কলামিস্টদের নাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর কলামগুলো

জার, মোগল সম্রাট ও প্রধানমন্ত্রী
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
১২ জুন, ২০১৩
সম্প্রতি এক সেমিনারে ড. আকবর আলি খান যথার্থই বলেছেন, ‘রাশিয়ার জার ও ভারতের মোগল সম্রাটের চেয়েও বেশি ক্ষমতা ভোগ করেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।’ বলা বাহুল্য, তা প্রধানমন্ত্রী ভোগ করেন সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতাবলেই। জোর করে নয়। আমাদের সংবিধানপ্রণেতারা ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদকে এতই ক্ষমতা দিয়েছেন! পরবর্তীকালে সাংসদেরা তা সংশোধন করার প্রয়োজন মনে করেননি। ড. আকবর আলি খান একটা কথা বলেননি, তা হলো জার ও মোগল সম্রাটেরা ‘নির্বাচিত’ ছিলেন না। আমাদের ‘প্রধানমন্ত্রী’ নির্বাচিত। সাংসদেরা তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে নির্বাচিত করেন। আমরা এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছি, যাতে সংসদ সদস্যপদে নির্বাচিত হলে তিনি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যান। অন্য কোনো পদে ‘নির্বাচিত ব্যক্তিরা’ তাঁদের ধারেকাছে যেতে পারেন না। এমনকি জাতীয় সংসদে পরোক্ষভাবে ‘নির্বাচিত’ (তিন শত সাংসদের ভোটে) নারী সাংসদেরাও কম যান না। তাঁদেরই একজন, যিনি কোনো প্রত্যক্ষ নির্বাচন করেননি, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে বসিয়ে দিয়েছেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও পার্লামেন্টের স্পিকার পদে (যিনি পার্লামেন্টের সব দলের সদস্যের অভিভাবকও বটে) ...
সংলাপ, তত্ত্বাবধায়ক ও একদলীয় নির্বাচন
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
৩০ মে, ২০১৩
বর্তমান সরকার সম্প্রতি কিছুটা বেদিশা হয়ে উঠেছে বলে মনে হয়। সরকারের ভেতরে নীতিগত সমন্বয় আছে বলেও মনে হয় না। একেক জন একেক কথা বলছেন। সম্প্রতি ঢাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার কথাই ধরা যাক। তিনি বললেন, ঢাকায় সভা-সমাবেশ এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ। তাঁর আইজিপি বললেন, ‘তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।’ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বললেন, ‘রিলিফের কাজের জন্য (ঢাকা কিন্তু পটুয়াখালী নয়) সভা-সমাবেশ বন্ধ করতে বলেছে।’ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও আরও ...
সংবিধান ও প্রধানমন্ত্রীর অসীম ক্ষমতা
প্রতিক্রিয়া
প্রথম আলো
১৬ মে, ২০১৩
রাজনীতিবিদ ও বর্তমান সরকারের মন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) দেশের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে প্রথম আলোয় যে নিবন্ধ লিখেছেন (এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা আর নয়, ১১ মে, ২০১৩), তা খুবই সময় উপযোগী ও প্রশংসনীয়। অবশ্য তিনি যে খুব নতুন কিছু বলেছেন, তা নয়। তবে তিনি খুবই সুচিন্তিতভাবে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা তথা প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতাগুলো চিহ্নিত করেছেন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদটি যে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর যে কার্যত কোনো জবাবদিহি নেই (কাগজে আছে, বাস্তবে নেই), তা-ও জনাব কাদের ...
সংলাপ হবে—তবে কার সঙ্গে কার?
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
২১শে মার্চ, ২০১৩
বর্তমানে সরকার + সরকারি দল ও বিএনপি নির্বাচন ইস্যুতে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। সরকার বারবার বলেছে, ‘সংবিধানে বর্ণিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হবে বর্তমান মহাজোট সরকারের একটি মন্ত্রিসভা।’ আমাদের অনুমান তাদের প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে এমন সাংসদেরাই মন্ত্রী হবেন, যাঁরা প্রথম পর্যায়ে হয়তো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। পরবর্তীকালে উপনির্বাচনে অংশ নেবেন অথবা বড় কোনো সরকারি পদ গ্রহণ করবেন। আমাদের আরও অনুমান, অন্তর্বর্তী সরকারে শেখ হাসিনা হয়তো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন না। এমন কোনো আওয়ামী লীগের ...
সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে ‘প্রধানমন্ত্রীর একনায়কত্ব’ নয়
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
৩১ ডিসেম্বর ২০১২
বাংলাদেশে আমরা এমন সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেছি, যার সঙ্গে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের তুলনা হয় না। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রত্যেক মন্ত্রী স্বাধীনভাবে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। খুব বড় মাপের কোনো সিদ্ধান্ত না হলে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে দুই বড় দলের দুই সরকারই প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া কোনো ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকারের সব সমস্যার সমাধান যেন শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার হাতে। শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার মেঠো রাজনীতির অভিজ্ঞতা ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞতা আছে বলে কেউ দাবি করেননি। দুজনই উত্তরাধিকারসূত্রে নেতা এবং পরে ভোটে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নেতৃত্ব ও প্রতীকের জোরে নির্বাচিত হয়েই এই দুই নেত্রীকে তাঁদের দল ‘সব সমস্যার সমাধান’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। এর ব্যতিক্রম কিছু কেউ করলে তাঁকে নেত্রীর প্রতি যথেষ্ট আনুগত্যের অভাব বলে বিবেচনা করা হয়। ...
মধ্যরাতের টক শো গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর
মিডিয়া ভাবনা
প্রথম আলো
২৬ অক্টোবর ২০১২
কোনো সরকারের যখন জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, তখন মিডিয়ার ওপর তাদের রাগ বাড়ে। বাংলাদেশে এই চিত্র নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে এমনটি ঘটেছে। সরকারের একটা ভুল ধারণা হয় এ রকম, তারা ঠিক কাজটি করছে অথচ মিডিয়া শুধু শুধু সমালোচনা করছে। সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা একটা কথা কিছুতেই বুঝতে পারেন না, মিডিয়ার সাধ্য নেই শুধু শুধু সমালোচনা করার। কোনো খারাপ ঘটনা ঘটলেই শুধু মিডিয়া সমালোচনা করতে পারে। কোনো মিডিয়া যদি উল্টো সুরে গান গায়, তাহলে সেই মিডিয়া কখনো পাঠক বা দর্শকের আনুকূল্য পাবে না। যেমন, সরকার পরিচালিত ‘বিটিভি’। কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও সরকারি দলের কয়েকজন নেতার মুখে মিডিয়ার নানা সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এগুলোর লাগসই জবাবও দেওয়া হয়েছে। আমাদের মিডিয়ার অনেক দুর্বলতা রয়েছে। মাঝেমধ্যে আমরা তা আলোচনা করার চেষ্টা করি। কিন্তু সাংবাদিকেরা এসব আলোচনায় যোগ দেন না বলে আমাদের আলোচনা কোনো পরিণতি পায় না। একতরফা আলোচনা হয়। তাতে কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাই মিডিয়ার দুর্বলতার কোনো ...
দূষিত রাজনীতি তরুণদেরই পাল্টাতে হবে
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
৬ অক্টোবর ২০১২
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আগামী নির্বাচন ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গন এখন সরগরম। নানা আলোচনায় মাঝে-মধ্যে দেশে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি উদ্ভবের কথাও উঠে আসে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ, প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ড. কামাল হোসেন এবং আরও কেউ কেউ নিজেদের দল বা জোটকে সেই প্রত্যাশিত ‘তৃতীয় শক্তি’ বলে দাবি করেছেন। ‘তৃতীয় শক্তি’র কথা জোরেশোরে ওঠার কারণ হলো: দেশের বেশির ভাগ রাজনীতিসচেতন মানুষই মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো দল ও নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। কিছু সুবিধাভোগী ছাড়া দেশের বেশির ভাগ লোকই দুই দলের শাসন থেকে মুক্তি চান। তবে চাইলেই তো মুক্তি পাওয়া এত সহজ নয়। কারণ, এই দুই দল নানাভাবে ভোট সংগ্রহে পারঙ্গম। যাঁরা এখন নিজেদের ‘তৃতীয় শক্তি’ বলে দাবি করছেন, তাঁরা কেউ ‘তৃতীয় শক্তি’ হতে পারবেন বলে মনে হয় না। কারণ, তাঁদের সেই জনসমর্থন নেই। যদি ‘আরব বসন্তের’ মতো দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একটা উত্তাল গণবিক্ষোভের আয়োজন করা যায়, তখন নানা বিরোধী ...
সাহিত্য ও টিভির জন্য জাতীয় পুরস্কার
মিডিয়া ভাবনা
প্রথম আলো
১৩/০৯/২০১২
সম্প্রতি বেশ ঘটা করে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। অনেক বছর ধরে সরকার চলচ্চিত্র পুরস্কার দিচ্ছে। এ জন্য সরকার তথা তথ্য মন্ত্রণালয় অভিনন্দনের দাবিদার। আমাদের মূলধারার চলচ্চিত্র যতই দুর্বল হোক না কেন, সরকার বাছাই করে ভালো সিনেমাগুলোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এটা সরকারের একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। এসব ক্ষেত্রে সরকারের নীতি কীভাবে নির্ধারিত হয় জানি না। অনুমান করি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রস্তাব আকারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীরা অনুমোদন করলে তা সরকারের ‘নীতি’ হিসেবে গৃহীত হয়। বাজারে এ রকম ধারণাও প্রচলিত রয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তাঁদের বিশেষ সূত্র মারফত প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব জেনে তারপর মন্ত্রিসভায় একটা ‘প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। বাংলাদেশে কাগজে-কলমে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পদ্ধতি চালু থাকলেও বাস্তব অর্থে তা ‘প্রধানমন্ত্রীর’ সরকার। বড় দুই দলের আমলেই তা হয়েছে। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব না জেনে কোনো মন্ত্রী কোনো কাজ করেন না। ...
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
০৬/০৮/২০১২
বিএনপিকে অন্তর্ভুক্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিচালনায় আগামী সংসদ নির্বাচনের যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি অবশ্য শুরুতেই বলে দিয়েছে, তারা এই প্রস্তাব মানে না। তারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই সংসদ নির্বাচন চায়। প্রধানমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাবে মনে হচ্ছে, সরকার নির্বাচনী সরকারকাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে আগ্রহী। এটা শুভ লক্ষণ। বর্তমান সরকারব্যবস্থা ও সংসদকে বহাল রেখে ক্ষমতাসীনেরা যে নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছিল, তা যে অসম্ভব চিন্তা, তা তারা এখন উপলব্ধি করতে পেরেছে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। নিজের মতকে একমাত্র মত মনে করে ...
হুমায়ূন আহমেদের প্রতি মিডিয়ার শ্রদ্ধাঞ্জলি
মিডিয়া ভাবনা
প্রথম আলো
২৯/০৭/২০১২
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু উপলক্ষে আমাদের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া মোটামুটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। নিউইয়র্ক থেকে মরদেহ আনতে দেরি হওয়ার সুযোগটি মিডিয়া কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছে। মাঝেমধ্যে দেশে এমন এক-একটি বড় ঘটনা ঘটে, যখন মিডিয়া নানা দিক থেকে বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ পায়। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু সে রকমই একটি বড় ঘটনা ছিল। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া নানা এক্সক্লুসিভ খবর থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার প্রকাশ ও প্রচার করেছে। পাঠক বা দর্শকেরা আগে যে সাক্ষাৎকার মনোযোগ দিয়ে শোনেননি বা ...
আজ-কাল-পরশু
এক অনিশ্চিত পথে চলেছে স্বদেশ!
উপ সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
০১/০৬/২০১২
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি অপরদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার—এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে। এই পটভূমিতে দেশের অন্যান্য দল, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এমনকি বিদেশি বন্ধুরাও দুই দলকে সংলাপে বসে এই জটিলতা অবসানে একটা সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে এখনো ইতিবাচক কোনো সাড়া দেয়নি। সামনে আরও হরতালের কর্মসূচি, বিএনপির ভাষায়, আরও কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ রকম অবস্থায় দেশের ...
মিডিয়ায় ভুল তথ্যের প্রচার থামাতে হবে
মিডিয়া ভাবনা
দৈনিক প্রথম আলো
১৪/০৩/২০১১
মহাস্থানগড় সম্পর্কে হাইকোর্ট বেঞ্চের একটি আদেশকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করে বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ আদালতে যে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন, তার জন্য এক বিবৃতিতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে স্পষ্টভাবে মনে হচ্ছে, মাননীয় হাইকোর্টের আদেশ না দেখে আমার মন্তব্য করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’ সৈয়দ আবুল মকসুদের এই বিবৃতি ও আদালতে দেওয়া বক্তব্যের জন্য আমি জনাব মকসুদের প্রশংসা ও সমালোচনা করতে চাই। প্রথমে প্রশংসা। সৈয়দ আবুল মকসুদ আদালত বা বিচারকদের একটি রায় সম্পর্কে ঠিকভাবে না জেনে মন্তব্য করার জন্য নিজের ভুল প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মানুষ ফেরেশতা নয়। যাঁরা বহু রকম কাজ করেন, বহু বিষয়ে লেখালেখি করেন বা কথা বলেন, তাঁদের দু-চারটা ভুল হতেই পারে। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার পর সেই ভুল স্বীকার করা ও প্রয়োজনে দুঃখ প্রকাশ করা বা বাধ্য হলে ক্ষমা চাওয়া অন্যায় কিছু নয়। দুঃখ প্রকাশ করার পর বিষয়টির মীমাংসা হয়ে যাওয়া উচিত। ...
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবাদিকের নৈতিকতা
মিডিয়া ভাবনা
দৈনিক প্রথম আলো
১৬/০১/২০১১
সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা উন্মুক্ত করার অধিকার রাখে, তা নিয়ে সম্প্রতি ভারতে এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কের সূচনা করেছেন ভারতের প্রখ্যাত টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার রতন টাটা। সম্প্রতি ভারতে টু জি মোবাইল ফোনের লাইসেন্স ও রেডিও এয়ারওয়েবের বরাদ্দ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের খবর উন্মোচিত হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পগোষ্ঠী ‘টাটার’ নাম জড়িয়ে গেছে। পরিণামে টেলিকমমন্ত্রী এ রাজাকে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। অভিযোগ: মন্ত্রী টাটা গ্রুপকে বিনা টেন্ডারে প্রায় পানির দামে টু জি মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দিয়েছেন। এতে ভারত সরকারের পৌনে দুই লাখ কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির জন্য প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। লোকসভায় হয়েছে উত্তপ্ত বিতর্ক। ...
আন্দোলন ও জনগণের নিরাপত্তা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
২৪ মে, ২০১৩
হেফাজতে ইসলাম নামের নতুন একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। হেফাজত কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী। তাদের অস্তিত্ব তিন মাস আগেও এ দেশের কেউ অনুভব করেনি। তবে তারা ছিল নীরবে, নিভৃতে। ধর্মীয় ওয়াজ-নসিহতের মধ্যেই তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ ছিল। অনেকে অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী হেফাজতের মধ্যে ঢুকে এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। তবে হেফাজত জামায়াতের কোনো দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে না। তাদের ১৩ দফা একান্তই তাদের দাবি। এ রকম উদ্ভট দাবি এর আগে কোনো দল করেনি। তবে জামায়াত নেপথ্যে থেকে এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করতে পারে। সে রকম আলামত এবং বক্তব্যও পাওয়া যাচ্ছে। হেফাজতের কথাবার্তা ও কাজকর্ম সম্পর্কে তীব্র সমালোচনার সময় এসেছে। হেফাজত কোনো রাজনৈতিক দল না হয়েও যে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছে সেগুলো নীতিগত ইস্যু। এগুলো সেই সরকারই বাস্তবায়ন করতে পারে, যাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব দাবি থাকে, যাদের জনগণ এ রকম দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য ম্যান্ডেট দেয়। অন্যরা এ রকম ...
রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির আবছা রেখা
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
২১ এপ্রিল, ২০১৩
এটা খুব আশার কথা যে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠেছে। সব তরুণই যে জেগে উঠেছে, তা অবশ্য নয়। তরুণদের এক বড় অংশ জেগে উঠেছে। যারা এখন জেগে উঠেছে, তারা সঠিক নেতৃত্ব ও কর্মসূচি দিতে পারলে আরও অনেক তরুণকে তারা তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পারবে আশা করা যায়। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার মামলার রায়ের সূত্র ধরে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে একদল তরুণ প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়েছিল। দিনটি ছিল ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। পরে সেই জমায়েত তরুণদের এক মহাসমাবেশে রূপ নেয়। দুই মাসেরও বেশি ...
সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা ও ‘প্রথম আলো’
মিডিয়া ভাবনা
প্রথম আলো
৪ নভেম্বর ২০১২
একটি সংবাদপত্রের মূল শক্তি হলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতাহীন সংবাদপত্র কোনো সংবাদপত্র নয়। তাকে বড়জোর ‘প্রচারপত্র’ বলা যায়। আমাদের সৌভাগ্য, আমাদের দেশে নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পেয়েছি। নব্বইয়ের পরের সব ‘নির্বাচিত সরকার’ (গণতান্ত্রিক সরকার বলা যায় না) আমাদের গণমাধ্যমের এই স্বাধীনতা হরণ করতে পারেনি। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অনেক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারের নানা নীতি, আচরণ ও প্রভাবের কারণে সব স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না বা ভোগ করতে দেওয়া হয় না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ব্যতিক্রম। ‘বিটিভি’ ও ‘বাংলাদেশ বেতার’ ছাড়া সরকার কোনো গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পাঠক, দর্শক ও শ্রোতা হিসেবে এটা আমাদের এক বিরাট অর্জন। বাংলাদেশের সংবাদপত্র তথা অন্যান্য গণমাধ্যম যে আজ এত জনপ্রিয়, তার পেছনের প্রধান কারণ এই স্বাধীনতা। গণমাধ্যমের কোনো ভুল পদক্ষেপের কারণে সরকার যেন এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সেদিকে আমাদের সবার সচেতন ও সতর্ক থাকা দরকার। আমরা আশা করি, ‘সংবাদপত্র’ হবে একটি স্বাধীন ...
মি. সিইসি, কোন ‘আইনে’ কখন নির্বাচন?
সরল গরল
প্রথম আলো
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১২
কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্ভবত বিশ্বাস করে যে নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট ক্ষমতা। তার স্বাধীনতার জন্য আর কিছুরই দরকার নেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কী কী দায়িত্ব পালন করেছে, তা আমরা সহজে বুঝতে পারি না। বরং ধারণা গভীর হচ্ছিল, ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ। কিন্তু খটকা সৃষ্টি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বলেছেন, ‘সরকার যখন বলবে তখন নয়, আইন যখন বলবে তখনই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে।’ এই বক্তব্যটি সত্য হলে আমরা তাঁর কাছ থেকে ...
নাগরিক ঐক্য ও বাস্তবতা
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
২১/০৭/২০১২
বাংলাদেশের রাজনীতি প্রধানত দুটি বড় দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সারা দেশে এই দুটি দলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। গত চারটি সাধারণ নির্বাচনে এই দুটি দল বিজয়ী হয়ে পালা করে সরকার গঠন করেছে। বহু দেশে এ রকম দ্বিদলীয় রাজনীতি রয়েছে। এটা নতুন নয়। কিন্তু অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হয় না। এখানে ‘সংসদীয় গণতন্ত্র’ চালু থাকলেও তা বাস্তব অর্থে ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বৈরতন্ত্র’। দুই প্রধান দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের কোনো চর্চা নেই। দলীয় প্রধানের একনায়কত্ব এখানে সক্রিয়। কাজেই ...
‘উন্নয়ন টিভি’ চ্যানেলের উদ্যোগ
মিডিয়া ভাবনা
প্রথম আলো
০২/০৭/২০১২
টিভি মিডিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর অফিস একটি প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ‘সংসদ টিভি’ নামে বর্তমানে যে টিভি চ্যানেলটি চালু রয়েছে, তার অব্যবহূত সময় নিয়ে (যখন সংসদ অধিবেশন চলে না) সরকার ‘হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট টিভি’ নামে একটি চ্যানেল চালু করার কথা ভাবছে। যে চ্যানেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিশু, দুর্যোগব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। আপাতত ‘সংসদ টিভি’ থেকে সময় ধার নিয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করলেও পর্যায়ক্রমে এই ‘উন্নয়ন টিভি’ একটি পৃথক টেরিস্ট্রিয়াল টিভি চ্যানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। পুরো পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বিষয়ে প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরও বহু মতবিনিময় সভার পর এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে। এ ব্যাপারে স্পিকার ও জাতীয় সংসদ সদস্যদের মতামতেরও প্রয়োজন রয়েছে। তাঁরা ‘সংসদ টিভির’ অব্যবহূত সময় ব্যবহার করতে না দিলে পুরো পরিকল্পনাটিই ভেস্তে যেতে পারে। আমরা আশা করি, স্পিকার ও জাতীয় সংসদ এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাবই প্রদর্শন করবেন। ...
সংসদ টিভি, একুশে ও গণমাধ্যম
মিডিয়া ভাবনা
দৈনিক প্রথম আলো
০৬/০২/২০১১
গত ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রচারের মধ্য দিয়ে ‘সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন’ (সংসদ টিভি) নামে একটি নতুন ও বিশেষায়িত টিভি চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। এক বছর ধরে এই চ্যানেল নিয়ে নানা কথা হচ্ছিল। এ রকম একটি টিভি চ্যানেলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সরকার মনে করেছে, এ রকম একটি টিভি চ্যানেলের দরকার আছে, তাই চ্যানেলটি চালু হয়েছে। চালু যখন হয়েই গেছে তখন আর এ নিয়ে সমালোচনা করে লাভ নেই। এখন সবাই মিলে আলোচনা করে দেখতে পারি, এই চ্যানেলের কার্যকারিতা বাড়ানো যায় কীভাবে। সংবাদপত্র থেকে জানা যায়, এই টিভি চ্যানেল সংসদ অধিবেশন সরাসরি সমপ্রচার করবে, যা এখন শুধু বাংলাদেশ বেতার করে থাকে। সরকার পরিচালিত বিটিভি জাতীয় সংসদের বিশেষ বিশেষ অধিবেশন সরাসরি সমপ্রচার করে। এখন সংসদ টিভি সংসদ অধিবেশন সরাসরি সমপ্রচার করবে। আর যখন সংসদ অধিবেশন থাকবে না তখন প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এ চ্যানেল চলবে। ওই সময় কী অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে, তা অবশ্য জানা ...
সাভার ট্র্যাজেডি ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ
মিডিয়া ভাবনা
প্রথম আলো
১২ মে, ২০১৩
সাভার ট্র্যাজেডিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশ্নের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে সংবাদকর্মীদের অতুলনীয় ও প্রশংসনীয় ভূমিকা। পাঠক, দর্শক, শ্রোতামাত্রই এত বিস্তারিতভাবে সাভার ট্র্যাজেডির সচিত্র খবর জেনেছেন যে তা অতুলনীয়। শুধু কি দেশের লোক? না, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে আগ্রহী বিদেশি সবাই প্রতি মুহূর্তে আপডেট হয়েছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের এই ভূমিকার তুলনা নেই। তাঁদের প্রতি দর্শক, পাঠক, শ্রোতামাত্রই কৃতজ্ঞ। তাঁদের অপরিসীম শ্রম, আন্তরিকতা, পেশার প্রতি কমিটমেন্ট ইত্যাদি তাঁদেরকে অভিজ্ঞতার নতুন মাত্রা দিয়েছে। এত বড় একটি ট্র্যাজেডি কভার করতে গেলে কিছু ভুলভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক। অনেক সাংবাদিক বয়সে তরুণ। অভিজ্ঞতাও তাঁদের কম। অফিস থেকে যে তাঁদের যথাযথ নির্দেশনা দেবে, এমন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ সাংবাদিকের সংখ্যাও কম। ফলে অনেকে কোনো রকম গাইডলাইন ছাড়াই কভারেজে গেছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে কাজটাই জরুরি। ভুলটা বড় কিছু নয়। তবে ভুলকে স্বীকার করতে পারা ভালো। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াও জরুরি। দুর্ঘটনা বা বড় মাপের ট্র্যাজেডি আর কোনো দিন হবে না, ...
লাগাতার হরতাল, না সমঝোতা?
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
২১/০৩/২০১৩
দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। মনে হয়, বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোট হরতালকে তাদের আন্দোলনের মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। ‘হরতাল’ এক লাগসই অস্ত্র। আহ্বানকারী দলকে তেমন কোনো আয়োজন করতে হয় না। দলের নেতারা নাক ডেকে ঘুমালেও হরতাল হয়ে যায়। শুধু আগের রাতে ১০-২০টা গাড়ি পোড়াতে পারলেই হলো। মনে হয়, আজকাল গাড়ি পোড়ানোর কোনো ‘এজেন্সি’ বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের জন্ম নিয়েছে। তারাই সবকিছু করে দেয়। টাকা দিলে কি না হয়! যে যত আবেদন-নিবেদন করুন না কেন, হরতাল ...
বিচারের রায় ও বিএনপির নীরবতা
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের একটি রায় নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি দ্বিতীয় রায় মেনে নিতে পারেনি। তাদের বক্তব্য: ‘ছয়টি অভিযোগের পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে আরও কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।’ বেশির ভাগ ব্যক্তি কাদের মোল্লার ফাঁসি আশা করেছিলেন। এ রায় নিয়ে যখন দেশের বহু মানুষ, দল বা সংগঠন সোচ্চার তখন বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এটা স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। বিএনপির এ নীরবতাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা বললে অত্যুক্তি হয় না। ...
প্রতিরক্ষা নীতি ও আমাদের অগ্রাধিকার
আজ-কাল-পরশু
প্রথম আলো
৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ সরকার যে চুক্তি করেছে, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন ‘রুশ অস্ত্র চুক্তির বিরোধিতাকারীরা শক্তিশালী সেনাবাহিনী চায় না।’ তিনি আরও বলেছেন: ‘বিরোধিতাকারীরা কি চান না বাংলাদেশের সেনাবাহিনী শাক্তিশালী হোক? মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা সমর্থন করেছে, তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনলে অপরাধী, আর বিরোধিতাকারী দেশ থেকে কিনলে সাধুবাদ—এটা কেমন কথা? ...
দূষিত রাজনীতির সুচিকিৎসা প্রয়োজন
আজ কাল পরশু
প্রথম আলো
১৫/১২/২০১২
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার হরতাল, অবরোধ, সন্ত্রাস, খুন, গাড়ি পোড়ানো শুরু হয়েছে। সংবাদপত্রের পাতায় ও টিভির পর্দায় আবার সেই ধ্বংসযজ্ঞের ছবি আমরা দেখছি। কিন্তু রাজনীতির অঙ্গনে এসব নারকীয় কাণ্ড কি নতুন? আমাদের খুব অচেনা? আমার তো মনে হয়, গত কয়েক মাসে ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে যা যা হয়েছে, তা সবই আমাদের চেনা ও অভিজ্ঞতার অংশ। তবু সচেতন জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ এই চেনা দৃশ্যগুলো দেখেই আর্তনাদ করে উঠেছেন। নেতৃত্বস্থানীয় কয়েকজন বুদ্ধিজীবী সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। সংবাদপত্রে প্রায় একই ভাষায় মন্তব্য প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের নারকীয় ঘটনা পরবর্তী সময়ে ঘটলে সংবাদপত্র একই ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করবে। সবই রুটিন ঘটনা। সংবাদপত্রে কয়েক বছর আগের গাড়ি পোড়ানোর ছবি ছাপা হলে পাঠকেরা বুঝতেই পারবেন না, এগুলো পুরোনো ছবি। এগুলোই তো মূলধারার রাজনীতি! আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত যে রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেখানে জনগণ কি অন্য কিছু আশা করেছিলেন? আশা করে হতাশ হয়েছেন? কী আশা করেছিলেন? এবং কেনই বা ইতিবাচক কিছু ...
অনলাইন সংবাদপত্র
নীতিমালার প্রয়োজন নেই
উপ-সম্পাদকীয়
প্রথম আলো
১৫/০৯/২০১২
তথ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকার ‘অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা’ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে: লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য এককালীন পাঁচ লাখ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। প্রতিবছর নবায়ন ফি দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। বর্তমান মহাজোট সরকারের একটা বড় সাফল্য হচ্ছে: দেশের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। সরকার এ ধরনের কর্মসূচিকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ব্যাপক সাফল্য অর্জন না করলেও সরকার এ কর্মকাণ্ডে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের সূচনা পর্বটি সাফল্যের সঙ্গে করতে পেরেছে। আশা, আগামী দিনের সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানটি বাস্তবেও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচির সঙ্গে সম্প্রতি দেখা প্রাইভেট সেক্টরে ‘অনলাইন সংবাদপত্র’ বা সাংবাদিকতা বিকশিত হয়েছে। উন্নত দেশে এখন মুদ্রিত পত্রিকার কদর বা চাহিদা দিনে দিনে কমছে এবং অনলাইন পত্রিকার চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো প্রাথমিক অবস্থায়। ...
প্রেস কাউন্সিলকে কার্যকর করতে হবে
মিডিয়া ভাবনা
দৈনিক প্রথম আলো
১৩/০২/২০১১
দেশের প্রধানমন্ত্রী সাধারণত সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন না। গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন মন্ত্রী, এমপি বা অন্য রাজনীতিবিদেরা। গণমাধ্যম সরকার বা সরকারি দলের প্রশংসা করলে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা খুশি হন, আর সমালোচনা করলেই যত দোষ। সরকারি লোকেরা চান, গণমাধ্যম সব সময় সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকুক। কিছু কিছু দলকানা ও নতজানু মিডিয়া সে রকম একপেশে আচরণ করে বলে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা গণমাধ্যমের সমালোচনা মেনে নিতে পারেন না। একটু সমালোচনা হলেই তাঁরা তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। সম্প্রতি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও যোগাযোগমন্ত্রীর সমালোচনা করে প্রথম আলো পত্রিকায় একটু লেখালেখি হওয়ায় এর প্রতিক্রিয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ ব্যাপারে অনেকটা নালিশের সুরে যোগাযোগমন্ত্রী (নাকি সচিব?) প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন। এটাও একটা অদ্ভুত ঘটনা। কোনো পত্রিকায় যদি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বা মন্ত্রীর সমালোচনা করে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিতও হয়, সেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ করতে হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী কি কোনো মন্ত্রীকে বিশেষ প্রশ্রয় দেন? যোগাযোগমন্ত্রী বেশি সমালোচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর কি কোনো অসুবিধে হবে? ...

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত অনলাইন ঢাকা গাইড -২০১৩