কলামিস্টদের নাম
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এর কলামগুলো

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদ
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কণ্ঠ
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
ব্রিটিশ-ভারতে পরাধীনতার অপমান সহ্য করতে না পেরে বহু বিপ্লবী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। ভিপি, যুগান্তর, অনুশীলন বা গদর পার্টি বিদেশি শাসকদের হত্যার প্রয়াসের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম চালিয়ে যায়। ব্রিটিশ আমলে ১৮৭২ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড মেয়ো যখন আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার পরিদর্শন করতে যান, তখন শের আলী নামে এক পাঠান দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি তাঁকে হত্যা করেন। এরপর হত্যার ব্যর্থ প্রয়াসে প্রাণ দেন বা প্রাণদণ্ড ভোগ করেন সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল-দীনেশ, বাঘা যতীন, ভগৎ সিং-সুখদেব-রাজগুরুসহ অনেকে। ...
হত্যার জন্য আত্মহত্যা
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কণ্ঠ
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
আত্মঘাতী সন্ত্রাসীকর্ম একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার। রোগে-শোকে-দুঃখে আত্মসম্মান বাঁচাতে বা মর্যাদাহানিতে মর্মবেদনায় মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে। সম্রাটের মর্যাদা রক্ষায় জাপানি কামিকাজে পাইলটরা নিজের জীবন উৎসর্গ করে টার্গেটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন। সাহসী সামুরাইরা আত্মসম্মানের জন্য হারাকিরি করতেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভ্রান্ত মহিলারা আত্মসম্মানহানির ভয়ে জওহরব্রত করতেন। বাংলাদেশে হিন্দু বিধবা রমণীরা এক সময় সতীদাহে নিজেকে উৎসর্গ করতেন। আত্মঘাতী সন্ত্রাসে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ- পূর্বনির্ধারিত ফলাফল অর্জনের জন্য হত্যা, আঘাত, ক্ষতিসাধন বা ভয় প্রদর্শনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার ব্যাপারটা মূলত একজনের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ...
সুশাসনের প্রশ্নে..
কলাম
কালের কণ্ঠ
৬ জানুয়ারি ২০১৩
একটি রাষ্ট্রের কিছু সার্বভৌম অধিকার আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সেই অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়- নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা। এই তিন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পৃথক্করণের কথা বলা হয়েছে, যেন কোনো একটি বিভাগ অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করে তুলতে না পারে। রাষ্ট্রক্ষমতার এই হরাইজন্টাল বা সমান্তরাল পৃথক্করণের পাশাপাশি ভার্টিক্যাল বা উল্লম্ব পৃথক্করণের কথা আলোচিত হচ্ছে। যেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রের শীর্ষবিন্দু থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রক্ষমতার এমন বিন্যাস করতে হবে, ...
এসো অবগাহন করি মৈত্রীর করুণাধারায়
কবিতা
প্রথম আলো
০৯ অক্টোবর ২০১২
রাজার দুলাল শোক-দুঃখ জরা মৃত্যু দেখে দারাপুত্রপরিবার ফেলে করালদর্শন আতঙ্কবাজ মারের ভীতিপ্রদর্শন মিষ্টিমুখ মারের ছলনা-প্রলোভন প্রতিহত করে অবশেষে বোধিলাভ করেন বোধগয়ার পিপুল বৃক্ষতলে। আশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে যে দুর্লভ মানবজন্ম পাঁচশ পঞ্চাশবার সেই মানবজন্ম পরিগ্রহ করে জাতক যে অভিজ্ঞান বর্ণনা করেন সে তো সব অতীতের কথা— তবে তাতে দেশনা আছে বটে। ...
বিশ্বপ্রেস স্বাধীনতা দিবস ২০১২: বাংলাদেশ প্রেক
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২০/০৫/২০১২
প্রেস-স্বাধীনতার মৌলিক আদর্শগুলো চিহ্নিত করে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ৩ মে আফ্রিকার নামিবিয়ার উইন্ডহোয়েক শহরে ইউনেস্কো ও ইউএনডিপিআই-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ডিক্ল্যারেশন অব উইন্ডহোয়েক ঘোষণাটির মুসাবিদা হয়। ১৯৯৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩রা মে-কে বিশ্ব প্রেস-স্বাধীনতা দিবস হিসেবে এক ঘোষণা দেয়। আজ আমরা ষোলো দিন পর দিবসটি উদযাপন করছি। প্রেস-স্বাধীনতা কীভাবে লঙ্ঘিত বা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কোন কোন সাংবাদিক স্বীয় কর্তব্য পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বা কারাবরণ করেছেন সেসব তথ্য জনগণকে জানানোও এই ...
বাংলাদেশের মণিপুরী সম্প্রদায়
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১১/০২/২০১২
মহাভারতে বর্ণিত আছে যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পঞ্চপর্বত-বেষ্টিত মণিপুর রাজ্য নৃত্যগীতে পারদর্শী ‘গন্ধব’ নামে একটি জাতি বাস করত। সেই জাতির নামানুসারে সেদেশের আদিনাম ‘গন্ধর্ব রাজ্য’। একসময় ‘মেখলী’ বলেও খ্যাত ছিল। অসমীয়রা একে ‘মগলু’ এবং ব্রহ্মদেশীয়রা একে ‘কতে’ বলত। মণিপুর নামকরণের পেছনে একটা পৌরাণিক কাহিনি আছে। একদা দেবী দুর্গা মহাদেবের প্রেমে আসক্ত হয়ে আনন্দচিত্তে লীলা ও কীর্তন করার জন্য মহাদেবকে অষ্টপর্বত পরিবেষ্টিত অরণ্যময়, কুসুমে নর্তন সুরভিত এক উপত্যকা ভূমিতে উপনীত হন। বর্তমান মণিপুর ও লোকতাক হ্রদ। মহাদেব ত্রিশূলাঘাতে পর্বত ছিদ্র করে ...
ইংরেজের আইন ও রবীন্দ্রনাথ
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৭/০৬/২০১১
সমাজ রক্ষা করতে কিছু রীতিনীতি মানতে হয়। রাজ্য বা রাষ্ট্রের জন্য আইনের প্রয়োজন রয়েছে। সমাজের রীতিনীতি, বিধির বিধান ও মনুষ্যপ্রণীত আইন হচ্ছে দেশের আইনের উৎস। বাংলাদেশের আইনে অনার্য্য, আর্য্য, তুরস্ক, ইংরেজ নানাজাতির আইনি পলি পড়েছে। ‘বাংলায় সংবিধান’ বক্তৃতায় আমি বলি, ‘আইন’, ‘কানুন’, ‘আদালত’, ‘ইনসাফ’–এই শব্দগুলো আটশ বছর আগে আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল না। আইন-কানুন–এই দ্বিপদী শব্দ আইন শ্রেণীবাচক বা আইনের বহুবচন হিসাবে এখন ব্যবহার হচ্ছে। ‘আইন’ ফার্সি শব্দ। ‘কানুন’ আরবি, গ্রিক ‘কানুন’-এর সঙ্গে শব্দটির সাদৃশ্য রয়েছে। ‘অ্যাক্ট’, ‘ইক্যুটি’, ‘রুল’, ...
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হোক বিষমুক্ত এবং সাশ্রয়ী
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
০৩/০২/২০১১
একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে বাংলাদেশ আজ এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে, মুক্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ডাক দেন, তাতে দেশের লোক অনুপ্রাণিত। দেশের সাধারণ লোক অ্যানালগ-ডিজিটালের পার্থক্য বিচার করতে পারে না বটে, কিন্তু সোনার বাংলা সম্বন্ধে তাদের একটা মোটামুটি ধারণা আছে। সোনার বাংলা হবে একটা সমৃদ্ধ দেশ। সেই সমৃদ্ধির অন্যতম শর্ত যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির একটা সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। সেই সমৃদ্ধির রূপায়ণ ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল ...
নারী-স্বাধীনতা
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
০৩/১২/২০১০
আমাদের মৌখিক ঐতিহ্য প্রবাদ প্রবচনে নারী প্রসঙ্গে দুটো কথা আছে। একটি শ্রদ্ধার, নারী মায়ের জাত। আর একটি অনুকম্পার, নারী পরের ভাগ্যে খায়। যেখানে নারী নিজের ভাগ্যে খায় আর পুরুষ নারীর ভাগ্যে বা তার অর্জনে খায় সেখানে কেবল পুরুষতন্ত্রের মহিমায় কোনো পুরুষ কি ঊর্ধ্বতন মর্যাদা দাবি করতে পারবে? লীয়মান সামান্য কিছু মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র পুরুষতন্ত্র বিরাজ করে এসেছে। দেশভেদে তারতম্য থাকলেও পুরুষদের ধারণা দেওয়া হয় যে, তারা নারীদের ঊর্ধ্বতন এবং নারী তাদের অধঃস্তন ব্যক্তি।  পাশা খেলায় পণ, ...
আমাদের নাট্যান্দোলন ও আরণ্যক
উৎসব
প্রথম আলো
২৭ জানুয়ারি ২০১৩
আমরা মঞ্চকে স্কুল বানাইনি। মঞ্চ আদর্শ বা মতবাদ প্রচারের বিদ্যালয় নয়। ধর্মকথা শেখানোর জন্য গির্জা নয়। জিহাদ শেখানোর জন্য মেহরাব নয়। তবে মঞ্চ-মেহরাব থেকে আদর্শ, মতবাদ, ন্যায়নীতির কথা আবার মানুষ শুনতেও চায়। মঞ্চে লোকে হাসতে আসে, না নাট্যচর্চার সমালোচনার জন্য হাজির হয়, না হালফ্যাশনের হুজুগের বশবর্তী হয়ে কৌতূহল মেটাতে আসে, তা বলা মুশকিল। যারা নাট্যকার বা নাট্যের সমঝদার, তারা নাটকের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে নানা কথা বলে। শুধু এই দিনে নয়, আদিকাল থেকে। অনেকে বলেন, নাটকের একটা সামাজিক কর্ম বা কর্তব্য রয়েছে। সমাজকল্যাণে নিবেদিত নাট্যকার মনে করেন, তাঁর কাজ অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগানো, দুর্গতি-হতাশার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় সাহস জোগানো, প্রতিরোধক্ষমতা জাগানো, উদ্বুদ্ধ করার জন্য মস্তকোপরি হস্ত উত্তোলন করে আত্মসমর্পণ না করে সেই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শক্তি অর্জন করে প্রতিরোধ করার জন্য। একদিক থেকে আমরা সবাই নাট্যকর্মী। ...
সুশাসনের বিকল্প নেই
গণতান্ত্রিক উত্তরণ
সমকাল
৭ জানুয়ারি ২০১৩
একটি রাষ্ট্রের কিছু সার্বভৌম অধিকার আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সেই অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়_ নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা। এই তিন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পৃথক্করণের কথা বলা হয়েছে। যেন কোনো একটি বিভাগ অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করে তুলতে না পারে। রাষ্ট্রক্ষমতার এই হরাইজন্টাল বা সমান্তরাল পৃথক্করণের পাশাপাশি ভার্টিক্যাল বা উলম্ব পৃথক্করণের কথা আলোচিত হচ্ছে। যেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রের শীর্ষবিন্দু থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রক্ষমতার এমন বিন্যাস করতে হবে, যেখানে স্বায়ত্তশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়, উভয় সরকারের সুপরিচালনায় সমৃদ্ধ হতে পারে। আমরা গত ৪১ বছরে স্বাধীনতা অর্জনের দিন থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারকে অবহেলা করে এসেছি। নির্বাচিত লোকের দ্বারা স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়ার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের নায়েব-গোমস্তা-মুৎসুদ্দিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ধারণা, স্থানীয় সরকার একটি বিজাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং সেই প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় হতে দিলে অদক্ষ হস্তে দেশের অর্থের অপচয় ঘটবে। এমন কথা অতীতে ঔপনিবেশিক ...
সুশাসনের জন্যক্ষমতার ভারসাম্য জরুরি
গণতান্ত্রিক উত্তরণ
প্রথম আলো
৬ জানুয়ারি ২০১৩
একটি রাষ্ট্রের কিছু সার্বভৌম অধিকার আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সেই অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়—নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা। এই তিন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পৃথক্করণের কথা বলা হয়েছে। যেন কোনো একটি বিভাগ অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করে তুলতে না পারে। রাষ্ট্রক্ষমতার এই হরাইজন্টাল বা সমান্তরাল পৃথক্করণের পাশাপাশি ভার্টিকাল বা উলম্ব পৃথক্করণের কথা আলোচিত হচ্ছে। যেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রের শীর্ষবিন্দু থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রক্ষমতার এমন বিন্যাস করতে হবে, যেখানে স্বায়ত্তশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়, উভয় সরকারের সুপরিচালনায় সমৃদ্ধ হতে পারে। আমরা গত ৪১ বছরে স্বাধীনতা অর্জনের দিন থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারকে অবহেলা করে এসেছি। ...
দুর্নীতি ঠেকাতে পহেলা রাতে বিল্লি মারতে হবে
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
০১/০৪/২০১২
১৯৭১ সালে আমরা অত্যাচার ও উৎপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বশেষ উপায় হিসেবে বিদ্রোহ করি। এই বাক্যের আটটি শব্দ ১৯১৮ সালের মানবাধিকারের ঘোষণা থেকে নেওয়া। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি বিরোধী আইন এবং ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার মধ্যে বছরখানেকের ব্যবধান ছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানের পর দেশের পুনর্গঠনকল্পে সরকারি অর্থ পরিব্যয় ও টাকা পয়সার লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিকাশ ঘটতে পারে এই দুর্ভাবনায় দুর্নীতি দমন আইন পাস করা হয়। দেশ ভাঙ্গা ও দেশ গড়ার ফলে দুর্নীতিবাজদের সম্মুখে এক মহোৎসব দেখা দেয়। ...
আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সিলেটের পরিবেশ
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৬/০১/২০১২
আমাদের চতুষ্পার্শ্বস্থ অবস্থান হচ্ছে আমাদের পরিবেশ। মৃত্তিকা, জলবায়ু, গাছপালা এবং জন্তু-জানোয়ার যেসবের সমাহারে আমাদের পৃথিবীটা গড়ে উঠেছে, তাদের সামগ্রিক অবস্থানকেও সাধারণভাবে আমরা পরিবেশ বলে থাকি। সদর্থে শুধু আমাদের বাইরের অবস্থান নয়, আমাদের স্বীয় অবস্থানও পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। পরিবেশদূষণ বলতে আমরা অনেক সময় আমাদের বাসস্থানের বাইরে জল বা বায়ুর দূষণ বোঝালেও শব্দটি আমাদের ঘরের অভ্যন্তরের এবং ঘরের বাইরের দূষণকেও বোঝায়। প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের চেয়েও বেশী অনুভূতিপ্রবণ ও স্পর্শকাতর। পরিবেশের রাগ-অভিমানের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনে নানা ট্যাবু বা ...
মাতৃভাষার পক্ষে
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২১/০২/২০১১
নাম ছাড়া কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই। আল্লাহ আদমকে বিভিন্ন জিনিসের নাম শিখিয়েছিলেন। আগুনের তৈরি ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা শয়তান মাটির তৈরি আদিপুরুষ আদমের কাছে নামের খেলায় হেরেছিলেন। তারপরেও নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের অপরাধে আদমকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিলো। কারো মনে কোনো বিষয় বা বস্তু সম্পর্কে ধারণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই বস্তুর একটি অবয়ব তিনি দেখতে পান, বোধ করেন বস্তু সংশ্লিষ্ট শব্দঝংকার। ঋকবেদে বলা হয়েছে, “মাতৃভূমি, নিজের সংস্কৃতি ও মাতৃভাষার প্রতি প্রত্যেকের শ্রদ্ধা রাখা উচিত। কারণ সেগুলো আনন্দ দেয়।” অথর্ববেদে বলা আছে, “মাতৃভাষা ...
জাগো যুববন্ধুরা, মুক্তির সংগ্রামে
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৯/১২/২০১০
আমরা এ বছরটা ভালোই কাটালাম। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং শিশুমৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে কলেরা ও যক্ষা রোগনির্ণয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁরা ডায়ারিয়া প্রতিরোধে শিশুদের জন্য টিকা আবিষ্কার করেছেন। কৃষিবিজ্ঞানীরা পাটের জিনোম এবং খরাবান্ধব ধানবীজ আবিষ্কার করেছেন। আমাদের ক্রিকেটাররা দেশবিদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেছেন। বঙ্গসন্তানেরা বিদেশে সুকর্ম করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। ফটিকছড়ির ছেলে ড. শুভ রায় কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেছেন। ২৩ মে ২০১০ ভোর ৫টা ৫ মিনিটে মুসা ...
উন্নয়ন ও সংস্কৃতি
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২৭/১১/২০১০
উন্নয়নের যেসব ধ্যানধারণা এবং কর্মকাণ্ডে বাইরে থেকে আমরা উদ্বেলিত হচ্ছি তা আমাদের ভেতরে আত্মস্থ ও সংহত করতে হবে আমাদের সংস্কৃতির সহযোগে। আমি আমার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা বক্তৃতায় বলি, ”উন্নয়ন হচ্ছে এক গুঞ্জন-শব্দ, গতি, অগ্রগতি ও প্রগতির দ্যোতক। উন্নয়নের সনাতনী তত্ত্ব অবকাঠামোগত ও বস্তুগত উন্নয়ন নিয়ে। উৎপাদন বৃদ্ধি, ভোগ ও পুঁজি ছিল মূল কথা। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক পর্যন্ত উন্নয়নের ধারণা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল। জাতিসংঘ উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নকে সহায়তাদানের উদ্দেশ্যে ষাটের দশককে উন্নয়ন দশক হিসেবে ঘোষণা দেয়। ক্রমে ...
জাতীয় আইনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রয়োগ
উপ-সম্পদকীয়
কালের কন্ঠ
২১শে মার্চ, ২০১৩
বাংলাদেশ ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের এবং তার আগে ব্রিটিশ-ভারত সাম্রাজ্যের এক অংশ ছিল। এ দেশের আইনে বিভিন্ন প্রভাব রয়েছে। বেশির ভাগ অধিকার ও কার্যপ্রণালির আইন সংহিতাবদ্ধ এবং সেগুলো ইংলিশ কমন ল-এর বিধিনিয়ম দ্বারা প্রভাবান্বিত। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও অভিভাবকত্বের বিষয়ে মুসলিম ও হিন্দু নাগরিক তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইন দ্বারা চালিত। বৌদ্ধরা সাধারণত হিন্দু আইন অনুসরণ করে। খ্রিস্টানরা ব্রিটিশ-ভারতে রচিত বিধিবদ্ধ আইন অনুসরণ করে। ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইন কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ আইন দ্বারা পরিবর্তিত হচ্ছে। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশের জনগণের ...
সন্ত্রাসীর মন
কলাম
কালের কণ্ঠ
৩০ জানুয়ারি ২০১৩
মানুষের ইতিহাসে সন্ত্রাসীর আবির্ভাব প্রায় তার জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই। খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে ইহুদি কদুৎসাহী শিকারির দেখা পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলমান আসাসিন সম্প্রদায় এবং সপ্তম থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারত উপমহাদেশে ঠগীদের কথা বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। সমসাময়িককালে সন্ত্রাসীরা ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর সর্বত্র। গত এক দশকে নিউ ইয়র্ক, মাদ্রিদ ও লন্ডন শহরে সন্ত্রাসীরা যেসব বিস্ফোরণ ঘটায়, সারা দুনিয়ায় সেগুলোর প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। সন্ত্রাসীদের মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু অস্ত্রের ব্যবহারে তাদের কোনো পার্থক্য নেই। গত দেড় শ বছরে সন্ত্রাসীদের ...
নির্বাচন যথেষ্ট নয়, তবে নির্বাচন হতে হবে
কলাম
কালের কণ্ঠ
১০ জানুয়ারী ২০১৩
নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র শুধু অসম্ভব নয়, অকল্পনীয়ও। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ দোদুল্যমান থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না নিয়মিত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন বা ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতামূলক অনুশীলনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা পার্লামেন্টের ভেতরে বা বাইরে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য চেষ্টা করবেন। আইন বা সংবিধানের স্বেচ্ছামতো ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁরা নিজের পাতের দিকে ঝোল টানার চেষ্টা করবেন। তাঁরা নির্বাচনী ইশতেহারে নানা অঙ্গীকারের কথা বলবেন, যা পালন করতে পারবেন কি না সে সম্পর্কে নিঃসন্দেহ না হয়েই। দেশের আইন ও সংবিধান মেনে যে নির্বাচন হবে, তা সবাইকে মেনে নিতে হবে। রাজপথের বিক্ষোভ বা অভ্যুত্থান বা অন্য কোনো অতিশয়-পন্থার আশ্রয় নিয়ে জনগণের সম্মতি ছিনতাই করে করতল করলে দেশে এমন অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে, যার শেষ কোথায়, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। প্রেমে আর যুদ্ধে যেমন, নির্বাচনে কোনো ন্যায়ান্যায় নেই যাঁরা বলেন, তাঁদের নির্বাচনে জিতলে সব ঠিক, না জিতলে সব বেঠিক। যত দিন নির্বাচনে হারার ভয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা না জয় করছেন, তত দিন নির্বাচন হবে ব্যয়বহুল ও ...
বাংলা ভাষার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
২৯/০২/২০১২
আমি এর আগেও অন্য এক জায়গায় বলেছিলাম যে বহুভাষার দেশ ব্রিটিশ ভারত সাম্রাজ্য ইংরেজি সূত্রে-গ্রন্থিত ছিল। স্বাধীন প্রজাতন্ত্রী ভারত সেই একইসূত্রে এখনো গ্রন্থিত। মাতৃভাষা, জাতীয় ভাষা বা শিক্ষার মাধ্যম প্রসঙ্গে ভারতের গুনীব্যক্তিদের আকর্ষণীয় বক্তব্য আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬২–১৯৪১) মাতৃভাষাকে মাতৃদুগ্ধের মতো স্বাস্থ্যদায়ক বলে একাধিকবার বক্তব্য রাখেন। তাঁর মতে, আর্থিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার যেমন প্রয়োজন তেমনি মনকে ও ব্যবহারকে মূঢ়তামুক্ত করার জন্য তার প্রভাব মূল্যবান। তিনি অবশ্য দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্কার করে বলেন, ‘দূর দেশি ভাষার থেকে ...
চল্লিশ বছর: স্বাধীনতার খসড়া খতিয়ান
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১৬/১২/২০১১
বিজয় দিবস আমাদের কাছে নববর্ষের মতো। এদিন আমাদের নবান্নের মতো উৎসবও। আমরা আনন্দ করি এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেবনিকেশ করি। বিজয়ের চল্লিশ বৎসর পূর্তিতে সেই দিনের তাৎপর্য আজ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অতীতের অর্জন-ব্যর্থতা বা লাভক্ষতির একটা খসড়া খতিয়ান তুলে ধরা যাক । যদি আমরা আমাদের অতীতকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারি এবং তার থেকে যথার্থ শিক্ষালাভ করতে পারি তবে ভবিষ্যতের জন্য আমরা কিছু দিগনির্দেশনা পেতে পারি। যে ভূখন্ড আজ বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিত তা ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের এক প্রদেশের অংশ ছিল। ...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিকতা
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১১/০২/২০১১
আধুনিক সাংবাদিকতার জন্ম মুদ্রণযন্ত্রের কল্যাণে। ১৪৫৬ সালে গুটেনবার্গ বাইবেল প্রকাশিত হওয়ার পর মুদ্রণ-যোগাযোগ মিলন হিসেবে আবির্ভূত। মিশনারিদের হাতে তা দেশে দেশে বিকাশ লাভ করেছে। আমাদের দেশেও। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের মুদ্রণ ও প্রকাশনা আইন এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত করে। ১৯৭৫ সালে একদলীয় রাষ্ট্র্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় প্রকাশিত চারটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্যসব সংবাদপত্রের প্রকাশণা নিষিদ্ধ হয়। ১৯৭৫ সালের আগষ্টে সরকার পরিবর্তনের পর সংবাদপত্রে স্বাধীনতা পর্যায়ক্রমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালের ...
মানবাধিকার দিবসে
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
১০/১২/২০১০
আজ থেকে বাষট্টি বছর আগে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বরে সার্বজনীন মানবাধিক সনদ ঘোষণা করা হয়। সাত-আট দশকে ‘মানবাধিকার’ শব্দটি সভা-সমিতিতে তেমনভাবে উচ্চারিত বা আলোচিত না হলেও বর্তমানে প্রতিটি দেশে মানবাধিকার প্রশ্নটি গভীরভাবে আলোচিত হচ্ছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা মানুষ উদ্বেলিত হয়ে চিন্তা করে কিভাবে বিশ্বে স্বাধীনতা, ন্যায় বিচার ও শান্তির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করা যায়। মানবাধিকার সনদের প্রস্তাবনায় বলা হয় ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মানুষকে অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে বাধ্য করা না হয় মানবাধিকারসমূহকে অবশ্যই আইনের শাসন দ্বারা সংরক্ষিত ...
প্রশাসনের উন্নতিকল্পে কিছু সুপারিশ
উপ সম্পাদকীয়
বিডিনিউজ২৪.কম
০৬/১০/২০১০
মানুষ নিপীড়নের পরিবর্তে স্বাধীনতা চায়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করে না। গণতন্ত্রের আদর্শটা বেশ দীর্ঘজীবীই বলতে হবে, কিন্তু এর স্বাস্থ্য ও সাফল্য প্রায়ই অনিশ্চিত। আমরা নিজেদের অক্ষমতা ঢেকে রাখার জন্য প্রায়ই বলি দেশে গণতন্ত্রকে সুযোগ দেয়া হয়নি। গণতন্ত্রের নিজস্ব কোন অবয়ব বা প্রাণ নেই। গণতন্ত্র স্বয়ংক্রিয় নয়। এর ভেতরে একটা তারল্য রয়েছে, যে পাত্রে অবস্থান করে সে তার আকার পায়। হুজ্জতে বাঙালের দেশে গণতন্ত্র যে কী ভঙ্গুর হতে পারে তার নিদর্শন আমাদের চোখের সামনে ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩