কলামিস্টদের নাম
সৈয়দ আবুল মকসুদ এর কলামগুলো

নির্বাচনী কার্নিভ্যাল
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
০৪ জুন, ২০১৩
গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। নির্বাচনী প্রচারাভিযান নির্বাচনের একটি পর্ব। ভোট গ্রহণ একটি পর্ব। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা আরেকটি পর্ব। তার পরের পর্বটি দীর্ঘ। চার-পাঁচ বছরব্যাপী। কোনো কোনো রোমান ক্যাথলিক দেশে কার্নিভ্যাল একটি সর্বজনীন উৎসব। বাংলাদেশে কার্নিভ্যালের প্রচলন এখনো শুরু হয়নি। তবে বঙ্গীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনী প্রচারাভিযানকে বলা হয় সর্বদলীয় কার্নিভ্যাল। বাঙালি বহুরূপী। বিচিত্র রূপ ধারণ করতে বাঙালি বিশ্বের যেকোনো জাতির থেকে বহু এগিয়ে আছে। বাঙালির বহু রূপের একটির প্রকাশ ঘটে তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানের মধ্যে। যে হাত চড়-থাপ্পড়ে বিশেষভাবে দক্ষ, ...
সংলাপ ও ইন্টারপোল পর্যালোচনা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৮ মে, ২০১৩
পৃথিবীতে পতিত হয়ে আদম ও হাওয়া প্রথম যা করেন, তা হলো সংলাপ। তাঁদের মধ্যে সংলাপ হয় আগে, অন্যান্য কাজকর্ম আরও পরে। প্রথম প্রভাতে তাঁরা যে সংলাপ শুরু করেন, তাঁদের ছেলেমেয়ে ও সন্তানসন্ততি তা অব্যাহত রেখেছে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। সব রকমের কথাবার্তাই সংলাপ, তবে একা একা যদি কেউ কথা বলে, তা ঘরের মধ্যেই হোক বা মাইকের সামনে হোক, তা সংলাপ নয়—একালাপ। যার কথা বলার আছে কিন্তু শোনার কেউ নেই, সে একালাপ করে। নাটকের মঞ্চে স্বগতোক্তি চলে, কিন্তু জীবনের মঞ্চে, বিশেষ করে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে স্বগতোক্তি বা একালাপের চেয়ে সংলাপের মূল্যই বেশি। বাংলাদেশে সংলাপ জিনিসটির চেয়ে ওই শব্দটির মূল্য বেশি। দুগ্ধপোষ্য শিশু সদ্য যার দাঁত উঠেছে নিচের পাটিতে দুটি আর ওপরের পাটিতে দুটি—তারাও আজ এই শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। কেবল হাঁটতে শিখেছে এমন শিশুও ‘সংলাপ’ শব্দটি জানে। প্রতিদিন, প্রতিমূহূর্তে টিভির পর্দায়, পত্রিকার পাতায়, অফিসকক্ষে, আলোচনার টেবিলে, মুদিদোকানে, বাস-ট্রেন-লঞ্চের খোলের মধ্যে, হাটবাজারে—এমন কোনো জায়গা নেই, এমন মানুষ নেই যেখানে ও যার মুখে ধ্বনিত হচ্ছে ...
ক্ষুধিত পাষাণের কথা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২১ মে, ২০১৩
সাভারে রানা প্লাজার টানা ২০ দিনের উদ্ধারকাজের শেষ মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। নয়তলা ভবনটি নয়, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পার্কিংয়ে ভবনমালিকের অফিসকক্ষের পাশের স্টোররুমটি। ওই কামরাটিতে পাওয়া যায় দেশের ৪২ বছরের সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির ইতিহাসের নির্যাস। ওই বিশ্ববিখ্যাত ভবন থেকে কয়েকজন মানবসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়—‘পার্কিং থেকে চারটি চাপাতি, তিনটি রামদা, ১৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৫ ক্যান বিয়ার, একটি করাত ও একটি শিকল উদ্ধার করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। র‌্যাব-৪-এর সাভার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর ...
চাই সংযম ও সমঝোতা
তাৎক্ষণিক
প্রথম আলো
০৪ মে, ২০১৩
সাভারে ভবনধসে শত শত লাশে ভরে গেছে দেশ। হাজার হাজার আহত শ্রমিকের রক্তে সয়লাব দেশ। ১০ দিনেও খণ্ডিত ও গলিত লাশের সৎকার শেষ হয়নি। নিহত ব্যক্তিদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন সাহায্য ও সান্ত্বনা। আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনই এখন অবশ্যকর্তব্য। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের হাজার হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনো ছুটে আসছেন ঘটনাস্থলে। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার শেষ নেই। ওই পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রধান বিরোধী দল তাদের ২ মের হরতাল প্রত্যাহার করেছে। সে জন্য বিএনপির নেতাকে সরকার ও সাধারণ মানুষ ধন্যবাদ জানিয়েছে। এ মুহূর্তে যেকোনো দাবিতেই অবরোধ ও ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি প্রত্যাশিত নয়। তাতে ওই পরিবারগুলোর মানুষের দুর্দশা আরও বাড়বে। ...
পথ খুঁজে বের করতে হবে
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
৩ মার্চ, ২০১৩
বাংলাদেশে রাজপথে সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস শতাধিক বছরের। ১৯২০-এর অসহযোগ আন্দোলনের সময় থেকে তা উত্তাল আকার ধারণ করে। আমার নিজের দেখা রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়কালও ৫০ বছরের বেশি। ১৯৬২-র প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে বর্তমান শাহবাগের ব্লগ আন্দোলন পর্যন্ত রাজপথের প্রতিটি ছাত্র-যুব-জনতার আন্দোলনের আমি একজন সাক্ষী। শুধু নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকা সাক্ষী নই—পেছন থেকে হোক, পাশে থেকে হোক, অথবা সামনে থেকে হোক, প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছে। ...
জামায়াতের কৌশল এবং জনতা ও সরকারের করণীয়
কালান্তরের কড়চা
প্রথম আলো
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
ব্রিটেনে একসময় যখন উগ্র বর্ণবাদী ফ্যাসিস্ট দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুঙ্গে উঠেছিল এবং এই কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ব্লেয়ার জিম নামে এক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় শ্বেতাঙ্গ যুবক, তখন লন্ডনের বাম দৈনিক মর্নিং স্টার বার্নার্ড শ'য়ের একটি বিখ্যাত উক্তিকে একটু পাল্টে লিখেছিল, 'God created Conservative Party, God created Labour Party, but Devil created National Front' (বিধাতা কনজারভেটিভ ও লেবার এ দুটি দলই সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু শয়তান তৈরি করেছে ন্যাশনাল ফ্রন্ট)। ...
পরিস্থিতিটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার, ভাবাবেগের নয়
রাষ্ট্র ও রাজনীতি
প্রথম আলো
২৪/০২/২০১৩
স্বাধীনতার স্পৃহা মানুষের সহজাত। এই বৈশিষ্ট্য বা গুণটি নিয়েই মানবসন্তান মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বড় বড় মানুষের সাধনা ও অগণিত সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে কোনো জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন স্বাধীনতাসংগ্রামীরা। মুক্তিসংগ্রামীদের সংখ্যা সীমিত। কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ ও সুবিধা উপভোগ করে সব মানুষ। রাষ্ট্রের চোর-চোট্টা, গুন্ডা-বদমাশ শুধু নয়—এমনকি স্বাধীনতাসংগ্রামে শত্রুপক্ষের দালাল ও সহযোগীরা এবং তাদের সন্তান-সন্ততিরাও পুরুষাণুক্রমিকভাবে স্বাধীনতার সুবিধা গ্রহণ করে। ...
গায়ে মরিচ
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২২ জানুয়ারি ২০১৩
বাংলার মাটিতে নতুন রাসায়নিক পদার্থের প্রবেশ ঘটেছে। তার নাম পেপার স্প্রে। বাঙালি রাইফেলের গুলি, টিয়ার গ্যাসের শেল ও ধোঁয়া, পানিকামান এবং লাঠির বাড়ি দেখেছে এবং ভোগ-উপভোগ করেছে; কিন্তু পেপার স্প্রের নাম তার চৌদ্দ পুরুষের কেউ শোনেনি। জগতে যত রকম স্প্রে আছে, তার মধ্যে পেপার স্প্রেই একমাত্র স্প্রে, যা নিয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই। কিন্তু হরতাল, মিটিং-মিছিল ও মরিচের ঝাল নিয়ে মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার এখনো পুরোপুরি হরণ করা হয়নি। সংসদে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও দয়াপরবশ হয়ে সংবিধান থেকে ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯/১, ৩৯/২, ৩৯/২(ক) এবং ৩৯/২(খ) ধারাগুলো তুলে দেওয়া হয়নি। মসলা হিসেবে হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনে প্রভৃতির উপযোগিতা কোনো ভোজনরসিক বঙ্গসন্তান অস্বীকার করতে পারে না। শুধু ভোজনরসিক নয়, বাঙালিদের মধ্যে আজ পর্যন্ত যাঁরা বিয়ে করেছেন, তাঁরা সবাই জানেন, হলুদ শুধু মসলা নয়—তার চেয়ে কিছু বেশি। বিয়েতে বাঙালির গায়েহলুদ অনেক দিনের প্রথা। ...
ছাগলের পা ও মানুষের মাথা
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
৮ জানুয়ারি ২০১৩
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন ১০-২০ জন প্রাণ হারাচ্ছে। তা নিয়ে আন্দোলন-প্রতিবাদ করে নাগরিক সমাজের নেতারা এখন ক্লান্ত। সে অবস্থায় কোনো ছাগলের পা যদি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ফ্র্যাকচার হয়, সিভিল সোসাইটির নেতারা বড়জোর মানববন্ধন করতে রাস্তায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। ছাগলের ভাঙা পা নিয়ে বিবাদে মারামারি করে জনা দশ-পনেরো মানুষের মাথা ফাটানো বিশেষ বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে হয় না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনের সড়কে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় একটি ছাগল আহত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ছাগলের মালিক মাইক্রোবাসের চালককে মারধর ...
আশুলিয়া থেকে জুরাইন
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
৪ ডিসেম্বর ২০১২
স্বাধীনতার আগে এই নগরের ধনী-দরিদ্র সবারই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর ঠাঁই হতো আজিমপুরে। ষাটের দশকে পয়সাওয়ালাদের শেষশয্যার জন্য তৈরি হয় আজিমপুর নতুন কবরস্থান। টাকাওয়ালা লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকে আনুপাতিক হারে। তারা ইহলোক ত্যাগ করতে থাকায় আজিমপুর নতুন কবরস্থানে স্থানসংকুলানে সমস্যা দেখা দেয়। বনানী-গুলশান আবাদ হচ্ছিল অতিদ্রুত। বনানী-গুলশানের বড়লোকদের লাশ খাটিয়ায় করে আজিমপুর পর্যন্ত আনা কষ্টকর। তখন নগরের বড়লোকদের মাটির তলার নতুন আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলা হয় বনানীতে। শুধু জীবিত অবস্থায় নয়, মরণোত্তর মর্যাদাটা রক্ষা করাও শ্রেণীবিভক্ত সমাজের বৈশিষ্ট্য। তাই ...
বাংলাদেশকে বেছে নিতে হবে পথ
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৩ নভেম্বর ২০১২
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেনি। বাংলাদেশের অভ্যুদয় রক্তাক্ত যুদ্ধের ভেতর দিয়ে। সেই যুদ্ধ শুধু হিংস্র পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ ছিল না, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছিল আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো। তখন ছিল দুই মেরুবিশিষ্ট বিশ্ব: আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমি পুঁজিবাদী বিশ্ব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকার অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অনড় ছিল। ভারতের সর্বাত্মক সমর্থন এবং বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের কূটনৈতিক সমর্থন ও তৎপরতা ...
দশ টনি ট্রাকের ভাড়া এক টাকা
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
৬ নভেম্বর ২০১২
শায়েস্তা খাঁর আমল আমাদের সময়ের চেয়ে সস্তা ছিল না, যদিও তখন টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। কিন্তু তখন পরিবহন ব্যয় ছিল এখনকার চেয়ে ঢের বেশি। তখন ওঠানো-নামানোর খরচসহ ২৭৫ মণ চাল আট-দশ কিলোমিটার দূরে নেওয়া এক টাকায় সম্ভব ছিল না। শায়েস্তা খাঁর সময়ে সম্ভব না হলেও মহাজোটের সময় সম্ভব। শায়েস্তা খাঁর সময় ট্রাক ছিল না। নৌকাতেই মালামাল পরিবহন করা হতো বেশি। কারণ, তখন নদীতে সারা বছর পানি থাকত। গরু-মহিষের গাড়িও মাল টানত। দুই-চার মণ মালের বস্তা ঘোড়ার পিঠে বহন করা হতো। তবে আড়াই মণ চাল-ডাল পোস্তগোলা থেকে চকবাজার নাজিমউদ্দিন রোড পর্যন্ত পিঠে বয়ে আনতে এক পয়সায় কোনো ঘোড়া রাজি হতো না। ঘোড়ার সহিস বস্তা পিঠে তুলে দিলেও ঘোড়া বেঁকে বসত। শায়েস্তা খাঁর আমলের বাংলায় অনেক কিছুই ছিল না, এখন আছে। তখনো কিছু মানুষ অপরাধ করত। তাদের জন্য বন্দিশালা ছিল। তাঁর শাসনামলের বাংলা ছিল এখনকার চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু বন্দিশালা ছিল কম। এখন আমাদের ৭৬টি কারাগার কয়েদিতে গিজগিজ করে। ...
বাঙালি জীবনে সেতু
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২
হাজার বছর ধরে বাঙালি হেঁটেছে বাংলার পথে-প্রান্তরে। কর্ণফুলী থেকে তিস্তামুখ পর্যন্ত ঘুরেছে তারা। বাঙালি প্রাচীন জাতি। অনেক পুরোনো তার সভ্যতা। তার অনেক কিছু ছিল, ছিল না শুধু ব্রিজ। বাঙালির জীবনে ব্রিজ যোগ হয় উনিশ শতকে। বাংলাদেশে প্রথম সবচেয়ে বড় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয় কুষ্টিয়ায়, গড়াই নদীর ওপর। রেলওয়ে ব্রিজ। বড় লাট লর্ড মেয়ো ছিলেন সুযোগ্য শাসনকর্তা। গড়াই নদীর ব্রিজটি তাঁর সময়েই তৈরি। গড়াই সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ১৮৭৩ সালে মীর মশাররফ হোসেন প্রকাশ করেন তাঁর কবিতা পুস্তিকা গোড়াই ব্রিজ বা গোড়ী সেতু। ওই পুস্তিকা সম্পর্কে বঙ্কিমবাবুর বঙ্গদর্শন লিখেছিল, ‘ইহার পদ্য মন্দ নহে।’ মীর সাহেবের ‘গোড়াই ব্রিজ’ হারিয়ে গেলেও গড়াই সেতুটি রয়ে গেছে আজও। সেকালে প্রযুক্তি আজকের চেয়ে বেশি উন্নত ছিল না। কিন্তু যা ছিল তার সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়েছে। দুর্নীতির প্রশ্ন কেউ তোলেনি। ...
লাকি সেভেন—শুভ সাত
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১২
ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ল। বৃহস্পতিবার পড়ন্ত বেলায় সাতজন—পাঁচ মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। এখন মন্ত্রিসভার সদস্য দাঁড়াল ৫৩, অর্ধশতের সামান্য বেশি। ‘শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে এসে তাঁদের সালাম জানান। মুজিবুল হক, আবদুল হাই ও ওমর ফারুক চৌধুরী সালাম করেন পা ছুঁয়ে।’ [সমকাল] বাংলাদেশের জন্মের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, তাতে মন্ত্রী ছিলেন ১১ জন। বর্তমান মন্ত্রিসভার চেয়ে ৪২ জন কম। বাহাত্তরের মন্ত্রিসভার চেয়ে ২০১২-এর মন্ত্রিসভা পাঁচ গুণ ...
একজন লিমন
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২৮/০৮/২০১২
২০৭১ সালে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার শতবর্ষ উদ্যাপন করবে কি করবে না—সে সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। তবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শতবর্ষ পালিত হবে। লাখ লাখ শহীদের কথা স্মরণ করে খুব বেশি না হলেও একটি মিনিট নীরবতা পালন করবে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ। আর তখন যদি শতবর্ষের আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ওপর কোনো সেমিনার হয়, তাতে কোনো গবেষণাপত্রে লিমন-বৃত্তান্ত যদি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তা হবে যথার্থ। একজন লিমন একদিকে, অন্যদিকে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকার। গ্রামের নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারের ...
অদম্য মেধাবীদের কাছে প্রত্যাশা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৩/০৮/২০১২
মধ্যশ্রেণী একটি জাতির মেরুদণ্ড। অন্যান্য পেশাজীবী শ্রেণী জাতির হাত-পা প্রভৃতি। যেমন কৃষকসমাজ একটি জাতির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। সমাজের যাবতীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় মধ্যশ্রেণীর দ্বারা। রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনে তারাই প্রধান। শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তারাই সব। সমাজের যত বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাপার রয়েছে, সেগুলোতে মধ্যশ্রেণীর ভূমিকাই মুখ্য। জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্নকে বাস্তবায়নের কাজটি মধ্যশ্রেণীই করে থাকে। মধ্যবিত্ত হলো সমাজের নেতৃত্বদানকারী শ্রেণী। অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় মধ্যবিত্তেরও তিনটি শ্রেণী: নিম্নমধ্যবিত্ত, মাঝারি মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত। অভিজাত-ধনিক শ্রেণী আরেকটি গোত্র। রাষ্ট্রে ক্ষেত্রবিশেষে তাদেরও বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ...
প্রতিক্রিয়া
দেশপ্রেমিকে পদোন্নতি
উপ সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
২৮/০৭/২০১২
ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ওরফে বিশ্বব্যাংক একটি মহাজনি সংস্থা। তার কাজ হলো উন্নয়নশীল সদস্যদেশগুলোকে তাদের উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ ও কারিগরি সাহায্য দেওয়া। কোন দেশে কে প্রেমিক আর কে দেশপ্রেমিক, কে ভীরু আর কে সাহসী, তা নিয়ে যদি তার কাজ করতে হতো, তাহলে বর্তমান স্টাফের চেয়ে ১০ গুণ বেশি লোকবলের দরকার হতো। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে যে খত দেয়, তাতে কারও সম্পর্কে দেশপ্রেম নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না, ছিল দুর্নীতি নিয়ে। তখনকার যোগাযোগমন্ত্রীর দেশপ্রেম নিয়ে কোনো ...
কাঁচা বাঁশের লাঠি
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
২১/০৭/২০১২
ক শ্রেণীর ঘাস বড় হতে হতে বাঁশে পরিণত হয়েছে। বাঁশ বিধাতা বানিয়েছিলেন প্রধানত মানুষের লাঠি হিসেবে ব্যবহূত হতে। বন্য জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে সুদূর অতীতে মানুষ বাঁশ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত পাথর প্রভৃতির সঙ্গে। তারপর মানুষ বাঁশ ব্যবহার করতে লাগল শত্রুর মাথা ফাটানোর কাজে। বাঁশের বহু গুণ। বিচিত্র তার ব্যবহার। লাঠির ব্যবহার খুবই সীমিত। কারণ, মানুষ সারাক্ষণ শত্রুবেষ্টিত থাকে না। জীবনের বেশির ভাগ সময় মানুষ মারামারি না করে সুখশান্তিতে বসবাস করে। তা করতেও বাঁশের প্রয়োজন হয়। দালান ও ঘরবাড়ি তৈরির কাজে, ঘরের বেড়া বানাতে, মই বানাতে, ঝুড়ি তৈরি করতে বাঁশের প্রয়োজন। কোথায় কবে কার মাথা ফাটানো হবে, তার জন্য বাঁশকে বসিয়ে না রেখে মানুষ প্রতিদিনের কাজে বিধাতার এই বিচিত্র উদ্ভিদকে ব্যবহার করতে থাকে। সাঁকো ও নৌকার ছই থেকে কবরের ভাড়া হিসেবে বাঁশের ব্যবহার এখন প্রতিমুহূর্তে। নিষ্ঠুরতার মতো সৌন্দর্যবোধও মানুষের আদিম প্রবৃত্তি। ...
আগুন
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
১৭/০৭/২০১২
গত রোববার রাতে বাংলাদেশের ষোল আনার এক আনা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বস্তুগত বিচারে নয়, চেতনাগত দিক থেকে। ওই রাতে বাংলার মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখল আগুনের লেলিহান শিখা। গোটা জাতি দেখল এক আদিম অমানবিক ট্রাইবাল উৎসব।অতীতে উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোতে এ রকম ঘটনা ঘটেছে। ছেচল্লিশের আগস্টে চার দিনব্যাপী কলকাতায় ঘটেছে। অক্টোবরে কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে নোয়াখালীতে ঘটেছে। একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ রকম অগ্নিসংযোগ করেছে। ঠাঁটারি বাজারে কসাইদের দোকানগুলো জবাই করা পশুসহ পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘুমন্ত কসাইরা পুড়ে কয়লা ...
পদ্মা নদীর অসমাপ্ত আত্মকথা
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
৩ রা জুলাই, ২০১২
আমাদের বাড়ি থেকে পদ্মা নদী দেখা যেত। বাংলাঘরের সামনে থেকে পদ্মার পানি পর্যন্ত ফাঁকা—ফসলের জমি। বাড়িতে বসেই দেখতাম নদীতে অগণিত নৌকা। যাত্রীবাহী প্রকাণ্ড গয়না ও ছান্দি নৌকা। ছোট ছোট জেলে ডিঙি। লঞ্চ। স্টিমার। ছোটবেলা মহাকবি মাইকেল, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, কায়কোবাদদের কাব্যগ্রন্থ আমার আব্বা আমাকে পড়ে শোনাতেন। আমার ধু-ধু মনে পড়ে তিনি নবীন সেনের একটি কবিতা শুনিয়েছিলেন। তার শিরোনাম ‘কীর্তিনাশা’। পদ্মা নদীর কথা। আমি পরম ভাগ্যবান। বাড়িঘরও গেছে। পুরোনো দিনের বইপত্রও প্রায় সবই খোয়া গেছে। সেই কালের পদ্মাও আজ নেই। কিন্তু এতকাল পর গত শনিবার একটি ধূসর এক্সারসাইজ খাতা খুঁজে পাই। খাতার ওপরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা: ‘আত্মকথা’। ভেতরে কিছুটা পড়ে মনে হলো লেখিকা স্বয়ং পদ্মা নদী। জরুরি অ-কাজে কোথাও ছুটতে হবে। তাই স্তম্ভ ভরাট করতে সেখান থেকে খানিকটা তুলে দিচ্ছি: পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে আমার নাম পদ্মা নদী। আরেক দেশে আমি অন্য নামে পরিচিত। আমার আর একটি নাম রহিয়াছে। কীর্তিনাশা। তোমরা আমাকে বলিতে পারো পদ্মা ওরফে কীর্তিনাশা। কীর্তিনাশা নামকরণের কারণ ...
তালিয়া বাজাও—জোরসে তালিয়া বাজাও
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
২৫/০৬/২০১২
ষাট-বাষট্টি বছর আগের সমাজ আর আজকের সমাজের মধ্যে বিরাট পার্থক্য। সেই ঢাকা শহরের সঙ্গে আজকের ঢাকা মহানগরের জীবনের তফাত পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তখন জীবনের গতি ছিল মন্থর ও নিস্তরঙ্গ। রাজনীতি তো নয়ই, সমাজও দুর্বৃত্তায়িত ছিল না। লোমহর্ষক অপরাধের মাত্রা ছিল খুবই কম। তবু বিচ্ছিন্ন অপরাধ সংঘটিত হতো। আইনের শাসন ছিল। অপরাধী যে-ই হোক, তার পার পাওয়ার উপায় ছিল না। এমপির ছেলে হলেও নয়, মন্ত্রীর ভাই হলেও নয়। পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসন ছিল দক্ষ ও নিরপেক্ষ। পঞ্চাশ এমনকি ষাটের দশকেও ছেলেধরার ভয় ছিল না মা-বাবার। বাড়ির উঠানে, সামনের রাস্তায় বা পাড়ার মাঠে নির্ভয়ে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করত। অনেক দূরে স্কুলে যেত হেঁটে, একা অথবা দলবেঁধে। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল একেবারেই অন্যরকম। টেলিভিশনের নাম জানত না অধিকাংশ মানুষ। কম্পিউটারের নাম তো কেউই নয়। ...
আওয়ামী লীগের সরকারগুলো
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
১৫/০৬/২০১২
দুই সপ্তাহ আগে স্বাধীন বাংলাদেশ পূর্ণ করেছে তার প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার পূর্ণ করছে তার তিন বছর। তবে আওয়ামী লীগের দেশ শাসনের অভিজ্ঞতা তিন বছরের নয়: তিন বছর সাড়ে ১০ মাস, পাঁচ বছর এবং তিন বছর—মোট ১১ বছর সাড়ে ১০ মাসের। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান-যুগে দলটি দুই বছর প্রাদেশিক সরকার চালিয়েছে পঞ্চাশের দশকে। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ তার শাসনকালের এক যুগ পূর্ণ করতে যাচ্ছে। যে দল তিন দফায় প্রায় ১২ বছর সরকারে থাকে, সে দলের ...
স্বাধীনতার ৪০ বছর: একটি অনন্য উপলক্ষ
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
০৪/০৬/২০১২
২০০৫-এর শেষ বা ২০০৬-এর প্রথম দিকে রাজনৈতিক ইতিহাসের দুই স্বনামধন্য শিক্ষককে বললাম, মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ এবার। এ উপলক্ষে কিছু হওয়া দরকার। লেখালেখি, আলোচনা সভা, সেমিনার প্রভৃতি হতে পারে। তাঁরা উভয়েই অবাক হলেন। ভাব এ রকম যে, বলে কী লোকটা। মনোভাব গোপন না করে যা বললেন তা সংক্ষেপে এ রকম: আপনার মধ্যে এই পাকিস্তান-মার্কা বুদ্ধিটা এল কী করে? মুসলিম লীগের কবর হয়ে গেছে বহু আগে। তার হাড়গোড় মিশে গেছে মাটিতে। দু-চারখানা থাকলেও পাকিস্তানে থাকতে পারে। সেই লীগের আবার শতবর্ষ পালন কি? তারপর তারা লীগকে শুধু নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেঝেতে বসেই নবাব সলিমুল্লাহকে এবং লীগের শীর্ষ নেতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে নিকুচি করলেন। খুব সাবলীলভাবে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের মুখের সামনে দ্বিমত পোষণ করা বিপজ্জনক। তাঁদের বক্তব্যের তেজ দেখে মনে হলো, ১৯০৫ সালে যদি তাঁদের বয়স ২৫ এর মতো হতো তাহলে মুসলিম লীগ গঠনের দিন ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের দিয়ে নবাববাড়ি ভাঙচুর করাতেন। নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলকদের নেতাগিরি ছুটিয়ে দিতেন। ...
অতিথি নারায়ণদের কথা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৫/০৫/২০১২
কোনো কোনো উপলক্ষ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং তা বিশেষভাবে বিচার্য। সব উপলক্ষ নয়। কোনো দেশে বিদেশি অতিথি সফর করলেই তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমনকি অতিথিটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। সব কুটুম্ব বড় কুটুম্ব নয়। এই উপমহাদেশে অতিথিকে বলা হয় নারায়ণ। কিন্তু সব অতিথি নারায়ণ নন—কোনো কোনো অতিথি নির্ভেজাল নারায়ণ। নারায়ণ সন্তুষ্ট থাকলে তাঁর বদৌলতে ভাগ্য খুলে যাবে। নারায়ণ নাখোশ হলে কপাল পোড়ার সম্ভাবনা ষোলো আনা। ...
প্রেমিকের দাঁত
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
০৭/০৫/২০১২
প্রেম-বন্ধুত্ব কোনো স্বার্থনিরপেক্ষ চিরস্থায়ী বিষয় নয়। তা সে বন্ধুত্ব নর-নারীর মধ্যেই হোক বা এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের হোক বা জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের হোক। বন্ধুত্ব বিষয়টিই এ রকম যে—যদি তুমি আমার সঙ্গে থাকো তো তোমাকে আমি আমার কোলে তুলে নেব। যদি না থাকো, বিরুদ্ধে যাও অথবা এর-ওর সঙ্গে মাখামাখি করো, তাহলে তোমার সবগুলো দাঁত তুলে নেব। এ ব্যাপারে একেবারে ব্যবহারিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পোল্যান্ডের এক নারী গত হপ্তায়। তাঁর বাড়তি সুবিধা ছিল এই যে তিনি একজন দাঁতের ডাক্তার। অর্থাৎ প্রতারক বন্ধুকে শায়েস্তা করার অস্ত্র—দাঁত তোলার অস্ত্রপাতি—তাঁর নিজেরই ছিল। অন্য কোনো ডেন্টিস্টকে অতিরিক্ত ফি দিয়ে নিয়োগ করতে হয়নি। বাঙালি রেগে গেলে বলে, ‘এক থাপ্পড়ে তোর বত্রিশ পাটি দাঁত ফেলে দেব।’ পোল্যান্ডের প্রেমিকা থাপড় দিয়ে ফেলেননি, প্রেমিককে অজ্ঞান করে যন্ত্র দিয়ে টেনে তুলেছেন তাঁর ৩২টি দাঁত। ...
জিডিপি ও জিডিএইচ
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২৪/০৪/২০১২
কোনো কোনো দেশের মানুষ টিভির খবর দেখে ও পত্রিকা পড়ে আনন্দের বন্যায় ভাসে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা। কোনো কোনো দেশের টিভির দর্শক ও কাগজের পাঠক চোখের পানিতে ভাসে। যুগে যুগে আনন্দ ও সুখ শুধু শাসকদের জন্য বরাদ্দ। তাঁরা সুখ-শান্তিতে হাসেন হা হা করে। হাহাকার করে কাঁদে শাসিতরা। এই দুঃখময় ও শোক-সন্তাপদগ্ধ পৃথিবীতে কোনো কোনো জাতির মধ্যে এখনো কিছু প্রথা প্রচলিত রয়েছে, যা বড়ই চমৎকার। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ইতালির পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি, আইএমএফের চাকরিচ্যুত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডোমিনিক স্ট্রস-কান প্রমুখের পরামর্শে কিছু প্রথা জাতিসংঘের উদ্যোগে সদস্যদেশগুলোতে প্রবর্তনের ব্যবস্থা করা উচিত। এবং তা করা হলে পৃথিবীর পনেরো আনা পুরুষের সমর্থন পাবে। ...
নিরাপদ দূরত্ব-তত্ত্ব
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
০৬/০৪/২০১২
এ মাটির মানুষের এমনই নিয়তি যে রাস্তায় বেরোলে গাড়িচাপা পড়ে মরে। গাড়ির যাত্রী হলে গাড়িসহ খাদের মধ্যে গিয়ে পড়ে মরে। আমরা বললাম, চালকদের একটু ভালোমতো যোগ্যতা পরীক্ষা করে লাইসেন্স দিন। চালকদের অকৃত্রিম সুহূদ সে অনুরোধ খারিজ করে দিয়ে মন্ত্রী উপস্থিত করলেন তাঁর ‘গরু-ছাগল চেনা তত্ত্ব’। রাস্তাঘাট, কোর্টকাচারিতে সাংবাদিকেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে পোশাক পরা জনগণের বন্ধুরা তাদের বেদম মারধর করেন। আরজি করা হলো: মারধর ভালো লাগে না, তাদের একটু সামলান। প্রত্যুত্তরে তাদের মালিক উপহার দিলেন ‘নিরাপদ দূরত্ব থিওরি’। সব চালক মানুষ মারেন না। সব পুলিশও সাংবাদিক ও শিক্ষকদের মারেন না। যাঁরা সড়কে দুর্ঘটনা ঘটান ও সংবাদমাধ্যম কর্মীদের মারেন, শিক্ষকদের পেটান, আমরা শুধু তাদেরই সামলাতে বলেছিলাম। ...
সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি ও সমুদ্রজয়
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
০২/০৪/২০১২
একাত্তরে আমরা স্বাধীন ছিলাম না। হিংস্র বাঘ-ভালুক ও হায়েনার সঙ্গে খাঁচার মধ্যে বন্দী ছিলাম সাড়ে আট মাস আমরা সাড়ে সাত কোটি মানুষ। তবে হিংস্রদের হাতে-পায়ে ধরেও ছিলাম না। তাদের ধারালো দাঁত ও তীক্ষ নখ ভাঙতে গিয়ে মরেছে আমাদের শতে শতে। নয়টি মাস পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের দালালদের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রামে নিয়োজিত ছিল বাংলার মানুষ। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের প্রশাসনের পতন ঘটে। ডিসেম্বরের শেষে প্রবাসী সরকার ফিরে আসে। বাহাত্তরের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বাহাত্তরের মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মিত্রবাহিনীর সেনারা বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরে যেতে থাকেন। বাংলার মানুষ একটি ভয়ংকর শ্বাসরুদ্ধকর ও বিপজ্জনক অবস্থা থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বাদ পায়। ...
প্রচারযজ্ঞ
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
২৭/০২/২০১২
বিধাতার এই বৈচিত্র্যময় বিশ্বে কত কী ঘটে! কত ক্ষেত্রে কত মানুষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তার ফলে অনেক মানুষই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পান। যেমন গত পরশু নেপালের চন্দ্র বাহাদুর দাঙ্গি বিশ্বের সবচেয়ে বেঁটে মানবের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর বয়স ৭২, উচ্চতা ২১.৫ ইঞ্চি। কোনো রাজধানী মহানগরের আধখানায় নির্বাচনের নাম-গন্ধ নেই। কবে নির্বাচন হবে তার ঠিকঠিকানা নেই। আদৌ দু-আড়াই বছরের মধ্যে নির্বাচন হবে কি না তার নিশ্চয়তা নেই। শবে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের সংশোধনী শুরু হয়েছে। ৯০ দিনের পরিবর্তে ১৮০ ...
সৈয়দ আবুল মকসুদ সম্পর্কে কিছু কথা
সহজিয়া কড়চা
23/02/2012
  ১৯৪৬ সালের ২৩শে অক্টোবর সৈয়দ আবুল মকসুদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং গবেষক। তিনি তাঁর সাহসী ও গবেষণামূলক লেখার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন্। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। তাঁর লেখা  ভ্রমণ কাহিনী ‘জার্নাল অব জার্মানী’ অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।   তাঁর বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: যুদ্ধ ও মানুষের মূর্খতা, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর জীবন, কর্মকান্ড, রাজনীতি ও দর্শন, গান্ধী, নেহেরু ও নোয়াখালী, ঢাকার ...
জেলের ভাত
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২৫/০১/২০১১
অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা প্রায় ১৭ প্রজাতির হাঙরের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, হাঙর মাছ সবকিছু রংহীন দেখে। রঙিন বস্তুকে তারা দেখে রংহীন বর্ণে। গবেষণাপ্রধান ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক নাথান হার্ট বলেছেন, ‘এই তথ্য আমাদের হাঙরের আক্রমণ থেকে বাঁচার পথ খুলে দিল। যদি কেউ এমন রঙিন পোশাক পরে পানিতে নামে, যার রং সমুদ্রের পানির রঙের চেয়ে খুব একটা গাঢ় নয়, তাহলে তাকে আর হাঙর আক্রমণ করতে পারবে না।’ ...
টাকা ২২২,৪৯১,০০০০০০০.০০ মাত্র
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১১ জুন, ২০১৩
সম্রাট অশোক ও আকবরের সুবিধা ছিল এই যে তাঁদের সময় পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলো ছিল না। নির্বাচিত পার্লামেন্ট বা সংসদ না থাকলেও অশোকেরও অনির্বাচিত পরিষদ ছিল, আকবরেরও উপদেষ্টারা ছিলেন আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো—এখন যা বিলুপ্ত। তাঁদের সরকারকেও একটি বার্ষিক বাজেট তৈরি করতে হতো। সেকালে ছিল না শুধু বাজেট-বক্তৃতা। বলাই বাহুল্য, বাজেট না থাকলে আকবর ফতেহপুর সিক্রি এবং তাঁর নাতি শাহজাহান তাজমহল বানাতে পারতেন না। বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছাড়াই তাঁরা ওসব বানিয়েছিলেন। বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের বাজেট আর বঙ্গীয় বাজেট এক জিনিস ...
গুজবের মনস্তত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৪ মে, ২০১৩
গুজব এক অতি অদ্ভুত মজাদার, মুখরোচক ও শ্রুতিমধুর জিনিস। তবে গুজবের দার্শনিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক তাৎপর্যও রয়েছে। গুজবের দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো সম্পর্কে যদি কেউ জানতে চান, তাঁকে আমি অনুরোধ করব দুটি বই পড়তে। একটি গর্ডন অলপোর্ট এবং লিও পোস্টম্যানের দ্য সাইকোলজি অব রিউমার (নিউইয়র্ক ১৯৪৭) এবং অন্যটি মুলেন গোয়েথাল্স ও জর্জ গোয়েথাল্স সম্পাদিত থিওরিজ অব গ্রুপ বিহেভিয়ার (স্প্রিংগার-ফার্লাক, ১৯৪৭)। এই বই দুটি থেকে যা জানতে পেরেছি তা হলো গুজবের জন্য ডিএনএ দায়ী। গুজবপসারিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, দোষ ...
হেলিকপ্টার
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
০৭ মে, ২০১৩
হেলিকপ্টারে ভ্রমণের যে কী সুখ, তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ না হলে উপভোগ করার সৌভাগ্য আমার মতো বিত্তহীনের হতো না। সে এক বিরল সৌভাগ্য! তবে এখনকার অনেক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা যে ধরনের ফড়িংয়ের মতো হেলিকপ্টারে চড়েন, আমি চড়েছি তার চেয়ে অনেক বড় আকারের হেলিকপ্টারে। নেতা হিসেবে নয়, কর্মী হিসেবে। বুঝতে পারছি না, হেলিকপ্টারে চড়ার স্মৃতি এখন কেন হঠাৎ মনে পড়ছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন। এসে ...
উপলক্ষটি আত্মোপলব্ধি ও আত্মসমালোচনার
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
৩০ এপ্রিল, ২০১৩
সাভারে ভবনধস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রে যাঁদের কথার মূল্য আছে, তাঁরা বলেছেন, বহুতল ভবনটি নির্মাণে নিম্নমানের রড, সিমেন্ট, বালু প্রভৃতি ব্যবহারের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। বক্তব্যটি গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। আমার অল্প বিদ্যাবুদ্ধিতে যা বুঝি, তা হলো নিম্নমানের রড-বালু-সিমেন্টের চেয়ে নিম্নমানের চিন্তা একটি জাতি ও দেশের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। সাভারে ভবনধসের মতো ঘটনা, আমি দুর্ঘটনা বলতে চাই না, বাঙালির ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। যদিও এর চেয়ে বেশি মানুষ বাংলাদেশে অতীতে এক ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন, তেমন দৃষ্টান্ত বিরল নয়। ভয়াবহ ঘটনাটি ...
কত রঙ্গ বঙ্গে
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২৪ এপ্রিল, ২০১৩
কত যে রঙ্গ এই বঙ্গে তা বিশ্বের আর কোনো দেশের মানুষ ভাবতেই পারবে না। আমাদের এই রিপাবলিকের পাবলিকরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের নামে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে। এখানে যেমন প্রতিনিয়ত ঘটে গভীর মর্মান্তিক ঘটনা, তেমনি তামাশা ও রগড়ের শেষ নেই। স্বাধীনতার মর্ম যেমন এ বঙ্গের মানুষ খুব বেশি বোঝে, তেমনি গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে তাদের চেতনা আরও বেশি প্রখর। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বহু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সদ্ব্যবহারের প্রকাশ ঘটে। কোনো নির্বাচনের কথা শুনলেই অনেকে তড়াক করে দাঁড়িয়ে ...
‘দ্য সুপ্রিম টেস্ট’
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
০৭ এপ্রিল, ২০১৩
অনেক স্বপ্নের যোগফল স্বাধীন বাংলাদেশ। পাঁচ-দশ বছর নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশের মানুষ দেখেছে স্বশাসনের স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখেছেন সাধারণ মানুষ ও অসাধারণ প্রতিভাবান মহামানবেরা। সেই স্বপ্নের একটি পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে ষোলোই ডিসেম্বর, একাত্তর। দেশটা শত্রুর হিংস্র থাবা থেকে মুক্তি পেল বটে, কিন্তু স্বশাসনের ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দেখা গেল না। স্বার্থান্বেষীরা নানাভাবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের বিভ্রান্ত করতে লাগলেন। পরিস্থিতি উপলব্ধি করেও বিতর্কে না জড়ানোর উপায় হিসেবে অনেকে চুপ করে রইলেন। বাংলাদেশ অবজারভার-এর সম্পাদক তাঁর বিবেকের তাড়নায় লিখলেন এক ...
বই ও প্রকাশকদের কথা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
বাংলাদেশে অতীত-বিশারদ ও ইতিহাসসজ্ঞান মানুষের সংখ্যা বিপুল। রাজনীতির ধুলা যত উড়বে, এই সংখ্যা তত বাড়বে। তবে যে জাতি তার রাজনৈতিক ইতিহাস দুমড়েমুচড়ে দলা পাকিয়ে ৪০-৪৫ বছরের সময়সীমার মধ্যে আটকে রাখতে পারে, তার সাংস্কৃতিক ইতিহাস যে খুব দীর্ঘ হবে না—তাতে সন্দেহ কী? এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় আমাদের এক দেশহিতৈষী প্রকাশক একদিন এক সাংবাদিক বা সাংস্কৃতিক কর্মীকে গর্ব করে বলছিলেন, স্বাধীনতার আগে আমাদের প্রকাশনাশিল্প বলে কিছু ছিল না। একাত্তরের পরই বাংলাদেশে প্রকাশনাশিল্প গড়ে ওঠে। ...
জেগে উঠলেই জয় হয় মানুষের
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
বাংলাদেশে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে হয় মাসব্যাপী একুশের বইমেলা। তার পোশাকি নাম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। প্রায় একই সময় পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হয় ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা’। একটির নাম ‘গ্রন্থমেলা’, আরেকটির নাম ‘পুস্তকমেলা’। কিন্তু মানুষ দুটোকেই বলে ‘বইমেলা’। তবে দুই দেশের গ্রন্থমেলার ও পুস্তকমেলার নামের পার্থক্য শুধু নয়, চরিত্রেও রয়েছে পার্থক্য। আমাদেরটির নামের আগে ‘অমর একুশে’ শব্দটি থাকায় তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে এটির জাতীয়তাবাদী চরিত্রের কথা। কলকাতার বইমেলার সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি যুক্ত থাকায় পরিষ্কার বোঝা যায়, এটি শুধু ভারতের জাতীয় মেলা নয়। প্রকৃতপক্ষেই ...
মোটা কোমর বনাম মোটা মাথা
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
এত বেশি হতে হতে বিশ্বরেকর্ড করার মতো বিষয় এখন কমে আসছে। তবে অনুসন্ধানের অন্ত নেই। সবচেয়ে মোটা কোমর নিয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছেন এক নারী। আমাদের কাগজে গত হপ্তায় তাঁর প্রকাণ্ড কোমরের ছবিসহ প্রতিবেদন বেরিয়েছে। তাঁর কোমরের ব্যাস তাঁর উচ্চতার চেয়ে বেশি। সাড়ে পাঁচ ফুটের ওপরে। তাঁরও স্বামী আছেন। তিনি হালকা-পাতলা। বউয়ের কোমর নিয়ে তাঁর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি নাকি অসুখী নন। সেটা যদি তাঁর মনের কথা নাও হয়, তবু আমরা অবিশ্বাস করতে পারি না। খুব যে ...
বিশ্বের বড় ফুল ও রক্তের বি গ্রুপ
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১ জানুয়ারি ২০১৩
শুভ নববর্ষ। চল্লিশের দশকের এক বামপন্থী কবি লিখেছেন: প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য,/ ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা।/ কিন্তু গোটা দুনিয়া ধ্বংস হওয়ার দিনক্ষণ ধার্য হওয়ার পরেও যখন পৃথিবী টিকে আছে, সুতরাং সহজে আমরা ধ্বংস হচ্ছি না। এক্সটেনশনে থাকলেও এ জগৎ আরও কিছুকাল থাকবে। সুতরাং, ৩৬৫ দিনের কোনো একটি দিনে ফুলের মূল্য দেওয়া উচিত। পৃথিবীতে ফুলও হাজার হাজার রকম, কোনো ফুল নাকফুলের সমান ছোট্ট। তেমন ফুল আমার টবেও ফোটে। খোঁপায় গোঁজার মতো ফুলের সংখ্যাই বেশি। তবে বিরাটাকার ফুলও পৃথিবীতে আছে। ...
ভারত সফরে খালেদা জিয়া
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
৩০ অক্টোবর ২০১২
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমন্ত্রণে ভারত সফর করছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজনীতি-সচেতন মানুষ এবং দুই দেশের পর্যবেক্ষক ও প্রচারমাধ্যম তাঁর এই সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের স্বার্থে ঘনিষ্ঠতর করা ইতিহাসের দাবি। কারণ, দুই দেশের হাজার হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য অভিন্ন। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই কোনো দেশের রাজনৈতিক ভূগোলের পরিবর্তন ঘটে। সেই বাস্তবতা মেনে না নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ১৯৪৭-এ। একাত্তরে শুরু হয় আর এক নতুনতর অধ্যায়। ...
রোরুদ্যমান রামু
কলাম
বিডি টুডে
১৬ অক্টোবর ২০১২
কক্সবাজার থেকে রামুর দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। গাড়িতে মিনিট বিশেকের পথ। শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়কে ঢুকেই ডান দিকে তাকিয়ে দেখি, কয়েকটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বৌদ্ধবিহার। মন্দির প্রাঙ্গণে ফল-ফুলের গাছ পুড়ে ছাই। অতি উঁচু নারকেল-সুপারির গাছগুলোও পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়েছে। মনে হলো রামু কাঁদছে। রোরুদ্যমান রামু। জাগতিক নিয়মে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। শুধু নীরবে কাঁদছে দেশের এক প্রান্তে পড়ে থাকা কয়েক শতাব্দীর প্রাচীন শান্তিপূর্ণ শহরটি। ধারণা করা যায় না যে এ কোনো মানুষের কাজ। মনে হলো, যেন এক ক্রুদ্ধ অপদেবতা ভয়ংকর আক্রোশবশত সবকিছু লন্ডভন্ড ...
ফুল মার্কস
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
১১/০৯/২০১২
বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক শিক্ষক পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। তাঁদের সংলাপ ছিল এ রকম: পরীক্ষক: ব্যাংকের কাজ কী? পরীক্ষার্থী: মানুষের টাকা নির্দিষ্ট হারে সুদ দেওয়ার শর্তে জমা রাখা। সে টাকা সুদের বিনিময়ে বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং আগ্রহী ব্যক্তিদের জোগান দেওয়া বা খাটানো। পরীক্ষক: বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে আদায়ের অযোগ্য ঋণ আছে কি না। থাকলে তার পরিমাণ কত? পরীক্ষার্থী: আছে। গত জুন নাগাদ ছিল ১৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। পরীক্ষক: কোন ব্যাংকে মন্দ ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি এবং কত টাকা? পরীক্ষার্থী: সোনালী ...
বুয়েট বাঁচান
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলোপ
৩১/০৭/২০১২
ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে যতই লিখুন লো-ফ্যাট মিল্ক, আমি তা মানি না। গরুর দুধ কিনতে প্রায় প্রতি হপ্তায় ঢাকার ৩০-৪০ কিলোমিটারের মধ্যে হাটবাজারে যাই। আশপাশের গ্রাম থেকে গৃহস্থরা দু-এক কেজি দুধ নিয়ে বাজারে আসেন। কেউ বা আসেন তাঁর এক টুকরো জমিতে ফলানো কিছু তরিতরকারি বা শাকসবজি নিয়ে। কেউ ঝুড়িতে দু-আড়াই কেজি কাঁচা মরিচ নিয়ে বসেন। ওসব বেচে চাল-আটা কিনে বাড়ি ফেরেন। অথবা লেগুনে চাষ করা একটি পাঙাশ মাছের বাচ্চা। আমার ছয় কেজির মতো দুধ হলেই হপ্তা চলে। তিন-চারজনের থেকে কিনতে হয়। ...
ঘোড়ার ঘাস কাটা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৪/০৭/২০১২
এখন মানুষ ঘরে বসেই নাটক-সিনেমা দেখে। যারা খুব আরামপ্রিয়, তারা বিছানায় শুয়ে শুয়ে দেখে। টিভিতে দেখে। কম্পিউটারে দেখে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মোবাইল ফোনে দেখে। গান শোনার কত রকম যন্ত্র। বিনোদনের জন্য কারও মুখাপেক্ষী হওয়ার দরকার নেই। পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে তা ছিল না। টিভি কী জিনিস, তা-ই মানুষ জানত না। জারিগান হোক, যাত্রাপালা হোক, নাটক হোক—কষ্ট করে অনেকটা পথ হেঁটে গিয়ে দেখতে হতো। শহরের মানুষ সিনেমা-বায়োস্কোপ দেখত টিকিট কেটে হলে গিয়ে। গ্রামে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে ফাঁকা মাঠের মধ্যে, কোনো ...
স্বপ্নের সেতু সমাচার
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১০/০৭/২০১২
বাংলার মাটিতে গাঁয়ের মেঠোপথের ওপর সাড়ে ছয় গজ দৈর্ঘ্য ও দুই গজ প্রস্থ কালভার্ট তৈরিতে অবধারিতভাবে কয়েক মণ গম ও কয়েক হাজার টাকার দুর্নীতি হয়ে থাকে। সেখানে প্রকাণ্ড এক নদীর ওপর সাড়ে ছয় কিলোমিটার লম্বা ব্রিজ নির্মাণে কোনো দুর্নীতি অর্থাৎ টাকা ও ডলার খাওয়াখাওয়ি হবে না—তা বাংলার একটি বালুকণাও বিশ্বাস করে না। ওই ধরনের একটি স্বর্গীয় প্রকল্পে টাকা উড়বে, চৈতী ঘূর্ণি হাওয়ায় যেমন শুকনো পাতা উড়তে থাকে। যার আকাঙ্ক্ষা ও মুরোদ আছে, সে ওই উড়ন্ত টাকা কুড়িয়ে থলে ভর্তি ...
কাঁদো কবি কাঁদো
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
১৮/০৬/২০১২
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অতুলনীয় উপন্যাসটির নাম কাঁদো নদী কাঁদো। বাংলার মানুষের চেতনাপ্রবাহ রীতিতে উপন্যাস লেখার ক্ষমতা থাকলে তারা লিখত ‘কাঁদো কবি কাঁদো’। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছেলে ছোটখাটো কবি ছিলেন না। সুখ-দুঃখের বহু রকমের কবিতাই লিখেছেন। চোখের সামনে একের পর এক প্রিয়জন চলে গেছে। দুঃখের গানও লিখেছেন অনেক। মহর্ষিপুত্র নিজের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন অন্যকে। অন্যরাও তাঁর পদ্য আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন তাঁকে। কিন্তু তিনি তাঁর কবিতা ও গান শুনে কাঁদেননি। যদি একবার কোনো রকমে কাঁদতেন, তা হলেই হয়েছিল! সেই কান্নার পটভূমি, কবার রুমালে চোখ মুছেছেন এবং সেই কান্নার তাৎপর্য বাঙালির জীবনে কতটা—প্রভৃতি নিয়ে হতো গবেষণা। এবং নির্দ্বিধায় বলা যায়, তাঁর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশে যে ২৫০টির মতো বই বেরিয়েছে সেখানে যোগ হতো আর একখানা, যার শিরোনাম হতো: ‘রবীন্দ্রকান্নার বহুমাত্রিকতা’ অথবা ‘রবীন্দ্রনাথের কান্না ও বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা’। ...
নির্বাচন কমিশন: রাষ্ট্রপতির সংলাপ
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
০১/০৬/২০১২
বাঙালি নেতারা কোনোকালেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেন না। তা তাঁরা করতে পারেন না কখনো তাঁদের কপালের দোষে, বেশির ভাগ সময় স্বভাবদোষে। রাষ্ট্রের মতো একটা প্রকাণ্ড জিনিস পরিচালনার দায়িত্ব বঙ্গোপসাগরের এই বদ্বীপ গঠিত হওয়ার পর থেকে বাঙালির ভাগ্যে জোটেনি। বাঙালি মুসলমানের ইউনিয়ন বোর্ড, কখনো জেলা বোর্ডে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। ১৯৩৭ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক পরাধীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে একটি প্রদেশ পরিচালনার সুযোগ পান। জাতির ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত পার্লামেন্টারি সরকার। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ছিলেন না। তাঁর সরকার ছিল মুসলিম লীগের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার। রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল কংগ্রেস তাঁকে পদে পদে বিড়ম্বনায় ফেলতে চেয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্য গড়ার যে সুযোগটি বাঙালি পেয়েছিল, তা কাজে লাগানো গেল না। দ্বিতীয়বার সুযোগটি এসেছিল ১৯৪৭ সালে। এ সুযোগটি আরেকটু ভালো। ...
মঙ্গল-আলোকে আলোকিত হোক জাতি
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
৩০/০৫/২০১২
গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথের কাঁটাগুলো অপসারণের দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতাদের। পৃথিবীর বহু দেশেই বিভিন্ন সময় গণতন্ত্রের যাত্রাপথে বিচিত্র বাধা ছিল। গণতন্ত্রে নানা মত, নানা পথ থাকবেই। কোনো একটি মত কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়, নানা মতাদর্শের সমন্বয়ের ভেতর দিয়েই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। বাংলাদেশের প্রধান দলগুলোর মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা কমিয়ে আনা মোটেই কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। শুধু দরকার রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা অনেক দুঃখের তিমিরের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। বিশ্ববাসী অনেকের আশঙ্কা ছিল বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে টিকে থাকতে পারবে না। কারণ তার ভূমি কম, প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত এবং জনসংখ্যা ঘনবসতিপূর্ণ; কিন্তু তাদের আশঙ্কা বা অনুমান অমূলক প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তান থেকে সরে এসে স্বাধীন বাংলাদেশ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্টই ভালো অবস্থানে আছে। ...
সরকারি দল, বিরোধী দল ও পাবলিক
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৯/০৫/২০১২
রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে পাবলিকের, অর্থাৎ ভোটারদের কোনোরকম কুটুম্বিতা নেই। ভোটারদের সবারই বাপ-মা আছেন। অনেকের আছেন শ্বশুর-শাশুড়ি। কারও সৎ শ্বশুর-শাশুড়ি, কারও চাচা-মামা, ফুফা-খালু। কারও বেয়াই, ভায়রা, জেটেস ও শালা-শালী। ভোটারদের সঙ্গে তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সে রকম কোনো আত্মীয়তা বা কুটুম্বিতার সম্পর্ক নেই। যখন যাকে উপযুক্ত ও যোগ্য মনে করেন, তখন ভোটাররা তাঁকে ভোট দেন। অনন্তকালের জন্য তাঁরা কাউকে নির্বাচিত করেন না। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেন তাঁরা। তবে আবার এবং বারবার পুনর্নির্বাচনের সুযোগও থাকে। ব্যক্তিগত ...
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সামন্ততান্ত্রিক নেতৃত্
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
০১/০৫/২০১২
রাজনীতি একটি পেশা। তবে রাজনীতিকের পেশাটি একজন তাঁতির পেশার মতো নয়, কর্মকারের পেশার মতো নয়, সুতার-মিস্ত্রি বা ডাক্তার-কবিরাজের পেশার মতো নয়। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পেশার মতোও নয় রাজনীতি। একজন তাঁতিকে উপার্জনের জন্য বসে বসে কাপড় বুনতে হয়। কর্মকারকে হাপরে লোহা গলিয়ে দা-বঁটি-খোন্তা-কুড়াল তৈরি করতে হয়। মিস্ত্রি দরজা-জানালা-আসবাবপত্র বানান। ডাক্তার-কবিরাজ রোগীর রোগ নির্ণয় করে ওষুধ দিয়ে তাকে আরোগ্য করেন। এসব কাজের জন্য তাঁরা মজুরি বা ফি পান। ...
ভারতের সঙ্গে স্থায়ী বন্ধুত্ব চায় জনগণ
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
২১/০৪/২০১২
বাংলাদেশ ও ভারত নিছক প্রতিবেশী মাত্র নয়। এমন আর দুটি রাষ্ট্র পৃথিবীতে নেই, যাদের জাতীয় সংগীত একই কবির রচনা। দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হাজার হাজার বছরের। একই জাতিসত্তার মানুষ দুই দেশের নাগরিক। তাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য— স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও—মোটের ওপর এক। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে, তখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। অভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্য আর জাতীয় স্বার্থ দুই বিষয়। যে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে অভিন্ন সীমান্ত এবং যে দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন নদনদী প্রবাহিত, সেখানে তাদের মধ্যে সময় সময় কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে এবং দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। তাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। প্রতিটি রাষ্ট্রের সরকারই তাদের নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ বড় করে দেখবে, সেটা খুবই স্বাভাবিক। ...
সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষ ও বিপক্ষ
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
২০/০৪/২০১২
আমি আমার যৎসামান্য বিদ্যার পুঁজি ও আধা শতাব্দীর অল্পস্বল্প অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির রাজনীতির ইতিহাস যতটুকু জানি, সন্ধ্যা সাতটায় টিভির সামনে বসলে দেখি যে তার সবই ভুল। গর্জে ওঠে টেলিভিশনের স্ক্রিন। পেছনে শোভা পায় কোনো একটি ব্যানার। রাতারাতি নামকরণ করা কোনো সংগঠনের আলোচনা সভা। মঞ্চে উপবিষ্ট অতিচেনা প্রতিমন্ত্রীরা অথবা ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয়-তৃতীয় সারির কোনো নেতা। আলোচ্য বিষয়বস্তু অবধারিতভাবে একটাই: স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। সেখানে কঠোরতম ভাষায় শ্রোতাকে জ্ঞান দান করা হয়, শিক্ষা দেওয়া হয় ‘সঠিক ইতিহাস’। জাতির সমকালীন ইতিহাস হওয়া উচিত কাচের মতো স্বচ্ছ। টিভির সামনে বসলে শুধু চোখ নয়, মাথাটাও ঘোলা হয়ে যায়। দেখতে পাই বাংলার মানুষের ইতিহাস ধুলায় ধূসরিত। ...
টাকার কথা
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
১৬/০৪/২০১২
টাকা। দুনিয়ার দুটি সবচেয়ে মধুর শব্দের একটি। বাংলাদেশি মুদ্রার নাম টাকা। আমি যেকোনো দেশের যেকোনো কালের মুদ্রাকেই টাকা বলছি। এই শব্দ কানে গেলে মৃতপ্রায় মানুষও প্রাণশক্তি ফিরে পায়। টাকার আরেক নাম অর্থ। কোনো এক বাঙালি মনীষী বলেছেন, অর্থই অনর্থের মূল। অর্থ অনর্থের মূল সব ক্ষেত্রে নয়। সবার ক্ষেত্রে তো নয়ই। দৈবাৎ কারও কারও ক্ষেত্রে। অধিকাংশ মানুষের জীবনে টাকা অতি অর্থবহ। হঠাৎ কারও জীবনে অর্থ অনর্থ হয়ে দেখা দিতে পারে দিনের যেকোনো প্রহরে। কখনো অর্থ কারও জীবনে অনর্থ হয়ে দেখা দেয় মধ্যরাতে। লোকনাথ পঞ্জিকামতে, যে রাতগুলোতে যাত্রানাস্তি। মানুষের জীবনে কখনো আসে অমৃতযোগ। কখনো মাহেন্দ্রযোগ। তখন শুধু আসে। জমি আসে, বিল-বাঁওড় আসে, টাকা আসে। ...
দুই কান লাল
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২৮/০৩/২০১২
বাংলাদেশের জনগণের নেতারা গণতন্ত্রের প্রবল প্রেমিক। রাজনৈতিক নেতাদের মুখ ও দেশের মাইকগুলোর মুখ যখন সভা-সমাবেশে নিকটবর্তী হয়, তখন বোঝা যায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁদের কী সীমাহীন আগ্রহ ও প্রচেষ্টা। মানুষ যেমন ঘরে বাস করে, গণতন্ত্রেরও একটা ঘর আছে। সেই ঘরের ইংরেজি নাম পার্লামেন্ট। আমরা বাংলা করেছি জাতীয় সংসদ। তাই নেতারা অব্যাহতভাবে বলেন: তাঁদের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হবে সংসদ। নেতারা রাশি রাশি কথা বলেন। তাঁদের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু যে সংসদকক্ষ হবে, এটা তাঁদের একমাত্র না হলেও সবচেয়ে সত্য কথা। কোন ...
জনসভা ওরফে মহাসমাবেশের উপকথা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২০/০৩/২০১২
হোসেন শাহি বাংলায় জনসভা হতো না, মহাসমাবেশ তো নয়ই। তবে ধর্মসভাগুলোতে বহু মানুষের সমাগম হতো বলে ধারণা করি। আলিবর্দীর শাসনামলে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় মহাসমাবেশের রেওয়াজ ছিল বলে কোনো বইয়ে পাইনি। হোসেন শাহি রাজত্বে ও নবাবি আমলের বাংলায় গণতন্ত্র ছিল না। গণতান্ত্রিক রাজনীতির যেদিন থেকে সূচনা, সেদিন থেকে জনসভা ওরফে মহাসমাবেশেরও জন্ম। কুড়ি শতক পর্যন্ত যা ছিল জনসভা ও সমাবেশ, একুশ শতকে এসে তা প্রমোশন পেয়ে হয় জনসমুদ্র ও মহাসমাবেশ। আঠারো শতকে মজনু শাহরা, ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়কেরা, হতদরিদ্র কৃষক-তাঁতিদের ...
ঘোড়াবন্ধন ও বিমান ভাঙচুর
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
১৩/০৩/২০১২
প্রতিবাদের পদ্ধতি হিসেবে মানববন্ধন এক নম্বরে আজ বাংলার মাটিতে। এক যুগ আগেও এই জিনিস ছিল না। সাত-আট বছর ধরে এমন দিন নেই, যেদিন সারা দেশে ১০টি মানববন্ধন না হয়। তবে ঘোড়াবন্ধন ছিল না। সেটাও হয়ে গেল কক্সবাজারে। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ঘোড়ায় চড়িয়ে ছবি তুলে অনেকে কিছু কামাই করত। সৈকত থেকে ঘোড়া সরানোর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের অফিসের কাছে ঘোড়াবন্ধন হয়েছে বলে কাগজে পড়লাম। মানববন্ধন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পদ্ধতি। গাড়ি ভাঙচুর সহিংস প্রতিবাদের ভাষা। আমার কাছে যে হিসাব আছে তাতে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ...
গণতন্ত্রের স্বার্থেই ন্যায়বিচার
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
০৬/০৩/২০১২
পৃথিবীর যেকোনো প্রাণীর মতো মানুষের জীবন কখনোই বিপদমুক্ত ছিল না। সমাজ কখনো ছিল না সমস্যামুক্ত। রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার আগেও নয়, পরে তো নয়ই। কিছু কিছু সমস্যা রাষ্ট্র দূর করেছে। বহু সমস্যা রাষ্ট্রের সৃষ্টি। আবার নিজের সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান রাষ্ট্রকেই করতে হয়েছে। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সব দেশেরই রাজনৈতিক সমস্যা থাকে। কম আর বেশি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কখনো রাজনৈতিক নেতারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের নিয়ে বিতর্ক হতো না, যদি না তাঁরা অতো উঁচুতে উঠে যেতেন। গত কয়েক দিনের খবরাখবর যদি দেখি তা হলে ...
গণতন্ত্রের স্বার্থেই ন্যায়বিচার
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
০৬/০৩/২০১২
পৃথিবীর যেকোনো প্রাণীর মতো মানুষের জীবন কখনোই বিপদমুক্ত ছিল না। সমাজ কখনো ছিল না সমস্যামুক্ত। রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার আগেও নয়, পরে তো নয়ই। কিছু কিছু সমস্যা রাষ্ট্র দূর করেছে। বহু সমস্যা রাষ্ট্রের সৃষ্টি। আবার নিজের সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান রাষ্ট্রকেই করতে হয়েছে। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সব দেশেরই রাজনৈতিক সমস্যা থাকে। কম আর বেশি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কখনো রাজনৈতিক নেতারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের নিয়ে বিতর্ক হতো না, যদি না তাঁরা অতো উঁচুতে উঠে যেতেন। গত কয়েক দিনের খবরাখবর যদি দেখি তা হলে দেখা যাবে সমস্যা সর্বত্র। ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদ রাতারাতি ক্ষমতাচ্যুত হলেন পুলিশি বিদ্রোহে। মেয়াদ শেষ করতে পারলেন না। রাষ্ট্রপতির প্রাসাদ থেকে বিতাড়িত হয়ে এখন রাস্তায় ঘুরছেন। দেশ থেকেই বিতাড়িত হওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপে বেঁচে গেছেন। ...
সর্পিল ও বন্ধুর পথে ৪০ বছর
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৯/০৩/২০১১
প্রতিটি জাতির জীবনেই কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ একবারই আসে। সেই উপলক্ষটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলা দেশবাসীর কর্তব্য। তারা যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তা হলে উপলক্ষটি মূল্য হারায়। হতভাগ্য জাতি উপলক্ষটি থেকে কিছু অর্জন করতে পারে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছরও তেমনি একটি উপলক্ষ। জাতির কোনো কোনো জিনিসের মালিকানা প্রত্যেক নাগরিকের। ...
সেদিনের বন্ধুদের ভুলতে পারি না
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৫/০৩/২০১১
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অন্য দেশের যাঁরা নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন অথবা অন্যভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের ঋণ আমরা কোনো দিন পরিশোধ করতে পারব না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের যাঁরা বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের ঋণও পরিশোধযোগ্য নয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁদের মধ্যে যাঁরা বিশিষ্ট ও খ্যাতিমান, তাঁদের সম্মাননা দেবে। কাজটি বহু আগেই আমাদের করা উচিত ছিল। ...
নরমূত্র
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
০৮/০২/২০১১
ভারতের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই তাঁর মূত্র সেবনের কথা প্রকাশ করে দিয়ে বিশ্বব্যাপী হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। মূত্রথেরাপি নাকি সর্বরোগহর। দীর্ঘায়ু হতে সাংঘাতিক সহায়ক। তবে পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষই মরতে চাইবে, তবু মূত্র পান করে আরও কয়েক দিন বেশি বাঁচার চেষ্টা করবে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নরমূত্র শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়, উদ্ভিদের পুষ্টি জোগানোর ক্ষমতা তার চমৎকার। ...
সংসদীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
০১/০২/২০১১
বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সুসংহত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দলই একটি দেশকে শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্র দিতে পারে। আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের যে সংকট ও দুর্বলতা, তা রাজনৈতিক দলের সংকট ও দুর্বলতার ফল। সাবলীল আদর্শ ও বলিষ্ঠ কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রও সাবলীল ও সুন্দরভাবে চলত। রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আজ এই দুর্দশা। ...
...অলার শরম নাই, দেখনেঅলার শরম
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৮/০১/২০১১
উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি যথেষ্ট ভালো এবং আওয়ামী লীগ অপেক্ষাকৃত খারাপ করায় পরদিন সকালে এক স্বনামধন্য আমাকে বললেন, ‘লজ্জা, বড়ই লজ্জার কথা।’ ...
বিপ্লবীদের ঝাপসা স্মৃতি
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
০৪/০১/২০১১
সিরাজ শিকদার কবিতা লিখতেন, আমিও কবিতা লিখতাম। তিনি যে ছাত্র সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন, আমি সেই সংগঠনের একজন নগণ্য কর্মী ছিলাম। তিনি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে বিপ্লব ঘটাতে চাইতেন, আমি নিরাপদ দূরত্বে থেকে বিপ্লবকে স্বাগত জানাতাম। তাঁর সাহস ছিল, আমার ছিল সাহসের অভাব। তিনি তাঁর আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছেন, আমি আপস-টাপস করে দিব্যি বেঁচেবর্তে আছি। ...
আম-ছালাতত্ত্ব ও দুই নৌকায় পা
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
০৯ এপ্রিল, ২০১৩
আম-ছালাতত্ত্ব ও দুই নৌকায় পা রাখার নীতির পেছনে একটু ইতিহাস আছে। দুটি বাস্তব ঘটনা থেকেই এই তত্ত্ব ও নীতির সূচনা। ঘটনা দুটি এ রকম: এক লোকের একটি ছালা ছিল। কিন্তু তার বাড়িতে কোনো আমগাছ ছিল না। একদিন তার অন্যের বাগান থেকে আম চুরি করার বাসনা হয়। সে ছালা নিয়ে আম চুরি করতে বের হয়। গাছ থেকে আম পেড়ে কেবল বস্তায় ভরেছে, এমন সময় ‘কে রে আমগাছের নিচে’ বলে বাগানের মালিক তাকে ধাওয়া করে। ছালা ও আম ফেলে লোকটি প্রাণ ...
পাগলের গো-বধে আনন্দ
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
০২ এপ্রিল, ২০১৩
প্রাচীন বাংলার হিন্দুসমাজের একটি প্রবচন: পাগলের গো-বধে আনন্দ। মর্মার্থ হলো—যার মাথার ঠিক নেই সে কী করতে কী করে তা নিজেই জানে না। যে গো-দেবতা পূজ্য, তাঁকে পর্যন্ত হত্যা করে তার সীমাহীন আনন্দ। তবে পৃথিবীতে এমন দেশও আছে, যেখানে মোটেই পাগল নন এমন ব্যক্তিরাও মানুষ বধ করে আনন্দ পান। সে মানুষও একজন বা দুজন নয়—অসংখ্য। বর্তমান সময়ে এমন কিছু কিছু অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রত্যাশিত কাজ আমাদের রাষ্ট্র অবলীলায় করছে, যা পাগলের গো-বধের সঙ্গেই শুধুই তুলনীয়। মানুষ পাগল হলে তার জন্য পাগলাগারদ ...
বাংলাদেশে সাংসদীয় সুখ
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২১শে মার্চ, ২০১৩
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এমন একটি জায়গা, যেখানে দেখা যায় কারও মুখে নির্মল আনন্দের হাসি আর কারও অশ্রু। সেখানে জমি বেচাকেনার নিবন্ধীকরণ হয়। জমি যে কেনে, তার আনন্দ অপার। জমি যে বিক্রি করে, এবং তা যদি হয় তার শেষ সম্বল, তার বুক ভরে যায় বিষাদে। সে দৃশ্য আমি আমার নিজের চোখে দেখেছি। কারণ, গত ৪০ বছরে আমাকে যতবার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে, সম্ভবত আমাদের কোনো মাননীয় সাংসদেরই সে প্রয়োজন হয়নি। জমি নিবন্ধনের সময় বিক্রেতার যাওয়া বাধ্যতামূলক। ক্রেতার না গেলেও চলে। ...
তবুও যাই বইমেলায়
বইমেলায় আগুন
প্রথম আলো
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
রোববার দিবাগত রাত, মানে সোমবারের প্রথম প্রহরে বইমেলায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ২৫ থেকে ৪০টা স্টল পুড়ে গেছে। কবি টোকন ঠাকুর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার প্রথম উপন্যাস চরৈবেতি ও প্রথম গল্পগ্রন্থ জ্যোতি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিল, আমার কবিতার বই ঘামসূত্র পুড়ে শেষ। ছাই হয়ে গেলাম এবার ফাল্গুনে’। জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সাল আরেফিন দীপন তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্রায় ৪০টি স্টল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্টলের ছাদের ওপরে গান পাউডারজাতীয় কিছু ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং সেটা দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায়, যেন পুরো মেলায় আগুন ছড়িয়ে যেতে পারে। ...
সোনা ফেলে আঁচলে গেরো দেবেন না
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৯ জানুয়ারি ২০১৩
যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে, তা গলিত দূষিত গণতন্ত্রই হোক আর আদর্শ গণতন্ত্রই হোক, নির্বাচনের বছরের বৈশিষ্ট্য আলাদা। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আসে দৃষ্টিগ্রাহ্য পরিবর্তন। বাংলাদেশেও আমরা তা দেখছি ১৯৫৪ সাল থেকে। ষাটের দশকের মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনগুলোতে উত্তেজনা ছিল কম। সত্তরের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাময়। কারণ, তা ছিল জনগণের ভাগ্য পরীক্ষার নির্বাচন। নির্বাচনের বছরে আমাদের দেশে মানুষে মানুষে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ে। যার সঙ্গে কোনো দিনই আগে কথাবার্তা হয়নি, তাকেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একজন বলেন, ‘কেমন আছেন, চাচা? চাচির শরীলডা ...
অবকাঠামো উন্নয়ন বনাম গণতন্ত্র
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৫ জানুয়ারি ২০১৩
চার বছর যাবৎ জানুয়ারি মাস এলেই আওয়ামী লীগের কারও কাছে আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে: বলুন তো, বঙ্গবন্ধুর প্রথম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি কে বা কারা পালনের কথা উচ্চারণ করেছিল? তখনো আওয়ামী লীগ ছিল, তার অঙ্গসংগঠন ছিল। নেতা, কর্মী ও সমর্থক ছিল অগণিত। তখনো দেশে সংবাদপত্র ছিল এবং স্বনামধন্য সাংবাদিক ছিলেন অনেকেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী কবি, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন বহু। জানতে বড়ই ইচ্ছে করে, তাঁদের কে লিখেছিলেন কোথায় সে উপলক্ষে একটি রচনা। বঙ্গবন্ধুর মতো মহানায়কের শত্রুপক্ষের জল্লাদখানা থেকে ...
জনমত সমীক্ষা হোক সতর্কসংকেত
খোলা কলাম
প্রথম আলো
৬ জানুয়ারি ২০১৩
কার্যকর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে স্বাধীন গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজের অভিমত এবং জনমত যাচাই সমীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনমত জরিপের ফলাফল প্যাথলজিতে রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট নয়। কোনো সমীক্ষাই যে ‘শতভাগ নির্ভুল’, সে দাবি কেউই করেন না। তবে জনমত জরিপে মোটের ওপর যে বাস্তবতা ও মানুষের আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ ঘটে, তা অস্বীকার করা যায় না। জনমত জরিপের উপযোগিতা এখানে যে তাতে যাঁদের সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়েছে, তাঁরা উপকৃতই হন। সংশ্লিষ্টদের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে জনমত সমীক্ষা সহায়ক। বিগত তিন বছরের মতো ২০১২-তেও প্রথম আলো ...
বাংলাদেশি ও শ্যামদেশির খোশালাপ
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৫ ডিসেম্বর ২০১২
বিষ্যুদবার রাতে ভেবেছিলাম, বাঁচা গেল। কোনো রকমে রাতটা পোহালে জীবনের যাবতীয় ঝামেলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। যাঁরা কাগজে সম্পাদকীয় পাতায় নিবন্ধ লেখেন, তাঁদের আর সে কষ্ট করার প্রয়োজন হবে না। যাঁরা গোলটেবিল আর মানববন্ধন করেন তাঁরা বাঁচবেন। কারণ, ওগুলো করবেনটা কোথায়? তোপখানা রোড, প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, সিরডাপ ভবন থাকলে তো! যাঁরা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করবেন না বলে স্বামী-স্ত্রী মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বেঁচে গেলেন তাঁরাও। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হাসিমুখের তাগাদাটা তাঁদের আর শুনতে হবে না। বিদেশে ...
স্বাধীনতার বিকল্প শুধু স্বাধীনতা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১১ ডিসেম্বর ২০১২
স্বাধীনতা সূর্যের আলোর মতো, বাতাসে অক্সিজেনের মতো, নদীর পানির মতো। তাদের কাছে সবাই সমান। যার যতটুকু প্রয়োজন, যে যতটুকু চায়, সে ততটুকু পায়। একটি জাতি যখন স্বাধীন হয়, তখন সেই স্বাধীনতা সবারই স্বাধীনতা: দলবিশেষের নয়, গোষ্ঠীবিশেষের নয়, বিশেষ মতাবলম্বীর নয়। অর্জিত হওয়ার পরে সেই স্বাধীনতা—যাঁরা তার জন্য সংগ্রাম করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁরাও ভোগ করেন; যাঁরা স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য কিছুই করেননি, এমনকি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন, তাঁরাও দিব্যি স্বাধীনতার সুফল ভোগ করেন। সে জন্যই যেকোনো জাতির জীবনে স্বাধীনতার চেয়ে বড় ...
সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
২৭ নভেম্বর ২০১২
আমরা যারা সাধারণ নাগরিক, রাষ্ট্রের কোনো উঁচু বা গুরুদায়িত্বপূর্ণ পদে নেই, তারা আশঙ্কা করছি, অল্পকালের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। আশঙ্কাটি যদি অমূলক হয়, তা হবে সবচেয়ে সুখের কথা। সংকটটি সাংবিধানিক সংকট নয়—রাজনৈতিক সংকট। রাজনৈতিক সংকট আর সাংবিধানিক সংকট একেবারেই দুই রকম জিনিস। আগে দু-একবার সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছিল। তা থেকে উত্তরণের পথ রাজনৈতিক নেতারাই খুঁজে বের করেছেন। এবারের সংকট রাজনৈতিক। এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ও রাজনীতিকদেরই বের করতে হবে। অন্য কোনো শ্রেণীর মানুষের কিছুই করার নেই। ...
জিহ্বা
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২০ নভেম্বর ২০১২
মানুষের রাগ হয় অন্যের ওপরই। কখনো কখনো নিজের ওপরও। তবে নিজের ওপর হলেও নিজের জিহ্বার ওপর রাগ হওয়ার কথা শোনা যায় না। জিহ্বার অনেক রকম কাজ। খাদ্যের স্বাদ আস্বাদন। জিহ্বা না থাকলে আমরা মরিচ আর মধুর একই রকম স্বাদ পেতাম। জিহ্বা না থাকলে রসগোল্লার মূল্য দিত না মানুষ। জিহ্বা ছাড়া কথা বলতে গেলে গলার স্বরযন্ত্র শুধু গোঁ গোঁ আওয়াজ করত। ঠোঁট নড়লেও কথা হতো অস্পষ্ট। জিহ্বা ঠিকমতো নড়াচড়া করে বলেই কথা হয় পরিষ্কার। জিহ্বা না থাকলে কোনো রকমে জীবন ...
মহাচাপাতি
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
০৯ অক্টোবর ২০১২
আদম-হাওয়ার নাতি-নাতনিরা যে মারামারি করতেন না, তা নয়। হাতই মানুষের প্রথম অস্ত্র। শুধু হাত দিয়ে যখন শত্রুকে ঘায়েল করা সম্ভব হচ্ছিল না, তখন মানুষ হাতে তুলে নেয় হাতিয়ার। উদ্ভাবিত হতে থাকে নানা রকম অস্ত্র। লাঠি আদিম মানুষের সেই অস্ত্র, যা আজও বাতিল হয়নি। আদিম মানব সম্ভবত গাছের ডাল দিয়ে বানাত লাঠি। তারপর তারা বুঝতে পারে, বাঁশই এ জিনিসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। আদিম গুহা-মানবের প্রধান হাতিয়ার ছিল পাথরের তৈরি। পাথরের অস্ত্র আজও আমাদের দেশে কোথাও কোথাও এস্তেমাল করা হয়। যেমন ...
ক্ষমতা বনাম গণতন্ত্র
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
০৪/০৯/২০১২
চীন দেশের মানুষের হিকমতের জন্য সুখ্যাতি আছে। তাঁরা শুধু বুদ্ধিমান নন, দূরদর্শীও। তাঁদের বিজ্ঞরা উপদেশ দিয়ে গেছেন—তরমুজখেতের মধ্যে বসে বা ঝুঁকে কখনো জুতার ফিতা বাঁধতে যেয়ো না। দূর থেকে খেতের মালিক বা গ্রামবাসী সন্দেহ করবে, তুমি তরমুজ চুরি করছ। এই উপদেশের তাৎপর্য হলো, তুমি এমন কোনো কাজ কোরো না, যা অন্যের সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। সন্দেহ করা বা কোনো ব্যাপারে কারও সম্পর্কে অনুমান করা মানুষের আদিম অভ্যাস। সাবেক সেনাশাসক ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দিল্লিতে প্রায়-রাষ্ট্রীয় সফর করে এলেন। ...
বিজয়ী বিজিত কভু, বিজিত বিজয়ী
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
০৭/০৮/২০১২
২০১২ সালে বাংলাদেশের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে যদি বলা হয়: আগামী মৌসুম থেকে রাজশাহীর আমের নাম বদল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোপালভোগের নামকরণ হবে পিচফল, ল্যাংড়ার নতুন নাম হবে বৈচি, ফজলির নাম হবে ফলসা এবং হিমসাগরের নাম হবে কাউফল। রাত না পোহাতেই মির্জা আলমগীর সাংবাদিকদের বলবেন, তত্ত্বাবধায়ক-ব্যবস্থা পুনর্বহালের আগে আমের নাম পরিবর্তন আমরা সমর্থন করি না। আমরা সরকার গঠন করলে আমের আগের নামই পুনর্বহাল করব। জিয়ার কবরে গিয়েও মোনাজাতের পরে আম নিয়ে আলোচনা হবে। সেগুনবাগিচা এলাকার ...
জাতীয় সংহতি ও জাতীয় চরিত্র
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
১৫/০৬/২০১২
দেশপ্রেম মালকোচা মেরে প্রকাশের জিনিস নয়। মাইক দিয়ে উচ্চ স্বরে ঘোষণার বিষয়ও নয়। দেশপ্রেম এমন এক আবেগ যা প্রকাশ করা যায় না, প্রয়োজনের সময় তা প্রকাশ পায়। দেশপ্রেম অদৃশ্য অবস্থায় প্রত্যেক মানুষের শরীরে প্রবাহিত হয় রক্তের মতো। তবু শরীর কাটলে রক্তটা দেখা যায় ও পরিমাপ করা যায়, দেশপ্রেম পরিমাপযোগ্য নয়। কেউ বলতে পারে না যে আমার মধ্যে অমুকের চেয়ে দেশপ্রেম আড়াই কেজি বেশি আছে। তবে দেশপ্রেম পরিমাপ করা না গেলেও পরীক্ষা করা যায়। একজন দেশপ্রেমিক সাহসী ও ভীরু দুই ...
বাঙালি চরিতামৃত
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
১১/০৬/২০১২
লক্ষ্মণ সেন ও বখতিয়ার খিলজির পরবর্তী হাজার বছরের বাংলার ইতিহাসে গত হপ্তায় প্রথম হয়ে গেল কফিন র‌্যালি। বাংলার মাটিতে একবার কেউ কোনো কিছু শুরু করলে তা আর থামে না। চলতে থাকে অপ্রতিহত গতিতে। অবিলম্বে কফিন র‌্যালির কারণে যানজট বেঁধে যাবে প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন, মওলানা ভাসানী এভিনিউ থেকে জাদুঘর পর্যন্ত। শুধু ঢাকায় নয়, জেলা ও উপজেলা সদরেও হবে। নানা দাবি আদায়ে হবে কফিন র‌্যালি। কেউ করবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে, কেউ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে, কেউ ইসলামি শরিয়া বাস্তবায়নের দাবিতে, কেউ অতি দ্রুত পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবিতে, কেউ টিপাইমুখ ও তিস্তা চুক্তির ইস্যুতে, কেউ বিদ্যুতের দাবিতে, কেউ সপ্তম নৌবহর ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশে’ এসে নোঙর ফেলতে না পারে সে দাবিতে, কেউবা কালোটাকা সাদা করার দাবিতে। ...
ক্রোড়পত্র
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
০১/০৬/২০১২
সংবাদপত্রের ক্রোড়পত্র জিনিসটি হলো বোঝার ওপর শাকের আঁটি। কাগজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বড় বড় লেখকের আকর্ষণীয় নিবন্ধগুলোই পাঠক পড়েন। বিশেষ করে পত্রিকার সঙ্গে লেজের মতো কিছু থাকলে সেসব পড়ার সময় কোথায় তাঁর! তা ছাড়া ক্রোড়পত্রের লেখা যে অতি সুখপাঠ্য ও ‘একবার শুরু করলে শেষ না করে পারা যায় না’ গোছের হবে তার নিশ্চয়তা কী? আর হলোই-বা অতি উন্নতমানের রচনা, বিষয়বস্তু যদি পাঠকের পছন্দ না হয়? বালক-বালিকাদের কানে ধরে বাল্যশিক্ষার বই জোর করে পড়ানো যায়, পাঠককে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘাড়ে ...
সরকারি দল, বিরোধী দল ও পাবলিক
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
৩০/০৫/২০১২
রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে পাবলিকের, অর্থাৎ ভোটারদের কোনোরকম কুটুম্বিতা নেই। ভোটারদের সবারই বাপ-মা আছেন। অনেকের আছেন শ্বশুর-শাশুড়ি। কারও সৎ শ্বশুর-শাশুড়ি, কারও চাচা-মামা, ফুফা-খালু। কারও বেয়াই, ভায়রা, জেটেস ও শালা-শালী। ভোটারদের সঙ্গে তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সে রকম কোনো আত্মীয়তা বা কুটুম্বিতার সম্পর্ক নেই। যখন যাকে উপযুক্ত ও যোগ্য মনে করেন, তখন ভোটাররা তাঁকে ভোট দেন। অনন্তকালের জন্য তাঁরা কাউকে নির্বাচিত করেন না। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেন তাঁরা। তবে আবার এবং বারবার পুনর্নির্বাচনের সুযোগও থাকে। ব্যক্তিগত ও সাংসারিক জীবনে মানুষ সামনের দিনগুলোতে কী করবে, তার নানা রকম ছক কাটে। যার ঘরে সেয়ানা মেয়ে আছে, সে চায় আগামী বছর তাকে একটি রোজগেরে ছেলের হাতে তুলে দিতে। ...
বাটি-বৃত্তান্ত
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২৩/০৫/২০১২
প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নপ্রস্তর যুগের পাথরের তৈরি অস্ত্রফলক পাওয়া গেছে। মাটি খুঁড়ে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা নবপ্রস্তর যুগের মৃৎপাত্রের সন্ধান পান। সুমেরীয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা এবং হরপ্পা সভ্যতার তৈজসপত্রের যে নিদর্শন পাওয়া যায়, তার মধ্যে পাথর ও ধাতুর বাটি ছিল। আদিম মানুষ তাদের প্রয়োজন মেটাতে যেসব পাত্র বানাতে শেখে, সেগুলোর মধ্যে বাটি অন্যতম। প্রথম দিকে এবং তারপর হাজার হাজার বছর তরল খাদ্য ও পানীয় পরিবেশনে বাটি ব্যবহূত হতো। ধীরে ধীরে বাড়ে তার বহুমাত্রিক ব্যবহার। ব্যাবিলন ও হরপ্পা থেকে বাটি যখন বাংলার মাটি পর্যন্ত আসে, তখন তার ব্যবহারের পরিধি আরও বেড়ে যায়। বুদ্ধিমান ও প্রতিশোধকামী বাঙালি বাটির ব্যবহার শুধু ঘন দুধের পায়েস খাওয়ার মধ্যেই সীমিত রাখেনি। পায়েস খাওয়া থেকে চোর ধরা পর্যন্ত বিচিত্র কাজে ব্যবহূত হতে থাকে বাটি। আজ ঘটেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অকল্পনীয় অগ্রগতি। এখনই আবার দেশজ সনাতনবিদ্যার পুনর্ব্যবহার শুরু হয়েছে অনেক দেশে। প্রাচ্যের বহু দেশে দেখা যাচ্ছে, দেশজ পদ্ধতিতে গাছগাছড়া-লতাগুল্মের চিকিৎসাপ্রথার প্রয়োগ। যেসব দেশ মাত্র তিন বছরেই ষোলোআনা ডিজিটাল হয়ে গেছে, সেখানকার মধ্যযুগীয় ...
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সামন্ততান্ত্রিক নেতৃত্ব
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
৩০/০৪/২০১২
রাজনীতি একটি পেশা। তবে রাজনীতিকের পেশাটি একজন তাঁতির পেশার মতো নয়, কর্মকারের পেশার মতো নয়, সুতার-মিস্ত্রি বা ডাক্তার-কবিরাজের পেশার মতো নয়। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পেশার মতোও নয় রাজনীতি। একজন তাঁতিকে উপার্জনের জন্য বসে বসে কাপড় বুনতে হয়। কর্মকারকে হাপরে লোহা গলিয়ে দা-বঁটি-খোন্তা-কুড়াল তৈরি করতে হয়। মিস্ত্রি দরজা-জানালা-আসবাবপত্র বানান। ডাক্তার-কবিরাজ রোগীর রোগ নির্ণয় করে ওষুধ দিয়ে তাকে আরোগ্য করেন। এসব কাজের জন্য তাঁরা মজুরি বা ফি পান। রাজনীতি একটি অন্য রকম পেশা। পেশা বটে, কিন্তু জীবিকা নয়। রাজনীতি সেবামূলক পেশা। কামার-কুমার-জেলে-তাঁতি যেমন প্রতিদিন জীবিকার জন্য কামাই করেন, রাজনীতির সঙ্গে জীবিকা অর্জনের সম্পর্ক নেই। একসময় তাই ছিল। এখন অবশ্য রাজনীতি শুধু জীবিকা নয়, জীবিকার বাবা। উপার্জনের দিক থেকে আজ একজন মধ্যমশ্রেণীর রাজনীতিকের কাছে একজন মাঝারি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী কিছুই না। শিল্পপতির লোকসানের ভয় আছে, রাজনীতিকের সে শঙ্কা লেশমাত্র নেই। ...
সংবাদমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটি
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
২৮/০৪/২০১২
আগের দিনে বহু স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেত হাতে নিয়ে ঘুরতেন। অমনোযোগী অথবা দুষ্টু ছেলেমেয়েদের হাতের নাগালে পেলে সপাং সপাং কয়েক ঘাই বসিয়ে দিতেন। একালের বহু গণতান্ত্রিক দেশের সরকারও সেকালের হেডমাস্টারদের মতো। যখন খুশি সংবাদপত্র ও নাগরিক সমাজকে বেত্রাঘাত করে তাদের আনন্দ। কারও গালাগাল হজম করা যায়, কিন্তু অপবাদ নয়। আমরা গত বুধবার জানতে পারলাম, সংবাদপত্র ও নাগরিক সমাজ দেশের অর্থনীতির সংকটের জন্য দায়ী। অর্থাৎ দেশে আদৌ যদি কোনো অর্থনৈতিক সংকট থেকে থাকে, তা সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সৃষ্টি। অন্য ...
হেমিংওয়ের বিড়াল
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
১০/০৪/২০১২
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে আমেরিকার একজন বড় লেখক। তাঁর গল্প ও উপন্যাস সহজ ভাষায় লেখা, কিন্তু অসাধারণ। ছিলেন রোমাঞ্চাভিলাষী। দুঃসাহসী ও বিপৎসংকুল কাজকর্ম করতে পছন্দ করতেন। যেমন সমুদ্রে ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরা, গহন অরণ্যে শিকার, ষাঁড়ের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নেওয়া, যা তিনি রপ্ত করেছিলেন গৃহযুদ্ধের সময় স্পেনে অবস্থানকালে। তাঁর গল্প-উপন্যাসে তাঁর রোমাঞ্চকর জীবনের ছাপ রয়েছে। হেমিংওয়ে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের চেয়ে ৫৬ দিনের ছোট। প্রথম মহাযুদ্ধে ছিলেন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হয়েছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর শুরু করেন সাংবাদিকতা ও লেখালেখি। ...
হেমিংওয়ের বিড়াল
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
১০/০৪/২০১২
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে আমেরিকার একজন বড় লেখক। তাঁর গল্প ও উপন্যাস সহজ ভাষায় লেখা, কিন্তু অসাধারণ। ছিলেন রোমাঞ্চাভিলাষী। দুঃসাহসী ও বিপৎসংকুল কাজকর্ম করতে পছন্দ করতেন। যেমন সমুদ্রে ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরা, গহন অরণ্যে শিকার, ষাঁড়ের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নেওয়া, যা তিনি রপ্ত করেছিলেন গৃহযুদ্ধের সময় স্পেনে অবস্থানকালে। তাঁর গল্প-উপন্যাসে তাঁর রোমাঞ্চকর জীবনের ছাপ রয়েছে। হেমিংওয়ে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের চেয়ে ৫৬ দিনের ছোট। প্রথম মহাযুদ্ধে ছিলেন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হয়েছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর শুরু করেন সাংবাদিকতা ও লেখালেখি। প্যারিসে টরন্টো স্টার-এর সংবাদদাতা ছিলেন অনেক দিন। স্পেনেও ছিলেন কয়েক বছর। তারপর নিজের দেশে না থেকে কিউবায় বসবাস করতে থাকেন। চার বিয়ে করে আলোচিত হয়েছিলেন। তাঁর একটি পোষা বিড়ালের নাম ছিল ‘আঙ্কেল উইলি’। ...
সবার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র
প্রতিরোধের মার্চ
প্রথম আলো
১৭/০৩/২০১২
যার সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে গোটা জাতির ভাগ্য জড়িত, তা আকস্মিকভাবে রাতারাতি ঘটতে পারে না। তার প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য একটি প্রস্তুতিপর্ব থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। ২৬ মার্চ থেকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দিনগুলো ছিল প্রস্তুতির। একটি হিংস্র শক্তিকে প্রতিহত করার প্রয়োজন হতে পারে, ওই সময় তার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশের জনগণ। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের অধ্যায়টি শেষ হয়ে যায়। ’৭০-এর ডিসেম্বর ও ’৭১-এর জানুয়ারি থেকেই শুরু হয় স্বাধিকারের আপসহীন সংগ্রাম। তবে ...
দিনটি হোক শান্তিপূর্ণ
সহজিয়া কড়চা
দেশে বিদেশে
১১/০৩/২০১২
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই বহু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নেতা রয়েছেন। তারা অতীতে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। কী উপায়ে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান করতে হয় সেটা তারা খুব ভালো করে জানেন। সভা-সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন করা গণতন্ত্র চর্চার অংশ। শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকারকে অস্বীকার করা হিসেবেই গণ্য হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে, 'জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধসাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।' আমাদের দেশে বহুকাল যাবৎ গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়ে আসছে। ...
আদমি ও মানুষ
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২২/০৩/২০১১
আদমশুমারি হয়ে গেল। সব এলাকা থেকে প্রাপ্ত সংখ্যাগুলোর যোগফলে জানা যাবে, বর্তমানে বাংলাদেশে লোকসংখ্যা কত। আরও জানা যাবে দেশে অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের সংখ্যা কত। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মানুষ কত। চাকরিজীবী কত, ব্যবসায়ী কত, গৃহবধূ কত। আদমশুমারিতে দেশের মানুষের মোট সংখ্যাটা জানা যাবে—মানুষের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে কোনো সংবাদ নয়। ...
কার্টুনের কথা
বাঘা তেঁতুল
প্রথম আলো
২২/০২/২০১১
বার্লিন দেয়াল চূর্ণ করার আগে বন ছিল পুঁজিবাদী পশ্চিম জার্মানির রাজধানী। সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানির রাজধানী ছিল খণ্ডিত বার্লিনের এক অংশে। বন প্রেসক্লাবে গিয়েছিলাম দুপুরে খেতে। ঢুকেই দেখি এক নামজাদা আধুনিক শিল্পীর আঁকা কার্টুনের প্রদর্শনী। প্রতিটি কার্টুনই কোনো না কোনো রাজনৈতিক নেতার—ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের। কার্টুনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলর আছেন, মন্ত্রী এবং নেতারাও আছেন। প্রত্যেক নেতার চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে কার্টুনগুলোতে। ...
গামছা পেঁচানো দোররা ও হতভাগিনীদের নিয়তি
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১৫/০২/২০১১
দোররা একটি ফারসি শব্দ। দোররা একই সঙ্গে বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ। অর্থাৎ এটি একটি বস্তুও। বস্তুর কোনো ধর্ম নেই, কিন্তু শব্দটির মধ্যে আছে ইসলামি আমেজ। কারণ, এটি মধ্যপ্রাচ্যের শব্দ। ইরানি ভাষার শব্দ হলেও বস্তুটির কোনো জাতীয়তা নেই। একসময় এটি পারস্যে ব্যবহূত হতো, আরব দেশে হতো, ইরাক, ইয়েমেন, মিসরেও হতো। এখনো দুনিয়ার কোনো কোনো দেশে হয়, দেদার দোররা এস্তেমাল করা হয়, যেমন বাংলাদেশে। দোররা বস্তুটি কী? ...
পুরানো সেই দিনের কথা
সহজিয়া কড়চা
প্রথম আলো
১১/০১/২০১১
২৪ মার্চ, ১৯৮২-র সকাল। তখন বেলাবেলি উঠে গেছি। অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে বারান্দায় বেসিনের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাড়ি কামাচ্ছিলাম। আমার ফ্ল্যাটসংলগ্ন পাশের বাড়ির ভদ্রলোক, যাঁর সঙ্গে চোখাচোখি হলে সালাম বিনিময় ছাড়া কথাবার্তা হতো না; গলাখাঁকারি দিয়ে আমার মনোযোগ আকর্ষণ করলেন। তাঁর বারান্দা থেকে আমার বারান্দার দূরত্ব ছয়-সাত ফুটের বেশি হবে না। আমি তাঁর দিকে তাকাতেই তিনি বললেন, ‘খবর শোনেন নাই? ক্যু হইয়া গেছে।’ ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩