কলামিস্টদের নাম
মুনতাসির মামুন এর কলামগুলো

মানি পানি বিরিয়ানি ও হেফাজতে জামায়াত ইসলামের রাজনীতি
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৩ এপ্রিল, ২০১৩
বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় হেফাজত ও ভোটের সমীকরণের বিষয়টিও চলে এসেছে। খালেদা এরশাদ ও নিজামীর শিষ্যরা যে মানি পানি ও বিরিয়ানি নিয়ে হাজির হচ্ছে তার বড় কারণ ভোট। এদের সম্মিলিত ইচ্ছা, হেফাজতের ভোট যাতে আওয়ামী লীগে না যায়- সব ভোট যেন তাদের বাক্সে পড়ে। এতে কোন জটিলতা নেই। কিন্তু জটিলতা অচিরেই দেখা দেবে। প্রশ্ন, হেফাজত নারীদের যেভাবে শেকল পরাতে চায় বিএনপির ও জাতীয় পার্টির নারীরা তা মেনে নেবেন কিনা? গ্রামাঞ্চলের গরিব নারীরা মেনে নেবেন কিনা? এরশাদের তো লাজলজ্জা বলে কিছু নেই, কখনও ছিল না। হেফাজতের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণার পরও [যা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ] কেন মন্ত্রিসভায় তার ভাইকে রেখে দিচ্ছেন তা বোঝা যাচ্ছে না। ...
হেফাজতে জামায়াত ইসলাম ও টাকা খাওয়ার আন্দোলন
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
২১ মার্চ, ২০১৩
অধ্যাপক আবুল বারাকাত কয়েক বছর আগে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, জামায়াত ও মৌলবাদীরা বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে বছরে প্রায় দেড়হাজার কোটি টাকা আয় করে এবং তার একটি অংশ ব্যয় করে তাদের ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সমর্থনের জন্য নানা ফ্রন্ট করে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে তারা নিয়মিত টাকা যোগায়। প্রশাসনের ব্যক্তিদের তো বটেই। রাজনৈতিক দলের নেতাদের পেছনেও তারা বিস্তর খরচ করে। ১৯৭৫ সালের পর থেকে এই টাকা তারা খরচ করছে। এটি বহুল প্রচলিত অনুমান যে সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের নিয়মিত টাকা সরবরাহ করে। যে কারণে জামায়াত বুদ্ধিজীবীরা যখন মুক্তিযুদ্ধ গৃহযুদ্ধ বলে তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয় না। এমনকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জামিল আহমেদও যখন ১৭৭১ সালে গৃহযুদ্ধ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালের সম্পাদকরা তা সানন্দে ছাপেন। সাংবাদিকরা দিনের পর দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকদের হাত ধরে আন্দোলন করেন এবং তাদের নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী গোলাম আযমের নাগরিকত্ব চান তখন আওয়ামীপন্থী পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ তাকে সমর্থন জানায় বিভিন্ন প্রতিনিধি ...
ধর্ম ও রাষ্ট্র বিশেষ কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৭ মার্চ, ২০১৩
হেফাজতে ইসলামের নাম তেমন পরিচিত নয়। বাংলাদেশে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কম নয়। হাটহাজারীর কওমি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে মূলত এ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কওমি মাদ্রাসা বা হেফাজতে ইসলামকে বিবেচনা করা হয় জামায়াতবিরোধী প্রতিষ্ঠান হিসেবে। হতে পারে। কিন্তু আধুনিক বাংলাদেশের কি তারা সমর্থক? মননে? আসলে এই প্রশ্নের মীমাংসা আগে করা দরকার। যদি না হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, মাদ্রাসা থেকে যাঁরা বেরুচ্ছেন তাঁদের মানস গঠনে মৌল কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা আধুনিক মননের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি মওলানা মাসউদ, টিভিতে সুললিত কণ্ঠে যিনি জামায়াতে ইসলামীর ফেরেববাজির বিষয়ে বললেন, তিনিও তো এমন সেøাগান তুলছেন যা জামায়াতে ইসলামীর সেøাগানের সমর্থক। অর্থাৎ ব্লগাররা নাস্তিক। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। হ্যাঁ, সম্মিলিতভাবে তারা একটি শক্তি। কিন্তু যেটি অনেকের ভাবনার মধ্যে নেই তাহলো এরা রাষ্ট্রশক্তির ওপরও নির্ভরশীল। মধ্যযুগে ইউরোপে ধর্মের প্রভাব বেড়েছে রাষ্ট্রশক্তির সহায়তায়। চার্চ ও রাষ্ট্র পরস্পর পরস্পরকে দেখভাল করেছে। আমাদের এখানেও রাষ্ট্রশক্তি যখন প্রশ্রয় দেয়নি তখন ধর্মীয় উন্মাদনা এভাবে ছড়াতে পারেনি বা ধর্মকে স্বার্থের কারণে এভাবে ...
আসলেই কি আমরা জামায়াত নিষিদ্ধ করতে চাই?
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৪ মার্চ, ২০১৩
জামায়াত নিষিদ্ধ করা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার দ্বিমত নেই। আরও অনেকেরই দ্বিমত নেই। তবু জামায়াত নিষিদ্ধ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি গত দু’দশকের বেশি সময় ধরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি করে আসছে। দাবি জানাতে জানাতে আমরা অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও অন্তত শাহরিয়ার কবির ক্লান্ত হননি। অক্লান্তভাবে জামায়াতের অপকর্ম তুলে ধরেছেন, নিষিদ্ধকরণের কথা বলেছেন। ১৯৯৪ সালেই তিনি প্রকাশ করেছেন ‘জনতার আদালতে জামায়াতে ইসলামী।’ কিন্তু সবাই তো আর শাহরিয়ার কবির নয়, সবারই সমস্যা আছে। এটি অবশ্য শাহরিয়ারের বোধের মধ্যে নেই। গত দু’মাস জামায়াতের আসল রূপটি প্রকাশিত হয়েছে। তারপর থেকে জামায়াত নিষিদ্ধকরণের দাবি ব্যাপকতা পেয়েছে বটে কিন্তু স্থিতাবস্থা এখনও বজায় আছে। এমনকি যে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে তরুণ ও প্রবীণরা উচ্ছ্বসিত সেই মঞ্চের একটি দাবিও সরকার কেন, যাঁরা উচ্ছ্বসিত তাঁরাও মানেননি। সে কারণেই এতদিন পর মনে হয়েছে, বাস্তবতা বড় কঠিন। এবং সে কারণেই প্রশ্ন জেগেছে সত্যিই কি আমরা চাই জামায়াত নিষিদ্ধ হোক? নাকি এটি নিছক একটি স্লোগান। যে ...
বীরাঙ্গনা ৭১ ॥ যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
এদের পুনর্বাসনের দুটি দিক ছিল এক, বিয়ে, দুই জীবিকা অর্জনের পথ। বিয়ে, আগেই উল্লেখ করেছি নির্যাতিতাদের যে একেবারে হয়নি তা নয়। অনেক মুক্তিযোদ্ধা হয়তো তাদের প্রেমিকাকে বিয়ে করেছেন। (ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী এর উদাহরণ) অনেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে নির্যাতিতাকে বিয়ে করেছেন। অনেকে ধর্ষিতা স্ত্রীকে গ্রহণ করেছেন। অনেকের বিয়ে হয়েছে ধর্ষণের কথা গোপন রেখে। পরবর্তীকালে দেখি, ধর্ষণের কথা জানাজানি হওয়ার পর তাদের লাঞ্ছনার সম্মুখীন হতে হয়েছে, স্বামী পরিত্যক্ত হয়েছেন, যার কয়েকটি উদাহরণ আগে উল্লেখ করেছি।”সুসান ব্রাউনমিলার জানাচ্ছেন, পত্রিকার প্রতিবেদনে পড়েছেন তখন সরকারী কর্মচারীরা বলছিলেন, বিবাহ ইচ্ছুকদের দাবি বাড়ছে। সেই দাবি হলো, লাল টুকটুকে টয়োটা গাড়ি থেকে কবিতা প্রকাশ পর্যন্ত। অনেক নির্যাতিতা আবার পুরুষের উপস্থিতিও সহ্য করতে পারছেন না। সুসানের ভাষায়, “The demands of the men have ranged from the latemodel of Japanese car, painted red, to the publication of unpolished poems; a government official bitterly complained Another stumbling block, perhaps unexpected by the Bangladeshis, was the attitude of the raped women,` ...
যুদ্ধশিশুদের পাশ্চাত্যের অনেক পরিবার দত্তক নিয়েছিল
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
একা সেই সময় তিনি যে কাজ করেছেন তা তুলনাহীন। বাংলাদেশের মানুষ এখনো তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বাংলাদেশের বিজয়ের পরই গণহারে ধর্ষণের বিষয়টি একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। শুধু মানবিক নয়, সামাজিক- রাজনৈতিকও। যখন যুদ্ধ চলছিল, তখন প্রধান আকাক্সক্ষা ছিল বেঁচে থাকা। যে কোনো গণহত্যা, ব্যক্তি হত্যা, বন্ধু পরিচিতজনের হত্যার খবর শোনার পর মনে হতো, আরে আমি তো বেঁচে আছি। তখন, ধর্ষণের ঘটনা শুনছি, মনে হয়েছে হত্যা থেকে সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি সবারই কম বেশি মনে হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার দিন থেকেই দেখা গেল, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি অংশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। চার লাখও যদি ধর্ষিত হয়ে থাকে। তাহলে চার লাখ পরিবার সরাসরি বিপর্যস্ত। কিন্তু এ দেশে একটি পরিবার মানে তো শুধু পিতামাতা আর সন্তানই নয়, চাচা, ফুপু, খালা মামা এবং জ্ঞাতি ভাইবোন সবাই পরোক্ষভাবে হলেও বিপর্যস্ত। তাহলে সংখ্যাটি কী দাঁড়ায়? সমাজ, রাষ্ট্র এ অবস্থার জন্য প্রস্তুত ছিল না। সমাজে এক দিকে ছিল ঐতিহ্য ও ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুশাসন। যুদ্ধও ...
বীরাঙ্গনা ৭১ ॥ নির্যাতিত নারীরা চেয়েছিল নিজ আশ্রয়টুকু
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু আপনজন কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে তারা দেশ ত্যাগে অনড় ছিলেন। এদের ভেতর চৌদ্দ-পনেরো বছরের এক কিশোরীও ছিল। নীলিমা ইব্রাহিম এই কিশোরীকে বলেছিলেন, ‘তুমি আমার বাড়িতে থাকবে, আমার মেয়ের মতো।’ তবু সে রাজি হয়নি। বলেছে, ‘আপনি যখন থাকবেন না তখন কী হবে? যখন লোকে জানবে পাকিস্তানীরা আমাকে স্পর্শ করেছে তখন সবাই আমাকে ঘৃণা করবে।’ নীলিমা ইব্রাহিম বলেছেন, ‘তুমি কী জান পাকিস্তানীরা তোমাকে নিয়ে কী করবে?’ মেয়েটি জবাব দিয়েছে, ‘জানি, ওরা আমাকে নিয়ে বিক্রি করে দেবে। কিন্তু ওখানে কেউ আমাকে চিনবে না।’ নীলিমা ইব্রাহিমকে পুনর্বাসিত একজন বীরাঙ্গনা বলেছিলেন পরে: ‘আজ পথে পথে কত শহীদ মিনার, কত পথঘাট, কালভার্ট ও সেতু উৎসর্গিত হচ্ছে শহীদদের নামে। শহীদদের পিতা-মাতা-সন্তানরা কত রাষ্ট্রীয় সহায়তা সহানুভূতি শুধু নয় সম্মানও পাচ্ছে, কিন্তু আমরা কোথায়? একজন বীরাঙ্গানার নামে কি একটি সড়কের নামকরণ হয়েছে? তারা মরে কি শহীদ হয়নি? তাহলে এ অবিচার ...
কতজনকে হত্যা করলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায়?
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
৩০ লাখ শহীদের পরিবার, ৬ লাখ বীরাঙ্গনা ও তাঁদের পরিবার, গত ৪০ বছর কারও কাছে কিছু চায়নি। অথচ তাদের রক্ত, বেদনা, অপমানের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশের। তারা কিছুই চায়নি, শুধু বিচার চেয়েছিল এবং বিচারে দোষ প্রমাণিত হতে সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করেছিল। সেই সামান্য, অতি সামান্য চাওয়াটুকু আবার জুতোয় মাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এসব ভিকটিম বলছেন, এই সামান্য বিচার চাওয়াটাই ভুল হয়েছিল। কারণ, বিচার না হলে, তখন ভবিষ্যতে হওয়ার আশাটাই হতো সান্ত¡না। এখন আর সেই সান্ত¡নাটুকুও নেই। ইয়াহিয়া ও তার দোসররা ২৬ মার্চ হেসেছিল রক্তের হোলি খেলা দেখে, আর আজ অনেকে সেই হাসিই হাসছে ৩০ লাখ শহীদকে অপমান করতে পেরে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে তাতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও অপরাধ তদন্ত কমিটি এবং প্রসিকিউটারের চোখে পানি দেখেছি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালী বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছিল। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি জামায়াত [ এবং অনেকের মতে, সরকার সমর্থকদের একটি ...
ধর্ষিত হওয়ার আত্মগ্লানি থেকে কেউই মুক্তি পায়নি বীরাঙ্গনা ৭১
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন তাদের সবাইকে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আপনার বর্তমান মানসিক অবস্থা কী?’ প্রত্যেকে এক বাক্যে বলেছেন, ‘অবস্থা খুব খারাপ’ বা ‘মরে যেতে ইচ্ছা করে।’ ধর্ষিত হওয়ার আত্মগ্লানি থেকে কেউই মুক্তি পায়নি। এই আত্মগ্লানি আরও চরম হয়েছে যখন ভিকটিম দেখেছেন অনেক ক্ষেত্রে, মা-বাবা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন ঘরে। মা-বাবা স্থান দিলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিশতে চাননি। গ্রামে অনেক ক্ষেত্রে একঘরে করে রাখা হয়েছে। স্বামী গ্রহণ করলেও বা না জেনে গ্রহণ করে পরে জেনে ত্যাগ করেছে, দুর্ব্যবহার তো করেছেই। কেউ যদি তাদের জিজ্ঞেস করতে পারত তখন যে, তোমাদের দায়িত্ব ছিল রক্ষা করার তা তোমরা পারনি বা করনি এবং এ জন্য তোমরা দায়ী সে প্রশ্নের উত্তর কারও পক্ষে দেয়া সম্ভব ছিল না। এখন অবস্থার খানিকটা উন্নতি হলেও এক দশক আগেও পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। গণআদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ১৯৯২ সালে এলেজান, মাসুদা ও দুলজানকে ঢাকা আনা হয়েছিল। তাড়াতাড়ি আদালতের কাজ শেষ হয়ে গেলে তারা ফিরে গিয়েছিলেন। ...
মানি পানি বিরিয়ানি ও হেফাজতে জামায়াত ইসলামের রাজনীতি
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৩ এপ্রিল, ২০১৩
বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় হেফাজত ও ভোটের সমীকরণের বিষয়টিও চলে এসেছে। খালেদা এরশাদ ও নিজামীর শিষ্যরা যে মানি পানি ও বিরিয়ানি নিয়ে হাজির হচ্ছে তার বড় কারণ ভোট। এদের সম্মিলিত ইচ্ছা, হেফাজতের ভোট যাতে আওয়ামী লীগে না যায়- সব ভোট যেন তাদের বাক্সে পড়ে। এতে কোন জটিলতা নেই। কিন্তু জটিলতা অচিরেই দেখা দেবে। প্রশ্ন, হেফাজত নারীদের যেভাবে শেকল পরাতে চায় বিএনপির ও জাতীয় পার্টির নারীরা তা মেনে নেবেন কিনা? গ্রামাঞ্চলের গরিব নারীরা মেনে নেবেন কিনা? এরশাদের তো লাজলজ্জা বলে কিছু নেই, কখনও ছিল না। হেফাজতের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণার পরও [যা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ] কেন মন্ত্রিসভায় তার ভাইকে রেখে দিচ্ছেন তা বোঝা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগও যথেষ্ট তোয়াজ করছে হেফাজতকে ভোটের জন্য। বারবার বলা হচ্ছে, হেফাজতে জামায়াত ও বিএনপি ঢুকে যাচ্ছে। তাতে কি? হরতালের দায়দায়িত্ব যদি বিএনপি-জামায়াত নেতাদের ওপর বর্তায়, তাহলে হেফাজতের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের দায়িত্বও বর্তায় হেফাজতের নেতাদের ওপর। হেফাজতের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তাতে আপত্তি নেই; সেই আলোচনা বিএনপির সঙ্গেও ...
বিএনপিও সংসদে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিল
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৯ মার্চ, ২০১৩
১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী তখন জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় এক বিএনপি নেত্রীর পুত্র রিমু মারা যান। তখন শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ঐ দিন যাঁরা সোচ্চার ছিলেন জামায়াতের বিরুদ্ধে আজ তাঁরা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের পক্ষে। এই হচ্ছে বিএনপি এবং যারা বিএনপি করে তাদের মৌল চরিত্র। পাঠকদের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য সেই সময় সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সংকলন করা হলো]: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুমন্ত ছাত্রদের ওপর জামায়াত-শিবিরের নৃশংস হামলা ও একজনকে খুন করার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সংসদের পূর্ব নির্ধারিত দিনের কার্যসূচী মুলতবি করে বিষয়টির ওপর ৪ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। সরকারী ও বিরোধী দলের ৩৩ জন সদস্য এতে অংশ নেন এবং প্রায় সবাই ওই ঘটনায় তাঁদের ঘৃণা প্রকাশ করে দেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সরকারী দলের একজন সদস্য এ ব্যাপারে বিল আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি ওই বিলে ভোট ...
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কেন সব দলের ঐকমত্য?
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৫ মার্চ, ২০১৩
অন্য কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে না পৌঁছলেও একটি বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেটি হলো বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়। দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, কাদের সিদ্দিকী গ্রুপ, সংবাদপত্র, টকশোর কমন ব্যক্তিবর্গÑ সবাই আওয়ামী লীগের মঙ্গল চান, একমাত্র ব্যতিক্রম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। যে দেশে কোন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা যায় না সেখানে একটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা যেনতেন ব্যাপার নয়। আমরা আওয়ামী লীগের মঙ্গল চাই, শেখ হাসিনার মঙ্গল চাই, সে জন্য বলি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিন। বর্তমান পদে যোগ দেয়ার আগে ড. আলমগীরের সঙ্গে এই পদগ্রহণের যথার্থতা নিয়ে সামান্য আলোচনা হয়েছিল। তাঁর সৃহৃদদের অনেকে এই পদ গ্রহণে মানা করেছিলেন। তাঁদের ভাষ্য ছিল, যেহেতু নেত্রীর কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন না, এখন বাধ্য হয়ে তাঁকে পদ গ্রহণে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে সেক্ষেত্রে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। তিনি নিজেও শেষ সময়ে পদে যেতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। আমি বলেছিলাম, পদ গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে আপনি নিন্দিত হবেন, ৬ মাসের মধ্যে আপনার পরিবার ...
বীরাঙ্গনাদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সহানুভূতি ছিল।। বীরাঙ্গনা ৭১
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
এ বিষয়ে কারও কোন অনুশোচনা ছিল না। তবে যাদের গর্ভপাত করানো সম্ভব ছিল না তারা সন্তান জন্ম দিয়ে, সন্তানকে ত্যাগ করেছেন কারণ; সমাজ, এসব শিশু গ্রহণে ইচ্ছুক ছিল না। ফলে যুদ্ধ-শিশুদের দত্তকের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বিদেশে। এ জন্য ১৯৭২ সালে হয় ঞযব ইধহমষধফবংয অনধহফড়হবফ পযরষফৎবহ (ংঢ়বপরধষ ঢ়ৎড়ারংরড়হ) ড়ৎফবৎ ড়ভ ১৯৭২. যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনের জন্যও বঙ্গবন্ধু সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জেনেভার ইন্টারন্যাশনাল সোসাল সার্ভিসকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানান কিছু একটা করার জন্য। আইএসএস, বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা সমিতি ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল অর্গানাইজেশন ফর রিহ্যাবিলিটশনের সাহায্যে একটি কার্যক্রম গ্রহণ করে যার ফলে বহু যুদ্ধশিশু বিদেশী মা-বাবার কাছে আশ্রয় পায়। বঙ্গবন্ধু সর্বান্তকরণে বীরাঙ্গনাদের জন্য যা সম্ভব তাই করতে চেয়েছেন পরবর্তীতে যা সবার অজান্তে একটি সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়েছে। যারা পথ চিনে ক্লিনিকে আসতে পারছিলেন না তারা চিঠি লিখে আবেদন জানাচ্ছিলেন। এ রকম একটি চিঠি এক পিতা লিখেছিলেন নোয়াখালী থেকে বন্ধবন্ধুকেÑ ...
খালেদা জিয়ার চিঠি ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে নিজ দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
খালেদা জিয়ার কিছু কিছু বিষয়ের সঙ্গে, দেখেছি আমারও কিছু সমস্যার মিল আছে। আমি বানানটানান করে ইংরেজী কিছুটা পড়তে পারি, সব যে বুঝি তা নয়। খালেদার অবস্থাও অনুরূপ। বেগম জিয়া ইয়েস নো ভেরি গুড বলে চালিয়ে দিতে পারেন, আমার অবস্থাও সে রকম। আমার সঙ্গে কেউ ইংরেজী বললে কিছু বুঝি বাকিটা হাসি দিয়ে কভার করি। খালেদার অবস্থাও সে রকম। আমরা দু’জনই ইংরেজী লেখায় কিন্তু লবডংকা। সে জন্য আমি নিশ্চিত হয়েছি খালেদা জিয়ার যে নিবন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তা তার লেখা নয়। কেউ লিখে দিয়েছেন। সেটি স্বাভাবিক। নেতারা কেউ লেখেন না, অন্যরা লিখে দেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যিনি এটি লিখে দিয়েছেন তিনি কি সেটি অনুবাদ করে শুনিয়েছিলেন খালেদাকে, বা পড়তে দিয়েছিলেন তাকে? কেননা, সুস্থ মস্তিষ্কের কোন জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এরকম কিছু লিখে হারিকিরি কেন করবেন তা বোধগম্য নয়। আর যদি বুঝে ‘লিখে’ থাকেন তা’হলে বুঝতে হবে, তার হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা নিরাপদ নয়। যদি ইংরেজী পুরোপুরি না বুঝিয়ে কেউ কাজটি করে থাকেন ...
হানাদাররা ডাবের খোসায় প্রস্রাব করে ধর্ষিতাদের খেতে দিত
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
সারাদিন নির্বিচারে ধর্ষণ করার পর বৈকালে আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার বিল্ডিং-এর ওপর তাদেরকে উলঙ্গ করে লম্বা লোহার রডের সঙ্গে চুল বেঁধে রাখা হতো। রাতের বেলায় এসব নিরীহ বাঙালী নারীদের ওপর অবিরাম ধর্ষণ চালানো হতো। আমরা গভীর রাতে আমাদের কোয়ার্টারে বসে মেয়েদের আর্তচিৎকার শুনে অকস্মাৎ সবাই ঘুম থেকে ছেলেমেয়েসহ জেগে উঠতাম। সেই ভয়াল ও ভয়ঙ্কর চিৎকারে কান্নার রোল ভেসে আসত : ‘বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও, তোমাদের পায়ে পড়ি, আমাদের বাঁচাও, পানি দাও, এক ফোঁটা পানি দাও, পানি, পানি।’ ঢাকা পৌরসভার সুইপার ইন্সপেক্টর মোঃ সাহেব আলী ৩০ মার্চ দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পরদেশী নামে আমার জনৈক ডোমের হাতে এক ষোড়শী রূপসীর উলঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখলাম, দেখলাম সেই যুবতীর পবিত্র দেহে অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন, তার বুক থেকে স্তন সজোরে তুলে নেয়া হয়েছে, লজ্জাস্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়ে আছে, পিছনের মাংস তুলে নেয়া হয়েছে। মিরপুরে পাকিস্তানীদের সহযোগী বিহারীদের অত্যাচারের বর্ণনা দিয়েছেন রমনা থানার সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালেহজ্জামান...‘বাঙালী রমণীদের ধরে এনে রাস্তায় উলঙ্গ করে ফেলে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে তৎক্ষণাৎ ...
বীরাঙ্গনা ৭১ ॥ সামরিক অফিসাররা মেয়েদের সম্মিলিতভাবে ধর্ষণ করত
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
শহরে, গ্রামেগঞ্জে সবখানে সুপরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানীরা ধর্ষণ করেছে। কিন্তু বিষয়টি শুধুমাত্র একক ধর্ষণ বা গণধর্ষণে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্যাম্পে যেসব নারীকে আটক করে রাখা হয়েছে তাদের ওপর যে অত্যাচার করা হয়েছে সেটি মানুষ মানুষের ওপর করতে পারে তা অবিশ্বাস্য। এই অত্যাচার ছিল প্রতিশোধ গ্রহণের একটি দিক। অন্যদিকে ছিল তাদের মানসিক গড়নের বৈশিষ্ট্য। হয়ত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণই দেয়া হয় এভাবে। নারীরা অত্যাচার বা ধর্ষণের কথা কখনও বলতে চান না। বলা সম্ভবও নয়। কিন্তু গত ৪০ বছরে বিভিন্ন বয়ানে যে চিত্র উঠে আসে তার বর্ণনা বেশি দেয়া সম্ভব নয়। পড়াও সম্ভব নয়। স্বাধীনতার দলিলপত্রে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত সুইপার রাবেয়া খাতুন যে জবানবন্দী দিয়েছিলেন তাতে অত্যাচারের একটি রূপরেখা পাওয়া যায় ‘ক্যান্টিনের কামরা থেকে বন্দুকের নলের মুখে আমাকেও বের করে আনা হয়, আমাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয় এবং আমার ওপর প্রকাশ্যে পাশবিক অত্যাচার করছিল আর কুকুরের মতো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিল। আমার ওপর উপর্যুপরি পাশবিক অত্যাচার করতে করতে যখন আমাকে একেবারে মেরে ফেলে ...
মসজিদে আটকে রেখেও ধর্ষণ করা হয়েছে
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
সৈন্যদের ব্যাংকারগুলিতে এসব মেয়েকে সারাক্ষণই নগ্ন অবস্থায় রাখা হতো। ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে পাকিস্তানী সেনারা আত্মসমর্পণের পর এসব নারীর অধিকাংশেরই ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়।’ জন হেস্টিংস নামে এক মিশনারি বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানী সৈন্যরা... মেয়েদের যোনিপথে বেয়নেট ঢুকিয়ে তাদের হত্যা করেছে।’ মেয়েদের মসজিদে আটকে রেখেও ধর্ষণ করা হয়েছে। সাতক্ষীরার একটি গ্রামের মসজিদ থেকে বেশ কিছু নগ্ন নারী উদ্ধারের পর এ ধরনের ঘটনা নজরে আসে। এ সমস্ত বিবেচনায় নিয়ে বলা যেতে পারে, ধর্ষিত নারীর সংখ্যা ছয় লাখের কাছাকাছি হতে পারে বা তার চেয়েও কিছু বেশি, কম নয়। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, চীন, ফিলিপিন্স জাপানীদের অধীনে ছিল। সেখানে পাঁচ বছরে তারা প্রায় দুই লাখ নারী ধর্ষণ করে। এসব দেশের আয়তনও জনসংখ্যার সঙ্গে বাংলাদেশের আয়তন ও জনসংখ্যার তুলনা করলে বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের ব্যাপকতা ও তীব্রতা বোঝা যাবে। বিশ্বের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। আট মাসে রক্ষণশীল হিসেবে সাড়ে চার লাখের ওপর ধর্ষণ। আরেকটি হিসাবে জানা যায়, ছয় বছরব্যাপী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ...
বঙ্গবন্ধুর আগরতলা যাত্রা
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২১ জানুয়ারি ২০১৩
বাংলাদেশে স্বাধীনতার আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দু’ভাবে করেছিলেন। একটি প্রকাশ্য, পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন। অন্যটি অপ্রকাশ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের বন্ধু খোঁজা। স্বাধীনতার বন্ধু খুঁজতে গিয়ে তিনি ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন এবং সেটাই স্বাভাবিক; কারণÑ বাংলাদেশের প্রায় চার দিকেই ভারত। অপ্রকাশ্য এই দিক দিয়ে বঙ্গবন্ধু কখনও কিছু বলেননি; কারণ, বাঙালীদের মনোজগতেও পাকিস্তানী সেই ধারণা অধিপত্য বিস্তার করেছিল যে, ভারত আমাদের শত্রু। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর সবাই অনুধাবন করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বন্ধু ভারত। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে এ দেশের সহযোগীরা বার বার বলেছে, ভারতই হচ্ছে আমাদের শত্রু। বঙ্গবন্ধু অপ্রকাশ্য এ যোগাযোগ সম্পর্কে কিছু না বললেও সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু স্মৃতিকথায় এ প্রসঙ্গগুলো উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আছে শশাঙ্ক ব্যানার্জির গ্রন্থে। জনকণ্ঠে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত একটি লেখায় আমি তার বর্ণনা দিয়েছি। ওই বর্ণনায় বঙ্গবন্ধুর আগরতলা যাত্রা নিয়ে একটি অধ্যায় ছিল। নতুন তথ্যের আলোকে বিষয়টি সংশোধন করে নতুন বয়ান তুলে ধরছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনার জন্য বঙ্গবন্ধু আগরতলা গিয়েছিলেন সুতরাং সেই বিষয়টি নিয়ে তর্ক করার ...
কাবা শরীফ ও তার ইমামদের নিয়ে জামায়াত-বিএনপির মশকরা ও অবমাননা
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
২০ মার্চ, ২০১৩
বায়তুল্লাহ বা আল্লাহ্র ঘর কাবা জাহেলি যুগেও আরব ও অন্যদের কাছে আধ্যাত্মিক স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো। ইসলামের অভ্যুদয়ের পর কাবা পরিণত হয় শুধু মুসলমানদের পবিত্র স্থানে। আগে কাবা সন্দর্শনে অমুসলমানরা যেতে পারলেও ৯ম হিজরীতে হযরত আলীকে (রা) রসুল (স) তাঁর প্রতিনিধি করে হজে পাঠান। হযরত আলী তখন ঘোষণা করেন কাবায় তখন থেকে শুধু মুসলমানরাই যেতে পারবেন। বায়তুল হারাম, ‘বাক্কা’, ‘বায়তুল আতিক’- এসবই আমাদের প্রিয় কাবার নাম। কাবা বিদ্রোহীদের চূর্ণ করে তাই বাক্কা। বাক্কা অর্থ ছিঁড়ে ফেলা। এটি সম্মানিত তাই বায়তুল হারাম। এটি পৃথিবীর প্রথম মসজিদ, মর্যাদাপূর্ণ, তাই বায়তুল আতিক। বলা হয়ে থাকে ফেরেশতারা কাবা নির্মাণ করেন। তারপর আবার তা নির্মাণ করেন হযরত আদম (আ) ও বিবি হাওয়া। হযরত নূহ (আ) এখানে হজ পালন করেন। কাবা অনেক বার বিনষ্ট হয়েছে। পুনর্নির্মিত হয়েছে। আগে বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে হতো। পরে কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার নির্দেশ হয়। রসুল (স) সব সময় মনে পোষণ করতেন কাবার দিকে তাকানোর। ...
কীভাবে জামায়াত বিভ্রান্ত ও প্রতারণা করে
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৬ মার্চ, ২০১৩
কীভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করতে হবে তা শেখা দরকার প্রথমে জামায়াত এবং তারপর বিএনপির কাছ থেকে। জামায়াত এখন চুরিচামারি করে যা রোজগার করে, এ ধরনের কোন স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আরও ভাল রোজগার করবে। ১৯৭৫ সালের পর থেকে এ দেশের মানুষের মানসজগত বা মানসিক গড়নের পরিবর্তন হয়েছে। গত ৩০ বছর প্রায় একটানা এ দেশ শাসিত হয়েছে খুনী প্রতারকদের দ্বারা। তারা এমন একটি জেনারেশন তৈরি করতে পেরেছে যারা বিভ্রান্ত করতে ও হতে এবং প্রতারণা করতে ও প্রতারিত হতে পছন্দ করে। আর এসব কিছু তারা করে ইসলামের নামে। এই টাইপের লোকদের বিদ্যাবুদ্ধি স্থবির। যাদের খানিকটা ঝোঁক ছিল বিএনপি-জামায়াতের প্রতি তারা এখন মুখে কিছু না বললেও প্রমাদ গুনছে। কারণ ধর্মকে জামায়াত-বিএনপি অধর্ম বানিয়ে ছাড়ছে। এদের মধ্যে মানুষের কোন গুণাবলী আর নেই। ভিটামিন এ-র ঘটনাটা ধরা যাক। এ ভিটামিন বাংলাদেশের লাখ লাখ শিশুকে বাঁচাবে। জামায়াতের একটি ফ্রন্ট রোহিঙ্গা জঙ্গীরা সেই কক্সবাজারের মসজিদ থেকে ঘোষণা করল, ভিটামিন এ খেয়ে শিশু মারা যাচ্ছে। মোবাইল ...
বীরাঙ্গনা ৭১ হাজার হাজার নারী গর্ভবতী হয়ে পড়ে
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের কতজন নারী ধর্ষিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরপর আমরা নানা হিসাব পেয়েছি। এখন হিসাবটা চার লাখে দাঁড়িয়েছে। ডা. ডেভিসও এই সংখ্যা দিয়েছেন। বাংলাদেশের ব্যাপক সংখ্যক ধর্ষিতার কথা বাইরের পৃথিবীতে জানাজানি হলে তখন বিভিন্ন সাহায্যসংস্থা এদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল এ্যাকশন রিসার্চ এ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ডা. জিওফ্রে ডেভিসকে বাংলাদেশে পাঠায়। তিনি বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ধর্ষিতাদের নিয়ে কাজ করেছেন। তৎকালীন সরকারী কর্মচারীরা যে হিসাব দিয়েছেন, ডা. ডেভিস জানিয়েছিলেন তা ঠিক নয়। তিনি বলেছেন, ‘সরকারী কর্মকর্তারা বাংলাদেশের জেলাওয়ারী হিসাব করেছেন। সারা দেশের ৪৮০টি থানার ২৭০টি পাক সেনাদের দখলে ছিল। প্রতিদিন গড়ে দুজন করে নিখোঁজ মহিলার সংখ্যা অনুসারে লাঞ্ছিত মহিলার সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ। এই সংখ্যাকে চূড়ান্তভাবে নির্ভুল অঙ্করূপে গ্রহণ করার সিন্ধান্ত হয়।’। ডা. ডেভিস মনে করেন এই সংখ্যা ৪ লাখ থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজারের মতো হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, ধর্ষিত ও নির্যাতিতদের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। নিউজ উইকের একটি প্রতিবেদনের কথা ধরা যাক উদাহরণ হিসেবে। ১৯৭১ সালের ১৫ নবেম্বর ...
বীরাঙ্গনা ৭১
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
৩১ জানুয়ারী, ২০১৩
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট নামে পূর্ব বাঙলার স্বাধীনতাকামী মুক্তিকামী নিরস্ত্র জনগণের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে নির্বিচারে গণহত্যা এদেশের শহরে, নগরে, বন্দরে ও গ্রামে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আপামর জনগণ তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সেই সঙ্গে শুরু করে এদেশের নিরপরাধ মা বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতন। পাকিস্তানীদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামের কর্মী যাদের অধিকাংশ ছিল দালাল, রাজাকার, আলবদর ব্যক্তিস্বার্থে বাংলার অসংখ্য নারীকে তুলে দিয়েছিল পাক সেনাদের মনোরঞ্জনের জন্য। পাশবিক লালসা নিরারণের জন্য। এক হিসেবে বলা হয়েছে অন্তত ৬ লক্ষ বিভিন্ন বয়সের নারী হানাদারদের হাতে চরমভাবে নিগৃহীত হয়েছে; অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে। তাঁদের নির্মম অত্যাচারে বহু নারীর জীবন প্রদীপ নিভে গেছে, কেউ হয় অন্তঃসত্ত্বা। বাংলাদেশ সরকার এদেশের ‘বীরাঙ্গনা’ অভিধা দেয় এবং স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্যাতিতাদের সব সময় ‘বীরাঙ্গনা’ বলে সম্মানিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুন ভুলে যাওয়া সেসব বীরাঙ্গনার মর্মস্পর্শী গাথা তুলে ধরেছেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপ্রকাশিত/ প্রকাশিত ৯০ বীরাঙ্গনার বয়ান। ...
বাচ্চু রাজাকার মামলার রায় ইতিহাসের অধিকার ফিরে পাওয়া
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
২৭ জানুয়ারী, ২০১৩
মনোজগতে আধিপত্য বিস্তারের প্রথম ধাপ ইতিহাসের ন্যারেটিভ। ১৯৪৭ সালের আগে ভারতের মুসলিম নেতারা ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন। তারা মুসলমান নৃপতিদের কথা তুলে ধরেছেন যারা শৌর্যে-বীর্যে ছিলেন অতুলনীয় এবং মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, ভারতীয় মুসলমানরা তাদেরই বংশধর। ইসলামী শাসকদের আমল ছিল স্বর্ণযুগ। ব্রিটিশ ও হিন্দুদের চক্রান্তের কারণে আজ তারা হীনবস্থায়। এই অবস্থা থাকবে না যদি মুসলমানদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা হয়। ইতিহাসের এই ব্যবহার মুসলমান তরুণদের সংগঠনে ভূমিকা রেখেছিল এবং পাকিস্তান মানসিকতা তৈরি করেছিল। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, পাকিস্তান : ইসলাম। ভারত : হিন্দু। এই ন্যারেটিভ ভাঙতে বিপরীতে বঙ্গবন্ধুকে সোনার বাংলার মিথের কথা বলতে হয়েছিল। নানা বঞ্চনার কথা তুলে তিনি বাঙালী জাতীয়তাবাদকে সংহত করেছিলেন। পোস্টারে লেখা হয়েছিলÑ ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’ ১৯৭১ সালের বিজয়ের পর দাঁড়াল বাঙালীদের রাষ্ট্র বাংলাদেশ। এই রাষ্ট্র সেক্যুলার। এই রাষ্ট্রে থাকবে সিভিল কর্তৃত্ব। এই রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা আছে ৩০ লাখ শহীদ, ৬ লাখ বীরাঙ্গনা, অগনন আহতÑ প্রায় সব বাঙালীর আত্মত্যাগ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং সবশেষে তাজউদ্দীন আহমদের বাংলাদেশ ...
বাচ্চু রাজাকার মামলার রায় ইতিহাসের অধিকার ফিরে পাওয়া
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
২৭ জানুয়ারী, ২০১৩
মনোজগতে আধিপত্য বিস্তারের প্রথম ধাপ ইতিহাসের ন্যারেটিভ। ১৯৪৭ সালের আগে ভারতের মুসলিম নেতারা ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন। তারা মুসলমান নৃপতিদের কথা তুলে ধরেছেন যারা শৌর্যে-বীর্যে ছিলেন অতুলনীয় এবং মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, ভারতীয় মুসলমানরা তাদেরই বংশধর। ইসলামী শাসকদের আমল ছিল স্বর্ণযুগ। ব্রিটিশ ও হিন্দুদের চক্রান্তের কারণে আজ তারা হীনবস্থায়। এই অবস্থা থাকবে না যদি মুসলমানদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা হয়। ইতিহাসের এই ব্যবহার মুসলমান তরুণদের সংগঠনে ভূমিকা রেখেছিল এবং পাকিস্তান মানসিকতা তৈরি করেছিল। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, পাকিস্তান : ইসলাম। ভারত : হিন্দু। এই ন্যারেটিভ ভাঙতে বিপরীতে বঙ্গবন্ধুকে সোনার বাংলার মিথের কথা বলতে হয়েছিল। নানা বঞ্চনার কথা তুলে তিনি বাঙালী জাতীয়তাবাদকে সংহত করেছিলেন। পোস্টারে লেখা হয়েছিলÑ ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’ ১৯৭১ সালের বিজয়ের পর দাঁড়াল বাঙালীদের রাষ্ট্র বাংলাদেশ। এই রাষ্ট্র সেক্যুলার। এই রাষ্ট্রে থাকবে সিভিল কর্তৃত্ব। এই রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা আছে ৩০ লাখ শহীদ, ৬ লাখ বীরাঙ্গনা, অগনন আহতÑ প্রায় সব বাঙালীর আত্মত্যাগ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং সবশেষে তাজউদ্দীন আহমদের বাংলাদেশ ...
বঙ্গবন্ধুর আগরতলা যাত্রা
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
২১ জানুয়ারী, ২০১৩
বাংলাদেশে স্বাধীনতার আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দু’ভাবে করেছিলেন। একটি প্রকাশ্য, পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন। অন্যটি অপ্রকাশ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের বন্ধু খোঁজা। স্বাধীনতার বন্ধু খুঁজতে গিয়ে তিনি ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন এবং সেটাই স্বাভাবিক; কারণÑ বাংলাদেশের প্রায় চার দিকেই ভারত। অপ্রকাশ্য এই দিক দিয়ে বঙ্গবন্ধু কখনও কিছু বলেননি; কারণ, বাঙালীদের মনোজগতেও পাকিস্তানী সেই ধারণা অধিপত্য বিস্তার করেছিল যে, ভারত আমাদের শত্রু। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর সবাই অনুধাবন করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বন্ধু ভারত। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে এ দেশের সহযোগীরা বার বার বলেছে, ভারতই হচ্ছে আমাদের শত্রু। বঙ্গবন্ধু অপ্রকাশ্য এ যোগাযোগ সম্পর্কে কিছু না বললেও সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু স্মৃতিকথায় এ প্রসঙ্গগুলো উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আছে শশাঙ্ক ব্যানার্জির গ্রন্থে। জনকণ্ঠে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত একটি লেখায় আমি তার বর্ণনা দিয়েছি। ওই বর্ণনায় বঙ্গবন্ধুর আগরতলা যাত্রা নিয়ে একটি অধ্যায় ছিল। নতুন তথ্যের আলোকে বিষয়টি সংশোধন করে নতুন বয়ান তুলে ধরছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনার জন্য বঙ্গবন্ধু আগরতলা গিয়েছিলেন সুতরাং সেই বিষয়টি নিয়ে তর্ক করার ...
বঙ্গবন্ধুর আগরতলা যাত্রা
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
২১ জানুয়ারী, ২০১৩
বাংলাদেশে স্বাধীনতার আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দু’ভাবে করেছিলেন। একটি প্রকাশ্য, পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন। অন্যটি অপ্রকাশ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের বন্ধু খোঁজা। স্বাধীনতার বন্ধু খুঁজতে গিয়ে তিনি ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন এবং সেটাই স্বাভাবিক; কারণÑ বাংলাদেশের প্রায় চার দিকেই ভারত। অপ্রকাশ্য এই দিক দিয়ে বঙ্গবন্ধু কখনও কিছু বলেননি; কারণ, বাঙালীদের মনোজগতেও পাকিস্তানী সেই ধারণা অধিপত্য বিস্তার করেছিল যে, ভারত আমাদের শত্রু। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর সবাই অনুধাবন করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বন্ধু ভারত। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে এ দেশের সহযোগীরা বার বার বলেছে, ভারতই হচ্ছে আমাদের শত্রু। বঙ্গবন্ধু অপ্রকাশ্য এ যোগাযোগ সম্পর্কে কিছু না বললেও সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু স্মৃতিকথায় এ প্রসঙ্গগুলো উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আছে শশাঙ্ক ব্যানার্জির গ্রন্থে। জনকণ্ঠে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত একটি লেখায় আমি তার বর্ণনা দিয়েছি। ওই বর্ণনায় বঙ্গবন্ধুর আগরতলা যাত্রা নিয়ে একটি অধ্যায় ছিল। নতুন তথ্যের আলোকে বিষয়টি সংশোধন করে নতুন বয়ান তুলে ধরছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনার জন্য বঙ্গবন্ধু আগরতলা গিয়েছিলেন সুতরাং সেই বিষয়টি নিয়ে তর্ক করার ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩