কলামিস্টদের নাম
রাহাত খান এর কলামগুলো

হেফাজত, মাহমুদুর রহমান ও ১৮ দলীয় জোটের ইউটার্ন
উপ-সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
২৮ মে, ২০১৩
লিখতে বসেছি ২৫ মে, শনিবার। রবিবার ২৬ মে বিরোধী দল আবার হরতালের ঘোষণা দেয়ায় আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলে ঋদ্ধি (১৪) প্রায় আর্তনাদ করে উঠেছিল। ওদের বার্ষিক পরীক্ষা আসছে জুন মাসে। সিলেবাসের বহু পড়া হরতালের কারণে বন্ধ থাকায় স্কুলে আলোচিত হতে পারেনি। বহু সাপ্তাহিক পরীক্ষা একই কারণে বাতিল করতে হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি বলতে যা বুঝায় তা একদমই হয়নি। কারণ ঐ হরতাল। শুধু আমার ছেলে নয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আছে কয়েক লাখ ছেলেমেয়ে, সহিংস হরতালের কারণে যাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে। এছাড়া সহিংস হরতালের কারণে বাংলাদেশের দ্রুত ধাবমান টগবগে অর্থনীতি লাট খেয়ে গেছে। বিশ্বমন্দা বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়নের গতি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি, যতটা করেছে সহিংস এই হরতাল। এ নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আমি আর কিছু যোগ করতে চাই না। তবে চোখের সামনে দেশের সর্বনাশ দেখে বড় দুঃখ হয়। বড় কষ্ট হয়। মাঝে সংলাপের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদলÑ উভয় পক্ষের একটা ইতিবাচক ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ...
রাজনীতি এখন পলাতক! গণতন্ত্রেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ...
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৬ এপ্রিল, ২০১৩
বাংলাদেশে ইদানীং যা চলছে, তা কি চৌদ্দ দল বনাম বিএনপি-জামায়াত জোট এবং হেফাজতে ইসলামের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বলা যায়? ইদানীং লাগাতার হরতাল, নাশকতা এবং দুই পক্ষের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও আচরণ দেখে এই কথা আর বলা চলে না। পক্ষ-প্রতিপক্ষের মধ্যে ইদানীং যা চলছে, তাকে আর যাই হোক রাজনীতি বলা যায় না। ক্ষমতার লড়াই তো বটেই। তবে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় সেটা ক্ষমতার লড়াইয়েরও বেশি কিছু। রাজনীতি বহু আগে খালেদা জিয়ার পায়ে সালাম জানিয়ে খিড়কি দরজা দিয়ে পালিয়েছে। পালিয়ে যেন বা বেঁচে গেছে। রাজনীতি কমপক্ষে ন্যূনতম সভ্যভব্য আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গির দাবি রাখে। রাজনীতির সংজ্ঞায় প্রথমে আসে জনগণ। আসে ন্যায্যতা। রাজনীতিককে দিতে হয় স্বাধীন দেশের জনগণের কাছে দায়-বদ্ধতার পরীক্ষা। বাংলাদেশে ইদানীং এ সবের বালাই নেই। এখন রাজনীতির শূন্যতা পূরণ করেছে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল। ককটেল বোমা এবং বন্দুক-পিস্তল। গ্রেনেড এখনও আসেনি। তবে পাকিস্তান যব অন্তত আধা জিন্দা হ্যায়, তখন মহানেত্রীর উচ্চারণে ‘ইনশেআল্লাহ’ গ্রেনেডও এসে যাবে। আর হরতাল? সেই মহান গণতান্ত্রিক অধিকার? না তিনিও আছেন। ...
শাহবাগে আন্দোলন ও বাংলাদেশ
কলাম
জনগণ্ঠ
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের জাগরণ এক অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ। মূলত ব্লগার এ্যাক্টিভিস্টরাই এই অহিংস অরাজনৈতিক জাগরণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পরে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তির নানা সংগঠন এতে যোগ দিয়েছে এবং নেতৃত্ব দিয়েছে। আমার মতো প্রায় সবারই জানা যে, গণজাগরণের মূল দাবি দুটি। এক, অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ ফাঁসির দ- দেয়া। দুই, স্বাধীনতাবিরোধী এবং ফ্যাসিস্ট দল জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা। শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের অভূতপূর্ব জাগরণকে কেন্দ্র করে দেশের সব জেলা উপজেলা এমনকি বহু ইউনিয়নে জাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছে। গোটা দেশ যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাসছে। আজকের তরুণ প্রজন্ম সময়ের কারণেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি। তবে তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সন্তান। ...
ফখরুদ্দিন সরকার আর নয়
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২৯ জানুয়ারি ২০১৩
বাংলাদেশে সংসদ একেবারেই কার্যকর নয়। এ জন্য দায়ী প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রীর জেদ এবং অসহযোগিতা। গত রবিবার ২৬ জানুয়ারি এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে তথ্য-পরিসংখ্যানসহ তিনটি দৈনিকে। সংবাদের সত্যতা ও যথার্থতা স্বীকার না করে গত্যন্তর নেই। সংসদ কার্যকর হতে না দেয়ার পেছনে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা স্বীকার করতেই হয়। শুধু বিদ্যুত চমকের মতো একটি সন্দেহ ঝলক দিয়ে ওঠে। একই দিনে সংবাদটি প্রভাবশালী তিনটি দৈনিকে প্রায় একই কায়দায় ছাপা হওয়া কেন? এটা কাকতলীয় ঘটনা হিসেবেও গণ্য করা চলে অনায়াসে। এ রকম তো খবরের কাগজে কখনও কখনও ঘটে। এক পত্রিকার ব্যানার হেডিং মিলে যায় অন্য পত্রিকার সঙ্গে। অনেক সময় প্রায় হুবহু একই শিরোনাম। তবে কিনা দেশে এখন বিস্তর জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে তৃতীয় শক্তির সম্ভাব্য উত্থান দিয়ে। বিশেষ করে একই গ্রুপের দুটি পত্রিকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশংসা-গীতি গাইছে বেশ উচ্চকণ্ঠে আর প্রকারান্তরে সংসদীয় গণতন্ত্র যে বাংলাদেশে অকেজো প্রতিপন্ন হয়েছে, এটা তথ্য-প্রমাণসহ প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বহু লোকের ধারণা জন্মেছে, তৃতীয় শক্তির ...
ধ্বংসের দশক চলছে?
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২২ জানুয়ারি ২০১৩
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ্যালেন গোল্ডস্টেইনের মেয়াদ শেষ। দু’এক দিনের মধ্যে উত্তরসূরির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তাঁর বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা। যাওয়ার ঠিক আগে আগে, গত ১৯ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি এমন একটি বক্তব্য দিয়ে গেলেন তা কূটনীতিসুলভ নয় বলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি নির্বিশেষে বহু লোক মন্তব্য করেছেন। অনেকের মতে এটা বিরক্তিকর। দুর্নীতি সব দেশে হয়, হচ্ছে। গোল্ডস্টেইনের নিজের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই ব্যাধি থেকে মুক্ত নয়। এবং সব মুক্ত ও গণতান্ত্রিক দেশেই জনগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এটা খুব একটা নতুন কথা বলে গেলেন না গোল্ডস্টেইন। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের রুখে দাঁড়ানো প্রশংসার দাবি রাখে। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেয়ায়’ পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে গোল্ডস্টেইনের নাম আর ভূমিকা নাকি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অপশাসন বা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ চিরকালই সোচ্চার। বাংলাদেশীদের এই ব্যাপারে সার্টিফিকেট দেয়ার প্রয়োজন ছিল না। এই মন্তব্য অযাচিত। অকূটনৈতিক। পদ্মা সেতু প্রকল্পে তিনি যে ভূমিকা ...
বাংলাদেশ যাবে সামনে বা পেছনে?
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২ জানুয়ারি ২০১৩
ঢাকাইয়া ‘জোকস!’ উল্টা গেঞ্জি গায়ে চড়িয়ে এক লোক বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তাই দেখে এক রিকশা চালকের প্রশ্ন : স্যার, আপনে আইতাছেন না যাইতাচেন! সামনে যাচ্ছেন না পেছনে যাচ্ছেন? পুরনো ঢাকাইয়া রসিকতা। অনেকেরই জানা। তবে দেশের পরিস্থিতি ও রাজনীতির ধরন-ধারণ দেখে, ব্যঙ্গাত্মক সুরটুকু বাদ দিয়ে, বরং উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা নিয়ে এই প্রশ্নটাই করতে হয়Ñ দেশের রাজনীতি কোনদিকে যাচ্ছে? সামনের দিকে না পেছনের দিকে? রাজনীতিতে দৃষ্টিভঙ্গি এবং মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে। তবে এর একটা সীমাবদ্ধতাও আছে। দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার নাম, আর যাই হোক, গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়। হিংসা এবং হিংস্রতা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অস্বীকার এবং বিরোধিতা বৈ আর কিছু নয়। পুলিশ-সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সত্য বটে নির্বাচনসর্বস্ব রাজনীতিতে, বিশেষত উন্নয়নশীল দেশে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন সরকারের নজরদারি এবং হক-না হক আনুগত্যের প্রতিষ্ঠা একটু বেশিই থাকে। তবে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে আর যা-ই হোক, সেনাবাহিনী বা পুলিশ, নিয়ন্ত্রিত দেশ নয়। অথচ দেখতে হচ্ছে, রাজনৈতিক মিছিল এবং ...
দেশ রক্ষার ‘শেষ যুদ্ধ’
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২৫ ডিসেম্বর ২০১২
ফ্যাসিবাদী রাজনীতি বলতে যা বুঝায়, জামায়াতে ইসলামী সেই সংজ্ঞার প্রতিটি শর্তই সর্বতোভাবে পূরণ করে। কি পাকিস্তানে, কি ভারতে, কি বাংলাদেশে। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বৈশিষ্ট্য : ধর্ম ও এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণকে বিতর্কিত করে তোলা। নিজেদের বিকৃত ধর্মভিত্তিক রাজনীতির স্বার্থে মুসলমানদের সঙ্গে হিন্দু, খ্রিস্টান ও ইহুদীদের, মুসলমান শিয়ার সঙ্গে সুন্নি, সুন্নির সঙ্গে কাদিয়ানীর এবং এক বর্ণের সঙ্গে আরেক বর্ণের রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়ে রাখা। বাংলাদেশে সত্যিকারের মুসলিম অনুসারী মাত্রই জানেন জামায়াতীরা নবীজীর ইসলামকে নয়, মওদুদীর ইসলামের অনুগামী (আস্তাগফিরুল্লাহ)। মুসলমানের ইমান আল্লা-রাসুল। আর জামায়াতীদের কাছে রসুলুল্লাহ্ (সা) ইমানের অংশ নন, বড়জোর মুসলিম অনুসারীদের ‘মুরব্বী’ কিংবা বড় ভাইয়ের মতো মান্যবর। তাদের কাছে ধর্ম (মুসলিম) হচ্ছে সন্ত্রাসী ‘জেহাদে’ লিপ্ত থাকা। তাদের রাজনীতি হচ্ছে ধর্মকে যথেচ্ছ ব্যবহার করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল জামায়াতে ইসলাম নামে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলটি। ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশে, একক নির্বাচনে বলতে গেলে তেমন পাত্তাই পায় না। তাদের সবচেয়ে বেশি দাপট ও প্রভাব পাকিস্তানে। কেননা সেদেশে সহচর বা সহযাত্রী হিসেবে তারা তালেবান ও জঙ্গী ...
বিশ্বজিৎ হত্যা ও বাংলাদেশের রাজনীতি
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৯ ডিসেম্বর ২০১২
নিরীহ যুবক বিশ্বজিতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। স্বাভাবিক ছাড়া যে কোন অপমৃত্যু বা হত্যাকা-ই জনমানুষের ঘৃণা ও ধিক্কার কুড়ায়। বিশ্বজিতের হত্যাকা- তেমনি ঘৃণা ও ধিক্কার কুড়িয়েছে দেশজুড়ে। সে ছিল বাইশ তেইশ বছরের পাতলা ছিপছিপে। সবে যৌবনে পা দেয়া এক যুবক। বাবা-মা, ভাইবোনদের চোখের মণি। পুরান ঢাকায় তার ছিল খুব ছোট এক চিলতে দর্জি দোকান। দোকানের সামান্য আয় থেকে বাঁচিয়ে নিয়মিত টাকা পাঠাত গ্রামে, বাবা-মায়ের কাছে। বিশ্বজিতের পাঠানো টাকায় কোন রকমে চলত একটি দরিদ্র সংসার। সেই সংসার এবং মা-বাবার ছেলেকে ঘিরে সব স্বপ্ন-ভরসা ছারখার হয়ে গেল বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডে। বিশ্বজিতের হত্যাকা-ের প্রত্যক্ষ ছবি দেখা গেছে দেশের প্রতিটি সংবাদপত্রে এবং টেলিভিশনে। এই হত্যাকা- সব পৈশাচিকতা ও নৃশংসতাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম বলেছেন, বিজয়ের মাসকে যেন চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়েছে। এমনই নৃশংস নিরীহ পথচারী বিশ্বজিতের হত্যাকা-! ঠিক কথাই বলেছেন বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের তথ্যমন্ত্রী এবং এককালে গলাকাটা অতিবাম রাজনীতির অনুসারী তরিকুল ইসলাম। তাঁর নেত্রী এবং বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াও ...
ভালোবাসা কারে কয়
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১২ ডিসেম্বর ২০১২
আমি খানিকটা আলোচনা করতে চাই বাংলাদেশের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি প্রসঙ্গে। আলোচনার আগে রবীন্দ্রনাথের একটি গানের দুটি চরণ উদ্ধৃত করতে চাই : তোমরা যে বলো ভালোবাসা, ভালোবাসা, ভালোবাসা কারে কয়? গানের চরণ দু’টির বিষয় যা-ই হোক, প্রশ্নটি কিন্তু আমার প্রসঙ্গের সাথে মিলে যায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং বিভক্ত সুশীল সমাজে এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে চলেছে। তুই রাজাকারÑ এই পুরনো কথা ভুলে যাও। প্রথম বলতে হবে, অবশ্যই সরকারী লোককে, তুই চোর। আরেক পক্ষ বলে, তুই তো চোরের দল থেকে মহাচোরের দলে প্রমোশন নিয়েছিস। স্বাধীনতার শত্রু আলবদর, রাজাকারদের রক্ষা করতে চাইছিস! তাহলে? চুরি, দুর্নীতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সুশাসন, নির্যাতন ইত্যাদি নিয়ে এ রকমই পাল্টাপাল্টি চলছে। চলারই কথা। দেশে রাজনীতি আছে আর স্বার্থ নিয়ে পক্ষ প্রতিপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি থাকবে এ রকমটা তো না হওয়াই অস্বাভাবিক! শুধু বাংলাদেশ কেন, জংলী তন্ত্র, কার্যকর রাজতন্ত্র নেইÑ এমন সব দেশে ‘সত্য’ ‘ন্যায়’ ও ‘স্বার্থ’ রক্ষার নামে রাজনৈতিক, সামাজিক অঙ্গনে এ রকম দ্বৈরথ চলছে। চলছে এবং ...
রাজনীতিতে বিদ্বেষ-প্রতিহিংসার জয় হয় না
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
৬ ডিসেম্বর ২০১২
ভারতের দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ রাজ্যের একটি পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বছর খানেকের একটু বেশি হয় ক্ষমতায় এসেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি নিজের রাজ্যে এবং ভারতের বহু স্থানে জনগণ ও রাজনীতিবিদদের কাছে বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। পশ্চিমবঙ্গের একটি নামী পত্রিকায় সম্প্রতি তাকে হাওয়াই বাজির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হাওয়াই বাজি আকাশে কিছু দূর উপরে উঠতে পারে ঠিকই; তবে অচিরেই এর পরিণাম ঘটে মর্ত্য-ভূমিতে অনিবার্য পতনে। মমতার রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা বেশকিছু দূর পর্যন্ত দাপট দেখাতে পারে বটে, তবে বেশিক্ষণ সেই দাপট স্থায়ী হতে পারে না। রাজনৈতিক পরাজয় ও লোক হাসাহাসির শিকার হতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ১৯ জন লোকসভা সদস্য নিয়ে দিল্লীর ক্ষমতা কাঁপিয়ে দিয়েছেন বারকয়। দিল্লীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ কোয়ালিশন সরকার পার্লামেন্টে ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অধিকারী। কোয়ালিশন পার্টনার তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন লোকসভা সদস্য হয়ে উঠেছিল সরকার টিকে থাকা না থাকার নিয়ামক শক্তি। ফলে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা ইস্যুতে বিরোধিতা এবং হুমকি-তর্জন-গর্জন ইত্যাদির কাছে বেশ কয়েকবার মাথা নোয়াতেই হয়েছে। ক্ষমতায় ...
মৃতেরা তো ফেরে না
কণ্ঠস্বর
সমকাল
৩ ডিসেম্বর ২০১২
এ মুহূর্তে বাংলাদেশজুড়ে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় আশুলিয়া এলাকার তাজরীন গার্মেন্টে আগুনে পুড়ে ১১১ কর্মরত পোশাক কর্মীর অসহায় মৃত্যু। পুরো জাতি এ ঘটনায় স্তম্ভিত ও শোক-স্তব্ধ। ঘটনার পরদিন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শোক দিবস পালন করা হয়েছে। তবে শোক ও সম্মান প্রদর্শন যেভাবেই করা হোক, মৃতরা তো ফেরে না। এভাবে আগুনে পুড়ে মানুষ মরার কোনো সান্ত্বনাও হয় না। এ নিয়ে নানা মহলের নানা কথাবার্তা, নানা ক্ষোভ ও ক্রোধ, নানা অভিযোগ। সরকারি তরফে এবং কারখানার স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেনের মতে, কারখানায় অগি্নকাণ্ডের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ...
দেশের চেহারা বদলে দেবেন খালেদা জিয়া
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২৭ নভেম্বর ২০১২
তা তিনি পারবেন। সেই মিশন তাঁর বরাবর ছিল। এখনো অটুট আছে। তবে সেসব কথা বলার আগে জনকণ্ঠে গত মঙ্গলবার আমার অসমাপ্ত বক্তব্যের বাকি কথাগুলো একটু বলে নিতে চাই। পাঠক পাঠিকাদের বোঝার সুবিধার্থে জনকণ্ঠে গত মঙ্গলবার আমার লেখায় যা বলতে চাইছিলাম, সেই সূত্রটি পুনর্বার ব্যক্ত করি। কোন একটা দৈনিক পত্রিকায় জনৈক পাকিস্তান ফেরত বাংলাদেশীয় সেনা কর্মকর্তা তাঁর লেখা কলামে বার বার বর্তমান মহাজোট সরকারকে প্রতি পদে ব্যর্থ এক সরকার বলে অভিহিত করেছেন। আর খুবই মনে কষ্ট আর আফসোসের সাথে বলেছেন যে, বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত জোট কেন দেশে একটা রাজনৈতিক গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাসীন এই ব্যর্থ সরকারের পতন ঘটাচ্ছে না! বর্তমান সরকারের কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক ব্যর্থতা রয়েছে বৈকি। তবে পদে পদে এই সরকার ব্যর্থ নয়। বরং ব্যর্থতার চেয়ে বর্তমান সরকারের সাফল্যের পরিধি অনেক ব্যাপক। সাফল্যের কিছু কিছু ফিরিস্তিই দিতে শুরু করেছিলাম মহাজোট সরকারের ব্যর্থতার বিষয়টি বলার আগে। তবে পত্রিকার স্পেস এবং আমার সময় ঠিকঠিক মেলেনি। ফলে বক্তব্যটি শেষ হতে ...
বিএনপি রাজনীতির যে খেলাটা খেলছে...
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২০ নভেম্বর ২০১২
ঢাকা মহানগরীর সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের সহিংস হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের দাবি তোলার বিপক্ষে একটি কথাও বলেননি। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ব্যক্তিগত আচরণে তাঁর চেয়ে নম্র ও ভদ্র খুব কম লোকই দেখেছি। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার বিপক্ষে একটি কথাও না বলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামলাবার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি। এটা বড়ই আশ্চর্যের বিষয়! অবশ্য বিষয়টি আমাকে তেমন বিস্মিত করেনি। পাকিস্তানী জমানায় আইয়ুব শাহীর শাসনামলে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা এক চিত্রশিল্পী, পটুয়া কামরুল হাসানকে তার পরিচিত কেউ ‘কেমন আছেন কামরুল ভাই’ জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ সামান্য একটুখানি নেঁকোস্বরে উত্তর দিতেন ‘ভাল থাকার হুকুম রুয়েছে!’ আইয়ুব শাহী ও জালিমশাহী যে আসলে একই ধরনের শাসনাবস্থা তার (পটুয়া কামরুল হাসান) কথায় সেটাই প্রকাশ পেত। সাদেক হোসেন খোকার উল্লেখিত বক্তব্যের খেই ধরে নির্দ্বিধায় বলা যায়, জামায়াত-শিবিরের পক্ষে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিপক্ষেও যে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার পক্ষে ‘হুকুম’ আছে। কার হুকুম? খুলে বলার দরকার আছে? সম্প্রতি ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি ...
সংলাপেই পরিত্রাণ
কণ্ঠস্বর
সমকাল
১৫ নভেম্বর ২০১২
দুনিয়ার সব গণতান্ত্রিক দেশেই সাধারণ নির্বাচনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক নির্বাচন সম্পন্ন হয় সেই দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের আওতায়। তবে বাংলাদেশে নানা কারণে নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে সাধারণ নির্বাচন পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আলোচনায় চলে এসেছে। নির্বাচন চাই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এই দাবি এককালে ছিল আওয়ামী লীগের। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার এই দাবির ঘোর বিরোধী ছিল। বিএনপি তাদের অবস্থানে অটল থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি (২০০৬) নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। বিরোধী আওয়ামী লীগের দাবিকে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত) কোনো রকম পাত্তাই দিতে ...
খালেদা জিয়ার ভারত সফর এবং জামায়াতের সহিংসতা
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৩ নভেম্বর ২০১২
মাত্র কিছুদিন আগের কথা। ভারত সফরে গিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ‘বিজয়ী’ হয়ে ফিরে এসেছেন দেশে। ভারত তাঁকে আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশের শুধু একটি ভারতপন্থী দল নয়, গণতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় কিংবা বিরোধী দলে থাকুক ভারত সেই দলের সরকারকে, অন্যান্য দলকে সর্বাত্মক সমর্থন দেবে। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং উন্নয়নে আন্তরিক সহযোগিতা যোগাবে। বাংলাদেশের সংসদীয় বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে ভারত আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠন করলে এখনকার মতো তখনও অবকাঠামোগত নির্মাণে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখে তেমন সব খাতে এখানকার চাইতেও ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সম্পর্ক যাতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় সেই প্রচেষ্টাও ভারত অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভারত সরকার এবং ভারতীয় নেতৃবৃন্দকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন যে, বাংলাদেশের মাটি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং পাকিস্তানপন্থী জঙ্গীদের ব্যবহার করতে দেবে না তাঁর দল কিংবা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিএনপি সরকার। ভারতকে ট্রানজিট দিলে ভারতীয় সৈন্য ...
বৌদ্ধবিহার থেকে মার্কিন নির্বাচন
কণ্ঠস্বর
সমকাল
১৮ অক্টোবর ২০১২
লিখতে চাইছি ভিন্ন একটি বিষয় নিয়ে। তবে উত্তম বড়ূয়ার মা ও বোনকে কেন গ্রেফতার করা হলো, আগে এই প্রশ্ন না করে পারছি না। তদন্তেই প্রমাণিত হয়েছে, উত্তম বড়ূয়ার ফেসবুকে ইসলামবিরোধী, কোরআন শরিফবিরোধী যে বক্তব্য, তা সুকৌশলে ট্যাগ করা হয়েছে। ট্যাগ করার পেছনে যে ছেলেটি যুক্ত, সেই অপরাধীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ট্যাগ করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছে গ্রেফতারকৃত ফারুক। সে এই ট্যাগ জালিয়াতের পেছনে জড়িত আরেক ব্যক্তির নামও প্রকাশ করেছে এবং ফারুকের স্বীকারোক্তির খেই ধরে সেই ব্যক্তিকেও ধরা হয়েছে। ...
একটি কষ্টসাধ্য কার্টুনের বিলাপ
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৬ অক্টোবর ২০১২
সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে হবে অবশ্যই। এ নিয়ে বিতর্ক বা কুতর্ক করার কোন কারণ দেখি না। দুনিয়ার সব দেশের সব সমাজেই বিষয়টি মান্যতা পায়। বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত গরিব দেশ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের সমাজেও সত্যিকারের সম্মানিত ব্যক্তি সম্মান পান না, এমন উদাহরণ আমার জানা নেই। প্রশ্ন দাঁড়ায়, কাকে সম্মানিত ব্যক্তি বলব? যিনি দারিদ্র্য বিমোচনের নামে ক্ষুদ্র ঋণ বিলিয়ে গরিবস্য গরিবদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লাভ করেন, প্রচারের গুণে আদর্শ হয়ে ওঠা সেই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতাকে? গরিবের চেয়েও গরিব লোকদের ব্যাংকে বছর বছর শত শত কোটি লাভ করার দরকার কি? এতে গরিবের ওপর শোষণ ছাড়া আর কি প্রমাণ হয়। গরিবদের ব্যাংক থেকে প্রতিবছর আদায়কৃত শত শত কোটি লাভ করে সেটা তো গরিবের ওয়েল ফেয়ারের জন্য ব্যয় করা যায়। গ্রামে গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা যায় অবৈতনিক স্কুল, ব্যাংকেরই টাকায়। গ্রামে গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা যায় লাইব্রেরী, বাপ-মা হারা নিঃস্ব হতভাগ্য শিশুদের জন্য আশ্রম! নরীদের জন্য হাসপাতাল গড়ে তোলা যায়। কই গরিবের ব্যাংকের সাফল্য ...
বিএনপির প্রতিশ্রুতির রাজনীতি
সম্পাদকীয়
দৈনিক জনকণ্ঠ
০৯ অক্টোবর ২০১২
দাপুটে নেত্রী বটে, বেগম খালেদা জিয়া! তিনি গণতন্ত্রের অনুসারী বলেও নিজেকে দাবি করেন। তবে তাঁর দলে কেউ যদি দলের হয়ে খানিকটা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের তিনি ক্ষমা করা দূরে থাক, ঐ ভিন্নমত পোষণকারীকে দলে থাকতেই দেন না। তাদের বহিষ্কার করেন। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, চৌধুরী তানভির আহমদ সিদ্দিকীর মতো বিএনপি-অন্তপ্রাণ প্রবীণ নেতাদেরও বহিষ্কার করেছেন তিনি একই কারণে। অর্থাৎ সামান্য ভিন্নমত পোষণ করার কারণে। প্রফেসর বদরুদ্দৌজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। পরে বিএনপির প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল। পরে মন্ত্রী ও আরও পরে রিপাবলিকের রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বঙ্গভবনে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি সুলভ কিছুটা ডিগনিটি বা সম্মান-বোধ বোধ করি দেখাবার চেষ্টা করেছিলেন! ব্যস, হয়ে গেল! ইয়েস চৌধুরী হতে না পারার অপরাধে তখনকার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে খালেদা জিয়া তাকে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করা নয়। রাষ্ট্রপতি পদ থেকেও অত্যন্ত অপমানজনকভাবে সরিয়ে দিয়েছিলেন। খুবই গণতান্ত্রিক নেত্রী খালেদা জিয়া তাতে আর সন্দেহ কি। হিটলারও ‘গণতন্ত্রী’ ছিলেন! অন্তত দেশবাসীর কাছে তাঁর দাবি ছিল সে রকমই। ...
বৌদ্ধবিহার :সাম্প্রদায়িক শক্তির ধ্বংসযজ্ঞ
কণ্ঠস্বর
সমকাল
৪ অক্টোবর ২০১২
কয়েকদিন আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের রামু এবং সনি্নহিত বিশাল এলাকাজুড়ে বৌদ্ধবিহার ভাংচুর, নিরীহ, শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধ জনগণের ঘরে অগি্নসংযোগ ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার যে অভাবিতপূর্ব ধ্বংসের ও তাণ্ডবলীলা সংঘটিত হয়েছে, সেই জঘন্য, কুৎসিত এবং অমানুষিক কাজের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। বাংলা ভাষার স্বাভাবিক শব্দ বা গালাগাল ব্যবহার করে নিন্দা জানালে বোধকরি যথেষ্ট হয় না। দুনিয়ার সব স্ল্যাং শব্দ উচ্চারণ করলেও বুঝিবা এই জঘন্য, কুৎসিত ও অমানবিক কাজের সম্যক নিন্দা জানানো হয় না! ঘটনাটি নিঃসন্দেহে পূর্বপরিকল্পিত। বৌদ্ধ এলাকায় দু'চার ঘর মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকের ঘরবাড়িও রয়েছে। অগি্নসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার বোঝা যায়, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের খুঁটি ছিল_ এক পরিবারভুক্ত দুটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। পরিকল্পনা সম্ভবত তাদেরই। ঘটনার পেছনে হাওয়া দিয়েছে তারাই এবং আশ্চর্য নয়, পাকিস্তানি স্টাইলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর মাঝে মধ্যে যারা লুটপাট, ঘরে অগি্নসংযোগ ...
নির্বাচন প্রশ্নে সংলাপ জরুরী
কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক
দৈনিক জনকণ্ঠ
২ অক্টোবর ২০১২
প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন। বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বোধকরি এর মধ্যে তাঁর কথাবার্তা হয়ে গিয়ে থাকবে। বিষয়বস্তু আর কিছু নয়, সেই দুই নেতাকে সংলাপের টেবিলে নিয়ে এসে বসানো। বিষয়বস্তু আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পর্কে দুই দলের একটা আপোস মীমাংসায় পৌঁছানো। এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকসহ আরও আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ জন্য ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বিশেষভাবে এবং অন্যান্য ব্যক্তি বা মহল সাধারণভাবে জাতির ধন্যবাদ প্রাপ্তির যোগ্য। দেশের বাছা বাছা লোকজন তো সমস্যা সমাধানের বদলে বহুক্ষেত্রে সমস্যা যাতে জটিল হয়ে ওঠে, সেই পন্থার অনুসারী। অথচ রাজনীতিতে প্রধান দুই পক্ষ প্রতিপক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রশ্নে পরস্পর ছাড় দেয়া ছাড়া কোন মীমাংসা যে হবে না এটা তো না বোঝারও কোন কারণ নেই বলেই মনে হয়। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার যদি মনে করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাসঙ্গিক ঘোষণা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কর্তৃক পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার পর বর্তমান মহাজোট ...
ভারতে অনিশ্চিত রাজনীতির শুরু
কণ্ঠস্বর
সমকাল
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১২
গত ২৪ সেপ্টেম্বর জানা গেল, ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের 'গরিব মারার' অর্থনৈতিক সংস্কারের বিপক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে শিগগিরই প্রচারাভিযানে বেরোবেন। মমতার এ মন্তব্যে কেউই বিস্মিত হয়নি। তিনি ছিলেন শাসক ইউপিএ কোয়ালিশনের মৈত্রী দল। দিলি্লর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়ে সরকারের বৈরী রাজনৈতিক দলের তালিকায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান বলতে গেলে রাতারাতি বদলে গেছে। তবে নিজ রাজ্যে অগি্নকন্যা হিসেবে বিবেচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যতটা গর্জন করছেন ততটা বর্ষণ করতে পারবেন কি-না, এ নিয়ে ...
'গুম' আতঙ্কে ড. কামাল হোসেন!
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২২/০৯/২০১২
ড. কামাল হোসেন নাকি ইদানীং 'গুম আতঙ্কে' ভুগছেন। যে কোনো সময় নাকি তাকে গুম করা হতে পারে। শুনে হাসব না কাঁদব ঠিক বুঝতে পারছি না! এমন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী, হৃষ্টপুষ্ট শরীরের লোকটাকে যদি গুম করে ফেলা যায় তা হলে তো বলতে হয় বাংলাদেশটা সম্পূর্ণ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে! এর চেয়ে নিরাপদ দেশ তো পাকিস্তান! ড. কামাল হোসেনের মূল ঠিকানা তো ওই দেশেই। মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস তার জন্য নিরাপদ দেশ পাকিস্তানেই তো কাটিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। শ্বশুরবাড়িতে। অনেক সময় ...
রাজনীতি :আলো থেকে অন্ধকারে?
উপ-সম্পাদকীয়
সমকাল
০২/০৯/২০১২
ষাটের মাঝামাঝি থেকে রাজনীতির মূলধারা চলে যায় ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগে। এই আইয়ুব শাহির আমলে রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবনের পর দলের মধ্যমণি এবং দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হয়ে দাঁড়ান শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশের ম্যাগনা-কার্টা হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। সময়টা নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের মানুষের জীবন একটাই। তবে এই এক জীবনে বহু জীবন পার হয়ে হয়ে মানুষকে তার শেষ মীমাংসা অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত পেঁৗছুতে হয়। এটা অবশ্য সাধারণ ও স্বাভাবিক ...
আইন বড় না নোবেল পুরস্কার?
উপ সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
০৭/০৮/২০১২
ব্যক্তি বড় না আইন? দেশ না ব্যক্তি? এই দুটো প্রশ্নের অবধারিত উত্তর আমাদের জানা আছে। মুশকিল, যা অবধারিত উত্তর, যা সত্যেরও পরিপূরক, তা আমরা মেনে চলি না কখনও কখনও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভুল-ভ্রান্তি বা বিচ্যুতি নিয়ে স্বচ্ছন্দে আলোচনা হয়। তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র শেখ কামালের বিয়েতে তাঁর দুল্হীন সুলতানাকে স্বর্ণ-মুকুট দেয়া হয়েছিল বলে কিছু কিছু লোকের উষ্মা ও কিছু মিডিয়ার নিন্দা-সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সুলতানার পরিবার কয়েক প্রজন্ম থেকে বিত্তশালী। তাদের পরিবারের বা বঙ্গবন্ধুর গুণগ্রাহীদের কেউ যদি দুলহীনকে উপহার হিসেবে সোনার মুকুট দিয়েই থাকেন, তবে সেটা অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক বা বেআইনী তো নয়। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সত্তর দশকের প্রথমার্ধে কোথাও কোথাও নিন্দা-সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে খুনী মোশতাক অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর দুর্নীতি, তাঁর সম্পত্তি, সুলতানাকে তাঁর বিয়েতে দেয়া উপহার ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর তদন্ত এবং কিছু মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করার বহু চেষ্টাই করেছিলেন। তাঁর করা শ্বেতপত্রেই কোন অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং তিনি যে কতটা সৎ, ...
ব্যারিস্টার হুদার দলত্যাগ ও শর্তবিহীন সংলাপ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১১/০৭/২০১২
বিএনপিদলীয় সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। তার দাবি ছিল, ৫ জুনের মধ্যে তার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি বিরাজমান থমথমে ও সংকটপূর্ণ রাজনীতি নিরসনের স্বার্থে নিজে থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান না জানান, তাহলে তিনি বিএনপি থেকে ৬ জুন পদত্যাগ করবেন। তার ম্যাডাম খালেদা জিয়া এ নিয়ে টুঁ শব্দটিও করেননি। নিশ্চুপ থেকেছেন। সম্ভবত গোপনে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার কাছে দলের তরফ থেকে দাবি প্রত্যাহারের কোনো বার্তাও পাঠানো হয়নি। এক ...
যুদ্ধাপরাধী বিচার এবং পদ্মা সেতু
উপ সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
১০/০৭/২০১২
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর বর্বর-পিশাচ পাকিস্তানী বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর আলবদর, রাজাকার, আলশামস এবং পাকিস্তান মতাবলম্বী আরও দু’একটি রাজনৈতিক দল সুপরিকল্পিতভাবে নির্বিচার হত্যা, লুণ্ঠন, নারী-নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞের যে নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছিল তার সঙ্গে শুধু তুলনা করা চলে কম্বোডিয়ায় অকমিউনিস্ট নিধনের নামে ৩০ লাখ লোকের জঘন্য হত্যাকা- এবং বর্ণবাদী ও ফ্যাসিস্ট হিটলার বাহিনীর হাতে অন্যূন ৪০ লাখ ইহুদী হত্যার ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে। বাংলাদেশে যাদের বয়স পঞ্চাশের ওপরে তারা অবশ্য গোলাম আযম, নিজামী, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান গংয়ের চেহারা এবং বীভৎস কর্মকা-ের কথা ভুলে যাননি। এসব সংগঠন এবং সংগঠনের নেতাদের কাছে হিন্দু, আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পক্ষের লোকমাত্রই ছিল শত্রু এবং নির্বিচারে হত্যা করার পাত্র। আর পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে বাঙালী মাত্রই ছিল দুশমন, কৌম কা দুশমন, তাদের পাইকারি হারে ধরে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল বাঙালী নিধনের। ...
তিন মহাগুরুত্বপূর্ণ সফর নিয়ে
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৯/০৫/২০১২
কথায় বলে বড়র পীরিতি বালির বাঁধ! ভয় হয়। আবার প্রত্যাশাও জেগে ওঠে। ভয় ও প্রত্যাশা_ এই দুই অবস্থানের মধ্যে বোধকরি প্রকৃত সত্য নিহিত। সত্যিকারের বাস্তবতা লুকিয়ে আছে সেখানেই। সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রবল আলোড়ন তুলে ৪ মে থেকে ৬ মে বিশ্বের তিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরাশক্তির তিন দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি 'হাই-প্রোফাইল' সফরে বাংলাদেশ এসেছিলেন। ৪ মে প্রথমে জাপানের দ্বিতীয় শক্তিধর ব্যক্তি, দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা, পরে ৫ মে দুটি ভিন্ন সময়ে আসেন বিশ্বের প্রধান সমর ও অর্থনৈতিক শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ...
রাহাত খান সম্পর্কে কিছু কথা
-
02/05/2012
রাহাত খাত বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। তাঁর জন্ম ১৯৪০ সালে কিশোরগঞ্জে। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রী নেন। এরপর শিক্ষকতা শুরু করেন, প্রায় আট বছর শিক্ষকতায় জড়িত ছিলেন তিনি। এ পেশায় যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), চট্টগ্রাম কমার্স কলেজসহ বেশ কিছু নামী কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৬৯ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সাংবাদিকতায় যোগ দেন। সে সময়কার প্রভাবশালী দৈনিক ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’ সহকারী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু ...
রাজনীতি কোনদিকে হেলবে?
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১২/০৩/২০১২
আজ ১২ মার্চ। রাজনীতির বহু প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ আজই প্রদর্শিত হওয়ার কথা। রাজনীতির দুই পক্ষের এই শক্তি প্রদর্শনী নিয়মতান্ত্রিক ধারায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে হতে পারে। আবার নানা ধ্বংসাত্দক ও নাশকতামূলক কার্যকলাপের কারণে দিনটি হয়ে উঠতে পারে রক্তাক্ত, প্রাণহানিকর এবং অরাজকতাপূর্ণ। ...
পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৭/০২/২০১২
নৃশংস ও বর্বর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হয়েছে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। এ হত্যাকাণ্ডে বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানদের হাতে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা শহীদ হন। ঘটনাটি ঘটে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার দেড় মাসের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে এই মর্মে যে, ধরন দেখে মনে হয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সুপরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্রে ভরপুর আর এই ঘটনার পর নতুন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে কি-না সেটিই এখন দেখার বিষয়। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহস, দূরদর্শিতা এবং দৃঢ় অবস্থানের কারণে ...
চাই ইতিবাচক রাজনীতি
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৩/০২/২০১২
প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ এবং কমিশনারের অন্য তিনটি পদে মোহাম্মদ আবু হাফিজ, মোহাম্মদ আবদুল মোবারক এবং মোহাম্মদ জাবেদ আলী বিধি মোতাবেক শপথ গ্রহণ করেছেন। সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ এবং কমিশনার ত্রয়কে অভিনন্দন জানাই। নির্বাচন কমিশনার এবারই প্রথম সরকারিভাবে নয়, কতিপয় রাজনৈতিক দলের সুপারিশক্রমে গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের দাবি ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট ছাড়া দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক এবং সুশীল সমাজের। বিএনপি-জামায়াতের দাবি ছিল_ আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ...
এই ধৃষ্টতা ক্ষমার অযোগ্য
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০১/০২/২০১২
বিএনপি সংসদেও যায় না। কেন যায় না? সংসদে যাবে, জনগণের কথা সংসদের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরবে, সে জন্যই তো মানুষ তাদের ভোটে নির্বাচিত করেছে। তারা সংসদে যায় না কেন? সংসদে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির সরকারসহ নানা জাতীয় ইস্যুতে সংলাপে যোগ দেওয়ার জন্য মহাজোট সরকারের তরফ থেকে বলতে গেলে তাদের প্রায় হাতে-পায়ে ধরা হয়েছে। তবু তারা সংসদে যায়নি। সংসদে যোগ দেওয়ার নাকি যোগ্য পরিবেশ নেই খবরটা পড়ে মনে হলো, এ ধরনের ধৃষ্টতা প্রদর্শনের দুঃসাহস এরা কোথায় পায়। এরা মানে ১২টি ...
রাষ্ট্রপতির সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্�
কণ্ঠস্বর
সমকাল
০৪/০১/২০১২
রাষ্ট্রপতি ইসি গঠন সংলাপে বিভিন্ন দলের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি একজন মান্যবর ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তবে ইসি গঠন বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার বাইরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে কোনো মীমাংসা দেওয়ার সাংবিধানিক এখতিয়ার তার নেই। তত্ত্বাবধায়ক বিষয়ে যে কোনো মীমাংসার জন্য বিএনপিসহ সংক্ষুব্ধ দলগুলোকে সংসদেই যেতে হবে। নতুন করে আলোচনা ও মীমাংসা সূত্র বের করা যায় কিনা সেই প্রচেষ্টা নিতে হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান কর্তৃক আহূত ইসি সংলাপে যোগ দিয়ে আরও দুটি ক্ষুদ্র দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং ইসলামী আন্দোলন ...
বিএনপির রোডমার্চ রাজনীতি
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
১৯/১০/২০১১
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতিমধ্যে সিলেটে একটি রোডমার্চ করে ফেলেছে। রোডমার্চে হাজার হাজার লোকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বলতেই হয়, বিএনপির রোডমার্চ সফল হয়েছে। সিলেটে খালেদা জিয়ার জনসভায়ও যোগ দেয় হাজার হাজার লোক। খালেদা জিয়ার জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সভাস্থল। বিএনপির রাজনীতি এদ্দিন কমবেশি ঘরের ভেতর এবং পত্রিকায় বক্তব্য-বিবৃতি দানের মধ্যে আবদ্ধ ছিল। সিলেটের রোডমার্চ বিএনপির ঘরে আটকে থাকা সেই রাজনীতিকে বাইরে প্রকাশ্য পরিসরে নিয়ে এসেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। এই কাজটাই এখন বিএনপি করছে। বাংলাদেশের দ্বৈরথ যুদ্ধের চিরাচরিত রাজনীতি থেকে সরে আসা রাজনীতির জন্য অবশ্যই একটি শুভ সংবাদ। ...
প্রত্যাশার সবটুকু পূরণ হয়নি
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০৮/০৯/২০১১
আমার ধারণা, মমতা ব্যানার্জির ব্যাপারে সঠিক হোমটাস্ক করতে ব্যর্থ হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দিলি্ল-ঢাকার সামগ্রিক আলোচনায় মূল চাবিকাঠি যাদের হাতে ছিল, সেই দু'জন উপদেষ্টা। মমতাকে তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুতে রাজি করানোর মূল দায়িত্ব অবশ্যই ছিল দিলি্লর। দিলি্ল সেই চেষ্টা করেছিল, নাকি কেন্দ্রের এতদসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল_ তা জানা নেই। শুনেছি, দিলি্লর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে 'বেঙ্গলি হেটারে'র সংখ্যা নাকি একেবারে কম নয় ৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল ১১টা ৫৫ মিনিট, ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) ...
রাস্তাঘাট, মন্ত্রীদের গল্প ইত্যাদি
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
২৫/০৮/২০১১
রাস্তার কী দোষ? সে তো তার বিস্তার নিয়ে জনপদের পর জনপদের ভেতর শুয়ে থাকে। চিরকাল তার আশা ও প্রার্থনা সে (রাস্তা) যেন খানাখন্দ এবং ছোট-বড় গর্ত থেকে মুক্ত থাকে। নামকাওয়াস্তে সরু পিচ আর আধভাঙা ইট দিয়ে যেন তাকে ঢেকে দেওয়া না হয়। রাস্তা তো চায় না বেপরোয়া বাস-ট্রাক-কার তার ওপর দিয়ে নিয়মনীতি ভেঙে চলাচল করুক। দুর্ঘটনা ঘটুক। রক্তপাত হোক। গাড়ি রাস্তার খাদের নিচে পড়ূক। যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে কিংবা তার ওপর সৃষ্ট ভয়াবহ সব খানাখন্দ ও গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে গিয়ে কচ্ছপ হয়ে যাক, রাস্তা তো তাও চায় না। তাহলে কে বা কারা চায় রাস্তার দুর্দশা সীমা ছাড়িয়ে যাক? কেউ তা চায় না। গাড়ির আরোহীরা তো বটেই, গাড়ি যারা চালায়, গাড়ির যারা হেলপার_ দুর্ঘটনা, মৃত্যু, রক্তপাত, পরিবারে পরিবারে হাহাকার ওঠা_ তারাও চায় না এসব ক্ষেত্রে মৃত্যুদূতের ভূমিকা পালন করতে। তাহলে দেশের হাইওয়ে এবং জেলা-অন্তর্বর্তী রাস্তায় প্রতিবছর কেন এত দুর্ঘটনা? কেন এত মৃত্যু? সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা ...
গণতন্ত্র কাহাকে বলে
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৭/০৮/২০১১
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী এখন মমতা মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় রাজনীতিতে তাকে বলা হয় অগি্নকন্যা। বলা হয় আপসহীন, লড়াকু নেত্রী। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর মমতার মধ্যে একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বোঝার চেষ্টা করেন। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সেই বিরোধী রাজনীতির অগি্নকন্যার রূপটি আর নেই। এখন অনেক স্থির ও প্রাজ্ঞ। ভারত গণতান্ত্রিক, ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ। সেই দেশের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ইতিবাচক রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের পথে যাতে পদ-স্খলন না হয় সেই ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সতর্ক এবং সচেতন বলেই ...
সব আমলেই 'না'_ ওরা কারা?
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৯/০৬/২০১১
যে কোনো সরকারের আমলেই এরা শুধু বলে_ না। না কেন? কারণ বিষয়টা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। কিভাবে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী? বাঃ, সেটা বলার দরকার কি! বিপ্লব মানে তো 'সাম্রাজ্যবাদী' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখা। বিপ্লবের 'পথে কুড়িয়ে পাওয়া'র সংজ্ঞা তো হচ্ছে_ বুর্জোয়া ও পুঁজিবাদী শক্তির বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তা সেটা উন্মাদের আচরণ হোক বা ভুল আদর্শের প্রলাপোক্তিই হোক! ...
হরতাল এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
১৫/০৬/২০১১
আমি তাকে জানতাম একজন খুব নম্র, বিনয়ী এবং সৎলোক হিসেবে। তিনি তখন মন্ত্রী। তার গুলশানের বাসায় আমাকে চা পানের দাওয়াতও দিয়েছিলেন। কেন যাওয়া হয়নি সেটা এখন আর মনে পড়ে না। মনে পড়ে শুধু অভিজাত চালচলনের একজন ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মন্ত্রীকে। স্বীকার করি, আমার রাজনৈতিক ধারার বিপরীত অন্য একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হলেও তিনি মানুষ হিসেবে আমার সমীহ এবং সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছেন। ধারণা করি, মানুষ হিসেবে আজও তিনি নম্র, ভদ্র, অভিজাত চালচলনের অধিকারীই আছেন। এসব গুণ তো পারিবারিক পরিবেশে ছোটবেলা থেকে রপ্ত করা। রক্তে ও স্বভাবে মিশে যায় এসব বৈশিষ্ট্য। সহজে মুছে যাওয়ার নয়। কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই, তার রাজনৈতিক স্বভাবের আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে। যেনবা বাংলাদেশের নতুন চে গুয়েভারা হতে চাইছেন। আগে একদিনের হরতাল ডেকেছিলেন। ১৩ জুন। নতুন করে ডাকা একটানা ৩৬ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন। সমকালের জন্য লিখতে বসে তার কথা ভেবে একটু তাজ্জবই বনে যাচ্ছি। সন্ত্রাস ঘটিয়ে এবং হরতালের দিন মারদাঙ্গা পিকেটিং করে হরতাল সফল ...
সবুজের জয়
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
১৮/০৫/২০১১
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টকে একেবারে ধসিয়ে দিয়ে বড় মার্জিনে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস-কংগ্রেস জোট। জয় বর্ণনা করতে গিয়ে এভাবে বললেও হয় :'দাদার বদলে দিদি। লালের বদলে সবুজ। ভট্টাচার্যের বদলে বন্দ্যোপাধ্যায়।' মাইলফলক এই জয়ের পরপরই দিদি অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজয়ের আনন্দে ফেটে পড়া নেতাকর্মীরা স্লোগাত্মক একটা ছড়া গানও গেয়ে শুনিয়েছেন। গানটা হচ্ছে : 'দিদি, তুমি এ করলে কি, সিপিএম এখন খাবে কি! হেরে গেল বুদ্ধ, বাংলা হলো শুদ্ধ।' ৩৪ বছর একটানা একেবারে শিকড় গেড়ে বসা দলকে নির্বাচনে সমূলে উৎপাটনের পর ছড়া কেটে গান গেয়ে এমন ধারা আনন্দোৎসব হতেই পারে। দুই কংগ্রেস জোটের জয় যেন অবিশ্বাসকেও হার মানায়। আনন্দোৎসব হবে, এ আর বিচিত্র কী! তবে যাকে ঘিরে এই আনন্দোৎসব, সেই দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে মুখে শুধু একটা স্মিত হাসি। ...
আমিনী সাহেব কি চান
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১০/০৪/২০১১
কি চান, সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে বলে নিই তার পুরো নাম ফজলুল হক আমিনী। আমাদের সময়ে খুবই শ্রদ্ধাভাজন বুজুর্গ, আলেমদের আলেম যাকে বলা হয়, সেই মহাত্মা হাফেজজী হুজুরের মাদ্রাসায় তার শিক্ষা-দীক্ষা। হুজুরের এক মেয়েকে বিয়ে করে এখন তিনি হাফেজজী হুজুরের জামাই। কিভাবে বিয়ে করেছেন তা নিয়ে অবশ্য কথা আছে। আমিনী সাহেব কর্ম-জীবন শুরু করেছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষকতা দিয়ে। দরিদ্র না হলেও ধনবান লোক ছিলেন না তিনি কোনোকালে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর শোনা যায় এখন তার এবং তার ছেলেদের ম্যালা ...
ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নয়
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৯/০৩/২০১১
গ্রামীণ ব্যাংক সংক্রান্ত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মামলা এখন সুপ্রিমকোর্টে। ১৫ মার্চ থেকে দুই সপ্তাহের জন্য সুপ্রিমকোর্ট মামলার শুনানি মুলতবি করেছেন। বিচারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার কারো নেই। আমার ও নেই। এই নিবন্ধে আমি শুধু ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি। খুবই বড় মাপের একজন মানুষ ড. ইউনূস। শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার জয় করে গোটা দেশকেই বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করেছেন। তার জন্য বাংলাদেশি হিসাবে অবশ্যই গৌরববোধ করি। ...
লিবিয়ায় স্বৈরশাসনের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র
কন্ঠস্বর
সমকাল
২৩/০২/২০১১
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বে দুটি ঘটনা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। প্রথমে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শুরু হওয়াটা বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বেই এখন অন্যতম প্রধান ঘটনা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব একটু বেশি এই কারণে যে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধন এবং বিশ্বকাপের প্রথম খেলাটি বাংলাদেশেই সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের দু'দিন অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি গোটা বিশ্ববাসীর মনোযোগ ও আগ্রহের কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ঘিরে যেমন ছিল শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, তেমনি ছিল দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার ক্রিকেটপ্রেমী লোকের আগ্রহ এবং আনন্দ-উত্তেজনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রেও আইসিসির কর্মকর্তাসহ বিশ্ববাসীর সপ্রশংস করতালি লাভ করেছে বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম খেলায় ক্রিকেট খেলার প্রায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ৮০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলায় অভ্যস্ত ও অভিজ্ঞ এবারের চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম ফেভারিট ভারতের বিরুদ্ধে ক্রিকেট বিশ্বের অনেকটাই নবীন দল বাংলাদেশ খেলা না জিতেও যে লড়াইটা উপহার দিয়েছে, সে জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট দর্শকদের প্রশংসা ও সমীহ দুই-ই আদায় করে নিয়েছে। ...
'মাঝি হুশিয়ার, তুফান আসছে'
সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ
সমকাল
১৫/০১/২০১১
আওয়ামী লীগ সরকার ইতিমধ্যে তার পাঁচ বছর মেয়াদের দু'বছর পূর্ণ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা সম্পর্কে এখনই শেষ কথাটা বলা যায় না। তবে এটুকু তো বলা যেতেই পারে যে, জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগ গত দু'বছরে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও হারিয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ৭২টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭২টি আসনের মধ্যে [দ্রষ্টব্য দৈনিক ইত্তেফাক, ১৩ জানুয়ারি, ২০১১] বিরোধী দল বিএনপি পেয়েছে ৩৫টি, আওয়ামী লীগ ২৬টি, জামায়াতে ইসলামী পাঁচটি, জাপা একটি এবং ...
বিএনপির উচিত সংসদে যাওয়া
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩০/০১/২০১২
নবম সংসদের ত্রয়োদশ সংসদীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। দেশবাসী আশা করেছিল, বিএনপি অন্তত এবারকার অধিবেশনে যোগ দেবে এবং তাদের মূল দাবি তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির সরকারসহ অন্যান্য দাবির যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা জনগণের কাছে তুলে ধরবে। কিন্তু তা হয়নি। বিএনপি সংসদে যোগ দেয়নি। যোগ না দেওয়ার দুটি কারণ দেখানো হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে। এক. সংসদে যোগ দেওয়ার পরিবেশ নেই। দুই. এখনো তো প্রায় ৪০ দিনের কাছাকাছি সময় বাকি আছে সংসদীয় কার্যদিবসের। ৯০ দিনের অনুপস্থিতি (সংসদে) শেষ হওয়ার একদিন আগে সংসদে গেলেই তো ...
কি মধু আছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায়?
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
২৩ এপ্রিল, ২০১৩
একটা কথা ভেবে অবাক হই। আমাদের দেশে বিজ্ঞজন বলে যাঁরা পরিচিত, তাঁদের অনেকে নির্বাচন কমিশন কিভাবে এবং কতটা শক্তিশালী করা যায়, সেই কথা কখনও বলেন না, বলেন নির্দলীয় অর্থাৎ অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা। নির্বাচন কমিশনকে এমনভাবে শক্তিশালী তো করা যায় যাতে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনে কোনরূপ হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। দুনিয়ার সব দেশেই তো শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করে। হালে নানা সংঘাতে বিধ্বস্ত এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় প্রায় শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাওয়া পাকিস্তানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে পাকিস্তান কোন আদর্শ দৃষ্টান্ত নয়। আমাদের বরং তাকানো উচিত ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের দিকে। এসব দেশে নির্বাচন কমিশন দেশের নির্বাচনকালীন এতটাই সাংবিধানিক এবং ঐতিহ্যিক ক্ষমতা ভোগ করে যে, সেসব দেশে কারচুপির নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের বিজ্ঞজনেরা, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী সমাজ এই পরীক্ষিত বিষয়টি যে জানেন না, তা মোটেও নয়। তাঁরা ভাল করে জানেন, অনির্বাচিত ও ...
ঝাণ্ডা উঁচা রহেগা
কণ্ঠস্বর
সমকাল
২৩ ডিসেম্বর ২০১২
ভারতবিরোধিতা ত্যাগ করা বিএনপির পক্ষে সম্ভব নয়। আর হুজুর-মওদুদী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে তো নয়ই। কথাটা আচমকা বলায় কেউ কেউ বিস্মিত হতে পারেন। তবে কথাটা প্রমাণসিদ্ধ। সূর্যালোকের মতো পরিষ্কার। গত ১৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা মুক্তিযোদ্ধা সম্মেলনের বিষয়টিই উল্লেখ করা যাক। এবারের ভারত সফর থেকে ফিরে আসার পর কয়েকটি পর্যবেক্ষক মহল মন্তব্য করেছিল_ বাংলাদেশে আসন্ন ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি বোধহয় তাদের চিরাচরিত ভারতবিরোধী কার্ড খেলা থেকে বিরত থাকবে। বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা নাকি বিএনপি বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে, পশ্চিমা শক্তিগুলো ২০০৭ ...
বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভারত বিজয়ের’ কাহিনী
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১ নভেম্বর ২০১২
ঈদের পর জনকণ্ঠে আমার প্রথম লেখা। শুরুতেই পত্রিকাটির পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের ঈদের প্রীতি শুভেচ্ছা জানাই। হালের টাটকা খবর বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফর। বেগম জিয়া বাংলাদেশ পার্লামেন্টের বিরোধী দলের নেতা। নিহায়ত সদস্য পদ এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার জন্য ৯০ দিনে একবার পার্লামেন্টে যান। তবে পার্লামেন্টে তাঁকে ও তাঁর সংসদীয় দল-জোটকে অনুপস্থিত পার্লামেন্ট নেতা ও সদস্য বলাই সঙ্গত। হালে বেগম জিয়া চীন সফরেও গিয়েছিলেন। ব্যাপক কূটনৈতিক শিষ্টাচার দেখাতে ভুল হয়নি চীনের পক্ষ থেকে। খালেদা জিয়া যে দেশের জন্য পারেন সেই কৃতিত্ব দেশবাসীকে বুঝাবার জন্য দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পাকাপাকি প্রতিশ্রুতিও চীনের কাছ থেকে আদায় করে তবে ছেড়েছেন। দেশবাসী তো অভিভূত। কিন্তু কাজটা রসভঙ্গের মতই করলেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। হ্যাঁ, দেশবাসীকেই তিনিই জানিয়ে দিলেন যে তিন মাস আগে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে চীনের তরফ থেকে! একটা সহজ ধাঁধা খুব প্রচলিত ছিল পঞ্চাশের দশকের দিকে, আমাদের কৈশোরে। ধাঁধাটা হলো : ইফ যদি ইজ হয়, বাট ...
রাজনীতির বাস্তবতা শিখলেন মমতা
কণ্ঠস্বর
সমকাল
১৯/০৭/২০১২
প্রণব মুখার্জিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে অবশেষে মমতা রাজি হয়েছেন। অর্থাৎ দূরদর্শিতার রাজনীতিতে তার পরাজয় ঘটেছে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ইস্যুতে আন্দোলনে তিনি জয়ী হয়েছিলেন, তবে আইনের লড়াইয়ে টাটার কাছে হেরেছেন তিনি। এদিকে নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর গ্রামের লোকজনই চাইছে টাটা তাদের একফসলি জমিতে প্রতিশ্রুত শর্তের বিনিময়ে ন্যানো কিংবা অন্য কলকারখানা করুক_ কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি থাকার কোনো কারণও নেই। হিসাবেই দেখা যায়, টাটার কলকারখানা হলে সেটাই তাদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি দিতে পারে সবশেষে রাজনীতির বাস্তবতা কাকে বলে, সেটা শিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন ...
বিশ্বব্যাংক না রবার্ট জোয়েলিক?
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০৪/০৭/২০১২
চুক্তি বাতিলের সবচেয়ে জোরালো প্রতিক্রিয়া এসেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে। তিনি বলেছেন, এমন ধারায় চুক্তি বাতিল একটি সার্বভৌম দেশকে অপমান করা বৈ কিছু নয়। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক নয়, এটা রবার্ট জোয়েলিকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সংসদে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের পদ্মা সেতু চুক্তি বিষয়ে সময়-সময়ান্তরে নেওয়া কর্মপন্থার দীর্ঘ ও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এও বলেছেন, সেতু চুক্তির ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতায় আসার সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি বলে তিনি বিশ্বাস করেন পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক এবং তাকে প্রায় অন্ধভাবে ...
শহীদ জননীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩০/০৬/২০১২
দৈনিক ইত্তেফাকে গত ২৭ জুন শেষ পৃষ্ঠার দ্বিতীয়-তৃতীয় কলামজুড়ে একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে, যার শিরোনাম 'সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।' সংবাদটি আহরিত হয়েছে ২৬ জুন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় বিভিন্ন বক্তার দেওয়া বক্তব্য থেকে। বলা হয়েছে : মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সমাজ থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। এ কাজটি অর্থাৎ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হলে দেশের অসাম্প্রদায়িক জনগণকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে ...
কোথাও নিশ্চয়ই গুরুতর কিছু বিচ্যুতি ঘটছে
কণ্ঠস্বর
সমকাল
২৩/০৫/২০১২
গোটা বাংলাদেশেই সংগঠন হিসেবে আওয়ামী সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অনৈক্য বিরাজমান। কোথাও কম, কোথাও বেশি। নতুন মন্ত্রিত্ব পাওয়া এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী জোয়ারে পাস করা এমপিদের বেশিরভাগই তাদের এলাকায় যত না জনসংযোগে এবং সাংগঠনিক সমন্বয় সাধনে কাজ করেন, তার চেয়ে বহুগুণে বেশি তারা ব্যস্ত তাদের প্রটোকল, পিএস-এপিএসের মাধ্যমে প্রকল্প ও নিয়োগ-বাণিজ্যে নিজেদের বিত্ত বৃদ্ধিতে। সংগঠনে নিজের নিজের লোক ঢোকানোর চেষ্টা পর্যন্তই দলের জন্য তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং ডিন নির্বাচনের ফলাফল দেখে একটা কথাই আমার ...
ইতিহাস অস্বীকারের অপরাজনীতি
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৯/০৪/২০১২
জয়নাল হাজারী গত তিন বছর ফেনীর রাজনীতিতে প্রায় নিষিদ্ধই ছিলেন বলতে হয়। শুধু তিন বছর নয়, ২০০১-২০০৬ শাসনামলের পাঁচ বছর এবং এর পরের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর, সব মিলিয়ে সাত বছরই তিনি ফেনীর রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। ইচ্ছা করে নয়, প্রাণের দায়ে। তিনি স্বেচ্ছা-নির্বাসনের পথ বেছে নিয়ে পালিয়েছিলেন ভারতে। ...
রাজনীতিতে জয়-পরাজয়
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০৫/০৪/২০১২
সমুদ্রে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ পাওয়া যে কোনো বিচারে যুগান্তকারী। এই বিজয়কে ক্ষুদ্র করে দেখছেন তারা, যারা নিজেদের দলের দুই-দুইবারের শাসনামলে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ন্যায্য সীমা কী, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাননি। মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজনই বোধ করেননি। সমুদ্রে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি নিয়ে তারা প্রতিবেশী দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রয়োজনীয়তা পর্যন্ত উপলব্ধি করেননি কখনও আন্তর্জাতিক আদালতে বঙ্গোপসাগরের ত্রিদেশীয় সীমানা নির্ধারণে কে জিতেছে? আবার কে, মিয়ানমার। এই সার-সত্যটি মেনে নিয়ে এখন সমুদ্র-জয়ের আনন্দোৎসব চলছে দেশটিতে। দেশটিতে মানে ...
দায়িত্বশীল রাজনীতি চাই
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
২৬/০২/২০১২
বিএনপির রাজনীতি যদি আগের মতোই থাকে, জামায়াতকে যদি তারা ত্যাগ করতে না পারে, সংসদে ও রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ বেছে নিয়ে যদি তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দেয়, তাহলে জনগণের কাছে বিএনপি আমলের সেই নৃশংস চেহারাটাই ভেসে উঠবে। দেশের তরুণ সমাজ তাদের ক্ষমা করবে না। আবার বলি, আগের হত্যা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দলীয়করণের রাজনীতি ত্যাগ করে এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেই শুধু বিএনপি রাজনীতিতে লাভবান হতে পারে, অন্য কোনো উপায়ে নয় কিছুদিন থেকে বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা ...
ভারত থেকে ফিরে
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৬/১১/২০১১
ক'দিন আগে বিশেষ প্রয়োজনে নয়াদিলি্ল যেতে হয়েছিল। নয়াদিলি্ল ভারতের রাজধানী হওয়ায় সে দেশের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তবে এমনিতে দিলি্ল বলতে চৌদ্দ দশক থেকে গোটা অবিভক্ত ভারতের ইতিহাসকেই যেন বুঝায়। কখনো কখনো হস্তিনাপুর, তুঘলুকাবাদ, ফতেপুর সিক্রি, জাহানাবাদে ভারতের রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার নজির রয়েছে। তবে এসবই স্বল্পকালীন সময়ের জন্য। শক, হুন, রাজপুত খিলজি, তুঘলক, আইবেক, পাঠান, মোগল এবং ইংরেজ আমলে দিলি্লই ছিল শাসনক্ষমতার কেন্দ্র। বর্তমান ভারতও সামান্য পাশ কাটিয়ে সেই হাজার বছরের ঐতিহ্যই বজায় রেখে চলেছে। ...
সিলেটে বিএনপির রোডমার্চ প্রসঙ্গে
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৬/১০/২০১১
বলতেই হয়, গত ১০ অক্টোবর সিলেট যাত্রাপথে একটি অত্যন্ত সফল রোডমার্চের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দেশের ছয়টি জেলা পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে শেষ গন্তব্য সিলেটে পেঁৗছেছিলেন তিনি রাত ১১টায়। ছয়টি জেলার ছয়টি পথসভায় হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। প্রতিটি সভা মুখরিত ছিল বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জয়ধ্বনিতে। গত তিন বছর প্রায় ঘরে আটকে থাকা বিএনপি-রাজনীতি সেদিন যেন একটি বিশাল পরিসর ও বিপুল জনসমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। যে কোনো বিচারে বিএনপির এই রাজনৈতিক ...
ইসরায়েল 'গোঁফ' নামাবে?
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০৫/১০/২০১১
১৯৪৮ সালের আগে ইহুদিদের কোনো রাষ্ট্র ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির শোচনীয় পরাজয়ের পর রাশিয়া, ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইহুদি রাষ্ট্রের পত্তন ঘটায়। আরব অধ্যুষিত ফিলিস্তিনকে দুই অসমান খণ্ডে ভাগ করা হয়। জর্ডান নদীর পশ্চিমপাড়ে ছোট অংশটি দেওয়া হয় ফিলিস্তিনি আরবদের। আর আটলান্টিক তীরবর্তী বড় অংশে পত্তন করা হয় ইহুদি রাষ্ট্রের। যার বর্তমান নাম ইসরায়েল। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল পত্তনের একটা মর্মান্তিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবশ্য ছিল। বিংশ শতাব্দীর চলি্লশ দশকের মধ্যে জাতীয়তাবাদী নেতা এডলফ হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানি বিশাল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জার্মানির এই অর্জনে বিশ্বের অন্য কোনো রাষ্ট্রেরই বলার কিছু ছিল না। কিন্তু গোল বাধিয়েছিলেন হিটলার নিজেই। তিনি ছিলেন চরম ইহুদিবিদ্বেষী। নিজেদের দেশ না থাকলেও সারাবিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইহুদি জনগোষ্ঠী শিক্ষা-দীক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্য গবেষণায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল খুবই অগ্রসর। ...
জামায়াতের শক্তি প্রদর্শনী নিয়ে কিছু কথ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৩/০৯/২০১১
একটি ইংরেজি দৈনিক ২১ সেপ্টেম্বর তাদের প্রথম পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যে শোডাউন বা 'ক্ষমতা' প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল তার উদ্দেশ্য ছিল দুটো। এক. সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া যে তারা মোটেও কোনো দুর্বল প্রতিষ্ঠান নয়। দুই. তারা (জামায়াত) যে মিত্র দল হিসেবে মোটেও উপেক্ষণীয় দল নয়, তা প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে জানান দেওয়া। ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে দুটি উদ্দেশ্যই সাধিত হয়েছে। সমাবেশ ও মিছিল ঘিরে ...
'সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া?'
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৭/০৭/২০১১
আমি বাস্তবিকই অবাক হয়েছি। দুই দুইবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এখন সংসদে বিরোধী দলের নেতা। তার বর্তমান স্ট্যাটাস একজন কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন। এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতা। তার মতো মর্যাদাসম্পন্ন এক নেতা কি করে বলতে পারলেন ক্ষমতায় যেতে পারলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে? ...
হায় নেতৃত্ব, হায় রাজনীতি
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৫/০৫/২০১১
লেখাটা হায় হায় দিয়েই শুরু করলাম। একই সঙ্গে প্রত্যাশা ও হতাশা বুঝানোর জন্য বাংলা ভাষা নগদে আমাকে এর বেশি কিছু জোটাতে পারল না। লেখার শিরোনামটা তাই কিছুটা মর্মভেদী আর্তনাদের ভাষা দিয়েই পূরণ করতে হলো। রাজনীতির কথাই ধরি। তবে রাজনীতির সেই বর্ণনা ও বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে বহু আগের একটা গল্পের আশ্রয় নিতে চাই। গল্প বললে বিষয়টা ঠিক বলা হয় না। কারণ সাধারণভাবে গল্পে তো সত্য ও কল্পনার মিশেল থাকে। এটা সেরকম কোনো গল্প নয়। এখানে সত্য ও আমি দুই-ই আছি। ...
সংবিধান বিতর্ক ও লাদেন হত্যাকাণ্ড
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১১/০৫/২০১১
দেশের নিরিখে চিন্তা করলে বলতেই হয়, কোনো সাংবিধানিক-সংকট না থাকলেও সংবিধানবিষয়ক আলোচনাই দেশে এই মুহূর্তে সর্বাধিক গুরুত্বসহকারে আলোচিত-পর্যালোচিত হচ্ছে। এ নিয়ে পক্ষ-প্রতিপক্ষ অথবা বলা যায়, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নানারকম বিতর্ক চলছে। নানা মহলের নানারকম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও চলছে। প্রায় প্রতিদিনই চলছে এ নিয়ে পক্ষ-প্রতিপক্ষের মধ্যে বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়া। কেউ কেউ মনে করেন, সংবিধানের আলোচনায় অত্যন্ত আড়ালে থেকে একটি মহল সযত্ন সতর্কতায় বিরোধী দলকে মাইনাস করার একটা চেষ্টাও চালাচ্ছে। আড়ালে আড়ালে সুচতুর কায়দায়। এই মহলটি আওয়ামী লীগ নয়। ...
লাদেন নেই কিন্তু তারপর?
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০৪/০৫/২০১১
দৈনিক সমকালে আমার নির্ধারিত লেখাটা প্রায় শেষ করে এনেছিলাম। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সংবিধান নিয়ে নানারকম কথাবার্তা চলছে। চলছে নানা মতের বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়া। হুঙ্কার দেওয়া এবং তর্জন-গর্জন করাও কিছু কম হচ্ছে না। লিখেছিলাম এই প্রসঙ্গেই। তৃতীয় বিশ্বের নানা দেশে বাহুবলে ক্ষমতায় আসা লৌহমানব বা একনায়করা প্রথমেই যা করতেন তা হচ্ছে সংবিধান বাতিল করা। কিংবা সংবিধানের মূল নীতিগুলো তছনছ করে দেওয়া। এই বিষয়টি প্রসঙ্গক্রমে আমার লেখায় উঠে এসেছিল। তৃতীয় বিশ্বের নানা উপদ্রুত দেশের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে সংবিধান বিষয়ক আমার লেখাটায় আরও বলতে চেয়েছিলাম, বাহুবলে ক্ষমতাসীন হওয়া স্বৈরশাসকরা যাই ভাবুন, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক সংবিধানের অনুশাসনই শুধু পারে খুব দ্রুত লয়ে না হলেও সঠিক পন্থায় দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে। আমার লেখা প্রায় শেষ। এই সময় একটি মৃত্যু সব ওলটপালট করে দিল। বাধ্য হয়ে আমার প্রায় শেষ হওয়া লেখাটাকে বিবেচনার বাইরে নিক্ষেপ করতে হলো। ...
পশ্চিমবঙ্গে এবার বুদ্ধ না মমতা?
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
২০/০৪/২০১১
নন্দীগ্রাম এবং সিঙ্গুরের ঘটনাবলির পর, প্রেমঘটিত কারণে জনৈক মুসলিম যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও বুদ্ধদেব সরকারের নিশ্চুপতা, রাজ্যে বাম পেটোয়া বাহিনীর তাণ্ডব, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের একে একে পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করা এবং প্রশাসনে ভয়াবহ স্থবিরতা ও দুর্নীতির দৌরাত্ম্য বামদের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে আগে মুফতি ফজলুল হক আমিনী, তার তর্জন-গর্জন এবং সেসবের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে দু'চার কথা। এরপর যথাবিহিত মূল আলোচনায় আসব। মুফতি আমিনী-সংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে মূল বিষয়ে আলোচনার কিছু সম্পর্কও রয়েছে। সম্প্রতি মুফতি আমিনী কোনো এক সমাবেশে ...
মধ্যপ্রাচ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে?
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০৬/০৪/২০১১
ইয়েমেন ও সিরিয়ায় নিকটভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা এতদিনে অনেকটাই পরিষ্কার। আরব বিশ্বের এ দুটি দেশেই সরকারবিরোধী গণতন্ত্রকামীরা ঐক্যবদ্ধ। নানা দল ও সংস্থা নিয়ে এ দুটি দেশে গড়ে উঠেছে একক প্লাটফর্ম। সমঝোতার প্রস্তাবে তারা নিজেদের দাবিনামাও পেশ করেছে মধ্যপ্রাচ্য তেলসম্পদ এবং অন্যান্য কৌশলগত কারণে বিশ্বের পরা ও বৃহৎ শক্তিগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়ে আসছে গত শতাব্দীর তিরিশ দশকের পর থেকেই। এই গুরুত্ব সময়ের ধারায় না কমে বরং বেড়েছে। হালে আরব বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে গণজাগরণ ও গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। এক পক্ষে ...
একজন প্রবীণ নেতার মহাপ্রয়াণ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৫/০৩/২০১১
প্রবীণ জননেতা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন গত ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। জীবন মানেই তার বিনাশ আছে। জন্মিলে মরিতে হবে অমর কোথা কে কবে_ এটা শাশ্বত সত্য। আমি তার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহ যেন দয়া করে তার সব অপরাধ ক্ষমা করেন। যত ভুলত্রুটিই করুক একজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী সব সময় মানুষের জন্য কাজ করে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত রাজনীতিবিদ দেলোয়ার হোসেন তার জীবনে যত ত্রুটি ...
আরব বিশ্বে গণবিস্ফোরণ ও ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক
সমকাল
০৯/০২/২০১১
তিউনিসিয়ায় গণবিপ্লবের সাফল্য এবং মিসরসহ বহু আরব দেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভের গণজাগরণ ছড়িয়ে পড়ার একটা ইতিবাচক ফলাফল আরব বিশ্ব শেষ পর্যন্ত পাবেই। আনোয়ার সাদাত, হোসনি মোবারক, বাদশাহ হোসেন, আসাদ বিন আসাদের এবং সৌদি আরবের বাদশাহদের সেই পুতুল নাচের ইতিকথা আজ কিংবা কাল শেষ হতে বাধ্য। প্রথমে তিউনিসিয়া। পরে মিসর। এখন আরব বিশ্বে, বেশিরভাগ দেশে রাজা-বাদশাহ এবং একনায়কদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নির্যাতিত, শোষিত এবং বঞ্চিত আরব জনগণ। তিউনিসিয়ার স্বৈরাচারী শাসক বেন আলি এবং তার স্ত্রী ...
একটা কোন মীমাংসা আসবেই
কলাম
দৈনিক জনগণ্ঠ
৫ মার্চ, ২০১৩
আগে অনেকের মতো আমারও কিছু সন্দেহ ছিল। এখন তা আর বিন্দুমাত্র নেই। আগে ভাবতাম খানিকটা পাকিস্তানপ্রীতি এবং অনেকটা ভারতবিদ্বেষ থাকলেও বিএনপি তো বাংলাদেশবিরোধী নয়। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোন দল নয়। বাংলাদেশবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির ঐক্য বা মিত্রতা স্থাপন তো ভোট রাজনীতিরই একটা কৌশলগত অবস্থান মাত্র। এই ধারণা এখন বলতে গেলে সর্বাংশে দূর হয়েছে। কিছু সন্দেহ ছিল তা আর কিছুমাত্র নেই। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফিরে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সেই সন্দেহের, সেই ধারণার নিরসন ঘটিয়েছেন। জনাকীর্ণ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বেগম জিয়া পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যা ঘটছে, সে ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন দল বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এক ও অভিন্ন। বেগম খালেদা জিয়ার মতে, বাংলাদেশে এখন ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। ...
একটা কোন মীমাংসা আসবেই
কলাম
দৈনিক জনগণ্ঠ
৫ মার্চ, ২০১৩
আগে অনেকের মতো আমারও কিছু সন্দেহ ছিল। এখন তা আর বিন্দুমাত্র নেই। আগে ভাবতাম খানিকটা পাকিস্তানপ্রীতি এবং অনেকটা ভারতবিদ্বেষ থাকলেও বিএনপি তো বাংলাদেশবিরোধী নয়। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোন দল নয়। বাংলাদেশবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির ঐক্য বা মিত্রতা স্থাপন তো ভোট রাজনীতিরই একটা কৌশলগত অবস্থান মাত্র। এই ধারণা এখন বলতে গেলে সর্বাংশে দূর হয়েছে। কিছু সন্দেহ ছিল তা আর কিছুমাত্র নেই। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফিরে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সেই সন্দেহের, সেই ধারণার নিরসন ঘটিয়েছেন। জনাকীর্ণ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বেগম জিয়া পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যা ঘটছে, সে ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন দল বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এক ও অভিন্ন। বেগম খালেদা জিয়ার মতে, বাংলাদেশে এখন ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। ...
দেশ আজ খাদে পড়েছে?
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৫ জানুয়ারি ২০১৩
দেশ যে খাদে পড়েছে তা থেকে উদ্ধারের উপায় কি? মর্মাহত বিবেকের এই প্রশ্ন জনৈক এনজিও কর্মকর্তার। তিনি টিআইবির সঙ্গে যুক্ত। যতদূর জানি ঐ ভদ্রলোক বহুকাল বিদেশে কাটিয়ে হঠাৎ নব্বই দশকে দেশে ফিরে রাজনীতিসহ নানা কর্ম তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন। অধুনা দেশের হাল-চাল দেখে ভারি বেসামাল। তা রাজনৈতিক তৎপরতায় লিপ্ত হতে কোন এনজিও কর্মকর্তার সাংবিধানিক বা নৈতিক বাধা তো কিছু নেই। তাই তাঁর রাজনৈতিক কর্মকা-ের ওপর কোন কথা বলা চলে না। সে চেষ্টাও বর্তমান নিবন্ধকার করতে চায় না। তবে তাঁর এই প্রশ্ন শুনে একটু অবাক হয়েই ভাবতে হয় দেশ কি এমন খাদে পড়েছে যে, তা থেকে উদ্ধার পাওয়ার উপায় খুঁজছেন তিনি? হ্যাঁ, দেশে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত প্রাপ্তির পর নতুন শাসক জেনারেল জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশের যে পাকিস্তানীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং বিএনপির পরবর্তী দুই শাসনামলে যে প্রক্রিয়া প্রায় একটি পরিণতি লাভ করতে যাচ্ছিল, সেটা বর্তমানে প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়েছে বটে! জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘাতকদের ...
সরকার ও বিরোধী জোটের সাফল্য এবং ব্যর্থতা
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
৮ জানুয়ারি ২০১৩
সরকারের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। হাতে আছে মাত্র একটি বছর। এই শেষ বছরটি মহাজোট সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বললেও বোধকরি কম বলা হয়। দেশের মানুষ স্বভাবতই যতটা সম্ভব চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখতে চাইবে নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি বর্তমান সরকার কতটা পরিপূরণ করতে পেরেছে। কতটা পারেনি। দেশের মানুষ গত চার বছরে বিরোধী দল নিজেদের উদ্দিষ্ট ভূমিকা কতটা পালন করতে পেরেছে, কতটা পারেনি এই বিচারও করবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। গত চার বছরে সরকার ও বিরোধী দলের সাফল্য ও ব্যর্থতা যাচাই করার পাশাপাশি জনগণ এও বোধকরি ভেবেচিন্তে দেখবে আগামী নির্বাচনে কোন দল ও জোটকে ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে। বিএনপি-জামায়াত একই জোটের অন্তর্ভুক্ত বিধায় আগামী টার্মে ক্ষমতায় গেলে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করবে কিনা, ২০০১-২০০৬ সময় পর্বের মতো দেশ জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে কিনা, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আগের মতোই বিলুপ্ত করার চেষ্টা চলবে কিনা, এসব বিবেচনাও সচেতন মানুষদের মধ্যে কাজ করবে বলে অনেকে মনে করবে। সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা পদ্মা সেতু ...
রমনি না ওবামা?
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩১/০৮/২০১২
চলতি বছরের নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মিট রমনি। ইতোমধ্যে তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার রানিং মেটও বাছাই করে ফেলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টই সাধারণত দ্বিতীয় মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। যদ্দুর জানি এটা কোনো আইনগত বিধান নয়। বহুকাল ধরে চলে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যের প্রতি মার্কিনিরা শ্রদ্ধাশীল। এ সূত্র ধরেই নিশ্চিত বলা যায়, বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক এইচ ওবামাই প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী। তবে ক্ষমতাসীন ...
নতুন সরকার? চমকে উঠতে হয় ...
উপ-সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
৩০/০৮/২০১২
বিএনপি-জামায়াত ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ফজলে হাসান আবেদ এবং আরও কিছু দল ও মিডিয়ার বদৌলতে ফুলে-ফেঁপে যাওয়া কিছু ব্যক্তির নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি হালে খুব একটা পানি পাচ্ছে বলে মনে হয় না। ভবিষ্যতে পাবে বলেও বিশ্বাস হয় না। বছর দেড়েক আগেও এই দাবি নাকি ‘জাতীয়’ দাবি হয়ে উঠেছিল। কি কারণে এই দাবি এ মুহূর্তে বাংলাদেশের গরিষ্ঠ অংশের জনগণের কাছে তেমন সমর্থন পেল না, এই প্রশ্ন অতঃপর আপনা-আপনি উঠে আসে। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বিএনপি-জামায়াত এবং আরও কিছু কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর তরফে এখনও জারি আছে। নির্বাচনের বাকি আছে আরও এক বছর পাঁচ মাসের কাছাকাছি। এই সময়ের মধ্যে কি হয় তা আগাম না বলাই শ্রেয়। তবে দেখে শুনে মনে হচ্ছে কিছুদিন আগে ব্রিটেন সফরকালীন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন (জামায়াত বাদে) নির্বাচিত সাংসদদের সমন্বয়ে একটি ক্ষুদ্র সর্বদলীয় সরকারের যে ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন তা দেশে-বিদেশে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সেলফ-মেড’ হামিদ কারজাইর ...
বর্তমান সরকার ও মিডিয়া
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৩/০৮/২০১২
বছরখানেক আগেও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রায় প্রশ্নাতীত। আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি-ধমকি খুবই দিচ্ছিল বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত। এখনো দিচ্ছে। তবে বিএনপি-জামায়াতের এরকম হুমকি-ধমকি দেওয়া ছাড়া নিজেদের দলীয় শক্তির নিভু নিভু দ্বীপশিখাটি ধরে রাখার উপায়ই বা কি ছিল? এখন তাদের চরম হুমকি : ঈদের পর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে তারা। এ ইস্যুতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ এবং সরকারকে বাধ্য করবে তাদের দাবি মেনে নিতে। দেশব্যাপী ব্যাপক-বিশাল আন্দোলন গড়ে তোলার সামর্থ্য বিএনপি- জামায়াতের আছে কিনা এ বিষয়ে ...
পদ্মা সেতুর খড়গ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৯/০৭/২০১২
পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে অর্থায়ন বাতিল ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বব্যাংকের এ ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্যটি দিয়েছেন তা নিয়ে বর্তমানে দেশে নিন্দা-প্রশংসা দুই-ই হচ্ছে। হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। যে কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। থাকাটা স্বাভাবিক। তবে প্রধানমন্ত্রীর সৎ ও সাহসী এ বক্তব্যের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি গর্ববোধ করেছি। এ বিষয়ে গর্ববোধ করার মতো লোক দেশে নিশ্চয়ই আরও আছে। ...
দুস্থ জনগণের পাশে বেগম খালেদা জিয়া!
সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
৩ রা জুলাই, ২০১২
রাজনীতি একটি খোলা বই। সত্য এবং তথ্য এর ভিত্তি। সরকার ও দলীয় রাজনীতিকরা যখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন তখন কথাটা তাঁদের মনে রাখা উচিত। কথাটা মনে রাখা উচিত আমাদের প্রচার মাধ্যমের, আমাদের দেশ ও জাতির স্বেচ্ছা অভিভাবক হয়ে কথা বলা ব্যক্তিবর্গের। আমাদের সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের। অর্থাৎ শুরুতেই অধমের হঠাৎ উত্তমের মতো উপদেশ দিতে শুরু করা কেন, এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। জবাবে কাজী নজরুলের ভাষায় বলতে পারতাম : ‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, যাহা আসে কই মুখে!’ তবে বাংলা সাহিত্যের একজন মহান কবির ভাষা তো যার তার মুখে মানায় না! আমার মুখে তো নয়ই। তা ছাড়া সব দেখে শুনে আমি মোটেও ক্ষেপেও যাইনি। ব্রিটিশ জমানার শেষের দিকে জন্ম। পাকিন্তানী বিষ-বেষ্টনীর মধ্যে ২৩ বছরের বসবাস। তারপর আরও কেটে গেছে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে দীর্ঘ ৪১ বছর। এই বয়সে রাজনীতিক দেশ ও জাতির ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ ধরনের স্বেচ্ছা অভিভাবক, প্রচার মাধ্যম, এক শ্রেণীর সুশীল সমাজ আর বড় পত্রিকার প্রচার লাইম লাইটে ...
সুশাসন মানে সামরিক শাসন বা জঙ্গিবাদ নয়
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
২৪/০৬/২০১২
উন্নয়নশীল দেশে রাজনৈতিক শাসনের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার একটু বেশি হয়, ক্ষমতার অপব্যবহারের দরুন সর্বস্তরে দুর্নীতি রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্রয় পায় এবং সুশাসন যায় নির্বাসনে_ এগুলো মোটেও অসত্য ভাষণ নয়। তবে সামরিক শাসনে এসব রাষ্ট্রীয় ব্যাধির কোনো চিকিৎসা নেই। বরং দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, দেশ শাসনে রাজনীতিকদের যোগ্যতা নেই ইত্যাদি বলে সামরিক শাসকদের যারা ক্ষমতায় আনে, কিছুদিন যেতে না যেতে দেখা যায় দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় সম্পদের নির্বিচার লুণ্ঠন ও পাচার, রাষ্ট্রীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে-গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত ...
তালগাছটা আমার
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
০৬/০৬/২০১২
আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকারের বক্তব্য, এসব দুঃসহ অভিজ্ঞতার কারণেই নির্বাচনকালীন অনির্বাচিত সরকারের ওপর তাদের আস্থা নেই। আর বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত মনে করে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে দলীয় সরকারের প্রতি তাদের আস্থা নেই। আগে প্রত্যাখ্যান করলেও এখন হাবভাব দেখে মনে হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে তাদের তেমন আপত্তি নেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই ইস্যুটি বেশ কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে রাজনীতির প্রধান বিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের বাকি এখনও দেড় বছরের কাছাকাছি। আগে কখনও ইস্যুটিকে নির্বাচনের এত ...
সংলাপে বসুন, শুধু সংলাপেই মীমাংসা
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৪/০৫/২০১২
নির্বাচনের তিন মাস আগে দেশের প্রধান দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হোক, এটা সবাই চায়। বর্তমান শাসক দল আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট শরিক দলগুলো তাতে অ-রাজি নয় বলেই মনে হয়। তবে 'আমার সোনার হরিণ চাই' কবিতার (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) সেই উন্মাদের মতো যদি জেদ ও ক্রোধের বশে শুধু বলেই চলে, 'তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই', তাহলে উদ্ধৃত সমস্যার সমাধানের কোনো উপায় তো নেই-ই, পরন্তু দেশে সাংঘর্ষিক রাজনীতি আরও বাড়বে বই কমবে না। দেশের ...
হত্যা-গুম ও হরতালের রাজনীতি
কণ্ঠস্বর
সমকাল
০৬/০৫/২০১২
২০১৪ সালের নির্বাচনে যে দল-গোষ্ঠী ক্ষমতায় যেতে পারে যাক, কিন্তু হরতাল নয়, কিছুতেই হরতাল নয়; রাজনীতিতে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে হরতালের বিকল্প একটা কিছু উদ্ভাবন করা হোক। উদ্ভাবন করতেই হবে। এটা দেশের গরিষ্ঠ অংশের দাবি। এই দাবি উপেক্ষা করে লাগাতার হরতাল দিতে থাকলে শিগগির এটা জনগণের বিমুখতা ও বিরূপতার মুখে ভোঁতা অস্ত্রে পরিণত হবে_ কোনো সন্দেহ নেই তাতে। দেশের দু'জন সাধারণ নাগরিক। দু'জনই শহরে থাকেন। দু'জনের কেউই সরাসরি কোনো দলীয় রাজনীতিতে জড়িত নন। তবে রাজনীতি-সচেতন বটে। দেশের হালফিল রাজনীতির খবর ...
ইলিয়াস আলী এবং হত্যা-গুমের রাজনীতি
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৩/০৪/২০১২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গক্রমে মন্তব্য করেছিলেন, দেশের রাজনীতিতে হত্যা ও গুমের রাজনীতি চালু করেছে বিএনপি। একটি বড় পত্রিকা এ প্রশ্নের জবাব দিয়ে ফেলেছে। প্রতিদিন আলোচ্য পত্রিকাটি কোনো না কোনো রাজনৈতিক বিষয় বা মন্তব্য সম্পর্কে অনলাইনে জরিপ সম্পাদন করে এবং শতকরা ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে সেই অনলাইন জরিপের মতামত সরকারের বিরুদ্ধে যায়। এবারও তা-ই হয়েছে। যেমনটা পত্রিকার অনলাইন জরিপে হওয়ার কথা, আরকি। হত্যা ও গুমের রাজনীতি বিএনপিই চালু করেছে_ এ মন্তব্যে হ্যাঁসূচক মন্তব্য করেছে ১৬.৯৬ ভাগ। আর নাসূচক মন্তব্য করেছে ৮০.৫৯ ...
ইসরায়েলের পারমাণবিক বোমা ও গুন্টার গ্রাসের কব
সমকালীন প্রসঙ্গ
দৈনিক সমকাল
১৮/০৪/২০১২
গুন্টার গ্রাসের কবিতাটি প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলের পারমাণবিক বোমা নিয়ে যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝড় এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে দেখা যাচ্ছে তাতে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির ইন্সপেকশন বা পরিদর্শন আন্তর্জাতিকভাবে এখন জরুরি হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক কমিশনকে এখন এ কাজে নিযুক্ত হতে হবে। এতদিনের জানা, কিন্তু গোপন রাখা বিষয়টি যখন আলোচিত হচ্ছে, তখন একে ধামাচাপা দিয়ে রাখা এবং সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক ইসরায়েলকে একটি সাধু রাষ্ট্র হিসেবে জাহির করার চক্রান্ত নস্যাৎ করে সাম্রাজ্যবাদ এবং ইসরায়েলের মুখোশ পুরোপুরি উন্মোচনের সময় এখন এসেছে জার্মান ...
জনমনে আতঙ্কের সঙ্গত কারণ ছিল
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
১৫/০৩/২০১২
রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা চলছে। সভা-মিছিলে ও গণমাধ্যমে দুই পক্ষের নিত্যদিন প্রবল উপস্থিতি। চলছে রাজনৈতিক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ। সার্বিক পরিস্থিতিতে জনগণ উদ্বিগ্ন। সংঘাতময় অবস্থা তারা কোনোভাবেই চায় না। বরং বিরোধীয় যে কোনো ইস্যুর নিষ্পত্তি চায় আলোচনার মাধ্যমে। এ সমাধান আসতে পারে কোন পথে, সেটা নিয়েই আলোচনা করেছেন দু'জন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারো মার্চ, বলা যায় মোটামুটি ভালোয় ভালোয় কাটল। অবশ্য রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনের আবহাওয়া সেদিন স্বাভাবিক ছিল না। ছিল উষ্ণতার চেয়েও একটু বেশি উষ্ণ। ছিল বেশি তপ্ত। বেশি শুষ্ক। আবহাওয়ায় ...
রাজনীতি নিয়ে দু-একটি কথা
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১০/১২/২০১১
মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত সজ্জন। অত্যন্ত ভদ্র। ব্যক্তি সৈয়দ আবুল হোসেনকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনিও আমাকে তার একজন হিতৈষী হিসেবেই জানেন বলে বিশ্বাস করি। আমাদের দুজনের ব্যক্তিসম্পর্ক প্রায় ৩০ বছরের পুরনো। তবে ব্যক্তি হিসেবে সজ্জন, ভদ্র এবং শ্রদ্ধেয় বলে বিবেচিত হলেও মন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের দুই আমলের কোনোটিতেই দুর্নীতির অভিযোগ এড়াতে পারেননি সৈয়দ আবুল হোসেন। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম আমলে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে লাল পাসপোর্ট গোপন করে ছদ্মবেশে সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে ব্যবসায়িক কাজে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। বিষয়টি ...
'আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা-বিরোধী'
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০২/১০/২০১১
কথাটা সম্প্রতি বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এই যোগদান অনুষ্ঠানে 'আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা-বিরোধী' কথাটা বলেছেন বেগম জিয়া। তার কথা হলো, এই বয়সে তার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে যেখানেই দাঁড়িয়েছেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে প্রত্যেকবার বিশাল জয় পেয়েছেন। এখন রাজনীতিতে তার একটাই ইচ্ছা, বাংলাদেশকে 'স্বাধীন' করা এবং তরুণ সমাজের হাতে তা তুলে দেওয়া। ...
উইকিলিকস ও বাংলাদেশের রাজনীতি
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
২৮/০৯/২০১১
বাংলাদেশের রাজনীতি একটু বিচিত্র। রাজনৈতিক দল ও নেতানেত্রীরা তাদের ব্যর্থতা ও অপরাধ স্বীকার করতে চান না। কিন্তু অন্ধ হলেই তো প্রলয় বন্ধ হয় না। একটা মিথ্যাকে হাজারবার বলেও সত্যে পরিণত করা যায় না কিছুতেই। আমরা বলি, উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যগুলো ভিত্তিহীন বলে নিজেদের রাজনৈতিক কর্তব্য শেষ করলে সেটা হিতে বিপরীত হয়ে দেখা দেওয়া বিচিত্র নয়। রাজনীতিতে যারা ক্ষমতায় আছেন এবং যারা ক্ষমতায় নেই, তাদের উভয় দলের উচিত আত্মসংশোধনে ব্রতী হওয়া উইকিলিকসের ফাঁস করা খবর যার বা যাদের বিরুদ্ধে যায়, ...
জুজুর ভয়, আর নয়...
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৪/০৯/২০১১
একটু দেরিতে হলেও বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মাধ্যমে সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা। বাংলাদেশে সেপ্টেম্বরের প্রথম পক্ষ দু'টো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ঘটনাটির কথা আগে উল্লেখ করি। ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন। দুই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার বিচারে বাংলাদেশে ড. মনমোহন সিংয়ের এই সফর সম্ভবত ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে। ...
২১ আগস্ট : হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২১/০৮/২০১১
তার বাঁচারই কথা ছিল না। বিদেশে ছিলেন তারা দুই বোন। '৭৫ সালের ১৫ আগস্টে হত্যার তাণ্ডবলীলা থেকে তাই বেঁচে গিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে এক জনসভায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। বেঁচে গেলেন যেন অলৌকিকভাবে। কোটালীপাড়ায় আয়োজিত এক জনসভা শুরু হওয়ার দু'দিন আগে সভাস্থল থেকে খানিকটা দূরে শক্তিশালী বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। রিমোট কন্ট্রোলে নির্ধারিত জনসভায় বোমা বিস্ফোরিত হলে তার মৃত্যু ছিল অবধারিত। ...
ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন ও বাস্তবতা
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
১০/০৮/২০১১
ইংরেজি পাক্ষিক 'ইকোনমিস্ট' পত্রিকাটি অনেকের মতো আমারও খুব প্রিয় পত্রিকা। আগে পেতাম অফিস থেকে। চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর কেনার সামর্থ্য নেই বলে কোনো না কোনো বিকেলে ঢাকা ক্লাবের লাইব্রেরিতে গিয়ে পত্রিকাটি পড়ি। পত্রিকাটির বিশ্বজুড়ে বিশাল পাঠকসমাজ গড়ে উঠেছে। এর গুড-উইল বা গ্রহণযোগ্যতা প্রায় প্রশ্নাতীত। প্রায় শব্দটি কিছুদিন আগে হলেও উচ্চারণ করতাম না। এখন কেন প্রশ্ন তুলতে হলো প্রিয় পত্রিকা ইকোনমিস্টের বিপক্ষে, সেটা বলার জন্যই এই ক্ষুদ্র নিবন্ধের অবতারণা। তবে নিজের বক্তব্যটি বলার আগে পত্রিকাটির বিশালত্ব এবং এর পরিপ্রেক্ষিত আগে একটু বলে নিতে চাই। ইংরেজি এই পাক্ষিক পত্রিকাটির রয়েছে প্রায় বিশ্বজুড়ে ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং অবকাঠামো। রয়েছে নিজস্ব থিঙ্কট্যাঙ্ক; যেখানে কাজ করেন রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুতুল্য সব বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিশ্লেষক। এতদিন থেকে পত্রিকাটি নিয়মিত পড়ে আসছি। বেশ জানি পত্রিকার প্রায় প্রতিটি প্রতিবেদনে থাকে বক্তব্যের প্রমাণসিদ্ধতার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত। এইবারের সংখ্যায় পত্রিকাটিতে একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছে বাংলাদেশ সম্পর্কে। প্রতিবেদনটি নানা কারণে বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা রাখে না। 'প্রায়' শব্দটি এ ...
দুর্নীতি-রাজনীতি, রাজনীতি-দুর্নীতি
কণ্ঠস্বর
দৈনিক সমকাল
৩০/০৬/২০১১
টু-জি স্পেকট্রাম দুর্নীতি দিয়ে শুরু করেছিলাম। ভারতের সাবেক টেলিকমমন্ত্রী রাজা এবং এমপি কানিমোঝি এই সমুদ্রচুরির মতো ভয়াবহ চুরির দায়ে অভিযুক্ত। বর্তমানে তাদের দিন কাটছে জেলে। দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টা কীভাবে দুর্নীতির হাতে মার খায়, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই টু-জি কেলেঙ্কারি। আমাদের মতো দরিদ্র দেশেও পুকুরচুরি এমনকি সমুদ্রচুরিও হয়। হাজার কোটি ডলার পাচার হয়ে চলে যায় দেশের বাইরে বোন তিহার (ভারত) জেলে আটক আছেন। বোনকে দেখতে দিলি্ল পেঁৗছেছেন এমকে স্টালিন। তামিলনাড়ূর ডিএমকে নেতা এম করুণানিধির পুত্র তিনি। এই কিছুদিন আগেও করুণানিধি ...
রাজনীতি রাজনীতির মধ্যে থাকুক
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৯/০৬/২০১১
বাংলাদেশে অনেকটা নির্মূল হয়ে যাওয়া জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাস যেন রাজনীতির ঘোলাপথ ধরে 'সসম্মানে' আবার ফিরে আসতে চাইছে। এর পেছনে অবশ্যই রয়েছে দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। আর আছে বাংলাদেশে ওয়ান-ইলেভেন কায়েমে বড় সহায়তা দিয়েছিল যারা, সেই তথাকথিত সুশীল সমাজের কিছু কিছু লোক। ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল বিএনপিই। দলীয় লোকদের দিয়ে সাজানো তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা ২২ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল 'মহৎ'। নির্বাচনে বিএনপির জয় যাতে শতভাগ নিশ্চিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে ...
উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরেছে না জিতেছে?
রাজনীতি
সমকাল
৩০/০১/২০১১
যদি ব্যক্তির কর্মদক্ষতার সঙ্গে সততা যুক্ত হয় তাহলে রাজনীতিতে এবং দেশ পরিচালনায় একটা ইতিবাচক প্রভাব আসতে বাধ্য। অন্যদিকে সৎ অথচ অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ লোক দল কিংবা সরকারে নিতান্তই বেঢপ এবং বেমানান। এই রকম সৎ অথচ অদক্ষ, অযোগ্য লোকদের দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে রাজনীতিতে একটা আত্মধ্বংসী পরীক্ষা-নিরীক্ষা অবশ্যই করা যায়। গত ২৭ জানুয়ারি হয়ে যাওয়া দুটি উপনির্বাচনে এবং অবশিষ্ট পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ গত পৌর নির্বাচনের তুলনায় ভালো করেছে, এরকমটা মনে হতেই পারে। হবিগঞ্জ-১ আসনে খুব কম মার্জিনে হেরেছে আর ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩