কলামিস্টদের নাম
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এর কলামগুলো

দুঃখ, লজ্জা এবং ক্ষোভ
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
১৫ অক্টোবর ২০১২
কয়েক দিন ধরে মনটা খুব খারাপ—শুধু আমার নয়, আমার ধারণা, পুরো দেশের প্রায় সব মানুষেরই মন খারাপ। একজন নয়, দুজন নয়—প্রায় ছয়-সাত হাজার মানুষ এসে শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ১২টি বৌদ্ধবিহার পুড়িয়ে দিয়ে গেল? যার অর্থ এই দেশে অন্তত ছয়-সাত হাজার মানুষ আছে, যারা বিশ্বাস করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের উপাসনালয় পুড়িয়ে দেওয়া যায়। যারা পুড়িয়েছে, তারা নাকি বেশির ভাগই তরুণ। যে বয়সে বুকের ভেতর স্বপ্ন জন্ম নেয়, মানুষের জন্য ভালোবাসা জন্ম নেয়, সেই বয়সে তারা এসে এ রকম ভয়ংকর একটি ...
মেডিকেল এবং অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষা
সাধাসিধে কথা
সমকাল
২৬/০৮/২০১২
একটি ছেলে বা মেয়ের সারা জীবনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে; কিন্তু সেই ছেলে বা মেয়েটি কখনও জানতে পারবে না কেন তার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। যদি সেটা তাকে জানাতে হয় তাহলে আমাদের গ্রেডিং পদ্ধতি বাতিল করে আগের সেই নম্বরভিত্তিক ফলাফলে ফিরে যেতে হবে। আমরা কি সেটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি? এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেডিকেলে সিট বণ্টন করা শুরু হলে সেটাকে নির্ভর করে কী কী দুর্নীতি এবং কী কী বাণিজ্য হতে পারে তা চিন্তা করে এখনই আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ...
বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা
কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছি আমরা?
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
১৮/০৬/২০১২
কিছুদিন আগে শেষ হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি-প্রক্রিয়া। ক্লাসভর্তি ঝলমলে উজ্জ্বল মুখ। আমরাও আশাবাদী হয়ে আগ্রহ নিয়ে ক্লাস করি। কিন্তু হঠাৎ করেই আমরা বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা আবিষ্কার করলাম, ক্লাসরুমে আগের সেই প্রাণবন্ত পরিবেশটা যেন পাচ্ছি না। দেখতে পেলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান ও মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে চৌকস এবং সামনের সারির শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। তার চেয়েও অদ্ভুত ব্যাপার, জীববিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে মেয়েদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে আর ছেলেদের অংশগ্রহণ কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে—এ তথ্যটি যেমন আশাপ্রদ, তার চেয়েও বড় বাস্তবতা হলো, মেধাবী ছেলেরা জীববিজ্ঞান ও গবেষণাধর্মী বিষয়গুলোয় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ...
অসহায় মা অসহায় শিশু
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
১৬/০৬/২০১২
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন পুরো দেশকে পৃথিবীর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলছে, তখন আমরা একটি গ্রামের একজন অবস্থাপন্ন মানুষের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। মে মাসের ৫ তারিখ পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমার বাবাকে হত্যা করার পর আমাদের আশ্রয় দেওয়া গৃহস্বামীর মনে হলো, যে মানুষটিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করেছে, তাঁর পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া বিপজ্জনক। তিন দিন পর বিকেলবেলা তিনি আমাদের পুরো পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। আমার মা ছোট ছোট দুটো নৌকা ভাড়া করে আমাদের ছয় ভাইবোনকে নিয়ে পুরোপুরি অনিশ্চিত পথে যাত্রা করলেন। যখন পদে পদে মৃত্যুর আশঙ্কা, তখন পুরোপুরি আশ্রয়হীন হয়ে নৌকায় করে নদীতে ভেসে বেড়াতে কেমন লাগে, তখন আমাদের সেই অভিজ্ঞতাটি হয়েছিল। ...
রাজনীতি নিয়ে আমার ভাবনা—১
বিএনপি যদি জামায়াতকে পরিত্যাগ না করে...
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৫/০৫/২০১২
আমার এই লেখাটি কারোরই খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই, কারণ যে বিষয় নিয়ে লিখছি আমি তার বিশেষজ্ঞ নই। প্রশ্ন উঠতেই পারে তাহলে আমি লিখছি কেন? সেই প্রশ্নের উত্তরও আমি একটা দাঁড় করিয়ে রেখেছি: সবকিছুই কি বিশেষজ্ঞদের চোখে দেখতে হয়? একটা বিষয় সাধারণ মানুষ কেমন করে দেখে, সেটাও কি অন্যদের জানার কৌতূহল হওয়া উচিত না? আমার ভণিতা দেখে সবাই নিশ্চয়ই অনুমান করে ফেলেছেন আমি দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ দেশ চালাচ্ছে (শুদ্ধ করে বলা ...
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও বাংলাদেশ
সাদাসিদে কথা
প্রথম আলো
০২/০১/২০১২
যাঁরা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, গ্রামীণ ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের আইনকানুন নিয়ে নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ আলোচনা পড়তে চান, তাঁদের এ লেখাটি পড়ার প্রয়োজন নেই। এটি সে রকম একটি লেখা নয়, এটি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্ভব পছন্দ করে, সে রকম একজন মানুষের অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট একটি লেখা। আমি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্ভব পছন্দ করি এবং তার চেয়ে বেশি সম্মান করি। আমি জানি, এ দেশে আমার মতো এ রকম মানুষের কোনো অভাব নেই। মনে আছে, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরটি পেয়ে আমি আনন্দে কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষের মতো চেঁচামেচি করেছিলাম। ...
ঘুরে দাঁড়ানোর সময়
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৬/০৮/২০১১
আমি সিলেটে থাকি, মাঝে মাঝেই ঢাকায় যেতে হয়। পুরোনো একটা লক্কড়ঝক্কড় মাইক্রোবাসে আমি ঢাকায় যাই। আমার ড্রাইভার, যে এখন আমার পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গেছে, খুব সাবধানে গাড়ি চালায়, কখনো কোনো ঝুঁকি নেয় না। তার পরও আমি সবিস্ময়ে আবিষ্কার করি, বিশাল দৈত্যের মতো বাস-ট্রাক প্রতিমুহূর্তে অন্য গাড়িকে ওভারটেক করার জন্য আমাদের লেনে চলে আসছে, আর মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য আমাদের নিজের লেন ছেড়ে রাস্তার পাশে নেমে যেতে হচ্ছে। একবার-দুবার নয়, অসংখ্যবার। ঢাকা পৌঁছানোর পর কিংবা ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছানোর ...
আমাদের ভলান্টিয়ারের দল
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
১৫/০৬/২০১১
স্কুলে স্কুলে বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার কিছু ভলান্টিয়ারের দরকার, সে জন্য ইউনিভার্সিটিতে নোটিশ দিয়েছি। যেদিন সবাইকে ডেকেছি, অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম, এক-দুইজন নয়, অসংখ্য ছেলেমেয়ে এসে হাজির। দেখেই আমার মনটা ভালো হয়ে গেল। আমি বললাম, ‘দেখো, এটা কিন্তু ভলান্টারি কাজ। পৃথিবীর সব বড় বড় কাজ হয় স্বেচ্ছাশ্রমে। এই দেশে যে গণিত অলিম্পিয়াড এত চমৎকারভাবে কাজ করছে তার কারণ, পুরোটা করা হয় ভলান্টিয়ারদের দিয়ে।’ উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা মাথা নেড়ে বলল, ‘আমরা জানি!’ ‘তোমরা কিন্তু পরিশ্রম করবে, খাটাখাটুনি করবে, বিনিময়ে ...
মুহম্মদ জাফর ইকবাল সম্পর্কে কিছু কথা
সাধাসিধে কথা
25/02/2011
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নেবার পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নেন। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বেল ল্যাবরেটরীতে কাজ করেন। তবে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই দেশে ফিরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, শিশুসাহিত্য ছাড়াও ছোটদের জন্য গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন বই লিখেছেন। তাঁর লেখা একাধিক কিশোর উপন্যাসকে চলচ্চিত্রে রূপ দেয়া হয়েছে। এসব ছাড়াও তিনি একাধিক পত্রিকায় বিভিন্ন প্রসঙ্গে লেখেন। ...
৪০ বছরে পরিবর্তনটা বিশাল
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
০৫/০১/২০১১
৪০ বছর আগে বাংলাদেশে কম্পিউটার বলতে যা ছিল, তা কতকগুলো মেইন ফ্রেম কম্পিউটার, দুইটা কি তিনটা ছিল হয়তো। কার্ড পাঞ্চ করে অতি সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা সেই কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারতেন। বড় বড় গবেষক ও অভিজাত ব্যক্তি হয়তো কেবল সেই সুযোগ পেতেন। তার পরে আমরা এ দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হতে দেখলাম। শুরুতে ব্যাপারটা ছিল কেবল সামর্থ্যবানদের জন্য। আজকে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত—সর্বত্র কম্পিউটার একটা নিত্যব্যবহার্য প্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আমরা আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা, অফিস-আদালতের কাজ, হিসাব-নিকাশ, যোগাযোগ আর প্রকাশনার কাজ—সবকিছুতে কম্পিউটার ব্যবহার ...
দুঃখটাকে ভাগাভাগি করি
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৬/১১/২০১০
কদিন থেকে খবরের কাগজ পড়ার ইচ্ছে করছে না। পৃথিবীতে কত রকম খবর থাকে, সবকিছু ছেড়েছুড়ে শুধু খালেদা জিয়ার বাড়ির খবর। এক জিনিস আর কত পড়া যায়? আমাদের দেশে কিছু একটা হলেই কিছু সাংবাদিক ফোন করে আমার মতামত জানতে চান। আমি তাঁদের কিছুতেই বোঝাতে পারি না যে আমি পৃথিবীর সব বিষয় জানি না এবং সব বিষয়েই মতামত দিতে পারি না। মজার কথা হলো, খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলে সাংবাদিকেরা কিন্তু ইচ্ছে করলে আমাকে ফোন করতে পারতেন, আমার কাছে জানতে চাইতে পারতেন, সরকার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করলে কেমন লাগে, তখন কী করা উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি। স্বাধীনতার পর শহীদ পরিবার হিসেবে আমাদের একটা বাসায় থাকতে দেওয়া হয়েছিল। সেই বাসার প্রতি রক্ষীবাহিনীর বড় একজন কর্মকর্তার লোভ হয়েছিল বলে তারা একদিন আমাদের বুকের ওপর অস্ত্র ধরে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিল। আমাদের জিনিসপত্র তেমন কিছু ছিল না, যা কিছু ছিল রক্ষীবাহিনী সেগুলো রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। আমার মনে আছে, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ডাইনিং ...
বইমেলার অন্যপিঠ
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৭/০২/২০১০
দেখতে দেখতে আমরা বইমেলার একেবারে শেষে পৌঁছে গেছি। মেলাটি যখন শেষ হয়ে আসে প্রতিবারই আমার একটু মন খারাপ হয়ে যায়, এবারও হচ্ছে। আমি সিলেটে থাকি, ছুটিছাঁটায় ঢাকা যেতে পারি, তার ভেতর থেকে সময় বের করে বইমেলায় যেতে হয়। সব সময়ই সময় নিয়ে একটা টানাটানি থাকে। তাই কোনোবারই তৃপ্তি করে মেলায় ঘোরাঘুরি করতে পারি না, শখের বইগুলো কিনতে পারি না। আমি জানি, মেলার এই কয়েক সপ্তাহই শুধু দেশের সবগুলো বই আমাদের নাগালের ভেতর থাকবে। মেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয় দুই-চারজনের কিছু বই ছাড়া সব বই-ই এক বছরের জন্য অদৃশ্য হয়ে যাবে। চেষ্টা করলেও সেগুলো আমরা খুঁজে পাব না। প্রতিবারই ভাবি সামনের বার চুটিয়ে বইমেলা উপভোগ করব, সেই সামনের বার আর আসে না। তারপরও বইমেলা নিয়ে নানা রকম স্মৃতি আছে। নানা রকম অভিজ্ঞতা আছে। সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞতা পাঠকদের নিয়ে, আমার লেখালেখি প্রায় সবই বাচ্চাদের নিয়ে। তারা মানুষ হিসেবে আমাদের ছোট হলেও অত্যন্ত কঠিন পাঠক, ফাঁকি দেওয়ার জো নেই। ...
অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২১শে মার্চ, ২০১৩
ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখ আমি শাহবাগের মঞ্চে ছিলাম—আহামরি কোনো মঞ্চ নয়, একটি খোলা ট্রাক কিন্তু সেটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে অভূতপূর্ব ঘটনাগুলোর একটি। যেদিকে তাকাই সেদিকেই মানুষ—আমি এর আগে কখনো কোনো মঞ্চ থেকে একসঙ্গে এত মানুষ দেখিনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি ছিল আমার বুকের ভেতরের অনুভূতি যে এই মানুষগুলো বয়সে তরুণ, এরা সবাই আমার আপনজন, সারা জীবন আমি যে স্বপ্ন দেখে এসেছি, এই তরুণেরা সবাই সেই স্বপ্ন দেখে। সেই মঞ্চে মাথায় হলুদ ফিতে বাঁধা ব্লগাররা ছিল, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ...
বিশ্বজিতের লাল শার্ট
সাদাসিধে কথা
২০ ডিসেম্বর, ২০১২
আমি মনে হয় বাংলাদেশের অল্প কয়জন সৌভাগ্যবান মানুষের একজন, আমার বাসায় টেলিভিশন নেই বলে আমাকে টেলিভিশন দেখতে হয় না। তাই ডিসেম্বরের ৯ তারিখ যখন ছাত্রলীগের কর্মীরা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে খুন করেছে, আমাকে সেই দৃশ্যটি দেখতে হয়নি। যারা দেখেছে, তাদের প্রায় সবারই মানুষ সম্পর্কে ধারণাটি পাল্টে গেছে। রাজনীতি, আইন, আইনের শাসন—এসব বিষয় নিয়ে তাদের অত্যন্ত নিষ্ঠুর একটি স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। সবার ভেতরেই যে একজন করে নিষ্পাপ মানুষ থাকে, সেই মানুষটি ভয়ংকরভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে। আমি কাপুরুষের মতো টেলিভিশন থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে ...
রাজনীতি নিয়ে আমার ভাবনা—২
আওয়ামী লীগ সেই দায়িত্বটি নিতে রাজি কি না?
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৬/০৫/২০১২
গতকালের পর ৪. এবার একটু আওয়ামী লীগের কথা বলি। গত নির্বাচনের ফলাফলের দিনটি ছিল আমাদের মতো মানুষের জন্য খুব আনন্দের একটি দিন। সেদিন এই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে, ডিজিটাল বাংলাদেশের পক্ষে—এক কথায় একটা আধুনিক বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছিল। দেশের মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা আর স্বপ্ন নিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের যাত্রা শুরু করেছিল—(আরও একবার আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের অনেক আশা-ভরসা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে।) বাংলাদেশ মানেই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বপ্ন দেখা সেই দেশ, তাই যখন বাংলাদেশকে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে ঠিক করে দেওয়া পথ থেকে সরিয়ে অন্য পথে নেওয়ার চেষ্টা করে তখন দেশটা আর বাংলাদেশ থাকে না। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই স্বপ্ন থেকে সরে এসেছে—কোনো দল জামায়াতে ইসলামীকে সহযোগী হিসেবে নিলে সেটি আর মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে পারে না, কাজেই বাংলাদেশকে বাংলাদেশ হিসেবে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটি এখন পুরোপুরি আওয়ামী লীগের ওপর। ...
একটি ডিজিটাল ভাবনা
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
১৮/০৪/২০১২
বর্তমান সরকার একটা বড় কাজ করেছে—এই দেশের সব মানুষকে ‘ডিজিটাল’ শব্দটি শিখিয়ে দিয়েছে। প্রথম প্রথম শব্দটা নিয়ে একটু বিভ্রান্তি ছিল, এখন সেই বিভ্রান্তি নেই। তবে ডিজিটাল সাফল্যের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ডিজিটাল বিপর্যয় হয়ে কিছু একটা যে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে না তা নয়। সর্বশেষ বুমেরাংটি হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আবেদন। পদ্ধতিটা নতুন নয়—আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের জন্য আমরা প্রথমবার এটি শুরু করেছিলাম—এখন বিষয়টি প্রায় রুটিনমাফিক সবাই ব্যবহার করে। কাজেই পিএসসি তাদের বিসিএস আবেদনের জন্য এটি ব্যবহার করেছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই—কিন্তু এটি যেভাবে দেশে একটি বিপর্যয়ের জন্ম দিয়েছে তাতে অবাক হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়ে গেছে। বিষয়টি ঘটেছে এভাবে: প্রার্থীদের আবেদনের শেষ সময় ছিল ৭ এপ্রিল ২০১২ তারিখের দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। কাজেই কোনো প্রার্থী যদি একেবারে শেষ মুহূর্তেও (রাত ১১টা বেজে ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড) আবেদন করেন তাহলে তাঁর আবেদনটি প্রক্রিয়া করতে হবে। সেটি করা হয়নি। কেন করা হয়নি সেটি আমি আগেই অনুমান করতে পেরেছি, এই ...
যারা এসএসসি দিয়েছে
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২১/০৩/২০১২
আমাকে বলা হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা শেষে ছেলেমেয়েদের যখন একটা দীর্ঘ অবসর তখন তাদের কী করা উচিত সেটি নিয়ে লিখতে। আমার ধারণা সেটি নিয়ে লেখার কোনো প্রয়োজন নেই কারণ যে ছেলেমেয়েগুলো পরীক্ষা দিয়েছে তারা সবাই মনে মনে ঠিক করে রেখেছে কী করবে—সত্যি কথা বলতে কী, যখন পরীক্ষার জন্যে লেখাপড়ার অসহ্য একটা চাপ এসে যায় তখন সেই চাপ সহ্য করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে পরীক্ষার পরে কী কী মজার কাজ করা হবে সেগুলো মনে মনে ঠিক করা! সবাই নিশ্চয়ই করেছে। তারপরেও ...
আবারও প্রতীক্ষা এক বছরের
উপ সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
১৯/০২/২০১২
দেখতে দেখতে গণিত অলিম্পিয়াডের ১০ বছর হয়ে গেল। মনে হয় মাত্র সেদিন শুরু করেছি। মুনির হাসান বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে, মায়েদের বলছে ‘আপনার বাচ্চাটাকে একটু ধার দেবেন? একবেলার জন্য?’ মায়েরা ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইছেন, ‘কেন?’ মুনির বলল, ‘গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য।’ মায়েরা আরও বেশি ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইছেন, ‘সেটা আবার কী?’ ১০ বছর পর এখন আর কাউকে গণিত অলিম্পিয়াড বোঝাতে হয় না—আমরা অবশ্য গণিত অলিম্পিয়াডও বলি না, বলি গণিত উত্সব। প্রতিযোগিতাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গণিতের জন্য ভালোবাসাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি একেবারে বাজি ধরে ...
ওদের নিয়ে কেন স্বপ্ন দেখব না?
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
০৪/১১/২০১১
‘তরুণ প্রজন্ম’ বললেই আমাদের চোখে টি-শার্ট পরা সুদর্শন কিছু তরুণ ও উজ্জ্বল রঙের ফতুয়া পরা হাসিখুশি কিছু তরুণীর চেহারা ভেসে ওঠে। আমাদের দেশে মোবাইল ফোন আসার পর কোম্পানিগুলো পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন দিয়েছে, আর এ বিজ্ঞাপনের কারণেই সম্ভবত তরুণ-তরুণীদের এ ছবি আমাদের মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি অবশ্য বিজ্ঞাপনের তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে কাছাকাছি বাস করি, তাই মাঝেমধ্যেই আমি ভুলে যাই যে ছবিটি সম্পূর্ণ নয়। সৌদি আরবে মাত্র কয়েক দিন আগে আটজন বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করা হয়েছে ...
সৃজনশীল আনন্দ
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
১৮/০৫/২০১১
এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর আমার মনটা খুশিতে ভরে উঠেছে—ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করেছে, সেটি মূল কারণ নয়। মূল কারণ হচ্ছে, এই ছেলেমেয়েরা প্রথমবার পুরোপুরি সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়েছে। যার অর্থ পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর তারা মুখস্থ করে দেয়নি। নিজেরা ভাবনাচিন্তা করে দিয়েছে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর আমার মনটা খুশিতে ভরে উঠেছে—ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করেছে, সেটি মূল কারণ নয়। মূল কারণ হচ্ছে, এই ছেলেমেয়েরা প্রথমবার পুরোপুরি সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়েছে। ...
এই সব গল্প, এই সব দেশপ্রেম...
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২২/০৩/২০১১
প্রথমে একটা গল্প বলি। ১৯৭১ সাল। খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আগরতলার মেলাঘরে ট্রেনিং ক্যাম্পে দেশের তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং নিচ্ছেন আর দেশের ভেতরে ঢুকে নানা গেরিলা অপারেশনে অংশ নিচ্ছেন। জুলাই মাস। একটা অভিযানে যাচ্ছেন গেরিলারা। তাঁদের লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জের টানবাজার থানা আক্রমণ করা। তরুণদের এই দলে একজন আছেন, তাঁর বাড়িও নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে। তাঁকে বাছাই করা হয়েছে এ জন্য যে এলাকার ছেলে এলাকাটা ভালোমতো চিনবেন। অভিযানে সুবিধা হবে। ছেলেটার বাবা নারায়ণগঞ্জেই ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনিও আগরতলায় চলে আসেন। মেলাঘরের ট্রেনিং ক্যাম্পের পাশে শরণার্থী শিবিরে থাকেন। এই ব্যবসায়ী মানুষটার একটাই ছেলে। তাঁর আর কোনো সন্তান নেই। গেরিলা দল সীমান্ত অতিক্রম করে চলে গেল। নারায়ণগঞ্জ থানায় তারা অপারেশন চালাল সফলতার সঙ্গে। কিন্তু বিপত্তি ঘটল ফিরে আসার সময়। এক রাজাকারের গুলিতে ফেরার পথে ছেলেটা মারা গেলেন। ...
স্বপ্নের দেশটাকে দেখতে পাচ্ছি
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
০৪/১১/২০১০
তারুণ্যের বিষয়টা বোঝার জন্য বাংলাদেশ খুব চমৎকার একটা উদাহরণ হতে পারে। পাকিস্তান স্থাপনার এক বছরের ভেতর এই দেশের তরুণেরা সেই রাষ্ট্রের স্থপতির মুখেল ওপর বলে দিয়েছিল উর্দুকে এই দেশের রাষ্ট্রভাষা করা যাবে না। যে একুশে ফেব্রুয়ারিকে এখন সারা পৃথিবীর মানুষ মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে, সেই দিনটিও তৈরি করেছিল এই দেশের তরুণেরা। ষাটের দশকে পাকিস্তানের মিলিটারি শাসকেরা যখন এই দেশের সব রাজনৈতিক নেতাকে জেলে আটকে রেখেছিল, তখন এই তরুণ ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করে তাঁদের মুক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু যখন তাঁর ঐতিহাসিক ...
ল্যাপটপে লেখাপড়া?
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
০২/০৮/২০১০
অনেক দিন থেকেই একটা বিষয় আমাদের ভেতর খচখচ করছে—এই দেশের ছেলেমেয়েদের বিজ্ঞান পড়ায় আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। দেশের নামীদামি স্কুলের দিকে তাকালে সেটা বোঝা যাবে না—কিন্তু সারা দেশের বিজ্ঞানের মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দেখলে সেটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে—কয়েক বছরে সংখ্যাটি ৩০ শতাংশের মতো কমে গেছে। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা চিন্তাভাবনা করেন, এই তথ্যটিতে তাঁদের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা। একটা সমস্যাকে যখন সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখনই তার ৮০ ভাগ সমাধান হয়ে যায় বলে আমার বিশ্বাস। (যানজটকে কেউ এখনো সমস্যা হিসেবে দেখছে না—রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনাকেও কেউ সমস্যা হিসেবে দেখছে না—অন্তত সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে মনে হচ্ছে না। তাই এগুলোর কোনো সমাধানও এখনো চোখে পড়ছে না।) কাজেই আমি খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম যখন দেখতে পেলাম বিজ্ঞান শিক্ষায় কেন ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ কমে যাচ্ছে সেটা নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটা সভা ডাকা হয়েছে। ...
‘ডিজিটাল টাইম’ এবং ঘোড়ার মৃতদেহ
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
০৯/১১/২০০৯
এই বছর জুন মাসের ১৯ তারিখ বাংলাদেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের একটা কাজ করা হবে এ রকম কানাঘুষা হচ্ছিল, আমার ধারণা ছিল এত বড় একটা ব্যাপার—সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে, দেশের জ্ঞানী-গুণী মানুষেরা বলবেন, এটা নেহায়েত এক ধরনের খামখেয়ালিপনা—সোজা কথায় পাগলামো। তখন আর এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া হবে না। দেশ যখন রাজা-বাদশাহরা শাসন করতেন তখন তাঁরা এ রকম খামখেয়ালিপনা করতেন—কথা নেই বার্তা নেই তাঁরা পুরো রাজধানী এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যেতেন। রাজা-বাদশাহদের সেই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ টুঁ শব্দটি করত না, কার ঘাড়ে দুটি মাথা আছে যে, এর প্রতিবাদ করে নিজের গর্দানটি হারাবে? আমি ভেবেছিলাম, এখন তো রাজা-বাদশাহদের আমল নয়—এখন গণতান্ত্রিক সরকার, এ রকম একটা সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই কিছু খামখেয়ালি মানুষ নিয়ে ফেলবে না। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আমি অবাক হয়ে দেখলাম, দেশের ইলেকট্রিসিটি বাঁচানোর কথা বলে হুট করে একদিন ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হলো! আমি দুর্বলভাবে পত্রিকায় একটা লেখা লিখেছিলাম—কিন্তু কার সময় ...
তোমাদের কাছে বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ
উপ-সম্পাদকীয়
সমকাল
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
আজ আমি এসেছি তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য! আমি পত্রিকায় লিখেছি যে, এই নতুন জেনারেশন খালি ফেসবুকে লাইক দেয়, এরা আর কিছু করে না। আমি লিখেছি_ এরা খালি বল্গগ করে, এরা আর কিছু করে না_ এরা রাস্তায় নামে না। তোমরা আমাকে ভুল প্রমাণিত করেছো। এই দেখো এখানে বল্গগাররা আছে, এই বল্গগাররা সারা পৃথিবীতে যেটা হয় নাই এরা সেইটা ঘটিয়ে দিয়েছে। তোমাদের কাছে ক্ষমা চাই! আমাকে ক্ষমা করেছো সবাই? ...
দুঃখ লজ্জা এবং ক্ষোভ
সাদাসিধে কথা
সমকাল
১৫ অক্টোবর ২০১২
কয়দিন থেকে মনটা খুব খারাপ_ শুধু আমার নয়, আমার ধারণা পুরো দেশের প্রায় সব মানুষেরই মন খারাপ। একজন নয় দু'জন নয়_ প্রায় আট-দশ হাজার মানুষ এসে শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বারোটি বৌদ্ধবিহার পুড়িয়ে দিয়ে গেল? যার অর্থ এই দেশে অন্তত আট-দশ হাজার মানুষ আছে যারা বিশ্বাস করে ভিন্নধর্মাবলম্বী মানুষের উপাসনালয় পুড়িয়ে দেওয়া যায়। যারা পুড়িয়েছে তারা নাকি বেশিরভাগই তরুণ, যে বয়সে বুকের ভেতর স্বপ্ন জন্ম নেয়, মানুষের জন্য ভালোবাসা জন্ম নেয়, সেই বয়সে তারা এসে এ রকম ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা ...
বিশেষ মন্তব্য
পাট জিনোমের স্বপ্নযাত্রা
কলাম
কালের কন্ঠ
১৮/০৬/২০১২
আমি যে টেলিফোন কলটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম সেটি এল পড়ন্ত বিকেলে। ডাটা সফটের মাহবুব জামান আমাকে ফোন করে জানালেন, এইমাত্র প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে পাট জিনোমের তথ্যটি প্রকাশ করেছেন। অত্যন্ত সযত্নে গোপন করে রাখা তথ্যটি আমি এখন সবাইকে বলতে পারব! আমি তিনতলা থেকে নিচে নেমে এসে আমার সহকর্মীদের জানালাম, বিজ্ঞানের যে কাজগুলো শুধু পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলো করে এসেছে, ঠিক সে রকম একটা কাজ বাংলাদেশ করে ফেলেছে! প্রায় সন্ধ্যে নেমে এসেছে, ছাত্রছাত্রীদের বেশির ভাগই নেই, অতি উৎসাহী একজন সহকর্মীর ল্যাবরেটরিতে ...
পাট জিনোমের স্বপ্নযাত্রা
উদ্ভাবন
সমকাল
১৮/০৬/২০১০
হকর্মী আর ছাত্রছাত্রীদের তথ্যটা জানালাম, সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করতে হলো, গুরুত্বটা একটু বোঝাতে হলো তখন তাদের আনন্দ দেখে কে! তারা হাততালি দিয়ে বলল, 'স্যার, এটা তো আমাদের সেলিব্রেট করতে হবে।' বাংলাদেশ যখন ক্রিকেট খেলায় বড় প্রতিপক্ষকে হারায় তখন আমাদের ছাত্রছাত্রীরা 'সেলিব্রেট' করে_ তাহলে বিজ্ঞানের পৃথিবীব্যাপী প্রতিযোগিতায় আমাদের ছাত্রছাত্রীরা যদি সব দেশকে হারিয়ে দেয়, সেটা কেন সেলিব্রেট করা হবে না? তাই ঝুম বৃষ্টির মধ্যে তারা কেক কিনতে বের হয়ে গেল। কেক কেটে, মোমবাতি জ্বালিয়ে হাততালি দিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্ম পাট জিনোমের সিকোয়েন্স বের করার আনন্দটুকুতে অংশ নিল। ...
রাজনীতি নিয়ে আমার ভাবনা—৩
দেশকে নিয়ে আমি অসম্ভব আশাবাদী
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৭/০৫/২০১২
গতকালের পর ৫. ‘আবুলি রাস্তা’র কথা যেহেতু বলা হয়েছে ‘শাজাহানি ড্রাইভারে’র কথা বলা না হলে বিষয়টা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের রাস্তাঘাট পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা, যুদ্ধের মাইন ফিল্ড থেকে এটি কোনো অংশে কম নয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ড্রাইভাররা, তারা যেভাবে গাড়ি চালায় (কিংবা মালিকদের চাপে যেভাবে চালাতে বাধ্য হয়), সেটি অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশের জন্য সৃষ্টিকর্তার এক ধরনের মায়া আছে, তা না হলে প্রতিদিন রাস্তাঘাটে আরও অসংখ্য মানুষ মারা যেত। আমাদের জিডিপি ৬ নাকি ৭—এ নিয়ে তুমুল তর্ক-বিতর্ক চলছে অথচ কেউ খেয়াল করে না যে সড়ক দুর্ঘটনায় কারণে আমাদের দেশে জিডিপির ১ থেকে ২ অংশের অপচয় হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কিন্তু সেটি নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই, দেখে খুব কষ্ট হয়। হঠাৎ করে যখন সবার খুব প্রিয়জন যিনি একই সঙ্গে দেশের সম্পদ, একটি অর্থহীন গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে মারা যান, তখন সারা দেশে সেটা নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। সেই সময় যখন আমাদের নৌপরিবহনমন্ত্রী ...
টিপাইমুখ: একটি প্রতিক্রিয়া
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
০৫-০১-২০১২
১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন ক্লেটন উইলিয়ামস নামে এক ব্যক্তি। ভদ্রলোক নির্বাচনে জিততে পারেননি, কিন্তু পৃথিবীর অনেক মানুষ তাঁকে মনে রেখেছে তাঁর একটি উক্তির জন্য। তিনি বলেছিলেন, ধর্ষণ থেকে যদি রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় না থাকে, তাহলে চেষ্টা করা উচিত সেটা উপভোগ করা। (আমি যা-ই লিখি, ছোট বাচ্চারা নাকি সেটা পড়ে ফেলে—তাই ওপরের কথাগুলো লিখতে খুব খারাপ লাগছে।) ক্লেটন উইলিয়ামসের কথার মতো হুবহু একটা কথা ২৯ ডিসেম্বর ২০১১-এর প্রথম আলোয় পড়েছি। টিপাইমুখ সম্পর্কে ...
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে
সাদাসিদে কথা
প্রথম আলো
০৪/০১/২০১২
বছর দুয়েক আগের কথা, আমি একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছি। বাংলাদেশের যে কয়টি সংগঠন আছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংগঠনগুলোর একটি—তাদের বিশাল আয়োজন (সংগঠনটিকে প্রকাশ্যে লজ্জা দিতে চাই না বলে নাম উল্লেখ করলাম না)। অনুষ্ঠান শুরু হবে জাতীয় সংগীত দিয়ে, তাই মঞ্চে কয়েকজন উঠেছেন সেটি গাওয়ার জন্য। আমরা দর্শকেরা উঠে দাঁড়িয়েছি। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সংগীতটি গাওয়া শুরু হলো এবং দুই লাইন গাওয়ার পরই আমি বুঝতে পারলাম, মঞ্চে যারা গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা কেউ দেশের জাতীয় সংগীতটি জানে না। সবাই ধরে নিয়েছে, অন্য একজন জানে এবং তার সঙ্গে গলা মেলাবে, ...
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরণ অনশন
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৫/০৫/২০১১
আমি যতটুকু জানি, হার্ভার্ডকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুপুর বেলা আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বসে অন্যমনস্কভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষকদের আসা-যাওয়া দেখছিলাম। আমার মনটি ভালো ছিল না—আমি যখনই পৃথিবীর সেরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি, তখনই বুকের ভেতর একধরনের বেদনা অনুভব করি। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীরা কত ধরনের সুযোগের মাঝে লেখাপড়া করে—আমরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের কিছুই দিতে পারি না! আজকে আমার মনটা একটু বেশি খারাপ ছিল, কারণ সকালে কম্পিউটার খুলে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একটা ই-মেইল পেয়েছি—তারা সবাই আমরণ অনশন ...
জাতীয় শিক্ষানীতি, ধর্ম এবং হরতাল
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৪/১২/২০১০
ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল ২৬ ডিসেম্বর দেশে হরতাল ডেকেছে, কারণটা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। খবরের কাগজ পড়ে মনে হলো, আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতিতে যথেষ্ট পরিমাণ ‘ইসলামধর্ম’ নেই, সেটা হচ্ছে কারণ। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, যাঁরা হরতাল ডেকেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই জাতীয় শিক্ষানীতিটি পড়ে দেখেননি, পড়ে থাকলে তাঁরা কখনোই এ ধরনের একটি কারণ দেখিয়ে হরতাল ডাকতে পারতেন না। এই শিক্ষানীতিতে ধর্মকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কি হয়নি, সেই বিতর্কে না গিয়ে আমি সরাসরি শিক্ষানীতি থেকে কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি, দেশের মানুষই বিচার করুক, হরতাল দেওয়ার আসলেই কারণ আছে কি নেই। শিক্ষানীতির একেবারে প্রথম লাইনে আমাদের সংবিধানের নির্দেশনা এবং দ্বিতীয় লাইনে জাতিসংঘের শিশু শিক্ষার অধিকারের কথাটি স্মরণ করানো হয়েছে। কাজেই শিক্ষানীতির মূল বক্তব্যটি শুরু হয়েছে তৃতীয় লাইনে এবং লাইনটি আমি হুবহু তুলে দিই: ‘শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা। ...
কারিগরি শিক্ষা সবার জন্য
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
১৩/১১/২০১০
লেখাপড়া নিয়ে এ দেশের মানুষের অনেকেরই একটা ভুল ধারণা রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষের ধারণা হচ্ছে, লেখাপড়ার অর্থ হচ্ছে মাথার মাঝে একগাদা তথ্য ঠেসে রাখা, যে যত বেশি তথ্য ঠেসে রাখতে পারে, সে লেখাপড়ায় তত ভালো। তথ্য ঠিকমতো মাথায় ঠেসে রাখতে পেরেছে কি না, সেটা যাচাই করা হয় পরীক্ষার হলে, যে যত নিখুঁতভাবে মাথার মাঝে ঠেসে রাখা তথ্যটা উগলে দিতে পারে, সে তত ভালো গ্রেড পায়, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন তাকে ধন্য ধন্য করে। অথচ মোটেও এটা লেখাপড়া হওয়ার কথা ছিল না, লেখাপড়ার পুরো বিষয়টিই হচ্ছে নতুন কিছু করার ক্ষমতা। একজন ছাত্র যে বিষয়টি আগে কখনো দেখেনি, যদি সেটাকেও সে বিশ্লেষণ করতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে, সে খানিকটা হলেও লেখাপড়া শিখেছে। আইনস্টাইন তো আর শুধু শুধু বলেননি। কল্পনাশক্তি জ্ঞান থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ধাক্কাধাক্কি করে খানিকটা জ্ঞান অর্জন করেই ফেলতে পারি, কিন্তু যদি কল্পনাশক্তি না থাকে, তাহলে সেই জ্ঞানটুকু হবে একেবারেই ক্ষমতাহীন দুর্বল জ্ঞান। কল্পনাশক্তি যদি থাকে, তাহলে সেই জ্ঞানটুকু হতে ...
স্বাধীনতার মাস: মার্চ মাস
সাদাসিধে কথা
প্রথম আলো
২৬/০৩/২০১০
এই মাসের ১৮ তারিখ সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। অনেক দিন থেকেই আমরা চাইছিলাম, তাঁরা এখানে আসেন, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা নিজের চোখে তাঁদের দেখবে, সেটি খুব কম কথা নয়। তাঁদের আসা উপলক্ষে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে রীতিমতো উত্সবের একটা আমেজ চলে এসেছিল। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সুন্দর একটা শহীদ মিনার রয়েছে, প্রায় শখানেক সিঁড়ি ভেঙে টিলার ওপরে ওই শহীদ মিনারে যেতে হয়। কষ্ট করে কেউ যদি সেখানে যায়, চারপাশের দৃশ্য আর শহীদ মিনারটি দেখে সে মুগ্ধ হয়ে যায়। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যরা ওই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। আমরা ঠিক করে রেখেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের এগারোটি সেক্টরকে স্মরণ করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাত দিয়ে এগারোটি গাছ লাগিয়ে রাখব, গাছগুলো যখন বড় হবে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা তার ছায়ায় বসে মুক্তিযোদ্ধাদের একবার হলেও স্মরণ করবে! ...
নববর্ষের শপথ
উপ সম্পাদকীয়
বাংলানিউজ২৪.কম
৩১/১২/২০০৯
পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্যে দিন রাত হয়, বার্ষিক গতির জন্য ঋতু পরিবর্তন হয় সেই হিসেবে ইংরেজী নববর্ষের দিনটি অন্য যে কোনো একটা দিনের মত, তার আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্যই নেই। তারপরও শুধুমাত্র নববর্ষের দিন বলে এই দিনটিকে আমরা আলাদাভাবে দেখতে পছন্দ করি। রাত বারোটা বাজার সাথে সাথে আমরা বিকট চেচামেচি করি, পরিচিতি অপরিচিত সবাইকে “হ্যাপি নিউ ইয়ার” বলে ব্যতিব্যস্ত করে তুলি। ঘড়ির কাঁটা পেছানোর জন্য ঠিক রাত বারোটা বেছে নেওয়ার কারণে এইবার আমাদের এক ঘণ্টার মাঝে দুই দুইবার নববর্ষ পালনের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু বেরসিক সাংবাদিকদের কারণে সরকার সতর্ক হয়ে ঘড়ির কাঁটা পেছানোর জন্য রাত বারোটা বেছে না নিয়ে এগারোটা উনপঞ্চাশ বেছে নিয়েছে। যার অর্থ আমরা নববর্ষের এক মিনিটের ভেতর চলে এসে আবার এক লাফে এক ঘন্টা পিছিয়ে যাবো! দুই দুই বার নববর্ষ পালন করার ঐতিহাসিক সুযোগটা আর পাব না। কবারই হোক আর দু’বারই হোক নববর্ষ দিনটাকে আলাদা ভাবে দেখার জন্য আমরা সব সময়েই নতুন বছরে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করি। ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩