কলামিস্টদের নাম
সাদেক খান এর কলামগুলো

তামাশার বাজেট আর পঞ্চদশ সংশোধনীর বাকশালী ফাঁদ
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
১৩ জুন, ২০১৩
স্বভাবসুলভ কায়দায় হয়তো বা শেষবারের মতো দেশবাসীর সাথে একটা নিষ্ঠুর তামাশা করলেন শেখ হাসিনার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সাধারণ নির্বাচনের বছরে বাজেটে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হবে, বাজেট বিশারদ সুশীলজনেরা এমনটা ধরে নিয়েছিলেন। ব্রাত্যজনেরাও ভেবেছিলেন, নির্বাচনের বছরে শুল্ক বা কর বাড়বে না, বাজারদর আর শনৈঃশনৈ বাড়বে না। এখন সবাইকেই তাক লাগিয়ে দিয়ে অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব অশোভনীয় ‘আশাবাদের বাজেট’ হিসেবে যে ‘পরাবাস্তব’ অর্থবিল পেশ করেছেন, তাতে নিজ ‘মস্তিষ্কের উর্বরতা’ দিয়ে তিনি একটি প্রবাদবাক্যের ল্যভেদ করতে সচেষ্ট হয়েছেন। প্রবাদবাক্যটি চালু করেছেন মনগড়া নাটকের মার্কিন চলচ্চিত্রকার লেভিন সাহেব, আর এবারের বাজেট প্রসঙ্গে সেটি উদ্ধৃত করেছেন সংবাদ ভাষ্যকার সৈয়দ সামসুজ্জামান। তার তরজমা- ‘সব লোককেই সব সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় যদি প্রচারবাদ্য ঠিক থাকে আর বাজেটের অঙ্ক বিরাট হয়’। বিরাট অঙ্কেরই ২,২২,৪৯১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য, কিছু খয়ের খাঁ ছাড়া আর কোনো লোককেই বোকা বানাতে পারেননি তিনি। এক বাক্যে সুশীলসমাজের চাঁইরা বলেছেন- বাজেট ...
জনগণের বিরুদ্ধে একরোখা সরকারের যুদ্ধ
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
০৩ এপ্রিল, ২০১৩
এপ্রিলের শুরুতে কর্মসপ্তাহের তৃতীয় দিনে আবারো লিখছি সকাল-সন্ধ্যা হরতালের মধ্যে। সদ্যবিগত স্বাধীনতাবার্ষিকীর মাস মার্চে পুরোটা গেছে একাত্তরের মতোই। এক দিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী সহযোগে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, অন্য দিকে চলছে নতুন ধারার অসহযোগ তথা জনপ্রতিরোধ ও সহিংস হরতালের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা দিবসেও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সমানে চলেছে। রাজধানীতে ছাত্র শিবিরের স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় গুলি চালিয়ে পুলিশ ২১ জনকে গুলিবিদ্ধ করেছে, টিয়ার গ্যাস আর গ্রেনেড ছুড়ে জখম করেছে শতাধিক ছাত্রকর্মীকে, গ্রেফতার করেছে উপস্থিত শিবির নেতাদের। দুপুর থেকেই রাজধানীতে চলেছে বাস পোড়ানো, টায়ার ...
সরকারের সর্ষের মধ্যেই ভূত
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
২৩ ডিসেম্বর ২০১২
এবারের বিজয় দিবস উদযাপনে উৎসবমুখরতা বর্ণনায় কোনো কোনো দৈনিকে শিরোনাম হয়েছে : ‘জাতীয় ঐক্যের আহ্বান মহান বিজয় দিবসে’। অন্য দৈনিকে এসেছে : ‘ফুল হাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি লকণ্ঠে’। বাস্তবতা ছিল একটু ভিন্ন। সাভার স্মৃতিসৌধে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেও ছিল চাপা আতঙ্ক, সংঘর্ষের আশঙ্কা। ঐক্যের বুলি ছিল কপট কথকতা মাত্র। পত্রপত্রিকারই বিস্তারিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিজয় দিবসে সাভারের রাস্তায় কয়েকটি স্থানে অনেক লোককে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয় লোকজনসহ সাভারে আগতদের মধ্যে আতঙ্ক ...
দোষারোপের কূটরাজনীতি বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
৬ অক্টোবর ২০১২
দলীয়করণে আড়ষ্ট প্রশাসন, মামলা-হামলা, দোষারোপের রাজনীতি, একচক্ষু বিচার, আইনশৃঙ্খলার বিকার, জবরদখল, শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক কেলেঙ্কারি, বেহিসাবি ঘুষ কমিশন  কালো টাকার অর্থনীতি আর নির্বাচনী ভেলকি মৌলবাদের জুজু দেশকে কোথায় নিয়ে গেছে? বর্ষার জের কেবল শেষ হলো, হিমালয়ের বরফগলা বন্যা-নদীভাঙনের জের এখনো চলছে। অক্টোবর মাসের শুরুতেই সামাজিক অস্থিরতার খবর : বৌদ্ধপল্লীতে হামলা, বৃদ্ধার মৃত্যু; রামু, টেকনাফ, উখিয়া ও পটিয়ায় ১৯ বৌদ্ধবিহার, অর্ধশত বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ। সরকারবিরোধীদের অভিযোগ : সরকারি দল ধর্মীয় উত্তেজনার উসকানি আর নেতৃত্ব দিয়েছে; উত্তেজনা প্রশামনের নাটক করেছে আওয়ামী লীগের ...
মূলধারার রাজনীতি ও ২৩ সেপ্টেম্বরের হরতাল
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১২
২২ সেপ্টেম্বর শনিবার প্রেস কাবের সামনে বিােভের জন্য পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসলামি ও সমমনা ১২ দলের কিছু নেতা-কর্মী জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা পুলিশি বাধা ও বলপ্রয়োগের সম্মুখীন হলে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী ও ইসলামী খেলাফত আন্দোলনের আমির শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফসহ ইসলামি ও সমমনা ১২ দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে পুলিশ কর্মকর্তারা। অবশ্য ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারকৃত দুই নেতাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। আটক হওয়ার ...
মহাদুর্গতির সময়চিত্র : সাধু সাবধান
বিচিন্তা
নয়াদিগন্ত
১৯/০৯/২০১২
৯ সেপ্টেম্বর একটি গোলটেবিলে দেশের ছয়জন অর্থনৈতিক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ গত মাসে ফাঁস হওয়া হাল আমলের সর্বশেষ আর্থিক কেলেঙ্কারিটি তথা সাধারণভাবে যাকে হলমার্ক কেলেঙ্কারি বলা হয় সেই ‘ভয়াবহ’ (অর্থমন্ত্রীর সংশোধিত স্বীকারোক্তি) ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে কথা বলছিলেন। মতলববাজ লুটেরা ধনপতি, কমিশনখোর কেনাকাটা ব্যবসায়ী, পুঁজি পাচারকারী আর কালো টাকাওয়ালা (কিংবা হলমার্কের মতো ব্যাংকের টাকায় তৈরী) ভূমিদস্যুদের বারবার দাঁও মারার সুযোগ করে দিয়ে মতাসীন জোটের অভ্যন্তরে শক্তিশালী রাজনীতিবিদ ও পোষ্য আমলা-পুলিশ চক্র এ দেশের বিকাশমান অর্থনীতির সামষ্টিক শৃঙ্খলাকে ধাপে ধাপে ধ্বংসের পথে নিয়ে ...
তদন্ত সংকটে সরকারের গ্রহের ফের
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৪/০৮/২০১২
কঠিন তদন্ত-সংকটে ভুগছে দেশের মহাজোট সরকার। এক তদন্তে সৌদি কূটনীতিক খালাফ আল আলী হত্যা-রহস্যের একটা কিনারা মিলেছে। গোয়েন্দা পুলিশ সাংবাদিকদের সামনে ছিনতাইকারী একটা দল হাজির করেছে। তাদের দুজন স্বীকার করেছে যে, কূটনীতিকের কাছে ডলার দাবি করে ডলার পায়নি বলে তাকে গুলি করে মেরেছে তারা। সংশয়বাদীদের অবশ্য বিভ্রম কাটেনি। তাদের সন্দেহ, রাতে যে সময় কূটনীতিকের ফেলে যাওয়া লাশ মিলেছে, রক্তক্ষরণের দাগ মেলেনি, সে সময় সেখানে মোটর গাড়িতে করেও ছিনতাইকারীদের ঘোরাফেরা অস্বাভাবিক। স্বীকারোক্তি রহস্যময়। তবে সৌদি দূতাবাস খালাফ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য ...
দেশবাসীর হাল আর বিবিসিতে প্রধানমন্ত্রী
বিচিন্তা
নয়াদিগন্ত
০১/০৮/২০১২
এই রমজানে দেশের বিভিন্ন নদনদীর পাড়জুড়ে আর শহরতলি, উপশহর, পাহাড়ি এলাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে চলছে হাহাকার। ফের বন্যা, ক্রমাগত নদীভাঙন আর নাফ নদীর মোহনায় সমুদ্রব স্ফীতির কারণে অগণিত মানুষ গৃহহারা। বন্যার পানি সাগরের পানিতে কয়েক লাখ দেশবাসী পানিবন্দী। বাঁধের ধারে রাস্তার ধারে কোনো রকমে চালা তুলে বৃষ্টি-ঝড়ঝাপটায় মাথা গুঁজে আধপেটা খেয়ে-না-খেয়ে জীবনরা করে চলেছে নদীসিকস্তি আরো কয়েক লাখ উদ্বাস্তু। ফলে মফস্বল শহর ও শহরতলি বাড়ন্ত পল্লী এলাকায় আভ্যন্তরীণ শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বন্দরনগর মহানগর পর্যন্ত হেঁটে এসে আশ্রয় খোঁজার তাকৎ ...
অর্থ_অনর্থ প্রসঙ্গ
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০৮/০৭/২০১২
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দীর্ঘ ৮ মাস পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ ঋণ আটকে রেখে অবশেষে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু ঋণ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। বাতিলের ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্টের (যিনি ১ জুলাই কার্যভার গ্রহণ করেছেন) কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। নয়া বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলে দিয়েছেন, পদ্মা সেতুর ঋণ-চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক। কারণ বিশ্বব্যাংকের পুঁজি সরবরাহকারী রাষ্ট্রগুলোর কাছে সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক তার ঋণদান কার্যক্রমে কোনো দিন কোনো দুর্নীতির প্রশ্রয় দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। অতঃপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও মুখ খুলেছেন। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যেখানে তারা (বিশ্বব্যাংক) এক পয়সা ছাড় দেয়নি, সেখানে দুর্নীতি হলো কি করে? বরং এর পেছনে কারা আছে, তাদের কী উদ্দেশ্য, তা খোঁজ নেওয়া দরকার। তিনি বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন পড়ে দেখা হোক। তা হলেই আসল দুর্নীতি কোথায় আছে, তা ...
পদ্মা সেতু : বিশ্বব্যাংকের না
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০১/০৭/২০১২
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন চুক্তি বাতিল ঘোষণা করল বিশ্বব্যাংক। বিবিসি রেডিওতে ৩০ জুন ভোরে বহুভাষিক বিশ্ব সংবাদে দুনিয়াকে জানান দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংক যে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিতে চেয়েছিল দুর্নীতির অভিযোগ এনে দীর্ঘ বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত তাদের ঋণ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর ওয়াশিংটন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, এ সেতু নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা না করায় তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা, কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসাজশে বিভিন্ন সূত্র থেকে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। এসব তথ্য-প্রমাণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে এসব তথ্য-প্রমাণ দেওয়া হয়। ...
অর্থমন্ত্রী ও বাজেট প্রসঙ্গ
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
২৪/০৬/২০১২
কালো টাকার মোহান্ধ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এখন তার প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নয়, দেশের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ীদেরও জাতীয় অর্থনীতির জন্য অবান্তর, তার পছন্দের ভাষায় 'রাবিশ' বলে সাব্যস্ত করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংক আইন বদলাতে কমিশন বসিয়ে ইতিমধ্যে তিনি গরিব সঞ্চয়ীদের তিলে তিলে গড়া গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা 'জাতীয়করণ' তথা দলীয়করণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবারের বাজেট প্রস্তাবে তিনি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ীদেরও একহাত খেলা দেখিয়ে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন। মুষ্কিল হল, ব্যাংক তো দেদার কালো টাকার আমানতে চলে না, কালো টাকা ফাটকাবাজারে খাটে, আর অস্থাবর সম্পত্তিতে কিংবা বিদেশি ব্যাংকে ডলারে জমা হয়। ব্যাংকাররা তাই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ীদের আমানত হারানোর ভয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদের ২০১২-১৩ অর্থবছরের যে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাতে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন না থাকলে আমানতকারীদের সঞ্চয়ের সুদের ওপর ১০ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কেটে রাখার কথা বলা হয়েছে। ...
জলজ্যান্ত মানুষ গায়েব করে দেওয়ার গুপ্তঘাত
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
২২/০৪/২০১২
অনেকেই (বিশেষ করে সরকারপক্ষের লোকেরা) মনে করেছিলেন, রেলমন্ত্রী হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পদত্যাগ, দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে তার মন্ত্রী মর্যাদারক্ষা বা পুনর্নিয়োগ, আর নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত সন্দেহে পিলখানায় টাকার কাঁড়ি নিয়ে ধরাপড়া কর্মকর্তাদের দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ (বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিরোধীদলের দাবি মানে নি সরকার) এবং রেলে সবরকম নিয়োগ কর্মসূচি স্থগিত করাসহ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা উদ্ধারের দায়সারা ব্যবস্থা ও বিভাগীয় তদন্ত কাজের মধ্যদিয়ে রেলের 'কালো বিড়াল' কেলেঙ্কারি সামলানো গেছে; কিন্তু বিধিবাম। যে গাড়িচালক আলি আজম গাড়িতে (ঘুষের) টাকা আছে বলে চেঁচামেচি করে রেলমন্ত্রীর গৃহগামী 'কালো বিড়াল' ধরিয়ে দিয়েছিল, এখনো পর্যন্ত তার কোনো হদিস নেই। সাধারণ মানুষ তাকে 'হিরো' গণ্য করে মুগলে আজম আখ্যা দিয়েছে। ব্যাপক সন্দেহ, প্রতিশোধ নিতে নিয়োগ বাণিজ্যের খলনায়কদের হুকুমে আজমকে খুন করে লাশ গুম করা হয়েছে। আলি আজমের প্রাণভয়ে লুকিয়ে থাকা স্ত্রী স্বপ্না বেগম একমাত্র মেয়ে রিয়ার মাথায় হাত রেখে কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের বলেছেন, 'আমার স্বামী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তাবলিগ জামাতের সঙ্গে চিল্লা দিয়েছেন। তিনি কখনো মাদক সেবন করেননি। নিজেকে ...
বিদ্যুৎ খাতের টাকা কোথায় গেল?
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০৮/০৪/২০১২
বর্তমান সরকারের ৩৯ মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে পাঁচবার। ততোধিকবার আমদানিলব্ধ এবং দেশজ উৎপাদনলব্ধ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির অনিবার্য প্রভাব বর্তেছে প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবার বাজার দরে। মূল্যস্ফীতি ডবল ডিজিটে এসে ঠেকে আছে গত বছর থেকেই। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। কম খাচ্ছে স্বল্পবিত্ত মানুষ। দেশে পুষ্টিহীনতা দ্রুত বাড়ছে বলে জাতিসংঘের জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। এখন মৌসুমি ফসল বাজারে আসায় গত দু'মাসের পরিসংখ্যানে খাদ্যমূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে দেখা যায়। ফলে ফেব্রুয়ারির পরে চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের মার্চ মাসে জাতীয় মূল্যস্ফীতি আরেক দফা কমেছে। কিন্তু খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার মার্চে বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তাই মাসওয়ারি মূল্যস্ফীতির হার ডবল ডিজিটেই রয়ে গেছে। মার্চ মাসে খাদ্যমূল্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যমূল্য মিলিয়ে স্ফীতির হার হারিয়েছে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারি মাসে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৪৩ ...
বিশ্বব্যাংক প্রধান ও দেশের অর্থসংকট
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০৪/০৩/২০১২
বিশ্বব্যাংকের প্রধান পদে নিয়োগের জন্য ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপারিশ দেশে-বিদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। অধিকাংশেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে, শেখ হাসিনা যাকে এতদিন ধরে 'গরিবের রক্তচোষা' বলে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করেছেন, সামাজিক ব্যাংকের ওপর বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সরকারি নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে বয়সের দায়ে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের আজীবন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের নির্বাচন অগ্রাহ্য করেছেন, কার্যত: গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসের বিতাড়নের ব্যবস্থা করেছেন, এখন তারই গুণগান করে শেখ হাসিনা তাকে বিশ্বব্যাংকে পাঠাবার তদবির করছেন কেন? তিনি কি তামাশা করছেন? তাছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের পদটি তো রেওয়াজ মোতাবেক শুধুমাত্র বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিকদের প্রাপ্য! ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কিছু দেশি-বিদেশি অর্থনীতিবিদ ও সাবেক বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা। তাদের মতে বিশ্বঅর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চলমান সংকট এবং ব্যক্তিগত বা জাতিগত উভয় পর্যায়ে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বেসামালভাবে বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকে নয়া দক্ষ ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বের প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় ড. ইউনূসের যোগ্যতা বিচার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই রেওয়াজের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে তাকে বিশ্বব্যাংকের প্রধান পদে মনোনীত করতে পারে; প্রস্তাবক ...
সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৪ মে, ২০১৩
দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করেছেন সরকার বাহাদুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। যেহেতু জরুরি অবস্থা জারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতির, সেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনানুষ্ঠানিক ঘোষণাটিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই জারিকৃত বলে ধরে নেওয়া যায়। ১৯ মে দ্বিপ্রহরে চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরমান দিলেন : 'কোনো রাজনৈতিক দলকে আগামী এক মাস সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।' তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাশকতা চেষ্টার নজির হিসেবে তিনি যুক্তি দেখালেন, বিএনপি হেফাজতের কাঁধে ভর করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারকে ...
রাজনৈতিক মীমাংসার সংলাপ ও রূঢ় বাস্তবতা
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
১৯ মে, ২০১৩
সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে পৌঁছে মতাসীনেরা আখের গোছাতে যারপরনাই মরিয়া হয়ে উঠেছে। হবু নির্বাচনের আগে সরকারপরে নেতা পাতিনেতা হাকিম আমলা ষণ্ডাপাণ্ডা ফেউ আর পোষ্যদের আখেরি সেলামি রিশ্বৎ আদায় দখলবাণিজ্য ভোগলালসার খোরাক মেটাতে জনসমাজের প্রাণ ওষ্ঠাগত। গদি রা আর আবারো মতা দখলের নীলনকশা বাস্তবায়নে সরকারের পুলিশরাজ রাষ্ট্রের দমন মতার মাত্রাহীন অপব্যবহার করে চলেছে। গণগ্রেফতার, পৌনঃপুনিক মামলা-হামলা হয়রানির কৌশলে রাজনৈতিক বিরোধিতা খর্ব না হওয়ায় সরকার জনমনে ত্রাস সৃষ্টির জন্য রাজপথে বিােভ দমনে ‘গণহত্যা’র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। প্রতিক্রিয়ায় সারা দেশে শুরু হয়েছে বিপ্তি রাজনৈতিক সহিংসতা। তার সাথে নানা জায়গায় যুক্ত হয়েছে গ্যাস বিদ্যুৎ সার পানিসহ নানা অব্যবস্থা ও শ্রম অসন্তোষজনিত সহিংস গণপ্রতিরোধ। প্রশাসন অচল। মফঃস্বল এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ এক রকম নেই বললে চলে। মতাসীনদের প্রশ্রয়েই গড়ে উঠেছে মাদক আর অস্ত্রচালান, চুরি, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ বাণিজ্যে লিপ্ত অপরাধবৃত্তের অভয়ারণ্য। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক তহবিল লুট, পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি ইত্যাদি ...
মেকি জাগরণ বনাম প্রকৃত গণজাগরণ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১৬ এপ্রিল, ২০১৩
রাষ্ট্রের দমন ক্ষমতার স্টিম রোলার দিয়ে নির্বিচার মামলা-হামলা এবং মিডিয়ার বাধ্যতার নানা ফাঁদ এঁটে প্রচার ডংকায় সমন্বিত বিরোধী শক্তিগুলোর কণ্ঠরোধের কৌশলকেই গদি রক্ষার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে টলটলায়মান হাসিনা সরকার। সরকারপক্ষীয় নেতানেত্রীদের চড়া সুরের গলাবাজিতে শ্রোতারা অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, ক্ষমতাসীন জোটের আত্দবিশ্বাসের ইমারত কীভাবে ভিত ধসে কাঁপতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের অভ্যন্তরে কর্তাব্যক্তিরা আর ওয়াকেবহাল মহল সেই কাঁপুনি জ্বরে ঠিকই ঘামতে শুরু করেছে। একটা লক্ষণ (ঢাকার একটি জনপ্রিয় দৈনিকের প্রতিবেদক নূরুজ্জামানের ৬ এপ্রিল প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে সারাংশ) : উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অনিশ্চিত অবস্থায় বিদেশ সফরের হিড়িক পড়েছে ভিআইপিদের। বিশেষ করে সরকারের সুবিধাভোগী রাজনৈতিক নেতা, সচিব, পুলিশ কর্মকর্তা ও হাই প্রোফাইলের লোকজনই বেশি আছেন দেশের বাইরে। ভিআইপিরা বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে অর্থও পাচার করছেন। অনেকে নিজেরা যাচ্ছেন না, অধীনস্থ কর্মকর্তা বা আপনজনদের মাধ্যমে টাকা পাচার করছেন। দেশ যতই সংকটের দিকে যাচ্ছে, ততই দেশের হাই প্রোফাইলের লোকজনের বাইরে যাওয়ার ভিড় বাড়ছে। এ তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে ...
মেকি জাগরণ বনাম প্রকৃত গণজাগরণ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
১২ এপ্রিল, ২০১৩
রাষ্ট্রের দমন ক্ষমতার স্টিম রোলার দিয়ে নির্বিচার মামলা-হামলা এবং মিডিয়ার বাধ্যতার নানা ফাঁদ এঁটে প্রচার ডংকায় সমন্বিত বিরোধী শক্তিগুলোর কণ্ঠরোধের কৌশলকেই গদি রক্ষার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে টলটলায়মান হাসিনা সরকার। সরকারপক্ষীয় নেতানেত্রীদের চড়া সুরের গলাবাজিতে শ্রোতারা অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, ক্ষমতাসীন জোটের আত্দবিশ্বাসের ইমারত কীভাবে ভিত ধসে কাঁপতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের অভ্যন্তরে কর্তাব্যক্তিরা আর ওয়াকেবহাল মহল সেই কাঁপুনি জ্বরে ঠিকই ঘামতে শুরু করেছে। একটা লক্ষণ (ঢাকার একটি জনপ্রিয় দৈনিকের প্রতিবেদক নূরুজ্জামানের ৬ এপ্রিল প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে সারাংশ) ...
মগের মুল্লুকে নির্বাচনী যুদ্ধের রক্তাক্ত মহড়া
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২২ মার্চ, ২০১৩
একসময়কার অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী এখন ক্ষমতাসীন সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, অন্যতম নীতিনির্ধারক। একসময় তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে নয়, পরিণত বয়সেও তিনি হরতালের জন্য পথরোধ করতে সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে শুয়ে পড়ে পিকেট বহাল করেছেন। বিব্রত পুলিশ তাকে অপসারিত করতে চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তুলতে গেলে ছবি উঠেছে কাগজে। অশালীন বল প্রয়োগের সেই পুলিশি আচরণ ধিক্কার জাগিয়েছে সুশীল সমাজে। অবশ্য গণজাগরণের লক্ষ্যে তার সেসব অতীত তৎপরতা সুশীল সমাজের বাইরে 'আম আদমি'র জনসমাজে তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। ক্ষমতার লড়াইয়ে রত নৌকার পালে হাওয়ার জোরেই তিনি ...
সোনার বাংলা শ্মশান হবে না
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
৯ জানুয়ারী ২০১৩
সরকারঘেঁষা পত্রিকাগুলো যদিও লিখেছে, সরকারের পঞ্চম বছরে বিরোধী দলের প্রথম হরতালটি ছিল নিরুত্তাপ, বোমাবাজি ভাঙচুরের হরতাল, টেলিভিশনের পর্দায় আর লোকমুখে স্যা ছিল : ৬ জানুয়ারি বিপ্তি কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের মারমুখী অবস্থানের মধ্যে গতকালও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় প্রকাশ্যে মিছিল-পিকেটিং করতে পারেননি। তবুও হরতাল হয়েছে, ভয়ে নয়। মন থেকেই মানুষ হরতালের ডাকে সাড়া দিয়েছে। কারণ গত চার বছরে অনেক রাজনৈতিক বা মিশ্র এজেন্ডার হরতাল আহূত বা পালিত হয়েছে বটে, তবে ...
প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও শঙ্কা
কলাম
মানবকণ্ঠ
১ জানুয়ারি ২০১৩
সর্বসাধারণের অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে প্রথমেই বলতে হয়, ২০১২ সালের পুরো বছরই দেশবাসী পুড়েছেন দ্রব্যমূল্যের দাবানলে। চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, আটা, ময়দা প্রভৃতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সারা বছরই ছিল চড়া। তার মধ্যে রোজার এক মাস, দুই ঈদ, শবেবরাত, পয়লা বৈশাখ প্রভৃতি উপলক্ষে মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। মাছ, মুরগি, গরু-খাসির মাংস যারা প্রত্যাশা করেন না, সেই দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ বছরটি পার করেছেন অতিকষ্টে। সারা দিনে কখনো আধপেট, কখনো সিকিপেট খেয়ে। সার, বীজ, কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সব খাদ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। ঘাটে ঘাটে সন্ত্রাস ও সংঘটিত চাঁদাবাজি তুঙ্গে ওঠার কারণে ব্যবসায়-বাণিজ্যের খরচ যারপরনাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এক বছরে আলু ও পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ডালের দাম বেড়েছে শতকরা ৪০ ভাগের মতো, লবণের দাম বেড়েছে শতকরা ৩০ ভাগের কাছাকাছি। দেশেই উৎপাদিত সরিষার তেলের দামও বেড়েছে শতকরা ৩০ ভাগ। তাই গ্রামাঞ্চলের বা শহরতলির গরিব মানুষ ...
নিরাপত্তাহীনতায় বিপন্ন দেশবাসী
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২৮ ডিসেম্বর ২০১২
সিনেমার বিজ্ঞাপনের কায়দায় একটা কার্টুন পত্রিকার প্রচ্ছদ : শুভমুক্তি বিকাশ। মূল খবর : চুপিসারে উপরতলার নির্দেশে জামিনে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশকে। কোনো দাগী আসামিকে জামিনে ছাড়া হলে সব গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে সতর্ক করা হয়, যাতে জামিনে-থাকা অবস্থায় ওই আসামি কোনো অঘটন না ঘটাতে পারে তার নজরদারির জন্য। এক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি। জেল গেট থেকে একটা বড় গাড়ি এসে কালো কাচের আড়ালে বসিয়ে তাকে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গেছে। কেউ বলে পুলিশেরই গাড়ি, কেউ বলে এক ধনী ব্যবসায়ীর গাড়ি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিকাশকে ছাড়া হয়েছে। বিরোধী পক্ষের দুষ্ট লোকের কেউ বলছেন মোটা টাকা ঘুষ নিয়ে বিকাশের জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা হয়েছে। কেউ বলছেন, নির্বাচনের আগে বাছাই-করা কিছু প্রতিপক্ষের চুক্তিখুনের উদ্দেশে মুক্তির ব্যবস্থা হয়েছে। সাধারণভাবে প্রশ্ন উঠেছে, আইনি প্রক্রিয়ায়ই যদি বিকাশকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে এত গোপনীয়তা কেন? কাউকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে ভোরবেলা মুক্তি দেওয়া হলো কেন? এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গাড়িতে করে ...
হরতালের সময়চিত্র, অনুবর্তি গড্ডলিকা
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২১ ডিসেম্বর ২০১২
ডিসেম্বর মাস এলে প্রবাসী বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী, বিশেষত মোটা রোজগারের অধ্যাপক, পরামর্শক বা জাতিসংঘ চাকরিজীবী পরিবারগুলোর ছুটিতে বাংলাদেশে আসার ধুম পড়ে যায়। ৪ ডিসেম্বর জামাত আহূত হরতালের দিন একটা গেস্টহাউসজাতীয় ছোট হোটেলের লবিতে সকাল ১১টায় প্রবাস-প্রত্যাগতদের সঙ্গে ঢাকাবাসী কিছু অধ্যাপকের চায়ের আড্ডায় দেরি-করে-ঘুম-থেকে-ওঠা সদ্য প্রত্যাগত একজন প্রশ্ন করলেন, 'কার হরতাল?' জবাবে ঢাকাবাসী একজন ফস্ করে বলে উঠলেন, 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের হরতাল।' কথাটা মনে ধরল প্রৌঢ় এক প্রবাসী অধ্যাপকের। তিনি নভেম্বরের শেষে দেশে এসেছেন। প্রতিদিনের দু'একটা কাগজ জমিয়ে রেখেছেন। দেখালেন, ৩০ নভেম্বর একটি খবরের কাগজের প্রথম পাতায় ছোট্ট খবর : 'প্রকাশ্য কর্মসূচিতে ফিরছে জামায়াত। চোরাগোপ্তা মিছিল এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার আগাম ঘোষণা দিয়ে ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' ওই দিনেরই আরও টুকরো খবর : জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, ...
দেশের মানুষ অধৈর্য হয়ে উঠেছে
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
১৪ অক্টোবর ২০১২
অবশেষে বিরাট ব্যাংক কেলেঙ্কারির শিখণ্ডী হলমার্ক কোম্পানি-প্রধান তানভীর মাহমুদ এবং তার ভায়রা হেড ম্যানেজার (বড়বাবু) তুষার আহমেদকে ৭ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মিরপুরে পলাতক অবস্থায় গ্রেফতার করেছে দ্রুত পুলিশি কর্তৃপক্ষ র‌্যাব। দুদকের নির্দেশে নয়, অস্ত্র আইনে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ব্ল্যাকবেরি মুঠোফোন, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চারটি গুলি ও দুই লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ওই দিনই রাত ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাভারের তেঁতুলঝোড়ে হলমার্কের স্থাপনায় ...
এরশাদের দিল্লি দর্শনের হিসাব-নিকাশ
বিচিন্তা
নয়াদিগন্ত
১২/০৯/২০১২
সম্প্রতি নয়াদিল্লি ঘুরে এলেন এইচএম এরশাদ। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে দীর্ঘতম সময় অধিষ্ঠিত থেকে পদত্যাগ ও কারাবরণ করে কলঙ্ক মোচনের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় সংসদীয় রাজনীতিতে প্রত্যাগত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বর্তমানে মতাসীন মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় প্রধান শরিক। তবে বেশ কিছু দিন ধরে বলে চলেছেন : আগামী নির্বাচনে তার দল মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের সাথে থাকবে না, আলাদা লড়বেন। স্পষ্ট করে না বল্লেও আকারে-ইঙ্গিতে বা মৃদু সমালোচনায় তিনি এবং তার দলের কেউ কেউ বুঝিয়ে দিচ্ছেন, শেখ হাসিনার ‘স্বেচ্ছাচার’ বা মতাসীন ...
এই চোরেরা যাবে কবে?
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
০৮/০৯/২০১২
লাগামহীন ঘটে চলেছে মূল্যস্ফীতি, বড় ধসের পর থেকে থেকে পুঁজিবাজারের দরপতনের নির্দয় লীলাখেলা, একদিকে কালো টাকার দৌরাত্দ্য অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট, ডলারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি আর পুঁজিপাচার। ঘটে চলেছে দৃশ্যত অর্থনীতির কলেবর বৃদ্ধি অথচ কার্যত দারিদ্র্য বৃদ্ধি, মধ্যবিত্তেরও নাভিশ্বাস উঠেছে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে। সামষ্টিক অর্থনীতির এই বিপর্যয় সামলাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই অর্থমন্ত্রীর। আর তার মুখের কথারও লাগাম নেই। অর্থনৈতিক বিড়ম্বনাক্লিষ্ট মানুষের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে চলেছেন তিনি। শেয়ারবাজারে সর্বস্বান্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের তিনি উপহাস করেছিলেন এই বলে_ ...
দুঃশাসনে বন্দী গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ
খোলা কলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২০/০৭/২০১২
১৫ জুলাই বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ শিরোনাম : (আওয়ামী) যুবলীগের কংগ্রেসে বিশৃঙ্খলা, হট্টগোল। বিবরণে প্রকাশ, ১৪ জুলাই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে যুবলীগের কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে চেয়ারম্যান পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে হৈচৈ, বিশৃঙ্খলা ও প্রচণ্ড হট্টগোল হয়। ফলে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পরে রাতে প্রচণ্ড হট্টগোল ও হৈচৈয়ের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টায় অধিবেশন মুলতবি করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ওমর ফারুক চৌধুরী ও মির্জা আজম গণভবনে যান। সেখানে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে নতুন কমিটির নেতাদের চূড়ান্ত ...
বাংলা-মার্কিন সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০৬/০৫/২০১২
প্রায় নিত্যনিয়মিত কালবৈশাখী আর বৃষ্টিতে আবহাওয়ার উত্তাপ যেমন কমেছে, তেমনি মে দিবসের ছুটির দিন থেকে রাজপথে সাংঘর্ষিক রাজনীতির উত্তাপ কিছুটা ছুটিতে পাঠিয়ে বাগযুদ্ধ আর আইনি লড়াই-পুলিশি ধরপাকড়ে সীমাবদ্ধ হয়েছে। একাধিক বৈদেশিক অভ্যাগতের আতিথ্যের জন্য, বিশেষ করে একক পরাশক্তির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ দেশ সফরের জন্য 'রাষ্ট্রস্বার্থে' এ দেশের দুঃখীর কান্না আর বিবদমান রাজনৈতিক ঘোড়দৌড়ের রাশ কিছুটা টেনে ধরা হয়েছে। সংবাদভাষ্যকার এ কে এম জাকারিয়া এ সম্পর্কে লিখেছেন (মর্মার্থ) : ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর টানা তিন দিন হরতাল ডেকে চার দিনের বিরতি দিয়েছিল বিএনপি। এ বিরতির সময়টি ছিল বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া 'সময়সীমা'। এ সময়ের মধ্যে ইলিয়াস আলীকে পাওয়া না গেলে আবারও 'কঠোর' কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আবারও দুই দিনের হরতাল হয়ে গেল। কোনো সুরাহা হল না! ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুই দিনের হরতালের পর বিএনপির সামনের কর্মসূচি ৬ মে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি। এর মধ্যে সরকারও দেখা যাচ্ছে কঠোর হতে শুরু ...
লোডশেডিং কমাতে হবে
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০১/০৪/২০১২
সরকার বাহাদুর মূল্যস্ফীতি হ্রাসের একটা সুখবর দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত হিসাব মোতাবেক খাদ্যমূল্যস্ফীতির সূচক জানুয়ারির ১০.৯০ থেকে ফেব্রুয়ারিতে ৮.৯২ তথা এক ডিজিটে নেমে এসেছে। দেশের মৌসুমি ফসল বাজারে আসায় খাদ্যমূল্যস্ফীতি খানিকটা কমেছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ বলছেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এতই কমে গেছে যে, চাহিদার অভাবে কিছুটা দাম পড়ছে। অর্থনীতিবিদরা কেতাবি ভাষায় বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের 'সংকোচনমূলক' মুদ্রানীতির সুফল ফলতে শুরু করেছে। অন্যেরা সেকথা মানছেন না। কারণ খাদ্যবহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতির সূচক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই ফেব্রুয়ারি মাসেই লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৫৭ মাত্রায়। ফলে দুটি মিলে মূল্যস্ফীতির সাধারণ সূচক এখনো ডবল ডিজিট। আর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা : মার্চ মাসে এসে তেল -াটা-ডিম-মুরগির দাম বাড়ছেই। ডিমের ডজন ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর চড়া বাসা ভাড়া যেমন শহরের মানুষকে পাগল করে দিচ্ছে, তেমনি পুঁজির তারল্য সংকটে শ্রমিকদের ওভারটাইম বন্ধ করে দিয়েছে অনেক শিল্পকারখানার মালিক। বাড়তি বাড়ি ভাড়ার তাগিদ মেটাতে না পেরে অনেক নিম্নবিত্ত চাকরিজীবী ছেলেমেয়ের স্কুল ...
খাজনার চাইতে বাজনা বেশি
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
১১/০৩/২০১২
ডবল ডিজিট মূল্যস্ফীতি চলছে দেশে। বাজারদর কমার কোনো লক্ষণ নাই। অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের তিন তিন মাস করে প্রথম ছয় মাসের তথা গেল ইংরাজি সালের শেষ দুই প্রান্তিক তার দেওয়া হিসাব মোতাবেক ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় চলতি (২০১১-১২) অর্থবছরের একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক ৪৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়েছে। এ সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটি চার দশমিক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে আট শতাংশ। খাদ্যমূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে গত বছরের হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণ হলেও বেশি পীড়াদায়ক মূল্যস্ফীতি ঘটেছে খাদ্যে। অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা : '২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের গড় মূল্যস্ফীতির তুলনায় বর্তমান অর্থবছরের একই সময়ের গড় মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি, যা মূলত খাদ্যমূল্যস্ফীতির জন্য ঘটেছে। খাদ্য আমদানি বৃদ্ধি ও স্বল্পমেয়াদি বিদ্যুৎ প্লান্টগুলোর জন্য জ্বালানির জোগান অব্যাহত রাখার প্রয়োজনে বিগত অর্থবছরে আমদানিব্যয় ব্যাপক হারে বেড়েছে। ...
বর্ষবিদায়ের শেষবেলা মহা মুসিবতের চেহারা ফুটে উ�
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০১/০১/২০১২
বিশ্ব ব্যবস্থায় বিষম বিভ্রাট ঘটে চলেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য চিহ্নিত রণাঙ্গনে নানা বিভ্রাট। দেশে দেশে চলেছে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের চক্রবৃদ্ধিজনিত বিভ্রাট। ঘটছে বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ও কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিভ্রাট। আরো বিলক্ষণ ফুটে উঠেছে ভূরাজনৈতিক শক্তিদ্বন্দ্বের ভারসাম্য বিভ্রাট। এসবই ঘটে চলেছে প্রথাগত ত্রুটি বা ভ্রান্তির সূত্র ধরে। একইভাবে পাশাপাশি চলেছে পরিবর্তনকামী গণশক্তির উন্মেষ, প্রতিবাদী কণ্ঠের বৈপরীত্য। সেটাও ঘটে চলেছে একটা নিয়মের সূত্র ধরে। ঘটে চলেছে রক্তাক্ত 'আরব বসন্ত' লব্ধ গণজাগরণ। ঘটে চলেছে ইউরোজোনের ইন্দিগনাদো বা ঘৃণা প্রতিবাদ, উত্তর আমেরিকায় ওয়ালস্ট্রিট দখলের আওয়াজে মুনাফার আগে মানুষকে দেখার বিক্ষোভ মিছিল, শান্তি সমাবেশ। পাশের দেশে একাধারে ঘটে চলেছে সমাজচ্যুত ও সম্পদ বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জনযুদ্ধ এবং নিয়মনিষ্ঠ বিপুল মধ্যবিত্ত স্বল্পবিত্ত সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নব্য সত্যাগ্রহী আন্না হাজারের শুদ্ধি অভিযান। সব দেখেশুনে প-িতরা বলছেন, নতুন বছর ২০১২ সাল হবে মুসিবতের বছর। স্বল্পোন্নত দেশ বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যবস্থার বিভ্রাটজনিত মুসিবত এখনো তেমন ধাক্কা দেয়নি। বিশ্ব আবহাওয়া পরিবর্তনের বিপর্যয়ও তেমন তীব্র নয়। কিন্তু ৪ দশকপূর্ব ...
সংবিধান মানছে না কোনো পক্ষ
বিস্ফোরণোন্মুখ বাংলাদেশে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে সরকার
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
০৫ জুন, ২০১৩
সাভারে বহুতল ভবন ধসে পড়ে নিহত ১১২৮ জন, নিখোঁজ ১৭৬ জন এবং পঙ্গু বা গুরুতর আহত হাজার শ্রমিকের দুর্ভাগ্যের মর্মান্তিক ঘটনাকে ‘ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে বিগত ৯ মে নোবেল বিজয়ী কর্মবীর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিশাল ফাটল ধরেছে : “রানা প্লাজায় ফাটলের পর ভবনধস দেখিয়ে দিলো আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যে বিশাল ফাটল ধরেছে, সেটা আমলে না নিলে জাতিও এরকম ধসের ভেতর হারিয়ে যাবে। সাভারে শুধু শুধু ভবন ধসে পড়েনি। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ার অভিলণ হিসেবে এ ভবন ধসে পড়েছে। ভবনধসের বিশ্লেষণ করলে আমাদের ধসে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চেহারা ধরা পড়বে।” বাস্তবিক, ভূ-রাজনৈতিক ঘোরচক্রে আর জরুরি অবস্থার সুযোগে ২০০৮-এর সালতামামি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে দ্বিতীয় শেখ হাসিনা সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মতাসীন হয়েছে, তার একাংশের কাজই যেন ছিল একে একে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাগুলোর খিলান ধসিয়ে দিয়ে নয়া বাকশালী ইমারত তৈরির বন্দোবস্ত করা। বিগত ৫৫ মাসের শাসনামলে সেই কুকাজটিরই ইন্ধন জুগিয়ে চলেছে মতাসীন সরকার। ...
ডিসেম্বরের প্রথম হরতাল ও প্রথম অবরোধ
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
১২ ডিসেম্বর ২০১২
৩০ নভেম্বর একটি জনপ্রিয় ধর্মনিরপেতাবাদী খবরের কাগজের প্রথম পাতায় ছোট্ট খবর ছিল, ‘প্রকাশ্য কর্মসূচিতে ফিরছে জামায়াত। চোরাগোপ্তা মিছিল এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার আগাম ঘোষণা দিয়ে ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ওই দিনেরই আরো টুকরো খবর : ‘জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২৯ নভেম্বর সিলেটে জনসভা শেষে সাংবাদিকদের ...
এ দেশের মানুষ ভারত-মুখাপেী হবে না
বিচিন্তা
নয়া দিগন্ত
২২ নভেম্বর ২০১২
বিগত সপ্তাহান্তে বাংলা একাডেমীর নতুন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল একটি নতুন বইয়ের হাইপ্রোফাইল বা মর্যাদাবান প্রকাশনা উৎসব। বইটির লেখক ভারতীয়, প্রকাশক এ দেশের লব্ধপ্রতিষ্ঠ ইংরেজি ডেইলি স্টার। প্রকাশকের জ্ঞাতিকুটুম্ব (প্রতিষ্ঠানের মালিকানার বড় শরিকের সূত্রে) বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক প্রথম আলোয় পরদিন (১৭ নভেম্বর) শেষ পাতায় আকর্ষণীয়ভাবে আয়তরেখাবন্দী করে ওই অনুষ্ঠানের একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার চমকপ্রদ শিরোনাম, উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে, ‘দেশ ভাগ একটি ভুল’। ওই দিনই সন্ধ্যায় একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বৈঠকখানায় টকশোতে অংশ নেয়ার জন্য অপেমাণ কিছু বিজ্ঞ নাগরিকের ...
মিডিয়া বোকা বুঝতে রাজি নয়
সম্পাদকীয়
বিডি টুডে
১২ অক্টোবর ২০১২
পাবলিকের সঙ্গে চালাকি করেই চলেছে ক্ষমতাসীন রাজনীতিক-প্রশাসনিক-দলীয় ব্যবসায়ী চক্র। তাদের পৃষ্ঠপোষকতাপুষ্ট শেয়ারহাঙর-ব্যাংকার-কমিশনখোর-চাঁদাবাজ-ডাণ্ডাবাজ-অস্ত্রবাজদের ধান্দা সমানে আড়াল করে চলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কর্তৃপক্ষ। তাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যতটা না বাদ সেধেছে তার চেয়ে বেশি বাদ সাধছে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার আর মিডিয়ার দৌড়ঝাঁপ। পাবলিক সরাসরি কথা বলছে মিডিয়ার সঙ্গে আর ফেসবুক টুইটারে কথা বলছে একে অন্যের সঙ্গে। তাই চালাকি করেও সুবিধা করতে পারছেন না সাহারা খাতুনকে সরিয়ে আগত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তার জনপ্রতিনিধিত্ব উচ্চ আদালতের রায়ে দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত বলে বিতর্কিত হলেও এক সময়ের জাঁদরেল সচিব হিসেবে তার দক্ষতা পরীক্ষিত। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংঘশক্তির প্রবক্তা হিসেবে 'জনতার মঞ্চ' পর্বে তিনি নেতৃত্বগুণেরও স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এমন বিচক্ষণ বাঘা মন্ত্রীও এখন ধরা খাচ্ছেন পাবলিকের অবিশ্বাসের কাছে। ...
শেয়ারবাজার ও অর্থমন্ত্রী
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
১৭/০৬/২০১২
বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের জনসমাজের সঙ্গে তামাশা করে চলেছেন। 'বিশাল ঘাটতির নির্বাচনী বাজেট' সংসদে পেশ করে অর্থমন্ত্রী জাতি-রাষ্ট্রের কপালে দুঃখ আছে একথা জানিয়ে দিয়ে অমস্নান 'হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস' এমন নিয়ত করেছেন, তাঁর ছবিসহ তেমন শীর্ষ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় দৈনিকগুলোতে। বাজেটে আবারও কালোটাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ থাকছে। এবার আরও পোক্ত করে আয়কর আইন সংশোধন করে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের কৃপাধন্যদের পাওয়া নতুন ব্যাংকের লাইসেন্সধারীদের ব্যাংক পুঁজি সরবরাহ করলে সহজে কালো টাকা সাদা হবে। আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেও টাকা সাদা করা যাবে। বাঁধা আয়ের সৎ করদাতা বা সৎব্যবসায়ী যারা নিয়মিত করদাতা, তাদের দিয়ে অর্থমন্ত্রীর বিশাল বাজেটের চাহিদা মিটছে না। তাই আবুল মাল আবদুল মুহিত এখন অসৎ মানুষের খোঁজে বেরিয়েছেন। শেয়ার কেলেঙ্কারি ডলার কেলেঙ্কারি ইত্যাদি ফন্দি-ফিকিরের 'অসৎ' যন্ত্রীদের আর দাগি ঋণখেলাফিদের সাড়ে তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে একটার পর একটা কা- ঘটানোর নানা সুযোগ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাতে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে অনেক ফন্দিবাজ ...
শ্রমিক নেতাও গুম হচ্ছে
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
২০/০৫/২০১২
প্রশাসনিক শান্তি রক্ষায় সরকার বাহাদুর আইন আদালতের অপব্যবহার করে পুলিশরাজ কায়েম করেছেন বলে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ। একের পর এক রহস্যজনক খুনের ঘটনা আর গুম করা মানুষের কোনোই হদিস করতে পারছে না পুলিশ। প্রতিবাদী টানা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের বিরতি-পূর্ব ঘটনায় পুলিশ আর পাহারাদার গোয়েন্দার চোখের সামনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে আর সুরক্ষিত সচিবালয়ের ভেতরে বাস পুড়ল, ককটেল ফুটল। হাতেনাতে কোনো দুষ্কৃতকেই আটক করতে, এমনকি শনাক্ত করতেও পারল না টহল পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ বা সাস্ত্রী-সিপাই। অথচ ঢালাওভাবে অকুস্থলে অনুপস্থিত ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের হুকুমের আসামি সাব্যস্ত করে মামলা ঠোকা হল। হরতাল-বিরতি আর কর্মসপ্তাহের বিরতি মিলিয়ে সাত দিনের মতো তারা ফেরার থাকলেন। আর তাদের আইনজীবীরা আগাম জামিন বা হয়রানি বন্ধের আদেশ নিতে হাইকোর্টের এক বেঞ্চ থেকে আরেক বেঞ্চে ঘোরার চরকিতে হদ্দ হল। এরপর জামিনের ভরসা পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজিরা দিতেই তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে ৩৩ জন বিশিষ্ট জননেতাকে সরাসরি জেলে পাঠানো হল। ফলে দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভে জ্বালাও পোড়াও ভাঙচুরে আবারো অস্থির হল ...
সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশের অর্জন
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
১৮/০৩/২০১২
বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসম্পদ, বিশেষ করে নদীমাতৃক এ দেশের পলিসঞ্চিত মহীসোপানের সুদূর পক্ষবিস্তার তথা 'বেঙ্গল সি ফ্যান'-এর ওপর ন্যায়সম্মত অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটা মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধে যে চূড়ান্ত রায় ১৪ মার্চ জার্মানির হামবুর্গে ইটলস বা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনসংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালত ঘোষণা করেছে, তাতে আমাদের উপকূলরেখা থেকে সরাসরি ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সাগরসম্পদ ও মহীসোপানে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ ও সার্বভৌম স্বত্ব স্বীকৃত হয়েছে। এ ছাড়া সেন্ট মার্টিন দ্বীপের চতুর্দিকের সাগর এবং মহীসোপানেরও ১২ মাইল পর্যন্ত সার্বভৌম অধিকার বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে, মিয়ানমারের মহাদেশীয় অধিকার বিবেচনায় সেটা ৬ মাইলে সীমাবদ্ধ করার দাবি মানা হয়নি। মিয়ানমার এ রায় মেনে নিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে দুই প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অমীমাংসিত থাকায় দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশ সমুদ্রসম্পদ আহরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৭৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীর তাড়া খেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কানাডীয় জ্বালানি তেল অনুসন্ধান কোম্পানি সিসমিক জরিপের কাজ বন্ধ করে পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হয়। ...
অর্থনৈতিক সংকটই বড় চ্যালেঞ্জ
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
১৫/০১/২০১২
২০১১ সালের বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তন ও পুঁজিবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার বিভ্রাটজনিত সংকট সমুন্নত অগ্রসর পাশ্চাত্য জগৎকে যেভাবে স্পর্শ করেছে, অগ্রগতিশীল বা অনগ্রসর এশিয়া ও আফ্রিকাকে সেভাবে পর্যুদস্ত করেনি। রাজনৈতিকভাবে তথাকথিত আরব বসন্ত অবশ্য গণশক্তির বিস্ফোরণে মধ্যপ্রাচ্যের শাসন ব্যবস্থা বহুলাংশে বদলে দিয়েছে। ২০১২ সালে বিশ্ব মন্দা গভীরতর হবে বলে পূর্বাভাস। এ ছাড়া বিশ্ব শক্তি হিসেবে ভূরাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে একবিংশ শতাব্দীতে এসে যারা প্রাধান্য লাভ করেছে, যেমন_ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মহাচীন ও রুশ রিপাবলিক (ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিকাশরুদ্ধ বলে এবং ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা বিকাশমান হিসেবে আপাতত পর্দার আড়ালে, তাদের সব কয়টি দেশেই সাধারণ নির্বাচন বা উত্তরাধিকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটাতে চলেছে। সেদিক থেকে বিশ্ব রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও ২০১২ সাল একটা স্পর্শকাতর ক্রান্তিকাল। ২০১১ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি অস্থিরতার বছর। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক দিয়েই ২০১১ সালের এ দেশ ছিল অসন্তোষ আর দুর্ভোগের বছর, দুর্মূল্য আর দুষ্কৃতি ধাপে ধাপে চেপে বসার বছর। ...
সীমান্তে বর্বরতা ও নির্বিকার সরকারপক্ষ
উপসম্পাদকীয়
দৈনিক ডেসটিনি
০৫/০১/২০১২
গত বছর মাঘের শীতে (৭ জানুয়ারি, ২০১১) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিয়ের জন্য কাঁটাতারের বেড়া টপকে ভারত থেকে দেশে ফিরছিল পঞ্চদশী ফেলানি। কাঁটাতারে কাপড় বেঁধে যাওয়ায় সে সহায়তার জন্য চিৎকার করে ওঠে। যে দালাল ওই পারাপারের সুযোগ করে দিয়েছিল তার বা অন্য কারো সহায়তা সে পায়নি। কারণ ইতিমধ্যে বিএসএফের একটা টহলদার স্কোয়াড সেখানে এসে গেছে। কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়া ফেলানিকে দেখামাত্র গুলি করে হেলাভরে তারা অন্যত্র টহলে চলে যায়। সেই কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির লাশের ছবি প্রথমে ভারতীয় একটি সংবাদপত্রে, তারপর বিশ্বে প্রচারিত-সমপ্রচারিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো শুধু ওই ফেলানি হত্যার ঘটনা নয়, এক রকম নিয়মিতভাবে গত ১০ বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে বা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে দেখামাত্র নিরীহ বা সন্দেহভাজন বাংলাদেশি হত্যার হাজারো নজির উল্লেখ করে ধিক্কার দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে কিলিং ফিল্ডস বা বধ্যভূমি বলে আখ্যায়িত করেছে। ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশের রৌমারি সীমান্তে বিএসএফের প্রায় ৩০০ সদস্যের একটি বড় দল অপদখলীয় এলাকা পুনঃদখলের ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩