কলামিস্টদের নাম
ডক্টর তুহিন মালিক এর কলামগুলো

যেভাবে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন শেখ হাসিনা
পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩১ মে, ২০১৩
রাজনীতিতে সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত উঠে আসছে নিত্যনতুন বিতর্ক। নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক না অন্তর্বর্তী সরকার- এ প্রশ্নে রাজনীতি উত্তপ্ত। আরও জটিল এক সাংবিধানিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হস্তান্তর ও মেয়াদ নিয়ে। এতে আছে সংসদ ভেঙে গেলেও প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে পরবর্তী কয়েক বছর বা ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। আশ্চর্য হলেও সত্য যে সংবিধানই তাকে এ ক্ষমতা দিয়েছে। সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ মতে, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ...
ডিসিসির মতো ভাগ্যবরণ করতে পারে জাতীয় নির্বাচন
উপ-সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৬ মে, ২০১৩
১৩ মে হাইকোর্টে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর ডিসিসি নির্বাচনের সব আইনি জটিলতার নিরসন ঘটে। তবুও নির্বাচন হচ্ছে না। আবারও বলা হচ্ছে সেই একই কথা_ আইনি জটিলতা। অথচ বলা হচ্ছে না সরকারের কুটিলতার কথা। গত বছরও ডিসিসি নির্বাচনে সীমানা নির্ধারণসহ আইনি জটিলতার কথা বলে স্থগিত করা হয় নির্বাচন। এবার হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের বিষয়টি স্পষ্ট করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। এর জবাবে ১৯ মে মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের এলাকাকে দক্ষিণ সিটির ...
ঢাকা সিটি নির্বাচন বিড়ম্বনা
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২১ এপ্রিল, ২০১৩
গত বছরের ১৬ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট। তিন মাস কেন, ছয় মাস, ৯ মাস পেরিয়ে এক বছর পূর্ণ হলেও নির্বাচনের কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। ২৪ মে ভোট হওয়ার কথা ছিল। আদালত রুল জারি করে দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছে কারণ জানতে চেয়েছিল। দুই সপ্তাহ পার হয়ে আরো ৫০ সপ্তাহ পরও রাজধানীবাসী জানতে পারেনি কেন হচ্ছে না ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন? তবে বিরোধী দলবিহীন খালি মাঠে গোল দিয়েও জিততে পারবে না বুঝতে পেরে যে সরকার কৌশলে এ কাজটি করেছে তা রাজধানীবাসী ঠিকই বুঝতে পেরেছে। নির্বাচন স্থগিতাদেশ চ্যালেঞ্জ করে পরদিন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজের আদালতে আমি নিজে ফরিয়াদি হিসেবে আপিল করি। কারণ আমি ইতিমধ্যে তখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়নপত্র কিনি। বাধ্যতামূলকভাবে ২৮ হাজার টাকার সিডি কিনতে হয় রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে। আমার আপিলটি চেম্বার জজ থেকে সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চে পাঠানো হয়। দুর্ভাগ্য ...
পরীক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি নয়
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কণ্ঠ
৬ এপ্রিল, ২০১৩
এ কেমন রাজনীতির খেলা চলছে দেশে। একদিকে ১০ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষার জীবনযুদ্ধে খাওয়াদাওয়া, ঘুম ছেড়ে দিয়েছে, অন্যদিকে হরতাল, সহিংসতা আর যখন-তখন পরীক্ষা পেছানোর যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে দ্বিমুখী মানসিক চাপে পড়েছে। এমনকি তাদের অভিভাবকদের পর্যন্ত নিস্তার মিলছে না এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে। এ কেমন রাজনীতি করছি আমরা? কাদের জন্য আমাদের এই রাজনীতি? ছাত্রদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দিয়ে রাজনীতির পাশা খেলা কাম্য হতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা আর বাধা সৃষ্টি করে আর কত দিন চালাব আমাদের রাজনীতির এই মহান যজ্ঞ। একদিকে বিরোধী দলগুলো পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনটিকে তাদের ক্ষমতারোহণের চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের দাবিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে জনকল্যাণে ব্যর্থ কপট সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলায় এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিকে দীর্ঘ দুই মাসে সম্প্রসারণ করে আন্দোলন ঠেকানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি সরকারের সার্বক্ষণিক নজরে থাকা ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার না করেও পরীক্ষার আগের রাতে গ্রেপ্তার করা হলো সেই একই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে। যাতে তাদের কোনো হরতাল আহ্বান সামাল দেওয়া যায় ...
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংবিধান ও বাস্তবতার ফারাক
পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৬ মার্চ, ২০১৩
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে গোটা দেশবাসী রাষ্ট্রপতি পদের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এতদিনে আমাদের খেয়াল হয়েছে যে, চলমান সংসদীয় গণতন্ত্রে সর্ব ক্ষমতাময় একজন প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্য রোধে সর্বোচ্চ কোনো একজনের থাকাটা ভীষণ প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদের অলঙ্কার রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সেজে শপথবাক্য পাঠ করানো ও মাজার জেয়ারতকারী একজন রাষ্ট্রপতি যে সংসদীয় গণতন্ত্রে একদমই বেমানান তা আমরা বোধ হয় এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। সংসদের ন্যায্য-অন্যায্য সব ক্রিয়াকলাপের রাবার স্ট্যাম্প মারার কাজে একজন রাষ্ট্রপতিকে আমরা কেউ হয়তো আর এভাবে দেখতে পছন্দ করছি না। সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদের এহেন দুরবস্থা দেখতে দেখতে জনগণ পর্যন্ত এখন লজ্জাবোধ করছে। আমাদের এ লজ্জা আরও প্রকট হয় যখন আমাদের স্মৃতি নিয়ে যায় সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিদায় উপাখ্যানে। আরেকজন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ স্বীয় আত্দমর্যাদার জন্য কিঞ্চিৎ সংগ্রাম করলেও বিদায়ের পর তাকেও আমরা ভিলেন উপাধি দিতে কুণ্ঠাবোধ করিনি। প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ...
মাই লর্ড, আমাদের ভাষা বলুন
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
বাংলাদেশের সংবিধানের সবচেয়ে ছোট অনুচ্ছেদটি হচ্ছে অনুচ্ছেদ ৩। তিনটি মাত্র শব্দের সমন্বয়ে এই অনুচ্ছেদটি গঠিত, যেখানে বলা হয়েছে 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা'। কিন্তু তা হলে কী হবে, আমাদের উচ্চ আদালতে একচ্ছত্র শাসন চলছে ইংরেজিরই। অথচ যে বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্বদরবারে স্বীকৃতি লাভ করেছে; মহান ভাষা আন্দোলনে সেই দেশের উচ্চ আদালতে আজও স্বীকৃতি পায়নি বাংলা ভাষা। যেখানে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা বলে সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অধীনে গঠিত হয়েও সংবিধানের বাইরে থাকবে কেন? তাহলে সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রের বাইরে, না রাষ্ট্রের ভেতরে? দেশের নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ বা সংসদ বাংলায় চললে বিচার বিভাগের উচ্চ আদালতে বাংলা থাকতে অসুবিধা কোথায়? যেখানে আমরা রাষ্ট্রের গণ্ডি ছেড়ে বহুদূরে গিয়ে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলা চালু করার দাবি জানাই, অথচ নিজ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বাংলা চালুর হিম্মত দেখাতে পারি না! আশ্চর্য হলো, যে জাতি ভাষার জন্য রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলেছে সেই দেশের উচ্চ আদালতে বাংলা পরবাসী! প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা বাংলা ...
মাদক থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচান
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৫ ডিসেম্বর, ২০১২
ক্ষমতার পালাবদল আর নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েই যেন জাতির সব চিন্তাশক্তি নিঃশেষ হতে চলেছে। অথচ আমাদের নতুন প্রজন্ম আজকে মারাত্মকভাবে সর্বনাশা মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত। পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়- সর্বত্র মাদকের ভয়াবহ হামলা চলছে। যেন এক অদ্ভুত মাদক সংস্কৃতিতে ভুগছে আমাদের সন্তানরা। শহরের অভিজাত রাস্তায় এখন নানা রকমের লাউঞ্জ আর সিসা ক্যাফেতে চলছে নারী-পুরুষের অবাধ নেশাসেবন। অ্যামিউজমেন্ট ক্লাব নামে প্রকাশ্যে চলছে মদের বেচাকেনা। সমাজের উঁচু শ্রেণীর অমুক অমুক ক্লাব যেন নিরাপদ ও শান্তিতে মদ্যপানের অভয়াশ্রম। তাদের জন্য নেই কোনো ড্রাগ, নারকোটিক্স, লিকার আইন! সাধ্য আছে কারো এ প্রশ্ন করার? মুড়ি-মুড়কির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেচাবিক্রি হচ্ছে প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেট। ফেনসিডিল-হেরোইন বহু আগেই পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে। তরুণ প্রজন্মের কাছে হাতছানি দিয়ে বেড়াচ্ছে এই নীল ছোবলের সংস্কৃতি। অথচ কী আশ্চর্য, দেশের নীতিনির্ধারকরা, রাজনৈতিক দলগুলো, তাদের নেতারা, সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এ ব্যাপারে মুখে যেন কুলুপ এঁটে বসে আছেন দিব্যি! রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নয় বলে এটা যেন তাঁদের কোনো এজেন্ডাই নয়। ...
দেশ কি জরুরি অবস্থার দিকে যাচ্ছে
উপ-সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৭ ডিসেম্বর, ২০১২
গত ২৮ নভেম্বর পল্টনের মহাসমাবেশে বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে আবারও জরুরি অবস্থার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত হয়েছে। আবার কোনো ইমার্জেন্সি এলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন। অন্যদিকে পর দিনই সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বললেন, 'উনিই জরুরি অবস্থা আনতে চাচ্ছেন। আনার জন্য পাঁয়তারা করছেন। এটা আনার জন্য কর্মসূচি দিচ্ছেন।' সেই সঙ্গে সিনিয়র মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও এক ধাপ এগিয়ে বিরোধী দলের নেত্রীকে কঠোরভাবে সমালোচনা করলেন। তাদের বাকযুদ্ধে একটা বিষয় তো স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, ...
ড. ইউনূস ইস্যু আর কত দিন চলবে?
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৫ ডিসেম্বর, ২০১২
সরকার হলো এমন একটি শাসনযন্ত্র, যার মাধ্যমে কোনো একটি রাজনৈতিক এককের শাসন কর্তৃত্ব নির্বাহ হয়। একটি দেশের সরকার ওই এককটির নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও তার প্রজাদের শাসন ও পরিচালনার ক্ষমতাসম্পন্ন। সাধারণত সরকার শব্দটির দ্বারা একটি সাধারণ সরকার বা সার্বভৌম রাষ্ট্রকে বোঝায়। অন্যদিকে একজন ব্যক্তি বলতে বোঝায় একজন মানুষ। বিশেষ করে নিজস্ব অনুভূতি, বোধ, বুদ্ধি, মননসম্পন্ন একটি ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সেই একজন ব্যক্তিই নাকি বাংলাদেশের পক্ষে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে সব ধরনের বিনিয়োগ বন্ধ করে রেখেছেন! এই একজন মাত্র ব্যক্তিই নাকি দেশের একমাত্র সমস্যা। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার চালানোর জন্য মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিযুক্ত করে নোবেলজয়ী একমাত্র বাংলাদেশির সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অর্থমন্ত্রী। দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, দুর্ভাগ্যজনকও বটে। ...
পরীক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি নয়
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৬ এপ্রিল, ২০১৩
এ কেমন রাজনীতির খেলা চলছে দেশে। একদিকে ১০ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষার জীবনযুদ্ধে খাওয়াদাওয়া, ঘুম ছেড়ে দিয়েছে, অন্যদিকে হরতাল, সহিংসতা আর যখন-তখন পরীক্ষা পেছানোর যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে দ্বিমুখী মানসিক চাপে পড়েছে। এমনকি তাদের অভিভাবকদের পর্যন্ত নিস্তার মিলছে না এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে। এ কেমন রাজনীতি করছি আমরা? কাদের জন্য আমাদের এই রাজনীতি? ছাত্রদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দিয়ে রাজনীতির পাশা খেলা কাম্য হতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা আর বাধা সৃষ্টি করে আর কত দিন চালাব আমাদের রাজনীতির এই মহান যজ্ঞ। একদিকে বিরোধী দলগুলো পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনটিকে তাদের ক্ষমতারোহণের চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের দাবিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে জনকল্যাণে ব্যর্থ কপট সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলায় এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিকে দীর্ঘ দুই মাসে সম্প্রসারণ করে আন্দোলন ঠেকানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি সরকারের সার্বক্ষণিক নজরে থাকা ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার না করেও পরীক্ষার আগের রাতে গ্রেপ্তার করা হলো সেই একই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে। যাতে তাদের কোনো হরতাল আহ্বান সামাল দেওয়া যায় ...
নির্বাচনী অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে দেশ
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৬ মার্চ, ২০১৩
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি শুধু বাতিলই করা হয়নি; বরং সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদকে সংশোধন করে দলীয় সরকারের অধীনে দলীয় মন্ত্রী-এমপি-ডিসিদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন করিয়ে নবনির্বাচিতদের বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিধান রাখা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর আন্দোলনে দুর্বল বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটা নিশ্চিহ্ন জামায়াতকেও এখন আর কাছে পাচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের সাফ কথা, তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার হতে পারে, তাও আবার জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে বিএনপিকে আসার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একটা বিষয় খুবই স্পষ্ট যে এই ইস্যুতে বিএনপি জোরালো কোনো আন্দোলন করতে না পারলে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি ছাড়াই হয়তো আগামী নির্বাচন করে ফেলবে সরকার। কিন্তু যেখানে বিরোধী দলের প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত সরকারের হাতে নিরাপদ নয়, সেখানে এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন কতটা নিরাপদ হবে তা সহজেই বোধগম্য। পক্ষে-বিপক্ষে, যুক্তি-তর্কে, আলোচনা-সংলাপে যা-ই হোক না কেন, আসলে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন সেটাই দলগুলোর কাছে মুখ্য বিষয়। পদ্ধতি এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ...
গ্যাসের ওপর নাকি ভাসছে দেশ, রান্নার গ্যাস গেল কোথায়?
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
দুপুরে কাউকে কখনো নিমন্ত্রণ করেন না আমার মা। কারণ সন্ধ্যার আগে চুলা জ্বলে না আমাদের পুরান ঢাকার বাসায়। আগের রাতের খাবারটা দুপুরে গরম করে খাওয়ারও কোনো রকম সুযোগ নেই চরম গ্যাস সংকটের কারণে। কয়লার তন্দুরে বানানো বাকরখানিটাই আপাতত বাঁচিয়ে রেখেছে সকালের নাশতাটাকে। ঐতিহ্যের বাকরখানি এখন অনেকটা রোজ রোজ অনুরোধের ঢেঁকি গেলার মতো। অন্য কোনো বিকল্প যে নেই পুরান ঢাকার মানুষের কাছে। রান্নার জন্য চাই গ্যাস। অথচ চরম গ্যাস সংকটে ভুগছে পুরান ঢাকাসহ গোটা রাজধানীবাসী। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধের। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও সুপারিশ করেছে ধীরে ধীরে বাসাবাড়িতে গ্যাসের ব্যবহার বন্ধের। অর্থমন্ত্রীর প্রেসক্রিপশন মতে, গ্যাসের আবাসিক সংযোগ বন্ধ হলে একটা পরিবারকে কমপক্ষে সিলিন্ডারপ্রতি মাসে তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা গুনতে হবে। নিম্নবিত্ত পরিবারের কথা বাদই দিলাম, এর ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারে চুলা জ্বালানোর খরচ নির্বাহ করা ...
বিদ্যুতের ভূত তাড়াবে কে?
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
১১ জানুয়ারী, ২০১৩
বাংলাদেশের মতো গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকারটি মানবাধিকারের পর্যায়ে না পড়লেও ন্যায্য মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকার নিশ্চয়ই জনগণের রয়েছে। সে কারণে এটি সরকারের অন্যতম একটি জনগুরুত্বপূর্ণর্ সেবা খাত হিসেবেও বিবেচিত। কিন্তু জনগণের এ সেবাটি এ দেশে বহু আগেই বাণিজ্যে রূপ লাভ করেছে। এ খাতে সীমাহীন দুর্নীতি আর পুকুরচুরি-সমুদ্রচুরি বন্ধ হওয়া তো দূরে থাক, এই দুর্নীতির টাকা জোগান দিতে নিয়মিত গরিব জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। একদিকে আইন অবজ্ঞা করে গণশুনানির নামে চলছে প্রহসন, অন্যদিকে প্রতিবাদ করলেই পিটুনির নামে চলছে নির্যাতন! ডেসকো বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত হিসেবে তাদের লোকসানকেই দায়ী করছে। অথচ ডেসকোর আত্মস্বীকৃত লোকসানের পরিমাণ মাত্র ১৪ কোটি টাকা। স্লাববিহীন ছয় মাসের বাড়তি উপার্জিত ৭০ কোটি টাকা এ হিসাবে বাদ দেখানো হয়েছে। এই টাকা হিসাবে ধরা হলে ৫৬ কোটি টাকা লাভ থাকে ডেসকোর। অর্থাৎ ডেসকো তাহলে একটা লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ...
রাজনৈতিক বিবেচনায় অপরাধের দায়মুক্তি ন্যায়বিচারের হুমকিস্বরূপ
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৪ নভেম্বর, ২০১২
আইন ও বিচারব্যবস্থায় দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলার কথা থাকলেও 'রাজনৈতিক মামলা' বলতে কোনো কিছু নেই। অথচ প্রতিটি সরকারের আমলেই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নিয়ে আসছে। এমনকি কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতাদের একান্ত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মামলাগুলোকেও রাজনৈতিক মামলা বলে প্রত্যাহারের নজির রয়েছে। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্নীতির মামলাগুলোকে 'রাজনৈতিক মামলা' বলে পাইকারিহারে বাতিল প্রক্রিয়া যদি এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। গণতন্ত্রের অন্যতম মূল স্তম্ভ হচ্ছে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত না হলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার কখনোই সুদৃঢ় হবে না। একটি দেশের বিচার বিভাগকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে হলে তাকে রাজনীতি ও দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা যেন মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে দাঁড়ায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ...
টিআইবিকে প্রত্যাখ্যান নয়- নিজেদের শুধরাতে হবে
উপ-সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩১ অক্টোবর, ২০১২
আমরা সবাই এটি জানি যে, নেতৃত্ব শব্দের আভিধানিক অর্থ সামনে থেকে পরিচালনা করা বা পথপ্রদর্শন করা। নেতৃত্ব এমন কৌশল, যার দ্বারা ছোট-বড় যে কোনো দল বা সংগঠনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়। নেতৃত্ব দ্বারা মানুষ উদ্দীপ্ত হয়, নির্দেশিত হয় ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজে ব্রত হয়। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় স্বপ্নযাত্রার মতো। অধ্যাপক রিকি ডবি্লউ গ্রিফিন মনে করেন, নেতৃত্ব যেমন প্রক্রিয়া আবার সম্পদও বটে। যা সংগঠনের লোকজনকে বল প্রয়োগ ছাড়া প্রভাবিত করে আচরণ পরিবর্তন ও প্রেরণাদানের মাধ্যমে দলীয় লক্ষ্য অর্জনে উদ্দীপ্ত ...
ডিসিসির মতো ভাগ্যবরণ করতে পারে জাতীয় নির্বাচন
উপ-সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৬ মে, ২০১৩
১৩ মে হাইকোর্টে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর ডিসিসি নির্বাচনের সব আইনি জটিলতার নিরসন ঘটে। তবুও নির্বাচন হচ্ছে না। আবারও বলা হচ্ছে সেই একই কথা_ আইনি জটিলতা। অথচ বলা হচ্ছে না সরকারের কুটিলতার কথা। গত বছরও ডিসিসি নির্বাচনে সীমানা নির্ধারণসহ আইনি জটিলতার কথা বলে স্থগিত করা হয় নির্বাচন। এবার হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের বিষয়টি স্পষ্ট করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। এর জবাবে ১৯ মে মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের এলাকাকে দক্ষিণ সিটির ...
আইনগুলো সব কেন রানাদের পক্ষে?
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
৩ মে, ২০১৩
সমগ্র দেশ যখন সাভারের শত শত শ্রমিকের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করছে, তখন রানার বিরুদ্ধে মামলা হলো দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায়, যাতে বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানই আছে পাঁচ বছরের জেল। শত শত লাশের বিচারপ্রার্থী মানুষের সঙ্গে এ যেন পুলিশের এক নির্মম রসিকতা। জনদাবির ভয়াবহতা ও জনগণের চাপের মুখে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে স্বয়ং ম্যাজিস্ট্রেটকেই। তিনি নির্দেশ দিলেন, ৩০৪(ক) ধারা নয়, বরং সংযোজন করতে হবে ৩০৪ ধারাকে। এই ধারায় যে কাজ দ্বারা মৃত্যু সংঘটন হয়, তার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় সংশোধিত ধারাগুলোতে আরো সংযোজন করলেন মারাত্মক আঘাতজনিত দণ্ডবিধির ৩২৫, ৩২৬ ধারা এবং হত্যাচেষ্টাজনিত ৩০৭ ধারাটি। এখানেও আইনের প্রয়োগে সমস্যা দেখা দিল। কেননা ৩০৪ ধারা সংযোজিত হলে এই ধারাগুলো আর প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে এই ভুল ধারা সংযোজনের ফলে বিচারকালে তা আসামির পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাই থেকে যায়। বিপজ্জনক বিষয় হচ্ছে, রানা প্লাজা জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা নাকি রানার বাবার নামে। তাহলে তো হতাশার মাত্রা আরো বেশি দৃশ্যমান। ...
সমাধান সরকারের একার হাতেই
উপ-সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৩ এপ্রিল, ২০১৩
একের পর এক সংকটের জন্ম দিয়ে চলেছে সরকার। গত চার বছরে সরকার এক সংকটকে ঢাকতে গিয়ে তৈরি করছে নতুন আরেকটি সংকটের। কালো বিড়াল লুকাতে গিয়ে ইলিয়াস আলী গুম। সেটা ঢাকতে গিয়ে ডিসিসি ভাগ, পরে আবার সেই নিবার্চনটাও ভণ্ডুল। শেয়ারবাজার-ডেসটিনি-হলমার্ক আর পদ্মার লজ্জা ঘোচাতে একদলীয় নির্বাচনের একরোখা পথযাত্রা। সেই আন্দোলন ঠেকাতে যুদ্ধাপরাধের বিচার। তবুও নিস্তার নেই। স্কাইপে কেলেঙ্কারির পর কাদের মোল্লার ফাঁসি না হওয়ার পর প্রজন্মের গণজাগরণ। এই চেতনাকে দলীয়করণের মঞ্চে রূপান্তর করেও রক্ষা নেই। ইসলাম অবমাননার অভিযোগ ঠেকাতে গিয়ে ...
আমাদের বাঁচতে দিন, আমরা বাঁচতে চাই
উপ-সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১০ মার্চ, ২০১৩
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শতাধিক মানুষ হত্যা করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বিভিন্ন পত্রিকার হিসাবে ১২০ থেকে ১৪০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। রয়েছে নারী, শিশুসহ বহু সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, র্যাব এবং পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বা বিজিবিকে রাস্তায় নামাতে হয়েছে। একটি উপজেলায় সাময়িকভাবে সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত নামানো হয়েছে। বিগত ৪১ বছরের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক নাগরিক একসঙ্গে কখনো পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায়নি। মানুষ জানে না, এভাবে পাখি শিকার ...
পিলখানা মামলায় সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ চাই
উপ-সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নাম দিয়ে গণহত্যা করা হয়েছিল ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। এ ঘটনায় বিদ্রোহের বিচারের জন্য প্রথমে পাঁচটি, পরে তা বাড়িয়ে ১১টি আদালত গঠন করা হয়। এসব আদালতে ৬ হাজার ৪৬ জন জওয়ানকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। বিদ্রোহের অভিযোগে পিলখানাসহ সারা দেশে দায়ের করা হয় ৫৭টি মামলা। চার বছরের মাথায় একে একে প্রতিটি মামলার বিচার কাজই শেষ হয় গত বছর। এসব মামলায় ৫ হাজার ৯২৬ জন বিডিআর সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বিডিআর ট্র্যাজেডিকে ...
পুলিশের পিপার স্প্রে ব্যবহার সংবিধানপরিপন্থী অপরাধ
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২২ জানুয়ারী, ২০১৩
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক অধিকারের অংশে ৩৫(৫) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না, কিংবা নিষ্ঠুর অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না, কিংবা কারও সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না। এমনকি কোনো মানুষ যদি অপরাধীও হয় এবং সেই অপরাধে আদালতে দোষী প্রমাণিত হলেও আমাদের সংবিধানে তাকে কোনোভাবেই লাঞ্ছনা, যন্ত্রণা আর নিষ্ঠুর অমানুষিক দণ্ড দেয়া যাবে না।' কিন্তু কোনো প্রকার অপরাধ প্রমাণ তো দূরের কথা, এ দেশে কোনো প্রকার অভিযোগ-আদালত-মামলা-সাক্ষী-প্রমাণ অর্থাৎ কোনো রকম বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই পুলিশ যখন-তখন যে কাউকে নির্বিচারে শাস্তি দিচ্ছে, তা-ও আবার লাঞ্ছনা, যন্ত্রণা আর নিষ্ঠুর অমানুষিক শাস্তি! যেখানে নিষ্ঠুর শাস্তি দেওয়াটাই সংবিধানে নিষিদ্ধ, সেখানে পুলিশের এই নিষ্ঠুর আচরণ শুধু সংবিধানপরিপন্থীই নয় বরং চরম মানবতাবিরোধী গর্হিত একটি অপরাধ। ...
ফুটপাতে পথচলার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২২ নভেম্বর, ২০১২
ফুটপাতে নির্বিঘ্নে চলাচল নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ। কিন্তু আমাদের সরকারগুলো অযাচিত কারণে নাগরিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিকারটি সংরক্ষণ করতে একেবারেই ব্যর্থতা দেখিয়ে চলেছে। অথচ সরকারের সদিচ্ছা থাকলে যে মানুষ তার পায়ে হাঁটার পথ খুঁজে পেতে পারে, তা ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় ঢাকাবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। মেগাসিটি ঢাকার ফুটপাত-বাণিজ্য যেন দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে স্বর্ণের ডিমপাড়া রাজহাঁসের মতো লোভনীয়। দখলবাজদের অবৈধ দখলে ঢাকায় ফুটপাত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমনিতেই রাজধানীতে নেই পর্যাপ্ত পায়ে হাঁটার পথ, আন্ডারপাস, ওভারপাস, ওভারব্রিজ। তার ওপর ফুটপাতজুড়ে চলছে মোটরসাইকেল চালকদের দৌরাত্ম্য। পুলিশ ভাইয়েরা পর্যন্ত ফুটপাত দাবড়ে চলছে মোটরবাইক নিয়ে। পায়ে হাঁটা মানুষের করুণ এক অসহায় অবস্থা বিরাজ করছে ঢাকার রাজপথে! গত ২ জুলাই মহাখালীতে ফুটপাতে যুবলীগের অবৈধ কার্যালয় দখলের যুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুটপাতে বানানো সব রাজনৈতিক দলের অফিস সরানোর নির্দেশ দেন। ডিএমপি পুলিশ আর সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট যখন এই নির্দেশ পালনে অসহায়ের মতো ব্যর্থ হলেন, তখন নগরবাসী কিন্তু ঠিকই বুঝতে পেরেছে, এসব ফুটপাত ক্ষমতাসীন লোকজনের ...
তীব্র হচ্ছে গণপরিবহন সংকট যাত্রীস্বার্থ দেখার কি কেউ নেই?
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
১২ নভেম্বর, ২০১২
নগর পরিবহনে চরম নৈরাজ্য এখন রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। কয়েক বছর ধরে ঢাকাবাসীর কাছে গণপরিবহন একটি চরম ভোগান্তি আর বিড়ম্বনার নাম। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, নগরবাসীর শান্তিপূর্ণ যাত্রীসেবা পাওয়ার অধিকার যে রয়েছে এটা কেউ স্বীকারই করতে চায় না। এসি গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে চলাচলকারীদের চোখে সাধারণ নগরবাসীর এই ভোগান্তি কখনো দৃষ্টিগোচর হয় না। নগর পরিবহনে নেওয়া হয় মহাপরিকল্পনা, পাতালরেল, এমআরটি, বিদ্যুৎগতির ট্রেন- আরো কত কী! অথচ ঢাকাবাসীর কপালে জোটে না পাবলিক বাসে ঠেলাঠেলি করে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো এতটুকু জায়গা। বাসের ভেতরের মানুষগুলোও যে দেশের নাগরিক এ কথা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হয়তো এত দিনে ভুলেই বসেছেন। ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩