই অসীম কিংবা বল্গাহীন হতে পারে না। সমাবেশের স্বাধীনতাও তা-ই। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ...
উইকিলিকস ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের জবাবদি
সরল গরল
প্রথম আলো
০৯/০১/২০১২
উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ দলিলটি অন্তত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের ভূমিকা ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। ড. গওহর রিজভী যদিও দাবি করেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির সঙ্গে ওই তারিখে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। তাহলে ধরে নিতে হবে, মরিয়ার্টি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে একটি বার্তা ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন। ড. রিজভীর দাবি সত্য হলে সেটি হয়তো হবে মার্কিন কূটনৈতিক ইতিহাসের এক অদ্ভুত বিপর্যয়। অবশ্য মরিয়ার্টি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বিষয়টি ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আলোকে যাচাইযোগ্য। ওই বার্তাটি বানোয়াট প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। তত দিন এ নিয়ে আলাপ করতে পারি। আমরা হয়তো এ পর্যন্ত একটি মুখ রক্ষার বিবৃতি পেয়েছি। ড. রিজভীর ব্যাখ্যায় মনে হয়েছে, তিনি ‘ব্যক্তিগতভাবে’ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সত্যিই দেখা করেননি! ...
সংসদনেত্রী, ‘শকুন’ সহোদর ও সপ্তম সংশোধনী
সরল গরল
প্রথম আলো
০৭/০১/২০১২
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ যা ‘ভাই-বোন’, কাল তা-ই ‘দেবর-ভাবি’। এটা অবশ্য অতি পুরোনো খোঁচা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পতিত স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদের ছবি দেখে আমাদের আরও একটি ছবির কথা মনে পড়ল। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের ঘনিষ্ঠতার ছবি। তাঁরা সাংবাদিকদের সামনে পোজ দিয়েছিলেন। এরও আগে অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে দোয়া চাইতে গিয়েছিলেন বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। বিচারপতি হিসেবে কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়; আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে। একদল চেনা মিত্রজীবীর কাছে এসবের টাটকা ব্যাখ্যা মজুদ আছে। ...
প্রধান বিচারপতির প্রতি ১০ বিচারপতির অনাস্থা!
সরল গরল
প্রথম আলো
০৩/০১/২০১২
মন্ত্রিসভার রদবদলের মতো আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগও চমকপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যা অনেকের কল্পনার বাইরে, তা-ই এবার ঘটছে। প্রধান বিচারপতি হতে রাতের অন্ধকারে মন্ত্রীপাড়ায় তদবিরের কথা আমরা জানি। জোট সরকারের আমলে মন্ত্রীর বাড়িতে কর্মরত বিচারকদের পার্টির কথাও অজানা নয়। এমনকি সেখানকার অভাবনীয় ঘটনাবলিকে কোনো একটি রায়ে মূর্ত করার চিন্তাও শুনেছিলাম। কিন্তু এবারের পদস্খলন কিংবা পচন প্রকাশ্যে এসেছে। আপিল বিভাগের আইন অমান্য করে কয়েকজন বিচারক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধাচরণ করছেন। তাঁরা যদি কোনো লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন ও তাঁর আওতায় প্রতিকারপ্রার্থী হতেন, ...
সুপ্রিম কোর্টে ‘ঘুষ’, টিআইবি ও মাহমুদুল ইসলাম
সরল গরল
প্রথম আলো
০১/০২/২০১১
টিআইবির ধারণাসূচক দুর্নীতি-সম্পর্কিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্ট কমিটি দ্বারা প্রত্যাখ্যানে অবাক হইনি। আমরা ভুলিনি, আমাদের দেশটি একাদিক্রমে পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তখনো এই সুপ্রিম কোর্ট উদাস থেকেছেন। আমরা ব্যথিত যে বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে তর্ক হলে, ঢালাও অভিযোগ হলে ন্যায়পরায়ণ বিচারক ও বিচার প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু আমরা কী করে ভুলি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকেছে কুম্ভকর্ণ হয়ে। ‘মহাপ্রলয়’, ‘কাচের ঘর’, ‘তোলা আদায়’ কত কথা বলা হলো। কিন্তু কাজের কাজ হয় না। ...
আওয়ামী দুর্গের পতন
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন
প্রথম আলো
২১শে মার্চ, ২০১৩
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটেছে। শুধু তা-ই নয়, বিএনপি যে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তা-ও নয়, এক হাজার ৩৮৯টি ভোট পেয়ে একজন জামায়াতি আইনজীবীও নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিন হাজার ২০৩ জন আইনজীবী ভোট দিয়ে ক্ষমতাসীনদের জন্য ১৪টি আসনের মধ্যে মাত্র একটি সদস্যপদ বরাদ্দ করেছেন। শাহবাগ আন্দোলনের পটভূমিতে আওয়ামী প্যানেল সর্বোচ্চ আদালতের আঙিনায় এভাবে ভেসে গেল কেন? দলীয় কোন্দল এড়িয়ে আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ প্যানেল দেওয়া কি অসম্ভব ছিল? এটা বিচার বিভাগ ও আদালতের পরিবেশ দলীয়করণের প্রতি অনাস্থা কি না? আওয়ামী আইনজীবীদের তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব এত বড় বিপর্যয়ের মুখ্য কারণ। বার কাউন্সিল নির্বাচনেও তাঁদের কোন্দল স্পষ্ট হয়। আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ দীর্ঘকাল লীগ ও বাম ঘরানার আইনজীবীদের প্রভাবে চলছে। একে ঘিরে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে। সম্ভবত গত বছরের নভেম্বরের একদিন সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সবাই দেখেন, বাইরে সাজেদা চৌধুরী আর ভেতরে সাহারা খাতুন। সুপ্রিম কোর্টকেন্দ্রিক আওয়ামী রাজনীতি মোটামুটি দুই ভাগে বিভক্ত। বাসেত মজুমদারের বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ বনাম সাহারা খাতুনের আওয়ামী ...
সরল গরলসাংবিধানিক বিতর্ক-৫
সংসদ ভেঙে দিতে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য
উপ-সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
২৮/০৮/২০১২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন তরুণ শিক্ষক খুদেবার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, ‘আপনার লেখাগুলোতে বাংলাদেশের সংবিধানে যে একটি সাংবিধানিক ষড়যন্ত্র আছে, সেটি ফুটে উঠেছে।’ এটা সত্য, আমরা প্রায় সবকিছুতেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজি। কিন্তু এই ধারাবাহিক শুরু করার সময়টাতেও ভাবতে পারিনি যে ১৯৭২ সাল থেকেই সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে এমন একটি শঠতাপূর্ণ অবস্থা সংবিধানে সৃষ্টি হয়ে আছে। গত চার দিনের আলোচনার ভিত্তিতে আমরা সতর্কতার সঙ্গে একটা উপসংহার টানতে যাচ্ছি। তবে সংবিধান কাটাছেঁড়ায় নিয়োজিত হাতুড়ে ডাক্তারদের সৃষ্ট এই অবস্থাটি কতখানি সুপরিকল্পিত, কতখানি অনভিজ্ঞতাপূর্ণ, তা আমরা জানি না। তবে আপনারা তথ্য হিসেবেই জানুন, এই সংবিধানের প্রায় অর্ধডজন অনুচ্ছেদ আপনাআপনি অবৈধ ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। আশ্চর্য, এর সব কটি অনুচ্ছেদই সংসদ ও নির্বাচনসংক্রান্ত। এর বিরুদ্ধে একাধিক রিট মামলা দায়ের হওয়া উচিত। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কোনো সচেতন মহল সংবিধানে সংসদ এবং নির্বাচনের এই চেহারা দেখে নীরব থাকতে পারে না। বিএনপি পারে। কারণ, তারাও এই ‘সাংবিধানিক চক্রান্তের’ অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর আমরা প্রমাণ তুলে ধরার চেষ্টা করছি। তবে তার আগে ...
ব্রিটিশ ও ভারতীয় অভিজ্ঞতা কী শেখাচ্ছে?
সরল গরল
প্রথম আলো
২৬/০৮/২০১২
সাংবিধানিক বিতর্ক ৩ সংসদ রেখে আরেকটি সংসদ করা কিংবা ভেঙে দিয়ে আরেকটি সংসদ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ২০১০ সালের আইনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাহীন এক রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করার যে চেষ্টা ছিল, তার সঙ্গে সংসদ ভেঙে না দিয়ে নির্বাচন করার দৃষ্টিভঙ্গির মিল পাই। সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগে সম্পূর্ণ স্বাধীন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান যেন সর্বতোভাবেই তাঁর দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। ঝুলন্ত সংসদ অর্থাৎ নির্বাচনের পর সরকার গঠনে অস্পষ্টতা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি প্রভাব খাটাতে পারবেন। ব্রিটিশ সংসদীয় রেওয়াজ হচ্ছে, দুই প্রধান দলের মধ্যে সরকার গঠনের প্রশ্নে অস্পষ্টতা দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীকে তিনি প্রথমে আমন্ত্রণ জানাবেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর এ নিয়ে বিরোধ দানা বাঁধেনি। ১৯৯১ সালের ১ মার্চ সাহাবুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘কোন দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়ায় এ মুহূর্তে মন্ত্রিপরিষদ গঠন সম্ভব নয়।’ শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে ...
সংসদ রেখে সংসদ নির্বাচন করার ভ্রান্তি
সরল গরল
প্রথম আলো
২৫/০৮/২০১২
সাংবিধানিক বিতর্ক ২ রূপসী বাংলায় গত ৩০ মে অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী লতিফুর রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল। সাংসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সঙ্গে দেখা। বললেন, ‘মিজান, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৩ দফার (ক) উপদফা নিয়ে লিখুন।’ ২৫ জুন সংসদের বাজেট আলোচনায় এ নিয়ে তিনি সরব হন। সংশোধনী চান। তাঁর যুক্তি: ‘অন্তর্বর্তী সরকার পঙ্গু হাঁস হতে পারে, কিন্তু সংসদ পঙ্গু হাঁস হতে পারে না।’ সংসদ রেখে সংসদ নির্বাচন করার ওই অভিনব উপদফাটি বাহাত্তরের সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল। ...
পদ্মা সেতু চুক্তি বাতিল এক কূটনৈতিক বিপর্যয়
সরল গরল
প্রথম আলো
০২/০৭/২০১২
একজন সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ ম্লান হয়ে গেল। পদ্মা সেতু নিয়ে কথিত দুর্নীতিকে প্রকারান্তরে প্রশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে তির ছুড়েছে বিশ্বব্যাংক। সেই তিরে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও দুদকের চেয়ারম্যান কি বিদ্ধ হননি? দুদকের কাছ থেকে সৈয়দ আবুল হোসেন সততার সনদ নিয়েছিলেন। এখন অর্থমন্ত্রীকে সনদ দেবে কে? খোদ দুদকের চেয়ারম্যানও শরাহত। একাদিক্রমে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের মর্যাদার জন্য এ ঘটনা মারাত্মক আঘাত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যে ক্ষতি বিরোধী দল করতে পারেনি, সেই ক্ষতি ও ক্ষত সৃষ্টি করল বিশ্বব্যাংক। ...
প্রধান বিচারপতির নীরবতা ভাঙবে কি
সরল গরল
দেশে বিদেশে
১৯/০৬/২০১২
স্পিকার আবদুল হামিদের রুলিংয়ে একটা অস্বস্তির অবসান ঘটেছে। তবে প্রধান বিচারপতিকে তাঁর করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের আশঙ্কা, তিনি নীরবতা অবলম্বন করতে পারেন, যদি তা হয় তবে সেটা হবে দুঃখজনক। বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্পিকার সুনির্দিষ্টভাবে সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। এই অনুচ্ছেদ বলেছে, সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। গত ২৬ মে স্পিকার সংসদে বিচারকের প্রতি ইঙ্গিত করে ‘আমি কি হনুরে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। আলোচ্য বিচারক এর উত্তরে ৫ জুন স্পিকারের উক্তিকে ‘দেশদ্রোহের শামিল’ এবং স্পিকার হিসেবে তাঁর জ্ঞান নিয়ে কটাক্ষ করেও মন্তব্য করেছিলেন। বিচারক, স্পিকার কিন্তু তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরতে ‘যথাযথ প্রক্রিয়া’ অনুসরণে অপারগ থেকেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ...
সংসদ ও সুপ্রিম কোর্টের জবাবদিহি
সরল গরল
দেশে বিদেশে
০৮/০৬/২০১২
দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে স্পিকার-বিচারপতির মধ্যকার চলতি টানাপোড়েনের সুরাহা চেয়েছেন। বোধসম্পন্ন যে কেউ সেটাই আশা করবেন। কিন্তু যে বিষয়টি দ্রুত চাপা পড়ে যাবে, সেটি হলো সংসদ ও বিচার বিভাগের জবাবদিহির প্রশ্ন। সংসদ আইন পাস করে। সংবিধানের সঙ্গে তা ঠোক্কর খেলে আদালত তা বাতিল করেন। তাই সংসদের জবাবদিহি আদালত নিশ্চিত করেন। ভারতের সংসদ দুই শতাধিক আইন পাস করে বলেছে, এর বৈধতা আদালত পরীক্ষাই করতে পারবেন না। সুতরাং সেখানে সংসদ বনাম বিচারালয়—একটা বিতর্ক চলে। কিন্তু আমাদের বিতর্ক সেই ঘরানার নয়। ভারত নির্জীব সংসদীয় অভিশংসনব্যবস্থাকে সক্রিয় করতে ‘দ্য জুডিশিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি বিল, ২০১০ এনেছে। এতে আচরণবিধির লঙ্ঘনকে দ্রুত আমলে নিতে অবিচারক সদস্যদের দিয়ে একটি ওভারসাইট (সতত পর্যবেক্ষণ) কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ...
মাননীয় প্রধান বিচারপতি রায়টি প্রকাশ করুন
সরল গরল
প্রথম আলো
১৪/০৫/২০১২
অনেক দিন পর নির্দিষ্ট খবর পেলাম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রিম কোর্টের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানালেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বহুল আলোচিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চূড়ান্ত করেছেন। তবে এটা গল্পের শুরু না শেষ, তা স্পষ্ট নয়। এই রায়ে আমাদের সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির প্রাণভোমরা লুকিয়ে আছে বললে ভুল হবে না। বিরোধী দল এখন ইলিয়াস আলীতে, পরে অন্য ইস্যুতে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে যেতে পারে। মুখে তারা যা-ই বলুক, তাদের অন্তরে মসনদ, সেখানে যাওয়ার মওকা হিসেবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ...
মোস্তফা কামালের সমুদ্র রিপোর্ট এবং বিএনপির বিল
সরল গরল
প্রথম আলো
০৪/০৪/২০১২
বাংলাদেশের সমুদ্রজয়কে কাল্পনিক ব্লক হাতছাড়া হওয়া না-হওয়ার সঙ্গে তুলনা করে বিএনপি ও কিছু বিশেষজ্ঞ চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন। বিরোধী দলের নেতা সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পর বিএনপিরই কিছু নেতার যেন গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। ড. মোশাররফ হোসেন প্রেসক্লাবে মিয়ানমারের কাছে ‘ঠকে আসার’ অভিনব তত্ত্ব হাজির করেন। এর পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম, যিনি এর আগে ‘সরকারকে বাদ দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে’ সাধুবাদ জানিয়েছিলেন, তিনি এখন ‘শুভংকরের ফাঁকি’ আবিষ্কার ও ‘বিসর্জনের’ তালিকা প্রকাশের দাবি করেছেন। রায় প্রকাশের মতো হাস্যকর দাবিও তুলছেন। কারণ, ইটলস ...
শাস্তি দিচ্ছেন না কেন মাননীয় স্পিকার?
সরল গরল
প্রথম আলো
২২/০৩/২০১২
বাংলাদেশের সংসদকক্ষে বাকস্বাধীনতার চরম অপব্যবহার চলছে। অনেকে ধরেই নিয়েছেন, সংসদের ফ্লোর যেন যা মুখে আসে তা-ই বলার এক স্বর্গরাজ্য। নারী সাংসদেরাও নারীত্বের অবমাননায় বেপরোয়া। শুধু দুই বড় দলের বিরোধের ক্ষেত্রেই নয়, ‘হাউস অব দ্য নেশন’-এর ফ্লোরে দাঁড়িয়ে ব্যক্তি বিদ্বেষ ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্ধ আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি। ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে মানহানি ও চরিত্রহননের অপচেষ্টাও বিরল নয়। একটি খারাপ দৃষ্টান্তকে অতীতের আরেকটি খারাপ দৃষ্টান্তকে টেনে এনে জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়। ...
বাংলাদেশের 'মহান জয়ের' নেপথ্যের গল্প
সরল গরল
প্রথম আলো
১৭/০৩/২০১২
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক জেমস ক্রফোর্ড ১৫ মার্চ ই-মেইলে এই লেখককে নিশ্চিত করেন যে সমুদ্র বিরোধের বিচারিক ইতিহাসে বাংলাদেশ বনাম মিয়ানমার মামলার রায় একটি নতুন ঘটনা। এই প্রথম সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের রফা হলো ইটলস বা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে। অধ্যাপক ক্রফোর্ড ১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে ব্যারিস্টার ও সলিসিটর হিসেবে পেশা শুরু করেছিলেন। হামবুর্গে বাংলাদেশের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের তিনি অন্যতম কুশলীব। রায় সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এটুকু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এটা এক মহান জয়।’ এই ...
সরল গরল
কাদের মোল্লার ‘ভি’ চিহ্নের আড়ালে
খোলা কলম
(প্রথম আলো
০৫/০৩/২০১২
দণ্ডাদেশ শুনে যুদ্ধাপরাধীরা কেমন আচরণ করেন, সেদিকে লক্ষ রেখেছিলেন জি এম গিলবার্ট। তিনি একজন কারা মনস্তত্ত্ববিদ। নাৎসি যুদ্ধাপরাধী গাইরিংয়ের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। রায় শুনে তাঁর চোখে তিনি আর্দ্রতা দেখেছিলেন। আবেগে দুই হাত ছুড়েছিলেন। গাইরিংয়ের সঙ্গে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো হেস কাষ্ঠহাসি হেসেছিলেন। তাঁর মুখের হাসির কারণ সম্পর্কে একজন রক্ষী গিলবার্টকে বলেছিলেন, হেসের যাবজ্জীবন হওয়ায় তাঁর হাসি পেয়েছিল। দণ্ড শুনে রিবেনট্রপ মৃত্যু মৃত্যু বলে ফিসফিস করে আওড়াতে শুরু করেন। ফ্রাঙ্ক তাঁর মৃত্যুদণ্ড শুনে স্মিত হেসেছিলেন। জোথ বলেছিলেন, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা? আমি অন্তত এর প্রাপ্য নই। ২০ বছরের জেল শুনে স্পিয়ার ম্লান হেসে উক্তি করেছিলেন, ‘সত্যি, আমাকে তাদের লঘুদণ্ড দেওয়ার কথা ছিল না। কঠিন শাস্তি আমার প্রাপ্য। আমি আমার কৃতকর্ম স্বীকার করি। এখন ...
র‌্যাবলিকস ও আমাদের আমেরিকাপ্রীতি
সরল গরল
প্রথম আলো
১৬/০১/২০১২
পুরোনো কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন সময়ের দেবদূত জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ৩০ বছর পর সবকিছু কয়লা হয়ে যাওয়ার পর যা আমরা জানতে পারতাম, সেটা আমরা টাটকা জানলাম। থলের বিড়াল বাইরে বেরোল। বিষয়টি যে বিব্রতকর, সেটা মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি নিজেই স্বীকার করেছেন। গত ৩ জানুয়ারি তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে লোকেরা তাঁকে উইকিলিকসের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানোর দায়ে অভিযুক্ত র‌্যাবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের প্রশিক্ষণ দানের ঘটনা ফাঁস হওয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তথা আমাদের আমেরিকাপ্রীতির মুখোশটা ঈষৎ হলেও খসে পড়েছে। ...
মনমোহনের সফরে বাংলাদেশের মন মোহন হবে কি?
সরল গরল
প্রথম আলো
১১/০১/২০১২
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর সামনে রেখে আমরা কি খুব বড় ধরনের বরফ গলার বিষয় আশা করতে পারি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের এক বছর পর সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা একটি কেতাদুরস্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন। মি. কৃষ্ণা বলেছেন, ‘আমি মনে করি, এই সফর ২০১১ সালে হতে পারে। আমরা তারিখ নির্ধারণে পারস্পরিক আলোচনা চালাচ্ছি।’ কোনো আনুষ্ঠানিকতায় এটা প্রকাশ করা হয়নি। গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন হচ্ছিল। সেখানে সম্ভবত একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করার পর এক বছর হয়ে গেছে। আপনি ও আপনার প্রধানমন্ত্রী কবে ঢাকা যাচ্ছেন।’ ...
নিয়ামুলের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন চাই
সরল গরল
প্রথম আলো
০৪/০১/২০১২
শিশু নিয়ামুলকে আপনারা চেনেন। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রথম আলোসহ কয়েকটি পত্রিকায় খবর ছাপা হয় যে শিশুদের পঙ্গু করে নামানো হচ্ছে ভিক্ষায়। একেবারে হইচই ফেলে দেওয়া খবর। এ ঘটনা শুনে অনেকেই স্তম্ভিত হন। ভাবেন, আমরা কোথায় যাচ্ছি? আদালত ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন এ ঘটনা পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর। এই শিশুটিকে ঘিরে দুটো পরস্পরবিরোধী গল্প। এর তদন্ত চলছে। কিন্তু এটা এতই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর যে যাকে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ যথেষ্ট সংগত কারণেই ‘উচ্চ অগ্রাধিকার’ দেন। সন্দেহভাজন বলে যারা প্রচারিত, তাদের অন্যতম নাজমা আক্তার। তাকে বলা হচ্ছে ‘গডমাদার’। ...
সংবিধান পুনর্মুদ্রণ ও লখিন্দরের বাসর
সরল গরল
প্রথম আলো
০৩/০১/২০১২
সংবিধান পুনর্মুদ্রণে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলার পরে পুরো সপ্তাহ কেটে গেল। সরকারি কোনো ভাষ্য মেলেনি। অবশ্য এও ঠিক, ‘মুই কী হনু রে’ যে এর প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে। প্রবাদ আছে, হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল। তদুপরি ভাবি, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তো পোস্টকার্ড আমলে নেন। তাতেই মেলে মাইলফলক রায়। উপরন্তু খোদ মাননীয় প্রধান বিচারপতি সংবিধান পুনর্মুদ্রণে প্রকাশ্যে মত দেন। তারপর তা যা খুশি তা-ই ছাপা হয়। আর প্রথম আলো অন্তত পোস্টকার্ডের চেয়ে বহুল পঠিত। তাই ক্ষীণ আশা আইন মন্ত্রণালয় পাত্তা না দিতে পারে, মহামান্য আপিল বিভাগ তো আছেন। ...
প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিভঙ্গি ভ্রান্তিপ্রসূত
সরল গরল
প্রথম আলো
০২/০১/২০১২
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ—আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। কেউ কারও ওপরে নয়।’ এই বক্তব্য তো এভাবে আসা অসমীচীন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। পরিপূরক কথাটি তো সর্বজনীন শব্দ। মন্ত্রিসভা যৌথভাবে এমনকি তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। সেখানে ‘কেউ কারও ওপরে নয়’-এর মতো অভিব্যক্তি কী করে প্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে? চাঁদের আলো না থাকুক, কিন্তু সংসদের আলো থাকতে হবে। এবং তাতেই সব স্তম্ভ, এমনকি চতুর্থ স্তম্ভও হবে আলোকিত। আমাদের সংসদ যতখানি অনালোকিত, আমরা ততটাই অনালোকিত থেকে যাচ্ছি। ‘আমরা অন্য কাউকে বিচার বিভাগের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করতে দেব না।’ ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩