কলামিস্টদের নাম
আলী যাকের এর কলামগুলো

মন কেমন করা গল্প
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
২৪ মে, ২০১৩
কিছুদিন আগে একটা ইংরেজি ছবি দেখেছিলাম। এইচবিও চ্যানেলে। নাম দ্য সোলোইস্ট। একজন ধ্রুপদী চেলো বাদক এবং লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক কলামিস্টের সম্পর্কের ওপর নির্মিত এক অসাধারণ ছবি। স্টিভ লোপেজ লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের কলামিস্ট। আর ন্যাথ্নিয়েল আয়ার্স এক আমেরিকান-আফ্রিকান চেলো বাদক। তার অবস্থান লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কিড রো তো। এই স্থানে অজস্র গৃহহীনের বাস। তাদের মধ্যে রয়েছে ভিখারি, মাদকাসক্ত, আধা পাগল, অনাথ, নানা ধরনের অস্বাভাবিক জীবন ধারণকারী মানুষ। ন্যাথনিয়েলকে হঠাৎ আবিষ্কার করে স্টিভ লোপেজ। সে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাতের ...
ফিরে যাই সেই শৈশবে
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
২০ এপ্রিল ২০১৩
বৈশাখেই যাত্রা শুরু হয় আমাদের। আমি নাগরিক, আধুনিক এবং সাহেব বাঙালির কথা বলছি না। আমি বলছি সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির কথা বা বাংলাদেশবাসীর কথা, যাদের অধিবাস গ্রামগঞ্জে, জনপদে। চৈত্রের শেষে যখন কাঠফাটা গরম পড়ে, যখন আমাদের সকলের প্রাণ আইঢাই, তখন তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন বৈশাখের। যদিও বৈশাখই গ্রীষ্মের শুরু, আনুষ্ঠানিকভাবে, তবুও বৈশাখ এলেই আমরা মেঘের আনাগোনা দেখতে পাই আকাশে আকাশে। মনে পড়ে দীর্ঘদিন আগে যখন রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে আমি ও আরও কতিপয় বন্ধু রাত জেগে মঞ্চ নির্মাণে ব্যতিব্যস্ত থাকতাম, ...
বসন্তে ফুল ফুটবেই
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
ফাল্গুনের এই দিনে এবারের লেখাটা শুরু করেই মনে পড়ল এখন তো বসন্তও বটে। গত কয়দিন ধরেই সেই ভোরবেলা থেকে কোকিলের ডাক শোনা যাচ্ছে আমার বাড়ির আশপাশে। আজ যেন একটু বেশিই ডাকছে। মনটা হঠাৎ ভারি উৎফুল্ল হয়ে উঠল। আমি দেখেছি যে, ঋতুর সঙ্গে মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ তো প্রকৃতিজাত এবং নিসর্গ লালিত বটেই। ঋতু তাকে উৎফুল্ল করে, তাকে বিমর্ষও করে। অনেক সময় নগরে বসবাসকারী আমরা ঋতুর আগমন কিংবা প্রস্থান সম্যক অনুধাবন করতে পারি না বটে, তবে শহর থেকে ...
বসন্তে ফুল ফুটবেই
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
ফাল্গুনের এই দিনে এবারের লেখাটা শুরু করেই মনে পড়ল এখন তো বসন্তও বটে। গত কয়দিন ধরেই সেই ভোরবেলা থেকে কোকিলের ডাক শোনা যাচ্ছে আমার বাড়ির আশপাশে। আজ যেন একটু বেশিই ডাকছে। মনটা হঠাৎ ভারি উৎফুল্ল হয়ে উঠল। আমি দেখেছি যে, ঋতুর সঙ্গে মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ তো প্রকৃতিজাত এবং নিসর্গ লালিত বটেই। ঋতু তাকে উৎফুল্ল করে, তাকে বিমর্ষও করে। অনেক সময় নগরে বসবাসকারী আমরা ঋতুর আগমন কিংবা প্রস্থান সম্যক অনুধাবন করতে পারি না বটে, তবে শহর থেকে ...
আমার গেলাস সদাই থাক আধেক পূর্ণ
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৪ জানুয়ারি ২০১৩
মধ্য ষাট বয়সে এসে আমার এই পরম আশাবাদী মনটাকে আর বদলাতে চাই না। থাকুক না সে যেমন আছে? জীবনের সেই কোনো বিহানবেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমার জীবনে রোদ, বৃষ্টি এবং দাবদাহের প্রচণ্ডতা অথবা কালো মেঘের ভয়াবহ কটাক্ষ আমাকে জীবনবিমুখ করতে পারেনি। বড় সৌভাগ্য নিয়ে জন্মেছিলাম বোধহয়, যে কারণে আমার জীবনের কোনো সমস্যাকেই আমি মাটিচাপা দিয়ে রাখতে পারিনি। বরং অতি স্বচ্ছন্দে মুখোমুখি হয়েছি তার। জীবন কখনও আমাকে ফিরিয়ে দেয়নি। সব সমস্যার একটা না একটা সমাধান খুঁজে পেয়েছি। এভাবেই ...
কুয়াশার চাদর ভেদ করে যখন আশার আলো দেখা দেয়
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
২৮ ডিসেম্বর ২০১২
আজকাল খুব সকালে আমার ঘুম ভেঙে যায়। মাঝে মধ্যে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করি, ঘুম আসে না। তখন বিছানা ছাড়তেই হয়। গিয়ে বসি আমার পড়ার টেবিলে। আমার সামনেই বিশাল খোলা জানালা। দেখি আকাশ, বাড়িঘর এবং কিছু দূরে দিগন্তের বনরেখা। গতকাল সকাল ভোর সাড়ে ৫টায় আমার পড়ার টেবিলে গিয়ে বসলাম। তখন অবশ্য ঘন কুয়াশা ব্যাপ্ত করে রেখেছে দিক দিগন্ত। খুব বেশি দূর অবধি দেখা যাচ্ছে না। অতএব, দৃষ্টি আমার সীমাবদ্ধ থাকে জানালার আলসেতে। সেখানে টবের মধ্যে ছোট ছোট অনেক গাছ আছে। নানারকম ...
মুক্তবুদ্ধির পরাজয়!
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
২২ ডিসেম্বর ২০১২
বিজয় দিবস পেরিয়ে এলাম বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল। কিন্তু এবারের বিজয় দিবসের স্মৃতি আমার মনে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বস্তুতপক্ষে আমার জন্মের পরে কয়েক বছর পার হওয়ার পর এমন রমরমা বিজয় দিবস খুবই কম দৃষ্টিগোচর হয়েছে আমার। পতাকা, ফেস্টুন, ব্যানার দিয়ে গাড়িতে, দোকানে, বাড়িতে সর্বত্র লাল-সবুজে ভরিয়ে দিয়েছিল সারা শহরটাকে। প্রাণোচ্ছল তরুণদের দেখেছি অনুষ্ঠান থেকে অনুষ্ঠানে ছুটছে জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন দিনটিকে হৃদয়ের সকল উত্তাপ দিয়ে উদযাপন করতেই বুঝি-বা। সকলেরই হাস্যোজ্জ্বল মুখ। তা সে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরেই হোক কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অথবা ...
আমাদের সেই সংস্কৃতি দর্শন_ এই শুরু হলো বুঝি
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৭ ডিসেম্বর ২০১২
আজ থেকে ৪২-৪৩ বছর আগের কথা। আমাদের এই ঢাকা শহরের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া কিছু তরুণ সংস্কৃতির জগতে তাদের ঘর খুঁজে পেয়েছে সদ্যই। এর পেছনের কারণটি অবশ্যই সাংস্কৃতিক রাজনীতি উদ্ভূত। আমার এই মন্তব্যটিকে পরিষ্কার করতে হলে ইতিহাসের দিকে আমাদের একটু দৃষ্টিপাত করতে হবে। একটি কৃত্রিম বিভাজনের মাধ্যমে তথাকথিত দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে যে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল, তা শুরু থেকেই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে আমাদের তরুণদের কাছে। এর মূলে ছিল একটি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রশ্ন। আমরা সবাই জানি যে, এই সংস্কৃতির অন্তর্গত যেসব বিষয় ...
হাতে হাত ধরে সোনালি আলোর দিকে
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৩০ নভেম্বর ২০১২
বছরের এই সময়টিকে, বাল্যকাল থেকে শুনে আসছি আমরা, সুদিন বলা হয়ে থাকে। এর কারণ একাধিক। প্রথমত, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, খানাখন্দ ভরা জলপ্রধান এই দেশে বছরের বাকি সময়গুলোতে চলাফেরা করা দুষ্কর। দ্বিতীয়ত, অগ্রহায়ণ মাস থেকে আমাদের ফসল কাটার সময় শুরু এবং সেই কারণেই নবান্ন উৎসব পালিত হয় এই সময়। তৃতীয়ত, তরিতরকারিতে বাজার ভরে যায়। ফলে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় আহার্য বস্তুর মূল্য আয়ত্তের মধ্যে চলে আসে। গ্রীষ্মের দাবদাহ না থাকায় আমরা দিনের সবসময়ই একটি কবোষ্ণ আরামদায়ক অবস্থায় কালযাপন করি। অতএব, এই সময়টি এলেই ...
আগামী প্রজন্মকে সৎ চিন্তায় দীক্ষিত করার এখনই সময়
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১৭ নভেম্বর ২০১২
বয়স যখন বাড়ে, মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে, তখন স্বভাবতই মানুষ পেছনের দিকে তাকায়। অনেকে মানুষের এই অতি স্বাভাবিক আচরণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। অথচ এটাই মানুষের ধর্ম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কেন স্মৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে সে সম্পর্কে অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি নিজের মতো করে বিষয়টি নিয়ে ভাবার চেষ্টা করেছি এবং এ বিষয়ে আমার নিজেরও একটি ব্যাখ্যা আছে। আমি মনে করি, মানুষ যখন দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে, বয়সের ভারে ন্যুব্জ দেহ, তখন সে অতীতের স্মৃতি থেকে, ...
বারাক ওবামা :গণমানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে...!
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৯ নভেম্বর ২০১২
অবশেষে শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বারাক ওবামা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন। এই নির্বাচন নিয়ে বাঙালি কি বাংলাদেশি, আমরা সবাই অল্প-বিস্তর উদ্বিগ্ন ছিলাম। কেন উদ্বিগ্ন ছিলাম? প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জন্য একটি ভয়াবহ বাস্তব! এতটাই বাস্তব যে, সে দেশে যদি হাঁচি দেয়, আমাদের দেশের সর্দি লেগে যায়। কথাটা যতখানি হালকাভাবে বললাম, আসলে হয়তো তত হালকা নয়। তবুও এই তো বাস্তব যে, আজকে সারাবিশ্বই প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের ভালো থাকা, না-থাকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেবল যে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী দেশ তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ...
সঠিক পথের দিশা
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৪ নভেম্বর ২০১২
এবার ঈদের ছুটিতে দেশে থাকতে মন চাইল না। সাম্প্রতিককালে ছুটিছাটায় ঢাকা শহরে থাকতে আমার একদম ভালো লাগে না। খুব ইচ্ছে হয় গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। কিন্তু আজকাল রাস্তাঘাটে যানবাহনের যেরকম ভিড় আর যেমন অরাজকতা, তা সড়কপথে ঢাকার বাইরে যাওয়ার জন্য আদৌ উপযোগী নয়। রাস্তাঘাটে কয়েক মাইল লম্বা যানজট, এমনকি জলপথ এবং রেলপথেও টিকিটের জন্য হাহাকার। আজকাল আবার অনেক বাংলাদেশি কাছেপিঠের বিদেশে ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন অহরহ। সে জন্য বড় উৎসবগুলোর সময় উড়োজাহাজের টিকিট পাওয়াও বড় দুষ্কর। তবে এবার বেশ আগে ...
আজ এই শারদ প্রাতে...!
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১৯ অক্টোবর ২০১২১৯ অক্টোবর ২০১২
পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের একটি বহুল আলোচিত কবিতার লাইন এরকম, 'ফুল ফুটুক, না ফুটুক, আজ বসন্ত।' অসাধারণ একটি পঙ্ক্তি! পহেলা ফাল্গুন এলেই যখন দখিনা বাতাস বইতে শুরু করে, শীতের শেষে, তখনও দু'চারটি পাতা ঝরে পড়ে বড় বড় বৃক্ষ থেকে। আমাদের মনটা কেমন যেন হুহু করে ওঠে। এই মন-কেমন-করা অনুভূতি কোনো দুঃখবোধ থেকে নয়। শীত শেষে পত্রপুষ্পের আসন্ন আন্দোলনে আমাদের হৃদয় তখন উন্মুখ। মন বলে 'কী দিয়ে বরণ করি তোমায়?' তবে এটাও ঠিক, আমি লক্ষ্য করেছি যে, বাংলার ষড়ঋতুর ...
দুনিয়াটা অত সহজে ধ্বংস হবার নয়
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১২ অক্টোবর ২০১২
আমার গেল সপ্তাহে কলামটির নামকরণ করা যায় বিষণ্ন কলাম! চারদিকে এত বেদনাদায়ক ঘটনার সমাগম যে, থিতু হয়ে বসে হৃদয়নন্দন বনে উচ্চারিত আনন্দঘন কথা বলার সুযোগ কোথায় আমাদের এই বাংলাদেশে? একটু বোধহয় ভুল বললাম। বলা উচিত ছিল সুযোগ কোথায় আজকের এই অস্থির বিশ্বে? সম্প্রতি আমার এক ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে টেলিফোন এসেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার নিবাস। আমাকে সে জিজ্ঞেস করল, 'আসবে নাকি এই শরতে আমাদের দেশে?' ও জানে, যে কোনো শীতের দেশের শরৎকাল বড় হৃদয়গ্রাহী হয়, বর্ণময় হয়। আমি অতীতে অনেকবার ...
বড় আশা ভঙ্গের এই শরৎ...
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৫ অক্টোবর ২০১২
এ হলো আমাদের আশা ভঙ্গের শরৎকাল। আমি নাট্যকলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন মানুষ হিসেবে শেক্সপিয়রকে গুরু হিসেবে জানি। অতএব, যে কোনো কিছু সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনার শুরুতেই মাথায় চলে আসে তার নাটকের অমোঘ সব পঙ্ক্তি। কিং রিচার্ড দ্য থার্ড নাটকের শুরুতেই রিচার্ডের সংলাপ, 'এ হচ্ছে আমাদের আশা ভঙ্গের শীতকাল'। শেক্সপিয়র এমন একজন সৃজনশীল ছিলেন_ মানুষের দুর্গতি, দুর্ভাবনা এবং দুর্দশাকে যে কোনোভাবে, যে কোনো চেহারায় তার কাব্যে হাজির করতে পারতেন। ঠিক একইভাবে মানুষের আনন্দ, স্ফূর্তিতে তিনি তার লেখায় সরাসরি কিংবা রূপকাশ্রয়ে হাজির করতেন ...
ঈদ এলো ঈদ গেল
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৩১/০৮/২০১২
আমাদের এখানে প্রাচুর্য যত বাড়ছে, আমার ভয় হয়, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অজ্ঞতাও বোধহয় একই হারে বাড়ছে। অর্থাৎ অর্থ সমাগম হচ্ছে অপোগণ্ডের হাতে। সেদিন এ বিষয়ে কথা হচ্ছিল দু'জন মেধাবী এবং সফল তরুণের সঙ্গে। তারা কিন্তু কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলল যে, যেসব সমাজে সামন্ততন্ত্র ভেঙে গিয়ে পুঁজিবাদের আগমন ঘটে সেখানে শুরুতে এ রকম দেখা যায়। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। নব্য পুঁজিবাদীরা অর্থ, বৈভব এবং বিলাসব্যসন ছাড়া অন্য কিছুতে আগ্রহী নন। এবারের ঈদের ছুটির শুরুতে দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে ...
স্বাধীন বাংলাদেশের গন্ধ শরীরে মেখে
আলোকের এই ঝরনাধারায় (শেষ পর্ব)
কালের কন্ঠ
৩১ আগষ্ট, ২০১২
সেই নিউ মার্কেট থেকে ব্যাগ হাতে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ওয়ারীতে এসে পড়েছি, লক্ষ করিনি। আর সামান্য দূরেই নারিন্দা, যেখানে ভাইয়া, আমার বড় ভাই সস্ত্রীক ও সদ্যোজাত কন্যাকে নিয়ে বাস করেন। হাটখোলা রোডে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই এক রিকশাওয়ালা আমায় জিজ্ঞেস করলেন রিকশায় চড়ব কি না। আমার পকেটে টাকা-পয়সা বেশি ছিল না। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম কত নেবেন? জবাবে রিকশাওয়ালা বললেন, 'আপনার যা খুশি দিয়েন। কোথায় যাবেন?' আমি রিকশায় চড়ে বসলাম। বললাম, নারিন্দা যাব। নারিন্দায় নির্দিষ্ট গলির ভেতরে ঢুকে রিকশাওয়ালার হাতে ভারতীয় দুটি টাকা দিয়ে বললাম, আমার কাছে পয়সা খুবই কম। সে একগাল হেসে দ্রুত রিকশা নিয়ে অন্যদিকে চলে গেল। সামনেই ভাইয়ার বাড়ি। একটি দ্বিতল ভবনের দোতলায় তাঁরা থাকেন। তখন রাত ৮টা। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে দোতলার দরজায় করাঘাত করলাম। ...
ঝরো ঝরো ঝরিছে বারিধারা
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১০/০৮/২০১২
প্রয়োজন ছিল ঢাকা শহর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ছোট শহরে বেশিরভাগ সরকারি দফতর ইত্যাদি, এমনকি মন্ত্রণালয়ও সরিয়ে নেওয়ার। তাহলে সেই সব জায়গায় যথাযথ অবকাঠামো তৈরি হয়ে যেত নিজ থেকেই। তৈরি হতো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং মানুষের প্রয়োজনে যেসব অনুষঙ্গের দরকার, তার সবই। ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ যেমন কমত, তেমনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ছোট শহর পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠত। মোটামুটি একই রকম চেহারা ধারণ করত দেশের সর্বত্র। সাম্প্রতিককালে ঢাকাবাসী আমরা প্রায় বুঝতেই পারি না কখন আষাঢ় এলো, কখন শ্রাবণ গেল। বর্ষার সেই অবিরাম ...
স্বাধীনতার আর বেশি দেরি নেই
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮৫)
কালের কন্ঠ
২০/০৭/২০১২
মুক্তিযুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কলকাতায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধের ওপর নানা রকম বইপত্র ছাপতে শুরু করে দেয়। যেহেতু কাজের চাপে এসব বইপত্র অথবা প্রকাশনার খবরাখবর রাখা সব সময় সম্ভব হতো না, তবুও এর বেশ কিছুই নজরে পড়ত তখন। এসব বইপত্র বেশির ভাগই বাংলাদেশ থেকে আগত ভারতীয় বাঙালিদের দ্বারা লিখিত। এরাও একসময় ছিল ছিন্নমূল শরণার্থী এবং এদের অনেকেরই মনে বাংলাদেশের স্মৃতি তখনো অম্লান ছিল। সেই দেশ, সেই গ্রামগঞ্জ-জনপদ, যেখান থেকে প্রাণভয়ে তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিল, সে ...
রূপালি পুঁটির ঝোল_ গরম ভাতের স্বাদ!
হৃদয়নন্দন বনে
দৈনিক সমকাল
১৩/০৭/২০১২
  যে কোনো সীমিত সম্পদের সমাজে যদি কতিপয় মানুষকে ওপরে উঠতে হয়, তবে সম্পদের পুনর্বণ্টনের মাধ্যমেই কেবল সেটা সম্ভব। অর্থাৎ আমি যত ওপরে উঠব, তার মূল্য দিতে হবে অন্য কাউকে। এ রকম একটি পরিস্থিতিতেই বোধহয় পেঁৗছেছে আমাদের এই দেশ আজকে। আর আমরা, যারা এই ধনিক শ্রেণীর অন্তর্গত তারা চাইছি আরও বিলাস-বৈভব, আরও মসৃণ জীবন, আরও নিশ্চিত নিরাপত্তা। এ প্রক্রিয়ায় নিচুতলার মানুষদের কার কী হলো, তাতে কী আসে যায়? খবর এসেছে, আমাদের গ্রামে নদী, খাল, বিলের কূল ছাপিয়ে ধানি জমিতে ...
এসেছে আষাঢ় অবশেষে
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
২৯/০৬/২০১২
আমি নিশ্চিত যে, সব বাঙালিরই বর্ষা নিয়ে নানারকম মন কেমন করা স্মৃতি রয়েছে। এই বাক্যটি লিখেই মনে হলো, বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে যেমন আমরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠি, ঠিক তেমনি কালো মেঘের আগমন আমাদের মনে কেমন যেন এক অম্ল-মধুর অনুভূতির সৃষ্টি করে। সুমন চট্টোপাধ্যায়ের একটি আধুনিক গানের কথা মনে পড়ে যায় ওই দিনগুলোতে_ 'মন খারাপ করা বিকেল মানেই মেঘ করেছে/দূরে কোথাও দু'এক পশলা বৃষ্টি হচ্ছে।' বর্ষার আগমন নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি হলো গ্রাম-বাংলায় রাত্রিযাপনের। এবার জ্যৈষ্ঠে যখন গ্রীষ্মের ...
কুয়াশায় ঢাকা পড়বে অর্জন?
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০২/০৩/২০১২
সরকার যেমন আমাদের কাছে দায়বদ্ধ তাদের সব প্রতিশ্রুতি পূরণে, আমরাও তেমনি সরকারের কাছে দায়বদ্ধ তাদের কৃত সব সুকর্মের স্বীকৃতি প্রদানে। আমাদের তরুণদের, প্রবীণদের এবং আপামর জনসাধারণের দায়িত্ব মুক্তির সপক্ষে সোচ্চার হওয়া। আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিদান দিতে, আমাদের নির্যাতিত নারীদের সম্মান পুনর্বাসনে এই মুহূর্তে সোচ্চার হওয়া আবার এসেছে স্বাধীনতার মাস। আবার এসেছে কিছু বিশেষ কথা বলার সময়। বসেছিলাম আমার পড়ার ঘরের জানালার পাশে। এই পহেলা মার্চের প্রত্যুষে। হঠাৎ করে বলা নেই, কওয়া নেই, কুয়াশায় ছেয়ে গেছে চারদিক। ঘন এই কুয়াশা ...
চাই নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব এবং সুশৃঙ্খল মানুষের ...
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৭/০১/২০১২
তবে এখনও সময় আছে। এখনও আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি যদি বাংলাদেশের আদর্শ এবং মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্বার্থহীনভাবে এ দেশের মানুষকে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন এবং আপসহীনভাবে শক্ত হাতে দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেন। আমি জানি আমাদের সমস্যা ত্বরিত কোনো সমাধান নেই; কিন্তু সঠিক পথে পথচলা শুরু করলে আমাদের প্রজন্ম তা দেখতে পাক বা না পাক, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম একটি সুশাসিত, সুনিয়ন্ত্রিত এবং সম্ভাবনার দেশের নাগরিক হতে পারবে নিশ্চয় সম্প্রতি সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম। এই নগর রাষ্ট্রটি আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি স্থান। ...
আমার কিছু কথা ছিল!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৪/০২/২০১১
এই সরকারের দুর্বলতম দিক হলো প্রচার। সব মৌল বিষয়ে এই সরকার বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী, তাৎপর্যপূর্ণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রচার নেই যাতে সাধারণ মানুষ এই সত্যগুলো জানতে পারে। সেই নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে তৎকালীন এক মন্ত্রী মহোদয় একান্ত সংলাপে আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'আচ্ছা, আপনারা যারা শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী তারা কেন আওয়ামীপন্থি?' জবাবে আমি বলেছিলাম, 'মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আমায় মাফ করবেন, আমি আপনার অভিযোগটি সম্যক উপলব্ধি করতে পারলাম না। আওয়ামীপন্থি বলতে আপনি কী ...
এ বড় সুখের সুদিন নয়
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২১/০১/২০১১
এক সর্বগ্রাসী অবক্ষয় আমাদের সংস্কৃতিকে ঘিরে ধরেছে এবং আমরা ক্রমেই ডুবে যাচ্ছি সেই পাঁকে। এ অবস্থা থেকে উদ্ধারের উপায় কি আছে কোনো? নাকি শেক্সপিয়রের ভাষায় আমরা পরিণত হবো ঈশ্বরের অবহেলায় নির্মিত অসম্পূর্ণ মানুষে? যাকে আকাশ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে এই ধরণীতে তার জন্মের সময়ের আগেই। 'সুদিন' শব্দটি একেবারেই সীমিত অর্থে ব্যবহার করেছি এই লেখার শিরোনামে। আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেমন্ত থেকে শুরু করে বসন্তের প্রায় আরম্ভ পর্যন্ত কালটিকে সুদিন বলা হয়। আমাদের বর্ষাপ্রধান জোলো দেশ। সেখানে বছরের প্রায় আট মাস এক ...
গোমতীর তীরে
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮)
কালের কণ্ঠ
১৪/০১/২০১১
বাবার কাছে কুমিল্লা সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছি বাল্যকালে। এ শহরটি আমাদের গ্রামবাসীর জন্য তখন ছিল প্রধান শহর। মহকুমা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমাদের গ্রামের কেউ সচরাচর যেতেন না। তাঁদের গন্তব্য ছিল কুমিল্লা। কী শিক্ষা, কী স্বাস্থ্য অথবা শুধু শহরে আসা বাজার করার জন্য_সব বিষয়েই। আমার বাবা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েট থেকে শুরু করে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ অবধি পড়েছিলেন। তারপর অবশ্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। কুমিল্লা ছিল তাঁর যৌবনের শহর। তিনি আমাদের বলেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ও শচীন দেব বর্মণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে আসরে বসে গান শোনার স্মৃতির কথা। ...
আমার দিদি
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৬)
কালের কণ্ঠ
৩১/১২/২০১০
ছোটবেলা থেকেই আমি পরিবারমুখী। মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের মাঝে বিরাজমান সম্পর্কগুলোর মাঝে যে আত্মার খোরাক ছড়িয়ে থাকে, তা আমি বরাবরই অনুভব করেছি। আমার জীবনের অন্যতম প্রিয় মানুষ ছিলেন আমার দিদি। তাঁর বিয়ের সময় কলকাতা, ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম এমনকি আমাদের গ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রতনপুর থেকেও অনেকে এসেছিল। আম্মার খুব শখ ছিল যে দিদির বিয়েতে খুব ভালো ব্যান্ড পার্টি আসবে। আমাদের কুষ্টিয়া শহরে কাড়া-নাকাড়া বাজানো সিনেমার পাবলিসিটি করার মতো ব্যান্ড ছিল, কিন্তু পুলিশ কী মিলিটারি ব্যান্ডের মতো কোনো কিছু ছিল না। নানা কলকাতা ...
খুলনার সেই স্মৃতি
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-১)
দৈনিক প্রথম আলো
২৬/১১/২০১০
কোন সে প্রত্যুষ, আজ এই পশ্চিমাকাশে সূর্য হেলে পড়া বেলায়, আমার চেতনায় দেখা দেয়? আমি ফিরে যাই সেই সকালে আবার। নাদু ভাইয়ের কোলে আমি। সামনে একটা খাঁচায় বন্দি চিতাবাঘ। খাঁচাটা বেশ ছোট। একটা বাঘের ঘর হতে পারে না কোনোভাবেই। তারই মধ্যে ঘোরাফেরার চেষ্টা করছে অবিরত। নাদু ভাই আমাকে খাঁচার একেবারে কাছে নিয়ে যান। বাঘটা ধরা পড়েছে গতকালই সন্ধ্যাবেলায়। রাগে ফুঁসছে। নাদু ভাই একেবারে বাঘটার মুখের কাছে নিয়ে গেলেন আমাকে। মহাত্যক্ত হয়ে বিশাল একটি হালুম দিল বাঘটি। আমি ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেললাম। এইটিই বোধ হয় আমার জীবনের একেবারে আদি স্মৃতি। এর আগের কিছু ছবি হয়তো মাথায় আসে যায়। অনেকটা পেঁজা তুলোর মতো। ...
চলেছি কোন দিকে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১২/১১/২০১০
২১ ফেব্রুয়ারি যেদিন গুলি চলল সেদিন বাবা অফিস থেকে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে এলেন না। মাকে সেই বড় কালো ফোনে কী যেন বললেন, মা একটি টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার পাঠিয়ে দিলেন। ওইদিন সন্ধ্যাবেলায় বাবার পিয়ন সিরাজ ভাইয়ের কাছে শুনলাম যে, ঢাকায় বাংলাভাষা নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছে। গুলি চলেছে। অনেক ছাত্র মারা গেছে আমার বাবার বদলির চাকরির সূত্র ধরে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আমার শৈশব-কৈশোরের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কুষ্টিয়া, খুলনা, চট্টগ্রাম আর ঢাকা তো আছেই। মফস্বল শহরের যে আলাদা এক ...
চলেছি কোন দিকের পানে-
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৫/১১/২০১০
আমার কুষ্টিয়ার স্মৃতি বৈচিত্র্যময়। এখন ভাবলে অবাক হতে হয় যে, বাল্যকালে কত সাধারণ বিষয়ও আমাদের উৎফুল্ল করত। আমরা বনবাদাড় ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম। একেক দিন হাঁটতে হাঁটতে আবিষ্কার করে ফেলতাম নতুন নতুন বন আমাদের বাসা থেকে নীলা সিনেমা হল বেশ কাছেই ছিল। অতএব হেঁটেই যাওয়া-আসা করা যেত। বাবা অফিস থেকে একটি গাড়ি পেতেন, তবে দাফতরিক কাজ ছাড়া গাড়ি ব্যবহার করা হতো না। মা আর দিদি সাধারণত রিকশা করেই শহরের মধ্যে যাওয়া-আসা করতেন। তবে বছরে একবার কি দু'বার বাবা যখন ট্যুরে ...
চলেছি কোন দিকের পানে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৯/১০/২০১০
এ দেশের প্রকৃত সংস্কৃতিমনা ও নাট্যজগতের গুণীজনদের অন্যতম প্রাণপুরুষ আলী যাকের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সদাউজ্জীবিত এ মানুষটি অবদান রেখেছেন আমাদের সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সংস্কৃতজন আলী যাকেরের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা, যা আজ তাকে আমাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছে_ এসব নিয়েই তার নিজের ভাষায় নিজের কথা লিখেছেন 'চলেছি কোন দিকের পানে' কোন সে প্রত্যুষ, আজ এই পশ্চিমাকাশে সূর্য হেলে পড়া বেলায়, আমার চেতনায় দেখা দেয়? আমি ফিরে যাই সেই সকালে আবার। নাদু ভাইয়ের কোলে আমি। সামনে একটা খাঁচায় বন্দি ...
বড় বেদনার উৎসব এই...!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৭/০৯/২০১০
ঈদ যদি আনন্দ হয়, তবে তা সীমিত হয়ে গেছে প্রাচুর্যের প্রদর্শনীতে। এর সঙ্গে হৃদয়ের কোনো সম্পর্ক নেই আর। এমনকি বাচ্চাদেরও প্রচণ্ড লোভী করে তুলছি আমরা। তাদেরও আনন্দ এখন বিত্তের যুক্তিহীন অপচয়ে বসেছিলাম আমার গ্রামের বাড়ির পুকুরঘাটে। ঈদের তখনও দুু'দিন বাকি। গ্রামে গেলে যেমন হয়, সারাক্ষণ আমাকে ঘিরে থাকে আমার নানা আত্মীয়-স্বজন, নিকট এবং দূর সম্পর্কের লোকজন। এবং নানা ধরনের মানুষ যাদের অবাধ গতি আছে আমাদের বাড়ির ভেতরে। এই ছোটখাটো ভিড়ের বেশিরভাগ মুখ আমার দিকে উন্মুখ হয়ে চেয়ে থাকে কথা ...
প্রয়োজন ঐকমত্যের
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০২/০৭/২০১০
আমরা আমাদের এই প্রাণাধিক প্রিয় জন্মভূমিতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় বিপর্যয়ের মধ্যে আছি। যখন-তখন, সময়ে-অসময়ে বিদ্যুৎ মহাশয় আমাদের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখিয়ে অন্তর্ধান করছেন। কখনও দুষ্টু বালকের মতো আমাদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছেন। কখনও ঘণ্টা, দু'ঘণ্টা, চার ঘণ্টা তিনি থাকছেন না। আবার কখনও ১৫ মিনিটেই ফিরে আসছেন। আমরা গরমে হাঁসফাঁস করছি। আমাদের নিদ্রাহরণ হচ্ছে। আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে। আমরা কাতর হয়ে পড়ছি। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মুমূর্ষু হয়ে পড়ছেন। আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনা বিঘি্নত হচ্ছে। আমরা মাঝে মধ্যে চূড়ান্ত হতাশ হয়ে রবীন্দ্রনাথের গান ধরেছি, 'মরতে, মরতে মরণটারে শেষ করে দে একেবারে। শেষ হয়ে যাবে যখন, মরবে না আর কভু কবে।' কিন্তু না, ব্যাপারটা লঘু তামাশার নয়। সমস্যাটি গুরুতর। ভীষণ গুরুতর এবং এ সমস্যাটি আজকের সৃষ্ট নয়। এর পেছনে রয়েছে ১০, ১৫, ২০, ৩০ বছরের ইতিহাস। মনে আছে নব্বই দশকের মাঝামাঝি কথা হচ্ছিল বিদ্যুৎ বিষয়ের ভারপ্রাপ্ত এক উচ্চ পর্যায়ের আমলার সঙ্গে। আপনাদের মনে আছে কি? সে সময়ও লোডশেডিং হতো। আমি তখন উত্তরায় বাস করতাম। ...
'এ আমার এ তোমার পাপ'
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১০/০৬/২০১০
কলাবাগান অঞ্চলে আমার বাবা এবং তার বল্পুব্দরা মিলে প্রত্যেকে এক বিঘা করে জায়গা কিনেছিলেন। বাবাকে বলতে শুনেছি, বল্পুব্দরা কিনেছে তাই। থাকুক পড়ে। জমির দাম তো বাড়তেই থাকে। সেটা ছিল উনিশশ' চুয়ান্ন। শুনেছি তখন ওই এলাকায় জমির দাম ছিল বিঘাপ্রতি দেড় হাজার টাকা। আজ শুনলে হাসি পায়। কলাবাগান তখন ছিল শহরের ভেতরে গ্রাম। মনে আছে প্রচুর কাঁঠাল গাছ ছিল ওই জায়গায়। মাঝে মধ্যে দু'একটা মাটির ঘর। প্রচুর পাখি। আর দিন পড়ে এলে শুরু হতো শিয়ালের ঐকতান। ওই জমিতে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। বাবার সঙ্গে আমরা সবাই মিরপুর রোডে গাড়ি রেখে ধানের ক্ষেতের মাঝের আলপথ দিয়ে হেঁটে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের ওই জমিতে যেতাম। ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে আমরা ওই জমিতে পিকনিক করতেও যেতাম। ক্রমে ওই এলাকায় উন্নয়নের সময় এলো। আমার বাবা এবং তার বল্পুব্দরা মিলে তাদের জায়গার মাঝামাঝি একটা কুড়ি ফুট রাস্তা বের করার জন্য প্রত্যেকে আড়াই কাঠা করে জায়গা ছেড়ে দিলেন। ...
হাঁটতে হাঁটতে শোনা কথা...
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৪/০৬/২০১০
ব্যতিক্রম কখনোই নিয়ম হতে পারে না। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের শাসনব্যবস্থা, আমাদের রাজনীতি আজ দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের আখড়া_ এ কথা বললে বোধহয় বাড়িয়ে বলা হবে না হেঁটে বেড়ানো আমার একটি পুরনো অভ্যাস। শহরে কিংবা গ্রামে যে কোনো জায়গায়, যে কোনো সময় পাঁচ কিলোমিটার পথ আমার জন্য হেঁটে যাওয়া বড় আনন্দদায়ক। অবশ্য এর অনেকটা নির্ভর করে আবহাওয়া, পথ এবং মানসিক অবস্থার ওপর। ঢাকায় মাঝে মধ্যেই আমি বিভিন্ন পার্কে হেঁটে বেড়াই। আগে পথে পথে হাঁটতাম; কিন্তু ইদানীং ঢাকার রাস্তায় হাঁটলে অল্পক্ষণেই নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে, বুক এবং চোখ জ্বালা করে। ...
হাঁটতে হাঁটতে শোনা কথা...
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৪/০৬/২০১০
ব্যতিক্রম কখনোই নিয়ম হতে পারে না। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের শাসনব্যবস্থা, আমাদের রাজনীতি আজ দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের আখড়া_ এ কথা বললে বোধহয় বাড়িয়ে বলা হবে না হেঁটে বেড়ানো আমার একটি পুরনো অভ্যাস। শহরে কিংবা গ্রামে যে কোনো জায়গায়, যে কোনো সময় পাঁচ কিলোমিটার পথ আমার জন্য হেঁটে যাওয়া বড় আনন্দদায়ক। অবশ্য এর অনেকটা নির্ভর করে আবহাওয়া, পথ এবং মানসিক অবস্থার ওপর। ঢাকায় মাঝে মধ্যেই আমি বিভিন্ন পার্কে হেঁটে বেড়াই। আগে পথে পথে হাঁটতাম; কিন্তু ইদানীং ঢাকার রাস্তায় হাঁটলে অল্পক্ষণেই নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে, বুক এবং চোখ জ্বালা করে। অতএব, পার্ক এবং উদ্যান ছাড়া কোনো গতি নেই। বেশ কিছুদিন আগে এরকম একটি পার্কে আমি হাঁটছিলাম। তখন একুশের বইমেলায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হুমায়ুন আজাদ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। যারা পার্কে হাঁটেন, তারা অবশ্যই জানেন, চক্রাকারে হাঁটতে হাঁটতে একই মানুষের সঙ্গে একাধিকবার দেখা হয়ে যায়। ...
নিসর্গেরও সহ্যের আছে সীমা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২১/০৫/২০১০
'এসো শ্যামল সুন্দর/আনো তব তাপহারা তৃষাহারা সঙ্গসুধা।' বেজে চলে রবীন্দ্রসঙ্গীত। উদাত্ত, দ্বিধাহীন কণ্ঠস্বর। আমার প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠ নিসৃত সুরের সুধা ঘুরে বেড়ায় ঘরময়। মিতা হক গেয়ে চলে, 'বকুলমুকুল রেখেছে গাঁথিয়া/বাজিছে অঙ্গনে মিলনবাঁশরি/আনো সাথে তোমার মন্দিরা/চঞ্চল নৃত্যের বাজিবে ছন্দে সে।' আমি মাথার ওপর প্রচণ্ড দুর্যোগের অবিরাম তাণ্ডবের মাঝেও আনমনা হয়ে যাই। শেষ বসন্তের কোনো এক রাত্রির মধ্যযামে, প্রায় অকুল পাথারে নিঃসঙ্গ বসে এক টিনের ছাদওয়ালা মাটির বাড়ির ভেতরে একা আমি। আমার প্রধান সঙ্গী ওই বাড়ির শিয়রে দাঁড়ানো এক বিশাল শিরীষ গাছ। এখন, এই মুহূর্তে শিরীষ গাছটি দাঁড়িয়ে নেই। এই অকালে বয়ে যাওয়া ঝড়ের দাপটে নুয়ে যাচ্ছে মাঝে মধ্যে। এই বুঝি ছুঁয়ে ফেলে টিনের চাল। আবার সদম্ভে উঠে যাচ্ছে দাঁড়িয়ে। ...
আসুন, ঢাকা বাঁচাই!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৪/০৫/২০১০
ঢাকা শহরের বন-বনানী একসময় বিখ্যাত ছিল। এই খ্যাতির, আমি যতদূর শুনেছি, পত্তন হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। লন্ডনের প্রখ্যাত কিউ গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং রমনা এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। রমনা এলাকার গাছপালা যে সুপরিকল্পিত উপায়ে বপন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ওই বিচক্ষণ বনায়নের নিদর্শন এখনও আমাদের মন কেড়ে নেয়। মিন্টো রোড, বেইলি রোড, হেয়ার রোড, পার্ক রোড, ফুলার রোড কিংবা গোটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাই এই রুচিশীল বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে। একটা সময় ছিল যখন শহরের মানুষ বেড়াতে যেত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। কার্জন হল, সলিমুল্লাহ হল_ এগুলো ছিল দেখার মতো ইমারত। আমার তো মনে আছে, কার্জন হলের সামনে দাঁড়িয়ে সদ্য বিবাহিত তরুণ-তরুণীকে ছবি তুলতেও দেখেছি আমি অনেকদিন। একটি সুদৃশ্য ঐতিহাসিক ইমারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অক্ষয় হয়ে থাকাই উদ্দেশ্য ছিল নিশ্চয়ই। এমনকি গোটা পরিবারের সবাইকে নিয়ে কার্জন হল কিংবা হাইকোর্টের সামনেও ছবি তোলার চল ছিল। অবশ্য বাল্যকালে আমি যখন ঢাকায় এসেছি, ততদিনে বিখ্যাত কোনো ইমারতকে পেছনে রেখে পারিবারিক ছবি তোলার চল এ শহরে ...
নৈঃশব্দ্যের শব্দ পেতে চাই
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৭/০৫/২০১০
বছর দুয়েক আগে ফেব্রুয়ারি মাসে রাঙামাটিতে গিয়েছিলাম শান্তির খোঁজে। এ রকম শহর ছেড়ে আমি সময় পেলেই পালাই। ফেব্রুয়ারির শুরু। বড় শ্রীহীন হয় বাংলাদেশ ওই সময়টায়। আবহাওয়া মন্দ নয়। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। দৈহিক ক্লান্তি সহজে আসে না। হাঁটাহাঁটি করতে ভালোই লাগে। তবে চারদিক বড়ই রুক্ষ, নীরস মনে হয়। শুকনো, মরা পাতা ছড়িয়ে থাকে যত্রতত্র। ধুলার আস্তরণ প্রকৃতিকে আবৃত করে রাখে। এমন সবুজ যে প্রকৃতি, তাও যেন কেমন নিষ্প্রভ, অনুজ্জ্বল মনে হয়। তবু প্রকৃতি, প্রকৃতিই। নিসর্গের প্রতি আমার তীব্র ভালোবাসা। অতএব ঋতু কিংবা কালের বাছবিচারে কালক্ষেপণ করতে আগ্রহী আমি নই। রাঙামাটিতে অনেক ধরনের পাখি আছে। ...
অন্ধকারের থাবাকে রুখতে হবেই
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৫/০৪/২০১০
এক নিকষ কালো অন্ধকার যেন ছেয়েছে জনজীবন। কীভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এর থেকে? কিংবা পরিত্রাণ কি আছে আদৌ কোনো? কথা হচ্ছিল দুই প্রথিতযশা, সমাজসচেতন এবং গণমুখী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত দুই নারীর সঙ্গে। সে সঙ্গে ছিল দু'জন মেধাবী আর সমাজসচেতন তরুণ-তরুণী। আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। আমাদের সমাজ গত চলি্লশ বছর ধরে একটি অরাজক পথে পথ চলতে চলতে এমন এক প্রায় অসহনীয় পর্যায়ে এসে পড়েছি যে, সমাজের সব ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তায়নের ফলে এ অবস্থা থেকে সহজে মুক্তি আছে বলে মনে হয় না। এক অতি অস্থির অবস্থা আমাদের আরও অসহনীয় অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান অব্যবস্থা এবং অস্থিরতার প্রধান শিকার হয়েছে আমাদের নারীসমাজ। ...
অন্ধকারের থাবাকে রুখতে হবেই
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৫/০৪/২০১০
এক নিকষ কালো অন্ধকার যেন ছেয়েছে জনজীবন। কীভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এর থেকে? কিংবা পরিত্রাণ কি আছে আদৌ কোনো? কথা হচ্ছিল দুই প্রথিতযশা, সমাজসচেতন এবং গণমুখী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত দুই নারীর সঙ্গে। সে সঙ্গে ছিল দু'জন মেধাবী আর সমাজসচেতন তরুণ-তরুণী। আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। আমাদের সমাজ গত চলি্লশ বছর ধরে একটি অরাজক পথে পথ চলতে চলতে এমন এক প্রায় অসহনীয় পর্যায়ে এসে পড়েছি যে, সমাজের সব ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তায়নের ফলে এ অবস্থা থেকে সহজে মুক্তি আছে বলে মনে হয় না। এক অতি অস্থির অবস্থা আমাদের আরও অসহনীয় অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান অব্যবস্থা এবং অস্থিরতার প্রধান শিকার হয়েছে আমাদের নারীসমাজ। সর্বক্ষেত্রে পুরুষশাসিত সমাজে নারীর মূল্যায়ন কখনোই যথাযথ হয় না বা হতে পারে না_ এটিই স্বাভাবিক। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, আমাদের সমাজে নারীর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু সত্য কথা হলো এই যে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নারীবিদ্বেষ কি নারীর প্রতি অবজ্ঞা প্রায় স্বভাবজাত আমাদের। ...
মানুষ তৈয়ার কর বাহে, মানুষ তৈয়ার!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৯/০৪/২০১০
আমার গত সপ্তাহের কলামে আমি এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত যে বিষয়গুলো, তার ওপর কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করেছিলাম। এগুলো আমাদের সবারই জানা। প্রধান সমস্যা তিনটি যদি চিহ্নিত করতে হয়, তাহলে অবধারিতভাবে চলে আসবে বিদ্যুৎ ঘাটতি, পানির সমস্যা এবং আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা। আমি বলেছিলাম, এই সমস্যাগুলো বছরের পর বছর নানাবিধ অব্যবস্থার ফলে পুঞ্জীভূত মেঘের মতো গাঢ় বিপদসংকুল, সর্বব্যাপী এবং সর্বগ্রাসী হয়ে আমাদের জীবনে দেখা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে পরবর্তী সরকারগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবল নিজেদের আখের গোছাতে ব্যতিব্যস্ত ছিল। কখনও দেশ কিংবা জাতি সম্পর্কে ভবিষ্যতের দিকে চোখ রেখে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। ...
২৬ মার্চের সাহসী প্রভাতে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৬/০৩/২০১০
কেন্দ্রীয় ভাষা শহীদ মিনারের ঠিক বিপরীত দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ভবনটি সায়েন্স অ্যনেক্স বিল্ডিং হিসেবে পরিচিত তারই নিচের তলার একটি কামরায় পাঁচজন তরুণ প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় মিলিত হতো। কাজ ছিল দাবা খেলা আর বলাইয়ের ক্যান্টিনের চা কাপের পর কাপ গলাধঃকরণ করা। সেই চা ছিল অত্যন্ত বিস্বাদ। অনেকটা কবিরাজি ওষুধের মতো তেতো। তবুও প্রতি সন্ধ্যায় ওই চা-ই মনে হতো অমৃত। এই তরুণরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বিভিন্ন পেশায় ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। তবুও এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়া কাটাতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, এদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতত্ত্ব বিভাগে ছাত্র পড়াত। সেই সুবাদেই তার জন্য বরাদ্দ ছিল ওই কামরা। সেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে এরা ছিল রাজপথে। এই পাঁচজন ছিল রাজনীতিসচেতন, দেশোন্মাদ প্রায় অস্থির তরুণ যারা ভাষা, সংস্কৃতি, বাঙালিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করার কথা চিন্তাও করতে পারত না। ১৯৭১-এর মার্চ মাস। সমগ্র বাংলাদেশ তখন উত্তাল। সেই সঙ্গে এই তরুণরাও রোজ সন্ধ্যায় একসঙ্গে শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হতো দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, কবিতা ...
চাই সাহসী পথপ্রদর্শক
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৯/০৩/২০১০
সাম্প্রতিককালের দেশ-ভাবনা স্বভাবতই আমাদেরকে আমাদের সার্বিক শিক্ষা এবং চিন্তাচেতনার দীনতা সম্পর্কে শঙ্কিত করে। আমি এ বিষয়ে যেমন বিভিন্ন জায়গায় বলার চেষ্টা করেছি, তেমনি আমার লেখালেখিতেও উল্লেখ করেছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি সংশিল্গষ্ট সব বিষয়ে একটা খরা দেখা দিয়েছে। একধরনের ধস নেমেছে। আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি তাহলে দেখব, আমাদের তরুণ সম্প্রদায়ের অনেকেই গড্ডলিকাপ্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। কোনোরকম কিছু নিয়েই চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করে না। এই সেদিন আমাদের এক তরুণ চিত্রশিল্পীকে তারই কথার জের ধরে জিজ্ঞেস করেছিলাম রবীন্দ্রনাথের 'যেতে নাহি দিব' কবিতাটি সে পড়েছে কি-না। প্রসঙ্গ ছিল আমাদের জীবনে অনেকেই কিছু ত্যাগ করতে না চাইলেও অনেক কিছু ত্যাগ করতেই হয় এবং সেজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা দরকার। মেয়েটি আমাকে হতভম্ব করে দিয়ে বলল, 'কবিতা পড়ে কী হবে?' আমি বুঝে উঠতে পারলাম না একজন মানুষ যার কাজই হচ্ছে ছবি আঁকা, সে এ ধরনের বালখিল্য প্রশ্ন কীভাবে করতে পারে? আমি তরুণীটিকে দোষ দেব না। ...
মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১২/০৩/২০১০
গত শুক্রবারের কলামে আমি পাকিস্তানের সামরিকতন্ত্রের উত্থান এবং তার ফলে শিক্ষা, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ধস সম্বন্ধে লিখেছিলাম। ওই লেখাটির অনুপ্রেরণা ছিল পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ। আমার কলামটি পাকিস্তানের ওপরে ছিল বটে, তবে মনের মধ্যে সবসময় উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছিল আমার এই বাংলাদেশ। কেননা বিশ্বের যেখানেই যাই, যা-ই করি না কেন, সর্বদাই মনের মধ্যে বাজে যে সুখ কিংবা বেদনা, সে তো আমাদের এই বাংলাদেশকে নিয়েই। আমি উলেল্গখ করেছিলাম, পাকিস্তানে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, যার শুরু সেখানে সামরিক শাসকের কারণে, আমাদের বাংলাদেশও কি একই কারণে শিক্ষার ক্ষেত্রে অনগ্রসরতার শিকার হয়নি? আমরা যখন শিক্ষিতের উচ্চ হারের কথা উলেল্গখ করি, তখন কেবল সাক্ষরতাকেই ধরে নিই। ...
বড় বাঁচা বেঁচে গেছি আমরা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৫/০৩/২০১০
সম্প্রতি ইন্টারনেটে পাকিস্তানের 'ডন' পত্রিকায় লেখা একটি নিবন্ধ পড়ে আজকের এই কলামের বিষয়বস্তু নির্ধারণে অনুপ্রাণিত হলাম। লর্ড ডালহৌসি যখন ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল, তখন তিনি অশিক্ষিত পাঞ্জাবিদের শিক্ষিত করার মানসে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার চেষ্টা করেন। এ সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তত্ত্বাবধানে একটি বোর্ড গঠন করা হয়, যাদের ওপর সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করার দায়িত্ব বর্তায়। সেটি ছিল ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে। কাজ শুরু করেই ওই বোর্ড একটি চমকপ্রদ তথ্য আবিষ্কার করে আর সেটি হলো, লাহোর এবং তার আশপাশের উপশহরে শিক্ষিতের হার শতকরা ৮০ ভাগ এবং এই ৮০ শতাংশের সবাই কারও কোনো সাহায্য ছাড়া স্বহস্তে চিঠি লিখতে পারত। ২০১০-এ এসে লাহোর শহরে ওই মানের শিক্ষিতের সংখ্যা নেমে এসেছে ৯ শতাংশে এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ তাদের নাম স্বাক্ষর করতে পারে কেবল। অতএব শিক্ষিত বলে ধরে নেওয়া হয়। সে সময় আজকের তুলনায় আয়তনে অনেক ছোট লাহোর শহরে মেয়েদের জন্যই কেবল ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল এবং উভয় লিঙ্গের জন্য অগুনতি স্কুল ছিল তখন। ওই ...
আমরা সুদূরপ্রসারী, সর্বব্যাপী বন্ধুত্ব প্রত্যা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১২/০২/২০১০
আবারও সেই চর্বিত চর্বণই করতে হচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে, কোনো একটি বিষয়ে কথাবার্তা শুরু হয়ে গেলে সেটা গড়িয়ে গড়িয়ে এগিয়ে যেতেই থাকে। গতি স্তব্ধ হয়ে এলে আবার কেউ বাইরে থেকে একটা ধাক্কা দেয়। কথাবার্তা চলতেই থাকে। এই গোটা বিষয়টি কেবল ক্লান্তিকরই নয় বিরক্তিকরও বটে। আর বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেই যদি ক্লান্ত তাহলে পাঠকরা তো ক্লান্ত হবেনই। তবুও কিছু বিষয়ে একবার, দু'বার, তিনবারও বলতে হয়। বলা দরকার হয়ে পড়ে। এবারের কলামে আবারও এই বিষয়ে লিখবার অনুপ্রেরণা আমি পেয়েছি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সেমিনার থেকে। সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল হাসিনা-মনমোহন বৈঠকের সাফল্য-অসাফল্যের। মূল বক্তা ছিলেন দু'জন। প্রথমজন অধ্যাপক বীণা সিক্রি, বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, বর্তমানে অধ্যাপনায় রত। ...
দিদির দুঃখ
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৭)
কালের কণ্ঠ
২০/০১/২০১০
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আমার বাবা গ্রাম থেকে এসে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন, যত দূর মনে পড়ে, ক্লাস ফাইভে। থাকতেন হোস্টেলে। আবার সদর এসডিও হিসেবে ফিরে এসেছিলেন এই চট্টগ্রামেই। অতএব চট্টগ্রাম তাঁর কাছে ছিল বিশেষ একটি শহর। তাঁর মৃত্যুর পর মায়ের ইচ্ছানুসারে আমরা তাঁকে সমাহিত করেছি এই চট্টগ্রামেই। এই চট্টগ্রামে আমার শৈশব এবং কৈশোরের অনেক দিন কেটেছে। এনায়েতবাজার রোডে বাবার বাড়ি। সেখান থেকে বেরিয়ে ডানে গেলেই ডিসি হিল। সেটি ছিল আমার প্রিয় একটি জায়গা। পথে পড়ত সংগীত পরিষদের ...
কল্পিত শত্রুর সঙ্গে আর ছায়াযুদ্ধ নয়
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৫/০১/২০১০
দেখতে দেখতে ২০০৯ বিদায় জানাল আমাদের। আরও একটা বছর হারিয়ে গেল কালের গর্ভে। যখন বছরগুলো চলে যায়, তখন মনটা একটু খারাপ হয়ে যায় বৈকি। প্রতি বছরের শেষে এই জন্য মন খারাপ হয় যে, আরও এক বছর খসে পড়ল জীবন থেকে। কিন্তু পরমুহূর্তেই এই মানসিকতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করি। ভাবি, পুরনোকে তো বিদায় দিতে হবেই। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, 'যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি'। মনটা আরও উৎফুল্ল হয় যখন দেখি তরুণতর মানুষগুলোকে। কী আনন্দে তারা যেন গেয়ে ওঠে, 'নব আনন্দে জাগো আজি, নব রবি কিরণে'_ এও সেই রবীন্দ্রনাথেরই ভাষায়। মানুষ বোধহয় এ আশাতেই বেঁচে থাকে, বুক বাঁধে। নতুন দিনের আশা, নতুন আলোর আশা, নতুন আশার আশা। তবে সবচেয়ে আনন্দের হয় যদি আমরা যা গেল তার আজকের আনন্দকে যদি যা আগত, তার স্বাগত সম্ভাষণের সঙ্গে মেলাতে পারি। তবেই প্রাপ্তি আর নতুনের আনন্দ অভীপ্সায় হৃদয় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমরা গেয়ে উঠি জীবনের আনন্দযজ্ঞে। ২০০৯ কেমন গেল? অবশ্যই সবার জন্য সমান যায় না ...
নববর্ষের আরশিতে নিজের মুখ দেখি
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০১/০১/২০১০
আজ ২০১০ সালের প্রথম দিন। সবাইকে গ্রেগরিয়ান নববর্ষের শুভেচ্ছা। আমরা, বাঙালিরা সুযোগ পেলেই কেবল ব্যর্থতার কথা বলি। আমরা এই পেলাম না, সেই পেলাম না, এই হলো না, সেই হলো না। আমি বুকে একটু সাহস সঞ্চয় করে ভিন্ন কথা বলতে চাই। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় আমি বলতে চাই, "কি পাইনি তার হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি।" তবুও কিছু কথা বলতে হয়, তাই কিছু অভিযোগ থেকেই যায়। আর কারও বিরুদ্ধে না হলেও, নিজের বিরুদ্ধে তো বটেই। অবশ্য এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত ভাবনা। এ কথা বলার সাহস রাখি না যে, আমার মতো সবাই ভাববে। সেটা সঙ্গতও নয়। আমি আসলে সবসময়ই আশাবাদী মানুষ। ...
অশিক্ষিত, অর্বাচীন সমাজেই কি অধিবাস হবে আমাদের?
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১৪ জুন, ২০১৩
পথ তো মেলাই আছে। নগর, জনপদ, গ্রামে বিস্তর পথ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সেসব পথ ধরে, কোনো জাগতিক কাজের ব্যস্ততা না থাকলে দিব্যি ঘুরে বেড়ানো যায়। পথে পথে ঘুরে বেড়ানো এক আনন্দের ব্যাপার, যদি না পথ বন্ধুর হয়ে ওঠে। গীতিকার এবং সঙ্গীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী যেমন বলেছিলেন, 'পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা...।' এই পথ চিনতে নেমে পথকে তো চেনা হয়ই, সেই সঙ্গে চেনা হয় পথচারীকে_ নানা মতের, নানা বর্ণের পথচারী, চেনা হয় পথের দু'ধারের বাড়িঘর, উদ্যান কিংবা বৃক্ষরাজি। তবে ...
মুক্তবুদ্ধির সখা :ওয়াহিদুল হক
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১৫ মার্চ, ২০১৩
বড় উত্তাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা এখন। ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে হানাহানি শুরু করে দিয়েছে তারা, যারা বাংলাদেশের সৃষ্টির যে চেতনা বা আদর্শ, তার সঙ্গে সবসময়ই দ্বিমত পোষণ করে এসেছে। আমরা ভেবেছিলাম, সুদীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের গোলামি করার পর যখন আমরা একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশকে স্বাধীন করলাম, তার সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা-ভাবনা এবং বুদ্ধিও বুঝি মুক্তি পেল। কিন্তু তখন বুঝিনি যে, আমাদের সব সুকৃতি এবং সুচিন্তাকে ধ্বংস করার জন্য আমাদের স্বাধীনতার প্রথম দিন থেকেই ...
অন্ধজনে দেহ আলো
উপ-সম্পাদকীয়
দৈনিক সমকাল
৮ মার্চ, ২০১৩
আমার বন্ধু শরফুদ্দিন। অনেকেই আদর করে ডাকে শরফু। বয়স বছর দশ। পাঠক অবাক হতে পারেন যে, একটি বাচ্চা ছেলে কী করে আমার বন্ধু হতে পারে? শরফু থাকে আমাদের গ্রামে। আমাদের বাড়ি থেকে হাঁটাপথে বড়জোর দশ মিনিট। প্রথম পরিচয় ওর বয়স যখন ছয়ের মতো। একদিন লক্ষ্য করলাম যে, একটা কালোকুলো ছেলে, খালি গা, ময়লা হাফ প্যান্ট পরনে, বড় বড় চোখ, পুকুর পাড়ে একটি চারা গাছের কাণ্ডে হেলান দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি গ্রামে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের পছন্দের কিছু খাবার-দাবার সবসময় নিয়ে যাই। শরফুকে কাছে ডেকে বিস্কুট দিলাম। সে বিস্কুটটি নিয়ে আবারও গাছের কাছে চলে গেল। আরেক দিন বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ওই পুকুর পাড়ে বসে আছি, দেখি শরফু সসংকোচে এগিয়ে আসছে। কাছে এসে দাঁড়াতেই একটা লেবেঞ্চুস দিলাম। মিষ্টি হেসে কিছুক্ষণ কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ফিরে গেল সেই গাছের ছায়ায়। ...
ওই পোহাইল তিমির রাতি
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
একাত্তরের ৭ মার্চ। বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান থেকে যখন উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম', তখন সেই উত্তাল জনসমুদ্র থেকে সন্ধ্যাবেলায় আমরা কতিপয় বন্ধু ফিরে চলেছি আমাদের ডেরায় আর বসন্তের মৃদুমন্দ দখিনা বাতাস ছিল আমাদের সহযাত্রী। হৃদয়ে পুলক, আর ওই বাসন্তী বাতাসে পাচ্ছিলাম স্বাধীন দেশের অবাধ, অবিকৃত স্বাদ। কিন্তু সেই বাসন্তী বাতাস আমাদের স্বাধীনতার পরে আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসে। শুরু হয় রক্তক্ষরণের রাজনীতি। বড় দুর্দিন নেমে আসে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের জীবনে। ...
বাংলার বাতাসে সহজে নিঃশ্বাস নিতে পারা
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮৮)
কালের কন্ঠ
১০/০৮/২০১২
১৬ তারিখ রাতে যশোর রোডের ধারে একটা দোকানে বসে আমার রাজনৈতিক ধারাভাষ্য রেকর্ড করলাম। ইংরেজি ভাষায় সারা বিশ্বকে জানালাম আমরা স্বাধীন। তারপর সেই টেপটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে ওই ধারাভাষ্য প্রচারিত হলো। এরপর যশোর হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছ্বাস এবং পরশ নিয়ে সারা দেহ-মনে ফিরে এলাম কলকাতায়। তখনো শরণার্থীদের ঘরমুখী যাত্রা শুরু হয়নি। সাধারণ মানুষ তখনো বুঝে উঠতে পারেনি কী করবে? ভারত কিংবা বাংলাদেশ সরকার তখনো কোনো ...
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮৭)
তোমরা স্বাধীন!
উপ সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৩/০৮/২০১২
৯ নম্বর সেক্টর ঘুরে আরো পাঁচ-ছয়টি যুদ্ধ শেষে বেশ কিছু যুদ্ধ প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকার ধারণ করে আমি ফিরে এলাম আমাদের বেতার ভবনে। সেখানে ফিরে আসতে না আসতেই কবির ভাই বললেন, আমরা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। অচিরেই যদি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশে আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তাঁকে কয়েক মিনিটের নোটিশে মুজিবনগর সরকারের সব মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারীদের সঙ্গে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা যেতে হবে। এই মুহূর্তে আমার কর্তব্য কী, জিজ্ঞেস করাতে তিনি বললেন, আমি যেন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর পেছনে পেছনে যশোর রোড দিয়ে যশোরের দিকে যাই। পথে বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদ যখন স্বাধীন হবে, সেখানকার অধিবাসীদের সাক্ষাৎকার আমাকে ধারণ করতে হবে টেপরেকর্ডারে। তারপর সেগুলো প্রচার করতে হবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১। আমি আবার যুদ্ধক্ষেত্রের পথে পা বাড়ালাম। বেনাপোল পার হয়ে আমি বেশ কিছু গ্রামে আমার কাজ শেষ করে যশোর রোডের ওপর এসে দাঁড়িয়েছি। উদ্দেশ্য, ওই রাস্তা ধরে যশোরের দিকে যাব। স্থানটির নাম নাভারণ। ১৫ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের অপরাহ্ন পর্যন্ত আমি অক্লান্ত পরিশ্রম ...
বৃক্ষরাজিতে ঠিকানা এবং বৃক্ষ হননের মহোৎসব!
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
২৭/০৭/২০১২
আমরা, যারা হুমায়ূনকে জানি, যাদের ভালোবাসায় তিনি স্থান করে নিয়েছেন তাদের হৃদয়ে, তাদের প্রতি একটি আবেদন। যদি ইচ্ছা এবং ক্ষমতা থাকে, আমরা যেন অন্ততপক্ষে এই বর্ষায় একটি বৃক্ষ রোপণ করি তার পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশে। সেই বৃক্ষ যখন আস্তে আস্তে পূর্ণবয়স্ক হবে, আকাশছোঁয়ার ইচ্ছা হবে তার, তখন আমাদের ভাষা, আমাদের অভিব্যক্তি এবং সৃজনশীল চিন্তায় আমাদের এই ক্ষমতাও হুমায়ূনেরই মতো আকাশছোঁয়ার চেষ্টা করবে। শেষমেশ হুমায়ূন চলে গেল। ভেবেছিলাম, যে মানুষটি জীবনযুদ্ধে সবসময় জয়ী হয়েছে, হারেনি কখনও, সে এবারেও বিজয়ীর বেশে ফিরে ...
হুমায়ূন চলে গেলেন বারবার ফিরে আসার জন্য
উপ সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২২/০৭/২০১২
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি আমি হুমায়ূনের লেখা প্রথম পড়ি। প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' তখন বেরিয়েছে। পড়লাম 'শঙ্খনীল কারাগার'ও। বিস্মিত হয়ে যাই উপন্যাস দুটো পড়ে। স্বাধীন বাংলাদেশে এত বড় মাপের লেখক আছেন! এই আবিষ্কারের মাধ্যমে আমার প্রত্যয় জন্মেছিল, স্বাধীনতার নির্যাস তাতে প্রতিফলিত হয়েছে। হুমায়ূনের আবির্ভাব দেখে মনে আসছিল স্বাধীনতা লাভের পরপর দেখা কিছু দৃশ্যের কথা। যুদ্ধশেষে যখন দেশে ফিরছিলাম, তখন দেখেছি গ্রামের গণমানুষ ভেঙে যাওয়া রাস্তা ও সেতু নিজ হাতে মেরামত করছে। ...
মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮২)
কালের কন্ঠ
২৯/০৬/২০১২
কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের উৎপত্তি আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু এভিনিউ থেকে। তারপর কিছুদূর গিয়ে বাঁয়ে মোড় নিয়ে গিয়ে অন্তে পেঁৗছেছে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে। এই পথ প্রদক্ষিণ করার সময় বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ডানে পড়ে রাওল্যান্ড রো, বাঁয়ে গুরুসদয় দত্ত রোড, তারপর রেনি পার্ক। একেবারে নাক বরাবর চলে গেলে রিচি রোড আর বাঁয়ে মোড় নিয়ে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির দিকে গেলে ডানে একদিকে ডোভার রোড, অন্যদিকে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডেরই একটি কানাগলি। এই কানাগলিটি ১০০ ফুটের মতো গিয়ে ডান দিকে মোড় নিয়ে কিছুদূর গিয়ে ...
কুশিক্ষার পঙ্কিল আবর্ত থেকে আকাশের আলোয় চাওয়া!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২২/০৬/২০১২
কেবল যে উদ্ভিদ উদ্যানেই এই ধরনের অরাজক ব্যবস্থা চলছে, তা নয়। আমার কেন যেন ধারণা, আমাদের আজকের বেশিরভাগ তরুণের শিক্ষা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তারা প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য কিংবা তার নন্দনতত্ত্ব সম্বন্ধে আদৌ আগ্রহী নয় এখন। হায়-হুলস্থূল করে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারলেই হলো। আমার মনে আছে, একবার আমি এবং প্রয়াত নওয়াজেশ আহমেদ পাহাড়পুরের স্তূপ দেখতে গিয়েছিলাম, আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে। সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রছাত্রী এসেছিল বনভোজনে। তাদের মধ্যে দু'জন যুবক ওই ক্ষুদ্রায়তন পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় উঠে উৎকট শব্দে ...
শুষ্ক কানন শাখে ক্লান্ত কপোত ডাকে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৫/০৫/২০১২
এই যে অপরিকল্পিতভাবে উঁচু সব দালান তৈরি হচ্ছে, এর কারণে শহরের তাপও বন্দি হয়ে থাকছে একেকটি এলাকায়। আমাদের বাল্যকালে দেখেছি, এই ঢাকা শহরেই, দিনের বেলা গরম যত বেশিই হোক না কেন, সন্ধ্যার পর আস্তে আস্তে চারপাশ ঠাণ্ডা হতে থাকে। আমার তো স্পষ্টই মনে আছে, আমাদের পরিবারের সবাই আমাদের পড়াশোনা এবং সবার খাওয়া-দাওয়ার পর ছাতে আশ্রয় নিতাম। সেখানে ঠাণ্ডা হয়ে তারপর যার যার শোবার ঘরে চলে আসতাম। কিন্তু এখন দিনে যে তাপ সঞ্চারিত হয়, সেটি উঁচু উঁচু ভবনের মাঝখানে আটকে ...
সময় এসেছে একটু ভাবার
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৬/০৪/২০১২
এখন প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে, আজকে কেন এত অসহনীয় মনে হয় সবকিছু? এর কারণ কি এই যে, জীবন আমাদের আজ অনেক বেশি অসহনীয় হয়ে পড়েছে অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য, যা আমাদের বিদ্যুৎহীনতা, গ্যাস এবং পানির স্বল্পতার জন্য দায়ী। আমরা সুরম্য ভবন তৈরি করছি, হনন করছি আমাদের সবুজ নিসর্গকে। অবলীলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বায়ু, পানি এবং আবহাওয়া দূষণ এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের জীবনের মান হুহু করে পড়ে যাচ্ছে নিচে। সময় এসেছে একটু ভাবার, কী করে আমাদের উত্তরণ ঘটতে পারে সার্বিকভাবে ...
দিনে দিনে বড় জমিয়াছে দেনা...
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৩/০৩/২০১২
আমরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে একটি এমন অরাজক অবস্থা অবলোকন করি, যেখান থেকে মুক্তির কোনো উপায় আছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় না। আইন আছে, কিন্তু কেউ আইন মানে না। সমাজ ব্যবস্থা আছে, কিন্তু কেউ সামাজিক অনুশাসন মেনে চলে না। চোখ আছে কিন্তু চোখের কোনো চামড়া নেই। কী এক অদ্ভুত আঁধার গ্রাস করেছে আমাদের সমাজকে। আজ আমাদের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বড় দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে এই কথাগুলো বলতে হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষা ধার করে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে, 'ওই যে দাঁড়ায়ে নতশির/মূক সবে, ম্লান মুখে ...
সাংঘর্ষিক রাজনীতি এড়াতে হলে কিছু মৌলিক বিষয়ে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৩/০২/২০১২
কিছু মূল্যবোধ, কিছু আদর্শের ওপর নির্ভর করেই এই দেশটির স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১-এ সব মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই আদর্শ ছিল যে, এই দেশ হবে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী, গণতান্ত্রিক এবং আবহমান বাঙালির চেতনাসমৃদ্ধ। এসবই হচ্ছে আমাদের জন্মলগ্ন থেকে ধারণ করা কতগুলো মৌলিক বিষয়। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যে পেঁৗছাতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা পরীক্ষা করে দেখতে পারব এই দেশের অগ্রাভিযানে কাদের প্রস্তাবিত ব্যবস্থা বেশি গ্রহণযোগ্য আজকাল বিভিন্ন আলোচনা কিংবা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কথামালার প্রদর্শনীতে রাজনীতি নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হয়ে থাকে। বাঙালিরা তো সবসময়ই ...
বিশ্বকাপের দ্বারোদ্ঘাটন বাংলাদেশে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৮/০২/২০১১
যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছিল, সেই চেতনারই পুনঃপ্রতিষ্ঠা আজ বাংলাদেশকে যোগ্য করে তুলেছে যে কোনো সুবৃহৎ, বিশ্বমানের সম্মিলন আয়োজন করার উপযুক্ত একটি রাষ্ট্র হিসেবে। তাহলে বিশ্বকাপের দ্বারোদ্ঘাটন হলো আমাদেরই বাংলাদেশে...! সম্প্রতি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিবিসি দু'বার আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করল। একবার বিবিসি ওয়ার্ল্ড রেডিও এশিয়ার জন্য, আরেকবার বিবিসি টেলিভিশনের জন্য। পাঠক ভুল বুঝবেন না। আমাকে ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো বিশেষ প্রশ্ন করা হয়নি। কেননা ক্রিকেটের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দিন আগেই চুকেবুকে গেছে এবং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার কোনো ...
ঢাকা ছিল সুন্দর ছিমছাম শহর
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-১০)
কালের কণ্ঠ
২৮/০১/২০১১
কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এসে নতুন বন্ধু-বান্ধব পেয়ে বেশ আনন্দে ছিলাম। আমরা ছিলাম অভয় দাস লেনে। আমার খালু জামালউদ্দিন আহমদ খান। তাঁরই বড় ভাই কামালউদ্দিন আহমদ খান এবং তাঁর পরিবার-পরিজন থাকতেন পাশের আবাসিক পাড়া তারাবাগে। কামাল চাচার স্ত্রী ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল। সুফিয়া খালাম্মাকে আমরা সবাই তখন চাচি বলেই সম্বোধন করতাম। তিনি তখনই আমাদের দেশের একজন স্বনামধন্য কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেন। পরে তিনি তাঁর মানবিক গুণাবলি, স্পষ্টবাদিতা এবং আপসহীনতার জন্য হয়ে ওঠেন আমাদের বিবেক এবং গোটা জাতির খালাম্মা। ...
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার হৈচৈ এবং ক্ষুদ্রজনের নিবে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৮/০১/২০১১
আমাদের যেমন বিশ্বায়নের এই বাস্তবতাকে নিদ্বর্িধায় মেনে নিতে হবে, ঠিক তেমনি কোন মূল্যে এই বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা যুক্ত হচ্ছি, সেটিও হিসাব করে দেখতে হবে। আজকাল যে কেউ সামান্য পড়াশোনা করেছেন কিংবা দু'চার লাইন লিখতে পারেন, তিনি কথায় কথায় বিশ্বায়ন শব্দটি নিয়ে সরব হন। লক্ষণটি সাধু। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। অতএব দরজা-জানালা খোলা রাখা দরকার। বিশ্বের তাবৎ মানুষ আমরা একে অন্যের গলা জড়িয়ে ধরে আহ্লাদে আটখানা হয়ে যাব_ ধারণাটি এমতো বটে, কিন্তু কাজটি অত সহজ নয়। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ...
কৈশোর শুরু হয় ঢাকায়
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮)
কালের কণ্ঠ
২১/০১/২০১১
আমার দিদির বিয়ের সময় তাঁকে কাঁদতে দেখেছিলাম। কুমিল্লায় থাকতে আমার দিদির ননদ রওশন আপার বিয়েও দেখেছি। বিয়ের দিন বিদায়ের সময় রওশন আপাও অঝোরে কেঁদেছিলেন। তখন থেকেই বিয়ের প্রতি আমার একটা বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হয়। আমার মনে হতো, বিয়ে মানেই মেয়েদের বাড়ি ছেড়ে, আপনজনদের ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া। এই যে ধারণাটি জন্মেছিল আমার মনে সেই বাল্যকালে, তা এখনো আমার মনের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। ...
শিশুমনে ১৯৫২ সাল
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৫)
দৈনিক প্রথম আলো
২৪/১২/২০১০
১৯৫২ সাল। এর তাৎপর্য অনুধাবন করার মতো বয়স তখনো আমার হয়নি। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেদিন গুলি চলল, সেদিন বাবা অফিস থেকে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে এলেন না। মা একটা টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার পাঠিয়ে দিলেন। ওই দিন সন্ধ্যাবেলায় বাবার পিয়ন সিরাজ ভাইয়ের কাছে শুনলাম যে ঢাকায় বাংলাভাষা নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছে। গুলি চলেছে। অনেক ছাত্র মারা গেছে। তারপর সিরাজ ভাই আমাকে সাবধান করে দিলেন এ কথা যেন বাবাকে না বলি। এখানে বলে রাখা ভালো যে আমার বাবা মুসলিম লীগকে সমর্থন করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে পাকিস্তান না হলে এই উপমহাদেশের সব মুসলমানের জন্য চরম বিপদ। ...
সহজ কথা যায় না বলা সহজে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৫/১০/২০১০
সবশেষে বিরোধী দলকে বলতে চাই, আপনাদের একটি বড় দল আছে। দল বড় হলে তার অনেক সমর্থক থাকে এবং এই সমর্থকরা সাধারণ গণমানুষ। অতএব আপনারা গণমানুষের স্বার্থে বিরোধী দল হিসেবে নিজ ভূমিকা পালন করুন। অনেক বড় বড় ইস্যু আছে, যা নিয়ে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যায় আমি আমার এই কলামেই এর আগে একাধিকবার বলেছি, এমন কোনো মানুষ নেই যার রাজনীতি নেই। প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো কারণে সব বিষয়ে অথবা কিছু বিষয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা আছে। প্রসঙ্গত, আমি এ-ও বলেছি ...
একটি বিদেশি ছবি দেখে : স্বদেশের জন্য চোখ ভিজে আস
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০১/১০/২০১০
আমাদেরই এ সমাজে ছিল তো সবই! সংবেদনশীলতা ছিল, স্পর্শকাতরতা ছিল, ছিল বোধ, ছিল ভালোবাসা, আমাদের আবহমানকালের শুদ্ধ সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে ভাগাড়ে নিক্ষেপ করেছি তো আমরাই। আর আমাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আমাদের গণমাধ্যম! যাদের কৃপায় আমাদের শিল্পকর্ম লঘু হতে হতে এমন এক নিশ্ছিদ্র অন্ধকার গহ্বরে পতিত হয়েছে যে, আমরা আর উন্নত সংস্কৃতির মানুষ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছি না সম্প্রতি একটা ইংরেজি ছবি দেখলাম। এইচবিও চ্যানেলে। নাম দ্য সোলোইস্ট। একজন ধ্রুপদী চেলো বাদকের এবং লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক কলামিস্টের সম্পর্কের ওপরে ...
একবার ভাবুন তাদের কথা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৪/০৯/২০১০
আমাদের রাজনীতিবিদ, যারা দেশের জনগণের দোহাই দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন, তাদের একমাত্র কর্তব্য যেন দেশে একটি সত্যিকার অর্থে বস্তুনিষ্ঠ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, নির্বাচনের পরে আমাদের রাজনীতিবিদরা তাদের এ দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে যান যারা আপনাকে পাঠালো এখানে, তাদের কথা একবার ভাববেন দয়া করে? আমি আপনাকেই বলছি। আপনি, যিনি আপনার এলাকার জনগণের কাছে প্রতিবারই অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে, অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে, অনেক ভালো ভালো এবং বড় বড় কথা বলে আজ এই ...
নদীপথই হতে পারত আমাদের যাতায়াতের মুখ্য পথ
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৩/০৯/২০১০
বিশেষজ্ঞের মন্তব্যের সঙ্গে একমত হলে নদীপথই হতে পারত আমাদের যাতায়াতের মুখ্য পথ। সে পথে দ্রুত যাতায়াত করার জন্য আমরা ওয়াটার বাসের মতো আরও উপায় উদ্ভাবন করতাম কক্সবাজারে যাচ্ছিলাম একটি নাটকের রেকর্ডিংয়ে। তখন ভরা বর্ষাকাল। যাচ্ছিলাম গাড়িতে। ঢাকা থেকে রওনা হতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। চট্টগ্রাম শহর ছাড়িয়ে কক্সবাজারের রাস্তায় যখন পড়লাম তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম থেকেই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। পটিয়া ছাড়াতে না ছাড়াতে তা নামল মুষলধারায়। ওই দুর্যোগের রাতে রাস্তার পাশের দোকানিরা তাদের দোকানপাটের ঝাপ ফেলে দিয়েছে। কোথাও একফোঁটা আলো দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টির তোড় এতই তীব্র যে, গাড়ির হেডলাইটে দশ ফুট দূরের কোনো কিছুও দেখা যাচ্ছে না। এমন একটি মহাদুর্যোগময় রাতে বিচক্ষণ কাজ হয় গাড়িকে যদি রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে বৃষ্টির প্রচণ্ডতা কমার জন্য আমরা অপেক্ষা করি। ...
এই রক্তের ঋণ শুধতে হবেই!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৩/০৮/২০১০
আমরা যখন কলেজের পড়া শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলাম তখন দুটি সম্পূর্ণ অপরিচিত বিষয় আমাদের নজরে আসে। বিশেষ করে আমার। প্রথমত, আমি আজীবন কেবল ছেলেদের স্কুল এবং কলেজে পড়াশোনা করে ইউনিভার্সিটিতে এসেছি। এখানে এসেই সহপাঠী হিসেবে পেলাম অনেক মেয়েকে। এই অভিজ্ঞতাটি একেবারেই নতুন। অতএব, শুরুতেই একটা ধাক্কা খেলাম। একই ঘরে সহপাঠিনীদের সঙ্গে বসে ক্লাস করতে যে খুব খারাপ লাগত, সেটা বলব না। তারুণ্যের এক ধরনের রোমাঞ্চ তো ছিলই। তবে ঋজু হয়ে দাঁড়িয়ে অধ্যাপকের প্রশ্নের জবাব দিতে কুণ্ঠাবোধ হতো। যদি ভুল হয়? একগাদা মেয়ের সামনে চরম অপমান হতে হবে তবে। আরও একটি বিষয় এই প্রথম আবিষ্কার করলাম যে, ছাত্ররাজনীতি বলেও একটি বিষয় আছে। আমাদের সময় ছাত্ররা মূলত তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। ডানপন্থি, মধ্যমপন্থি এবং বামপন্থি। ডানপন্থি ছাত্ররা সাধারণত তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ধ্বজাবাহী ছিল এবং বাঙালিদের স্বার্থের বিরুদ্ধাচরণ করত। এছাড়াও এরা পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি প্রয়োজনের অধিক সদয় ছিল। ...
ভুভুজেলা, ডুগডুগি ও ক্যারক্যারি সমাচার
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
৩০/০৭/২০১০
অবশেষে ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হলো। বেশ কিছুদিন প্রায় আচ্ছন্নের মতো ছিলাম। ব্রাজিল, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, ঘানা, নেদারল্যান্ডস। নামগুলো সবসময়ই মাথার ভেতর ঘোরাঘুরি করত। এখন, সময়ের ফেরে মাথার ভেতরটা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে আসছে। তবু মাঝে মধ্যেই বন্ধু-বান্ধবরা একজায়গায় হলে বিশ্বকাপ ফিরে আসে বৈকি! এবার অবশ্য আমাদের দেশে বিশ্বকাপ শেষে খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। এর প্রধান কারণ, এবার বাংলাদেশের পছন্দের দুটি দলের একটিও ফাইনাল খেলতে পারেনি। এই দল দুটি হলো আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল। বেশিরভাগ ফুটবল-পাগল মানুষ কল্পনাই করতে পারেনি যে, এ দুটি দলের একটিও এবার ফাইনাল খেলবে না। এই দলের অনেক সমর্থককে হতাশ করে দিয়ে যখন এরা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ল, তখন অনেকে কান্নাকাটি করলেন, অনেক বাড়িতে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। আবার এমনও শুনেছি, এর কোনো একটি দলের সমর্থক তার দল হেরে যাওয়ায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। আর্জেন্টিনার এক কিশোর দর্শক তো এক মারাত্মক কাজ করে বসেছিল। ...
চোখ ভিজে আসে : চোখ ভেসে যায়!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৯/০৭/২০১০
আকাশ থেকে এ দেশ দেখেছি কি আমরা? দেখে কি মনে হয়েছে আমাদের? মনে পড়ে, একবার বিদেশ থেকে ফিরছিলাম দেশে। উড়োজাহাজে। পাশে বসেছিলেন এক শ্বেতাঙ্গিনী। এই প্রথম তিনি বাংলাদেশে আসছিলেন। বড় মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে ছিলেন নিচের দিকে। এই প্রথম একটা নতুন দেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ। ওপর থেকে পাখির দৃষ্টি দিয়ে জরিপ করে নিতে চাইছিলেন যেন। বুঝতে চাইছিলেন দেশটি কেমন? আমি জানি যে, ধরাছোঁয়ার বাইরে অত ওপরে বিমানের অভ্যন্তরে চাপ নিয়ন্ত্রিত তাপানুকূল পরিবেশে বসে কোনো দেশ সম্পর্কে ধারণা করা প্রায় অসম্ভব। তবুও কথায় আছে, প্রথম দেখাই প্রায় অনপনেয় ছবি আঁকে। তো সহযাত্রিনীটি হঠাৎ অস্ফুটে বলে উঠলেন, 'এ কী? এ যে সমুদ্রের মধ্যে নামতে যাচ্ছি? দেশ কোথায়?' আমি মনে মনে হাসি। রবাহূত হয়ে কথা বলাটা এক ধরনের অভদ্রতা জানি, তবুও এক বিদেশি ভদ্রমহিলা একটা ভুল ধারণা নিয়ে আমার দেশে প্রবেশ করবেন তাই তার ধারণাকে শুধরে দিয়ে বলি, 'এটা বর্ষার মৌসুম তো, তাই একটু বেশি পানি দেখা যাচ্ছে। ...
যার যা প্রাপ্য
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৮/০৬/২০১০
আমি রাজনীতি নিয়ে লিখি না। রাজনীতি বুঝি না, তা নয়। তবে এ বিষয়ে লিখি না। কারণ আমাদের দেশের ঘোলা জলকে আরও ঘোলা করার ইচ্ছে আমার নেই। আর তাছাড়া আমাদের অভ্যাসটাই এমন যে, আমি যে কোনো দলের মানুষের একটি ভালো কাজকে প্রশংসা করলে কিংবা খারাপ কাজকে নিন্দা করলে আমাকে কোনো না কোনো পার্টির সিল লাগিয়ে দেওয়া হবে। তবুও আমি মনে করি, আমাদের নিজেদের কল্যাণের স্বার্থে মনের কথা খুলে বলা দরকার। বিশেষ করে তাদের যারা ক্ষমতার প্রতি প্রলুব্ধ নয়। প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও আমার নিজস্ব একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস আমার বোধের সঙ্গেই সম্পৃক্ত আছে। তা না হলে আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারতাম না। ...
যার যা প্রাপ্য
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৮/০৬/২০১০
আমি রাজনীতি নিয়ে লিখি না। রাজনীতি বুঝি না, তা নয়। তবে এ বিষয়ে লিখি না। কারণ আমাদের দেশের ঘোলা জলকে আরও ঘোলা করার ইচ্ছে আমার নেই। আর তাছাড়া আমাদের অভ্যাসটাই এমন যে, আমি যে কোনো দলের মানুষের একটি ভালো কাজকে প্রশংসা করলে কিংবা খারাপ কাজকে নিন্দা করলে আমাকে কোনো না কোনো পার্টির সিল লাগিয়ে দেওয়া হবে। তবুও আমি মনে করি, আমাদের নিজেদের কল্যাণের স্বার্থে মনের কথা খুলে বলা দরকার। বিশেষ করে তাদের যারা ক্ষমতার প্রতি প্রলুব্ধ নয়। প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও আমার নিজস্ব একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস আমার বোধের সঙ্গেই সম্পৃক্ত আছে। তা না হলে আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারতাম না। আমি বিশ্বাসী আমার ভাষায়, আমার সংস্কৃতিতে, আমার জাতিসত্তায়, আমার স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং সর্বোপরি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে। ...
'এ আমার এ তোমার পাপ'
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১০/০৬/২০১০
কলাবাগান অঞ্চলে আমার বাবা এবং তার বল্পুব্দরা মিলে প্রত্যেকে এক বিঘা করে জায়গা কিনেছিলেন। বাবাকে বলতে শুনেছি, বল্পুব্দরা কিনেছে তাই। থাকুক পড়ে। জমির দাম তো বাড়তেই থাকে। সেটা ছিল উনিশশ' চুয়ান্ন। শুনেছি তখন ওই এলাকায় জমির দাম ছিল বিঘাপ্রতি দেড় হাজার টাকা। আজ শুনলে হাসি পায়। কলাবাগান তখন ছিল শহরের ভেতরে গ্রাম। মনে আছে প্রচুর কাঁঠাল গাছ ছিল ওই জায়গায়। মাঝে মধ্যে দু'একটা মাটির ঘর। প্রচুর পাখি। আর দিন পড়ে এলে শুরু হতো শিয়ালের ঐকতান। ওই জমিতে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। বাবার সঙ্গে আমরা সবাই মিরপুর রোডে গাড়ি রেখে ধানের ক্ষেতের মাঝের আলপথ দিয়ে হেঁটে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের ওই জমিতে যেতাম। ...
নিসর্গেরও সহ্যের আছে সীমা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২১/০৫/২০১০
'এসো শ্যামল সুন্দর/আনো তব তাপহারা তৃষাহারা সঙ্গসুধা।' বেজে চলে রবীন্দ্রসঙ্গীত। উদাত্ত, দ্বিধাহীন কণ্ঠস্বর। আমার প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠ নিসৃত সুরের সুধা ঘুরে বেড়ায় ঘরময়। মিতা হক গেয়ে চলে, 'বকুলমুকুল রেখেছে গাঁথিয়া/বাজিছে অঙ্গনে মিলনবাঁশরি/আনো সাথে তোমার মন্দিরা/চঞ্চল নৃত্যের বাজিবে ছন্দে সে।' আমি মাথার ওপর প্রচণ্ড দুর্যোগের অবিরাম তাণ্ডবের মাঝেও আনমনা হয়ে যাই। শেষ বসন্তের কোনো এক রাত্রির মধ্যযামে, প্রায় অকুল পাথারে নিঃসঙ্গ বসে এক টিনের ছাদওয়ালা মাটির বাড়ির ভেতরে একা আমি। আমার প্রধান সঙ্গী ওই বাড়ির শিয়রে দাঁড়ানো এক বিশাল শিরীষ গাছ। এখন, এই মুহূর্তে শিরীষ গাছটি দাঁড়িয়ে নেই। এই অকালে বয়ে যাওয়া ঝড়ের দাপটে নুয়ে যাচ্ছে মাঝে মধ্যে। এই বুঝি ছুঁয়ে ফেলে টিনের চাল। আবার সদম্ভে উঠে যাচ্ছে দাঁড়িয়ে। আরও ছোটখাটো বৃক্ষ আছে ঘরটির চারপাশে। আম, কাঁঠাল, জলপাই, চাঁপা, মহুয়া, বকুল, নাগকেশর, জারুল। কিন্তু ওরা এখনও কৈশোর উত্তীর্ণ হয়নি। অতএব এই অস্থির, উন্মত্ত রাতে ওদের অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে না। কেবল ঝড়ের সঙ্গে শিরীষের লড়াই, বুঝতে পারছি, জমেছে বেশ। ...
একটি চলচ্চিত্র উৎসব ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
৩০/০৪/২০১০
অতিসম্প্রতি ঢাকার বাইরে একটি ছোট শহরে গিয়েছিলাম। সেখানে বাচ্চাদের জন্য আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করতে বলা হয়েছিল আমাকে। নানা কাজের ঝামেলায় প্রথম থেকে ঠিক করিনি, আমি উদ্বোধনের পর কী বলব। নানা ধরনের কাজে আমার ব্যস্ততা এত বেশি যে, অনেক সময় এ রকম হয়, আগে থেকে চিন্তা করে গুছিয়ে নিতে পারি না আমার বক্তব্য। তবে আমার একটা সুবিধা আছে। যে বিষয়গুলো আমি জানি অথবা যে মানুষগুলোকে আমি চিনি, তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বলে যেতে পারি এবং এই বলাটা খুব একটা অর্থহীন হয় না বোধহয়। কেননা আমি অলিখিত বক্তৃতায় একটা যুক্তিপূর্ণ প্রবাহের তালিকা আগে থেকেই ঠিক করে নিই এবং দেখেছি যে, তখন কথা থেকে কথায় আমি অনায়াসে গড়িয়ে যেতে পারি। ...
মানুষ তৈয়ার কর বাহে, মানুষ তৈয়ার!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৯/০৪/২০১০
আমার গত সপ্তাহের কলামে আমি এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত যে বিষয়গুলো, তার ওপর কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করেছিলাম। এগুলো আমাদের সবারই জানা। প্রধান সমস্যা তিনটি যদি চিহ্নিত করতে হয়, তাহলে অবধারিতভাবে চলে আসবে বিদ্যুৎ ঘাটতি, পানির সমস্যা এবং আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা। আমি বলেছিলাম, এই সমস্যাগুলো বছরের পর বছর নানাবিধ অব্যবস্থার ফলে পুঞ্জীভূত মেঘের মতো গাঢ় বিপদসংকুল, সর্বব্যাপী এবং সর্বগ্রাসী হয়ে আমাদের জীবনে দেখা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে পরবর্তী সরকারগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবল নিজেদের আখের গোছাতে ব্যতিব্যস্ত ছিল। কখনও দেশ কিংবা জাতি সম্পর্কে ভবিষ্যতের দিকে চোখ রেখে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। নব্বই দশকের শুরুতে কোনো একসময় তৎকালীন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কথায় কথায় আমাকে বলেছিলেন, আমাদের দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর এমন বেহাল দশা যে, অচিরেই এগুলোর প্রতি নজর না দিলে যে কোনো সময় গোটা বাংলাদেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে। ...
তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০২/০৪/২০১০
ওপরের চরণটি রবীন্দ্রনাথের একটি গানের। কথাটি বলার আগে আমি বারবার গীতবিতান দেখে নিয়েছি। কেননা আমার গত কলামে আমি একটা ভুল করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, 'প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য' গানটির কথা সুকান্তের রচনা। সঠিক তথ্য হলো, এটি কবিতা আকারে লিখেছিলেন বাংলার অন্যতম অগ্রণী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। এই ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কবি কায়েসুল হকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি ফোন করে আমায় এই ভুলটির কথা বলেছিলেন এবং আমি তৎক্ষণাৎ স্বীকার করে নিয়েছিলাম। স্বীকার করে নিয়েছিলাম এই কারণে যে, সুভাষ দা'র এই কবিতার সঙ্গে আমাদের তারুণ্য থেকেই বসবাস। এই কবিতাটির এক অনবদ্য সুর রচনা করেছিলেন আমাদের দেশের এক প্রধান সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার প্রয়াত শেখ লুৎফর রহমান। লুৎফর ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের বয়সের বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তার একটি পা অকেজো থাকায় ক্র্যাচ নির্ভর করে হাঁটতেন। ...
চাই সাহসী পথপ্রদর্শক
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৯/০৩/২০১০
সাম্প্রতিককালের দেশ-ভাবনা স্বভাবতই আমাদেরকে আমাদের সার্বিক শিক্ষা এবং চিন্তাচেতনার দীনতা সম্পর্কে শঙ্কিত করে। আমি এ বিষয়ে যেমন বিভিন্ন জায়গায় বলার চেষ্টা করেছি, তেমনি আমার লেখালেখিতেও উল্লেখ করেছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি সংশিল্গষ্ট সব বিষয়ে একটা খরা দেখা দিয়েছে। একধরনের ধস নেমেছে। আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি তাহলে দেখব, আমাদের তরুণ সম্প্রদায়ের অনেকেই গড্ডলিকাপ্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। কোনোরকম কিছু নিয়েই চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করে না। এই সেদিন আমাদের এক তরুণ চিত্রশিল্পীকে তারই কথার জের ধরে জিজ্ঞেস করেছিলাম রবীন্দ্রনাথের 'যেতে নাহি দিব' কবিতাটি সে পড়েছে কি-না। প্রসঙ্গ ছিল আমাদের জীবনে অনেকেই কিছু ত্যাগ করতে না চাইলেও অনেক কিছু ত্যাগ করতেই হয় এবং সেজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা দরকার। ...
তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০২/০৩/২০১০
ওপরের চরণটি রবীন্দ্রনাথের একটি গানের। কথাটি বলার আগে আমি বারবার গীতবিতান দেখে নিয়েছি। কেননা আমার গত কলামে আমি একটা ভুল করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, 'প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য' গানটির কথা সুকান্তের রচনা। সঠিক তথ্য হলো, এটি কবিতা আকারে লিখেছিলেন বাংলার অন্যতম অগ্রণী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। এই ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কবি কায়েসুল হকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি ফোন করে আমায় এই ভুলটির কথা বলেছিলেন এবং আমি তৎক্ষণাৎ স্বীকার করে নিয়েছিলাম। স্বীকার করে নিয়েছিলাম এই কারণে যে, সুভাষ দা'র এই কবিতার সঙ্গে আমাদের তারুণ্য থেকেই বসবাস। এই কবিতাটির এক অনবদ্য সুর রচনা করেছিলেন আমাদের দেশের এক প্রধান সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার প্রয়াত শেখ লুৎফর রহমান। লুৎফর ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের বয়সের বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তার একটি পা অকেজো থাকায় ক্র্যাচ নির্ভর করে হাঁটতেন। রিকশা করে সুদূর ফরাশগঞ্জ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছায়ানট স্কুলে আসতেন, গান শেখাতেন। ...
'বড় বেদনার মত'
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৬/০২/২০১০
আজ এই বসন্তের সকালে আমার পড়ার ঘরের টেবিলে বসে ছিলাম। বাইরের আকাশের দিকে দৃষ্টি ছিল নিবদ্ধ। দেখছিলাম এই বৃষ্টিহীন বাংলার বসন্ত তার উদারতা নিয়ে ঠিকই তার নিজস্ব কাজ করে যাচ্ছে। আমের বোল দুলছে সামনের আমগাছগুলোতে, অশ্বত্থ মেলেছে নতুন পাতা। এমনকি আমার জানালার ওপাশে রাখা পাতাবাহারেও যেন অনেক বেশি বর্ণময় হয়ে উঠেছে বসন্তের আগমনে। মৃদুমন্দ হাওয়া বইছিল। খুবই উপযুক্ত সময় ছিল এই সকালে নানাবিধ সৃজনশীল লেখালেখি করার। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে রবীন্দ্রনাথের একটি গানের কয়েকটি চরণ ঘুরে ঘুরে আসছিল আমার মনে। উত্ত্যক্ত করছিল আমাকে। 'বড় বেদনার মত বেজেছো তুমি হে আমার প্রাণে, মন যে কেমন করে মনে মনে তাহা মনই জানে ...
শীত শেষের এই উজ্জ্বল সকালে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৯/০১/২০১০
আজকের সকালটা কি ভিন্ন? আজ আটাশে জানুয়ারির কুয়াশাভাঙা রোদ্দুরমাখা এই প্রত্যুষ? এ তো সেই সকালই যা কালকে ছিল? আবার আসবে হয়তো আগামী দিন? তবে কেন রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি গানের চরণ বারবার মনে আসছে? কণ্ঠে সুর নেই তবু গলা ছেড়ে দিয়ে গাইতে ইচ্ছে করে, 'নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার।' আবার ইচ্ছে হয় আবৃত্তি করি, 'ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে, মোদের ততই বাঁধন টুটবে।' ফিরে যাই আজ থেকে চার দশক আগে। তখন টগবগে তরুণ আমরা। চোখে স্বপ্ন, মনে প্রত্যয়। সেই বাল্যকাল থেকে যা শিখেছি, শিক্ষক, অভিভাবক, গ্রন্থ এবং প্রবচন যা শিখিয়েছে, সেরকম সুস্থ সুন্দর একটি জীবনের সূচনালগ্নে আমরা উপস্থিত আজ। ...
কল্পিত শত্রুর সঙ্গে আর ছায়াযুদ্ধ নয়
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৫/০১/২০১০
দেখতে দেখতে ২০০৯ বিদায় জানাল আমাদের। আরও একটা বছর হারিয়ে গেল কালের গর্ভে। যখন বছরগুলো চলে যায়, তখন মনটা একটু খারাপ হয়ে যায় বৈকি। প্রতি বছরের শেষে এই জন্য মন খারাপ হয় যে, আরও এক বছর খসে পড়ল জীবন থেকে। কিন্তু পরমুহূর্তেই এই মানসিকতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করি। ভাবি, পুরনোকে তো বিদায় দিতে হবেই। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, 'যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি'। মনটা আরও উৎফুল্ল হয় যখন দেখি তরুণতর মানুষগুলোকে। কী আনন্দে তারা যেন গেয়ে ওঠে, 'নব আনন্দে জাগো আজি, নব রবি কিরণে'_ এও সেই রবীন্দ্রনাথেরই ভাষায়। মানুষ বোধহয় এ আশাতেই বেঁচে থাকে, বুক বাঁধে। ...
সমকালকে অভিনন্দন
উপ-সম্পাদকীয়
সমকাল
৩১ মে, ২০১৩
আজ সমকালের জন্মদিন। অভিনন্দন সমকালকে। আশা করি দৈনিক সমকাল পত্রপুষ্পে পল্লবিত হয়ে শতায়ু, দ্বিশতায়ু এবং অনাদিকাল পর্যন্ত বাংলার পাঠকদের সুরুচিসম্পন্ন, বস্তুনিষ্ঠ, ভাবনাব্যঞ্জক, কল্যাণকামী সংবাদ, তথ্য, বিনোদন পরিবেশন করে যাবে। বছর কয়েক আগে কোনো একটি বাংলা দৈনিকের জন্ম উপলক্ষে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিছু বলার জন্য। সেই পত্রিকার তখনকার প্রিয় স্লোগান ছিল যে, তারা নিরপেক্ষ। আমি এই নিরপেক্ষতার বিষয়েই কিছু বলেছিলাম, যা আজ এই মুহূর্তে মনে পড়ছে। আমি বলেছিলাম, নিরপেক্ষ কথাটি বড় সহজ কথা নয়। আমরা কয়জন বুকে হাত দিয়ে ...
রবীন্দ্রনাথ : শাশ্বত সখা আমাদের
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৮ মে, ২০১৩
১৯৭১ সাল। আমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে কিছু বিদেশি সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে কলকাতার অদূরে সল্টলেক এলাকায় শরণার্থী শিবিরগুলো দেখতে গিয়েছিলাম। আমার কাজ ছিল মূলত দোভাষীর দায়িত্ব পালন করা। কাজ শেষে অতিথিদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আমি শরণার্থী শিবিরে আরো কিছুক্ষণ থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এর পেছনে যে কারণটি কাজ করেছিল, তা হলো, প্রয়াত রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদুল হক এবং সন্জীদা খাতুনের নেতৃত্বে সংগঠিত মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা ওই দিন অপরাহ্নে শরণার্থী শিবিরে তাদের বিখ্যাত রূপান্তরের গান অনুষ্ঠানটি ...
ফিরে যাই সেই শৈশবে
উপ-সম্পাদকীয়
সমকাল
২০ এপ্রিল, ২০১৩
বৈশাখেই যাত্রা শুরু হয় আমাদের। আমি নাগরিক, আধুনিক এবং সাহেব বাঙালির কথা বলছি না। আমি বলছি সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির কথা বা বাংলাদেশবাসীর কথা, যাদের অধিবাস গ্রামগঞ্জে, জনপদে। চৈত্রের শেষে যখন কাঠফাটা গরম পড়ে, যখন আমাদের সকলের প্রাণ আইঢাই, তখন তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন বৈশাখের। যদিও বৈশাখই গ্রীষ্মের শুরু, আনুষ্ঠানিকভাবে, তবুও বৈশাখ এলেই আমরা মেঘের আনাগোনা দেখতে পাই আকাশে আকাশে। মনে পড়ে দীর্ঘদিন আগে যখন রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে আমি ও আরও কতিপয় বন্ধু রাত জেগে মঞ্চ নির্মাণে ব্যতিব্যস্ত থাকতাম, ...
আবার উচ্চারিত হোক অমিতায়ু 'জয় বাংলা'
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১ মার্চ, ২০১৩
সমকালের নিয়মিত কলামটি তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে লিখব, সেটা আগেই ভেবে রেখেছিলাম। লিখতে লিখতেই মন পড়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি। সেখানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অপরাধের বিচারের রায় প্রদান চলছে। লেখা শেষ হতে না হতেই খবর এলো, যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হয়েছে ট্রাইব্যুনালের বিচারে। ওই পরিপ্রেক্ষিতে আমার পাঠকরা হয়তো স্বভাবতই চাইবেন, আমি এই শাস্তির বিষয়ে কিছু লিখি আজ। আমি মনে করি, যে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং যে শাস্তি প্রদান শুরু হয়েছে একে একে, ...
আসুক বাধা দুর্মর_ চলবো বাধা তুচ্ছ করে!
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
১১ জানুয়ারি ২০১৩
'যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে,/সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া/যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অন্তরে/যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া/মহা-আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে/দিক্্-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা-/তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর/এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।' যখন গহিন বনের গাঢ় অন্ধকার ভেদ করে রাতের আঁধারে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিই; হাজার বিপদ সম্মুখে, নিশ্চিত মৃত্যুকে তুচ্ছ করে, তখনও মন থাকে উদ্দীপিত। ঠিক যেমন '৭১-এ ছিল যখন বাংলা মায়ের আহ্বানে প্রায় ভূতে পাওয়া মানুষের মতো এগিয়ে গিয়েছিলাম অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে শত্রুর মোকাবেলা করতে। যদি দেখি আকাশে ...
স্বাধীন বাংলাদেশের গন্ধ শরীরে মেখে
আলোকের এই ঝরনাধারায় (শেষ পর্ব)
কালের কন্ঠ
৩১/০৮/২০১২
সেই নিউ মার্কেট থেকে ব্যাগ হাতে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ওয়ারীতে এসে পড়েছি, লক্ষ করিনি। আর সামান্য দূরেই নারিন্দা, যেখানে ভাইয়া, আমার বড় ভাই সস্ত্রীক ও সদ্যোজাত কন্যাকে নিয়ে বাস করেন। হাটখোলা রোডে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই এক রিকশাওয়ালা আমায় জিজ্ঞেস করলেন রিকশায় চড়ব কি না। আমার পকেটে টাকা-পয়সা বেশি ছিল না। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম কত নেবেন? জবাবে রিকশাওয়ালা বললেন, 'আপনার যা খুশি দিয়েন। কোথায় যাবেন?' আমি রিকশায় চড়ে বসলাম। বললাম, নারিন্দা যাব। নারিন্দায় নির্দিষ্ট গলির ভেতরে ঢুকে রিকশাওয়ালার ...
এই তো আমার বাংলাদেশ
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৯০)
কালের কন্ঠ
২৪/০৮/২০১২
স্বাধীন বাংলাদেশে আসার পর থেকে আমাদের মানসিক অবস্থা এমন যে যা দেখছি, যা শুনছি, যা খাচ্ছি_সবই অমৃত মনে হচ্ছে। সকাল ৮টার দিকে একটা নৌকার সঙ্গে রফা হলো। তারা আমাদের সবাইকে এক নৌকায় পেঁৗছে দেবে আরিচা ঘাটে। আমাদের মধ্যে দুজন মুক্তিযোদ্ধা তাদের হাতিয়ার, সেই স্টার্লিং স্টেন, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল; কিন্তু তাতে কোনো গুলি ছিল না। ওই স্টেনগানগুলো গ্রামের সাধারণ মানুষ একটু ছুঁয়ে দেখতে চায়। যেহেতু হাতিয়ারগুলোতে ম্যাগাজিন লাগানো ছিল না, সেহেতু আমরা ওদের হাতে দিই। ওরা অস্ত্রগুলোর ওপর হাত ...
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ কিশোর রুস্তম
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৮৬)
কালের কন্ঠ
২৭/০৭/২০১২
আগেই যেমন বলেছি, বাংলাদেশের বিভিন্ন রণক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের সরকারেরই নির্দেশে বিভিন্নভাবে মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করছিল। এই সহায়তা বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত ছিল। প্রথমত, সদ্য মুক্তিযুদ্ধে আগত তরুণদের গেরিলাযুদ্ধে প্রশিক্ষণ দেওয়া ছিল মূল কাজ। এতে বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনীর অফিসাররাও সাহায্য করতেন। মাঝেমধ্যে ক্ষুদ্রাস্ত্র ও গোলাগুলি সরবরাহও করত ভারতীয় বাহিনী। আর তা ছাড়া প্রতিটি রণক্ষেত্রে ভারী গোলাবর্ষণের জন্য মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর ওপরই নির্ভর করত। এবার ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে শুরু করে। ডিসেম্বরের ৬ তারিখ আমাদের জাতীয় জীবনে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ...
হৃদয়নন্দন বন উদ্বেলিত আজ
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
২০/০৭/২০১২
এখন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই বদান্যতায় গড়ে ওঠা বিশ্বব্যাংক আমাদের দেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নিয়ে যায়, তখন আমরা হা-হুতাশ করি। আজকে যদি কোনো দুর্নীতির কারণ ঘটে থাকে এই সেতু নির্মাণে, সেই দুর্নীতির পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে অবদান বিশ্বব্যাপী এবং আমাদের এই অঞ্চলেও, তা কি অস্বীকার করা যায়? এ তো সেই দেশেরই ব্যাংক, যারা এমন একটি চৈনিক কোম্পানিকে কন্ট্রাক্ট দেওয়ার কথা বলেছিল, যে কোম্পানি সম্পূর্ণ ভুয়া, যাদের অস্তিত্বই নেই ÔO Lord, forgiveth Dick for he knoweth ...
শিপ্ শিপ্ বৃষ্টি আর আষাঢ়ে গল্প
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
০৮/০৭/২০১২
আষাঢ়ে গল্পগুলো কি সত্যিই অবাস্তব? সামান্য চিন্তা করলেই বোঝা যাবে যে, গল্পগুলো শুনতে অবাস্তব মনে হলেও আসলে বাস্তবতার সঙ্গে এর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নাট্যকলায় এক ধরনের নাট্যরীতি আছে, যাকে বলা হয়ে থাকে অসংলগ্ন নাটক। অনেকে আবার অসম্ভব নাটকও বলেন একে। যেমন ব্রিটেনের নাট্যকার স্যামুয়েল বেকেট্-এর 'গডোর অপেক্ষায়' নাটকে আমরা দেখতে পাই দুই তরুণ এক মরা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে চলেছে গডোর জন্য। যখন এই কলামটি আমি লিখছি, আমার পড়ার ঘরের জানালার ধারে বসে, তখন আকাশ ...
সোনালি সূর্য, চড়ূইয়ের খেলা, ক্ষুধার দর্শন
হৃদয়নন্দন বনে
সমকাল
০১/০৬/২০১২
একদিন সাইকেলে করে আশুলিয়ার পথ ধরলাম। পেঁৗছে গেলাম তুরাগ নদের ধারে সেই জায়গায়, যেখানে রাস্তাটি ত্রিধারায় বিভক্ত হয়েছে। একটি ঢাকা থেকে এসেছে, একটি চলে গেছে আশুলিয়া হয়ে নবীনগর-চন্দ্রা রাস্তার দিকে, আর একটি ঢাকার অদূরে অবস্থিত উদ্ভিদ উদ্যানের পাশ দিয়ে চলে গেছে মিরপুর। নিসর্গ আমার অতি প্রিয় একটি বিষয়। ভাবলাম, এখনও দুপুর হয়নি, সাইকেল চালিয়ে যদি পেঁৗছে যাওয়া যায় উদ্ভিদ উদ্যানে, তবে হয়তো বৃক্ষরাজির সানি্নধ্যে বাকি দিনটা কাটিয়ে সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে আসা যাবে। রোজ সকালে আমি এখানে এসে বসি, ...
ওরা ওদের ধ্বংসে মাতুক_ আমি পড়ে রই সৃজন নিয়ে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৮/০৫/২০১২
আশাবাদী মানুষরা অবশ্যই বাঁচেন। খুশবন্তের ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। যেসব মানুষ ৮০ কিংবা ৯০ বছরে পেঁৗছেও, শারীরিক নানা রোগ-জরা থাকা সত্ত্বেও, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা জেনেও, হৈহৈ করে জীবনকে উপভোগ করতে পারেন, তাদের পক্ষে দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে জীবনকে সবদিক থেকে উপভোগ করার বিষয়টা অনেক সহজ হয়ে আসে। আরও একটি ব্যাপার হলো, এসব মানুষের বয়স যতই হোক না কেন, তাদের সৃজনশীল মন সর্বদাই তরুণ থাকে  সম্প্রতি আমার এক অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু চলে গেল। ত্রিশ বছরের বন্ধুত্ব। অথচ চলে যাওয়া? কয়েক মুহূর্তেই! ...
লোডশেডিং, কৃচ্ছ্রসাধন এবং নানাবিধ প্রসঙ্গ
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৬/০৪/২০১২
সবচেয়ে বড় কথা, সাধারণভাবে আমাদের কৃচ্ছ্রসাধনের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে আর সহনশীলতাকে বাড়াতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে একটি। আমাদের সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে সব মানুষের এগিয়ে আসা নিতান্ত প্রয়োজন গত পরশু ছিল পহেলা বৈশাখ। আপনাদের সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ। বছরের শুরুতেই সমস্যাসংকুল বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা আমার ছিল না। কিন্তু কথায় আছে, 'যদৃ দেশে যদাচারণ।' আমাদের জন্মেরও আগে থেকে নানা সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি নানাবিধ সমস্যার দ্বারা জর্জরিত ছিল। এর মধ্যে অনেক সমস্যার বিভিন্নভাবে সমাধান হয়েছে। ...
কোমর বেঁধে বাঁচাতে হবে বড় আদরের এই দেশকে!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৯/০৩/২০১২
যারা এ দেশে গণতন্ত্র, প্রগতিশীলতা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং মূল্যবোধ ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন, তাদের সেই আদর্শের ভিত্তিতে বলীয়ান হয়ে সাধারণ মানুষের হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে নষ্ট রাজনীতিকে বিতাড়িত করতে। আমাদের সবারই চোখ-কান খোলা রাখতে হবে যেন কোনো সুযোগে আবার হত্যার রাজনীতি প্রবর্তিত হতে না পারে এই দেশে বাংলায় বসন্ত এসেছে। আমার অফিসের জানালা দিয়ে আমি ছাদের দিকে তাকাই। সেখানে বাগানবিলাস ফুলের সমারোহ। নানা রঙে, নানা বাহারে ফুটেছে তারা। দু'দিন আগে ঢাকার বাইরে গিয়েছিলাম। রাস্তার দু'ধারে এবং গ্রামের ভেতরে শিমুল, ...
ফিরে দেখি একবার
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৪/০২/২০১২
রাজনীতি নাটকে থাকতেই পারে। রাজনীতি তো সমাজেরই ব্যাপার। তবে রাজনীতি যদি মঞ্চে আসে তবে তা আসবে নাটকেরই প্রয়োজনে। যে নাটক জীবনের কথা বলে, জীবনবোধের কথা বলে। আমার জানা মতে, নাটকের দুঃসময় শুরু হয়েছিল আশির দশকের মধ্যভাগ থেকে। ঠিক যখন প্রত্যক্ষ এবং দলীয় রাজনীতি নাটকের ওপরে ভর করেছিল একবার পেছনে ফিরে দেখি! বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪০ বছর পর কত কিছু নিয়েই তো ভাবা যায়। রাজনীতি, সংস্কৃতি, ভাষা, সাহিত্য এমন অনেক কিছুই। কিন্তু আমি অতীত থেকে, সুদূর অতীত নয়, কেবল সেই ...
ফিরে দেখি একবার
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৪/০২/২০১২
রাজনীতি নাটকে থাকতেই পারে। রাজনীতি তো সমাজেরই ব্যাপার। তবে রাজনীতি যদি মঞ্চে আসে তবে তা আসবে নাটকেরই প্রয়োজনে। যে নাটক জীবনের কথা বলে, জীবনবোধের কথা বলে। আমার জানা মতে, নাটকের দুঃসময় শুরু হয়েছিল আশির দশকের মধ্যভাগ থেকে। ঠিক যখন প্রত্যক্ষ এবং দলীয় রাজনীতি নাটকের ওপরে ভর করেছিল একবার পেছনে ফিরে দেখি! বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪০ বছর পর কত কিছু নিয়েই তো ভাবা যায়। রাজনীতি, সংস্কৃতি, ভাষা, সাহিত্য এমন অনেক কিছুই। কিন্তু আমি অতীত থেকে, সুদূর অতীত নয়, কেবল সেই ...
এই বসন্তের আগমনে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৭/০২/২০১২
ফরীদি চলে গেল। আরও কিছুদিন থেকে গেলে পারত। বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেল। আজ এই সুদূরে বসে ওর কথা মনে আসছে বড়। যদিও সাম্প্রতিককালে ওর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে এসেছিল। আমাদের পথ চলছিল সমান্তরাল পথে। একসময় ওর সঙ্গে এক ধরনের বন্ধুতা হয়েছিল আমার। পরে আমার সন্তানদেরও। বাচ্চারা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বেশি ভালো বোঝে। ওরা বড় দুঃখ পেয়েছে। বিচলিত হয়েছে। আমি এই প্রস্থানকে দেখছি আমার মতো করে এই বসন্তের সূচনায় আমি দেশে নেই। দেশ থেকে দূরে, আবার খুব দূরেও নয়_ এমন ...
একুশ আমাদের কাছে যা চায়
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১০/০২/২০১২
আমাদের সংকীর্ণমনা হলে চলবে না। আমাদের সংকীর্ণতা ছাড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে আরও অনেক দূরে এবং আমি মনে করি, আমাদের সকলের জন্য এ ধরনের একটি প্রত্যয়, একটি বিশ্বাস আমরা অর্জন করতে পারি, যাতে করে এসব জাতীয় দিবসে আমাদের যে ঋণ আমাদের মাতৃভূমির প্রতি সেই ঋণ পরিশোধ করার জন্য বৃহত্তর, মহত্তর কর্মকাণ্ডে ব্যাপৃত হওয়ার একটি অঙ্গীকার আমরা গ্রহণ করব। যার ফলে বাংলাদেশ, বাংলাদেশবাসী বিশ্বের সর্বত্র সমাদৃত হবে ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষার মাস। একুশ আমাদের ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আমাদের ...
খালার বাড়ির প্রিয় প্রাচীর
আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-১২)
কালের কণ্ঠ
১১/০২/২০১১
খুলনা ও কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা উন্মুক্ত পরিবেশের মানুষ আমরা। ঢাকায় আমরা যখনই হাঁপিয়ে উঠতাম, তখন শীতলক্ষ্যার সানি্নধ্যে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস যেন স্বাভাবিক হয়ে আসত। অতএব মামার বাড়ি আমাদের টানত প্রতিমাসেই। নারায়ণগঞ্জ স্টেশনের কাছে বোস কেবিন বলে একটি রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে অত্যন্ত সুস্বাদু চিংড়ি কাটলেট পাওয়া যেত। সেই কাটলেটের স্বাদ এখনো মুখে লেগে রয়েছে। সেই বোস কেবিন এখনো আছে। তবে চিংড়ি কাটলেট রূপান্তরিত হয়েছে চিকেন কাটলেটে। খেয়ে দেখিনি। অতএব জানি না স্বাদ কেমন। ...
মানবাধিকার আন্দোলন বনাম মানবগোষ্ঠী
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১১/০২/২০১১
আজ থেকে কয়েক বছর আগে যখন একুশে টেলিভিশনের ভরা যৌবন তখন আমি তাদের জন্য একটি অনুষ্ঠান করতাম, যেটির শিরোনাম ছিল 'সরাসরি'। আমি বিবিসির হার্ড টক দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এ অনুষ্ঠানটি শুরু করি। একবার এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল পাকিস্তানের মানবাধিকার ও নারী অধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীরের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার। আমার মনে আছে, আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, পাকিস্তানের শ্রেণীবিন্যাসের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা মূলত তিনটি প্রধান শ্রেণী দেখতে পাই। তার একটি পাকিস্তানের সেনা এবং সিভিল আমলাতন্ত্র, দ্বিতীয়টি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং তৃতীয়টি আমজনতা। এই তিন শ্রেণীর মধ্যে এক আমজনতা ছাড়া বাকি সবাই মোটামুটি সামন্ত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে। এই প্রেক্ষাপটে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা মানবাধিকারের কথা বলেন সামন্ত শ্রেণীর প্রতিভূ হিসেবে। যে কারণে বোধহয় আপনাদের কথায় আমজনতা বিশেষ কোনো একটা সাড়া দেয় না। তারা হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবে, এই মানবাধিকারের ব্যাপারটি এক ধরনের খেলা, যেটি বড়লোকদের জন্যই নির্ধারিত এবং আমজনতার এর সঙ্গে কিছু করার নেই। এর জবাবে তিনি ...
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার হৈচৈ এবং ক্ষুদ্রজনের নিবে�
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৮/০১/২০১১
আমাদের যেমন বিশ্বায়নের এই বাস্তবতাকে নিদ্বর্িধায় মেনে নিতে হবে, ঠিক তেমনি কোন মূল্যে এই বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা যুক্ত হচ্ছি, সেটিও হিসাব করে দেখতে হবে। আজকাল যে কেউ সামান্য পড়াশোনা করেছেন কিংবা দু'চার লাইন লিখতে পারেন, তিনি কথায় কথায় বিশ্বায়ন শব্দটি নিয়ে সরব হন। লক্ষণটি সাধু। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। অতএব দরজা-জানালা খোলা রাখা দরকার। বিশ্বের তাবৎ মানুষ আমরা একে অন্যের গলা জড়িয়ে ধরে আহ্লাদে আটখানা হয়ে যাব_ ধারণাটি এমতো বটে, কিন্তু কাজটি অত সহজ নয়। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, 'দেবে আর নেবে, মেলাবে মিলিবে।' তিনি অবশ্য বলেছিলেন ভারতবর্ষকে মনে রেখে। ...
মানবাধিকার আন্দোলন বনাম মানবগোষ্ঠী
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১১/০১/২০১১
আজ থেকে কয়েক বছর আগে যখন একুশে টেলিভিশনের ভরা যৌবন তখন আমি তাদের জন্য একটি অনুষ্ঠান করতাম, যেটির শিরোনাম ছিল 'সরাসরি'। আমি বিবিসির হার্ড টক দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এ অনুষ্ঠানটি শুরু করি। একবার এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল পাকিস্তানের মানবাধিকার ও নারী অধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীরের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার। আমার মনে আছে, আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, পাকিস্তানের শ্রেণীবিন্যাসের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা মূলত তিনটি প্রধান শ্রেণী দেখতে পাই। তার একটি পাকিস্তানের সেনা এবং সিভিল আমলাতন্ত্র, দ্বিতীয়টি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ...
প্রয়োজন সংস্কৃতিকর্মী এবং সরকারের বস্তুনিষ্ঠ
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৭/০৮/২০১০
আশা করি, আমাদের সংস্কৃতিজনরা যেমন ঋজু চরিত্রের হবেন তেমনি আমাদের গণমানুষের সরকারও গণমানুষেরই স্বার্থে তোষামোদিকে এড়িয়ে চলবেন। তাহলেই কেবল আমরা স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক এবং অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির ধ্বজা চিরউন্নত রাখতে পারব সম্প্রতি নাট্যকার, নট, নাট্য সংগঠক উৎপল দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় দল কলকাতায় গিয়েছিল। আমাদের একটি নাটক আছে, ছায়ানট, যেটি উৎপল দত্তের লেখা প্রথম নাটক হিসেবে অনেকে বলে থাকেন। এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য তথ্য আমাদের কাছে নেই, তবে প্রয়াত উৎপল দত্তের নাট্যসমগ্রে মুদ্রিত প্রথম নাটক এটি। নাটকটি ...
মানুষে মানুষে অনভিপ্রেত সংঘাত কারোরই কাম্য নয়
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৬/০৮/২০১০
এই কলামের সঙ্গে আমার হাসিমুখো ছবিটি আজকে বড় বেমানান ঠেকবে। বেমানান ঠেকবে এ কারণে যে, আমি আজ সত্যি ত্রুক্রদ্ধ। অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ক্রোধ আজকে আমায় এমনই উতলা করেছে যে, লিখতে লিখতে কলম থেমে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে, আমার পাঠকরা এ লেখাটি পড়ার পর স্বীকার করবেন, আমার ক্রোধ অমূলক নয়। এ ক্রোধের ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে প্রেক্ষাপটের বর্ণনা হয়তো বিষয়টি বুঝতে আমাদের সাহায্য করবে। যে কোনো দেশ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাইলে শিল্পায়ন একটি বাস্তব সত্য। এই শিল্পায়ন প্রক্রিয়া সব দেশে সব সময় পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়। দেশের অগ্রাভিযানে ঠিক শিল্পায়ন যেমন অপরিহার্য, শিক্ষার বিস্তারও সে রকম। পরিকল্পিতভাবে যেমন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিকল্পিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে_ এটিই স্বাভাবিক। আমাদের দেশের সমৃদ্ধি হবে বাণিজ্যে। আমাদের দেশের পণ্য ভিনদেশে হবে সমাদৃত। আমাদের দেশ সমৃদ্ধ হবে মেধায়। দেশের তরুণরা বিশ্বের সর্বত্র সমাদৃত হবে বুদ্ধিমান, জ্ঞানপিপাসু মানুষ হিসেবে। ...
এখন বোধহয় সময় এসেছে শিক্ষিত আচরণের
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৩/০৭/২০১০
প্রায়ই একটি কথা বিদগ্ধ মহলে শোনা যায়_ ্তুঋড়ঁৎঃয ঊংঃধঃব্থ বা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই শব্দ নিচয়ের সৃষ্টি করেছিল সাম্যবাদীরা এবং তারা এই শব্দ দুটি ব্যবহার করত সেসব মাধ্যমকে বোঝাতে, যারা বুর্জোয়া আচরণের ধারক, বাহক এবং প্রচারক। সাম্যবাদ এবং তার সঙ্গে সংশিল্গষ্ট সবকিছুই এখন অতীতের কর্মকাণ্ডে পর্যবসিত হয়েছে। তবু উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দেশগুলোতে গণমাধ্যমকে এই অভিধায় সংজ্ঞায়িত করা হয়, ্তুঞযব ঋড়ঁৎঃয ঊংঃধঃব্থ. কেননা গণমাধ্যম একটি সত্যিকারের বস্তুত্ববাদী দেশে গণতন্ত্রের এবং জনসাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে। ঐতিহাসিক কার্লাইলের ভাষায়, সংসদ সাধারণত তিনটি ক্ষমতার প্রতিনিধিত্বকারী; কিন্তু এছাড়া সেখানে উপস্থিত থাকে আরও একটি ক্ষমতাধর গোষ্ঠী, যার গুরুত্ব সবার চাইতে বেশি, এরা হলো গণমাধ্যম। তিনি যখন এই সংজ্ঞাটি দিয়েছিলেন, তখন সংসদে উপস্থিত থাকার রেওয়াজ ছিল ধর্মযাজক, সম্ভ্রান্ত শ্রেণী এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিদের। ...
ফুটবল, ফুটবল
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৬/০৭/২০১০
প্রখ্যাত প্যারিস নিবাসী বাঙালি লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র একটি অতিপরিচিত নাটক আছে 'বহিপীর'। এ নাটকটি আমাদের দল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় প্রয়াত জিয়া হায়দারের নির্দেশনায় অতি সফল মঞ্চায়ন করেছিল সত্তরের দশকে। নাটকের মুখ্য চরিত্র এক পীর সাহেব যিনি বইয়ের ভাষায় কথা বলতেন। সেই থেকে বহিপীর নামের উদ্ভব। নাটকটির মধ্যে আমরা দেখতে পাই, এই পীরের সঙ্গে এক যুবতীর বিয়ে প্রায় যখন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে এবং তরুণীটির মা-বাবা এ পরিণয়ের ব্যাপারে যখন অত্যন্ত আগ্রহী, তখন মেয়েটির প্রেমিক এক তরুণ, তার হাত ধরে পীর সাহেবের সামনে দিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। এই গোটা নাটকটি ঘটেছিল একটি বজ্রা নৌকার ভেতরে, যে নৌকার আরোহী ছিলেন পীর সাহেব স্বয়ং। তিনি নানা দেশ ঘুরে ওই তরুণ-তরুণীর গ্রামে এসে নোঙর ফেলেছিলেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ আমাদের যদিও খোলাখুলিভাবে বলেননি, তবু আমরা অনুমান করে নিতে পারি, এই তরুণ-তরুণী এরপর পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হবে। এই সময় পীর সাহেবের একটি সংলাপ ছিল, 'এতক্ষণে ঝড় থামিল।' বহিপীর নাটকের প্রেক্ষাপটে এ সংলাপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ...
নগরে নিসর্গ, নিসর্গ নগরে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৫/০৬/২০১০
নদীর কাছে গিয়েছিলাম গল্প শুনতে। আষাঢ় এলেই মৌসুমি মেঘের যাওয়া-আসা শুরু হয়। হঠাৎ করেই কারণে-অকারণে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ধেয়ে আসে ঘন কালো মেঘ। ঝমঝম করে নামে একপশলা বৃষ্টি। তখন মনটা কেমন উড়ূ উড়ূ হয়ে যায়। অনেক সময় অফিসে বসে বিস্তর কাজের চাপের মাঝেও মনে হয়, এখানে; এই সীমাবদ্ধ অপ্রশস্ত ঘরের মধ্যে বসে কী করছি আমি? আমার সহকর্মীরাও অনেক সময় শুনেছেন আমার মুখে এমন কথা। দক্ষিণের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে উদাসভাবে তাকিয়ে থেকে আমি বলে উঠি, 'হোয়াট অ্যাম আই ডুইং হেয়ার?' মনে পড়ে বাল্যকালে ছুটির দিনে এমন হঠাৎ বৃষ্টি নামলেই ফুটবল হাতে ছুটে যেতাম গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে। ...
নগরে নিসর্গ, নিসর্গ নগরে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৫/০৬/২০১০
নদীর কাছে গিয়েছিলাম গল্প শুনতে। আষাঢ় এলেই মৌসুমি মেঘের যাওয়া-আসা শুরু হয়। হঠাৎ করেই কারণে-অকারণে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ধেয়ে আসে ঘন কালো মেঘ। ঝমঝম করে নামে একপশলা বৃষ্টি। তখন মনটা কেমন উড়ূ উড়ূ হয়ে যায়। অনেক সময় অফিসে বসে বিস্তর কাজের চাপের মাঝেও মনে হয়, এখানে; এই সীমাবদ্ধ অপ্রশস্ত ঘরের মধ্যে বসে কী করছি আমি? আমার সহকর্মীরাও অনেক সময় শুনেছেন আমার মুখে এমন কথা। দক্ষিণের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে উদাসভাবে তাকিয়ে থেকে আমি বলে উঠি, 'হোয়াট অ্যাম আই ডুইং হেয়ার?' মনে পড়ে বাল্যকালে ছুটির দিনে এমন হঠাৎ বৃষ্টি নামলেই ফুটবল হাতে ছুটে যেতাম গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে। প্রবল বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে গেলে ফুটবল খেলা গোলায় তুলে রেখে গড়াগড়ি দিতাম সেই পানিতে। আহ, কী আনন্দের দিন ছিল সেগুলো! জীবন নিয়ে কোনো ভাবনা, কোনো চিন্তাই ছিল না। আমার দু'একজন তরুণ সহকর্মী আছে যারা বলেন, 'আমাদেরও তো ইচ্ছা করে বলি; হোয়াট আর উই ডুইং হেয়ার?' বর্ষা বাঙালিকে টানে উন্মুক্ত প্রান্তরের ...
সংস্কৃতিকর্মীর দায়বদ্ধতা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৮/০৫/২০১০
প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, আমার এই লেখাটি সংস্কৃতির একটি অতি প্রাণবান মাধ্যম মঞ্চনাটকের ওপর। সম্প্রতি নাটক বলতে যদিও সব ধরনের নাটকই বোঝায়, যেমন_ মঞ্চ, টেলিভিশন, রেডিও ইত্যাদি তবু্ আমি মনে করি নাটকের মৌলিক চারণভূমি মঞ্চই। এখান থেকেই নাটকের যাত্রা শুরু। আজকের বিশ্বের যে কোনো দেশে সফল অভিনেতার সিংহভাগ এসেছেন মঞ্চ থেকে। আমি এও মনে করি, মঞ্চই হচ্ছে নাটকের সব বিভাগকে সম্পূর্ণ বোঝার এবং হৃদয়ে ধারণ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমরা নাটক সম্পর্কে লেখালেখিতে সাধারণত নাটকের ইতিহাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর অগ্রগতি বা অধোগতি; নাটকের প্রতি নাট্যজনদের আগ্রহ, যথাযথ মঞ্চের অভাব ইত্যাদি নিয়েই আলোচনা করি। এর বাইরে নাট্য সংগঠন নিয়েও আলোচনা করেন নাট্য সংগঠকরা। আমাদের নাটক আজ থেকে তিন দশকের ওপরে শুরু হলেও অনেকের ধারণা, এখনও নাট্যচর্চার শৈশব পার হয়নি। ...
আসুন, ঢাকা বাঁচাই!
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১৪/০৫/২০১০
ঢাকা শহরের বন-বনানী একসময় বিখ্যাত ছিল। এই খ্যাতির, আমি যতদূর শুনেছি, পত্তন হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। লন্ডনের প্রখ্যাত কিউ গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং রমনা এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। রমনা এলাকার গাছপালা যে সুপরিকল্পিত উপায়ে বপন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ওই বিচক্ষণ বনায়নের নিদর্শন এখনও আমাদের মন কেড়ে নেয়। মিন্টো রোড, বেইলি রোড, হেয়ার রোড, পার্ক রোড, ফুলার রোড কিংবা গোটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাই এই রুচিশীল বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে। একটা সময় ছিল যখন শহরের মানুষ বেড়াতে যেত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। কার্জন হল, সলিমুল্লাহ হল_ এগুলো ছিল দেখার মতো ইমারত। আমার তো মনে আছে, কার্জন হলের সামনে দাঁড়িয়ে সদ্য বিবাহিত তরুণ-তরুণীকে ছবি তুলতেও দেখেছি আমি অনেকদিন। ...
নৈঃশব্দ্যের শব্দ পেতে চাই
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৭/০৫/২০১০
বছর দুয়েক আগে ফেব্রুয়ারি মাসে রাঙামাটিতে গিয়েছিলাম শান্তির খোঁজে। এ রকম শহর ছেড়ে আমি সময় পেলেই পালাই। ফেব্রুয়ারির শুরু। বড় শ্রীহীন হয় বাংলাদেশ ওই সময়টায়। আবহাওয়া মন্দ নয়। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। দৈহিক ক্লান্তি সহজে আসে না। হাঁটাহাঁটি করতে ভালোই লাগে। তবে চারদিক বড়ই রুক্ষ, নীরস মনে হয়। শুকনো, মরা পাতা ছড়িয়ে থাকে যত্রতত্র। ধুলার আস্তরণ প্রকৃতিকে আবৃত করে রাখে। এমন সবুজ যে প্রকৃতি, তাও যেন কেমন নিষ্প্রভ, অনুজ্জ্বল মনে হয়। তবু প্রকৃতি, প্রকৃতিই। নিসর্গের প্রতি আমার তীব্র ভালোবাসা। অতএব ঋতু কিংবা কালের বাছবিচারে কালক্ষেপণ করতে আগ্রহী আমি নই। রাঙামাটিতে অনেক ধরনের পাখি আছে। তবে যেখানে আমি উঠেছিলাম, পর্যটনের অতিথিশালায়, এখানে শহর থেকে এই এত দূরে, কাকের আধিক্য বড় বিরক্তিকর। এই যে প্রতিদিন এত মানুষ আসে, নানাবিধ উদ্বৃত্ত আহার্য ফেলে রেখে যায়, এই কারণেই বোধহয় কাকের সমাগম। আমার পাশের ঘরে ক্রমাগত হিন্দি অথবা ইংরেজি গান বেজে চলে। ...
একটি চলচ্চিত্র উৎসব ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
৩০/০৪/২০১০
অতিসম্প্রতি ঢাকার বাইরে একটি ছোট শহরে গিয়েছিলাম। সেখানে বাচ্চাদের জন্য আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করতে বলা হয়েছিল আমাকে। নানা কাজের ঝামেলায় প্রথম থেকে ঠিক করিনি, আমি উদ্বোধনের পর কী বলব। নানা ধরনের কাজে আমার ব্যস্ততা এত বেশি যে, অনেক সময় এ রকম হয়, আগে থেকে চিন্তা করে গুছিয়ে নিতে পারি না আমার বক্তব্য। তবে আমার একটা সুবিধা আছে। যে বিষয়গুলো আমি জানি অথবা যে মানুষগুলোকে আমি চিনি, তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বলে যেতে পারি এবং এই বলাটা খুব একটা অর্থহীন হয় না বোধহয়। কেননা আমি অলিখিত বক্তৃতায় একটা যুক্তিপূর্ণ প্রবাহের তালিকা আগে থেকেই ঠিক করে নিই এবং দেখেছি যে, তখন কথা থেকে কথায় আমি অনায়াসে গড়িয়ে যেতে পারি। নিজের সম্বন্ধে একটু বেশিই বলা হয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো এক মহারথী যেন বলেছিল, নিজের ঢোল নিজে পেটানোই ভালো। তাতে করে ঢোলটি ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ফিরে যাই সেদিনের অনুষ্ঠানে। ...
২৬ মার্চের সাহসী প্রভাতে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৬/০৩/২০১০
কেন্দ্রীয় ভাষা শহীদ মিনারের ঠিক বিপরীত দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ভবনটি সায়েন্স অ্যনেক্স বিল্ডিং হিসেবে পরিচিত তারই নিচের তলার একটি কামরায় পাঁচজন তরুণ প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় মিলিত হতো। কাজ ছিল দাবা খেলা আর বলাইয়ের ক্যান্টিনের চা কাপের পর কাপ গলাধঃকরণ করা। সেই চা ছিল অত্যন্ত বিস্বাদ। অনেকটা কবিরাজি ওষুধের মতো তেতো। তবুও প্রতি সন্ধ্যায় ওই চা-ই মনে হতো অমৃত। এই তরুণরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বিভিন্ন পেশায় ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। তবুও এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়া কাটাতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, এদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতত্ত্ব বিভাগে ছাত্র পড়াত। সেই সুবাদেই তার জন্য বরাদ্দ ছিল ওই কামরা। সেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে এরা ছিল রাজপথে। এই পাঁচজন ছিল রাজনীতিসচেতন, দেশোন্মাদ প্রায় অস্থির তরুণ যারা ভাষা, সংস্কৃতি, বাঙালিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করার কথা চিন্তাও করতে পারত না। ১৯৭১-এর মার্চ মাস। ...
মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১২/০৩/২০১০
গত শুক্রবারের কলামে আমি পাকিস্তানের সামরিকতন্ত্রের উত্থান এবং তার ফলে শিক্ষা, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ধস সম্বন্ধে লিখেছিলাম। ওই লেখাটির অনুপ্রেরণা ছিল পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ। আমার কলামটি পাকিস্তানের ওপরে ছিল বটে, তবে মনের মধ্যে সবসময় উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছিল আমার এই বাংলাদেশ। কেননা বিশ্বের যেখানেই যাই, যা-ই করি না কেন, সর্বদাই মনের মধ্যে বাজে যে সুখ কিংবা বেদনা, সে তো আমাদের এই বাংলাদেশকে নিয়েই। আমি উলেল্গখ করেছিলাম, পাকিস্তানে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, যার শুরু সেখানে সামরিক শাসকের কারণে, আমাদের বাংলাদেশও কি একই কারণে শিক্ষার ক্ষেত্রে অনগ্রসরতার শিকার হয়নি? আমরা যখন শিক্ষিতের উচ্চ হারের কথা উলেল্গখ করি, তখন কেবল সাক্ষরতাকেই ধরে নিই। সাক্ষরতার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষ যখন নিজের নামটি স্বাক্ষর করতে পারবে, তখন অবশ্যই তা নিয়ে আমাদের গর্ব করার মতো কিছু একটা হবে। তবে সেখানেই থেমে গেলে চলবে না তো? একটি সমাজ অথবা দেশকে সভ্যতার অগ্রাভিযানের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিদ্যার গভীরতার প্রসার নিতান্ত ...
বড় বাঁচা বেঁচে গেছি আমরা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৫/০৩/২০১০
সম্প্রতি ইন্টারনেটে পাকিস্তানের 'ডন' পত্রিকায় লেখা একটি নিবন্ধ পড়ে আজকের এই কলামের বিষয়বস্তু নির্ধারণে অনুপ্রাণিত হলাম। লর্ড ডালহৌসি যখন ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল, তখন তিনি অশিক্ষিত পাঞ্জাবিদের শিক্ষিত করার মানসে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার চেষ্টা করেন। এ সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তত্ত্বাবধানে একটি বোর্ড গঠন করা হয়, যাদের ওপর সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করার দায়িত্ব বর্তায়। সেটি ছিল ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে। কাজ শুরু করেই ওই বোর্ড একটি চমকপ্রদ তথ্য আবিষ্কার করে আর সেটি হলো, লাহোর এবং তার আশপাশের উপশহরে শিক্ষিতের হার শতকরা ৮০ ভাগ এবং এই ৮০ শতাংশের সবাই কারও কোনো সাহায্য ছাড়া স্বহস্তে চিঠি লিখতে পারত। ২০১০-এ এসে লাহোর শহরে ওই মানের শিক্ষিতের সংখ্যা নেমে এসেছে ৯ শতাংশে এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ তাদের নাম স্বাক্ষর করতে পারে কেবল। ...
'বড় বেদনার মত'
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৬/০২/২০১০
আজ এই বসন্তের সকালে আমার পড়ার ঘরের টেবিলে বসে ছিলাম। বাইরের আকাশের দিকে দৃষ্টি ছিল নিবদ্ধ। দেখছিলাম এই বৃষ্টিহীন বাংলার বসন্ত তার উদারতা নিয়ে ঠিকই তার নিজস্ব কাজ করে যাচ্ছে। আমের বোল দুলছে সামনের আমগাছগুলোতে, অশ্বত্থ মেলেছে নতুন পাতা। এমনকি আমার জানালার ওপাশে রাখা পাতাবাহারেও যেন অনেক বেশি বর্ণময় হয়ে উঠেছে বসন্তের আগমনে। মৃদুমন্দ হাওয়া বইছিল। খুবই উপযুক্ত সময় ছিল এই সকালে নানাবিধ সৃজনশীল লেখালেখি করার। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে রবীন্দ্রনাথের একটি গানের কয়েকটি চরণ ঘুরে ঘুরে আসছিল আমার মনে। উত্ত্যক্ত করছিল আমাকে। 'বড় বেদনার মত বেজেছো তুমি হে আমার প্রাণে, মন যে কেমন করে মনে মনে তাহা মনই জানে' রাস্তায় যানবাহনের আধিক্য, ডিজেল পোড়া ধোঁয়া, জনারণ্যে মানুষের উদ্ভ্রান্ত পদচারণা, বিশৃঙ্খলায় ভরে গেছে পেয়ালা, তবুও বসন্ত আসে আমাদের এই ধরায়। নিসর্গ রাঙিয়ে দিয়ে যায় আমাদের মন। ...
আমরা সুদূরপ্রসারী, সর্বব্যাপী বন্ধুত্ব প্রত্যা
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
১২/০২/২০১০
আবারও সেই চর্বিত চর্বণই করতে হচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে, কোনো একটি বিষয়ে কথাবার্তা শুরু হয়ে গেলে সেটা গড়িয়ে গড়িয়ে এগিয়ে যেতেই থাকে। গতি স্তব্ধ হয়ে এলে আবার কেউ বাইরে থেকে একটা ধাক্কা দেয়। কথাবার্তা চলতেই থাকে। এই গোটা বিষয়টি কেবল ক্লান্তিকরই নয় বিরক্তিকরও বটে। আর বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেই যদি ক্লান্ত তাহলে পাঠকরা তো ক্লান্ত হবেনই। তবুও কিছু বিষয়ে একবার, দু'বার, তিনবারও বলতে হয়। বলা দরকার হয়ে পড়ে। এবারের কলামে আবারও এই বিষয়ে লিখবার অনুপ্রেরণা আমি পেয়েছি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সেমিনার থেকে। সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল হাসিনা-মনমোহন বৈঠকের সাফল্য-অসাফল্যের। মূল বক্তা ছিলেন দু'জন। প্রথমজন অধ্যাপক বীণা সিক্রি, বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, বর্তমানে অধ্যাপনায় রত। আর দ্বিতীয়জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন। এ সেমিনারে অনেক বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। শ্রীমতী বীণা সিক্রি স্বভাবতই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন, যার দ্বারা তিনি মনে করেন বাংলাদেশ উপকৃত হবে। অধ্যাপক আকমল হোসেন বলছিলেন ...
আমি থাকি হায়... অকর্মণ্য দাম্ভিকের অক্ষম ঈর্ষায়
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৫/০২/২০১০
আজকের লেখাটি শুরু করছি একটি মজার গল্প দিয়ে। গল্পটি বহুল প্রচারিত। অতএব পাঠক, আপনি যদি একাধিকবার এই গল্প শুনে থাকেন, তাহলে নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। কোনো এক শহরে দুই প্রতিবেশী একে অন্যকে দুই চোখে দেখতে পারতেন না। সব ব্যাপারেই এক প্রতিবেশী ছিলেন অন্যজনের বিষয়ে সমালোচনামুখর। এ সমালোচনা তাদের নিজস্ব যোগ্যতার মাপকাঠি ছাড়িয়ে তাদের বংশধরদের ওপরেও বিস্তৃত ছিল। আমরা গল্পের স্বার্থে ধরে নিই এদের একজনের নাম বজলু। আরেকজনের নাম ফজলু। এরা দু'জন পাশাপাশি বাস করে আসছেন বহু বছর ধরে। যখন তারা এই পাড়ায় বাস করতে এসেছিলেন তখন তাদের সন্তানেরা ছিল শিশু। ক্রমে তারা পরিণত বয়সে পেঁৗছায় এবং শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে উভয়ের সন্তানেরা সর্ববিষয়ে বেশ কৃতিত্ব অর্জন করে। এ দু'জনেরই প্রথম সন্তান মেয়ে। ...
আমি থাকি হায়... অকর্মণ্য দাম্ভিকের অক্ষম ঈর্ষায়
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
০৫/০২/২০১০
আজকের লেখাটি শুরু করছি একটি মজার গল্প দিয়ে। গল্পটি বহুল প্রচারিত। অতএব পাঠক, আপনি যদি একাধিকবার এই গল্প শুনে থাকেন, তাহলে নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। কোনো এক শহরে দুই প্রতিবেশী একে অন্যকে দুই চোখে দেখতে পারতেন না। সব ব্যাপারেই এক প্রতিবেশী ছিলেন অন্যজনের বিষয়ে সমালোচনামুখর। এ সমালোচনা তাদের নিজস্ব যোগ্যতার মাপকাঠি ছাড়িয়ে তাদের বংশধরদের ওপরেও বিস্তৃত ছিল। আমরা গল্পের স্বার্থে ধরে নিই এদের একজনের নাম বজলু। আরেকজনের নাম ফজলু। এরা দু'জন পাশাপাশি বাস করে আসছেন বহু বছর ধরে। যখন তারা এই পাড়ায় বাস করতে এসেছিলেন তখন তাদের সন্তানেরা ছিল শিশু। ক্রমে তারা পরিণত বয়সে পেঁৗছায় এবং শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে উভয়ের সন্তানেরা সর্ববিষয়ে বেশ কৃতিত্ব অর্জন করে। এ দু'জনেরই প্রথম সন্তান মেয়ে। ইতিমধ্যে বজলু সাহেবের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। তিনি তার প্রথম সন্তানের বিয়ের ব্যবস্থা করেন খুবই ধুমধামের সঙ্গে। শহরের শ্রেষ্ঠ হোটেলে অনুষ্ঠানাদির বন্দোবস্ত করা হয়। বিয়ের দিন বজলু সাহেব তার সব আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবকে নিমন্ত্রণ জানান। ...
শীত শেষের এই উজ্জ্বল সকালে
ধর নির্ভয় গান
সমকাল
২৯/০১/২০১০
আজকের সকালটা কি ভিন্ন? আজ আটাশে জানুয়ারির কুয়াশাভাঙা রোদ্দুরমাখা এই প্রত্যুষ? এ তো সেই সকালই যা কালকে ছিল? আবার আসবে হয়তো আগামী দিন? তবে কেন রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি গানের চরণ বারবার মনে আসছে? কণ্ঠে সুর নেই তবু গলা ছেড়ে দিয়ে গাইতে ইচ্ছে করে, 'নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার।' আবার ইচ্ছে হয় আবৃত্তি করি, 'ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে, মোদের ততই বাঁধন টুটবে।' ফিরে যাই আজ থেকে চার দশক আগে। তখন টগবগে তরুণ আমরা। চোখে স্বপ্ন, মনে প্রত্যয়। সেই বাল্যকাল থেকে যা শিখেছি, শিক্ষক, অভিভাবক, গ্রন্থ এবং প্রবচন যা শিখিয়েছে, সেরকম সুস্থ সুন্দর একটি জীবনের সূচনালগ্নে আমরা উপস্থিত আজ। আমরা স্বপ্ন দেখেছি একটি বহুমাত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিঋদ্ধ দেশের। এই দেশে আমরা আমাদের আদর্শ, আমাদের মূল্যবোধ, সংবেদনশীলতা, শিক্ষা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াব। ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩