কলামিস্টদের নাম
ফারুক ওয়াসিফ এর কলামগুলো

তুরস্কের যুববিক্ষোভ
তরুণ তুর্কি ও নতুন নায়কের আবির্ভাব
খোলা কলাম
প্রথম আলো
৭ জুন, ২০১৩
কোনো সমাজ যখন মাইনফিল্ড হয়ে ওঠে, তখন কখন কোথায় পা দিলে বিস্ফোরণ ঘটবে, তা জানার উপায় থাকে না। যখন গণতন্ত্র মানে জনগণকে নিছক ভোটার বানিয়ে সরকারের যাবতীয় কীর্তিকারখানা দেখার জন্য টেলিভিশনের সামনে বসিয়ে রাখা, তখন তলেতলে তল্লাটে তৈরি হয় বিদ্রোহের পটভূমি। তুরস্কের এরদোয়ান সরকার এত সবের খোঁজ রাখেনি। তারা ভেবেছিল, ‘উন্নয়ন’ করছে; কিন্তু সাধারণ মানুষ দেখেছে, তারা অধিকার হারাচ্ছে। পার্কের গাছ কাটার বিরুদ্ধে অল্পকিছু তরুণের ‘না’কে প্রশাসন পুতুপুতু প্রতিবাদ ভেবেছিল; ভেবেছিল মিনমিনে পরিবেশবাদ। কিন্তু পুলিশ লেলিয়ে দিতেই ‘ছিল একটা ...
বেগম পাড়ার সাহেব ও দেশ বিক্রির কচ্ছপেরা
সেকেন্ড হোম
প্রথম আলো
২৬ মে, ২০১৩
যদি বলি কোন প্রাণী নিজের ঘর পিঠে নিয়ে চলে? এর উত্তর হবে ১. কচ্ছপ, ২. এক চীনা কৃষক এবং ৩. কয়েক হাজার বাংলাদেশি বড়লোক। রূপকথার সেই কচ্ছপের গায়ে আদিতে কোনো খোল ছিল না। ঘরের বাইরে বের হলেই শিয়াল, কুকুর, ইগল খেয়ে ফেলত। সে দেখল, ঘরেই সে নিরাপদ। তাই সে কচ্ছপ দেবতার কাছে প্রার্থনা করল, তার শক্ত খোলের ঘরটা যেন সে সব সময় বইতে পারে। সে যুগে দেবতারা সত্যমনে আরজি জানালে পূরণ করতেন। তো, এক সকালে কচ্ছপ দেখল শক্ত খোলের ঘরটা তার পিঠে ও পেটে লেগে গেছে। সেই থেকে কচ্ছপ ঘরসহ নিরাপদে চলাচল করে। চীনের ৩৮ বছর বয়সী লিউ লিংচাও খুবই গরিব। একে তো নিজস্ব ঘর নেই, তার ওপর ঘুরে বেড়ানোর খুব শখ। এক জবর বুদ্ধি বের করলেন তিনি। বাঁশ আর প্লাস্টিক দিয়ে ছোট্ট একটা বহনযোগ্য ঘর বানালেন। এর ওজন ৬০ কেজি এবং এর সুবিধা হলো, এটা ঘাড়ে নিয়ে হাঁটাচলা করা যায়। সেই থেকে লিংচাও ভ্রাম্যমাণ আছেন। তবে গৃহ কাঁধে ...
গডফাদার ও তাঁদের ধর্মপুত্ররা
উপ-সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
০৮ মে, ২০১৩
‘রানা’রা এখন বাংলাদেশের আঞ্চলিক রাজপুত্র। নেপালের সাবেক রাজপরিবারের যে পুত্রটি ‘রাজা’ হন, তাঁর উপাধি হয় রানা। রাজপুত ভাষায়ও রানা মানে রাজপুত্র বা রাজা। আমাদের রানারা সাধারণ ঘরেই জন্মান। কিন্তু ‘রানা’ নামের সার্থকতা প্রতিষ্ঠা তো আর সাধারণ যোগ্যতায় হয় না। যাঁর ঔরসে তাঁদের জন্ম তিনি জন্মপিতা, আর যাঁর আশ্রয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠা তিনি ধর্মপিতা বা গডফাদার। একদা ইতালি গডফাদারদের স্বর্গরাজ্য ছিল। আইনকানুনের তেমন বালাই ছিল না। সে সময়ই ইতালি দেশে কথা চালু হয়, দুনিয়াটা এতই কঠিন জায়গা যে লোকের আর একটা ফাদার হলে চলে না, গডফাদারও লাগে। সে সময়ের ইতালির সঙ্গে এ সময়ের বাংলাদেশের মিলের মধ্যে বড় মিল হলো, এখানেও কিছু বীরপুঙ্গব জন্মান, যাঁরা আর বাপের সন্তান থাকতে রাজি নন, গডফাদারের ধর্মপুত্র হওয়ার সাধনায় নামেন। এই সাধনায় অনেক পরীক্ষা দিতে হয় তাঁকে। গডফাদার নেতার জয়ধ্বনি দেওয়া মিছিল নামাতে হয়, তাঁর হয়ে মারামারি করতে হয়, গডফাদারের গোপন ব্যবসার খুঁটি হতে হয়। বিনিময়ে ধর্মপুত্র ছাত্রনেতা থেকে যুবনেতা হন। যুবনেতা থেকে জননেতা করার আশ্বাসও ...
তানিয়ার রক্তাক্ত হাতের অভিশাপ
উপ-সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
২৪ এপ্রিল, ২০১৩
করুণ কাহিনির কদর বেশি। ইতিহাস, উপন্যাস, সিনেমা কি জীবন; করুণ ঘটনার প্রতি অদ্ভুত এক টান আমাদের মধ্যে লীলা করে। অথচ সমস্ত করুণ গল্পের সঙ্গে মেশানো থাকে এক ক্ষমাহীন প্রতিবাদ। ১০ বছরের শিশু তানিয়ার ককটেলে বিধ্বস্ত ডান হাতের প্রতি করুণার ধৃষ্টতা আমার হবে না। (প্রথম আলো, ২৩ এপ্রিল) ছোট্ট মেয়েটির বোবা প্রতিবাদের ভাষা বোঝার ক্ষমতাও আমার নেই। কিন্তু একটি শিশুকন্যার বাবা হওয়ার অধিকারে তানিয়ার বাবা মো. রশিদের হাহাকারের প্রতিধ্বনি আমার বুকেও শুনতে পাই। আরও লক্ষ-কোটি বাবা-মাও তা শুনতে পাবেন। যে ...
দুদক জানে না ‘কী করিতে হইবে’
দুর্নীতি দমন
প্রথম আলো
২ এপ্রিল, ২০১৩
দুদক জানে না ‘কী করিতে হইবে’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান অবশেষে স্বীকার করেছেন, দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। কার অভাব তিনি বোধ করছেন, তা তাঁর কথা থেকেই আমরা বুঝে নিতে পারি। তিনি আরও বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছাই দুর্নীতি দমনে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।’ সেই সদিচ্ছা যেমন একালেও নেই, সেকালেও ছিল না। সেকাল মানে বিগত আমল। সেই আমলে ‘ক্ষমতাসীনেরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এ সংস্থাকে ব্যবহার করত’। সেকালে সংস্থাটির রাজনৈতিক ব্যবহার হতো, একালে কী হয় তার উত্তর ...
মৃত্যুতেও তুমি জয়ী হুগো চাভেজ
ভেনেজুয়েলা
প্রথম আলো
৭ মার্চ, ২০১৩
মৃত্যুতে যিনি যত ভালোবাসা পান, জীবনে তিনি ততটাই বড়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের মৃত্যুর শোক তাই মত-মতাদর্শ আর দেশজাতি ছাপিয়ে বিশ্বজনীনতা পেয়েছে। মনের ভেতরে উঠে দাঁড়িয়ে অনেকে আজ বলছে, ‘সালাম কমরেড, বিদায় বন্ধু।’ আমার কোনো স্কুলশিক্ষক বন্ধু তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাসে শিশুদের অবাক করে দিয়ে কেঁদে ফেলবেন। থমথমে মুখে বলবেন দূর কোনো মহাদেশের এক নেতার কথা। তারা অবাক হয়ে শুনবে। অনেকেই ভুলে যাবে। কিন্তু তাদের কারও কারও মনে চাভেজ নামটি অক্ষয় দাগ ফেলবে। তারাও হতে চাইবে দেশের সেবক, জনতার নায়ক। ...
আমরা অপেক্ষা করছি
জাগরণ
প্রথম আলো
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
শুক্রবারের মহাসমাবেশের লাখো মানুষের বুকে জননী জাহানারাকে জাগ্রত দেখেছি। জনসমুদ্রের ঢেউ মুজিবের ভাষায় বলে উঠেছে, ‘আর দাবায়ে রাখবার পারবা না।’ অপশক্তির বিরুদ্ধে ভাসানীর জলদ কণ্ঠের হুংকার শুনেছি, ‘খবরদার, খামোশ!’। ‘তুই রাজাকার’ স্লোগানে কথা বলতে দেখেছি হুমায়ূন আহমেদকে। ইতিহাস জাগ্রত ছিল, সোনার বাংলা গানের তরঙ্গে বাঁধা ছিল বাংলাদেশ। ১.তিনজন বৃদ্ধ রাস্তার মাঝখানে নীরব আসনে বসে আছেন। তাঁদের চারপাশ দিয়ে স্রোতের মতো মানুষের ঢল। মাঝের জনের অবিচলিত হাতের কাগজে বড় করে লেখা ‘অপেক্ষা’। দুই পাশের লুঙ্গি পরা দুজনের হাতে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি। হাতে পতাকা। বিকেলের সোনালি রোদ একজনের সফেদ দাড়িতে অপার্থিব আলো ছিটাচ্ছিল। প্রতিটা মহৎ জাগরণ এ রকম অলৌকিক মুহূর্তের জন্ম দেয়, কোনো কোনো দৃশ্য হয়ে ওঠে সেই জাগরণের আত্মা। তিন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা বহু দূর থেকে এসে মঞ্চ খোঁজেননি, রাস্তার মালিকানা নিয়ে বসে গেছেন। তাঁদের কথা বলতে দেখিনি, একবারের জন্যও উঠে যেতে দেখিনি। তাঁদের বোবা অপেক্ষার জেদ আর প্রতিবাদের কাছে আমরা সেদিন নত হতে পেরেছিলাম। ৪২ বছরের অবিচারের পর তিন লুঙ্গি ...
বাংলাদেশের প্রাণভোমরার নাম এখন শাহবাগ
তারুণ্যের দিন
প্রথম আলো
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
বিচার শব্দটাই এখন বাংলাদেশ। শাহবাগে গণ-আদালত বসেছে। তার সমর্থন আসে সুদূর চিলমারী থেকে, ‘কী কাণ্ড দ্যাখেন, গ্রামের যে মানুষগুলান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়া সরাসরি কথা বলত না, এখন তারাই জোরেশোরে বিচার চাইছে। বলে, আর কোনো টালবাহানা না।’ বলছিলেন রৌমারী চরের স্কুলমাস্টার সমাজসংগঠক নাহিদ নলেজ। বরিশালের শিশু সাংবাদিক তাহসিন উদ্দিন লাল সবুজ নামের একটা পত্রিকা বের করে। এবার এসএসসি দেবে, সেও তার ছোট্ট পত্রিকায় লিখে যাচ্ছে। অবিচার এত বেশি হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে, বিচার ছাড়া মানুষ আর কিছু বুঝছে না। এই বিচারের জন্য তারা রাষ্ট্রশক্তির ওপর পূর্ণ ভরসা করতে পারছে না, তাই সমাজশক্তি জেগে উঠে দায়িত্ব নিচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আজ সব বিচারের প্রতীক ও প্রতিনিধি। আমাদের অবদমিত সামষ্টিক অচেতন হঠাৎ চেতন হয়ে ফুটছে। তরুণেরা তাঁদের কাজ করছেন। এখন দায়িত্ব হলো এই চেতন-ফেরাকে আইন, যুক্তি, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধীকরণে কাজে লাগানো। একাত্তরের আদি পাপের বিচার হলে, অন্য সব অবিচারের সংস্কৃতিও কমজোরি হবে। বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির জমিন এভাবেই তৈরি হচ্ছে ও হবে। রূপকথায় ...
ধর্ষক: সে কি আমাদেরই লোক!
রাষ্ট্র ও সমাজ
প্রথম আলো
৯ জানুয়ারি, ২০১৩
একাত্তরে লাখ লাখ বাঙালি নারীর ধর্ষিত হওয়ার অভিজ্ঞতার প্রতি সৎ থাকলে বাংলাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ থাকত। স্বাধীনতার চেতনার জরুরি অংশ হওয়ার কথা ছিল ধর্ষণের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে চেতনা। যা হওয়া উচিত তা হয় না। তাই বাংলাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ নিত্যদিনকার ঘটনা। মাথাটাকে তাই বালু থেকে তুলে ভাবতে হবে, গলদটা কোথায়? ধর্ষণের সংস্কৃতি: ইচ্ছুক নারীর ভাবমূর্তি বলিউড, ঢালিউড বা হলিউডের অধিকাংশ সিনেমা এবং বিনোদন মিডিয়ায় যে নায়িকা, গায়িকা, নাচিয়ে নারীকে দেখানো হয়, তার প্রধান আকর্ষণ যৌনাবেদন। বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত নারীরাও তা-ই। রিয়েলিটি শোয়ের নামে বালিকা-কিশোরীদেরও এমন নাচ-গান-অঙ্গভঙ্গি ও পোশাকে অভ্যস্ত করা হচ্ছে, যাতে তাদেরও ওই সব ‘ইচ্ছুক’ পূর্ণবয়স্কা নারীর মতো লাগে। তারা যেন সব সময়ই প্রেমের জন্য, পুরুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য ইচ্ছুক হয়ে থাকে। এভাবে পুরুষালি দৃশ্যমাধ্যমে যে ‘ইচ্ছুক নারী’র ভাবমূর্তি সাজানো হয়, সেটাই বাস্তবের নারীর ভাবমূর্তিকে ঢেকে ফেলে। আত্মমর্যাদাবান স্বাধীন নারীর বদলে পুরুষের প্রতি ‘ইচ্ছুক নারী’র এই ভাব থেকে পুরুষ-তরুণদের অনেকের মনেও ‘ইচ্ছুক নারী’কে ঘনিষ্ঠভাবে পেতে ইচ্ছা ...
ইরাক, সাম্রাজ্যের নতুন অন্ধকূপ
ইরাক যুদ্ধের ১০ বছর পূর্তি
প্রথম আলো
২০ মার্চ, ২০১৩
আজ ইরাকের পতনের দিন, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু পরোয়ানা ঘোষিত হওয়ার দিন। তাঁকে ফাঁসির দড়ি পরানোর সময় যখন ইরাকি মীরজাফররা টিটকারি করে বলেছিল ‘জাহান্নামে যাও’, অন্তিম মুহূর্তেও অবিচল সাদ্দাম পাল্টা পরিহাস করেন ‘কোন জাহান্নাম, যার নাম ইরাক?’ মার্কিন আগ্রাসনের ১০ বছর পর ইরাক এখন সত্যিই এক নরকের নাম। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ জর্জ বুশ বলেছিলেন, মিশন সম্পূর্ণ, ইরাক স্বাধীন হলো। তার তিন বছর পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসি হয় সাদ্দামের। তত দিনে ইরাকে নিহত হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। ...
জনতার নীরব অ্যাকশন
শান্তির জন্য
প্রথম আলো
৫ মার্চ, ২০১৩
জনতার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। যে কানসাট-শিবগঞ্জকে জামায়াত-শিবির পুড়িয়ে ছারখার করেছিল, সেই এলাকা থেকেই ঘোষণা আসছে: যেখানেই সহিংসতা, সেখানেই প্রতিরোধ। ডাক দিয়েছেন কানসাট বিদ্যুৎ আন্দোলনের নেতা সেই গোলাম রব্বানী। ছত্রজিৎপুরে দাঁড়িয়ে পড়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত নির্দলীয় ইউপি সদস্য নেছাউর রহমান। বয়সী মুরব্বি ও শিক্ষকেরা আছেন সামনের সারিতে। রাজনৈতিক নেতারা যখন দিশা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, ভরসা জাগাতে দেরি করছেন, তখন সামাজিক নেতারা দায়িত্ব নিচ্ছেন; এটা খুবই আশার কথা। বাংলাদেশের আর কিছু না থাকুক, জনগণ আছে। শাহবাগের ‘জয় জনতা’ স্লোগান বৃথা যায়নি। যে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব জাতীয় নেতাদের, স্থানীয় নেতারা সেই কাজ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তলার মানুষ দায়িত্ব নিতে জানে। শনিবার রাতে গোলাম রব্বানীর বাড়ির সামনে পাঁচ শতাধিক মানুষের এক সভা বসে। এলাকার ময়মুরব্বি থেকে শুরু করে, সব দলের স্থানীয় নেতারা ছিলেন। তরুণেরাও বাদ যাননি। আসলে সেটা ছিল জনতার কাঠগড়া। সেই কাঠগড়ায় সব দলের রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহি করতে হয়েছে যে তাঁরা কী করছেন। স্থানীয় জামায়াতের নেতা বলতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁরা আর ...
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘কোমল অস্ত্র’
মানবাধিকার
প্রথম আলো
১৯ জানুয়ারি, ২০১৩
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবাদ দমনে যতই শক্ত হচ্ছেন, ততই কোমল অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন। ডিজিটালকরণের একটা অর্থ ‘সফট’ পদ্ধতি, মানে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার ইত্যাদির মাধ্যমে কাজকারবার চালানো। তবে ডিজিটাল দিনবদল তো রাতারাতি করা যাবে না, ধীরে ধীরে করতে হবে। তাই তিনি ধীরে ধীরে লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস—এসব হার্ডওয়্যার-নির্ভর দমনপদ্ধতির পাশাপাশি তরল পেপার সেপ্র, গরম পানি ইত্যাদি কোমল অস্ত্রকে ‘জনপ্রিয়’ করছেন। রাসায়নিক অস্ত্রবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনে পেপার সেপ্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। সেই অস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার জায়েজ করা তো রীতিমতো ঐতিহাসিক কীর্তি! এর মাধ্যমে ‘পেপার সেপ্র’ ...
ওবামা, এবার কি পারবেন?
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি
প্রথম আলো
১০ নভেম্বর, ২০১২
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের সময় ভিনগ্রহবাসী কেউ পৃথিবীতে এলে একটা ভুল আলবত করত। বৈশ্বিক শোরগোল দেখে ভাবত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বোধ হয় বিশ্বেরই প্রেসিডেন্ট। সেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবশেষে বারাক ওবামা পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এই খবর সবার কাছে সমান নয়। কিন্তু আমেরিকার ব্যাপারে সবার আদার ব্যাপারি হলে চলে না। কিন্তু একজন মধ্যপ্রাচ্যবাসী আরবের আগ্রহ থাকবে জানতে যে, কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের বৃহত্তম বন্দিশিবির গাজানিবাসী একজন ফিলিস্তিনি জানতে চাইবে, ওবামা টু কি ওবামা ওয়ানের মতো ফিলিস্তিনি নিধন সমর্থন করে যাবেন? সিরিয়া ও ইরানের মানুষ ...
রোহিঙ্গা সমস্যা: তিলের ভেতর লুকানো তাল
মিয়ানমার
প্রথম আলো
১ নভেম্বর, ২০১২
‘রোহিঙ্গা সমস্যা মুসলমান ও বৌদ্ধদের মধ্যকার ধর্মীয় সংঘাত নয়, এটা হলো নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়। আমাদের খুবই হুঁশিয়ার থাকতে হবে।’ —সুরিন পিতসুয়ান, আসিয়ান জোটের সেক্রেটারি জেনারেল বিশ্বব্যাপীই সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত সংঘাতের ঢল দেখা যাচ্ছে। পূর্ব ইউরোপের বলকান যুদ্ধ থেকে যাত্রা করে ভূমধ্যসাগর তীরের আরব অঞ্চল হয়ে সেই সংঘাত ইউরোপ-আমেরিকায়ও চাঙা হচ্ছে। হিংসার ঢল হালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও পৌঁছেছে। গত জুনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাবিরোধী সাম্প্রদায়িকতায় অনেক প্রাণ গেছে, উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। তারপর আসামে বাঙালি মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা এল। ...
গাদ্দাফির শেষ যুদ্ধ
লিবিয়া
প্রথম আলো
২৩ অক্টোবর, ২০১২
মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের হাতে আটক হয়ে নিহত হওয়ার এক বছর পূর্তি হলো ২০ অক্টোবর। এর তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ‘ডেথ অব এ ডিক্টেটর: ব্লাডি ভেনেগান্স ইন সির্তে’ নামের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এখানে তারই আলোকে গাদ্দাফির অন্তিম মুহূর্ত এবং লিবিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়েই এই প্রতিবেদন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাদ্দাফির বিরোধীরা লিবিয়াজুড়ে সরব হওয়া শুরু করে। কিন্তু লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ সেই প্রতিবাদ শুনল না, উল্টো শোনাল সিংহের হুঙ্কার। পরিণাম—বিদ্রোহ। লিবিয়ার মরুসিংহ বিদ্রোহীদের তাড়িয়ে বেড়ালেন। কিন্তু ...
ওরা এবারও আসেনি
ঘূর্ণিঝড়
প্রথম আলো
১৫ অক্টোবর, ২০১২
জাতীয় জীবনে যত তুফান আসে, তার মধ্যে রাজনৈতিক তুফানই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। যে তুফানে সত্যি সত্যিই অনেক মানুষ মারা যায়, ভেসে যায় সহায়-সংসার, সেই তুফানের খোঁজ কজনা রাখে? ভাসানীর মতো কাউকে তাই পাওয়া যায়নি, যিনি ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড এলাকা ঘুরে এসে জাতিকে রিপোর্ট করবেন। সাংবাদিকতার রিপোর্ট না, পেশ করবেন মানবতার রিপোর্ট। জনতার দরবারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আঙুল উঁচিয়ে বলবেন, ‘ওরা কেউ আসেনি।’ ঘূর্ণিঝড় তছনছ করে দিল বিরাট উপকূলীয় এলাকা। মওলানা ভাসানীর সেই আর্তনাদের ৪২ বছর পরও আমাদের এখন বলতে হচ্ছে, ‘ওরা কেউ আসেনি।’ এত বড় ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস ছিল না। এ পর্যন্ত ৪০টির মতো লাশ পাওয়া গেছে। খোলা সমুদ্রে জাল-নৌকা আর জানটা নিয়ে ভেসে গেছে কত আদমসন্তান, তার কোনো শুমার নেই। নিখোঁজের সংখ্যা কেউ বলছেন কয়েক শ, কেউ বলছেন হাজারের বেশি। সাড়ে ১৩ হাজার বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালার ক্ষতি আকাশের পাখিরাও টের পাচ্ছে, কিন্তু সরকার দেখছে না। কৃষকের ফসল গেছে, জেলের জাল ও নৌকা গেছে, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অনেকেই নিখোঁজ ...
জিদের বন্দিনীরা
সংঘাত
প্রথম আলো
১৯ মে, ২০১৩
প্রকৃত মৃত্যুর আগেই মার্কিন সাহিত্যিক মার্ক টোয়েনের মৃত্যুসংবাদ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। রসিক সাহিত্যিক সেই সংবাদ পড়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুসংবাদ অতিরঞ্জিত।’ সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের দিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মৃত্যু নির্ধারিত হলেও অনেকের কাছে এই মৃত্যুকে ‘অকালপক্ব’ মনে হয়। বিএনপি-সমর্থক ছাড়াও দেশে আরও মানুষ আছেন, যাঁরা নির্বাচনের এই বিকল্প বন্দোবস্তের প্রয়োজন এখনো আছে বলে মানেন। সব মিলিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা বর্তমানে জীবন্ত ও জ্বলন্ত হয়েই বিরাজ করছে। সরকারি দলের নায়েব-উজির-পেয়াদা-গোমস্তা সবাই দিনরাত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মৃত্যু নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন। অতীতেও অন্তত দুবার—১৯৯৬ সালে একবার, ২০০৮ সালে আরেকবার একে অস্বীকার করা হয়েছিল, কিন্তু দিব্যি তা টিকে গেছে। ব্যবস্থাটি ফিনিক্স পাখির মতো বিক্ষোভ-আন্দোলন-সহিংসতার আগুনে পুড়ে পুনর্জীবিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কারণ এর জন্ম রাজনীতির এমন এক সংকটের গর্ভে, যার আর কোনো সমাধান নেই। নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল যে খেলাটা খেলছে, গেম থিওরির সূত্র ধরে একে বলা যায় ‘প্রিজনার্স ডিলেমা’ বা বন্দীদের উভয়সংকট। খেলাটা এ রকম: পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে ...
রাজনীতি: জীবনের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর তামাশা
সহিংসতা ও মৃত্যু
প্রথম আলো
১৭ মার্চ, ২০১৩
যে দেশে জীবন জিয়ে না, সেই দেশের নাম বাংলাদেশ। অকালপ্রয়াত মানুষের সংখ্যা যখন বাড়তে থাকে, তখনই অকাল। যে রাজ্যে অপঘাতের শক্তি জয়ী হয়, সেটাই নৈরাজ্য। আমরা নৈরাজ্যের নৈনাগরিক। নৈরাজ্যের মধ্যে নিরীহ-নিষ্পাপ জীবন বাঁচতে পারে না। যেমন বাঁচেনি নারায়ণগঞ্জের কিশোর তানভীর ত্বকী। যে ব্যবস্থা এ রকম অজস্র নিরীহ জীবনকে অপঘাত থেকে বাঁচাতে পারে না, সেই ব্যবস্থা দুর্বৃত্তের রক্ষাকবচ। জল্লাদের রক্ত ছিটানো পথে পিছল খায় যে দেশের রাজনীতি, সেই রাজনীতি ঘাতকের সহায়। সেই দেশ এক বেহাত মানচিত্র, জনগণের স্বদেশ নয়। নৈরাজ্যে নাগরিক অধিকার এক নিষ্ঠুর তামাশা মাত্র। এই বাংলাদেশ কেউ চায় না, কে বলল? এই বাংলাদেশই গণহত্যাকারী, লুটেরা আর পিশাচ-মাফিয়ারা চায়। তারাই এই দেশের রাজা, বাদবাকি সবাই প্রজা। তারা চায় বলেই এই অকাল চলতে পারছে, তারা শক্তিমান বলেই ত্বকীর খুনিরা ধরা পড়ে না। গ্রাম ও শহরে গুলিতে আর চাপাতিতে মানুষের রক্ত ঝরে, জানকবজ হয়ে যায়। অথচ তদন্ত নেই, বিচার নেই। কোন জীবন অন্য কারও জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান, কোন হত্যা বেশি ...
ফিরিয়ে দাও বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশ
নবজাগরণ
প্রথম আলো
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
আগুনে তাপ ও আলো দুটোই আছে। শাহবাগের আগুন কতটা পোড়াবে আর কতটা তাপ দেবে, সামনের দিনে তা স্পষ্ট হবে। কিন্তু যে বাংলাদেশের রাজনীতি পল্টনে পথ হাতড়াচ্ছিল, যে নাগরিক সমাজ অরাজনৈতিক পথে দিনবদলের খোঁজে শহীদ মিনারে সমবেত হতেন, শাহবাগ তাঁদের সবার সামনে নতুন দিশা হাজির করল। পল্টন যদি হয় দলের, শহীদ মিনার যদি হয় সিভিল সোসাইটির, তবে শাহবাগ তরুণদের প্রতিরোধপর্বের প্রতীক। ক্ষমতার এই তিন বিন্দু মিলে যে ত্রিভুজ, তরুণ জনসমাজ আছে তার শীর্ষে। শীর্ষে রইলেও অন্য দুটি বিন্দু থেকে তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও জারি আছে। এই চেষ্টার ফলাফলই আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতি এবং সে সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। ‘জয় বাংলা’ বলা হবে কি হবে না, শহীদজননী জাহানারা ইমাম কতটা জায়গাজুড়ে থাকবেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল আওয়ামী লীগ এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্কটা কী হবে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের দাবির পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও দাবি উঠবে কি না, এসব প্রশ্নে ক্ষমতার বিভিন্ন কেন্দ্রের অস্থিরতা ফুটে ...
এক কম্বলে একসঙ্গে ঘুমাচ্ছে যেন পাঁচ বোন
সাত শ্রমিকের মৃত্যু
প্রথম আলো
২৮ জানুয়ারি, ২০১৩
আমরা যখন সেখানে যাই, তখন বোনের কম্বলে ঢাকা লাশ নিয়ে কিশোরী মেয়েটা আছাড়ি-পিছাড়ি করে কাঁদছিল, ‘আল্লা তুমি এ কী করলা, ও আল্লা ফিরায়া দাও।’ গরিবের লাশ হাসপাতালের বারান্দার বেশি জায়গা পায়নি। পাশাপাশি নীল কম্বলে ঢাকা, যেন একসঙ্গে ঘুমাচ্ছে পাঁচ বোন। একই রকম লম্বা, একই রকম দীনহীন পোশাক, একই রকম মার খাওয়া গায়েখাটা চেহারা। তাজরীনের মতো অঙ্গার নয়। মুখের না-পোড়া নাকফুল দিয়ে মেয়েকে চিনতে হচ্ছে না কোনো মাকে। এবার জীবন-মৃত্যুর ম্যানেজার চুল্লিতে পোড়ানোর বদলে তাঁদের দিয়েছে গ্যাস চেম্বারের মতো ধোঁয়ায় ...
ওবামা, এবার কি পারবেন?
সামাজিক সহিংসতা
প্রথম আলো
২৩ জানুয়ারি, ২০১৩
একজন ফন্দি আঁটছে, আজ রাতে কার মাংস খাবে। আরেকজন দ্বিধায় আছে, অপরের মাংস খাওয়ার চেয়ে নিজের হাত-পা খাওয়াই বেশি ভালো কি না। প্রথমজন খুন করল, দ্বিতীয়জন করল আত্মহত্যা। কিন্তু কার্যত, দুটোই আত্মঘাতী। নিজের প্রতি ঘৃণা বা হতাশায় নিজেকে খাওয়া আর হিংসার বশে অপরকে হত্যা করায় একদিকে থাকে মৃত মানুষ, অন্যদিকে থাকে খুনিমানুষ। যে মানুষ অন্য মানুষের মাংস খায়, তাদের বলে ক্যানিবাল। বাস্তবে ক্যানিবালিজম কোথাও ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কিন্তু পশ্চিমা সমাজে মুষ্টিমেয় কিছু তরুণ বিশ্বাস করে, ...
ভয়ের হাতে যখন দেশের লাগাম
আতঙ্কের রাজনীতি
প্রথম আলো
২৩ ডিসেম্বর, ২০১২
জীবনের গল্প, আশার গল্প চাপা পড়ে যাচ্ছে। চারদিকে এখন যেন মৃত্যুরই ইঁদুরদৌড়। কে কত বিচিত্র উপায়ে মরতে বা মারতে পারে, তার আন্দাজ করা কঠিন। আপনার শান্ত সুন্দর চলাফেরা কত বীভৎস দৃশ্যের পরিণতি পাবে, তা কেউই বলতে পারে না। কিংবা যে আপনি আজ অন্যের বিপদের কথা পত্রিকায় পড়ছেন বা চানাচুর খেতে খেতে তার চলমান ছবি দেখছেন টেলিভিশনে, পরদিন হয়তো আপনাকেই তেমনই বিপদের মধ্যে আবিষ্কার করবে অন্য কোনো টেলিভিশনের দর্শক। নবারুণ ভট্টাচার্যের উপন্যাস হারবার্ট-এর একটি কথা আমাদের জন্য দৈববাণী হয়ে উঠেছে: ‘কখন কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটবে এবং তা কে ঘটাবে তা জানতে রাষ্ট্রযন্ত্রের এখনো বাকি আছে’। কখন কোথায় কে কীভাবে খুন হবে বা অপঘাতে প্রাণ হারাবে, তা কেউ বলতে পারে না। রত্না নামের যে মা দুটি শিশুসন্তান নিয়ে জেলে আটক স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন রিকশায় করে, তিনি জানতেন না বিকল রেলক্রসিংয়ে তাঁর জন্য মৃত্যু হানা দিয়ে আছে। কিংবা তাঁর যে স্বামী রিপন খন্দকার, যিনি কিনা একটি হোটেলের ম্যানেজার, তিনিও ১১ ডিসেম্বর ...
বিশ্বজিতের রক্তবীজ
উপ-সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
১২ ডিসেম্বর, ২০১২
বিশ্বজিৎকে আমরা সবাই মিলেই হত্যা করেছি। আশপাশে জনতা ছিল, পুলিশ ছিল, সাংবাদিক ছিল; কিন্তু সবাই সেদিন অক্ষম-অবশ হয়ে গিয়েছিল। এত সাক্ষী থাকার পরও তাঁর খুনিরা এখনো অধরা। তাঁর মৃত্যুর মধ্যে আমরা আমাদের সামষ্টিক মৃত্যুর স্বাদ পেয়েছি। দেখেছি নিরীহের প্রতি দলীয় জল্লাদদের নৃশংসতার সীমা। দেখেছি ক্ষমতার বর্বরতা। দেখেছি ভয়ংকর সরকারি দায়িত্বহীনতার মুখে জনগণের সীমাহীন অসহায়ত্ব। যখন তিনি প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছিলেন, যখন তাঁর ধূসর শার্ট রক্তে লাল হয়ে উঠছিল, যখন ফানা ফানা দেহ নিয়ে চাপাতিধারীদের পায়ে পড়ছিলেন, তখন তাঁর মুখে ভয়ভীতির চিহ্ন ছিল না। নিরেট প্রাণী হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং প্রাণবিক জীবনের সহজাত তাড়নায় আমৃত্যু চেষ্টা করেন বাঁচতে। হ্যাঁ, বিশ্বজিৎকে ওরা বন্য প্রাণী শিকারের মতো করে ধাওয়া করছিল। শিকার বধের পর আনন্দ মিছিলও করেছিল, কোনো বিকার বা অনুশোচনা ছিল না। টেলিভিশনের পর্দায় এ দৃশ্য দেখে বিশ্বজিতের সঙ্গে আমরাও যেন মরে গেছি আজ। আমরা যে কেউই যেকোনো সময়ই বিশ্বজিতের মতো শিকার হতে পারি। বিশ্বজিতের মৃত্যু তাই আমাদের সামষ্টিক নিরাপত্তাহীনতা আর ভয়ের ...
লোভের আগুনে মিনি-মাগনা জীবনগুলো
উপ-সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
২৫ নভেম্বর, ২০১২
বাতাসে পোড়া মাংসের গন্ধ। লাভের কাবাব হয়ে গেছে ১১১টি তরতাজা প্রাণ। উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করে চলে গেছে ফায়ার সার্ভিস। শোকবাণী, ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি ইত্যাদিও ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু পুড়ে অঙ্গার হয়ে চেনার অতীত দেহগুলো চিনিয়ে দেবে কে? মানুষ শরীরী জীব। জীবিত মা-বাবা-ভাই-বোন-স্বজনেরা মৃত মা-বাবা-ভাই-বোন-স্বজনের পোড়া শরীরটা অন্তত পেতে চায়। শেষবার বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য, বুকচাপা হুতাশন উজাড় করে কাঁদবার জন্য। পুড়ে কালো হওয়া কিছু শরীর অবশ্য আছে সেই ভবনে। কিন্তু আগুনে পুড়ে গেছে তাঁদের নাম-পরিচয়-চেহারা। কে কার বুকের ধন, কে চিনিয়ে দেবে? ...
ফিলিস্তিনি শিশুর অঙ্গার বনাম সভ্যতার করাল হাসি
ইসরায়েল
প্রথম আলো
২১ নভেম্বর, ২০১২
‘আমি একজন ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনিদের কি চোখ নেই? নেই হাত, অঙ্গ, ভাব, অনুভূতি, বোধ ও ভালোবাসা? তুমি-আমি একই খাবার খাই, আহত হই একই অস্ত্রে। একই অসুখে আমরা ভুগি এবং সেরে উঠি একই ওষুধে। ইহুদিদের মতো একই গ্রীষ্ম ও শীত আমাদেরও ওম দেয় আর ঠান্ডায় কাঁপায়। তুমি যদি আঘাত করো, আমার কি রক্ত ঝরে না? তুমি যদি কৌতুক বলো, আমি কি হাসি না? এবং তুমি যদি অন্যায় করো, আমি কি তার প্রতিশোধ নেব না? সবকিছুতেই যদি আমরা তোমাদের মতোই হই, তাহলে তুমি যা আমার প্রতি করছ; আমিও তা-ই করব। হয়তো তা হবে তোমার থেকেও কঠিন, আমি তো তোমার কাছ থেকেই শিখছি।’ পাঠক, ওপরের কথাগুলোর ফিলিস্তিনি শব্দের জায়গায় ইহুদি শব্দ বসালেই আপনি পেয়ে যাবেন শেক্সপিয়ারের মার্চেন্ট অব ভেনিস নাটকের বিখ্যাত ইহুদি চরিত্র শাইলকের সংলাপ। শাইলকের জাতি সুপ্রাচীন ইউরোপীয় ঘৃণার চূড়ান্ত দেখেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। তারই ধারাবাহিকতায় নাৎসিদের থেকেও নির্দয় ঘাতক হয়ে উঠেছে আজকের জায়নবাদী ইসরায়েল। নাৎসিরা তাদের প্রতি যা করেছিল, তার থেকেও কঠিন ...
গাদ্দাফির অন্তিম প্রশ্নের উত্তর দেবে কে?
লিবিয়া-৩
প্রথম আলো
২৫ অক্টোবর, ২০১২
মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের হাতে আটক হয়ে নিহত হওয়ার এক বছর পূর্তি হলো ২০ অক্টোবর। এর তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ‘ডেথ অব এ ডিক্টেটর: ব্লাডি ভেনেগান্স ইন সির্তে’ নামের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এখানে তারই আলোকে গাদ্দাফির অন্তিম মুহূর্ত এবং লিবিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়েই এই প্রতিবেদন। মৃত্যুর আগের মুহূর্তে গাদ্দাফি বলে উঠেছিলেন, ‘ডোন্ট শ্যুট, ডোন্ট শ্যুট’। তখন তিনি নিরস্ত্র, আহত ও বন্দী। যুদ্ধবন্দী হত্যা যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কিন্তু ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহীদের জবাবদিহি চাইবার কেউ ছিলনা। ...
‘তোমাকে বাঁচাবার চেষ্টা করছি বাবা’
লিবিয়া-২
প্রথম আলো
২৪ অক্টোবর, ২০১২
নিয়তির সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আলো নেই জেনেও আশা ছাড়েননি গাদ্দাফি। বড় ছেলে আহত ও পলাতক, মেজো ছেলে ন্যাটোর বিমান হামলায় নিহত, ছোট ছেলে মুতাসিম কেবল বাবার সঙ্গী। ত্রিপোলি থেকে বিভিন্ন পথে সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিরা অক্টোবরের মাঝামাঝি সির্তে শহরে জড়ো হন। ইতিমধ্যে মুতাসিমকে পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সির্তে শহর ঘিরে কৌশলগত পরিকল্পনা থাকাই স্বাভাবিক। হয়তো এখান থেকে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু একদিকে সমস্ত যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়া, অন্যদিকে ন্যাটোর বিমান অবরোধ ও হামলার কারণে ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩