কলামিস্টদের নাম
আহমদ রফিক এর কলামগুলো

শান্তির ধর্ম নিয়ে অশান্তি, কার কী লক্ষ্য
সাদাকালো
কালের কন্ঠ
৯ মে, ২০১৩
ঢাকার মানুষ ভয়াবহ এক অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছিল। গত কয়েক দিনে 'টক অব দ্য টাউন' ছিল একটাই- কী হবে ৫ তারিখে? বাংলাদেশে কি ভয়ংকর কিছু রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে মে মাসের ৫ তারিখে? হেফাজত আর জামায়াত-শিবিরের মধ্যে তো কোনো ফারাক নেই। আর এ দুইয়ে মিলে দেশটাকে পুড়িয়ে ছারখার করবে না তো? সম্ভবত আগেকার নানা অভিজ্ঞতা থেকে এসব কথা। অল্প দু-চারজনের কথা- হঠাৎ করে উদয় হেফাজতের, এত চিন্তার কী আছে!আসলে সংখ্যাগুরু মানুষের ভাবনাকে সত্য প্রমাণ করেছে হেফাজতে ইসলাম। কাগজগুলোর প্রথম ...
নোবেল পুরস্কার রবীন্দ্রনাথের জন্য ছিল এক অশান্তি
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৮ মে, ২০১৩
বাঙালির জন্য ১৯১৩ সালের ১৩/১৪ নভেম্বর স্মরণীয় দিন এবং তা তৎকালীন ভারতের জন্যও। কারণ এই প্রথম একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন। সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা ১৩ নভেম্বর, পত্রপত্রিকায় ১৪ নভেম্বর সে সংবাদ পড়ে বিশ্বের তাবৎ সাহিত্যামোদী মানুষ অবাক- একজন বাঙালি কবির নোবেল পুরস্কার পাওয়া যেন অত্যাশ্চর্য ঘটনার একটি। প্রসঙ্গত একটি অপ্রিয় কথা বলতে হয় : তখন এমনই ছিল বিশ্ব, উপনিবেশবাদী বিশ্ব। মূলত গীতাঞ্জলি অর্থাৎ ইংরেজি গীতাঞ্জলি (Song Offerings) এ সম্মান বয়ে আনে। তার সঙ্গে ছিল রবীন্দ্রনাথের আরো কয়েকটি ...
একাত্তরের চেতনা এবং সাম্প্রতিক বাংলাদেশ
উপ-সম্পাদকীয়
মানব কণ্ঠ
১০ এপ্রিল, ২০১৩
বাংলাদেশ সহসা বিশৃঙ্খলায় উত্তাল। এর সূচনা জামায়াত-রাজাকারদের বিচার ও দু’একটা রায় ঘোষণার পর থেকে। জামায়াত তার সর্বশক্তি দিয়ে চরম অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা শুরু করেছে সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে। সমাজকে উসকে দিয়েছে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার দিকে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলেছে হামলা। এ হামলার মূল নায়ক জামায়াত-শিবির। আর এ নৈরাজ্য সৃষ্টিতে জামায়াত যথারীতি খুবই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ধর্মকে ব্যবহার করেছে তার উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য। সেই চিরাচরিত স্লোগান ‘ইসলাম বিপন্ন।’ যে দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ধর্ম বিশ্বাসে মুসলমান, যেখানে শাসন ক্ষমতার মূল দড়িদড়া সবই মুসলমানদের হাতে, সেখানে ‘ইসলাম বিপন্ন’ এমন কথা কি ভাবা যায়, না বলা যায়? এ পর্যন্ত কেউ কি বলতে পেরেছে মুসলমানদের ধর্মাচরণে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়েছে বা কেউ বাধা দিয়েছে? তবু ‘ইসলাম বিপন্ন।’ বড় চেনা এ বাক্যটি তো আমরা পাকিস্তান আমলের দুই যুগে অনেক শুনেছি, বিশেষত শাসক শ্রেণীর মুখে অনেক শুনেছি। যখনই শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বা যুক্তিসঙ্গত কোনো প্রতিবাদ দেখা গেছে তখনই ...
ওরা ভাষাবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
৪ এপ্রিল, ২০১৩
অবশেষে থলের বিড়াল বেরিয়ে এলো। শাহবাগ সমাবেশে কাদের মোল্লাসহ রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদে উত্তাল আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংস হরতাল, হত্যাসহ তাণ্ডব সৃষ্টির মধ্য দিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক চরিত্রের প্রকাশ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। একাত্তরে তাদের ঘাতক চরিত্রের একচিলতে প্রকাশ দেখা গেল বেপরোয়া জামায়াতকর্মীদের কার্যকলাপে। জীবনের দাম অতি সামান্য, যদি তা না হয় তাদের মনমতো। তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য শাহবাগ সমাবেশের উদ্যোগী তরুণ এবং দ্বিতীয় ধারার সাংবাদিকবরা, যাঁদের প্রতিবেদন ও ছবিতে জামায়াতের হিংস্র চরিত্র দেশবাসী অর্থাৎ পত্রিকা পাঠকদের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। খুলে যাচ্ছে ...
সহিংসতা-নাশকতা আর বিপন্ন মানবতার চিত্র
উপ-সম্পাদকীয়
মানব কণ্ঠ
২ এপ্রিল, ২০১৩
হরতাল এখন ডাল-ভাতের মতো হয়ে গেছে। রাজনৈতিক মতভেদ, ডাক হরতাল। বসার জায়গাটা ছোট হয়ে গেছে, ডাক হরতাল। অপছন্দের কিছু ঘটলেই হরতাল, কখনো ২৪ ঘণ্টা, কখনো ৩৬ ঘণ্টা, কখনো লাগাতার তিন দিন। মানুষ অস্থির হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থসাপেক্ষ হরতালের অত্যাচারে। সাধারণ মানুষ হরতাল চায় না। এর বড় কারণ এসব হরতালের সঙ্গে তাদের দাবি-দাওয়া, চাওয়া-পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আর থাকলেও বর্তমান সময়ের সহিংস হরতাল কারো কাম্য নয়। তাই একজন গার্মেন্টস কর্মীর নম্র মতামত : ‘হরতালে তো কারো লাভ দেখিনে।’ অনুরূপ বক্তব্য একজন রিকশাচালকের, একজন দিনমজুরের। মেহনতি মানুষ বা নিুবর্গীয়দের কথা যদি বাদও দি, শিক্ষিত শ্রেণীর তরুণ বা বয়সী, তাদের মতামতও একই রকম। ছাত্র তার ক্লাসে যোগ দিতে পারছে না, ছাত্রী কোচিংয়ে যেতে পারছে না। বয়স্কজনরা জান হাতে নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন, কিন্তু দূরযাত্রার কাজ সারতে পারছেন না বাস চলছে না বলে। বাস চললেও প্রাণের নিশ্চয়তা নেই। যারা বাস চালাচ্ছেন, তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বের হচ্ছেন। বেশ কিছুদিন আগে দাঁড়িয়ে থাকা ...
শাভেজ ও নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
১৪ মার্চ, ২০১৩
একজন ব্যক্তি, একজন মানুষের চলে যাওয়া; অর্থাৎ মৃত্যু কখনো কখনো একটি জাতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অনিশ্চিত করে দেয়। সম্প্রতি ভেনিজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ তেমনই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রনায়ক। তুলনা চলে কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে। আর ফিদেল, কিউবা, বিপ্লব ও সমাজ পরিবর্তনের কথা উঠলেই যেকোনো রাজনীতিমনস্ক মানুষের মনে পড়বে চে গুয়েভারার কথা। মৃত্যুহীন বিপ্লবী চে গুয়েভারা, যিনি শুধু জন্মভূমি আর্জেন্টিনা বা দ্বিতীয় বাসভূমি কিউবার কথাই ভাবেননি, ভেবেছেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদপীড়িত গোটা দক্ষিণ আমেরিকার কথা। পরে গোটা বিশ্বের কথা। তাঁর অ্যাডভেঞ্চারে ...
সংবাদপত্র ও মার্কিন নীতি
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
ইংরেজি দৈনিক 'পাকিস্তান অবজারভার'কে তালাবন্ধ করতে পেরে মহাখুশি নুরুল আমিন সরকার। এটা মুসলিম লীগ পার্টির জন্য ছিল জয়। কারণ সামনে প্রাদেশিক নির্বাচন। তাই এ খুশির ঢেউ আরব সাগর ছাপিয়ে করাচির লীগ সমর্থক কাগজগুলোকে স্পর্শ করেছে, বিশেষ করে লীগপন্থি; শাসকপন্থি দৈনিক 'ডন' পত্রিকাকে। তারা রাজনৈতিক ইতিহাসের এ সত্য উপলব্ধি করতে পারেনি যে, 'রাজনৈতিক দমননীতি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।' কথাটা অবশ্য কিঞ্চিত্ বুঝেছিলেন মুসলিম লীগ নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান। তবে কিছুটা পরে। দেশ তৈরি, পরিবেশ তৈরি-শুধু দরকার একটি অগ্নিকণা। সেটাও জুগিয়ে নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন তার বক্তৃতায়। এখন তাই একুশের কর্মসূচি সফল করার জন্য চলছে নীরব প্রস্তুতি পর্ব। 'নীরব' বলছি এ কারণে যে, একুশকে সফল করতে নেপথ্য কাজগুলো যথাযথভাবে শেষ করাটাই ছিল জরুরি। তাই মিছিলটি নিয়ে ততটা মাথা ঘামাচ্ছেন না ছাত্রযুব নেতারা। এখন সব চোখ একুশের দিকে, ঢাকার বাইরে সবার চোখ একুশে ফেব্রুয়ারির ঢাকার দিকে। কেমন হবে সে সমাপন? এ প্রশ্ন সবার মনে। ...
ক্ষমা চাওয়া নয়, অপরাধী পাকিস্তানি সেনাদের বিচার চাই
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
১৩ ডিসেম্বর, ২০১২
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এলে আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা বিচার-ব্যাখ্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের দুরবস্থার কাহিনী প্রতিদিন প্রকাশ পেতে থাকে। আমার প্রশ্ন : এ কাজটা সারা বছর ধরে করলে অসুবিধা কী? তাতে আমরা জানতে পারি বিজয়ের অমৃতভোগীদের বাইরে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত, কী তাঁদের অবস্থা। বাস্তব অবস্থা হলো, তাঁদের একটা বিরাট অংশ জীবনযাত্রার লড়াইয়ে পরাজিত। তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গত ৪০ বছরেও সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ডিসেম্বর বা মার্চে কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, বিতর্ক ও আলোচনা দুই-ই চলে। যেমন- একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা ও স্থানীয় রাজাকারদের নিরীহ মানুষ হত্যা ও ব্যাপক নারী নির্যাতন। ইদানীং চীন ও কোরিয়া যুদ্ধে জাপানি সেনাদের বর্বরতা প্রসঙ্গে ওই দুই দেশের কাছে জাপানের ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা উপলক্ষে কি না জানি না, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহল থেকে দাবি উঠছে- একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে। পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ হয়তো ঘটনায় গতিবেগ সঞ্চার করেছে। কিন্তু দিন কয়েক আগে পাকিস্তান বিদেশমন্ত্রী বিষয়টাকে ...
ইরানে ইসরায়েলি হামলা বুমেরাং হতে পারে
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
২৪ নভেম্বর, ২০১১
কয়েক দিন ধরে সংবাদপত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একটি খবর দুর্যোগের মতো পাঠকদের মনে ছায়া ফেলছে। তা হলো_ইসরায়েলের হুমকি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার এবং তাতে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির নীরব সমর্থন। চীন-রাশিয়া এর বিরুদ্ধে হলেও খুব জোরেশোরে প্রতিবাদ করছে না। আর সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক মধ্যপ্রাচ্য তো চাইছেই_রাজতন্ত্রবিরোধী ইরান ধ্বংস না হোক, অন্তত দুর্বল হয়ে যাক। আরব লীগের প্রভাবশালী দেশগুলো তাই এ ব্যাপারে চুপচাপ। এ ঘটনার প্রেক্ষাপট গত কয়েক বছরের, যখন ইরান বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে পারমাণবিক স্থাপনার কাজ শুরু করে। অর্থাৎ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ...
সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি বনাম দুর্বল সিরিয়া
সাদাকালো
কালের কন্ঠ
৩১ মে, ২০১৩
বিশ্ব এখন একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শাসনে। সঙ্গে তার ফেউ ইঙ্গ-ফরাসি-ইসরাইল। সমর্থক তুরস্ক থেকে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, জর্ডান প্রভৃতি তেলসমৃদ্ধ দেশ। কামাল আতাতুর্কের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, সেক্যুলার তুরস্কের ভূমিকা অবাক করার মতো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অবস্থা এমনই হয়েছে যে ওয়াশিংটনের অন্যায় পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদের উপায় নেই। গোটা বিশ্ব দখলে রাখতে হবে- অস্ত্রশক্তিতে কিংবা অর্থশক্তিতে। এদিক-ওদিক হলেই বিপদ। এটাই এখন বিশ্ব পরাশক্তির অঘোষিত নীতি। তাই লিবিয়ার গাদ্দাফি শেষ। আরব বিশ্বের সর্বশেষ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছোটখাটো সিরিয়া এখন টার্গেট। হিসাব ছিল লিবিয়ার মতো সিরিয়াকেও ...
এত লাশ, এর দায়িত্ব কার
সাদাকালো
কালের কন্ঠ
৩ মে, ২০১৩
চারদিকে লাশের গন্ধ, তবু সব লাশ দেখা যাচ্ছে না। মৃত্যুকূপের গহন আঁধার থেকে লাশ তুলে আনা কি সহজ কাজ? তবু দেশের বিবেকবান মানুষ, নানা শ্রেণীর মানুষ নিজের কথা না ভেবে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। 'যদি একটি প্রাণও আমার হাত ধরে বাঁচে, আমি ধন্য'- এমন ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে সাভারে ভবনধসে কয়েক হাজার গার্মেন্টকর্মীর জীবন-মরণ লড়াইয়ে অংশীদার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ। কাগজ, টিভি চ্যানেল, সভা-সমাবেশ, মিছিল, ব্যক্তিগত আলাপে সর্বত্র শুধু সাভার আর সাভার এবং অপরাধীর শাস্তির কথা। ...
হরতাল, সহিংসতা ও রাজনীতির অভিশাপ
সাদাকালো
কালের কন্ঠ
২৫ এপ্রিল, ২০১৩
হরতাল বা বন্ধ অথবা অন্য যে নামেই হোক, উপমহাদেশে প্রতিবাদের সর্বাধিক প্রচলিত এক ধরনের তৎপরতা। প্রতিবেশী দেশের কথা থাক, বাংলাদেশে পঞ্চাশের দশক থেকে এ পর্যন্ত কম হরতাল দেখিনি আমরা। হরতাল এক সময় প্রতিবাদের চরম ব্যবস্থা হিসেবে পালিত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ হরতাল, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে মিছিল, স্লোগানের, সভা-সমাবেশে বক্তৃতা-ভাষণের হরতাল। তাও বিশেষ কর্মসূচির ভিত্তিতে, যার সঙ্গে রয়েছে জাতীয় বা রাষ্ট্রিক পর্যায়ের লক্ষ্য। সে ক্ষেত্রেও কথায় কথায় হরতার নয়। কারণ হরতাল, বিশেষ করে লাগাতার হরতাল যে জাতীয় অর্থনীতিকে ...
রাজনৈতিক নৈরাজ্য প্রতিহত করার উপায় সুষ্ঠু নির্বাচন
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
১৮ এপ্রিল, ২০১৩
বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য যে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী চেতনানির্ভর রক্তাক্ত স্বাধীনতাযুদ্ধের পরও একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক সমাজ সেখানে গড়ে ওঠেনি। ৪২ বছরেও গড়ে ওঠেনি। তাই থেকে থেকে সেখানে উগ্র ধর্মীয় চেতনার রাজনৈতিক প্রকাশ এক ধরনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাকে বলে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি। সবচেয়ে বিস্ময়কর উগ্র বাম রাজনীতিতে একদা-বিশ্বাসী কেউ কেউ ওই পথ ধরে হাঁটছেন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার খোঁড়া অজুহাতে। কারণ হিসেবে এ বিষয়ে নানা জন নানা মত প্রকাশ করে থাকেন। তবে সংখ্যাগুরু অভিমত হলো, দুর্নীতির প্রবল প্রভাব এবং সুশাসনের অভাব ...
ওরা ভাষাবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
৪ এপ্রিল, ২০১৩
অবশেষে থলের বিড়াল বেরিয়ে এলো। শাহবাগ সমাবেশে কাদের মোল্লাসহ রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদে উত্তাল আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংস হরতাল, হত্যাসহ তাণ্ডব সৃষ্টির মধ্য দিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক চরিত্রের প্রকাশ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। একাত্তরে তাদের ঘাতক চরিত্রের একচিলতে প্রকাশ দেখা গেল বেপরোয়া জামায়াতকর্মীদের কার্যকলাপে। জীবনের দাম অতি সামান্য, যদি তা না হয় তাদের মনমতো। তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য শাহবাগ সমাবেশের উদ্যোগী তরুণ এবং দ্বিতীয় ধারার সাংবাদিকবরা, যাঁদের প্রতিবেদন ও ছবিতে জামায়াতের হিংস্র চরিত্র দেশবাসী অর্থাৎ পত্রিকা পাঠকদের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। খুলে যাচ্ছে ...
বর্তমান বাংলাদেশ এবং রাজনীতির কর্তব্য
উপ-সম্পাদকীয়
মানব কণ্ঠ
১৯ মার্চ, ২০১৩
ঘটনার সূত্রপাত ফেব্র“য়ারির প্রথম সপ্তাহে বিচারে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার মতো কুখ্যাত ঘাতক-অপরাধীর চরম শাস্তি না হওয়ার কারণে। হঠাৎ করে শাহবাগে জনাকয় তরুণের আবির্ভাব এবং একাত্তরের জামায়াতচক্রের কুখ্যাত ঘাতকদের ফাঁসির দাবি এবং এ উপলক্ষে প্রজন্ম একাত্তর, মঞ্চ একাত্তর ঘিরে চেতনায় পাথর গড়ানো শুরু। প্রকৃতপক্ষে ঘটনা আকস্মিক হলেও এর বীজতলা তৈরি ছিল উভয়পক্ষেই। আর সে কারণে প্রতিক্রিয়া উভয় দিকেই। যেমন রাজনীতি বা সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বড় একটা পরিচিতি নয়, এমন ইন্টারনেট প্রযুক্তিভক্ত কয়েকজন তরুণের ডাকে একাত্তরের অপরাধের বিরুদ্ধে জনমতের ঢল নামে শাহবাগ মঞ্চ ঘিরে। অদ্ভুত এক আবেগে বিভিন্ন বয়সী নরনারী ছুটেছেন সেদিকে ওই তরুণদের উচ্চারিত দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে দিনরাতের হিসাব না মেনে। এরপর বিচারে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা। এ উপলক্ষটা জামায়াত-শিবির চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার তাণ্ডব চালায়। তাদের টার্গেট পুলিশ, সাংবাদিক, জামায়াতবিরোধী বাঙালি, সর্বোপরি হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই সঙ্গে নাশকতামূলক তৎপরতা, যেমন ঘরবাড়িতে, পুলিশ ফাঁড়িতে, রেলস্টেশনে, রেল বগিতে আগুন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভাংচুর ইত্যাদি। সাতকানিয়া, ...
সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সর্বোচ্চ ঐক্যে রুখতে হবে
সাদাকালো
ইত্তেফাক
৭ মার্চ, ২০১৩
জামায়াত-শিবির এখন স্বরূপে আবির্ভূত, একাত্তরের ঘাতক চরিত্র নিয়ে। সে চরিত্র ছিল দেশে স্বাধীনতাবিরোধী, সেই সঙ্গে চরম সাম্প্রদায়িক। সংখ্যালঘু বাঙালির ঘরবাড়ি পোড়ানো, লুণ্ঠন, হত্যা, ধর্ষণ, অবশেষে বিষয়সম্পত্তি দখল- কোনো কিছুতে পিছিয়ে থাকেনি জামায়াত ও তাদের সহযোগী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর এমন নীতিই হয়ে উঠেছিল জামায়াত, নেজামে ইসলাম ও মুসলিম লীগের আদর্শ এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম। ফলে এক কোটি মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে। নিরুপায় যাঁরা বাস্তুভিটা ছাড়তে পারেননি, তাঁরাও কি নিরাপদে ছিলেন? আমাদের রাজনৈতিক দূষণের ...
পোশাক শ্রমিকের স্বার্থরক্ষা ও নিরাপত্তার আশু ব্যবস্থা চাই
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
৩১ জানুয়ারি, ২০১৩
আবারও পোশাক কারখানায় আগুন। ভাবিনি তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন কয়লা হয়ে যাওয়ার পর আবারও পোশাক কারখানায় আগুনে আরো মৃত্যু ঘটবে। তাজরীনের ভয়াবহতা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। এর দায়বদ্ধতা নিয়ে অভিযোগের আঙুল উঠেছে কারখানার কর্মকর্তা ও মালিকদের প্রতি। উঠেছে ক্ষতিপূরণের দাবি। কিন্তু মৃত্যু কি ক্ষতিপূরণ হয়? বড়জোর টাকায় কিছুটা প্রতিদানমূলক ক্ষতিপূরণ হয়। মৃত ব্যক্তি তো ফেরে না। তার শূন্যতা পূরণ হয় না। এত লেখালেখির পরও পোশাক কারখানার মালিকদের সচেতন হতে দেখা যাচ্ছে না। কিছুদিন পর পরই বাংলাদেশের অর্থনীতির পক্ষে ...
বুদ্ধিজীবীর রাজনৈতিক সামাজিক দায়বদ্ধতা
উপ-সম্পাদকীয়
মানব ঠিকানা
১৩ আগস্ট, ২০১২
আমাদের প্রিয় পৃথিবীটা বদলে যাচ্ছে। বদলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা সবাই পরিবর্তন চাই। সমাজ পরিবর্তন, রাষ্ট্রিক পরিবর্তন নিয়ে কত কথা! এমনকি শপথবাক্য উচ্চারিত হচ্ছে যেমন সংবাদমাধ্যমে, তেমনি টিভির টক-শোতে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, আমরা যা চাই তা পাই না, যা চাই না তা-ই পেতে হয়। তাই কষ্টের সঙ্গে দেখতে হচ্ছে বৈশ্বিক পরিবর্তনটা (আসলে ৰমতাসীন বিশ্বের পথচলা) মন্দ থেকে মন্দতর পথে। জীবনানন্দের পৃথিবীর এখন অনেক অনেক 'গভীরতর অসুখ'। আর ঐ শানত্দিবাদী, বিশ্ব নাগরিকত্বের প্রত্যাশী বুড়োর কথাগুলো বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজনীতির ৰেত্রে ঘুরেফিরে আসে। না চাইলেও আসে। যুদ্ধহীন শানত্দির পৃথিবী গড়ার আকাঙৰা নিয়ে ১৯৪১-এ যার চলে যাওয়া এবং যাওয়ার মাস কয় আগে পশ্চিমা সভ্যতার ভূমিকা, পূর্বদিগন্ত নিয়ে প্রত্যাশা, বিশ্বের শানত্দির আবাস হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শেষ উচ্চারণ-সেসব অনার্জিতই থেকে গেছে। সত্তর বছরে অর্জনের ঘর এদিক থেকে প্রায় শূন্য। সে সময়ের যুদ্ধবিরোধী, শানত্দিবাদী যেমন রঁলা, বাবর্ুস, রাসেল, শ' থেকে রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ বুদ্ধিজীবী একটা আন্দোলনের মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছিলেন। তবু ফ্যাসিস্ট লোভের তাড়নায় ...
নাগরিক সমাজ ঢাকা বিভাজনের বিরোধী
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
১ ডিসেম্বর, ২০১১
চল্লিশের দশকের শেষদিকে যখন প্রথম ঢাকায় আসি, তখনকার গাছগাছালি ও ফুললতা-বুনোঝোপের বর্ণ-গন্ধ-রূপে ভরা ঢাকা, এখন আর তেমনটি নেই। থাকার কথাও নয়। রেসকোর্স ময়দানের দক্ষিণ দিকে দাঁড়ানো কালীমন্দির ও এর দেয়ালের বাইরে পলাশ ও হলুদ করবির গাছগুলো নেই। নেই এমনি অনেক কিছু। যেমন মালিবাগ-খিলগাঁওয়ের পুকুর, গাছপালা, কাঁচা রাস্তা, ইন্দ্রপুরি নামের দিঘি কিংবা পুরানা পল্টনের হলুদ রং একতলা বাড়িগুলো। আবার আছেও অনেক কিছু। সারপেন্টাইন লেকের পাশে দাঁড়ানো বুড়ো শিরীষ আরো বুড়ো হয়েছে, কিন্তু বেশ আছে। ওর ছায়ায় এখনো তরুণরা বসে গল্প ...
ত্রিদেশীয় মৈত্রী মনে হয় সোনার হরিণ
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
৯ সেপ্টেম্বর, ২০১০
বছর কয়েক পার হয়ে গেছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রীতির আবহ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে 'মৈত্রী এক্সপ্রেস' এবং আরো নানা তৎপরতা শুরু হওয়ার_কিন্তু ফলাফল শূন্য। এর পরই তো চলছে ভারতের একাধিক স্থানে নাশকতামূলক হামলা, মৃত্যু, ইত্যাদি ঘটনা। দুই পক্ষে আবার চরম তিক্ততা। সম্প্রীতির বেলুন হাওয়ায় উড়ে গেছে। এবার সংস্কৃতি-অঙ্গন থেকে চেষ্টা_ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানকেন্দ্রিক ত্রিদেশীয় সম্প্রীতি-তৎপরতা। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কিছু সমাজসেবী মানুষের চেষ্টা যদি ওই তিন দেশের মধ্যে সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি করা যায়, এ ঘটনাও বছর কয় আগেকার। এভাবে তিনদেশের ওপর দিয়ে সময়ের ...
আতাতুর্কের তুরস্কেও নয়া গণজাগরণ
সাদাকালো
কালের কন্ঠ
১৩ জুন, ২০১৩
বিশ্বযুদ্ধ ইউরোপীয় উপনিবেশবাদী শক্তির শিকড় ধরে টান দিয়েছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয় মহাসমর। উপনিবেশগুলোতে মুক্তিসংগ্রামের ঢেউ ওঠে। এশিয়া ও আফ্রিকায়। পরে দক্ষিণ আমেরিকাতেও সে ঢেউয়ের বিস্তার। কবির ভাষায়- 'পশ্চিমে সূর্যাস্তের আবীর/দেশে দেশে পড়ন্ত প্রাচীর।' যুদ্ধবিধ্বস্ত উপনিবেশবাদ উঠে দাঁড়াতে সচেষ্ট। এ সুযোগে নয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বমহিমায় আবির্ভূত। 'পশ্চিমা গণতন্ত্র তার নাম'। তবে তার ধরন-ধারণ আধুনিক। কৌশল ভিন্ন। গণতন্ত্রের নামে, আপন স্বার্থ উদ্ধারে দুর্বল সাগরেদদের 'সঙ্গোপনে রসদ জোগায়'। বিশের দশকে রাজতন্ত্রের শিকড় উপড়ে সেক্যুলার আধুনিক তুর্কি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বকে ...
নববর্ষের তাৎপর্য বাংলায় ও বিশ্বজুড়ে
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
১৪ এপ্রিল, ২০১ ৩
মানুষ সময়কে জড়িয়ে ধরে পথ চলে, হয়তো অসচেতনভাবেই। তবে কখনো কখনো বিশেষ কারণ তাকে সচেতন হতে সাহায্য করে। যেমন নতুন বছরের নতুন বা প্রথম দিন- ইরানি ঐতিহ্যের ভাষায় 'নওরোজ'। আর সে উপলক্ষে পেছনে কী রেখে এলাম, বিগত বছরের দিনগুলো থেকে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলানোর কথা বোধ হয় ক্ষণিকের জন্য হলেও তার মনে হয়। স্বভাবতই ভাবনা, আগামী দিনগুলো কেমন কাটবে। এ হিসাব শুধু বাংলা, বাঙালির জন্যই নয়, বিশ্বজুড়ে সব দেশ বা জাতিগোষ্ঠীর জন্যও বটে। নববর্ষ তাই প্রত্যেক জাতির সদস্যদের জন্য আনন্দ, ...
রুখতে হবে রাজনীতির অশুভ সমীকরণ
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
১১ এপ্রিল, ২০১৩
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যেমন খুব ঘোলাটে, তেমনি জটিল। কিন্তু পরিস্থিতি এ দুটো শব্দে সীমাবদ্ধ নেই, বিপদ সেখানেই। আর এ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হেফাজতে ইসলাম নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাদ্রাসাভিত্তিক কট্টর ধর্মীয় রাজনীতির জাগরণ। এতে জামায়াতের কতটা ইন্ধন রয়েছে (বাজারে প্রচলিত ধারণা), তার সত্যাসত্য আমাদের জানা নেই। তবে জামায়াত যে এতে উল্লসিত, তার প্রকাশ্য প্রমাণ দেখা গেছে এই জমায়েতে তাদের শামিল হওয়া এবং হেফাজতের আড়ালে তাদের অপতৎপরতায়। হেফাজত কথিত 'ব্লাসফেমি' আইন প্রণয়নের দাবি তো জামায়াতের এবং দীর্ঘদিনের। অবাক ...
জামায়াত নিষিদ্ধকরণ ও সুবিধাবাদী রাজনীতি
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
আমরা প্রসঙ্গক্রমে হরহামেশা স্বাধীনতাযুদ্ধের তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি, সেই সূত্রে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার উপলক্ষে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার কথাও বলি। সম্প্রতি শাহবাগ মঞ্চের উদ্যোক্তা তরুণদের একটি ঘোষিত দাবি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। বিষয়টা নিয়ে সভা-সমাবেশে-স্লোগানে যতটা তোলপাড় চলে, সে তুলনায় দৈনিক পত্রের লেখায় টিভি চ্যানেলের আলোচনায় প্রকাশ অপেক্ষাকৃত কম। কেন? এর কারণ কী বিষয়টি নিয়ে আইনি তর্ক-বিতর্কের জটিলতা নাকি অন্য কোনো তাৎপর্য এর পেছনে কাজ করছে। এ পর্যন্ত একজন আইনজ্ঞ সাংবাদিক বন্ধুই দেখছি এ বিষয়ে নিরলস শ্রমসাধ্য চর্চা ...
আসুন, জামায়াতের ঘাতক-নাশকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই
উপ-সম্পাদকীয়
মানব কণ্ঠ
২ মার্চ, ২০১৩
২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৩ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন। দীর্ঘদিনের গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বে হলেও শুরু হয় এবং ইতিমধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়েছে। সাঈদীর রায় ঘোষণার পূর্বাপর সারাদেশে জামায়াত-শিবির যে সহিংসতা ও নাশকতা চালিয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেক প্রশ্নই দাঁড়ায়। আইন-আদালত-সংবিধান এবং জনমতের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গত নভেম্বর ২০১২ থেকে প্রকটভাবে তারা হিংস্র হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতা ২৮ ফেব্র“য়ারির ঘটনা। এখানেই শেষ নয়; তারা আবার রবি এবং সোমবার হরতালের ডাক দিয়েছে যদিও তাদের ডাকা হরতাল ইতিমধ্যে কয়েকবার দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে চলমান অহিংস আন্দোলনের বিপরীতে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী যে সহিংসতা ও তাণ্ডব চালাচ্ছে, তা রুখে দিতে হবে দৃঢ়ভাবে; একাত্তরের চেতনায় বলীয়ান হয়ে। মনে হয় একাত্তরের সময়টা হঠাৎ করেই ফিরে এসেছে অবশ্য ভিন্ন চেহারা, ভিন্ন চরিত্র নিয়ে। বাংলাদেশের বর্তমান ...
বন্দীমুক্তি দাবি ও একুশের প্রতীক্ষা
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি তখন চলছে। একালের শ্লোগান অনুসরণ করে বলা যায়- 'চলছে, চলবে'। তবে এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়। সেটা রাজবন্দি মুক্তির দাবি। এ দাবি বেশ কিছুদিন থেকে চলছিল, বিশেষ করে কিনা বিচারে বন্দি, নিরাপত্তা আইনে বন্দিদের নিয়ে সরকারের খামখেয়ালিপনার কারণে। তাছাড়া দল বিশেষের প্রতি অত্যাচার-নির্যাতনের কারণেও বটে। কারাগারে নির্যাতনে মৃত্যু সভ্য দেশে বিরল হলেও পাকশাসনামলে পূর্ববঙ্গে তা ঘটেছে একাধিকবার। তবে এবার বিষয়টি ভিন্ন। বেশ কিছুদিন থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে জেলে আটক রাখায় তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। তার সহবন্দি মহিউদ্দিন আহমদের অবস্থাও ভালো ছিল না। এ অবস্থায় বন্দি মুক্তির দাবিটি বিশেষ মাত্রা অর্জন করে। রাজনৈতিক নেতাদের দাবি সত্ত্বেও তাদের মুক্তি দেয়া হয়নি। প্রতিবাদে শেখ সাহেব ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার মুক্তির দাবি আরো জোরদার হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে 'ইত্তেফাক' নিয়মিত এই জননেতার মুক্তি দাবি করে এসেছে, কখনো দীর্ঘ বয়ানে। কারণ শেখ সাহেব ১৯৫০ সাল ...
ঢাকার ডাকে একুশের প্রস্তুতি প্রদেশ জুড়ে
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
রোম নয়, বাগদাদ নয়, পূর্ববঙ্গের সব রাস্তা তখন ঢাকায় এসে যেন এক বিন্দুতে মিশেছে। জেলা শহর, মহকুমা শহর থেকে বিস্তারিত খবর জানতে লোক আসছে, লোক যাচ্ছে। এক কথায় সাংগঠনিক তত্পরতা চলছে প্রদেশ জুড়ে। শীতের আমেজ কেটে যাচ্ছে রাজনৈতিক আবহাওয়ার উত্তাপে। পতাকা দিবস যত না অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার চেয়েও বেশি গণসংযোগের প্রয়োজনে। ১১ ফেব্রুয়ারি। পতাকা দিবস সফল করে তুলতে যুবলীগ এবং ছাত্রাবাসের তরুণ কর্মিগণ বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। শহর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ এ কাজের মধ্যমণি। নারায়ণগঞ্জ একুশে নিয়ে তখনো একপা এগিয়ে—শামজ্জোহা, সফি হোসেন, মমতাজ বেগম ও অনুরূপ কয়েকজনের নেতৃত্বে উত্তাল। ঢাকার মতোই স্কুলের কমবয়সী ছাত্র-ছাত্রীরাও পিছিয়ে নেই। তারা স্কুল ছেড়ে পথে, মাঠ ময়দানের জনসভায় হাজির। ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক যোগাযোগ বরাবরই গভীর। সেখানেও পোস্টার দেয়াললিপি একুশের জন্য ডাক পাঠাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ ও সর্বজনতার দিকে। শ্রমিক অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ- প্রত্যাশা শ্রমজীবী মানুষও এ আন্দোলনের পক্ষে সাড়া দেবেন, ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়াবেন। ভাষার প্রশ্নটা তাদের জন্যও তো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়- গুরুত্বপূর্ণ গোটা ...
খাজা নাজিমুদ্দিন বেফাঁস কথা বলে ফাঁদে পড়লেন
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
সত্যি বেফাঁস কথা বলে মহাসমস্যার ফাঁদে পড়েন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন। তিনি হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন, চার বছর আগে পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ভাষা আন্দোলন তাকে কী সংকটেই না ফেলে দিয়েছিল। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সে পরিস্থিতির দায় থেকে মুক্তি, তবে পূর্ণ মুক্তি ঘটেছিল তাদের 'কায়েদে আজম'-এর কল্যাণে। তিনি আট দফা চুক্তি খারিজ করে দিয়ে খাজা সাহেবকে বন্ধনমুক্ত করেছিলেন। সে ঋণ ভুলে যাবার নয়। এবারও তিনি পরিস্থিতি বুঝে পূর্ব পরিত্রাতার দিকেই হাত বাড়িয়ে দেন। ঢাকা ছেড়ে যাবার আগে তিনি গর্ভনমেন্ট হাউসে ৩ ফেব্রুয়ারি এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন মূলত রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে তার বক্তব্য ও অবস্থান ব্যাখ্যার জন্য। তিনি জানান, পল্টন ময়দানে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে যা বলেছেন তা সবই কায়েদে আজমের কথা—তার নিজের কথা নয়। এরপরও তিনি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, প্রাদেশিকতার বিপদ ইত্যাদি নিয়ে তাদের বহুকথিত বক্তব্যই তুলে ধরেন। আসলে রাজনৈতিক জীবনের গোটা সময়টাতে তিনি ছিলেন কায়েদের ভক্ত, কায়েদের অনুসারী। আর সেজন্য কায়েদও তাকে সোহরাওয়ার্দীর চেয়েও বিশ্বস্ত ভক্ত হিসাবে কাছে টেনেছেন। সেসব পুরনো রাজনৈতিক কাসুন্দি। শেষ ...
বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধা-কথা
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
২০ ডিসেম্বর, ২০১২
বিজয় দিবসের উৎসবসজ্জা পার করে এলাম অর্জনের তৃপ্তি নিয়ে। ঢাকা মহানগর নতুন সাজে। 'গরিব দেশের কি এসব সাজে, এই যে দামি কাপড়ের এত নিশান পথে পথে?'- বলছিলেন বঙ্গবন্ধুর একদা একান্তজন সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশা। বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন। এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা তিনি। অনেক তিক্ততা নিয়ে কথা বললেন। বললেন ব্যক্তিগত বেদনার কথাও। ক্ষোভের সঙ্গে আন্দোলনে শহীদ মনু মিয়ার কথা। তাঁকে বলি, বছরের একটি দিন ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দ না হয় সাড়ম্বরে ...
একুশের মাস-তামামি
সাদাকালো
কালের কণ্ঠ
১ মার্চ, ২০১১
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শেষ হলো_এবার মাস-তামামি। প্রতিবছরের মতো এবারও আবেগের জোয়ার, বানভাসি আনুষ্ঠানিকতার বিপুল আয়োজন বরং এবার কিছুটা বেশি। কারণ আগামী বছর একুশের ৬০ বছর, তার চালচিত্র রচনা এ বছর অনেক অনেক আয়োজনে। সম্ভবত এর আরেকটি কারণ রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালনের জাঁকজমকপূর্ণ প্রস্তুতির আবহ। এবারের একুশে ফেব্রুয়ারির আয়োজন সব কিছু মিলে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। মহানগরী ঢাকা ফেব্রুয়ারি আড়ম্বরে মেতেছে অনেকটা অভাবিতরূপে_একুশে-রবীন্দ্রনাথ একাকার করে, যেন 'অলরোড্স লিড টু রোম'-এর মতো তাৎপর্যে। অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠান, মঞ্চ থেকে মঞ্চে বার্তা বয়ে যায় : ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩