কলামিস্টদের নাম
আসিফ নজরুল এর কলামগুলো

সবাইকে বলতে দিন, লিখতে দিন
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২৫ মে, ২০১৩
২১ মে বাম মোর্চার সমাবেশটি ছিল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য। বাম মোর্চা ক্ষমতার রাজনীতি করে না, তাদের সকল কর্মসূচি প্রগতিশীলতার পক্ষে বা মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার্থে। বাম মোর্চা নাশকতা করেছে কখনো এই অভিযোগও শোনা যায়নি। কিন্তু তবু তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার বলছে আইনশৃঙ্ঘলা রক্ষার স্বার্থে কোনো সভা-সমাবেশের অনুমতি তারা দিচ্ছে না আগামী এক মাস। কিন্তু বাম মোর্চাসহ আরও কিছু সংগঠনকে গত কয়েক দিনে এমন কর্মসূচিও পালন করতে দেওয়া হয়নি (এমনকি বিএনপিকে একটি দোয়া মাহফিল ...
হেফাজতের বার্তা
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১১ এপ্রিল, ২০১৩
হেফাজতে ইসলামের উত্থান ও ঢাকা সমাবেশ ছিল বিস্ময়কর। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ইসলামি রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ (পরে এটিকে সংশোধন করে শুধু জামায়াত নিষিদ্ধকরণের কথা বলা হয়), সারা দেশে ইসলামি সংগঠনগুলোর ওপর কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বর্বরতা এবং বিশেষ করে গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের ব্লগে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.) সম্পর্কে কুৎসা রটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু এটি কতটা ব্যাপক ও তীব্র হতে পারে, তা হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশের আগে ধারণা করা যায়নি। ৬ এপ্রিলের মহাসমাবেশে ...
তিনটি সম্ভাব্য গন্তব্যে বাংলাদেশ
সময়চিত্র
প্রথম আলো
৩০ মার্চ, ২০১৩
এক-এগারো কি আসছে আবার? নাকি তার চেয়েও ভয়ংকর কিছু? এমন আশঙ্কা শুনছি আমরা দেশে এখন। ২০০৭ সালের এক-এগারোর আগে রাজপথে দুই দল ছিল মুখোমুখি। সব সংলাপ আর সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। সাজানো নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অনড় ছিল বিএনপি, এ নিয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি ছিল না আওয়ামী লীগ। দুই দলের হুংকারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিল মানুষ। অনেকের আশঙ্কা ছিল, দুই দলের সমঝোতা না হলে তৃতীয় কোনো শক্তিকে আসতে হবে অনিবার্য সংঘাত এড়াতে। সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছিল। তৃতীয় শক্তি এসেছিল দেশে। ...
আওয়ামী লীগ-বিএনপি: কবে হবে বোধোদয়
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২১শে মার্চ, ২০১৩
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছিলেন। আমরা তাতে কিছুটা আশ্বস্ত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এর দুই দিনের মাথায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ রহস্যজনক ককটেল বিস্ফোরণের পর পণ্ড হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে। আক্রান্ত হলে এটুকু করার অধিকার পুলিশের রয়েছে। কিন্তু এরপর পুলিশ যা করেছে, তা নজিরবিহীন। বিএনপির অফিসে হামলা করে হাইকোর্টের জামিনে থাকা নেতাদেরসহ বিএনপির উপস্থিত সব নেতা-কর্মীকে পুলিশ গণহারে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিএনপি অফিসের বিভিন্ন দরজা ভেঙে ভেতরের কক্ষ তছনছ করেছে। গত আমলে বিএনপির পুলিশ আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে কাঁদানে গ্যাসের শেল মেরেছিল। এ ঘটনার নিন্দায় সারা দেশের বিভিন্ন মহল সোচ্চার হয়েছিল। কিন্তু এবারের ঘটনা তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক আমল দূরের কথা, কোনো সামরিক আমলেও এভাবে প্রধান বিরোধী দলের অফিসে চড়াও হওয়া, জামিনে থাকা নেতাদের গণগ্রেপ্তার ও হাতুড়ি দিয়ে কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। এই তাণ্ডবের পর পুলিশ যথারীতি মামলা করেছে বিএনপির আক্রান্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই! পুলিশের এই আগ্রাসী ভূমিকার কারণ কী? বিএনপি জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ...
দুই নেত্রী কি এরশাদের চেয়েও খারাপ?
সময়চিত্র
প্রথম আলো
৩০ ডিসেম্বর ২০১২
এরশাদের সঙ্গে দুই নেত্রীর এমনিতে তুলনাই হতে পারে না। এরশাদ স্বৈরশাসক এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ছিলেন। দু্ই নেত্রী জনমানুষের নেত্রী, জনগণের ভোট পেয়ে তাঁরা বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যক্তিচরিত্রের দিক দিয়েও এরশাদ দুই নেত্রীর সঙ্গে তুলনীয় হতে পারেন না। কিন্তু তাই বলে এরশাদের আমলের সঙ্গে কি দুই নেত্রীর গণতান্ত্রিক আমলের তুলনামূলক আলোচনা করা যায় না? আমি মনে করি, করা যায়। করা যায় যে তার প্রধান কারণ স্বৈরশাসক ও দুর্নীতিবাজ এরশাদকে সরিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন দুই নেত্রী। এরশাদের পতন হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ...
পশু বানানোর কারখানা (!)
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১৫/১২/২০১২
হাতে চাপাতি, শার্টে ফিনকি দিয়ে ছুটে আসা রক্তে সেই চাপাতিরই চিহ্ন। চোখেমুখে জান্তব ক্রোধ। খুনের নেশায় উন্মত্ত সেই যুবকদের সামনে আর্তনাদ করে নুয়ে পড়া আরেক যুবকের ছবি। তিনি বিশ্বজিৎ দাস। আগের দিন রাতে বিশ্বজিৎ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিজয়ের উৎসব করেছেন। চাপাতি হাতের যুবকদের আঘাতে আঘাতে তিনিই লুটিয়ে পড়েছেন মৃত্যুযন্ত্রণায়, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। দিনের আলোয় রাজধানীর রাজপথে পুলিশ আর বহু মানুষের সামনে। কিল-ঘুষি খেয়ে, পদদলিত হয়ে, চাপাতির আঘাতে আঘাতে, নিজের রক্তে রঞ্জিত হয়ে তাঁকে অবশেষে মৃত্যুর অন্ধকারে বিলীন হতে ...
আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি: জামায়াত ফ্যাক্টর
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২৩ নভেম্বর ২০১২
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের টানাটানি নতুন নয়। কিছুদিন আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেছেন, সামনের নির্বাচনে জামায়াতকে অংশ নেওয়ানোর চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নিজে জামায়াতের ঘনিষ্ঠ একটি দল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে প্রথমে আইডিএল নামে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী এ দলটি স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতির শুরু করে। পরবর্তীকালে স্বনামে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তারা বিএনপির মিত্র দল হিসেবে অংশ নেয়, ২০০১ সালের খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় আমলে জামায়াতের দুজন নেতা সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। গত ...
বিএনপির আসল চ্যালেঞ্জ
সময়চিত্র
প্রথম আলো
৭ নভেম্বর ২০১২
বিএনপি সম্পর্কে বিদেশিদের আপত্তি প্রধানত দুটো। এক. বিএনপির আমলে জঙ্গিবাদী রাজনীতির প্রসার ঘটে। দুই. বিএনপির শেষ আমলে ভারতীয় বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। প্রথম কারণে বিএনপির প্রতি রুষ্ট ছিল আমেরিকা, ইউরোপ আর ভারত। দ্বিতীয় কারণে প্রধানত ভারত। গত আমলে বিএনপির সরকার কোনো এক বিচিত্র কারণে তাইওয়ানের একটি বাণিজ্যিক অফিস খোলার অনুমতি দিলে বিএনপির ‘ন্যাচারাল এলাই’ চীনও রুষ্ট হয়ে ওঠে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সম্পর্ক অটুট রাখতে পেরেছিল কেবল পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে যাদের প্রভাব ...
জজ মিয়া সিনড্রম
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১৩ অক্টোবর ২০১২
জজ মিয়ার আবির্ভাব ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় পৈশাচিক গ্রেনেড হামলার পর। কয়েক মাস ‘ব্যাপক তদন্তের’ পর বিএনপি সরকার এ ঘটনার জন্য জজ মিয়া নামক একজনকে দায়ী করে সংবাদমাধ্যমে হাজির করে। পলকা দেহের ছিঁচকে অপরাধী জজ মিয়া আর্জেস বোমা দূরের কথা, শেখ হাসিনার জনসভায় ঢিল মারার সামর্থ্য রাখেন কি না, তা নিয়েই মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হলো। পরে গণমাধ্যম আবিষ্কার করে যে জজ মিয়া বানানো অপরাধী, তাঁর পরিবারকে টাকা-পয়সা দিয়ে তাঁকে অপরাধী হতে রাজি করা হয়েছে। জজ ...
রায়ে সমাধান নেই, আছে সংকট
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নানা কারণে আলোচিত। পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় লিখে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন অনেকের কাছে। এবার বরং বিরোধী দলগুলোসহ নানা মহল থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তাঁর রায়ের সমালোচনা করা হচ্ছে। তাঁর রায়ের কিছু সমালোচনা করেছেন আপিল বিভাগের অন্য তিন বিচারপতিও। বিচারপতি খায়রুল হক তাঁর অবসরে যাওয়ার কিছুদিন আগে ২০১১ সালের ১০ মে ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়ে যান। সেখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে আগামী দুটি সংসদ নির্বাচন করা যেতে পারে বলে অভিমত দেন। ত্রয়োদশ সংশোধনীতে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার বিধান ছিল। অথচ ১৬ মাস পরে প্রকাশিত রায়ের চূড়ান্ত আদেশে তিনি কেবলমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন। নিজের দেওয়া আদেশ থেকে কোনো রকম অতিরিক্ত শুনানি ছাড়া এ ধরনের বিচ্যুতি নজিরবিহীন এবং বিচারদর্শনের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ রয়েছে। আপিল বিভাগের ভিন্নমত পোষণকারী তিনজন বিচারপতি যে সুস্পষ্টভাবে এই বিচ্যুতিকে চিহ্নিত করেছেন, ...
কী লাভ হবে নতুন মন্ত্রী নিয়ে
তাৎক্ষণিক
প্রথম আলো
১৪/০৯/২০১২
প্রথমে বড় খবর ছিল, সাতজন নতুন মন্ত্রী নেওয়া হচ্ছে। এ খবরকে ম্লান করে আরও বড় খবর হয়ে ওঠে তোফায়েল আহমেদ ও রাশেদ খান মেননের মন্ত্রী না হওয়ার সিদ্ধান্ত। এই পোড়া দেশে মন্ত্রী হওয়া এবং সাবেক মন্ত্রীর মর্যাদায় সারা জীবন থাকার লোভে বহু রাজনীতিবিদ দল, আদর্শ, এমনকি লোকলজ্জার ভয়কে বিসর্জন দিয়েছেন। সেখানে তাঁদের মন্ত্রিসভায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন না হলেও অতিবিরল। বিশেষ করে রাশেদ খান মেননের জন্য, যিনি বহু বছর আগেও মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করেননি। তোফায়েল আর মেনন ...
বিএনপি: কৌশলী, নাকি অকর্মণ্য
সময়চিত্র
প্রথম আলো
৩১/০৮/২০১২
এবিএম মূসা দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক। আশি পেরোনো তারুণ্যেও এখনো তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য দেন। কয়েক দিন আগে এক টিভি টক শোতে তিনি বললেন, বিএনপি এখনই সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে না কৌশলগত কারণে। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগই বরং অধীর হয়ে ভাবছে, বিএনপি কেন আন্দোলনে যাচ্ছে না! এবিএম মূসার ইঙ্গিত স্পষ্ট। কথা ছিল ঈদের পরই বিএনপি দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে পড়বে। কিন্তু ২৬ আগস্টের দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে জানা গেল যে আপাতত বিএনপি কেবল সাংগঠনিক সফর ...
যদি তিনি না-ও থাকেন
স্মরণ
প্রথম আলো
২২/০৭/২০১২
তিনি ছিলেন বিস্ময়কর একজন মানুষ। তাঁর প্রতি প্রবল আকর্ষণ আর কৌতূহল ছিল সবার। আড়চোখে দেখি সেই তিনি বিচিত্রা অফিসে এসেছেন একদিন। প্রতাপশালী সাপ্তাহিক বিচিত্রা একসময় তাঁর নন্দিত নরকে ছাপতে চায়নি। ড. আহমদ শরিফের মতো পণ্ডিত সেই উপন্যাস পড়ে মুগ্ধ হয়ে লেখার পর চৈতন্যোদয় হয় অনেকের। আমি যখন বিচিত্রায় চাকরি শুরু করি ১৯৮৯ সালে, তত দিনে তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন। বিচিত্রারও ঈদসংখ্যা থেমে থাকত তাঁর লেখা না পাওয়া পর্যন্ত। সেই হুমায়ূন আহমেদ বিচিত্রায় এসেছেন! চারপাশের ফিসফিসানো শুনে বুঝতে পারি ...
টক শো: বড়ুয়া-তত্ত্ব
অল্পবিদ্যা
প্রথম আলো
১৮/০৭/২০১২
টেলিভিশনে টক শো করে নানান অভিজ্ঞতা হয় আমাদের। রাস্তায় হাঁটলে থামতে হয়, সালামের উত্তর নিতে হয়, হাত মেলাতে হয়। এগুলো ঠিক আছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন কেউ চেপে ধরা হাত আর ছাড়তে চান না। গোয়েন্দাদের গলায় বলেন, আপনেরে চিনা চিনা লাগে! এর উত্তর কী হবে, বুঝতে না পেরে বোকার মতো হাসি। তিনি বলেন, টক শোতে দেখছি, ঠিক না? জি! কথা তো ভালোই বলেন! আবারও বলি, জি। তিনি আড্ডার মুডে বলেন, এখন বলেন তো দেশের অবস্থা কী বুঝতেছেন! ভরদুপুরে মহাব্যস্ত ...
মন্ত্রীরা কখনো দুর্নীতি করেন না!
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২৩/০৬/২০১২
বাংলাদেশে গালভরা নামের কিছু প্রতিষ্ঠান আগেও ছিল। এখন এর সংখ্যা বেড়েছে। এ দেশে মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার কিছুদিনের মধ্যে ক্রসফায়ারের পরিবর্তে গুমের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরকারের তথ্য গোপনের সংস্কৃতি জোরদার হয়েছে। দুর্নীতি দমন ব্যুরো প্রায় এক যুগ হলো দুর্নীতি দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। সেই কমিশন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে দুর্নীতি হয়নি এই সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য। যাকে-তাকে নয়, এই সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে সেই মন্ত্রীদের, যাঁরা দুর্নীতি করেননি—এ কথা বিশ্বাস করার মতো ...
আসিফ নজরুল সম্পর্কে কিছু কথা
-
20/03/2012
ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ। আইনের জটিল দিকগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাষায় উপস্থাপন করেন তিনি। আইনের শিক্ষক হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। টেলিভিশনের টকশো উপস্থাপনা এবং অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি যেসব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করেন তা অত্যন্ত জনপ্রিয়। আর দৈনিক প্রথম আলোয় ‘সময় চিত্র’ নামে তাঁর লেখা কলামও পাঠকমহলে সমাদৃত। আসিফ নজরুলের কলামগুলোর লিংক থাকছে এখানে। ...
১২ মার্চ ঘিরে আশঙ্কা
সময়চিত্র
প্রথম আলো
০৯/০৩/২০১২
৭ মার্চ বাংলাদেশের জন্য একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে তৈরি থাকার তাগিদ এবং আত্মবিশ্বাস প্রদান করেছিল। দিনটি এবার আওয়ামী লীগ উদ্যাপন করেছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে। এর পেছনে বাড়তি একটি উদ্দেশ্য ছিল, ১২ মার্চের বিরোধী দলগুলোর ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচির আগেই নিজেদের জনসমর্থন ও শক্তিমত্তা প্রদর্শন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীসহ দলের অন্যান্য নেতার বক্তব্যে তা-ই লক্ষ করা গেছে। দলটির গত কয়েকটি কর্মসূচির তুলনায় এদিন জনসমাগম অনেক বেশি ছিল। দলের সভানেত্রী সম্ভবত এতে উৎফুল্ল ...
সাগর-রুনি হত্যাকান্ড: কেন বাড়ছে বিতর্ক
সময়চিত্র
প্রথম আলো
০৩/০৩/২০১২
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড-সম্পর্কিত উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড-সম্পর্কিত কিছু প্রতিবেদন ও বিরোধী দলের নেত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন সম্মিলিতভাবে আদালতের নির্দেশনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিএনপির মহাসচিবও নির্দেশনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছেন এবং এর প্রতিবাদ করেছেন। আদালতের এই নির্দেশনা মানুুষের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ...
নিনিয়ান, জিমি কার্টার, অস্কার ফার্নান্দেজের পর কে?
সংলাপ
প্রথম আলো
২২ মে, ২০১৩
স্যার নিনিয়ান স্টিফেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর জেনারেল। ১৯৯৪-এর শেষ প্রান্তিকে এসেছিলেন বাংলাদেশে। জিমি কার্টার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একসময়কার প্রেসিডেন্ট। তিনিও একাধিকবার এসেছেন। তবে আজকের আলোচ্য বিষয় ২০০১ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে তাঁর ছয় দিনের সফর। অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। সবেমাত্র বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। তিনজনই সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁদের বাংলাদেশ সফরে সবারই আনন্দিত হওয়ার কথা। কিন্তু তাঁরা যেসব কারণে এসেছেন, এগুলো গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করলে কি আদৌ আনন্দিত হওয়া যায়? ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দু-দুটো সামরিক ...
মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে...
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১০ মে, ২০১৩
৬ মে থেকে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে গুজবের দেশে। এই গুজব ভয়াবহ, অবিশ্বাস্য এবং আতঙ্কজনক। বলা হচ্ছে যে ৫ মে মধ্যরাতের পর শাপলা চত্বরে যৌথ বাহিনীর আক্রমণে কয়েক হাজার হেফাজতের কর্মী নিহত হয়েছে। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের বক্তব্যেও এমন দাবি করা হয়েছে। সাধারণ যুক্তিতে দেখলে শাপলা চত্বরে সরকারের হত্যাযজ্ঞ চালানোর কোনো কারণ নেই। স্পষ্টত, সেদিন সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল হেফাজতের কর্মীদের শাপলা চত্বর থেকে বিতাড়িত করা। এ কাজটি করার জন্য বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর প্রয়োজন ...
এর শেষ কোথায়?
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২১শে মার্চ, ২০১৩
হরতাল ছিল সেদিন। পেছনে প্রায় জনশূন্য রাস্তা, দু-একটি রিকশা আর অলসগতির বাস। অথচ মাইক্রোফোন মুখের কাছে নিয়ে প্রতিবেদক অবলীলায় বলে যাচ্ছেন, আজকে হরতাল পালিত হয়নি, যান চলাচল স্বাভাবিক, দোকানপাট খুলেছে! এমন কিছু গণমাধ্যমের মতো সরকারও মানছে না যে হরতাল হচ্ছে দেশে। সরকার বলছে, অবস্থা তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এর মধ্যে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ, পুড়ছে রাষ্ট্রের সম্পদ, থমকে আছে অর্থনীতি, জনজীবন ও শিক্ষাকার্যক্রম। এমনকি অতিগুরুত্বপূর্ণ এসএসসি পরীক্ষা। হরতালের পর হরতালে বিপর্যস্ত হচ্ছে দেশ।হরতাল আসলে হচ্ছে। আতঙ্কে হোক আর স্বেচ্ছায় হোক, ...
রায়ে কি বিস্মিত আমি!
সময়চিত্র
প্রথম আলো
৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
কাদের মোল্লার মামলার রায় হয়েছে। তাঁর চেয়ে ছোট মাপের অপরাধী হিসেবে পরিচিত মাওলানা আযাদের ফাঁসির রায় হয়েছিল। আমরা সবাই ভেবে নিয়েছিলাম, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাদের মোল্লারও তাই ফাঁসিই হবে। তাঁর ফাঁসির রায় হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আইনে বলা আছে, দোষী প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড বা অপরাধের গভীরতা অনুসারে যথোপযুক্ত শাস্তির কথা। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের একটি হচ্ছে ১৯৭১ সালে আলুব্দী গ্রামে গণহত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণ করার। অপরাধ প্রমাণিত হলে শুধু এই অপরাধের ভয়াবহতা অনুসারে তাঁর ফাঁসি হওয়ার কথা, প্রমাণিত না হলে ...
মুক্তিযুদ্ধ: চেতনার রাজনীতি
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১০ ডিসেম্বর ২০১২
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আমরা প্রায়ই কথা বলি। সবচেয়ে বেশি বলেন রাজনীতিবিদেরা। তাঁদের বক্তব্যে এই চেতনা নিয়ে তেমন সারগর্ভ কথা নেই। কারণে-অকারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষ-বিপক্ষের ছাপ মেরে দিতেই তাঁদের (এবং রাজনৈতিক সুবিধাভোগী মানুষ) বেশি আগ্রহী দেখা যায়। অবস্থা মাঝেমধ্যে এমন দাঁড়ায় যে দেশের সিংহভাগ জনতাকেই তাঁরা কোনো না কোনোভাবে চেতনাবিরোধী হিসেবে অভিহিত করেন। আওয়ামী লীগ, তাদের সরকারের কার্যক্রম, বঙ্গবন্ধু, ১৯৭২-এর সংবিধান, এমনকি ভারতবিরোধী কোনো সমালোচনা হলে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী—এ ধরনের সাধারণীকরণ বিরল নয় এ দেশে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ...
প্রধানমন্ত্রী বনাম গণমাধ্যম
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২২ অক্টোবর ২০১২
আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা মিডিয়ার কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাঁর ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকেরা প্রায়ই তাঁর উষ্ণ হূদয়, আপ্যায়ন এবং কৌতুকপ্রিয় স্বভাবের বর্ণনা দিয়ে থাকেন। তিনি মিডিয়াকে কতটা গুরুত্ব দেন তারও একটি বড় প্রমাণ আমরা গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁর বিচারকালে দেখতে পাই। সে সময় ২০০৮ সালের ১৬ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খারাপ ব্যবহারের প্রতিবাদে সাংবাদিকেরা আদালত বর্জন করলে তিনি এটি একটি গোপন বিচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি এই হুমকিও প্রদান করেন যে সাংবাদিকদের উপস্থিত করার উদ্যোগ না নিলে ...
সেতু নয়, আগে মানসম্মান বাঁচান
সময়চিত্র
প্রথম আলো
০৭/০৭/২০১২
আশির দশকে বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার লাল কার্ড প্রাপ্তিতে ক্ষুব্ধ ফুটবলপাগল দর্শক ঢাকার রাস্তায় স্লোগান দিয়েছিল—ফিফার চামড়া তুলে নেব আমরা। সে তুলনায় বিশ্বব্যাংক কর্তৃক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বাতিল আরও ভয়ংকর বিষয়। আগের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাংকের চামড়া তুলে ফেলার স্লোগান তাই হয়তো শোনা যেত ছাত্রলীগ বা যুবলীগের মিছিলে। তাদের ‘অমার্জনীয় ব্যর্থতা’ অবশ্য কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছেন মতিয়া চৌধুরীসহ আমাদের কয়েকজন মন্ত্রী এবং কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বব্যাংকের নিজের কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ, অস্বচ্ছ ও দুর্নীতিগ্রস্ত। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তি বাতিল করে ১৬ কোটি মানুষকে ...
শিক্ষকের বেত পুলিশের লাঠি
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১৯/০৫/২০১২
ক্লাস শেষ করে ফিরছি আমার রুমে। সায়েন্স এনেক্সের নিচতলার লম্বা করিডর ধরে এগোচ্ছি। দেখি ওপরে যাওয়ার সিঁড়ির কাছে মেঝেতে বসে আছেন চারজন মানুষ। দীনহীন, ক্লান্ত শরীর, জরাজীর্ণ পোশাক-আশাক। হাতের পলিথিনের পোঁটলা খুলে চিড়া আর গুড় বের করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডর দুপুরের খাওয়ার জায়গা না। তাই হয়তো ভীতসন্ত্রস্ত চোখে দেখছেন চারদিক। তাঁদের পাশ কাটিয়ে এগোই। হঠাৎ আমার সন্দেহ হয়। একটু পিছিয়ে এসে বলি, আপনারা শিক্ষক? তাঁরা মাথা নাড়েন। শহীদ মিনারে প্রখর রোদে বসে আন্দোলন করছেন তাঁরা দুই দিন ধরে। এখানে একটু ছায়া কিংবা দেয়ালঘেরা জায়গা দেখে খেতে এসেছেন। খোলা একটা ক্লাসরুমে দেখিয়ে তাঁদের অনুনয় করি: প্লিজ, আপনারা ওখানে বসে খান। তাঁরা যতটা খুশি হন, তারচেয়ে বেশি দ্বিধান্বিত। নিজের পরিচয় দিই, বলি কেউ আপনাদের কিছু বলবে না, ওখানে বসে খান।   ...
সরকারের তাহলে ভয় কিসের?
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১১/০৫/২০১২
ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, কোনো বিশেষ দলের সঙ্গে নয়। তিনি বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে ভারত সফরেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রণবের প্রথম বাংলাদেশ সফরকালে যে শীতল মনোভাব বিএনপির প্রতি দেখানো হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। প্রণব, হিলারি এবং সবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে দুটো বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এক. রাজনৈতিক সমঝোতা এবং দুই. সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। ...
একটাই প্রার্থনা এখন
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১০/০১/২০১২
পাঁচ-ছয় বছর আগের কথা। বাংলাদেশ দলে এসেছেন নতুন এক মারকুটে ব্যাটসম্যান। দলের প্রথম ব্যাটসম্যান প্রায়ই আউট হয়ে ফিরে আসেন শ খানেক রানের মধ্যে। তারপর নামেন অলক কাপালি নামের এক উদ্ধত যুবক। কখনো খালেদ মাসুদ, কখনো রফিককে নিয়ে অবলীলায় মারতে থাকেন বাঘা বাঘা বোলারকে। রক্তে নাচন শুরু হয়। উত্তেজনায় শিরদাঁড়া খাড়া হয়ে ওঠে। উল্লাসে কত অর্থহীন কথা বলে উঠি! একবার তাঁর ছয় মারা দেখে চিৎ কার করে বলি, ‘সব সম্পত্তি দিয়ে দেব তোমাকে!’ আমার মেয়ে রিমঝিম সকৌতুকে বলে, ‘আব্বু, তোমার তো কোনো সম্পত্তিই নেই!’ অতি সত্যি কথা। কিন্তু তবু আমি বিরক্ত হই, বের করে দিই তাকে টেলিভিশনের সামনে থেকে। আমার মেয়ে একটু পরে উঁকি দিয়ে বলে, ‘আব্বু, আলাকাপালা আউট নাকি!’ আমাকে খেপানোর জন্য সে অলক কাপালির নাম অশুদ্ধভাবে বলে। কিছুক্ষণ পর খেলা শেষ হয়। অলক-পাইলটদের বীরত্ব শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ আবারও হেরেছে। অন্ধকার ঘরে চুপচাপ বসে থাকি আমি। আমার মেয়ের মায়া হয় বোধহয়; কাঁচা ভঙ্গিতে বোঝানো শুরু করে, হেরেছে তো কী ...
টার্গেট যখন ড. ইউনূস
সময়চিত্র
প্রথম আলো
০৩/০১/২০১২
২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর ড. ইউনূসের বক্তৃতা শোনার জন্য ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভার একটি যুক্ত সভা হয়েছিল। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ড. ইউনূসকে সম্মানিত বন্ধু হিসেবে সম্বোধন করে তাঁর সান্নিধ্য পাওয়া একটি সত্যিকারের প্রিভিলেজ (বিশেষ সুযোগ) হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আবেগপূর্ণ বক্তৃতার একটি অংশে তিনি বলেছিলেন: ‘২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর কাছ থেকে আমাদের বহু কিছু শেখার আছে এবং আমি আবারও তাঁর কাজ এবং আমাদের মধ্যে তাঁর উপস্থিতিকে স্যালুট (অভিবাদন) জানাচ্ছি।’ ড. ইউনূসকে নিয়ে ঠিক এক বছর পর বাংলাদেশের কয়েকটি দৈনিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সংবাদ প্রচারিত হয়। এতে বলা হয় যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন ড. ইউনূস এবং তাঁর ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন সঙ্গে সঙ্গে এই ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ করে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এই প্রতিবাদপত্রটি উল্লিখিত দৈনিকগুলোর কোনো কোনোটি ছাপানোরই দায়িত্ব অনুভব করেনি। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর অপপ্রচার চলে সে সময়। নরওয়ের টেলিভিশনের একটি প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়েছিল যে গ্রামীণ ব্যাংক দাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ...
আপনি আওয়ামী লীগ, নাকি বিএনপি
গল্পচ্ছলে
সমকাল
০২/০২/২০১০
বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় নতুন যুক্ত হয়েছে বল্গগ। বহু বল্গগ ওয়েবসাইটে এখন কলাম লেখকদের লেখা রাখা হয়। তার নিচে পাঠকদের মন্তব্য করার সুযোগ থাকে। এসব মন্তব্যের বিষয়ে জানা ছিল না আমার। একদিন একজন নিয়মিত পাঠক কিছু বল্গগের ঠিকানা দিয়ে পাঠান। সেখানে গিয়ে দেখি ভয়াবহ সব ব্যাপার। প্রধান দৈনিকগুলোর কিছু বল্গগের লেখা শালীন, যুক্তিপূর্ণ এবং সুচিন্তিত। কিন্তু অন্য অনেক বল্গগ আক্ষরিক অর্থেই বিকৃত মানুষের আখড়া। সেখানে এত জঘন্য ও ঘৃণ্য মন্তব্য লেখা হয় যে, তা পড়লে বুকের রক্ত হিম হয়ে যাবে যে কোনো সুস্থ মানুষের। কোনোরকম সম্পাদনা ছাড়া এসব মন্তব্য ছাপানো হয় কেন তা বল্গগের মালিকগণই জানেন। হয়তো তারা কলমের স্বাধীনতায় অতিমাত্রায় বিশ্বাসী, হয়তো তারা নিজেরা এসব পড়ে দেখেননি কোনোদিন, হয়তো এভাবেই পাঠকদের আগ্রহী করতে চান তারা। আমার এই লেখা আসলে এসব বল্গগ নয়, বরং রুচিশীল বল্গগগুলো নিয়ে। এমন একটি বল্গগে আমার প্রতিটি লেখাই রাখা হয়। দু'সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে একটি লেখা প্রথম আলোতে লিখেছিলাম। যে বল্গগের কথা বলছি, সেখানে ...
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
৪০ বছর পর এক দুরূহ দায়িত্ব সম্পন্ন হলো বাংলাদেশে। ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণীত হয়েছিল বাংলাদেশে, এই আইনের অধীনে প্রথম বিচার সম্পন্ন হলো ২০১৩ সালে। এই আইন এবং বিচার দুটোই অসামান্য নানা কারণে। ১৯৭৩ সালের আইনটি ছিল একটি পদপ্রদর্শক ধরনের আইন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার রাশিয়া, পোল্যান্ড ও ইসরায়েলে জাতীয়ভাবে হলেও, স্বাধীনতাযুদ্ধকালে সংঘটিত এ ধরনের অপরাধের বিচারের জন্য জাতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা এই আইনেই প্রথম বলা হয়। ...
তৃতীয় শক্তি: স্নেহাদ্রিদের গল্প
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২৩ ডিসেম্বর ২০১২
স্নেহাদ্রি চক্রবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে পাস করেছে বছর দেড়েক হলো। সুদর্শন, মার্জিত, চৌকস, নম্র—তার সম্পর্কে ভালো কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমি বুকভরা স্নেহ নিয়ে তাকে নানা রকম চাকরির কথা বলি। আরও অনেকে নিশ্চয়ই বলে। কিন্তু সে চাকরি করবে না। দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। কাজ সে করছেও অনেক বছর ধরে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিল। এখন আরও বড় দায়িত্ব পালন করছে। আমার ডিপার্টমেন্টে গেলে সেখানে কুদ্দুস আর রবিদা মনখুলে গল্প ...
গ্রামীণ ব্যাংক: বিপজ্জনক অপপ্রচারের বলি (?)
সময়চিত্র
প্রথম আলো
০৮/০৯/২০১২
মো. অলি উল্লাহ্ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি আমাকে ই-মেইল করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে সরকারের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যাংকারের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে। ওই ব্যাংকার ২৬ আগস্ট একটি টিভি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ড. ইউনূস খাঁটি বাঙালি নন’। ক্ষুব্ধ অলি আমাকে অনুরোধ করেছেন এই মন্তব্য সম্পর্কে লিখতে। সমস্যা হচ্ছে, খাঁটি বাঙালিত্ব কীভাবে পরিমাপ করা যায়, সে সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। আমি শুধু এটুকু জানি, বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে পৃথিবীর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত করেছেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দারিদ্র্যমোচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনিই। ...
আমাদের রোল মডেল কে?
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২৭/০৭/২০১২
প্রতিটি গর্বিত জাতির রোল মডেল থাকে। রোল মডেলদের দেখে তরুণ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়, রোল মডেলদের কর্ম ও অবদান আলোকবর্তিকার মতো থাকে তাঁদের সামনে। রোল মডেল সমসাময়িকও হতে পারেন। এই যেমন বাংলাদেশে এখনকার নারীদের রোল মডেল হতে পারেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নিশাত মজুমদার বা সদ্য এসএসসি পাস করা জুঁই নামের তরুণীটি। আরও ব্যাপক অর্থে আমাদের রোল মডেল হতে পারেন বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি শুধু নোবেলজয়ী নন, তাঁর চিন্তা, পরিকল্পনা ও উদ্ভাবন অর্ধশতাধিক দেশ অনুসরণ করছে। ...
গুম হয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র?
সময়চিত্র
প্রথম আলো
২৩/০৪/২০১২
রোববারের পত্রিকা পড়ার পর আরও চিন্তিত হয়ে আছি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, গুম ও নিখোঁজের কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তাঁর এই সাহসী বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ; কিন্তু তিনি যা বলেছেন, তা উদ্বেগজনকও। এই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় যখন আমরা মিজানুর রহমান খানের লেখায় পাই গুমের একটি ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবে থাকা একজন সেনাসদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ। ...
দুই যোগ চার
সময়চিত্র
প্রথম আলো
১৩/০৪/২০১২
রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আমার প্রিয় একজন রাজনীতিক ছিলেন। কারণ, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কারণ এটিও যে, আমি গণপরিষদ বিতর্ক আদ্যোপান্ত পড়েছি। তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সংসদ এবং পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সেসব বিরলপ্রায় রাজনীতিবিদদের একজন, যিনি প্রকৃত অর্থে জ্ঞানী একজন মানুষ। তাঁর রসাত্মক তির্যক মন্তব্য করার ক্ষমতাও অসাধারণ। আমরা যারা সরকারের ‘ভুল ধরা’ পার্টি, তারা তাই তিনি মন্ত্রিসভায় নেই কেন এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছি। তিনি ও ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত হয়েছি এবং এই ...
ভারতের দালাল (!), পাকিস্তানের দালাল (!)
সময়চিত্র
প্রথম আলো
৩০/০৩/২০১২
বাংলাদেশের বড় দুটো দল নাকি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ‘দালাল’! আওয়ামী লীগকে বিএনপি ও তার মিত্ররা ভারতের সেবাদাস, ভারতের প্রতি নতজানু, ভারতের আজ্ঞাবাহী নামে অভিহিত করে থাকে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মিত্র দুটো দলের (ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টি) নেতারাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাবশালী উপদেষ্টাদের ভারতের হয়ে কথা বলার অভিযোগ করেছেন। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানপন্থী বা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে বর্ণনা করে। তার মিত্র দলগুলোর কোনো কোনো নেতাও একই কথা বলে থাকেন। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন উত্তাল হয়ে আছে এসব প্রসঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ...
তাহের, জিয়া এবং আমরা
সময়চিত্র
প্রথম আলো
০৩/০১/২০১২
লরেন্স লিফশুলজের সঙ্গে আমার সাক্ষাতের সুযোগ ঘটে মাত্র দুই দিন আগে। রাতের খাবারের আড্ডা, তাই কথা বলার সুযোগ ছিল অনেক। আমি লরেন্সকে জিজ্ঞেস করি, কর্নেল তাহেরের বিরুদ্ধে অভিযোগটি কী ছিল। এ ধরনের অভিযোগ সত্যি হলে কোন দেশে কী শাস্তি দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে সেই বিষাদময় দিনগুলোতে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার লিফলেটে বৈষম্যহীন সামরিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এর জের ধরে সামরিক বাহিনীর বহু কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল। কর্নেল তাহের যদি এই কার্যক্রমে জড়িত থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধে তাঁর শাস্তিই তো পাওয়ার কথা! লরেন আমার ব্যাখ্যা শুনলেন। তিনি স্পষ্টভাবে আমার সঙ্গে দ্বিমত করলেন না। তবে তিনি বিচারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। গোপন বিচার কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারও সমর্থনযোগ্য নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে এটিও বিশ্বাস করি, কর্নেল তাহেরের আসলে গোপন বিচারও হয়নি। বিচার মানে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়া, রায়ে এই আত্মপক্ষ সমর্থন কেন গ্রহণযোগ্য নয়, তার ব্যাখ্যা থাকা। কর্নেল তাহেরের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তিনি তাঁর আত্মপক্ষমূলক বক্তব্য ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩