কলামিস্টদের নাম
যতীন সরকার এর কলামগুলো

সন্তানসম পালে যারা জমি তারা জমিদার নয়
চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন
কালের কন্ঠ
০১ মে, ২০১৩
চাষি ক্ষেতে চালাইছে হাল তাঁতি বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল- বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার তারি 'পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।'- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কথিত এই 'সমস্ত সংসার' মূলত বাংলাদেশেরই সংসার। বাংলা কৃষিপ্রধান দেশ, এই সর্বজনজ্ঞাত তথ্যেরই পরিপোষক কবিগুরুর বক্তব্য। চাষি, তাঁতি, জেলে- এরা সবাই সেদিন ছিল বাংলার কৃষকসমাজেরই অন্তর্ভুক্ত, এই কৃষকসমাজের মানুষদের শ্রমজাত সম্পদই ছিল এ ভূখণ্ডের সবার বাঁচার উপকরণ। বিশেষ করে এক সময়কার অবিভক্ত বঙ্গের যে অংশটুকু নিয়ে আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি গঠিত, সে ভূখণ্ডটি তো ...
তরুণ প্রজন্মের প্রণোদনার উৎস
চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন
কালের কণ্ঠ
৮ এপ্রিল, ২০১৩
"বয়সের গুণেই ছাত্র-যুব পরস্পরের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই গুণ হলো যৌবন। ১৮ থেকে ৩০ যাদের বয়স, তারাই মূলত যুবক। শারীরবিজ্ঞানীদের অভিমতও তা-ই। শারীরিক বিকাশের যে পর্যায় 'সাইকোসোমটিক' নামে চিহ্নিত, অর্থাৎ শরীর-মনের সংহতি, ভারসাম্য, তা এই বয়সবৃত্তেই সবচেয়ে বেশি অটুট থাকে। বিকাশের তুঙ্গে পৌঁছে যায় দেহ, মন। বয়স বাড়লেও মনের দিক থেকে যাঁরা আমৃত্যু তরুণ থাকেন, অভিধাগত বিচারে তাঁরাও যুবক, কিন্তু জীববিজ্ঞানের আক্ষরিক নিয়মে নন। যাকে যৌবন-ধর্ম, যুবকের মর্জি বলা হয়, উদারতা, সাহস, তেজ, ত্যাগ, নিঃস্বার্থতা, নমনীয়তা, শরীর-মনের সুষম চাঞ্চল্য, সক্রিয়তা, ...
যা পড়ছি যা লিখছি
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৮ অক্টোবর, ২০১০
বর্তমানে আমি মারাত্মক 'আর্থ্রাইটিস' ব্যাধিতে আক্রান্ত। লেখালেখি প্রায় করতেই পারি না। পড়তেও কষ্ট হয়। তবুও না পড়ে থাকতে পারি না বলে সব সময়ই কোনো না কোনো বই পড়তে চেষ্টা করি। নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ীর 'কলিযুগ' বইটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের 'অক্ষয়কুমার দত্ত ও উনিশ শতকের বাঙলা' বইটি পড়তে পড়তে উনিশ শতকের বঙ্গীয় রেনেসাঁস সম্পর্কে আমি নতুন করে ভাবছি। কয়েক বছর আগে মুহম্মদ সাইফুল ইসলামেরই 'সংস্কৃতি সাধক মোতাহের হোসেন চৌধুরী' বইটিও আমার চিন্তাকে ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
১৩ অক্টোবর, ২০১০
এ রচনার উদ্দেশ্য তোমাদের ব্যাকরণভীতি দূর করা, তোমরা যাতে বুঝতে পারো যে ব্যাকরণের ভয়টা জুজুর ভয়ের মতোই ভুয়া। শব্দের অর্থবদল [গতকালের পর] 'সম্ভ্রম'_এই শব্দটির কথাই ধরো। এ শব্দটির মূল অর্থ হলো 'ভয় করা'। কিন্তু আজকে আমরা 'সম্ভ্রম' বলতে বুঝি 'সম্মান'। 'ভয়' থেকে একেবারে 'সম্মান'। অর্থের কত উন্নতি হয়েছে দেখলে তো? "এ রকমই একটি শব্দ 'মন্দির'। 'মন্দির'-এর অর্থ আগে ছিল 'সাধারণ ঘর'। কিন্তু এখন 'মন্দির' বলতেই আমাদের মনে একটা সম্ভ্রমের ভাব জেগে ওঠে। হেজিপেজি যেকোনো ঘরকে কেউ মন্দির বলে না। ...
বাংলা শেখার আসরপ
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১০
এ রচনার উদ্দেশ্য তোমাদের ব্যাকরণভীতি দূর করা, তোমরা যাতে বুঝতে পারো যে ব্যাকরণের ভয়টা জুজুর ভয়ের মতোই ভুয়া শব্দ তৈরির কারখানা [পূর্বপ্রকাশের পর] চামেলি বলল, 'ধ্বনিকে তো আপনি পরমাণুর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মৌলিক শব্দকে বলেছিলেন মৌলিক পদার্থের মতো, আর সাধিত শব্দ যৌগিক পদার্থের মতো।' 'হ্যাঁ, তা-ই বলছিলাম বটে। একটা বিষয়কে বোঝানোর জন্য কত কিছুর সঙ্গেই তুলনা বা উপমা দেওয়া চলে। আজকে মিষ্টি খেতে খেতে আর মণ্ডা-চমচম নিয়ে তোমাদের তর্ক শুনে মিষ্টির উপমাটাই চট করে মনে এল। দুধ-চিনিকেই তোমরা মিষ্টির উপাদান বলেছ বটে। তবে হালুইকরের মিষ্টির প্রধান উপাদান কিন্তু দুধ। ঠিক দুধও নয়, দুধের ছানা। একই দুধের ছানা যেমন চিনির সঙ্গে নানা কায়দায় মিশে নানা রকমের মিষ্টি হয়ে যায়, ধ্বনি দিয়ে তৈরি মৌলিক শব্দগুলোও নানা ধ্বনি বা অন্য শব্দের সঙ্গে মিশে নতুন নতুন সাধিত শব্দে পরিণত হয়। একেই আমি বলেছি শব্দ তৈরির কারখানা। কী কী কায়দায় নানা ধরনের শব্দ তৈরি করা হয়, শব্দের কারখানায় গিয়ে তা-ই আমরা শিখে নেব।' 'শব্দ ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৯ আগষ্ট, ২০১০
এই রচনার উদ্দেশ্য তোমাদের ব্যাকরণভীতি দূর করা, তোমরা যাতে বুঝতে পারো যে ব্যাকরণের ভয়টা জুজুর ভয়ের মতোই ভুয়া বিভক্তির কেরামতি [পূর্বপ্রকাশের পর] আমি বললাম, তা ছাড়া 'মানুষ' শব্দের প্রথমা বিভক্তির কথা বলতে গিয়ে বলছ 'মানুষ'। এতে বিভক্তি কোথায়? 'মানুষ' শব্দটিতে কোনো বিভক্তি যোগ না করেই বলছ প্রথমা বিভক্তি। এটাই বা কেমন হলো? এবার চামেলি আস্তে আস্তে বলে, 'আমাদের বইয়ে এ রকমই লেখা আছে, তা-ই আমরা পড়েছি।' ব্যাপারটা কী জানো? সংস্কৃত ব্যাকরণে প্রথমা থেকে সপ্তমী পর্যন্ত সাতটি বিভক্তি আছে। বাংলা ব্যাকরণ লিখতে গিয়ে সংস্কৃত পণ্ডিতরা ওই সাতটি বিভক্তিই আনতে চাইলেন। কিন্তু বাংলা ভাষায় তো সাতটি বিভক্তি নেই। তাই যা বিভক্তি নয়, তাকেও বিভক্তি বলে চালিয়ে দিতে হলো তাঁদের। যেমন ধরো, 'মানুষ' শব্দের প্রথমা বিভক্তি বলতে গিয়ে বলল 'মানুষ', এর সঙ্গে আসলে কোনো চিহ্ন বা বিভক্তি তো যোগ হলো না। সংস্কৃত ভাষায় কিন্তু তা নয়। 'মনুষ্য' শব্দে প্রথমা বিভক্তি হলো 'মনুষ্যঃ'। এই যে বিসর্গটি (ঃ), এটি এখানে প্রথমা বিভক্তির চিহ্ন। সংস্কৃত ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
১৪ আগষ্ট, ২০১০
[পূর্বপ্রকাশের পর] কোনো একটা কিছু থেকে অন্য একটা কিছু প্রকাশিত হওয়া, বেরিয়ে যাওয়া, বিচ্যুত হওয়া, নিঃসৃত হওয়া ইত্যাদিকে বলে 'বিশ্লেষ'। যা থেকে 'বিশ্লেষ' হয় তারই নাম অপাদান। বাক্যের মধ্যে যে ক্রিয়া পদটি থাকে, তা থেকে বিশ্লেষ হয় যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ, তা-ই অপাদান কারক। যেমন_মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়, তিলে তেল হয়। 'মেঘ থেকে', 'তিলে'_ এগুলো অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদটিকে ধরে তাকে 'কোত্থেকে', 'কিসের থেকে' ইত্যাদি প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই অপাদান কারক। ক্রিয়াটি ঘটে যে সময়ে, স্থানে বা বিষয়ে তাকে বলে আধার। আধার অর্থ পাত্র। মানে যাতে কোনো কিছু থাকে বা রাখা যায়, তাকেই বলে পাত্র বা আধার। ক্রিয়া ঘটতে হলে তারও আধার চাই। যেকোনো কাজই কোনো সময়ে জায়গায় কিংবা একটা কিছু বিষয়ের মধ্যে ঘটে। এ রকম যাতে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, ক্রিয়ার সেই আধারকে বলে অধিকরণ কারক। 'বনে বাঘ থাকে', 'জলে মাছ আছে', 'ছেলেরা বিকেলে মাঠে খেলে'_এসব ক্ষেত্রে 'বনে', 'জলে', 'বিকেলে', 'মাঠে'_সবই অধিকরণ কারক। ক্রিয়াটি 'কোথায়, ...
বাংলা শেখার আসর
কেবলই বদলায়
কালের কন্ঠ
০২ আগষ্ট, ২০১০
[পূর্বপ্রকাশের পর] রুবী বলল, 'হ্যাঁ। 'প্রত্যেকে চেষ্টা করলে ক্রমে ক্রমে গ্রামের উন্নতি হবে'। ও জেলার লোকেরা আবার বাইরে গিয়ে তাদের উচ্চারণের এ ব্যাপারটায় খুব সচেতন থাকে। কলকাতার 'চিত্রা' সিনেমা হল থেকে ছবি দেখে এলে এক ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, 'আজকে কোন হলে গিয়েছিলেন?' _চিত্তা। _র-ফলাটা যে বাদ গেল। _ওঃ ভম হয়েছে। _এবারও যে গেল। _আমাদের দেশে এ রকমই পচলিত। স্বরভক্তি বাঁচাতে গিয়ে র-ই লোপ পেয়ে গেল। 'বাংলায় ধ্বনি পরিবর্তনে 'র' লোপ পেয়ে যাওয়ারও একটা ব্যাপার আছে। এ বিষয়ে পরে বলছি। আমরা যেসব শব্দে স্বরাগম করে থাকি, কখনো কখনো সেখানেও স্বরভক্তি হয়ে থাকে। আমরা যেমন বলি 'ইস্কুল, ইস্টিশন, ইস্টিমার', পাঞ্জাবিরা সেখানে কী বলে জানো? তারা বলে 'সকুল, সটেশন, সটিমার'। ওখানে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন রীতিটা নেওয়া হলো বলো তো।' চামেলি বলল, 'ওখানে স্বরাগম না করে স্বরভক্তি করা হয়েছে।' ...
বাংলা শেখার আসর
আমাদের মায়ের ভাষার মা
কালের কন্ঠ
১৮ জুন, ২০১০
[পূর্ব প্রকাশের পর] ফারসি যেমন বলে পারস্য দেশের ভাষাকে, ফ্রান্স দেশের ভাষাকে তেমনই বলে 'ফরাসি'। এই 'ফারসি' আর 'ফরাসি'তে কিন্তু অনেকেই গোলমাল করে থাকে। ফরাসি ভাষারও কিছু শব্দও বাংলা ভাষায় এসেছে। যেমন_কার্তুজ, কুপন, শেমিজ, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁ ইত্যাদি আর কিছু আছে ওলন্দাজ ভাষার শব্দ। যেমন_তুরুপ, হরতন, রুইতন, ইস্কাপন_এগুলো তাস খেলার শব্দ। তাস খেলাটা ওলন্দাজরাই এ দেশে চালু করে কিনা। আর আজকের দিনে টেবিল, চেয়ার, শার্ট ইত্যাদি এমন অনেক ইংরেজি শব্দ বাংলায় এসে গেছে যে এদের আর ইংরেজি বলে মনেই হয় না। ইংরেজির মারফত পৃথিবীর অন্য দেশে অনেক শব্দও বাংলা ভাষায় আসছে। যাই হোক বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দ যত বেশি বলেই মনে হোক না কেন, দেশি অনার্য আর বিদেশি শব্দ মিলে, সংখ্যায় তারা শতকরা দশটির বেশি কিছুতেই হবে না। আর তা ছাড়া শব্দ দিয়েই একটা ভাষার বংশ বা বর্ণ জাতি ঠিক করা যায় না। এর জন্য আরো অনেক কিছু বিচার করতে হয়। আস্তে আস্তে সেসব বলা যাবে। রুবী বলল : ঠিক ...
পবিত্র বাংলাদেশে গণজাগরণ ও নজরুলের মহাবাণী
চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন
কালের কন্ঠ
২৯ মে, ২০১৩
দেবদেবী নাম মুখে আনে' বলে 'পাজিটার জাত মেরে' দিতে চেয়েছিলেন এবং 'লোকটা মুসলমান, না শয়তান'- এমন অশিষ্ট প্রশ্নও একসময়ে একান্ত অবলীলায় যাঁর বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছিলেন যাঁরা, তাঁরা কিংবা তাঁদের অব্যবহিত পরবর্তী উত্তরসূরিরা সেই কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানেই সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী কথা বলতে শুরু করে দেন, তাঁদের কাছে নজরুল তখন হয়ে যান একান্তভাবেই মুসলমান কিংবা মুসলিম পুনর্জাগরণের কবি। অথচ দুরারোগ্য ব্যাধিতে নজরুলের মূক হয়ে যাওয়ার আগেই যে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল, সেই পাকিস্তান তো তাঁর বিবেচনায় ...
সন্তানসম পালে যারা জমি তারা জমিদার নয়
চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন
কালের কন্ঠ
০১ মে, ২০১৩
চাষি ক্ষেতে চালাইছে হাল তাঁতি বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল- বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার তারি 'পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।'- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কথিত এই 'সমস্ত সংসার' মূলত বাংলাদেশেরই সংসার। বাংলা কৃষিপ্রধান দেশ, এই সর্বজনজ্ঞাত তথ্যেরই পরিপোষক কবিগুরুর বক্তব্য। চাষি, তাঁতি, জেলে- এরা সবাই সেদিন ছিল বাংলার কৃষকসমাজেরই অন্তর্ভুক্ত, এই কৃষকসমাজের মানুষদের শ্রমজাত সম্পদই ছিল এ ভূখণ্ডের সবার বাঁচার উপকরণ। বিশেষ করে এক সময়কার অবিভক্ত বঙ্গের যে অংশটুকু নিয়ে আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি গঠিত, সে ভূখণ্ডটি তো ...
বাঙালীর সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য
যেভাবে লেখা হলো
কালের কন্ঠ
০৮ ডিসেম্বর, ২০১০
১৯৮৭ সালের আগস্টে আমার 'বাঙালীর সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য' বইটি বেরোয় ইউপিএল থেকে। এর আগে বছর চারেক ধরে বইটি আমি রচনা করি। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের জয়জয়কার। এশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াজুড়ে সমাজতন্ত্রের প্রসার। কিন্তু আমাদের দেশের সে সময়কার কর্তৃত্বশীল শক্তি সমাজতন্ত্রকে 'বিদেশি মতবাদ' আখ্যা দিয়ে সমাজতান্ত্রিক ভাবনার বিরুদ্ধাচরণ করে চলেছে। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আদি সংবিধানটি রচিত হয়েছিল সমাজতন্ত্রকে অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ঘোষণা করে। আমি দীর্ঘকাল ধরেই সমাজতন্ত্রের অনুরাগী। মার্কস এঙ্গেলস্ যে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের উদ্গাতা, তারও ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
৩১ আগষ্ট, ২০১০
এ রচনার উদ্দেশ্য তোমাদের ব্যাকরণভীতি দূর করা, তোমরা যাতে বুঝতে পার যে ব্যাকরণের ভয়টা জুজুর ভয়ের মতোই ভুয়া বিভক্তির কেরামতি [পূর্বপ্রকাশের পর] তোমরা যাদের তৃতীয়া আর পঞ্চমী বিভক্তি বলছ, সেই 'দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হইতে, থেকে'ই নয় শুধু, আরো অনেক অব্যয় পদ অনুসর্গ হয়ে বিভক্তির কাজ চালায়। যেমন_চামেলি রুবীর চেয়ে লম্বা, পরের কারণে স্বার্থ বলি দাও, শিউলি ছাড়া আর কেউ লুলুর সঙ্গে ঝগড়া করে না, সত্য বই মিথ্যা বলবে না, রসিক বলে তার সুনাম আছে, পালকিতে করে মানুষ যায় কিন্তু যায় পথ দিয়ে_এসব বাক্যের 'চেয়ে, কারণে, ছাড়া, বই, বলে, করে, দিয়ে' এগুলোই অব্যয় জাতীয় শব্দ; কিন্তু বিভক্তির কাজ চালায় বলে অনুসর্গ। তিল হতে তৈল হয় দুধে হয় দৈ। ধানেতে তৈয়ার হয় মুড়ি চিঁড়া খৈ। ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৯ আগষ্ট, ২০১০
এই রচনার উদ্দেশ্য তোমাদের ব্যাকরণভীতি দূর করা, তোমরা যাতে বুঝতে পারো যে ব্যাকরণের ভয়টা জুজুর ভয়ের মতোই ভুয়া বিভক্তির কেরামতি [পূর্বপ্রকাশের পর] আমি বললাম, তা ছাড়া 'মানুষ' শব্দের প্রথমা বিভক্তির কথা বলতে গিয়ে বলছ 'মানুষ'। এতে বিভক্তি কোথায়? 'মানুষ' শব্দটিতে কোনো বিভক্তি যোগ না করেই বলছ প্রথমা বিভক্তি। এটাই বা কেমন হলো? এবার চামেলি আস্তে আস্তে বলে, 'আমাদের বইয়ে এ রকমই লেখা আছে, তা-ই আমরা পড়েছি।' ব্যাপারটা কী জানো? সংস্কৃত ব্যাকরণে প্রথমা থেকে সপ্তমী পর্যন্ত সাতটি বিভক্তি আছে। বাংলা ব্যাকরণ লিখতে গিয়ে সংস্কৃত পণ্ডিতরা ওই সাতটি বিভক্তিই আনতে চাইলেন। কিন্তু বাংলা ভাষায় তো সাতটি বিভক্তি নেই। তাই যা বিভক্তি নয়, তাকেও বিভক্তি বলে চালিয়ে দিতে হলো তাঁদের। যেমন ধরো, 'মানুষ' শব্দের প্রথমা বিভক্তি বলতে গিয়ে বলল 'মানুষ', এর সঙ্গে আসলে কোনো চিহ্ন বা বিভক্তি তো যোগ হলো না। সংস্কৃত ভাষায় কিন্তু তা নয়। 'মনুষ্য' শব্দে প্রথমা বিভক্তি হলো 'মনুষ্যঃ'। এই যে বিসর্গটি (ঃ), এটি এখানে প্রথমা বিভক্তির চিহ্ন। সংস্কৃত ...
বাংলা সাহিত্যের অলিখিত ইতিহাস
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৪ মে, ২০১০
উনিশ শতকের শেষ পর্বেই ঘটে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখার সূচনা। এই সূচনা পর্বে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন যিনি, তিনি আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন। আচার্য সেনই ময়মনসিংহের কেদারনাথ মজুমদার সম্পাদিত 'সৌরভ' পত্রিকার পাতায় নিভৃত পল্লীবাসী সারস্বত সাধক চন্দ্র কুমার দে-র লেখা পাঠ করে বাংলা সাহিত্যের এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পান। সেই দিগন্তই উন্মোচিত হয় চন্দ্র কুমার সংগৃহীত 'মৈমনসিংহ গীতিকা' ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'-র পল্লীগাথাগুলোতে। প্রায় সে সময়েই, অর্থাৎ বিশ শতকের শুরুতেই বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রাচীন নিদর্শন 'চর্যাপদ' আবিষ্কৃত হয় মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর হাতে। বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ আবিষ্কার করেন বড়ু চণ্ডীদাস রচিত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'-এর পুঁথি। এই দুটো আবিষ্কার বাংলা সাহিত্যের ভিত্তিমূল নির্মাণে অসাধারণ অবদান রাখে। সেই ভিত্তিকে দৃঢ়তর করে তোলেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। প্রায় আধুনিককালের বাংলা সাহিত্যের বিরাট পুঁথির ভাণ্ডার আবিষ্কারের কৃতিত্ব মূলত সাহিত্যবিশারদ সাহেবেরই। সেকালের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান সম্পর্কে আমরা স্পষ্ট ধারণা করে নিতে পারি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কর্তৃক আবিষ্কৃত পুঁথি থেকেই। এ বিষয়ে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহও অনেক মূল্যবান তথ্যের আবিষ্কর্তা। ...
বাংলা সাহিত্যের অলিখিত ইতিহাস
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৪ মে, ২০১০
উনিশ শতকের শেষ পর্বেই ঘটে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখার সূচনা। এই সূচনা পর্বে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন যিনি, তিনি আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন। আচার্য সেনই ময়মনসিংহের কেদারনাথ মজুমদার সম্পাদিত 'সৌরভ' পত্রিকার পাতায় নিভৃত পল্লীবাসী সারস্বত সাধক চন্দ্র কুমার দে-র লেখা পাঠ করে বাংলা সাহিত্যের এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পান। সেই দিগন্তই উন্মোচিত হয় চন্দ্র কুমার সংগৃহীত 'মৈমনসিংহ গীতিকা' ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'-র পল্লীগাথাগুলোতে। প্রায় সে সময়েই, অর্থাৎ বিশ শতকের শুরুতেই বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রাচীন নিদর্শন 'চর্যাপদ' আবিষ্কৃত হয় মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর হাতে। বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ আবিষ্কার করেন বড়ু চণ্ডীদাস রচিত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'-এর পুঁথি। এই দুটো আবিষ্কার বাংলা সাহিত্যের ভিত্তিমূল নির্মাণে অসাধারণ অবদান রাখে। ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৯ মে, ২০১০
[পূর্ব প্রকাশের পর] : 'কিন্তু ব্যাকরণ বিজ্ঞান হলো কী করে?'_চামেলির সন্দেহ রয়েই গেছে। জিজ্ঞেস করলাম, 'তার আগে বলো তো, বিজ্ঞান কাকে বলে।' : 'বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান।' চামেলির উত্তর। : 'হ্যাঁ, বিশেষ জ্ঞান বটে। কিন্তু কথাটাকে বুঝিয়ে না বললে তো বিজ্ঞানের অর্থ পরিষ্কার হবে না। আমরা আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা জিনিসের যে জ্ঞান লাভ করি, তাই সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজিতে যাকে বলে জেনারেল নলেজ। কিন্তু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে সে জিনিসটির স্বরূপ বিশেষভাবে বুঝতে পারি যখন, তখনই তা হয় বিশেষ জ্ঞান। যেমন ধরো, জল জিনিসটাকে তো আমরা সবাই চিনি। জল আমাদের পিপাসা মেটায়, ফসলের জন্য জলের প্রয়োজন, বৃষ্টি হলে আমরা জল পাই, খাল, বিল, নদী, পুকুর ইত্যাদিতে জল থাকে':_এসবই হলো জল সম্পর্কে আমাদের সাধারণ জ্ঞান। আর জলের মধ্যে পাই হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এক শ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উত্তাপে জল বাষ্প হয়ে যায়, শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে জমে বরফ হয় ইত্যাদি জ্ঞান হলো জল সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান মানে বিজ্ঞান। কোনো বস্তু ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৯ মে, ২০১০
[পূর্ব প্রকাশের পর] : 'কিন্তু ব্যাকরণ বিজ্ঞান হলো কী করে?'_চামেলির সন্দেহ রয়েই গেছে। জিজ্ঞেস করলাম, 'তার আগে বলো তো, বিজ্ঞান কাকে বলে।' : 'বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান।' চামেলির উত্তর। : 'হ্যাঁ, বিশেষ জ্ঞান বটে। কিন্তু কথাটাকে বুঝিয়ে না বললে তো বিজ্ঞানের অর্থ পরিষ্কার হবে না। আমরা আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা জিনিসের যে জ্ঞান লাভ করি, তাই সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজিতে যাকে বলে জেনারেল নলেজ। কিন্তু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে সে জিনিসটির স্বরূপ বিশেষভাবে বুঝতে পারি যখন, তখনই তা হয় বিশেষ জ্ঞান। যেমন ধরো, জল জিনিসটাকে তো আমরা সবাই চিনি। জল আমাদের পিপাসা মেটায়, ফসলের জন্য জলের প্রয়োজন, বৃষ্টি হলে আমরা জল পাই, খাল, বিল, নদী, পুকুর ইত্যাদিতে জল থাকে':_এসবই হলো জল সম্পর্কে আমাদের সাধারণ জ্ঞান। আর জলের মধ্যে পাই হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এক শ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উত্তাপে জল বাষ্প হয়ে যায়, শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে জমে বরফ হয় ইত্যাদি জ্ঞান হলো জল সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান মানে বিজ্ঞান। কোনো বস্তু ...
যা পড়ছি যা লিখছি
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৮ অক্টোবর, ২০১০
বর্তমানে আমি মারাত্মক 'আর্থ্রাইটিস' ব্যাধিতে আক্রান্ত। লেখালেখি প্রায় করতেই পারি না। পড়তেও কষ্ট হয়। তবুও না পড়ে থাকতে পারি না বলে সব সময়ই কোনো না কোনো বই পড়তে চেষ্টা করি। নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ীর 'কলিযুগ' বইটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের 'অক্ষয়কুমার দত্ত ও উনিশ শতকের বাঙলা' বইটি পড়তে পড়তে উনিশ শতকের বঙ্গীয় রেনেসাঁস সম্পর্কে আমি নতুন করে ভাবছি। কয়েক বছর আগে মুহম্মদ সাইফুল ইসলামেরই 'সংস্কৃতি সাধক মোতাহের হোসেন চৌধুরী' বইটিও আমার চিন্তাকে বিশেষ নাড়া দিয়েছিল। এই তরুণ লেখকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি খুবই আশাবাদী হয়ে উঠেছি। ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৫ অক্টোবর, ২০১০
এ রচনার উদ্দেশ্য তোমাদের ব্যাকরণভীতি দূর করা, তোমরা যাতে বুঝতে পারো যে ব্যাকরণের ভয়টা জুজুর ভয়ের মতোই ভুয়া। শব্দের অর্থবদল [গতকালের পর] "বলাবাহুল্য, ব্যাঘ্র পাণিনির সূত্রকে থোড়াই পরোয়া করল। পণ্ডিত মশাইর শুধু ঘ্রাণ নয়, প্রাণ নিয়ে ছাড়ল। "আসল ব্যাপারটা কী? শব্দের ব্যুৎপত্তিটা জানলেই শুধু হবে না, তার ব্যবহারিক অর্থটা জানতে হবে। 'ব্যাঘ্র' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'বিশেষ করে ঘ্রাণ নেয় যে'_এ কথা ঠিক। কিন্তু তার ব্যবহারিক অর্থ হলো 'এক প্রকার হিংস্র জন্তু'। এ রকম অনেক শব্দ আছে, যেগুলোর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১০
এ রচনার উদ্দেশ্য তোমাদের ব্যাকরণভীতি দূর করা, তোমরা যাতে বুঝতে পারো যে ব্যাকরণের ভয়টা জুজুর ভয়ের মতোই ভুয়া। শব্দের অর্থ বদল চামেলিও সমান জোরের সঙ্গে বলে। 'যেসব শব্দকে ভাঙা যায় না, সেগুলোই মৌলিক শব্দ। যেমন_মা, ভাই, উট, সাপ, নাক, বউ ইত্যাদি। আর যেসব শব্দ ভাঙতে পারা যায়, এক শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দ যোগ করে কিংবা মৌলিক শব্দের সঙ্গে উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে যেসব শব্দ তৈরি করা হয়, সেগুলোকে বলে সাধিত শব্দ। যেমন হাতপাখা, অবহেলা, বাবুগিরি, বিদ্যালয় ইত্যাদি। প্রত্যয়, উপসর্গ, সন্ধি, সমাস দিয়ে সাধিত শব্দ বানানোর অনেক কায়দা-কানুনের কথাই তো আপনি বলেছেন।' রুবীও প্রতিবাদের সুরে বলে, 'তা তো বলেছেনই বুঝলাম। কিন্তু শব্দ যে পাঁচ রকম, সে কথা কি মিথ্যা?' 'না, মিথ্যা নয়।' আমি বলি। 'আর এ কথাও মিথ্যা নয় যে শব্দ তিন রকম_যৌগিক শব্দ, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ, যোগরূঢ় শব্দ।' 'বাঃ! এবার তো তাহলে আরো মজা হলো। বাংলা শব্দ পাঁচ রকম_এটাও ঠিক, দু'রকমও ঠিক, তিন রকমও ঠিক। পণ্ডিতরা যা ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
২৫ আগষ্ট, ২০১০
আমি বললাম, সন্ধি অবশ্যই হয়। কিন্তু সেসবের নিয়ম আলাদা, সংস্কৃতের সঙ্গে মেলে না। তা ছাড়া একই রকম দুটি ধ্বনি পাশাপাশি থাকলে সংস্কৃতে যেখানে সন্ধি না হয়েই পারে না, বাংলায় সেখানে সব ক্ষেত্রে সন্ধি না-ও হতে পারে। পাশাপাশি দুয়ের বেশি শব্দেও যদি ধ্বনির মিল থাকে, তাহলে সন্ধি হয়ে সবগুলো শব্দ একত্র হয়ে যায়, হয়ে যায় একটা বিরাট শব্দ। যেমন_ক্ষিতি, অপ্, তেজ_এ তিনটি শব্দ বাংলা ভাষায় আলাদা আলাদাই ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সংস্কৃতে এই তিনটি শব্দ পাশাপাশি এলে সন্ধি হয়ে একটা শব্দে পরিণত হয়ে তার রূপটা হবে এ রকম 'ক্ষিত্যপ্তেজ'। খাঁটি বাংলা ভাষায় যে সন্ধি হয় না, তা নয়। তাড়াতাড়ি কথা বলার সময় পাশাপাশি ধ্বনিগুলোর সন্ধি হয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রেই। যেমন_'পাঁচ সের' কথাটি তাড়াতাড়ি বলার সময় হয়ে যায় 'পাঁশ্সের'। আসলে এখানে সন্ধি হয়ে গেল। তেমনই 'পাঁচ জন, রাত দিন, সাত জন, হাত ছানি, ঘোড়ার ডিম, জলের টব_এসবের উচ্চারণ সন্ধির ফলেই হয়ে যায় 'পাঁজ্জন, রাদ্দিন, সাজ্জন, হাচ্ছানি, ঘোড়াড্ডিম, জলেট্টব'। ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
১৮ আগষ্ট, ২০১০
[পূর্বপ্রকাশের পর] রুবী বলল, 'তা-ই যদি হয়, তবে ব্যাকরণে সম্প্রদান কারকের কথা বলা হলো কেন?' আমি বললাম, সংস্কৃত পণ্ডিতরা যখন বাংলা ব্যাকরণ লেখেন, তখন সংস্কৃতের হুবহু নকল করতে গিয়ে বাংলায়ও সম্প্রদান কারক ঢুকিয়ে দিয়েছেন। সংস্কৃতে কর্মকারক বোঝাতে যে বিভক্তিটি ব্যবহার করা হয় সেটি হলো দ্বিতীয়া বিভক্তি, আর সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি। সে ভাষায় বাস্তবিকই সম্প্রদান বলে আলাদা একটা কারক ছিল। কিন্তু বাংলায় এমন কোনো বিভক্তির চিহ্ন নেই, যা দিয়ে সম্প্রদান বলে কোনো কারককে কর্মকারক থেকে আলাদা করা যায়। তাই সংস্কৃত পণ্ডিতদের দেওয়া সম্প্রদান কারকটিকেও বাংলা ভাষায় মেনে নেওয়া যায় না। এটি আসলে কর্মকারকই। এবার রুবী বলে, 'এত সব পাণ্ডিত্যের কচকচি দিয়ে আমার দরকার নেই। একটা কারক কমল, অনেকটা ঝামেলার হাত থেকে বাঁচা গেল_এটুকুই আমাদের লাভ।' ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
১৫ আগষ্ট, ২০১০
[পূর্বপ্রকাশের পর] 'আমাদের সব কথাতেই তোমাদের কিছু না কিছু আপত্তি থাকবেই। আমাদের সব কিছুতেই ভুল না ধরতে পারলে তোমার পেটের ভাতই হজম হয় না।' রুবী অভিমানে গাল ফুলিয়ে বসে। চামেলি জিজ্ঞেস করে, 'আপত্তিটা কিসের?' আমি বললাম, 'যদি বলি 'চামেলি রুবীকে গল্পের বইটি দিয়েছে'_তা হলে এখানে সম্প্রদান কারক কোনটি?' চামেলি বলল, 'কেন? 'রুবীকে'ই তো সম্প্রদান কারক। কারণ রুবীকে বইটি দেওয়া হয়েছে একেবারে স্বত্ব ত্যাগ করে, ফিরে পাওয়ার আশা না করে। 'রুবীকে বইটি ধার দিয়েছে, বললে 'রুবীকে' সম্প্রদান কারক হতো না। কারণ ধার দেওয়া তো আর স্বত্ব ত্যাগ করে দেওয়া নয়।' ...
বাংলা শেখার আসর
একই ভাষার কত রূপ
কালের কন্ঠ
১৯ জুন, ২০১০
সবে কথা শুরু করতে যাব, অমনি কানে এল : এই যে দিদিমণি, মায়ে রে এট্টু ডাইক্যা দেইন। তাকিয়ে দেখি দুধওয়ালা। রুবিকে উদ্দেশ করেই কথাটা বলেছে। রুবি বলল : 'মা তো বাসায় নেই মামার বাড়ি বেড়াতে গেছেন। দুধওয়ালা বলল : কিন্তুক আমারে যে আইজ দুদের দাম দ্যাওনের কতা। : হঠাৎ করে একটা খবর পেয়ে আজ সকালেই চলে গেছেন। তাড়াহুড়ার মধ্যে হয়তো বাক্সের চাবি রেখে যেতে মনে ছিল না। তুমি বরং পরশু এসে দামটা নিয়ে যেয়ো। : বর ঠ্যাহা আছিল। আইজই পাইলে বালা অইত। আচ্ছা, কী আর করমু। বাসুন আইন্যা দুদটা রাইখ্যা দেইন। পরশু দিন ট্যাহাডা না পাইলে কিন্তুক আমার খুব অসুবিধা অইব। রুবি ঘর থেকে বাসন এনে দুধ রাখে। দুধ মেপে দিয়ে চলে যাওয়ার সময় দুধওয়ালা আবার বলে : মনে রাহুইন যে দিদিমণি, মাইয়াডার পিন্দনের কাপরডা এক্কেবারে ছিইর‌্যা গ্যাছে। ট্যাহাডা না পাইলে তার একটা কাপড় আর কিনা অয় না। কিন্তুক মা যদি পরশু দিনও না আইউইন? ...
বাংলা শেখার আসর
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৯ মে, ২০১০
[পূর্ব প্রকাশের পর] : 'কিন্তু ব্যাকরণ বিজ্ঞান হলো কী করে?'_চামেলির সন্দেহ রয়েই গেছে। জিজ্ঞেস করলাম, 'তার আগে বলো তো, বিজ্ঞান কাকে বলে।' : 'বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান।' চামেলির উত্তর। : 'হ্যাঁ, বিশেষ জ্ঞান বটে। কিন্তু কথাটাকে বুঝিয়ে না বললে তো বিজ্ঞানের অর্থ পরিষ্কার হবে না। আমরা আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা জিনিসের যে জ্ঞান লাভ করি, তাই সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজিতে যাকে বলে জেনারেল নলেজ। কিন্তু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে সে জিনিসটির স্বরূপ বিশেষভাবে বুঝতে পারি যখন, তখনই তা হয় বিশেষ জ্ঞান। যেমন ধরো, জল জিনিসটাকে তো আমরা সবাই চিনি। জল আমাদের পিপাসা মেটায়, ফসলের জন্য জলের প্রয়োজন, বৃষ্টি হলে আমরা জল পাই, খাল, বিল, নদী, পুকুর ইত্যাদিতে জল থাকে':_এসবই হলো জল সম্পর্কে আমাদের সাধারণ জ্ঞান। আর জলের মধ্যে পাই হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এক শ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উত্তাপে জল বাষ্প হয়ে যায়, শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে জমে বরফ হয় ইত্যাদি জ্ঞান হলো জল সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান মানে বিজ্ঞান। কোনো বস্তু ...
মাতৃভাষার সম্মান রক্ষা হোক
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০৪ ফেব্রেুয়ারী, ২০১০
আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি ১ মের মতোই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্তিতে বাঙালি হিসেবে আমরা অবশ্যই গৌরবান্বিত। কিন্তু সেই সঙ্গে মনে রাখা দরকার, সেই গৌরব রক্ষা করার মূল দায়িত্বও আমাদের ওপরই বর্তেছে। আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করতে হবে : 'আমরা কি সেই গৌরব রক্ষায় যথার্থ যত্নবান হয়েছি? নাকি আমরা এ প্রাপ্তিতেই পরম আত্দপ্রসাদে নিমজ্জিত হয়ে গেছি?' প্রশ্ন দুটির উত্তর যে খুব ইতিবাচক হবে তেমনটি কিছুতেই মনে ...
বইমেলায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কন্ঠ
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১০
আমরা যারা রাজধানীর বাইরে থাকি তারা অমর একুশে গ্রন্থমেলার জন্য উৎসুক থাকি অবশ্যই। তবে যেমন আমার কথা বলছি, ঢাকায় গিয়ে আমার বেশিদিন থাকা সম্ভব হয় না। তাই কয়েক দিনের মধ্যে বইমেলার আস্বাদ পূর্ণভাবে উপভোগ করা যায় না। তবে যতদিনই থাকি অনেক লেখকের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। কুশলবিনিময় হয়। আড্ডাও হয় কখনো কখনো। এটি বইমেলা থেকে আমার জন্য বড় পাওনা। আমরা যারা মফস্বলে থাকি, তারা সারা বছর বই সংগ্রহ করতে গিয়ে খুব বেকায়দায় পড়ি। প্রকাশকদের সঙ্গে মফস্বলের বই বিক্রেতাদের সুসম্পর্ক বোধহয় আজও স্থাপিত হয়নি। এটা হওয়া দরকার। মফস্বলের বইয়ের দোকানগুলোতে ঢাকার প্রকাশকরা যাতে নিয়মিত বই সরবরাহ করেন তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ বিষয়টির দিকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের নজর দেওয়া উচিত নয় কি? তা না হলে বইয়ের প্রচার ও পাঠকের বিস্তৃতি ঘটবে কী করে? বিশেষ করে বাংলা একাডেমীর বই একাডেমীর বিক্রয় কেন্দ্রের বাইরে অন্য কোথাও পাওয়ার উপায় নেই। বইয়ের খবরাখবর নিয়মিত পাঠকদের কাছে পেঁৗছে দেওয়ার কোনো গরজ যেন আমাদের সরকারের নেই, প্রকাশকদের ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩