কলামিস্টদের নাম
আনু মুহাম্মদ এর কলামগুলো

নিপীড়কের ধর্ম নিপীড়িতের ধর্ম
সমাজ ও রাজনীতি
প্রথম আলো
০৭ এপ্রিল, ২০১৩
বাংলাদেশে শতকরা কত ভাগ মানুষ নিয়মিতভাবে ধর্মীয় সব নিয়ম পালন করেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ধর্মবিশ্বাসকে তাঁদের জীবনযাপনের কেন্দ্রে রাখেন। যে যে দলই করুন না কেন, ভোট যাকেই দিন না কেন, ধর্মের বিধিবিধান মূল সূত্র নিজ নিজ বুঝ অনুযায়ী বিশ্বাস ও পালন করেন। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম পালনের হার অনেক বেড়েছে, তা সাদা চোখেই বোঝা যায়। মসজিদ ও মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আমি ছোটবেলায় যে মাটির মসজিদে নামাজ, কোরআন শরিফ পড়তে শিখেছি, সেটি আজ বহুতল ভবন। সারা দেশে এ রকম বহু মসজিদ-মাদ্রাসা বহুতল হয়েছে, বিশাল ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে। তার পরও স্থান সংকুলান হয় না। জুমার নামাজ রাস্তা পর্যন্ত চলে যায়। অন্যান্য ওয়াক্তের সময়ও বিভিন্ন অফিস, হাসপাতাল, স্টেশনে জামাত হয়। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদের মন্দির, গির্জার সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের দৃশ্যও তাই। ...
বাংলাদেশের গার্মেন্টশিল্প
কলাম
বণিক বার্তা
১২ ডিসেম্বর ২০১২
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বা ২ হাজার কোটি ডলার) শিল্প। এ খাতে কর্মরত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ, যাদের ৮০ শতাংশই নারী। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশই আসছে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত এটিই। সরকারি হিসাব মতে, বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫০০ তৈরি পোশাক কারখানা আছে। এর মধ্যে আবার অনেকগুলোই বড় কারখানার সাব কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করে। কারখানাগুলোর ৭০ শতাংশই ঢাকা এবং এর ...
ফুলবাড়ী দিবস
‘ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন না করার পরিণতি হবে ভয়াবহ’
উপ-সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
২৬/০৮/২০১২
শিরোনামের কথাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাঁর এই বাক্যের প্রেক্ষাপটে আছে ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী গণ-অভ্যুত্থান। এ বছর তার ষষ্ঠ বার্ষিকী, এর স্মরণেই প্রতিবছর ২৬ আগস্ট ‘ফুলবাড়ী দিবস’ পালিত হয়। এই দিনটি এ বছর আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে বাংলাদেশে কয়লা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার কিংবা বৃহৎ অর্থে বাংলাদেশের জ্বালানি-নিরাপত্তার কোনো স্বচ্ছ ও টেকসই পথ নির্মাণ করা যাবে না। ঘটনার শুরু ১৮ বছর আগে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়লা কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ফুলবাড়ীতে কয়লা সম্পদ অনুসন্ধানের লাইসেন্স-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট। একপর্যায়ে ফুলবাড়ীতে সমৃদ্ধ কয়লাখনির অস্তিত্ব সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হয়। রহস্যজনক ঘটনা ঘটে এই সময়, এশিয়া এনার্জি নামে লন্ডনে তালিকাভুক্ত একটি নতুন কোম্পানি গঠিত হয়। কয়লাখনি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ নতুন এই কোম্পানি এশিয়া এনার্জির হাতেই বিএইচপি তার লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। দুটো প্রশ্ন এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, কেন এ রকম সমৃদ্ধ খনির অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও কয়লাখনি সম্পর্কে অভিজ্ঞ বিএইচপি বড় ব্যবসার সুযোগ থেকে ...
ভারতের বৃহৎ পুঁজির নজরে বাংলাদেশ
উপ সম্পাদকীয়
বণিক বার্তা
২৬/০৭/২০১২
আমরা সবাই জানি যে, বাংলাদেশ প্রায় ঘেরাও হয়ে আছে ভারত দিয়ে, ভেতরেও ভারত আছে বিভিন্নভাবে। বাংলাদেশের তিন দিকের মধ্যে মিয়ানমারের সামান্য কিছু অংশ বাদ দিলে, বাকি অংশের পুরোটাই ভারত। আরেক দিকে আছে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সীমানা, সে সীমানার বড় অংশজুড়ে অনেক অর্থ খরচ করে ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়েই যাচ্ছে, দিয়েছেও অনেকখানি। কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। দক্ষিণে আছে বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগরও কতটা আমাদের হাতে থাকবে তা এখন অনিশ্চিত। অর্থনীতিতেও তাদেরই আধিপত্য। এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা, নদীর পানি, ট্রানজিট, ...
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সবার অংশগ্রহণে ভিসি নির্বাচন
উপ সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
১৯/০৭/২০১২
সর্বজনের বিশ্ববিদ্যালয় এবং সর্বজনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাতে তা শিক্ষার পরিবেশকে সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে এগিয়ে নিতে পারে, তার জন্য ’৭৩-এর অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের বিধিব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হতে থাকে। ’৭৩-এর অধ্যাদেশের অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। প্রথমত, ’৭৩-এর অধ্যাদেশ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, ’৭৩-এর অধ্যাদেশের আরও গণতান্ত্রিক সম্প্রসারণ দরকার। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন প্রকৃতপক্ষে কতটা কার্যকর হবে, সেটা আসলে নির্ভর করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভূমিকার ওপর। অভিজ্ঞতা বলছে, গত কয়েক দশকে যাঁরাই সরকারে এসেছেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাঁদের দলীয় নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। যেখানে স্বায়ত্তশাসন নেই, সেখানে সরকারের সরাসরি আদেশ ও নিয়োগের মাধ্যমে সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে স্বায়ত্তশাসন আছে সেখানে শিক্ষকদের মধ্যে সরকারি দল তৈরি করা, বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ ও সুবিধায় আকর্ষণ তৈরি করে দল ভারী করার চেষ্টা হবে। সিনেটে সরকারে অংশীদারি দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা, সর্বোপরি সরকারি ছাত্রসংগঠন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ...
পদ্মা ঋণচুক্তি ও বিশ্বব্যাংকের রোডম্যাপ
জবাবদিহি
প্রথম আলো
০৪/০৭/২০১২
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রী-আমলাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগে সত্যতা থাকারই কথা, মানুষ তো এগুলোই দেখছে হরদম। পুরো প্রকল্পই তো হজম হয়ে যায় কখনো কখনো। কিন্তু সরকারের মধ্যে দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের মতো এই উত্তেজনা সত্যিই বিস্ময়কর! সুহার্তো, মবুতু, ইয়াহিয়া, পিনোচেট, শাহানশাসহ বিশ্বের দুর্নীতিবাজ স্বৈরশাসকদের সঙ্গে, লোভী দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-আমলা আর কনসালট্যান্টদের সঙ্গে যে বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর নাড়ির সম্পর্ক, তারা দুর্নীতি নিয়ে এত উত্তেজিত, কারণ কী? বিশ্বব্যাংক সব সময়ই বৃহৎ প্রকল্প পছন্দ করে। একেকটি প্রকল্প নিয়ে চিন্তা শুরুর ...
গণমৃত্যু
ঘোড়ার ডিমের জীবন আমাদের
উপ সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
২৯/০৬/২০১২
আবারও শিশু-নারী-পুরুষ-বৃদ্ধের লাশের মিছিল। অকাল, অস্বাভাবিক মৃত্যু, হত্যাকাণ্ড। লঞ্চ ডুবে, বাস দুর্ঘটনায়, কারখানা ধসে, বস্তিতে আগুন লেগে, জলাবদ্ধতা আর পাহাড়ধসে—এ রকম মৃত্যু এক বছরে যে কতবার দেখতে হবে, তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। কখনো পানির নিচ থেকে, কখনো পাহাড়ের মাটির দলার ভেতর থেকে, কখনো দলামোচড়া যানবাহন থেকে, কখনো পুড়ে যাওয়া বস্তি থেকে লাশ টেনেহিঁচড়ে বের করার দৃশ্য দেখতে হয় বারবার। এসব দেখতে দেখতে কি সমাজ ভোঁতা হয়ে গেছে? হতে পারে। কিন্তু এটাও বুঝি যে বোবার ভাষার অভাব আর ...
হিলারী ও মেরুদন্ড সমস্যা
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৯/০৫/২০১২
বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার ‘গরীব’ দেশগুলো রফতানি করে খাদ্য বস্ত্রসহ এমন ভোগ্যপণ্য, যা দিয়ে মানুষ বাঁচে। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘ধনী’ দেশগুলো রফতানি করে অস্ত্র, যা দিয়ে মানুষ মরে। সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন বাংলাদেশে এসেছিলেন নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও বিনিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে কথা বলতে। সংবাদপত্র, টিভি টকশো, বিবরণী, ‘আড্ডা’ সর্বত্র এটাকে বাংলাদেশের জন্য ‘বিরাট সুযোগ’ ‘বিরাট সম্ভাবনা’ হিসাবেই দেখানো হয়েছে। হিলারী ক্লিনটনের সফরের আসল বৃত্তান্ত নিয়ে কমই জানা যাবে। বোঝার জন্য কোন সুযোগও রাখা হয়নি। সরকার, প্রধান বিরোধী দল, ...
সমুদ্রসীমা রায়: স্বস্তি ও উদ্বেগ
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
০৯/০৪/২০১২
সমুদ্র সাধারণভাবে বিশ্বের সকল মানুষের সম্পদ। কিন্তু এই বিশ্বের সকল মানুষের এই সাধারণ সম্পদ সাম্রাজ্যবাদী কিছু রাষ্ট্র আর বহুজাতিক সংস্থার মুনাফা আর দখল তৎপরতায় ক্ষতবিক্ষত, দূষিত, বিপর্যস্ত। যে সমুদ্র অপরিমেয় সম্পদের ক্ষেত্র তা বর্তমান আগ্রাসী দখলদার বিশ্বব্যবস্থায় যুদ্ধ, ভয়ংকর গবেষণা এবং মুনাফামুখি নানা তৎপরতায় মানুষের কর্তৃত্বের বাইরে। সবল কতিপয় রাষ্ট্র ও সবল ক্ষুদ্র মুনাফাভোগী শ্রেণীর আধিপত্য এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই আগ্রাসী পরিস্থিতির মধ্যে দুর্বল দেশগুলোর জনগণকে সতর্ক থাকতে হয়, অবস্থান নিশ্চিত রাখবার জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইনের আশ্রয় নেবার ...
আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা এবং 'রক্তমাখা হাত'
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২৬/০১/২০১২
গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নের যে ধরন, নীতি ও কর্মসূচির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আর্জেন্টিনা তার চরম রূপ দেখেছে ৯০ দশকে। সেসময়ে উন্নয়নের নামে সেই দেশের সম্পদ দেশি বিদেশি ধনিক গোষ্ঠীর কাছে যে হারে বিক্রি হতে থাকে সেরকম দ্রুতহারে চিলিতেও ঘটেনি। কয়েক বছরের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ রাষ্ট্রীয় সম্পদ দেশের ধনিকগোষ্ঠী এবং বহুজাতিক সিটিব্যাংক, ব্যাংক বোস্টন, ফ্রান্সের সুয়েজ এবং ভিভেনদি, স্পেন এর বেপসল ও টেলিফেনিকার হাতে চলে যায়। এর আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষাধিক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। ...
ক্ষুদ্রঋণ মডেল হ্যাঁ, ইউনূস না - কেন?
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১০/০৩/২০১১
বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর থেকে মুহম্মদ ইউনূসকে অপসারণের যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুহম্মদ ইউনূস ও বোর্ডের ৯ পরিচালকের দায়ের করা দুটো রীট আবেদন গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে। অপসারণের কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মুহম্মদ ইউনূসের ‘বয়স অতিক্রান্ত’ বলে যুক্তি দিয়েছেন, মার্কিন-ইউরোপীয় দূত ও সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহিতে অর্থমন্ত্রীও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেহেতু গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান, যেহেতু বিশেষায়িত ব্যাংক হলেও ...
আনু মোহাম্মদ
-
03/01/2011
  আনু মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, জন্ম ১৯৫৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলায়। তাঁর পুরো নাম, মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। কিন্তু ভক্ত মহলে আনু মোহাম্মদ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ১৯৮২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সময়ে নৃতত্ত্ব পড়িয়েছেন। দেশের বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করার  পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি মূলত বিশ্বায়ন, সমাজ পরিবর্তন, জেন্ডার ইস্যু, এনজিও এবং জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছেন।   তিনি কার্ল মার্কসের ...
উন্মুক্ত খনি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের �
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৯/০৫/২০১০
জার্মানীর উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি কী কী কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় নয় (১)   বাংলাদেশের মাটির গঠন, পানির গভীরতা, বৃষ্টি ও বন্যার ধরন সবকিছুই জার্মানী থেকে ভিন্ন এবং তা কোনভাবেই উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির উপযোগী নয়। (২)  বাংলাদেশের জনবসতির ঘনত্ব জার্মানীর তুলনায় এতগুণ বেশি যে তা কোনভাবেই তুলনীয় হতে পারে না।  জার্মানীতে যেমন এক অঞ্চলের মানুষদের সরিয়ে অন্যত্র নতুন জনবসতি স্থাপন করা যায় বাংলাদেশে তা কোনভাবেই সম্ভব নয়। জার্মানিতে প্রতিবর্গ কিমি এ জনসংখ্যার ঘনত্ব ২৩২ এবং বাংলাদেশে ১০৬৩। (৩)  বাংলাদেশের নদনদী খালবিল ...
পানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ
কলাম
মানব কণ্ঠ
২৪ ডিসেম্বর ২০১২
আমরা পর্যালোচনা করলে দেখব যে, বিশেষ করে নদী আর সেই সঙ্গে বন, পাখিজগতের বিষণœ কিংবা বিপর্যস্ত চেহারা লাভ এ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রবাহ-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। যারা এদেশের গত কয়েক দশকের উন্নয়ন প্রবাহের শারীরিক বা জ্ঞানগত অংশীদার এবং দেশি-বিদেশি যারা এর সুফলভোগী তারা বলে থাকেন যে, বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নদী শাসন দরকার ছিল। কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নদী নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধ দরকার ছিল। বলেন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাঁধ দরকার ছিল। বলেন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বাঁধ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা অপরিহার্য ছিল। বলেন বসতির প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য বন ধ্বংস না করে পানি লবণাক্ত না করে উপায় কী ছিল? এগুলো গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি। আমাদের সব মানুষের জন্য খাদ্য দরকার, আমাদের জীবন আরো গতিশীল করার জন্য বিদ্যুৎ দরকার, আমাদের বন্যার প্রকোপ থেকে বাঁচা দরকার, আমাদের সীমা বাড়ানো দরকার-যোগাযোগ বাড়ানো দরকার, আমাদের বসতি দরকার। আমরা তো অযান্ত্রিক যুগে ফেরত যেতে পারি না। পারি কী? অনেকে রোমান্টিকভাবে সেই যুগে ...
মন্দের ভালো’ বারাক ওবামা
পর্যবেক্ষণ
প্রথম আলো
৭ নভেম্বর, ২০১২
সিএনএনসহ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে এ কথা অবিরাম প্রচারিত হচ্ছে যে মার্কিন জনগণ ভোট দিয়ে তাঁদের দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন ঠিক, তবে এই নির্বাচন সারা দুনিয়ার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই দেশে রাষ্ট্র পরিচালনা বা পররাষ্ট্রসম্পর্কিত যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেও প্রভাবিত করতে সক্ষম। কিন্তু এই নির্বাচন কি আসলেই কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে? বুশ থেকে ওবামা পরিবর্তনে বিশ্বে মার্কিন ভূমিকার কি কোনো পরিবর্তন এসেছে? ক্ষমতার অন্যান্য স্তম্ভ অপরিবর্তিত রেখে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনে কি ঘরে-বাইরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভব? নির্বাচন সামনে রেখে ওবামা-রমনি বিতর্ক ঘিরে মাসাধিক কাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। ব্যাপকভাবে জনগণের বিভিন্ন অংশ এই বিতর্ক দেখেছেন। ওই সময়ে আমার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার এবং নানা পেশার অনেকের কথা শোনার সুযোগ হয়েছিল। ওবামা-রমনি বিতর্কের প্রথমটি আমি শুনেছি সানফ্রানসিসকোতে। ওয়াশিংটনে শুনেছি ওবামা-রমনি দ্বিতীয় দফা বিতর্ক, আর বিদেন-রায়ান বিতর্ক শুনেছি নিউইয়র্কে। তৃতীয় বিতর্কের সময় ছিলাম ফিরতি পথে। প্রথম বিতর্ক ...
বাজেট পর্যালোচনা
বাজেটের আরেক পাঠ
উপ সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
১৭/০৬/২০১২
বাজেটের প্রধান অংশ রাজস্ব আয় ও ব্যয়। সরকারের রাজস্ব আয় বলতে যা বোঝানো হয় তাকে আমরা অন্যদিক থেকে বলতে পারি কর, শুল্ক, ফিসহ নানাভাবে সরকারকে দেওয়া জনগণের অর্থ। আর রাজস্ব ব্যয় হলো, সরকারি প্রশাসন-প্রতিষ্ঠান চালানোর খরচ। সরকারি-আধাসরকারি পর্যায়ে সব ব্যয় জনগণের অর্থেই পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ সরকারকে যে কর-শুল্ক দেয় তা গত চার বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদায়কৃত কর ও শুল্কের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। ২০১১-১২ পর্যন্ত এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ ...
বাজেট: জনগণের টাকা, খরচ হবে কোথায়?
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৫/০৬/২০১২
২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটের আয়তন ১,৩২,১৭০ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এটি প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারের কর ও কর-বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৯২,৮৪৭ কোটি টাকা, আগের বছর সরকারের এই আয় ছিল ৭৯,৪৬১ কোটি টাকা। তার মানে এই বছরে সরকারের বর্ধিত আয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। ছোট গাড়ি, সিগারেট, জুস ইত্যাদির শুল্কবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে–এগুলো যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু অন্যদিকে, বাসের উপরও শুল্ক বাড়ানো ...
বাংলাদেশের কী হবে
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২৩/০৫/২০১২
আতঙ্কের সমাজ, দখলদার অর্থনীতি, জমিদারি রাজনীতি এটাই বর্তমান সময়ের প্রধান পরিচয়। এর মধ্যেই আমরা ‘আছি’। বর্তমানে সারা দেশে দুর্নীতি দখলদারি, নানা অগণতান্ত্রিক আইনি-বেআইনি তৎপরতা, সন্ত্রাস-টেন্ডারবাজি, নিয়োগ-বাণিজ্য ইত্যাদি বিস্তারের সুবিধাভোগী খুবই নগণ্য। যদি সামনে বিএনপি-জামায়াত বিশেষত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয় না থাকত তাহলে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে তাদের ক্ষোভেই সরকার টালমাটাল হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য এটাই আত্মরক্ষার প্রধান অবলম্বন। ক্ষুব্ধ সমর্থকদের ধরে রাখায় বিএনপি-জামায়াতের ভয়, যুদ্ধাপরাধীদের অস্তিত্ব তাদের প্রধান ভরসা। বিএনপি-জামায়াতও এই অস্ত্রই বরাবর কাজে লাগিয়েছে। আওয়ামী আমলের ভীতি ...
উন্মুক্ত হওয়া আর অধীনস্থ হওয়া এক কথা নয়
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
০৫/০৯/২০১১
ভারত বাংলাদেশকে ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে, দিচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে বসবাস করলে খাঁচায় বসবাসের অনুভূতি হয়, আমারও তাই হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বন্ধুত্বের আহবান নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসছেন। কিন্তু খাঁচা থেকে আমরা কী করে বন্ধুত্বের হাত বাড়াবো? আমাদের সমুদ্রসীমায় ভারত দাবি জানিয়েছে, মায়ানমারও আমাদের সীমায় দাবি উপস্থিত করেছে, তাতেও মূল ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরাই। ভারত ও মায়ানমারের এই দাবির ফলে আমাদের সমুদ্রসীমার এক বড় অংশ হুমকির মুখে। বঙ্গোপসাগরে একদিকে ভারত ও মায়ানমারের দাবি অন্যদিকে মার্কিনীদের হাতে সরকারের গ্যাসব্লক তুলে ...
জীবন দিয়ে আনা রেমিট্যান্স ও বিপন্ন মানুষ
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
০৯/০৬/২০১১
বিশ্ব অর্থনীতির সংকট, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ-আগ্রাসন-বিদ্রোহ ইত্যাদি কারণে গত কিছুদিনে প্রবাসীদের কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, নি:স্ব হয়ে কিংবা অনিশ্চয়তা নিয়ে ফিরে আসছেন অনেকে। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়কৃত অর্থ প্রেরণের হারেও নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। ঝুঁকিতে ব্যক্তি, পরিবার ও সামগ্রিক অর্থনীতি। সত্তর দশকের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের দেশে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রফতানি শুরু করে। আশির দশকে এ ধারা বেগবান হয়ে ওঠে। নব্বই দশকে ব্যাপকহারে বাংলাদেশী শ্রমিক এবং পেশাজীবীরা অভিবাসিত হতে থাকেন। প্রথম দিকে বাংলাদেশের শ্রমিকরা মূলত যুক্ত হয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারেই। নব্বই দশকে ...
সজাগ মানুষেরাই এখন একমাত্র বাতি
রাষ্ট্র ও রাজনীতি
প্রথম আলো
৮ মার্চ, ২০১৩
গত কিছুদিন অসংখ্য মানুষ এই দেশে বিনিদ্র আতঙ্কিত দিনরাত পার করছেন। সাম্প্রদায়িক হামলা, গণপরিবহনে আগুন ছাড়াও গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিহত হয়েছেন নারী-পুরুষসহ প্রায় ৭০ জন মানুষ। তাঁদের মধ্যে সাতজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। নিহতদের সম্পর্কে, কিংবা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কোনো পত্রিকায় না পেলেও যতটুকু জেনেছি, তাতে এই নিহত মানুষদের অধিকাংশই গ্রাম-শহরের গরিব মানুষ। এটাই হয় সব সময়। গার্মেন্টসে আগুন, লঞ্চডুবি, বস্তিতে আগুন আর বাস দুর্ঘটনায়ই শুধু নয়, যেকোনো রাজনৈতিক সহিংসতার শিকারও তাঁরাই হন। নানা কারণে, নানা ...
রপ্তানি বাণিজ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা
কলাম
যায়যায়দিন
১৯ জানুয়ারি ২০১৩
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি পোশাক শিল্প এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। যুক্তরাষ্ট্র এখানকার শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জিএসপি (জেনেরালাইজড স্কিম অব প্রিফারেন্স) 'অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার' সুবিধা বাতিল হতে পারে। জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যে বিশেষ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পায় তা যদি বাতিল হয়ে যায়, তবে আমাদের বিকাশমান অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে পোশাক শিল্প থেকে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। কয়েক লাখ শ্রমিক এসব কারখানায় কাজ করছে; এদের বেশিরভাগ নারীশ্রমিক, পোশাক শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। সুতরাং পোশাকশিল্প খাতে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল হলে দেশের আর্থসামাজিক কাঠামো মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রন ক্লার্ক বাংলাদেশের সরকারকে একটি চিঠিতে জিএসপি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে, এ ধরনের আশঙ্কা অনেক আগে থেকেই করা হচ্ছিল। দেশে গত দুই দশক ধরে পোশাক শিল্প ...
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত শেষ করুন
দায়মুক্তি
প্রথম আলো
৭ জানুয়ারি ২০১৩
যুদ্ধকালে নিরস্ত্র নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধের ওপর সশস্ত্র দখলদার বাহিনীর আক্রমণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও নির্যাতনই যুদ্ধাপরাধ। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশে এ রকম যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে অসংখ্য। মূল যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লোকজন পার পেয়ে গেছে প্রথমেই। স্বাধীনতার পর ‘দালাল আইন’ করে এই দেশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় এই আইনে বেশ কিছু রাজাকার ও আলবদর নেতা আটক হয়, বিচারও হয় কারও কারও। অন্যদিকে, তখন এই আইনের অপপ্রয়োগ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে ১৯৭৩ সালে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বাদে বাকি সবার জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা ...
শেভ্রন ও নাইকোর কাছে আমাদের পাওনা ৪৫ হাজার কোটি
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৩/০৬/২০১২
জুন মাস বাংলাদেশে বাজেট ঘোষণা আর তা নিয়ে আলোচনার মাস। বাজেট আলোচনা কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভাবনা, সংকট, প্রস্তাবনা ধরে অনেক আলোচনা আর বিতর্ক হয়। সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অনেক বিশেষজ্ঞ দেশে যে সম্পদ সংকট আছে তার ওপরই জোর দেন এবং তা ধরে নিয়েই কথা বলেন। সম্পদ নেই, দক্ষতা নেই, ক্ষমতা নেই– এগুলোই বারবার বলা হতে থাকে। একদিকে এই সম্পদ অভাবের এই কাঁদুনি শুনি আবার অন্যদিকে দেখি আর শুনি, বছর জুড়ে বিশেষত বছর শেষের দুইমাসে, অপচয় আর লুন্ঠনের ...
তেল-গ্যাস নিয়ে আত্মঘাতী চুক্তি
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৫/০৬/২০১১
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প ও বিদ্যুৎসহ জনগণের স্বার্থে তার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। জনগণ এই মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন তাদের স্বার্থ দেখার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য। কিন্তু গত প্রায় দুই দশকে সরকার পরিবর্তিত হলেও এই মন্ত্রণালয়ের দেশবিরোধী ভূমিকার কোন পরিবর্তন হয়নি। তারা একের পর এক যেসব চুক্তি এবং যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে লাভবান হয়েছে কতিপয় বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশি কিছু গোষ্ঠী। কিন্তু দেশের জ্বালানি ...
আমরা ৯৯%, দখলমুক্ত কর বাংলাদেশ
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২০/১০/২০১১
দেশে দেশে একই শ্লোগান দিয়ে মানুষ উঠে আসছে রাস্তায়। শ্লোগানের মূল কথা দুটো; একটি, নিজের পরিচয় ঘোষণা: ‘আমরা ৯৯%’। আরেকটি, আন্দোলনের লক্ষ্য ঘোষণা: ‘দখল কর….’। কী দখল? দখল ক্ষমতার কেন্দ্র, দখল নিজের দেশ, দখল নিজের জীবন। প্রকৃত অর্থে নিজের জীবন, সম্পদ ও দেশ দখল করেছে শতকরা ১ ভাগ লুটেরা, দখলদার, যুদ্ধবাজ সন্ত্রাসী। লক্ষ্য এসব দখলমুক্ত করা। কেননা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। গত কয়েক মাস ধরে ইউরোপের বহু শহরে লক্ষ মানুষের বিক্ষোভ আমরা দেখেছি। যুক্তরাষ্ট্রে এর শুরু গত ১৭ সেপ্টেম্বর ...
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও দরিদ্র
উপসম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২৫/০৯/২০১০
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তথাকথিত ‘কালো টাকা’ বা অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ কিংবা অপরাধের মধ্যে উপার্জিত অর্থ, সেটার একটা বড় ভূমিকা আছে। বাংলাদেশে অপরাধমূলক তৎপরতা, অর্থনীতির একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অপরাধমূলক তৎপরতার অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে জমি দখল, রাষ্ট্রীয় বা গণসম্পদ দখল। যেমন বন-নদী-নালা-খাল-বিল-জলাশয়– এগুলি দখল করা, অপরিকল্পিত নির্মাণ, কিংবা সেগুলো বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক তৎপরতায় কাজে লাগানো। এগুলোর সাথে আবার সন্ত্রাসী তৎপরতা অবিচ্ছেদ্য। ড্রাগ, নারী পাচার, শিশু পাচার, নকল কারখানা কিংবা বিষাক্ত বিভিন্ন খাদ্য বা খাদ্যের জন্য উপাদান তৈরি করা– এসমস্ত তৎপরতা বাংলাদেশের ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩