কলামিস্টদের নাম
আব্দুল গাফফার চৌধুরী এর কলামগুলো

তারানকো সাহেব তো বলে গেছেন, তারপর?
রা জ নী তি
ইত্তেফাক
১৯ মে, ২০১৩
আমাদের কৈশোরকালে অবিভক্ত বাংলায় সুনির্মল বসু ছিলেন সবচাইতে বড় ছড়াকার। তার ছড়া শিশু বৃদ্ধ সবাইকে মাতাতো। তার একটি বিখ্যাত ছড়ার নাম 'সামিয়ানা'। এই ছড়ার গল্পটি হলো, গ্রামের জমিদার বাড়ির কাচারির আঙ্গিনায় একবার সামিয়ানা টানানো হয়েছিল। খবরটি জানাজানি হতেই চারদিক থেকে লোক এসে জমিদার বাড়িতে জড়ো হতে লাগলো। সকলের মধ্যেই জল্পনা-কল্পনা সামিয়ানা কেন টানানো হয়েছে? সাধারণত কোনো উত্সব বা পালা-পার্বণেই জমিদার বাড়িতে সামিয়ানা টানানো হয়। এবারেও কোনো উত্সব উপলক্ষেই সামিয়ানা খাটানো হয়েছে বলে সকলে ধরে নিলেন। কেউ বললেন, জমিদার বাবুর ...
রেশমা উদ্ধার এবং বিদেশি সাহায্য প্রসঙ্গে
দশ দিগন্ত
ইত্তেফাক
১২ মে, ২০১৩
সাভার দুর্ঘটনার দীর্ঘ সতেরো দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা একটি মিরাকল তো বটেই, সেই সাথে উদ্ধারকার্যরত আমাদের সামরিক ও অসামরিক ইউনিটগুলোর দক্ষতা ও সাফল্যের প্রমাণ। এই উদ্ধারকাজে নিজেদের দক্ষতা ও সামর্থ্যের উপর সরকারের আস্থা ছিলো বলেই তারা হুট করে বিদেশি সাহায্য নিতে চাননি। ফলে আমাদের আঁতেল শ্রেণীর কিছু লোক ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তারা খবরের কাগজে কলাম লিখে এবং টিভি টকশোতে বক্তব্য রেখে সরকারের দারুণ সমালোচনা করেছিলেন। ভাবখানা ছিল এই যে, এই সাহায্য নিলেই যেন ট্র্যাজেডির ধাক্কা ...
মহাসমাবেশ ও অবরোধ এবং যবনিকার আড়ালে
রাজনীতি
ইত্তেফাক
০৫ মে, ২০১৩
গতকাল (৪ মে) ঢাকায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকে এক বিশাল সমাবেশ হয়েছে। তার উপর আজ (৫ মে) আবার হেফাজতের ডাকা ঢাকা অবরোধ। দুয়ে মিলেমিশে অবস্থা কি দাঁড়াবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। যদি শান্তিপূর্ণভাবে সবকিছু ঘটে তাহলে ভালো কথা। কিন্তু যে কোনো পক্ষের জন্যই যদি শান্তিভঙ্গের কারণ ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি সকলেরই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। দেশে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকেই প্রমাণ করতে হবে, সে সবসময় শুধু মেষশাবক নয়, আত্মরক্ষায় সে সিংহশাবকও হতে পারে। হতে না পারলে নতজানু গণতন্ত্রকে গত শতকের বিশের ইতালি ও ত্রিশের জার্মানীর মতো ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে এবং তাতে যে এই মহাসমাবেশের উদ্যোক্তাদের কোনো লাভ হবে তা নয়। বরং 'তৃতীয় শক্তি' নামে যে অপেক্ষমাণ অদৃশ্য বাঘটির কথা কিছুকাল যাবত্ বলা হচ্ছে, সেটি এসে গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই ঘাড় মটকাবে। বিএনপির এককালের শক্তির ভিত্তি ছিলো ক্যান্টনমেন্ট। এখন জামায়াত ও হেফাজত। দেশটি এখন দৃশ্যত দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সেকুলার ...
পম্পেই থেকে সাভার কতো দূরে
বিপর্যয়
ইত্তেফাক
২৮ এপ্রিল, ২০১৩
আমার সহূদয় পাঠকেরা বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, দু' হাজার বছর আগে ভিসুবিয়াস অগ্নিগিরির অগ্ন্যুত্পাতে ভস্মীভূত পম্পেই নগরীর কাহিনী নিয়ে লেখা বিখ্যাত উপন্যাস 'লাস্ট ডেজ অব পম্পেই' যখন প্রথম পাঠ করি তখন আমি গ্রামের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। বইটির একটি শিশু-কিশোরদের উপযোগী বাংলা অনুবাদ বেরিয়েছিলো। স্কুলে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে বইটি আমি পুরস্কার হিসাবে পেয়েছিলাম। সেই কিশোর বয়সে বইটি পড়ার পর ভীত-চকিত বিস্ময়ের কথা আমি বহুদিন ভুলিনি। ফলে বড় হয়ে তার পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি সংস্করণটি পড়তে দেরি করিনি। বইটি পাঠ করে পম্পেই নগরীর অভিজাততন্ত্র এবং নব্যধনীদের অমানবিক ভোগবিলাস, সাধারণ মানুষের প্রতি অবজ্ঞা, উপেক্ষা এবং নগরীর আসন্ন বিপদ সম্পর্কেও ডোন্ট কেয়ার ভাব আমাকে এক সময় বিস্মিত করেছিলো। অগ্ন্যুত্পাতে পম্পেই ধ্বংস হওয়ার কিছুদিন আগে থেকেই সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ভিসুবিয়াসের মৃত জ্বালামুখ থেকে মৃদু মৃদু অগ্নিবিচ্ছুরিত হচ্ছিলো। অনেকে এ সময় সতর্ক বাণীও উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু কেউ সেই সতর্ক বাণী কানে তোলেনি। নব্যধনীরা সন্ধ্যা না হতেই মদ মেয়েমানুষ নিয়ে পানাহারে, আনন্দ উল্লাসে মত্ত হতেন। তারপর ...
বঙ্গভবনের কুড়িতম বাসিন্দার দায়িত্ব অনেক বেশি
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
২৩ এপ্রিল, ২০১৩
'কে লইবে মোর কার্য্য কহে সন্ধ্যা রবি শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি মাটির প্রদীপ ছিলো সে কহিল স্বামী আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি।' জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কুড়িতম রাষ্ট্রপতি হলেন। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তখন দেশের আকাশে এত বেশি গুজবের ঘুড়ি উড়েছিল অথবা ওড়ানো হয়েছিল যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে দেশবাসী সন্দেহ-সংশয়ের দোলায় দুলছিল। কথায় বলে 'গাঁজার নৌকা পাহাড় ডিঙায়!' ...
এই বুদ্ধিভ্রষ্ট বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ সম্পর্কে সকলেরই সাবধান থাকা উচিত
উপ-সম্পাদকীয়
জনগণ্ঠ
১৭ এপ্রিল, ২০১৩
মাছের দেহে প্রথম পচন ধরে মাথা থেকে। মানুষের সমাজেও নাকি প্রথম পচন ধরে মাথাওয়ালা শ্রেণী থেকে। এই মাথাওয়ালা শ্রেণী হলো উচ্চ শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণী। কথাটা বাংলাদেশের বেলায় খুবই সঠিক মনে হয়। বাংলাদেশে মিডিয়াম্যান অর্থাৎ কলামিস্ট ও সাংবাদিকদের সকলেই এখন বুদ্ধিজীবী। এই বুদ্ধিজীবীদের একটা বেশ বড়সড় অংশের মধ্যে আবার নিরপেক্ষতার ভেক ধারণ লক্ষণীয়। এই শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে গত কয়েক দশক ধরেই পচন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্পষ্ট। তার ওপর একশ্রেণীর সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে তাদের কলাম পাঠ করলে এবং টক শোর বক্তব্য শুনলে মনে হয়, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ কথাটির আভিধানিক অর্থও বদলানো প্রয়োজন। আমাদের একটি নিরপেক্ষ বাংলা দৈনিকের সম্পাদক কিছুদিন আগে তার পত্রিকায় একটি কার্টুন ছেপে মৌলবাদীদের কাছে ধর্মদ্রোহী আখ্যা পেতেই বায়তুল মোকাররমের খতিবের কাছে ছুটে গিয়ে তওবা করেছিলেন এবং তওবা করে নতুন করে মুসলমান হয়েছিলেন। তখনই তার নাম হয়েছিল তওবা সম্পাদক। এত কাল পরেও তিনি তাঁর এই নামের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। সম্প্রতি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের চরম শাস্তি দাবি করে শাহবাগ চত্বরে উত্তাল গণজাগরণ ঘটেছিল ...
ভুঁইফোড় সম্পাদক এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
কালের আয়নায়
সমকাল
১৩ এপ্রিল, ২০১৩
দেশ থেকে আজকাল ভালো খবর পাই না। হত্যা, সন্ত্রাস, অগি্নসংযোগ, বাস-ট্রেন পোড়ানো, নিত্য হরতাল ডাকা ইত্যাদি ছাড়া ভালো খবর খুব কমই পাই। সরকার দেশবাসীর দাবি মোতাবেক '৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে, অমনি যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক দল ও তাদের জোট সরকারের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা তাদের সমর্থনে দেশময় গণআন্দোলন তৈরি করতে পারেনি; কিন্তু দেশময় সন্ত্রাসের বিভীষিকা তৈরি করতে পেরেছে। চাটগাঁর ফটিকছড়িতে হরতালবিরোধীরা যে শোভাযাত্রা করেছিল, তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় হাজার হাজার মাদ্রাসাছাত্র ও শিক্ষক। শোভাযাত্রার একশ'র ওপর মোটরসাইকেল তারা ...
গৃহযুদ্ধ, আন্দোলন, নাকি সন্ত্রাস
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০২ এপ্রিল, ২০১৩
দেশে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহন পোড়ানো এবং পুলিশ হত্যা বা আহত করার সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। এই কার্যকলাপ দ্বারা জামায়াত এখন আর নিজেকে একটি রাজনৈতিক দল বলে দাবি করতে পারে না। এটি এখন একটি সন্ত্রাসী দল। আর এই সন্ত্রাসে অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও সমর্থন দান করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি নিজেকে আর রাজনৈতিক দল বলে দাবি করতে পারে কি? আমি দেশের সুধীজনের কাছেই প্রশ্নটা রাখছি। জামায়াত ও বিএনপি মিলে বাংলাদেশে এখন যা করছে তা রাজনীতি নয় এবং কোনো আন্দোলনও ...
রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে গুজবের ঘুড়ি ও বাস্তবতা
রা জ নী তি
ইত্তেফাক
৩১ মার্চ, ২০১৩
বাঙ্গালি জাতি যতো দুঃখকষ্টে থাক, তারা যে রসিক জাতি, শুধু ভোজন-রসিক নয়, জীবন-রসিকও এ কথাটা রবীন্দ্রনাথ বহুদিন আগে উপলব্ধি করেছিলেন। বাঙালি শোকে-দুঃখেও হাসতে জানে এবং হাসাতে জানে। এই মনীষী-বাক্যের সত্যতা উপলব্ধি করেছি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রয়াণের সময়েও। তাঁর মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ শোকসাগরে ভেসেছে। তাঁর নামাজে জানাজায় শোকার্ত মানুষের বিশাল সমাবেশ ঘটেছে। আবার এই শোক কাটতে না কাটতেই বঙ্গভবনে নতুন কে আসবেন, তা নিয়ে রসিকতারও খই ফুটছে। এই লন্ডনেও বাঙালিদের কোনো সভা-সমাবেশে গেলে একটি টিভি হিন্দি অনুষ্ঠানের নাম নকল করে বাঙালিদের মুখ থেকেই প্রশ্ন শুনছি কৌন বনেগা রাষ্ট্রপতি? দু'দিন আগে এমন একটি প্রশ্নের জবাবে বলেছি, কেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ সাহেব তো অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিন মাস পর তিনিই হয়তো স্থায়ী রাষ্ট্রপতি হবেন। ...
গণতন্ত্রের বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা
-
বাংলাদেশ প্রতিদিন
২১শে মার্চ, ২০১৩
সংবাদপত্রের একটা বড় পরিচয় সংবাদমাধ্যম। অর্থাৎ সংবাদ প্রচারই তার মুখ্য উদ্দেশ্য। ইংরেজি নিউজ (News)) কথাটিরও উৎপত্তি নর্থ, ইস্ট, ওয়েস্ট ও সাউথ এই দিকগুলো থেকে। উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ_ এই চারদিকের ঘটনাই হলো নিউজ বা খবর। একেবারে গোড়ার দিকে সংবাদপত্রের উদ্দেশ্য ছিল কেবল পাঠকের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া। কোনো মতামত প্রচার নয়। রয়টার নামক বার্তা সংস্থাটির যিনি প্রতিষ্ঠাতা, তিনিও মতামত নয়, মত নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রচারের উপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের আগে কোনো কোনো দেশে মানুষ হাতে লিখে চিঠি ...
টার্গেটেড কিলিং জামায়াতের একাত্তরের চরিত্র ফিরিয়ে এনেছে
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
২১শে মার্চ, ২০১৩
আবার একটি নৃশংস ও নির্মম হত্যাকাণ্ড। এবারও নিরীহ ও নির্দোষ মানুষের প্রাণ গেল জামায়াতি খুনিদের হাতে। তাঁর নাম মিরাজ আহমেদ। পঞ্চাশের মতো বয়স। কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁর পরিচয় তিনি সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোট ভাই। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের সর্দার গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যে মামলা চলছে, তার একজন সাক্ষী। এই সাক্ষীকে হত্যা করা যায়নি। তাই আক্রোশ মেটানো হলো তাঁর ছোট ভাইকে হত্যা করে। দুই দিন আগে নারায়ণগঞ্জেও তাই করা হয়েছে। প্রজন্ম চত্বরের ...
এই নরপশুদের চরম শাস্তি না দেওয়াই হবে মানবতার প্রতি অপরাধ
রাজনীতি
ইত্তেফাক
১০ মার্চ, ২০১৩
বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির এক নৃশংস হত্যার রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। এই নৃশংসতার কোনো তুলনা সভ্য দুনিয়ায় নেই। এক একটি তাজা তরুণ প্রাণকে তারা ধারালো ছোরা, চাপাতি, দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছে এবং হত্যা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, এই ঘৃণ্য হত্যাকে জাস্টিফাই করার জন্য বলা হচ্ছে—এরা নাস্তিক, মুরতাদ। এরা মহানবীর (দ.) নামে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়াচ্ছে। প্রজন্ম চত্বরের তরুণ ব্লগার রাজীবকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার নামেও মহানবীকে অবমাননার দুর্নাম ছড়ানো হয়েছে। ছড়িয়েছে জামায়াতিরা এবং তাদের সমর্থক কোনো কোনো মিডিয়া। রাজীবকে হত্যার পর এই প্রচারণা চালাতে গিয়ে জামায়াতিরা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছিলো যে, এই হত্যাকাণ্ডের হোতা তারা। আরো প্রমাণিত হয়েছে, রাজীবের লেখা দাবি করে মহানবী (দ.) সম্পর্কিত যে মন্তব্যগুলো তারা রাজীবের মৃত্যুর পরও ছড়িয়েছে সেগুলোও তার লেখা নয়। জামায়াতিরাই সেগুলোর উদ্ভাবক ও প্রচারক। রাজীবের আগে তারই বন্ধু '৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির আরেক সমর্থক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের উপর একই কায়দায় চাপাতি, দা, ছোরা নিয়ে হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় গুরুতরভাবে আহত হলেও আসিফ কপালগুণে বেঁচে ...
দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ এত দিনে স্পষ্ট হলো
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
৫ মার্চ, ২০১৩
দেশ কোন পথে? এই প্রশ্নটি এখন সবার মুখে মুখে। সঠিক জবাবটি সম্ভবত কারোই জানা নেই। আমারও জানা আছে, এ কথা বললে সত্যের অপলাপ হবে। তবে ভালো হোক আর মন্দ হোক, দেশে এই রাজনৈতিক পোলারাইজেশনটির (মেরুকরণের) দরকার ছিল। পঁচাত্তরের গ্রেট ন্যাশনাল ট্র্যাজেডির পরই এই রাজনৈতিক মেরুকরণের শুরু। একদিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের সমর্থক পক্ষ, অন্যদিকে স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ। পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের পর মূলত স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু এই শত্রুপক্ষের চেহারা ও চরিত্র বোঝার উপায় ছিল না। কারণ রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হলেও তার চেহারা ...
দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ এত দিনে স্পষ্ট হলো
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
৫ মার্চ, ২০১৩
দেশ কোন পথে? এই প্রশ্নটি এখন সবার মুখে মুখে। সঠিক জবাবটি সম্ভবত কারোই জানা নেই। আমারও জানা আছে, এ কথা বললে সত্যের অপলাপ হবে। তবে ভালো হোক আর মন্দ হোক, দেশে এই রাজনৈতিক পোলারাইজেশনটির (মেরুকরণের) দরকার ছিল। পঁচাত্তরের গ্রেট ন্যাশনাল ট্র্যাজেডির পরই এই রাজনৈতিক মেরুকরণের শুরু। একদিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের সমর্থক পক্ষ, অন্যদিকে স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ। পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের পর মূলত স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু এই শত্রুপক্ষের চেহারা ও চরিত্র বোঝার উপায় ছিল না। কারণ রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হলেও তার চেহারা ...
জামায়াতি হরতালে যুক্ত হয়ে বিএনপি লাভবান হবে কি?
রা জ নী তি
৩ মার্চ, ২০১৩
বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটেন যখন নািস জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধরত, তখন দুটি ব্রিটিশ রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট ও বিএনপি (ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি) ফ্যাসিবাদকে সমর্থন জানিয়ে নিজ দেশে ফ্যাসিবাদী তত্পরতা শুরু করেছিল। তদানিন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল তখন বলেছিলেন, 'কখনো কখনো কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বা দলসমূহকে, এমনকি কোনো কোনো জাতিকেও সামগ্রিক পাগলামিতে (collective madness) পেয়ে বসে। ব্রিটেনের দুটি ফ্যাসিস্ট দলকেও এই কালেকটিভ ম্যাডনেস পেয়ে বসেছে।' ব্রিটেনে এই ফ্যাসিস্ট দল দুটিকে কঠোরভাবে তখন দমন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ জনগণও এদের উত্থান প্রতিহত করেছে। বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চলমান ঘটনায় মনে হয়, অতীতের ব্রিটেনের মতো বর্তমানে বাংলাদেশের দুটি রাজনৈতিক দলকেও কালেকটিভ ম্যাডনেসে পেয়ে বসেছে। এই দুটি দল   ...
সরকারের সামনে এখন আর কোনো দ্বিতীয় পথ খোলা নেই
কালের আয়নায়
সমকাল
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
গত মাসের (জানুয়ারি) শেষদিকে আমি স্নেহভাজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে একটা অনুরোধ জানিয়েছিলাম। একবার নয়, দু'বার জানিয়েছিলাম। তিনি কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, তা আমি জানি না। যদি গুরুত্ব দিতেন তাহলে বর্তমান ঐতিহাসিক প্রজন্ম চত্বরের ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকে হয়তো এমন শোচনীয়ভাবে জীবন দিতে হতো না। আমাদের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে আন্তরিক এবং অত্যন্ত তৎপর, তা আমি জানি। কিন্তু তিনি কতটা অভিজ্ঞ কিছুসংখ্যক পুলিশ অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ করতে তা আমি জানি না। গত ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় জঙ্গি ...
প্রবাসে মৃত্যু হলেও তিনি প্রবাসী ছিলেন না
কালের আয়নায়
সমকাল
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
আর কত ওবিচুয়ারি লিখব? গত দু'বছর মনে হয় আমি যত লেখা লিখেছি, তার একটা বড় অংশ ওবিচুয়ারি। একের পর এক আমার প্রিয় মানুষরা এবং শ্রদ্ধেয় মানুষরা অন্তর্ধান করেছেন। ২০১২ সালের শেষ দিক এবং ২০১৩ সালের সূচনা তো মনে হয় আমার জন্য এক শোকাবহ কাল। স্ত্রীকে হারিয়েছি ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে। তার শোকের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চলে গেলেন নজরুলসঙ্গীত শিল্পী সোহরাব হোসেন, সঙ্গে সঙ্গে গেলেন আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় নির্মলদা_ নির্মল সেন। নির্মল সেনের ওবিচুয়ারি লেখার কালি শুকাতে না ...
এই হার্মাদ বাহিনী কাপুরুষ, সরকার কঠোর হোন
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
৩০ জানুয়ারি ২০১৩
গত সোমবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের একাধিক বড় শহরে যে হার্মাদি জঙ্গীপনা ঘটে গেল, তাতে জামায়াতী হার্মাদদের শক্তির বা তাদের পেছনে জনসমর্থনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তবে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বলতা সম্ভবত প্রকাশ পেয়েছে। আমি জানি না, এটা সরকারী প্রশাসনের দুর্বলতা, না সরকারের হার্ড লাইনে না যাওয়ার নীতিগত দুর্বলতা? যদি এটা সরকারের দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্বলতা হয়ে থাকে, অর্থাৎ এই হার্মাদদের দমনের জন্য সরকার এখনই হার্ড লাইনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার বলার কিছু নেই। কারণ, দুর্জনকে প্রশ্রয়দানের নীতির পরিণাম সরকারকেই আখেরে ভুগতে হবে। যদি জামায়াতী হার্মাদদের এই তা-ব দমন করতে না পারা সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে ঘটে থাকে, তাহলে বলব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হওয়ায় জামায়াত এবং যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক শক্তিশালী মহলগুলোর কাছে এই মেসেজ পৌঁছে গেছে যে, অন্য শীর্ষ অভিযুক্তদেরও তড়িৎ বিচার ও দণ্ডাদেশ ঘোষণা বন্ধ করা যাবে না। তারা এখন মরণ কামড় ...
‘ওরে হত্যা নয় আজ সত্য-গ্রহ শক্তির উদ্বোধন’
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
২৩ জানুয়ারি ২০১৩
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর নুরেমবার্গের আদালতে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষে মৃত্যুদ-াদেশ দেয়া হয়, তখন ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলকে নাকি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘আপনি তো মৃত্যুদ-ের বিরোধী। তাহলে নুরেমবার্গ আদালতের এই রায় সমর্থন করেন কি?’ রাসেল নাকি জবাব দিয়েছিলেন, ‘ব্যক্তিগত খুনের ব্যাপারে আমি মৃত্যুদ-দানের বিরোধী। কারণ অনেক সময় অনেক অপরাধী সাময়িক উত্তেজনা ও রাগের বশে প্রতিশোধ কামনায় হত্যাকা- ঘটায়। এ ক্ষেত্রে আমি কঠোর শাস্তি চাই, মৃত্যুদণ্ড নয়। কিন্তু সমষ্টিগত যে হত্যাকাণ্ড, যা ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয় এবং যে নিষ্ঠুর নির্যাতন থেকে নারী, শিশুও বাদ যায় না, তা ব্যক্তিমানুষের বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এই অপরাধে মৃত্যুদ- লঘু শাস্তি।’ পাঠক ভাই-বোনেরা লক্ষ্য করবেন, মৃত্যুদ- সম্পর্কে বার্ট্রান্ড রাসেলের একটি মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে আমি দুবার নাকি শব্দটি ব্যবহার করেছি। তার কারণ আমি রাসেলের কোন লেখায় এই মন্তব্যটি পাঠ করিনি। কিন্তু রাসেল-গবেষক এক ব্রিটিশ বন্ধুর কাছে শুনেছি। রাসেল সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য উদ্ঘাটন করে তিনি পত্রপত্রিকায় লিখেছেন। ...
জেনারেল এরশাদ সত্যই কি মহাজোট ছেড়ে যাবেন
কলাম
দৈনিক ইত্তেফাক
২০ জানুয়ারি ২০১৩
আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান জাতীয় পার্টির নেতা জেনারেল এরশাদের সাম্প্রতিক কথাবার্তা শুনলে আমার আরেক জেনারেলের কথা মনে পড়ে। তিনি চীনের কুওমিংটাং সরকারের আমলের রাষ্ট্রপতি জেনারেল চিয়াংকাইশেক। মাও জে দুংয়ের নেতৃত্বে কম্যুনিস্ট পার্টি চীনের মূল ভূখণ্ড (Mainland) দখল করে নেয়ার পর জেনারেল চিয়াংকাইশেক ফরমোজা দ্বীপে আশ্রয় নেন এবং সেখানে মার্কিন পাহারায় শেষ জীবন কাটান। বেঁচে থাকাকালে তিনি প্রতি বছর একটি করে হুঙ্কার ছাড়তেন এবং বলতেন, আগামী বছরেই তিনি দেশ পুনর্দখল করবেন এবং মহাচীনের মহানায়ক হবেন। যে বছর তিনি ফরমোজা ...
রাজনৈতিক সুনামির আগাম সতর্কবার্তা
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২০ নভেম্বর ২০১২
এবার আমার ঢাকা অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়নি। অবশ্য আমি ঢাকায় এলে প্রতিবারই যে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়, তা নয়। বেশির ভাগ সময় তিনি অনুগ্রহ করে ডেকে পাঠান, সব ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন, তা রাত ১০টা বা ১১টা যা-ই হোক। কোনোবারই আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎপ্রার্থী হইনি, তিনিই দয়া করে সাক্ষাৎ দান করেছেন। এ বছর যে তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন, তখনো তাঁর অতি ব্যস্ততার মধ্যেও আমি যাতে হোটেলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি সে ব্যবস্থা ...
একজন প্রবীণ এবং বন্ধু কলামিস্টের কাছে নিবেদন
চতুরঙ্গ
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৬ নভেম্বর ২০১২
সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরোক্ষভাবে বিশ্বচোর আখ্যা দিয়ে এক জনসভায় বলেছেন, ‘এ বিশ্বচোরকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।’ এই কথাটি তিনি ‘কয়েন’ করেছেন আমার প্রবীণ বন্ধু ও কলামিস্ট এবিএম মূসার একটি উক্তি থেকে। কিছুকাল আগে এক টিভি টকশোতে তিনি আওয়ামী লীগারদের সম্পর্কে বলেছেন দেশের মানুষ তাদের দেখলেই যেন বলে ‘তুই চোর।’ তিনিও আবার এই কথাটি ধার করেছেন প্রয়াত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ‘তুই রাজাকার’ উক্তিটি থেকে। হুমায়ূন আহমেদের উক্তির যেখানে যথার্থতা আছে সেখানে বন্ধুবর মূসার কথাটির কোন যথার্থতা নেই। হুমায়ূন আহমেদ ‘তুই রাজাকার’ কথাটি বলে রাজাকারদের সম্বন্ধে জনগণের ঘৃণার অভিব্যক্তি ঘটিয়েছেন। কিন্তু বন্ধুবর মূসা ‘তুই চোর’ বলে একটি রাজনৈতিক দল যে দলের সঙ্গে তিনি ‘এখনও সম্পৃক্ত’ বলে দাবি করেন সে দলের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত রাগের বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছেন। একটি রাজনৈতিক দল বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সকলেই চোর হতে পারে না। মূসা নিজেও পরে বলেছেন তিনি তাঁদের সকলকে চোর বলেননি। তাহলে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বশে কেন এমন কথা ...
জেলহত্যা এবং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
কালের আয়নায়
সমকাল
৩ নভেম্বর ২০১২
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা ছিল একই বছরের ১৫ আগস্টের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের অসমাপ্ত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। ১৫ আগস্টের প্রত্যুষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার দ্বারা বাংলাদেশে যে রক্তক্ষয়ী প্রতিবিপ্লবের সূচনা তার সফল সমাপ্তি ঘটে ৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চার নেতার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। এই প্রতিবিপ্লবী সাফল্যের ধারাতেই ঘটে ৭ নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান, যা থেকে এর প্রকৃত চেহারা স্পষ্ট হয়ে যায়। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড যে একদলীয় বাকশাল শাসনের নিপাত কিংবা একজন নেতাকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা নয়, বরং যে আদর্শ ...
সংবাদ-সাহিত্যে একটা বড় শূন্যতার সৃষ্টি হলো
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১২
ষাটের দশকের কথা। ওই সময় বাংলাদেশের একমাত্র প্রগতিশীল সাহিত্য-সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল গাজী শাহাবুদ্দিন সম্পাদিত 'সচিত্র সন্ধানী'। তখনকার অধিকাংশ তরুণ লেখক এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমি এই সচিত্র সন্ধানীতে একটি উপন্যাস লিখছিলাম, 'নাম না জানা ভোর'। গাজী শাহাবুদ্দিন একদিন আমাকে বললেন, আমাদের তরুণ সম্পাদক গোষ্ঠীর একজন আপনার বাসায় লেখা সংগ্রহ করতে নিয়মিত যাবে। তাঁর নাম আতাউস সামাদ। আমি তখন আজিমপুরসংলগ্ন শেখসাহেব বাজারে থাকি। আতাউস সামাদ প্রতি সপ্তাহেই আসতেন আমার লেখা সংগ্রহের জন্য। বড় বড় চোখ এই সুদর্শন তরুণকে তখন থেকেই ছোট ভাইয়ের মতো ভালোবাসি। দিন দিন এই ভালোবাসা গভীর হয়েছে। ১৯৬১ সালের কথা। সে বছর ৯ মে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ঝড় হয়। তাতে ঢাকা শহরে মৃতের সংখ্যা ছিল ১০ জনের মতো। বড় বড় গাছ রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ে ঢাকা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা অচল হয়ে গিয়েছিল। তখন আমি অধুনালুপ্ত 'দৈনিক আজাদে' কাজ করি। প্রয়াত এ এম জি মহিউদ্দিন আজাদের বার্তা সম্পাদক। আমিই তখন আজাদের একমাত্র ফিচার লেখক। বার্তা ...
যুদ্ধাপরাধ এবং দুই নোবেল জয়ীর দুই ভূমিকা
উপ-সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
২৬/০৯/২০১২
বাংলাদেশে যখন ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে এবং এই বিচার প্রক্রিয়া ব্যর্থ করার জন্য দেশটির ভেতরে ও বাইরে বিরাট চক্রান্ত চলছে, তখন বিশ্বব্যাপী আরেকটি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি ক্রমশই সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধাপরাধের প্রধান দুই অভিযুক্ত আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়র এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এই যুদ্ধাপরাধেরও বিচারের দাবি এতকাল ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে এবং এই দাবি যাতে ভবিষ্যতে আর কোন দিন না ওঠে, তার জন্য শক্তিধরদের বিরাট চক্রান্ত চলছে। কথায় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। এই শতকের গোড়ার (২০০৩) একটি ভয়ানক যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি তাই এতদিন ঠেকিয়ে রাখা গেলেও তা আবার নতুনভাবে উঠেছে এবং এই দাবি অপ্রতিরোধ্য। পশ্চিমা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলেরও ধারণা, আজ হোক কাল হোক টনি ব্লেয়ার ও জর্জবুশকে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবেই। সেই সঙ্গে দাঁড়াতে হবে সাবেক বুশ এডমিনিস্ট্রেশনের ডিক চেনী, ডোনাল্ড রামসফিল্ড, পল ওলফউইজ প্রমুখ যুদ্ধাপরাধের আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে। ...
তোফায়েল ও মেনন সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন কি?
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
১৬/০৯/২০১২
শেখ হাসিনার সদ্য সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমদ এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন আমন্ত্রিত হয়েও যোগ দেননি। এ সম্পর্কে আমার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিলো, তোফায়েল আহমদ অভিমানবশত যোগ দেননি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি হয়তো আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে মহাজোট ত্যাগের চিন্তাভাবনা করছে। কারণ, মন্ত্রিসভায় যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তটি মেননের একার নয়, তার দলের পলিটব্যুরোরও একই সিদ্ধান্ত। এখন শুনছি, মন্ত্রিসভায় অংশ না নিলেও ওয়ার্কার্স পার্টি মহাজোটে থাকবে। তাহলে মেননের সিদ্ধান্তকে নতুন করে বিচার করতে হয়। এটা অনেকটা ভারতে মনমোহন সিংয়ের প্রথম মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পর বামফ্রন্টের মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে সরকারকে সমর্থনদানের অর্থাত্ কংগ্রেস জোটে থাকার সিদ্ধান্তের মতো। অবশ্য এই সিদ্ধান্তে বামফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত অটল থাকতে পারেনি। আমেরিকার সঙ্গে মনমোহন সরকারের অতিরিক্ত দহরম মহরম শুরু হওয়ার পর তারা জোট ত্যাগ ও সরকারের উপর সমর্থন প্রত্যাহার করেন। তারপর দিল্লির সরকার আরও বেশি ডানঘেঁষা হয়ে পড়েন এবং এখনতো দুর্নীতি থেকে শুরু করে নানা অভিযোগে মনমোহন সরকার নিজেদের সামলাতে ব্যতিব্যস্ত। ...
বেগম খালেদা জিয়ার সৌদি কানেকশন
উপ-সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
১২/০৯/২০১২
পর পর দু’মাসে কিংবা এক বছরের মধ্যে দু’বার কারও ওমরাহ হজ করার দৃষ্টান্ত খুবই বিরল। তবু বাংলাদেশের বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সম্প্রতি পর পর দু’মাসে দু’বার ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গেলেন, তখন খবরে বলা হয়েছিল, চিকিৎসার জন্য তাঁকে এত ঘন ঘন সৌদি আরবে যেতে হচ্ছে। তবে কেউ কেউ বলেছেন, বেগম জিয়ার মধ্যে এখন রাজনৈতিক প্রেরণার চাইতেও আধ্যাত্মিক প্রেরণা এত বেড়ে গেছে যে, তিনি ঘন ঘন পবিত্রস্থানে যেতে পছন্দ করেন। শারীরিক অথবা আধ্যাত্মিক যে কারণেই বেগম জিয়া ঘন ঘন সৌদি আরবে যান, তাতে কারও আপত্তি করার কিছু নেই। সক্ষম মুসলমান নর-নারী মাত্রই ইচ্ছে মতো তাঁদের পবিত্রস্থানে যেতে পারেন। কিছুকাল আগে বাংলাদেশের দুটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে প্রতিবছর হজে যাওয়ার একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। কেউ কেউ বলতেন, এটা তাঁদের আধ্যাত্মিক হজ নয়, রাজনৈতিক হজ। এই অনুমান কতটা সঠিক জানি না, তবে দু’নেত্রীর হজের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য ছিল। শেখ হাসিনা হজ করে এসে ...
শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের দিকে অবিলম্বে নজর দিন
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
০৯/০৯/২০১২
কয়েক দশক আগের কথা। বাংলাদেশ তখন পূর্ব পাকিস্তান। ঢাকায় আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক সরকার ক্ষমতায়। আতাউর রহমান খান ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য। এই সময়ের ঘটনা। আমি তখন ইত্তেফাকের সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করি। একদিন সকালে সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া (আমরা তাকে ডাকতাম মানিক ভাই) মোসাফির এই ছদ্মনামে যে রাজনৈতিক কলামটি (রাজনৈতিক মঞ্চ) নিয়মিত লিখতেন, সেটি লিখতে বসেছেন। লেখা মানে ডিকটেশন দেয়া। তিনি পুরানো ইত্তেফাক ভবনে নিজের কক্ষে একটি ইজি চেয়ারে শুয়ে ডিকটেশন দিতেন। আমরা কেউ তা লিখে নিতাম। সেদিনও তিনি রাজনৈতিক মঞ্চের ডিকটেশন দেয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। আমিও কাগজ-কলম নিয়ে প্রস্তুত। এমন সময় শেখ মুজিবুর রহমান কক্ষের দরোজা ঠেলে ঢুকলেন (তখন তিনি বঙ্গবন্ধু হননি)। বললেন, আপনার লেখার সময়ে ডিস্টার্ব করতে এলাম। মানিক ভাই বললেন, ‘না না ডিস্টার্ব হবে না। নিশ্চয়ই কোনো কাজের জন্য এসেছেন’। শেখ মুজিব বললেন, কাজটা হলো আপনার কাছ থেকে একটা পরামর্শ নেয়া। পরামর্শটি রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত। ...
বদরুদ্দীন উমরের একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে
কালের আয়নায়
সমকাল
০৮/০৯/২০১২
আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে যদি ক্ষমতা হারায়, তাতে ড. ইউনূস ক্ষমতায় যাবেন সে সম্ভাবনা আমি দেখি না। কোনো পরাশক্তি বা সুশীল সমাজ চাইলেও নয়। বাংলাদেশে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বাইরে তৃতীয় রাজনৈতিক দলের উত্থানের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমি এখনও তৈরি হয়নি। ড. ইউনূস নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরই রাজনৈতিক দল গঠন করতে গিয়ে দেখেছেন নোবেল পুরস্কারের মহিমাও তাকে রাজনৈতিক দল গঠনে জনসমর্থন এনে দেয়নি লন্ডনের আকাশে ঘন মেঘ জমলেই ঝড়-বৃষ্টি যে হবেই তা কেউ বলতে পারে না। দেখা গেল, ঘন ...
বিশ্বে সংখ্যালঘুদের অবস্থা এবং কলকাতায় দুই ইমামের কাজিয়া
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০৪/০৯/২০১২
পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নত নির্বিশেষে বহু দেশেই দাবি করা হয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অথবা সম্প্রদায়সমূহ সুখে-শান্তিতে আছে। অধিকাংশ দেশেই দাবিটির পেছনে সত্যতা থাকে না। আমাদের উপমহাদেশের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই সত্যতা আরো বেশি থাকে না। ধর্মীয়, জাতিসত্তাগত, বর্ণগত নানা শ্রেণীর সংখ্যালঘু পৃথিবীতে আছে। রাষ্ট্রে ও সমাজে তারা সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতো সমান অধিকার পান, তা নয়। সমান অধিকার না পেলেও কথা ছিল না। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের সরকারের কাছ থেকে যে নির্যাতন ভোগ করে, তা অবর্ণনীয়। 'এথনিক ক্লিনজিং' কথাটি এখন ...
একটি চলতি যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
কালের আয়নায়
সমকাল
২৫/০৮/২০১২
বলা চলে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ড. ইউনূস একটি বহু ফ্রন্টের যুদ্ধ শুরু করেছেন বেশ আগেই। 'আজ একটি কালো দিন' শীর্ষক লেখায় তার আরেকটি প্রকাশ্য ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করলেন মাত্র। তিনি তার বক্তৃতা ও লেখায় বারবারই ব্যাংকটির মালিক হিসেবে গরিব মহিলাদের কথা উল্লেখ করেন। এ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, ব্যাংকটির কর্তৃত্বের ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে তার যুদ্ধে এই গরিব মহিলাদের তিনি হিউম্যান-শিল্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কলম ধরেই ভেবেছিলাম, এবার দেশে মোটামুটি শান্তি ও ...
আমরা কি 'কালেকটিভ ম্যাডনেসে' আক্রান্ত হয়েছি?
কালের আয়নায়
সমকাল
১১/০৮/২০১২
আমার বড় ভয় হয়। আগে কোনো দেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্য সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের অনুগ্রহভোগী দেশি সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করত। এখন কি সেই ভূমিকায় তাদের সাহায্যনির্ভর এনজিওগুলোকে নামানো হচ্ছে? আমরা কি এখন 'কালেকটিভ ম্যাডনেসে' (যূথবদ্ধ পাগলামি) ভুগছি? প্রশ্নটা মনে জাগল চার্চিলের একটি উক্তি স্মরণ করে। তিনি বলেছিলেন, 'কোনো কোনো দেশকে বা জাতিকে কোনো কোনো সময় সামগ্রিক পাগলামিতে পেয়ে বসে। এটা সেই দেশ বা জাতির জন্য বড় দুঃসময়।' এই উক্তিটি স্মরণ করেই মনে প্রশ্ন জেগেছে, আমরাও কি এখন ...
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হবেন কারা এবং কিভাবে (৩)
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৬/০৮/২০১২
কিস্সা অনেক লম্বা করে ফেলেছি। এবার যবনিকা টানতে হয়। আমাদের দেশে যারা স্বচ্ছ রাজনীতির কথা বলেন, ‘যারা বদলে যাও বদলে দাও’ হুংকার তুলেছেন, তারা কিন্তু নিজেরা বদলাতে পারেননি, দেশে স্বচ্ছ রাজনীতির কোন উদাহরণ স্থাপন করতে পারেননি। তাদের প্রেসক্রিপশন হল, মাথাব্যথা যখন হয়েছে, তখন মাথাটাই কেটে ফেল। মাথাব্যথার যে ওষুধ আছে, সে কথাটা তারা বলেন না। রাজনীতি স্বচ্ছ করারও যে ওষুধ আছে, সে কথা তারা গোপন করেন। তাদের কথা হল রাজনীতি এখন অস্বচ্ছ এবং রাজনীতিকরা দুর্নীতিপরায়ণ। সুতরাং রাজনীতি বর্জন কর, মাইনাস টু থিয়োরি বাস্তবায়ন দ্বারা দু’নেত্রীকে হটাও, নির্বাচিত সরকারের বদলে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ‘সুশীল সমাজের’ লোকদের দ্বারা মনোনীত সরকারকে ক্ষমতায় বসাও, তাহলেই দেশে দুর্নীতি, অব্যবস্থা, সন্ত্রাস সব দূর হয়ে যাবে। গুড গভর্নেন্স বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। ...
হুমায়ূন আহমেদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের কাছে একটি অনুরোধ জানাতে পারি কি?
উপ সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
০৫/০৮/২০১২
কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে এখনো দু’সপ্তাহও হয়নি। দেশে শোকের উচ্ছ্বাস এখনো বইছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই তার মৃত্যু নিয়ে যে অবাঞ্ছিত গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং নিন্দনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে তা শুধু দুঃখজনক নয়, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগানোর জন্য এই মুহূর্তে যাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো তাদের মধ্যে কোনো কোনো মহল বা মিডিয়া যদি সেই দায়িত্বটি পালন না করে নানাধরনের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এই পরিবারের মধ্যে গৃহবিবাদ বাধাতে চান এবং উইচ হান্টিং শুরু করেন, তাহলে তাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা উচিত। হুমায়ূনের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী যে শোকোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে তা প্রশমিত না হতেই একদিকে তার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের দীর্ঘকাল  পর সহসা ঢাকায় ফিরে আসা, স্বামীর স্মরণ সভায় যোগদান ও ক্রন্দন ইত্যাদিকে মূলধন করে তার জন্য মায়াকান্না শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় এবং অল্প বয়সের স্ত্রী শাওনকে মধ্যযুগের ডাইনি সাজিয়ে তারই অবহেলা ও উপেক্ষার কারণে হুমায়ূন আহমদের মৃত্যু হয়েছে বলে রটনা করা হচ্ছে। এমনকি ...
সংসদ ও বিচার বিভাগের সংঘাত কাম্য নয়
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৫/০৮/২০১২
বাংলাদেশে সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। রাষ্ট্রের দুটি স্তম্ভের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত এড়ানো গেছে। এটাকে আমি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হিসেবে দেখছি। এটার জন্য কাউকে দোষারোপ করি না, জাতীয় সংসদকেও না এবং বিচার বিভাগকেও না। এটা দুজন মানুষের স্পিকার এবং আকস্মিক ব্যাপার। বিষয়টা ইতোমধ্যে মিটমাট হয়ে গেছে। স্পিকার রুলিং দিয়েছেন। চমৎকার রুলিং দিয়ে বলেছেন, আদালত সংসদকে অবমাননা করেনি। একজন ব্যক্তি বিশেষ কিছু মন্তব্য করেছেন। সেটা আমরা আমলে নিচ্ছি না। অন্যদিকে ওই বিচারপতিও এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য রেখেছেন। তাতে হয়তো স্পিকার সম্বন্ধে কিছু কথা ছিল, যা উনি এড়াতে পারতেন, তবে উনি আর বাড়াবাড়ি করেননি। ফলে গণতন্ত্রের শত্রুরা যেটা চেয়েছিল সংসদ এবং বিচার বিভাগের ভেতর সংঘাত হোক, গণতন্ত্র দুর্বল হোক, সেই আশঙ্কাটা কেটে গেছে। ...
পদ্মা সেতু ও বিশ্বব্যাংক প্রচারণার নতুন ধারা
উপ সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
০৩/০৮/২০১২
পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশে যারা একতরফা আওয়ামী লীগ সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন, তাদের প্রচারণা এখন একটি নতুন ধারা নিয়েছে। এই প্রচারণাটি মূলত একটি তথাকথিত নিরপেক্ষ পত্রিকা গোষ্ঠীর। এতোদিন প্রচারণা চলছিল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে এবং সেই সঙ্গে বলা হচ্ছিলো তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে সরানো হচ্ছে না কেন? ভাবখানা এই, আবুল হোসেনই যতো নষ্টের মূল। তাকে সরালেই বিশ্বব্যাংক টাকা দেবে। সৈয়দ আবুল হোসেন এখন মন্ত্রীপদে ইস্তফা দিয়েছেন। তাকে সরালেই বিশ্বব্যাংক অর্থ দেবে তার কোনো নিশ্চয়তা এখনো দেখা দেয়নি। অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব অবশ্য জোর তদবির চালাচ্ছেন, কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক তদ্বিরকারকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সফল হবেন কিনা সে সম্পর্কে আমার সন্দেহ আছে। যদি সফল হতে চান তাহলে মাথা আরও নিচু করতে হবে। ঢাকার ‘নিরপেক্ষ’ বাংলা দৈনিকটির এক কলামিস্ট সুদূর আমেরিকায় বসে টেলিফোনে একটি কলাম লিখেছেন।  সম্ভবত তিনিও বিশ্বব্যাংক অথবা জাতিসংঘের কর্মচারী। তার লেখার সঙ্গে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লী মাইসুংবাকের ...
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পঞ্চমবাহিনী কারা?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
৩১/০৭/২০১২
বিতীয় মহাযুদ্ধকালে ইংরেজী ভাষার অভিধানে একটি নতুন কথা যুক্ত হয়েছিল Fifth Column, বাংলায় এর তর্জমা করা হয়েছিল পঞ্চমবাহিনী। বাংলাদেশ তখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত একটি প্রদেশ। স্কুলের একেবারে নিচের দিকে ক্লাসে পড়ি। তখন জাপানী সৈন্যরা বাংলাদেশের পূর্বপ্রান্তে এসে গেছে। গোটা বার্মা (বর্তমানের মিয়ানমার) দখল করে নিয়েছে। এই জাপানী অভিযান রোখার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রোপাগান্ডা অত্যন্ত জোরদার করেছিল। বাংলাদেশের শহর, বন্দর, গ্রামের বাড়িঘর, দোকান এবং রাস্তায় দেয়াল পর্যন্ত পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছিল, তাতে লেখা থাকত ‘পঞ্চমবাহিনী হইতে সাবধান।’ তখন পঞ্চমবাহিনী কথাটার অর্থ বুঝতাম না। একটু বড় হয়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই বুঝতে পেরেছি। কিন্তু ফিফ্থ কলাম বা পঞ্চমবাহিনী কথাটার অর্থ মিত্রবেশে দলের মধ্যে বা দেশের মধ্যে থেকে যারা শত্রুতা করে। ...
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হবেন কারা এবং কীভাবে (২)
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
৩০/০৭/২০১২
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সম্প্রতি একটি চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এক পাল্লায় দাঁড় করিয়ে দু’দলই দেশ শাসনে ব্যর্থ প্রমাণ করে তৃতীয় শক্তি বা তৃতীয় ধারার আবির্ভাব ঘটানোর জন্য যখন তুমুল হইচই শুরু করা হয়েছে, ঠিক তখনই মন্ত্রী আবুল হোসেনের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি মন্তব্য করায় তা নিয়েও রীতিমতো চায়ের কাপে তুফান তোলা হয়েছে। লক্ষণীয় ব্যাপার, এই চায়ের কাপের তুফানটাও সৃষ্টি করেছে দেশের তৃতীয় শক্তির উপাসকেরাই। এই তৃতীয় শক্তি বা তৃতীয় ধারার উপাসকদের নেপথ্যে যাদেরই অবস্থান হোক, সামনে ব্যান্ডবাদকের ভূমিকা নিয়েছে একটি ‘নিরপেক্ষ’ বাংলা দৈনিক এবং তার সহোদরা ইংরেজি পত্রিকাটি। সুজন, নিরপেক্ষ, সুশীল ইত্যাদি নানা ছদ্মাবরণের একটি ভাড়াটে কলামিস্ট গোষ্ঠী তৈরি করেছে এই বাংলা দৈনিকটি। আওয়ামী লীগÑ তথা হাসিনা-বিরোধী কিছু হলেই এই একই পরিচিত মুখগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং নিরপেক্ষতার একটি মুখোশ মুখে এঁটে এরা বৃক্ষকর্তন থেকে সন্ত্রাস দমন পর্যন্ত সব ব্যাপারে অত্যন্ত নিপুণ কৌশলে এমন প্রোপাগান্ডা চালাতে থাকে, যে প্রোপাগান্ডার সব বেনিফিট বিএনপি-জামায়াতিদের ...
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পঁয়তাল্লিশ মিনিট
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৯/০৭/২০১২
প্রায় দেড় দুই বছর পর দেখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। তাও লন্ডনে। ব্রিটেনে নিযুক্ত আমাদের হাই কমিশনার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান অবশ্য আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন, লন্ডন অলিম্পিকের (২০১২) অতিথি হয়ে প্রধানমন্ত্রী ২৫ জুলাই লন্ডনে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা, আমি যেন ২৭ তারিখে লন্ডনে তার হোটেলে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করি। আমার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর বারোটা। আমার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে আসবেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড। সুতরাং দু’টি সাক্ষাত্কার যেন ওভারল্যাপ না করে সেজন্য আমি যেন নির্দিষ্ট সময়ে যাই। আমার জন্য ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করেছিলেন হাই কমিশনই। সুতরাং একদিকে অলিম্পিকের অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও মধ্য লন্ডনে কিংসক্রসে ভিকটোরিয়ান আমলের রিনোভেটেড করা রেনেসাঁস হোটেলে পৌঁছতে আমার অসুবিধা ও দেরি কোনোটাই হয়নি। ...
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হবেন কারা এবং কিভাবে?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২২/০৭/২০১২
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার তৃতীয় শক্তির আবির্ভাবের কথা উঠেছে। ঢাকার কাগজের পাতা খুললেই তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ-আয়োজনের খবর পাঠ করি। বাংলাদেশে ভাদ্র মাস এলে যেমন কৈ মাছ উজায়, তেমনি নির্বাচন এলেই কানা, খোঁড়া, ল্যাংড়া সব রকমের রাজনীতিক মাঠে নামেন নতুন রাজনৈতক জোট গঠনের জন্য। মহাজোট, আঠার দলীয় জোটের কার্যকলাপে জোট কথাটি এখন আবেদন হারিয়েছে, সুতরাং থার্ড ফোর্স বা তৃতীয় শক্তি কথাটারও আবেদন বেড়েছে মনে করা হয়। তৃতীয় শক্তির কথাটা আগে সাধারণ মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করত। কারণ তৃতীয় শক্তি বলতেই বোঝাত রাজনীতির বাইরের অরাজনৈতিক অপশক্তিকে। এখন দেশের একটি চতুর সুশীল সমাজ তৃতীয় শক্তি কথাটিকে ধুয়ে-মুছে একটা নতুন মাত্রা দিয়েছেন। এ মাত্রাটি হলÑ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে নতুন রাজনৈতিক জোট। এর নাম তৃতীয় শক্তি। ...
ভারতের হবু রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি সম্পর্কে আরো কিছু কথা
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১৭/০৭/২০১২
ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে (১৯ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি প্রণব মুখার্জির জয়লাভ প্রায় নিশ্চিত জেনে ঢাকার একটি দৈনিকে (কালের কণ্ঠে নয়) আমি নিজের কলামে একটু আলোচনা করেছি। তাতে প্রণববাবু সম্পর্কে কিছু অপ্রিয় সত্যও তুলে ধরেছি। ভারত আমাদের নিকট ও বৃহৎ প্রতিবেশী। তা ছাড়া আমাদের মিত্রদেশ হওয়ারও দাবিদার। ভারতের সঙ্গে আমাদের ভালোমন্দও অনেক বেশি জড়িত। সুতরাং এত বড় নিকট প্রতিবেশীর রাষ্ট্রপতি কে হবেন বা কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করা স্বাভাবিক। বিশেষ করে ভারতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় আমাদের ...
পশ্চিমবঙ্গে মমতা, বাংলাদেশে খালেদা কি একই ভুল পথের যাত্রী?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১২/০৭/২০১২
বাংলায় একটা কথা আছে ‘অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী’ এটা রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের বেলাতেও সত্য। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী হঠাৎ ফুলুকে রাজ্যের নির্বাচনে বামফ্রন্টকে ধরাশায়ী করতে পারায় এতোটাই মোটা মাথা হয়ে উঠেছিলেন যে, তিনি নিজেকে রাতারাতি দিল্লীশ্বরী ভাবতে শুরু করেছিলেন। দিল্লীর অবাঙালী বুরোক্র্যাসি সহজেই তাকে তিস্তার পানি ও টিপাইমুখ বাঁধ ইত্যাদির ব্যাপারে প্রতিবেশী বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকার নিয়ে টালবাহানা করার কাজে ব্যবহার করতে পেরেছেন এবং এখন আবার ভারতের রাষ্ট্রপতির পদে প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি কংগ্রেসেরই পাতা ফাঁদে পা দিয়ে একেবারে সাইজ হয়ে যাচ্ছেন। মমতা ব্যানার্জীর দম্ভ এবং ইগোতে বাতাস সিঞ্চন করছিল আমেরিকা। বর্তমান বিশ্বের একক সুপার পাওয়ার আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের সময় মুক্তকচ্ছ হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন একেবারে কলকাতায়। ...
একটি কৌতুক গল্প এবং তার রাজনৈতিক তাৎপর্য
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৮/০৭/২০১২
গত শনিবার (৭ জুলাই) লন্ডনের ইস্ট এন্ডে ঢাকার বাংলা একাডেমির উদ্যোগে এবং লন্ডনের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের আয়োজনে বাংলা বইমেলা অনুষ্ঠিত হল। এই বইমেলা এবার তৃতীয় বর্ষে পা দিল এবং এর কলেবর প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর এই মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল সদ্য প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আÍজীবনী। মাত্র কয়েক খণ্ড লন্ডন বইমেলায় এসেছিল এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে সব খণ্ডের বিক্রি শেষ। চারদিন ধরে এই বইমেলা চলবে। এই মেলায় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আÍজীবনী অল্পসংখ্যক আসায় এবং কিনতে না পারায় অনেক ক্রেতার মধ্যে হতাশার ভাব লক্ষ্য করেছি। শনিবারের এই মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে লন্ডনের এবং লন্ডনের বাইরে থেকেও বহু সাহিত্যিক এবং সাহিত্যামোদী বন্ধুবান্ধব এসেছিলেন। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে মেলা যেখানে বসেছে সেই ব্রাডি সেন্টারে টি-স্টলে বসে আড্ডা দিচ্ছি, স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের কথা উঠল। ...
পদ্মা সেতু, বিশ্বব্যাংক ও অর্থমন্ত্রী
দশ দিগন্তে
দৈনিক ইত্তেফাক
০৭/০৭/২০১২
যে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও প্লাবনকবলিত বাংলাদেশ দেখে বিবিসি থেকে শুরু করে অধিকাংশ বিদেশি পর্যবেক্ষক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এবার বাংলাদেশে প্লাবনজনিত দুর্ভিক্ষে কমপক্ষে দু'লাখ লোক মারা যাবে, সে দুর্ভিক্ষ তৎকালীন হাসিনা সরকার ঠেকিয়েছিল। একজন লোককেও না খেয়ে মারা যেতে দেওয়া হয়নি। ত্রাণকার্যে সারা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেমেছিল  পদ্মা সেতু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে একটি আশার বাণী শুনিয়েছেন। সংসদে তিনি বলেছেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ দ্বারাই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব এবং তার সরকার এই কাজটি করবে। সংসদে দেওয়া বক্তৃতায় পদ্মা ...
পদ্মা সেতু ও বিশ্বব্যাংক নেপথ্যের খেলা-২
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০৪/০৭/২০১২
ঢাকার মতো লন্ডনে কাকডাকা ভোর নেই। কাকই চোখে পড়ে না, তারপর তার ডাক! তবে সামারে হঠাৎ দু-একটা কাক দেখা যায় এবং তার ডাকও শোনা যায়। আজ ভোরে ঘুম ভেঙেছে কাকের ডাকে। প্রথমে মনে হয়েছিল, ঢাকাতেই বুঝি আছি। চোখ মেলে ভ্রম ভাঙল, না লন্ডনেই আছি। তবে কাকডাকা ভোর। নিবন্ধটির দ্বিতীয় অংশ লিখতে বসে মনে পড়ল, আজ ৩ জুলাই, মঙ্গলবার। পাঠকরা আমার এই লেখাটি পড়বেন ৪ জুলাই, বুধবার। ১৭৫৭ সালের এই ৩ জুলাই তারিখে পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজকে হত্যা করা ...
পদ্মা সেতু ও বিশ্বব্যাংক নেপথ্যের খেলা
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
৩ জুলাই, ২০১২
শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থ সাহায্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ছোট মুখে বড় কথা বলছি। বিশ্বব্যাংক যে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নে এগিয়ে আসবে না- এই কথাটা আওয়ামী লীগ সরকারের দু-একজন কর্তাব্যক্তিকে আমি আগেই বলেছি। তাঁরা বলেছেন, একটু অপেক্ষা করে দেখুন। আমাদের অর্থমন্ত্রী তো একসময় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তা ছাড়া আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে আমেরিকায় খয়ের খাঁ গওহর রিজভী আছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন। তা ছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা ...
বাঙালির চরিত্র বৈশিষ্ট্য এবং আওয়ামী লীগে তার প্রতিফলন
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৫/০৬/২০১২
শেরেবাংলা ফজলুল হক যখন সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন তখন পদাধিকারবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তন উৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘ও ধস ঃযব ষরারহম যরংঃড়ৎু ড়ভ ইবহমধষ ভড়ৎ যধষভ ধ পবহঃঁৎু’ (আমি বাংলার অর্ধশতাব্দীর জীবন্ত ইতিহাস)। কথাটা ব্যক্তি ফজলুল হক সম্পর্কে সত্য। কিন্তু সংগঠন হিসেবে বলতে গেলে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকে একাত্তরের স্বাধীনতা এবং বর্তমান দশক পর্যন্ত বাঙালি ও বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসের সঠিক প্রতিবিম্ব আওয়ামী লীগ। চল্লিশের দশকের শেষের দিক থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের বাঙালির চরিত্রে যত পরিবর্তন ঘটেছে, তার সব পরিবর্তনের চিহ্ন পাওয়া যাবে আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শরীরে। ...
২৩ জুন :পলাশী থেকে রোজ গার্ডেন
কালের আয়নায়
সমকাল
২৩/০৬/২০১২
দেশের মানুষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে এখনও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভগ্নপ্রায় ঘাঁটির শেষ ভরসা বলে মনে করেন। আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখার কৃতিত্ব হাসিনা-নেতৃত্ব যেমন দাবি করতে পারে, দলটিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার অসম্ভব কাজ সম্ভব করার সাফল্যেরও দাবি জানাতে পারে, তেমনি এই বাস্তবতাও স্বীকার করে নিতে হবে যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চতুর্থ যুগের আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বর্ণযুগের মহিমা ধরে রাখতে পারেনি।ইতিহাস আমার প্রিয় সাবজেক্ট এবং আমি ইতিহাসের ছাত্র বলেই কি-না জানি না, ইতিহাসের অনেক ঘটনা ও তারিখের মধ্যে একটা ...
রোহিঙ্গা সমস্যা : বিবৃতিদাতা বুদ্ধিজীবীরা এতটা উতলা কেন?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৮/০৬/২০১২
বাঙালিদের একটা বড় পরিচয় তারা হুজুগে জাত। নীরদ সি. চৌধুরী তাদের নাম দিয়েছেন আত্মঘাতী বাঙালি। এককালের ভেতো বাঙালি এখন সন্ত্রাসী বাঙালি নামেও অভিহিত হচ্ছে। তবে বাঙালি চরিত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল আত্মকেন্দ্রিক ও বাস্তবতাবর্জিত ভাবালুতা। এটা আমাদের শিক্ষিত, অশিক্ষিত মানুষ এবং বুদ্ধিবীজীদের বেলাতেও অনেকাংশে সত্য। প্রিন্ট মিডিয়ায় আমাদের লেখাজোকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় (টকশোতে) আমাদের অনেকের কথাবার্তা শুনলেও এই সত্যটির প্রমাণ পাওয়া যাবে। এসব কথাবার্তায় বাস্তবতাবর্জিত ভাবালুতা, দলীয় আনুগত্য, অন্ধবিশ্বাস ও মনোভাবের যতটা পরিচয় পাওয়া যায়, পক্ষপাতহীন বিচার-বুদ্ধির পরিচয় অনেকের বেলাতেই ততটা পাওয়া যায় না। দলপ্রেম অনেক সময়েই দেশপ্রেমের ঊর্ধ্বে স্থান পায়। ...
নোবেলজয়ীর কাছে আমার কিছু সবিনয় নিবেদন
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১০/০৬/২০১২
সম্প্রতি ঢাকার কাগজগুলোতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ও আমার শংকা’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ বেরিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ১৫ মে, ২০১২ তারিখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে তদন্ত করে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তা দূর করার জন্য সরকারকে সুপারিশ জানাতে যে তদন্ত কমিশন গঠনের ব্যবস্থা করেছে, তাতে ড. ইউনূস তার নিবন্ধটিতে শংকা প্রকাশ করেছেন। আমি তার এই শংকা সম্পর্কে ঢাকার কাগজেই তাকে একটি খোলা চিঠি লিখেছি। ওই চিঠিটা প্রকাশের পর আমার মনে হয়েছে, তার কাছে আমার সব কথা নিবেদন করা হয়নি। তাই এই দ্বিতীয় খোলা চিঠি। (লেখক) শ্রদ্ধেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস আপনি একজন নোবেল-লরিয়েট। নোবেল পুরস্কার এখন যতই বিতর্কিত হোক, আপনার এই নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের আর ১০ জন মানুষের মতো আমারও গর্বিত হওয়ার কথা। ...
বই পুড়িয়ে কি কমিউনিস্ট সমাজে অবক্ষয় ও অপরাধ দূর
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
০৮/০৬/২০১২
মধ্যযুগে আলেকজান্দ্রিয়াতে যদি খ্রিস্টানদের আক্রমণে সুবিশাল গ্রন্থাগার ধ্বংস না হতো, তাহলে মানব সভ্যতা আরো বহু দূর এগিয়ে যেতে পারত। আমার ধারণা, বই পোড়ানো একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের কাজ, কোনো কমিউনিস্ট সরকারের কাজ হতে পারে না। হিটলার জার্মানিতে ক্ষমতা দখলের পর বিশ্বখ্যাতির অধিকারী কথাশিল্পী টমাস মানের বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। রোমা রোঁলাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন। চীনে এখন অবৈধ ও অশ্লীল প্রকাশনা উচ্ছেদের নামে কোটি কোটি বই পুড়িয়ে ফেলার যে উৎসব চলছে, তাতে চৈনিক টমাস মান বা রোমা রোঁলাদের বইও আছে কি না কে বলবে? চীনের তিব্বত গ্রাসের মতো এই কোটি কোটি বই পুড়িয়ে ফেলাও কি বহির্বিশ্ব বিনা প্রতিবাদে মেনে নেবে? ...
ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করা কি মঙ্গল হবে?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৪/০৬/২০১২
সরকার বৃহত্তর ঢাকা শহরের সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে উত্তর ও দক্ষিণ ঢাকা অথবা নিউ ঢাকা ও ওল্ড ঢাকার জন্য দুটি স্বতন্ত্র সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাহলে ঢাকা সিটির জন্য (নতুন ও পুরনো) একজন মেয়রের বদলে দুজন মেয়র নির্বাচিত হবেন। এটা কি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, না রাজনৈতিক-দলীয় স্বার্থের জন্য করা হচ্ছে? এই প্রশ্নটি ইতিমধ্যেই উঠেছে। এই বিভক্তিকরণের প্রস্তাব বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এখন ব্যাপক জন-সমালোচনার মুখে পড়েছে। সুদূর লন্ডনে ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের অনেক হিতাকাঙ্ক্ষীও আমাকে টেলিফোন করে বলছেন, সরকারকে অনুরোধ জানান, তাদের ক্ষমতায় থাকার এই মেয়াদে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগ করার সিদ্ধান্ত তারা যেন 'ডেফার' করে। এবার আগের মতোই অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন হয়ে যাক। তাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের মতো কিছু হলেও ক্ষতি নেই। বরং সরকারের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি বাড়বে। ...
ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগের দায় আ'লীগ সহজে এড়াতে পারবে না
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৩/০৬/২০১২
১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগ করার জন্য বিলাত থেকে ইংরেজ রেডক্লিফ সাহেবকে ডেকে আনতে হয়েছিল। তিনি কোনো কিছু বিচার-বিবেচনায় না এনে ছুরি হাতে বাংলার মানচিত্র কেটে দু'ভাগ করে ফেললেন। তাতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা মুর্শিদাবাদ পড়ে গেল ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের ভাগে। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ খুলনা জেলা পড়ে গেল সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে। অসংখ্য নদী, শাখা নদীর পানি বণ্টন ও পানি প্রবাহের প্রশ্নটি, ছিটমহল সমস্যা, বর্ডার ডিমারকেশনের সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গেল। তা থেকে বর্তমানের যত সমস্যা ও সংকটের উদ্ভব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চলি্লশ বছর পর এবার ঢাকা সিটি করপোরেশন তথা ঢাকা শহর প্রশাসনিকভাবে ভাগ হতে যাচ্ছে। এই ভাগ করার জন্য আর বিলাত থেকে রেডক্লিফ সাহেবের মতো কাউকে ছুরি হাতে ঢাকায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হয়নি। ...
ভারতীয় গণতন্ত্রে ফাটল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ব
কালান্তরের কড়চা
ইত্তেফাক
২৭/০৫/২০১২
ভারতে গণতন্ত্রের পতন হয়েছে একথা বলা ঠিক হবে না। আমার বলার কথা, দেশটির কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব দুর্বল হতে হতে আজ এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যাকে কুড়ির ও ত্রিশের দশকের  জার্মানী ও ইতালির দুর্বল গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ফ্যাসিবাদের অভ্যুত্থানে ইউরোপে এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন ঘটে। ভারতে গণতন্ত্র দুর্বল হলেও সে বর্তমানের ঘাত-প্রতিঘাত কাটিয়ে উঠে আবার শক্তিশালী হবে, এই প্রত্যাশা আমরা এখনো করি। কিন্তু ভারতে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সত্যি অচল হয়ে পড়ে তাহলে ‘হিন্দুত্ববাদের’ আড়ালে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ অথবা প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রের আঞ্চলিকতাবাদ মাথা তুলতে পারে এবং শুধু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নয়, ভারতীয় গণতন্ত্রের ঐক্য ও সংহতিকেও বিপন্ন করে তুলতে পারে। ইউরোপের বলকানাইজেশনের প্রক্রিয়াও অন্য কোনো ধাঁচে ভারতেও শুরু হতে পারে। ...
আওয়ামী লীগের শক্তি ও দুর্বলতার উৎস একই
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৭/০৫/২০১২
গত মাসে (এপ্রিল) প্রায় কুড়ি দিন সিঙ্গাপুরে অবস্থানের সময় একটি অভাবিত প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলাম। প্রশ্নটি করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক আইনজীবী চন্দ্রমোহন। তিনি শুধু আইনজীবী নন, সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্ট সদস্যও। একটি বহুতল বিল্ডিংয়ে তার অফিসে বসে গল্প করছিলাম। সিঙ্গাপুরের রাজনীতি, লীকুয়ান কেমন ব্যক্তি ছিলেন ইত্যাদি নিয়ে আলাপ। হঠাৎ তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা আওয়ামী লীগ তো শুনেছি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান গণতান্ত্রিক দল। এখন তো এই দলটিই ক্ষমতায়। এই দলের নেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ক্ষমতায় বসার তিন বছর না যেতেই নাকি দলটির জনপ্রিয়তায় ভাটার টান ধরেছে। আমাকে বলতে পারেন, এত বড় দলের শক্তি এবং দুর্বলতার আসল উৎস কী? কী শক্তির জোরে দলটি ষাট বছরের ওপর টিকে আছে? আবার কী দুর্বলতার জন্য দলটি ক্ষমতায় বসতে না বসতেই এত শিগগিরই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে? আমি বিদেশে বসে এমন একটি প্রশ্ন শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, এমনকি এমন প্রশ্নের জবাব দেয়ার প্রস্তুতিও আমার ছিল না। ...
ডা. আফ্রিদি ফেরেশতা না শয়তান?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৫/০৫/২০১২
পাকিস্তানে শিশুদের মধ্যে পোলিও রোগের সংক্রমণ ব্যাপক। তার বিরুদ্ধে টিকাদান অভিযান একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। ডা. আফ্রিদির মাধ্যমে এই টিকাদান অভিযানকে কভার করে সিআইএর লাদেন হত্যা তৎপরতা চালিত হওয়ায় এই টিকাদান অভিযান শুধু ব্যাহত হওয়া নয়, অভিযানটি ক্রেডিবিলিটি হারিয়েছে। গত দু'বছরে পাকিস্তানে দু'লাখ শিশুকে পোলিওর টিকাদান সম্ভব হয়নি। গত মার্চ মাসে বিশ্বের দু'শ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান সিআইএর ডিরেক্টর ডেভিড পেট্রুজের কাছে যুক্তভাবে চিঠি লিখে তাদের এই অবৈধ, মানবতাবিরোধী কৌশলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমার আজকের লেখার শিরোনামটি সম্পর্কে সহৃদয় পাঠকদের আগেই জানিয়ে রাখি, শিরোনামটি আমার নয়। আমি ইংরেজি থেকে বাংলা তরজমায় একটু স্বাধীনতা গ্রহণ করেছি মাত্র। গত বৃহস্পতিবারের (২৪ মে) গার্ডিয়ান কাগজে পাকিস্তানে মার্কিন সিআইএর স্পাই হিসেবে ধৃত ও দণ্ডিত পাকিস্তানি ডাক্তার ডা. শাকিল আফ্রিদি সম্পর্কে ইসলামাবাদ থেকে যে রিপোর্টটি পাঠানো হয়েছে তার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে হিরো অর ভিলেন? আমার লেখায় সেই শিরোনামটিকেই আমি বাংলা করেছি_ফেরেশতা না শয়তান? ...
খালেদা জিয়ার কণ্ঠে এখনও এত প্রলাপোক্তি কেন?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৫/০৫/২০১২
মানুষ কখন প্রলাপ করতে শুরু করে সাধারণত বার্ধক্য, মতিভ্রম, গভীর শোক ও হতাশা থেকেও মানুষ অনেক সময় প্রলাপ বকে। মনোচিকিৎসকেরা বলেন, গভীর হতাশা ও শোক যুক্ত হলে মানুষ যেকোন বয়সে, যে কোন অবস্থায় প্রলাপ বকা শুরু করতে পারে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক কথাবার্তা শুনে মনে হয় তাঁর অধিকাংশই প্রলাপোক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু তিনি কেন প্রলাপ করেন? এখনও এত তাঁর তেমন বয়স হয়নি। বার্ধক্যের জরা তাঁকে তেমন স্পর্শ করেনি। তিনি এখনও ‘সাজুগুজু বেগম।’ এই অবস্থায় তাঁর মুখে এখন অনবরত প্রলাপোক্তি কেন? অবশ্য বেচাল ও বাচাল কথা তিনি আগেও বলেছেন। যেমন ‘পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ হয় না।’ কিংবা ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হলে মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে’ ইত্যাদি। তিনি ‘স্বশিক্ষিত।’ ফলে তার শিক্ষিত পরামর্শদাতাদের শেখানো বুলি আওড়াতে গিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন, তাকে অনেকে প্রলাপের পর্যায়ে টানতে চাননি। ...
ইউনূস সাহেবকে সার্চ কমিটির প্রধানের পদে বসাতে �
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
০৩/০৫/২০১২
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্লজ্জ ও অবৈধ হস্তক্ষেপ কতটা বাড়াবাড়িতে পরিণত হয়েছে, তার প্রমাণ গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়োগের অনুসন্ধান কমিটিতে ড. ইউনূসকে চেয়ারম্যান করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজিনা সাহেবের এক ধরনের চাপ প্রদান। সরকার ড. ইউনূসের সঙ্গে কোনো অন্যায় আচরণ করেছে কি না এটা অবশ্যই দেশের মানুষের বিবেচনায় উঠে আসত, যদি ড. ইউনূসের পেছনে একটি সুপারপাওয়ার এসে না দাঁড়াত এবং একজন মাত্র ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে একটি স্বাধীন দেশের সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি ও ...
বঙ্গবন্ধুর দেশে ফেরা নিয়ে কিছু স্মৃতিকথা
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
৩০/০৪/২০১২
প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি তারিখটি ফিরে এলেই আমরা পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিবসটি পালন করি। তাঁকে স্মরণ করি। মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য শেষে জাতির জনক জাতির কাছে ফিরে এসেছিলেন এবং দেশের মাটিতেই সমাহিত আছেন। আমি যখনই টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাই, তাঁর সমাধির পাশে দাঁড়াই, তখনই দিলি্লর কাছে সেকেন্দ্রায় মোগল সম্রাট আকবরের সমাধি দর্শন করে লেখা বাঙালি কবির বিখ্যাত কবিতাটির প্রথম দুটি লাইন স্মরণ করি। আমি কবিতাটির মোগল কথাটির জায়গায় বাঙালি শব্দটি বসিয়ে সেটি মনে মনে পাঠ ...
চোরের মায়ের বড় গলা
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৬/০৪/২০১২
বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘চোরের মায়ের বড় গলা।’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির নেতানেত্রীদের গলাবাজির ব্যাপারে এই প্রবাদটি যতটা সত্য আর কোন দলের ব্যাপারে ততটা সত্য বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। সম্প্রতি ঢাকায় যে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চক্রান্তটি ব্যর্থ হয়ে গেল, তার তদন্তে এখন নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে পঞ্চাশজন জঙ্গী পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থানে সহায়তা জোগানোর জন্য। অবশ্যই এই জঙ্গী পাঠানোর পেছনে মদদদাতা পাকিস্তানের ঘাতক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, যারা নিজেদের দেশটাকে রক্তাক্ত মৃত্যুপুরীতে রূপান্তর করেছে। এই পাকিস্তান ও আইএসআইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশে গোপন এবং প্রকাশ্য ‘দিল্লাগি ভাব’ কাদের? বিএনপি এবং জামায়াতের নয় কি? শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভার আমলে ঢাকায় পাকিস্তানী দূতাবাসে পাকিস্তানের নটোরিয়াস ডেপুটি হাইকমিশনার ইরফান রাজা কোন্ কোন্ দলের নেতাদের ডেকে এনে, বৈঠক করে হাসিনা-সরকারকে উৎখাতের চক্রান্ত করতেন? ...
সেনা অভ্যুত্থানের পর গণ-অভ্যুত্থানের চক্রান্ত, কোনোটাই সফল হচ্ছে না
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৫/০৪/২০১২
ভোরে ঘুম থেকে উঠেই দেশ থেকে চার-চারটি মৃত্যুর খবর পাওয়া কম ট্রাজিক ব্যাপার নয়। তার ওপর এগুলো আবার স্বাভাবিক মৃত্যুও নয়। বলা হয়েছে, পুলিশের গুলিতে এই মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ গুলি করতে গেল কেন? ২৯ জানুয়ারি ছিল ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির গণবিক্ষোভ, গণমিছিল ইত্যাদি করার দিবস। ঢাকায় এই দিবস ২৯ তারিখে পালন করা সম্ভব হয়নি। ওইদিন আওয়ামী লীগেরও সমাবেশ থাকার ফলে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে। ফলে ঢাকায় কিছু হয়নি। কয়েকটি জেলায়, উপজেলায় হয়েছে। ঢাকায় এই বিক্ষোভে সমাবেশ ও মিছিল করা হয়েছে ৩০ তারিখ সোমবার। বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে দুজন করে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুর ও কিশোরগঞ্জে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। ঢাকায় সোমবার যে তেমন কিছু ঘটেনি, তার প্রধান কারণ, বিএনপি এখানে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের নিয়মকানুন ভাঙতে পারেনি। ...
ছেলের হাতের মোয়াও চাইলেই পাওয়া যায় না
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৩/০৪/২০১২
লন্ডনে এখন আমরা একেবারে বরফের সমুদ্রে ডুবে আছি। ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হওয়ার আগেই হাড় কাঁপানো শীত ও ঠাণ্ডা বাতাস শুরু হয়েছিল। তারপর হঠাৎ শুরু বরফপাত। রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, চারদিকে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আর কিছুই চেনা যায় না। মনে হলো, উত্তর মেরুর কোনো বরফের ঘরে বসে আছি। বেশ কিছুকাল ধরে লন্ডন শহরজুড়ে এতটা বরফপাত হয়নি। আচমকা এই বরফপাতে একটু হকচকিয়ে গেছি। সারা দিন গৃহবন্দি ছিলাম, ঘরে বসে সানডে টাইমস পাই। এই রবিবারে তাদের ডেলিভারিম্যানও কাগজ দেয়নি। গৃহবন্দি অবস্থায় আর কী করব! তাই লন্ডন থেকে প্রকাশিত এ সপ্তাহের বাংলা পত্রিকাগুলোর পাতা উল্টাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল, ঢাকায় ৩১ জানুয়ারির ডেটলাইনে একটি বিশাল খবর। শিরোনাম হচ্ছে, 'শ্বাস নেওয়ার সময় থাকতে ক্ষমতা ছাড়ুন।' ঢাকার বিশাল গণমিছিল থেকে শেখ হাসিনার প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। উৎসুক হয়ে দেশনেত্রীর ভাষণটি পড়লাম। ...
এতটা বাড়াবাড়ি কি না করলে চলত না?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৭/০৪/২০১২
আমার সাংবাদিক জীবনে বহুবার বহু কারণে হতাশা বোধ করেছি। কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ শাসনের বর্তমান পর্যায়ে যে চরম হতাশা বোধ করছি, তা আর কখনও বোধ করিনি। সাবেক বিএনপি-জামায়াত শাসন ছিল অসৎ ও অশুভ শাসন। বর্তমান আওয়ামী লীগ শাসন অসৎ ও অশুভ শাসন নয়। কিন্তু অযোগ্য শাসন। অনেক ভাল কাজ করেও আওয়ামী লীগ সরকার সুনাম অর্জন করতে পারছে না, কেবল যোগ্যতার অভাবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে অদক্ষ নন। তিনি ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক নেতৃত্বে আছেন এবং দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতার অভাব নেই। কেবল সেই সুবাদে অধিকাংশ অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ মন্ত্রী নিয়ে সরকার চালাতে গেলে কি অবস্থা হয় সম্ভবত এখন তিনি তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। ...
ত্রিভুজ রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০১/০৪/২০১২
আমার এক ব্রিটিশ সাংবাদিক বন্ধু বাংলাদেশে ব্রিটেনের ত্রিভুজ রাজনীতির প্রতিফলন দেখেন। ব্রিটেনে যেমন টোরি ও লেবার পার্টি দুটি প্রধান দল হওয়া সত্ত্বেও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেও একটি প্রধান দলের কাছাকাছি বলে গণ্য করা হয়, বাংলাদেশেও তেমনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি প্রধান দল হওয়া সত্ত্বেও জেনারেল (অব.) এরশাদের জাতীয় পার্টিকে কাছাকাছি প্রধান দল হিসেবে গণ্য করা উচিত বলে আমার এই ব্রিটিশ সাংবাদিক বন্ধু মনে করেন। ব্রিটেনের রাজনীতি থেকেই তিনি যুক্তি খাড়া করেন। বলেন, ব্রিটেনে লিবারেল পার্টি এক সময় অন্যতম প্রধান দল ছিল, এককভাবে ক্ষমতায়ও ছিল। লেবার পার্টির অভ্যুদয়ের পর লিবারেল পার্টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রাধান্য হারিয়ে তৃতীয় দলে পরিণত হয়। লেবার পার্টির সঙ্গেই তাদের ছিল সখ্য। লিবারেল কোয়ালিশন করে তারা ক্ষমতায়ও গিয়েছিল। বর্তমানে যেমন তারা অভাবিতভাবে টোরি দলের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন করে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর পদটি দখল করতে পেরেছেন। ...
পশ্চিমা গণতন্ত্র এখন কত টাকায় বিক্রি হয়?
কালের আয়নায়
দৈনিক সমকাল
৩১/০৩/২০১২
বিশ্বের সব দেশের মানুষই গণতন্ত্র চায়; গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মনে করে। কিন্তু গণতন্ত্রের অবস্থা এখন রূপকথার রাক্ষসপুরীতে বন্দিনী রাজকন্যার মতো। গ্গ্নোবাল ক্যাপিটালিজমের রাক্ষসপুরী থেকে বন্দিনী গণতন্ত্রকে উদ্ধার করা না গেলে এ ব্যবস্থার পচন থেকে বিশ্বকে রক্ষা করা যাবে না। কিন্তু একে উদ্ধার করার পথটা কী? আর উদ্ধার করবেনই-বা কারা? গত রোববার (২৫ মার্চ) লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকা ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি ভয়াবহ বোমা ফাটিয়েছে। প্রথম পৃষ্ঠায় হাফপেজজুড়ে এবং ভেতরে পুরো দুই পাতাজুড়ে বিশাল খবর, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের সঙ্গে কেবল দেখা ...
বহু শতাব্দীর আক্রান্ত স্বাধীনতা নিয়ে কিছু কথা
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৫/০৩/২০১২
আজ ছাব্বিশে মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ভারত বা পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস নয়। স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তানের জš§ পঁয়ষট্টি বছর আগে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মএকচল্লিশ বছর আগে। বয়সের ব্যবধান চব্বিশ বছর। অর্থাৎ দুই যুগ। ভারত ও পাকিস্তান জন্মসূত্রে যমজ ভাই। যদিও জন্মলগ্ন থেকেই কুরু পাণ্ডবের মতো যুদ্ধরত। এই যুদ্ধের মাঝখান থেকে সশস্ত্র সংগ্রাম দ্বারা বাংলাদেশ একটি নতুন নেশন স্টেট হিসেবে বেরিয়ে এসেছে। এই নতুন স্টেটের জাতি পরিচয় বাঙালি। নাগরিক পরিচয় বাংলাদেশী। অবিভক্ত ব্রিটিশ-ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয় উপমহাদেশের একশ্রেণীর পণ্ডিতের দাবি যে সঠিক নয়, তা প্রমাণ করেছে। এই দাবি ছিল বহু বৈচিত্র্য ও বৈষম্যের মধ্যেও ভারতবাসীরা এক জাতি। নিখিল ভারত কংগ্রেস এই এক জাতিতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল। ১৯৪৭ সালের ভারত-ভাগ তাদের এই বিশ্বাস ভেঙে দেয়। অন্যদিকে অবিভক্ত ভারতের আরেক দল পণ্ডিত (মুসলমান) দাবি করেছিলেন, সাবেক ভারতে প্রধান দুই জাতির বাস। হিন্দু এবং মুসলমান। এই ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রে ভারত বিভক্ত হওয়া প্রয়োজন। ...
সরকারের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা আস্থার সংকট
কালের আয়নায়
দৈনিক সমকাল
০৩/০৩/২০১২
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতাগুলোর তিলকে তাল করে ঢোল বাজছে চারদিক থেকে। কিন্তু তার বড় সাফল্যগুলোকে জনগণের সামনে তুলে ধরে আস্থার সংকট থেকে এই সরকারকে বাঁচানোর কোনো প্রচেষ্টা চোখে পড়ে না। বর্তমান তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ, দক্ষতা এবং সাফল্যটা কী কেউ তা আমাকে বোঝাতে পারবেন কি? যদি কেউ বোঝাতে পারেন তাহলে তাকে শিরোপা দেব। এখনও সময় আছে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা শক্ত হাতে রদবদল করুন গত মাসে লন্ডন-সিঙ্গাপুর যাওয়া-আসার পথে মাত্র দেড় দিন ঢাকায় অবস্থান করেছি। ১০ ফেব্রুয়ারি দশ ঘণ্টা এবং ২০ ...
'বিএনপি নৈবেদ্য সাজিয়েছিল ভালোই কিন্তু গণদেবতা তা গ্রহণ করেনি'
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০২/০৬/২০১২
ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করার প্রতিবাদে বিএনপি ৪ ডিসেম্বর রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছিল। আমার যেন কেন মনে হয়েছিল, এমন একটি পপুলার ইস্যুতে ডাকা হরতাল সফল না হয়ে যায় না। আমি শুধু আওয়ামী লীগের বিরোধীদের নয়, সমর্থকদের অনেককেও ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করা সম্পর্কে অভিমত জানতে চেয়ে একজনের কাছ থেকেও সমর্থনসূচক মন্তব্য পাইনি। সবাই সখেদে বলেছেন, 'নেই কাজ তো খই ভাজ। আওয়ামী লীগ সরকারের হয়েছে সেই অবস্থা। দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ ত্বরান্বিত করা_এসব শিকায় ঝুলিয়ে রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করা ইত্যাদি এ মুহূর্তের অপ্রয়োজনীয় কাজে হাত দিয়ে বিরোধী দলের জন্য মাঠ গরম করার একটার পর একটা ইস্যু সরকারই তৈরি করে দিচ্ছে।' ...
বাংলাদেশের ছাত্রলীগ কোন পথে?
দশ দিগন্তে
দৈনিক ইত্তেফাক
২৭/০১/২০১২
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি শাখা যুক্তরাজ্যেও আছে। তাদের ভেতরেও কোন্দল আছে। কিন্তু দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নেই। তাদের ভেতরে সকলেই ছাত্র তাও নয়। অছাত্র ছাত্রনেতাও বিলাতে বহু আছেন। কিন্তু তারা দলকে ভালোবাসেন, দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কাজেই নিজেদের সময় ও শক্তি যতোটুকু পারেন ব্যয় করেন। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, হল দখল, প্রতিপক্ষ এবং স্বপক্ষের লোককেও হত্যা এসব তারা করেন না। করার সুযাগ সুবিধাও তাদের নেই। তবু ছাত্রলীগের নামে ডাকা কোনো সভা সম্মেলনে আমন্ত্রিত হলেও তাতে যেতে আজকাল আমার মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব জাগে। পারতপক্ষে যেতে চাই না। অনেক সময় অনুরোধে ঢেকি গেলার মতো যেতে হয়। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালে আমি ছাত্রলীগের কর্মী এবং ছোটখাটো নেতাও ছিলাম। তখন ছাত্র রাজনীতিতে অবিভক্ত ছাত্র ইউনিয়নের খুব দাপট। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ১৯৫৫ সালে প্রথমবারের মতো ফজলুল হক হলের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের নির্বাচনে একটি বাদে সব কটি আসনে ছাত্রলীগ জয়ী হয়েছে। ...
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা আর কতো ধৈর্য
দশ দিগন্তে
দৈনিক ইত্তেফাক
২২/০১/২০১২
‘শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না’ তেমনি ঢাকার সাম্প্রতিক ব্যর্থ ক্যু’য়ের পেছনে কারা কলকাঠি নেড়েছে, তাও ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা যখন নিশ্চিত হয়ে ওঠে, তখন সরকার-উচ্ছেদের হুমকি-ধামকি দিয়ে যারা মাঠে নামেন, ডিসেম্বরের (২০১১) মধ্যেই এই সরকারের পতন হবে বলে প্রকাশ্যে বলতে থাকেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য দেশে-বিদেশে অপপ্রচারের ঝড় তোলেন, তারা কারা সে সম্পর্কে দেশের মানুষকে নতুন করে অবহিত করার দরকার নেই। তখন থেকেই বাজারে গুজব ছিলো, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দল, সমর্থক ও সহযোগী দলগুলো একটি মরণ কামড় দেয়ার চেষ্টা করবে। রাজপথের আন্দোলনে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে ঠেলে ফেলা যাবে না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো যাবে না এই চরম সত্যটা জেনে চক্রান্তকারীরা আবার একটি পঁচাত্তর ঘটানোর জন্য আজ নয়, বহুদিন ধরে সচেষ্ট; বর্তমানে তার একটি ব্যর্থ বিস্ফোরণ ঘটলো মাত্র। ...
বিলাতে নতুন সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বের আবর্তে বাংল
দশ দিগন্তে
দৈনিক ইত্তেফাক
২০/০১/২০১২
আমি যখনই বাংলাদেশে যাই, তখনই অনেকের কাছ থেকে একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হই, বিলাতে বাঙালিরা কেমন আছে? বিলাতের বাঙালির নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কি বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের চাইতে বেশি স্মার্ট? এই প্রশ্নটি শুনলে প্রায় পঁচিশ ত্রিশ বছর আগের একটি ঘটনা আমার মনে পড়ে। আমি তখন ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা বিভাগের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘দি বাংলাদেশি’জ এডুকেশনাল নীডস ইন টাওয়ার হ্যামলেটসে (বেন্থ) চাকরি করি। পূর্ব লন্ডনের হ্যানবারি স্ট্রিটে ব্রাডি সেন্টারে ছিল বেনেথর অফিস। আমি এই অফিসে রোজ বসতাম। এ সময় আমি ট্যাবলয়েড দৈনিক ‘মিরর’ রোজ কিনতাম। আকর্ষণ ছিলো পেট্রিক ওয়াকার নামক এক জ্যোতিষীর ‘ইওর স্টার’ কলামটি। তাতে তিনি বিভিন্ন রাশির জাতকের ওই দিনটি কেমন যাবে, তা লিখতেন। আমি এই ধরনের ভাগ্য গণনায় বিশ্বাস করি না। কিন্তু পেট্রিক ওয়াকারের কলামটি পড়তাম এজন্যে যে, তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার অনেক কথা অনেক সময় ফলে যেতো। এই পেট্রিক ওয়াকারও এখন নেই। বহু বছর হয় তিনি মারা গেছেন। ...
প্রদীপের নিচে অন্ধকার জমে উঠছে
কালের আয়নায়
সমকাল
১৪/০১/২০১২
এই খতিয়ান আরও দীর্ঘ করতে পারি। তা করতে চাই না। আমার বলার কথা, শেখ হাসিনা নিজে সূর্য হয়ে আর কত আলো বিতরণ করবেন? দিনের শেষে যদি রাত্রি নামে, তার জন্য তো কিছু নক্ষত্র সৃষ্টি করা দরকার, তা তিনি পারছেন না। দলে কক্ষচ্যুত অশুভ নক্ষত্রগুলো আবার ফিরে আসছে। তাদের প্রভাব বাড়ছে। প্রদীপের আলোর নিচে জমছে ঘন অন্ধকার। শেখ হাসিনা নিজের সাফল্যের আলো দিয়ে আর কতদিন এই অন্ধকার ঢাকা দিয়ে রাখতে পারবেন? আমরা শুধু তাকে হুশিয়ার করতে পারি। তিনি হুশিয়ার না ...
আব্দুল গাফফার চৌধুরী সম্পর্কে কিছু কথা
.
23/05/2011
‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ একুশের প্রভাত ফেরীর কালজয়ী এই মরমী গানটি লিখে তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ একটি জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি একাধারে সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। সাহিত্য চর্চায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করলেও এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। দৈনিক মিল্লাত, সংবাদ, ইত্তেফাক, আজাদ এবং দৈনিক জনপদসহ বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রে এবং সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় কাজ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একনিষ্ঠ সমর্থক। ১৯৩৭ সালের ...
এবারের বঙ্গদর্শন-৫
শহর বাংলা ও পল্লী - বাংলা: সমস্যা ও সংকটের দুই চেহ�
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১২/০৫/২০১১
মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্য মার্চ। এবার এক মাস বাংলাদেশে ঘুরেছি। ঢাকা শহরের বাইরেও গেছি। নিজের জেলা শহর বরিশালে গেছি, নিজের গ্রামেও গেছি। ঢাকা ক্লাব ও ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের এলিট সমাবেশে গেছি। আবার গ্রামের মুদির দোকান ও চায়ের দোকানের মালিকের সঙ্গেও গল্প করেছি। নিজের গ্রামে গিয়ে রিকশায় চেপেছি। রিকশাঅলার দেশের অবস্থা সম্পর্কে মতামত কউ_তাও জানার চেষ্টা করেছি। এবার বাংলাদেশ ঘুরে একটা ব্যাপার উপলব্ধি করেছি। শহর-বাংলা এবং পল্লী-বাংলার সমস্যা এক নয়। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, যানজট শহর-বাংলার সমস্যা; পল্লী-বাংলার জন্য তেমন সমস্যা ...
নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ কি তুঘলকি সিদ্ধান্ত?
কালের আয়নায়
সমকাল
১২/০২/২০১১
নাগরিক জীবনের অসুবিধা, শব্দদূষণ, পরিবেশ সমস্যা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে রাজধানী শহরের কেন্দ্রস্থলে আর বিমানবন্দর রাখা হচ্ছে না, বহু দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিলে একটি আন্তর্জাতিক মানের নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবটি সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেখানে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়েছে। কিন্তু বন্ধ হয়নি এ বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে বিতর্কটি। বিতর্কটি মূলত জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে আমাদের স্বঘোষিত নিরপেক্ষ বাংলা দৈনিকটিই। তারা গত পরশু (বহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি) দেশের একজন প্রবীণ কলামিস্টকে দিয়ে লিখিয়েছেন, আড়িয়লে নতুন বিমানবন্দর ...
পৌরসভার নির্বাচন-ফলের মন্দ এবং ভালো দিক
কালের আয়নায়
সমকাল
২২/০১/২০১১
আগামী সাধারণ নির্বাচনের তিন বছর আগেই পৌরসভা নির্বাচনের এমন একটি ফল হওয়ায় তা আওয়ামী লীগ ও তার সরকারের জন্য ভালো হয়েছে। এখন তারা শত্রুকে ছোট না ভাবার জন্য সজাগ হওয়ার এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের যথেষ্ট সময় পেয়েছেন। এ সময়টাকে ভালোভাবে কাজে লাগালে ভবিষ্যতের জন্য তাদের নিরাশ বা শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমার বাসার টেলিফোনযন্ত্রটি গত কয়েকদিন ধরে_ বলতে গেলে দেশের পৌরসভাগুলোর নির্বাচনের ফল ঘোষণা আরম্ভ হতেই সেই যে ক্রমাগত বাজতে শুরু করেছে তা এখনও থামেনি। অধিকাংশ কলার বাংলাদেশের। অধিকাংশই ...
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম মাসের প্রথম প্রভাতের কিছ
কালের আয়নায়
সমকাল
০১/০১/২০১১
স্বাধীনতার লক্ষ্যের মূল শিকড়ে ফিরে যাওয়ার কাজ ২০০৯ সালে শুরু হলেও ২০১০ সালেই তার অধিকাংশ কাজ গতি পেয়েছে এবং কার্যকর হয়েছে। ২০১১ সালের প্রথম মাসের প্রথম প্রভাতে আমাদের তাই কামনা_ '৭১-এর গৌরবময় অতীতের যে অর্জনগুলো আবার জাতীয় জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ২০১১ সালে সেই প্রচেষ্টা যেন আরও গতি পায় ...
একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চরিত্র হননের প্র
কালের আয়নায়
সমকাল
২৫/১২/২০১০
স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারই শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তী সময়ে সামরিক ও বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা নয়, শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ সব শহীদ এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকেও অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করা শুরু করে বন্ধুবর বদরুদ্দীন উমরের কোনো লেখা নিয়ে এখন আর আমার লেখালেখি করতে ইচ্ছা করে না। এই লেখালেখি করা পণ্ডশ্রম, ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস-লেখক এখন আর সত্যের সন্ধানে অপরের ডায়েরি খুঁজে পড়েন না, নিজেই মনগড়া সত্য তৈরি করেন এবং তা এমনভাবে আঁকড়ে থাকেন যে, গোঁড়া ক্যাথলিকের ...
বাড়ি নিয়ে বাড়াবাড়ি বিএনপির জন্য আন্দোলনের পথ প্
কালের আয়নায়
সমকাল
২০/১১/২০১০
খালেদা জিয়া কেন, দেশের কোনো রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীই যেন ক্যান্টনমেন্টে বাস না করেন, ক্যান্টনমেন্টকে তাদের দলীয় রাজনীতির ঘাঁটি না করেন, এটা গণরাজনীতির দাবি; বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের দাবি। বাংলাদেশ সামরিক শাসনের অভিশাপ দীর্ঘকাল বহন করেছে। এখন সেই শাসনের লেগাসি আর বহন করতে চায় না ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি নিয়ে নাটকের শেষ দৃশ্য অভিনীত হয়ে গেছে একথা এখনও বলা চলে না। তবে এই নাটকের প্রধান কুশীলব এখন আর সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা নন। এখন মঞ্চনায়ক মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। সকলের দৃষ্টি এই সুউচ্চ আদালতের ...
আরও তিনটি মৃত্যু
কালের আয়নায়
সমকাল
০৬/১১/২০১০
কলিম ভাই হেসে বলেছেন, আমার কণ্ঠে ক্লান্তির গান শুনতে চাইছ কেন, আমি তোমাকে শোনাব রবীন্দ্রনাথের বজ্রবাণী। বলে সেদিনই তিনি খালি গলায় শুনিয়েছিলেন একটি গান, 'বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি।' এ গানটি তার খুব প্রিয় ছিল অসংখ্য মৃত্যুর মাঝে কোনো কোনো মৃত্যু মানুষকে একটু বেশি অভিভূত করে, যদি সে মৃত্যু হয় নিকটজনের, অতি আপনজনের অথবা সর্বজনপ্রিয় কোনো বিশিষ্টজনের। সম্প্রতি ঢাকা থেকে পরপর এমন তিনজনের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি, যাদের দু'জনই আমার অগ্রজপ্রতিম বিশিষ্টজন এবং অতি আপনজনও। তৃতীয়জন আমার অনুজপ্রতিম, কিন্তু একজন বিশিষ্ট ...
বাংলাদেশ - ভারত ঋণচুক্তির রাজনৈতিক তাৎপর্য
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১০/০৮/২০১০
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাত হাজার কোটি টাকার (এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ চুক্তি সই হলো। এই চুক্তি সম্পাদনের জন্য ভারতের অর্থমন্ত্রী এবং 'বাংলার সুহৃদ' হিসেবে পরিচিত বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জি দিলি্ল থেকে সরাসরি ঢাকায় উড়ে এসেছিলেন এবং গত ৭ জুলাই তাঁর ছয় ঘণ্টার এই ঝটিকা সফরেই ঋণ চুক্তিটি সম্পাদন করে গেছেন। গত ৪০ বছরে এটা বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের সর্বোচ্চ সহায়তা। এর সবটুকু কৃতিত্ব বর্তমান হাসিনা সরকারের_বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ...
রবীন্দ্র-কুৎসা দ্বারা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের অ
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২৯-০৬-২০১০
আকস্মিক অসুস্থতার জন্য 'শ্রীমানের কোনো কোনো কথার একটু জবাব দেওয়া দরকার' শীর্ষক অসমাপ্ত লেখাটা পরবর্তী সপ্তাহে শেষ করতে পারিনি। এ জন্য পাঠকদের কাছে ক্ষমা চাই। আসলে শ্রীমান শওকত মাহমুদের কোনো কথার জবাব দেওয়া আর পুরনো কথার জাবর কাটা একই ব্যাপার। বিএনপির একেবারে বড় নেত্রী থেকে শুরু করে চুনোপুঁটি নেতা-নেত্রীরা পর্যন্ত বারবার মিথ্যা বলে সেটাকে সত্য প্রমাণের এমন চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন যে সেই মিথ্যার জাল ছিঁড়তে হলে একই সত্যেরও পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। ...
গণতন্ত্র এখন চরম ডানপন্থিদের আগ্রাসনের শিকার : স
কালের আয়নায়
সমকাল
০৫/০৬/২০১০
শক্তিশালী বাম বা সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব শিবিরের অনুপস্থিতিতে কট্টর ডানপন্থা এখন বিশ্ব শাসন করছে এবং গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ কব্জাবন্দি করেছে। গণতন্ত্রের অবস্থা এখন রাক্ষস-শিবিরে বন্দি ঘুমন্ত রাজকন্যার মতো সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে একটি সেমিনারে শ্রোতা হয়ে সম্প্রতি যোগ দিতে গিয়েছিলাম। সেমিনারে কিছু বামঘেঁষা পণ্ডিত গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা বিভিন্ন দেশের। তবে ব্রিটিশ পণ্ডিতদের সংখ্যাই বেশি। তাদের বক্তৃতা শুনে মনে হলো, তারা এক সময় লেবার পার্টির সমর্থন ছিলেন। টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে যে নিউ লেবারের অভ্যুদয় ঘটে, সেটাকে তারা সোস্যাল ডেমোক্রেট বলে মনে করেন না, মনে করেন কনজারভেটিভ বা টোরি দলের 'বি' টিম। ...
বিএনপির রাজনীতির অঙ্কে শুভঙ্করের ফাঁকি
কালের আয়নায়
সমকাল
২২/০৫/২০১০
ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের জনসংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর পাচ্ছি। খবরের কাগজ এবং টেলিভিশনের খবর দেখে তো মনে হয় সমাবেশটি সফল হয়েছে। কিন্তু বিতর্ক দেখা দিয়েছে মহাসমাবেশের সংজ্ঞা এবং জনসংখ্যা নিয়ে। একটি মহাসমাবেশ করতে হলে আজকাল নিদেনপক্ষে ঢাকার মতো শহরে পাঁচ লাখ লোক তো জড়ো করতেই হবে। বিএনপি দাবি করেছিল, তাদের ডাকে দশ লাখ লোক জড়ো হবে। তারপর কমিয়ে বলা হয়েছিল, পাঁচ লাখ লোক এই সমাবেশে ছুটে আসবে। আমার খুব জানার আগ্রহ ছিল, পাঁচ লাখ না হোক লক্ষাধিক লোক এই সমাবেশে হয়েছে কি-না? সমাবেশটি হওয়ার পর এই জনসংখ্যা সম্পর্কে বিএনপির কণ্ঠে আর কোনো রা নেই। ঢাকার বন্ধুদের বললাম, তারা যেন বিএনপির প্রতি 'নিবেদিতপ্রাণ' কাগজগুলোর খবর দেখে এই জনসংখ্যার কথা আমাকে জানান। তারা বললেন, বিশাল জনসমাবেশের কথা বলা হয়েছে, ছবিও ছাপা হয়েছে। কিন্তু জনসংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি। শুনে একটু বিস্মিত হয়েছি। মহাসমাবেশটিতে প্রচুর লোক হয়েছিল, ভিড়বাট্টাও হয়েছিল। এই মওকায় পঞ্চাশ হাজার লোককেও পাঁচ লাখ বানালে তো কোনো ক্ষতি ছিল না। বিএনপি ...
প্রধানমন্ত্রী, সময় বড় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে
কালের আয়নায়
সমকাল
১৫/০৫/২০১০
রাজশাহী থেকে সমকালের এক বোদ্ধা পাঠক আমাকে একটি চিঠি লিখেছেন। বোদ্ধা পাঠক বললাম এজন্যই যে, তিনি তার নাম ও ঠিকানা ছাড়া কোনো প্রকার পরিচয় না জানানো সত্ত্বেও চিঠিটা পড়ে বুঝতে অসুবিধা হয়নি তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ। হয় কোনো শিক্ষাবিদ, নয় অবসরভোগী ব্যুরোক্র্যাট। তার নাতিদীর্ঘ চিঠিতে নানা ধরনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা থাকায় আমার মনে এই ধারণাটি জন্মেছে। আরও মনে হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। এই চিঠির গোটা বয়ান নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা আমার নেই। কিন্তু চিঠিতে ব্যক্ত আর একটি প্রশ্ন শুনে মনে হয়, তিনি আমাদের অনেকের মতো দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহস, আন্তরিকতা ও পারদর্শিতায় আস্থাশীল। তার বর্তমান মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য যে তুলনামূলকভাবে সৎ তাও তিনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু তাদের গত ষোলো মাসের পারফরম্যান্স দেখার পর আওয়ামী সরকারের এমন একজন শুভাকাঙ্ক্ষীর মনেও প্রশ্ন জেগেছে, যোগ্যতা ছাড়া কেবল সততা ও আন্তরিকতা দ্বারা দেশের ছোট-বড় সমস্যাগুলোকে সরকার কীভাবে সামলাবে? শেখ হাসিনা একা কতদিক সামলাবেন? ...
তিনি বিশ্বের কবি কিন্তু বাঙালির হাজার বছরের সাধ
কালের আয়নায়
সমকাল
০৮/০৫/২০১০
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় কবে? স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় পাঠ্যবইয়ে 'আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে' শিখতে গিয়ে সম্ভবত। পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা আরও একটু বড় হয়ে_ যখন তার আরও কবিতা, ছড়া, গল্প পড়ার সুযোগ পেলাম। রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসলাম কবে? যখন প্রাক্-যৌবনেই অনুভব করলাম, আমাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, শোক-উল্লাস, বিরহ-মিলন অর্থাৎ দেহমনের অণু-পরমাণুতে রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি। এই চেতনা তো ব্যক্তি-চেতনা। সমষ্টিগত চেতনার ক্ষেত্রেও দেখলাম 'চিত্তকে ভয়শূন্য' এবং 'শিরকে উঁচু করার' ব্যাপারে রাজনৈতিক স্লোগানের চেয়েও কবির বাণী কত বেশি প্রেরণাদায়ক। বাঙালির চিত্তে প্রকৃত স্বদেশচেতনা জাগ্রত করেছে তার স্বদেশি গান। 'বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফলকে' তিনি পুণ্যতা এবং পূর্ণতা দান করেছেন। চেয়েছেন 'বাঙালির ঘরে যত ভাই-বোন, তারা এক হোক।' রাজনৈতিকভাবে বাঙালি ভাগ হতে পারে, কিন্তু তার সাংস্কৃতিক জাতীয়তা (পঁষঃঁৎধষ হধঃরড়হযড়ড়ফ) অবিভাজ্য। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় বাংলার প্রকৃতি ও বাঙালির চরিত্র অভিন্ন সত্তায় মিশে গেছে। বাংলার ষড়ঋতু রবীন্দ্রকাব্যেরও ষড়ঋতুর পরিচয় বহন করে। ...
'লেজে যদি তোর লেগেছে আগুন স্বর্ণলঙ্কা পোড়াও'
কালের আয়নায়
সমকাল
০১/০৫/২০১০
হনুমানের লেজে আগুন ধরিয়ে দিয়ে রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কার রাবণ গোষ্ঠী ভেবেছিল হনুমানকে হত্যা করবে। হনুমান লেজের আগুনে পুড়ে মরেনি। বরং রাবণপুরীর প্রতিটি ঘরের ছাদে লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে বেরিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। হনুমানের লেজের আগুনে স্বর্ণলঙ্কা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। এ যুগে গ্গ্নোবাল ক্যাপিটালিজমের রাবণরা ভেবেছিলেন, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার লেজে আগুন ধরিয়ে দিয়ে এই ব্যবস্থাটিকে তারা পুড়িয়ে হত্যা করবেন। বিশ্ববাসীকে বোঝাবেন, সমাজতন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ধনবাদই হচ্ছে মানব সভ্যতার সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির একমাত্র নিশ্চিত পন্থা। এ প্রচার ও উন্নত মারণাস্ত্রের জোরে তারা সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটাতে পেরেছেন, এমনকি নয়াচীনকেও আধা ধনবাদী পথে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সমাজতন্ত্রের পতন ঘটাতে পারেননি। বরং বর্তমান শতকের শুরু থেকেই দেখা গেল, সমাজতন্ত্রের লেজের আগুনে বিশ্ব ধনবাদের স্বর্ণলঙ্কায় (আমেরিকা, ইউরোপ) অর্থনৈতিক মহাধস দেখা দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সমাজতন্ত্রের এতদিনের মহানিন্দিত পদ্ধতি অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের (ঝঃধঃব রহঃবৎাবহঃরড়হ) আংশিক পুনঃপ্রবর্তন দ্বারা এই মহাধস প্রতিরোধের চেষ্টা ...
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ এবং রাজনীতিতে ন
কালের আয়নায়
সমকাল
১০/০৪/২০১০
আমার অনুজপ্রতিম রাজনীতিক এবং কলামিস্ট নূহ-উল-আলম লেনিন সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাকে তার একটি নিবন্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশের রাজনীতিতে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এই নিম্নচাপ থেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় দেখা দিতে পারে। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান। আমি লেনিনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করি। দেশ থেকে বহুদূরে লন্ডনে বসেও দেখছি, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য দেশি-বিদেশি চক্রান্ত জোট বাঁধছে। এ ব্যাপারে লন্ডনের পাকিস্তানি কূটনীতিকদের তৎপরতা প্রায় প্রকাশ্য। সৌদি কূটনীতিকদের তৎপরতা অপ্রকাশ্যে হলেও পেট্রো ডলারের খেলা এখানেও চলছে। বাঙালি অধ্যুষিত ইস্ট লন্ডনে জামায়াতিরা শক্ত ঘাঁটি গেড়েছে। দু'হাতে পেট্রো ডলার ছড়িয়ে জামায়াতিরা এখানে নানা নামে-উপনামে ইসলাম প্রচারের অজুহাতে নানা সংগঠন গড়ে তুলেছে। তাদের হেড কোয়ার্টার এখন ইস্ট লন্ডন মসজিদ। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী মইনুদ্দীন এখন এই মসজিদটি কব্জা করেছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলেও জামায়াতিরা অনুপ্রবেশ করেছে। ...
কূটনৈতিক পদে একটি নিয়োগ এবং তা নিয়ে প্রচার ও অপপ
কালের আয়নায়
সমকাল
২৭/০৩/২০১০
যে দেশের মানুষের জাগতিক সমস্যার অন্ত নেই, সে দেশের মানুষ যদি আধিভৌতিক কিছু সমস্যা নিজেরাই সৃষ্টি করে তা নিয়ে নিরন্তর বিবাদে লিপ্ত থাকে, তাহলে সেই দেশটির সমস্যামুক্ত হওয়ার এবং বাঁচার উপায় থাকে কি? সম্প্রতি ঢাকার কিছু সংবাদপত্র এবং কিছু অন্য কাগজপত্র হাতে আসায় আমার মনে হয়েছে গ্যাস পানি বিদ্যুৎ সমস্যা, সন্ত্রাস, খাদ্যমূল্য, যানজট ইত্যাদি আমাদের জনজীবনের বড় সমস্যা নয়; বড় সমস্যা কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার পদে একটি সম্ভাব্য নিয়োগ। এক পক্ষের মতে (তাদের সঙ্গে কলকাতার কিছু মুসলমানও আছেন), এই নিয়োগ হলে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীর (সা.) চরম অবমাননা হবে। সুতরাং এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল হওয়া দরকার। অন্যপক্ষের মতে, যে ব্যক্তি এই পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন, ধর্ম সম্পর্কে তার মতামত এই নিয়োগে বিবেচ্য হতে পারে না। বিবেচিত হলে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার মর্যাদা থাকবে না। ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদের জয় হবে। বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই অনুসন্ধিৎসু হয়েছি। তবে নিজেকে খুব একটা খোঁজখবর করতে হয়নি। ঢাকা এবং কলকাতা দুই জায়গা থেকেই বন্ধু-বান্ধবরা এ সম্পর্কে খোঁজখবর ...
সাত মার্চের মহাকাব্য এবং তার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসি�
কালের আয়নায়
সমকাল
০৭/০৩/২০১০
সাত মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক আবাহনী দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রমনার ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতির ডাক দিয়েছিলেন। অনেকে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে আমেরিকার গেটিসবার্গে দেওয়া প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের বিশ্ববিখ্যাত ভাষণটির সঙ্গে তুলনা করেন। লিঙ্কনের বলা_ 'এ গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল' আজ যেমন সারাবিশ্বের গণতান্ত্রিক চেতনার মর্মবাণী, তেমনি ঢাকায় সাত মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবের বলা_ 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' কথাটিও আজ সারা দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের কাছে মুক্তিমন্ত্রতুল্য। ...
উইচ হান্টিং অনেক সময় আসল উইচদের রক্ষা করে
কালের আয়নায়
সমকাল
২৭/০২/২০১০
পনেরো ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা থেকে লন্ডনে যাওয়ার জন্য এমিরেটসের দুবাইগামী প্লেনে যাত্রী হয়েছিলাম। দুবাইতে নেমে প্লেন বদল করে লন্ডনে যেতে হবে। প্লেনে চেপে জানতে পারলাম আমাদের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও একই প্লেনে দুবাই যাচ্ছেন। আমরা একই বিজনেস ক্লাসের যাত্রী। ধরে নিলাম দেখা-সাক্ষাৎ হবেই। তিনিই যখন লন্ডনে ছিলেন তখন আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কটা ভালোই ছিল। বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক অনেকটা। তিনি আমাকে বড় ভাইয়ের সম্মানটা দিতেন এবং এখনও দেন। গোল বেধেছিল তিনি আকস্মিকভাবে বড় মন্ত্রকের একেবারে পূর্ণমন্ত্রী এবং দলের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি হওয়ার পর। এই দুটি পদে বসার পর তার অপ্রয়োজনীয় কিছু কথাবার্তা দলের এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় উপযোগী বলে মনে হয়নি। ...
উইচ হান্টিং অনেক সময় আসল উইচদের রক্ষা করে
কালের আয়নায়
সমকাল
২৭/০২/২০১০
পনেরো ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা থেকে লন্ডনে যাওয়ার জন্য এমিরেটসের দুবাইগামী প্লেনে যাত্রী হয়েছিলাম। দুবাইতে নেমে প্লেন বদল করে লন্ডনে যেতে হবে। প্লেনে চেপে জানতে পারলাম আমাদের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও একই প্লেনে দুবাই যাচ্ছেন। আমরা একই বিজনেস ক্লাসের যাত্রী। ধরে নিলাম দেখা-সাক্ষাৎ হবেই। তিনিই যখন লন্ডনে ছিলেন তখন আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কটা ভালোই ছিল। বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক অনেকটা। তিনি আমাকে বড় ভাইয়ের সম্মানটা দিতেন এবং এখনও দেন। গোল বেধেছিল তিনি আকস্মিকভাবে বড় মন্ত্রকের একেবারে পূর্ণমন্ত্রী এবং দলের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি হওয়ার পর। এই দুটি পদে বসার পর তার অপ্রয়োজনীয় কিছু কথাবার্তা দলের এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় উপযোগী বলে মনে হয়নি। অনেকটাই বালখিল্যতা বলে আমার মনে হয়েছে। আমি সমালোচনা না করে পারিনি। ফলে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কটা আগের মতো থাকেনি। তিনি আমার কোনো কোনো লেখাকে খোঁচা মেরে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেছেন। ...
একুশের ভাবনা : বাংলাভাষা কি আরেকটি চ্যালেঞ্জের
কালের আয়নায়
সমকাল
২১/০২/২০১০
দীর্ঘ দু'মাস স্বদেশে কাটিয়ে লন্ডনে ফিরেছি ষোল ফেব্রুয়ারি তারিখে। ১৯৭৪ সালে বিদেশে চলে আসার পর এত দীর্ঘ সময় আর দেশে কাটাইনি। কিছুটা সময় অসুখে ভোগায় সব কাজ শেষ করতে পারিনি। তবে তিনটা বড় কাজ এ সময় সারতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধুর ওপর ছবি করার প্রি-প্রোডাকশন স্টেজের অনেকটা কাজ সেরেছি। ঢাকায় রোকেয়া স্মারক বৃক্ততা দিয়েছি। উত্তরবঙ্গে (বগুড়া ও রংপুরে) গিয়ে পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটার ভগ্নাবশেষ দেখেছি এবং মহাস্থানগড়ে ঘুরেছি। স্বদেশে সম্মান পেয়েছি যথেষ্ট, যা আমার প্রাপ্য নয়। রংপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মাননা পেয়েছি। গার্লস কলেজের নামফলক উন্মোচন করেছি। সবচেয়ে বড় সম্মান পেয়েছি বাংলা একাডেমীতে। এবার বাংলা একাডেমী অশীতিপর বৃদ্ধ কিংবদন্তিতুল্য বুদ্ধিজীবী সরদার ফজলুল করিমের সঙ্গে আমার মতো নগণ্য ব্যক্তিকে যুক্তভাবে সম্মাননা দিয়েছে। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে একুশের গ্রন্থমেলা ঘুরে দেখেছি। বহু বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছি। তার মধ্যে একটি ছিল 'ফেনীর সন্ত্রাসী নেতা' বলে অভিহিত জয়নাল হাজারীর। তার ফলে কোনো কোনো মহল থেকে নিন্দা শুনেছি। নিন্দা-প্রশংসায় আমার দুটি মাস বাংলাদেশে ভালোই কেটে গেছে। ...
এই খুনিদের ফাঁসি সারা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও গণত
কালের আয়নায়
সমকাল
৩০/০১/২০১০
গান্ধী-হত্যার পর ভারতে গান্ধী-রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিরোধী রাজনৈতিক দল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (অবিভক্ত) বাংলা মুখপত্র দৈনিক 'স্বাধীনতা'র প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত সম্পাদকীয়ের শিরোনাম ছিল_ 'বজ্রের কাছ থেকে ধ্বনি কেড়ে নেহরু বলো, গান্ধীজির হত্যাকারীর ক্ষমা নেই।' বর্ষীয়ান সাংবাদিক সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার তার কলামে লিখেছিলেন, 'হে ইতিহাস-বিধাতা, তোমার কাছে আজ আমি এটি প্রার্থনায় প্রণত, ভারতকে তুমি বাপুজি হত্যার কলঙ্ক থেকে মুক্ত কর।' ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে গান্ধীর মতো বঙ্গবন্ধুকে একা নয়, যখন সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে ইতিহাসের এ নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়নি বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীর কণ্ঠে। ঘাতক শক্তির ক্ষমতা দখলে তারা ভীত, নির্বাক ছিলেন। সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধুর নাম ও ছবি দীর্ঘকাল অনুপস্থিত ছিল। ...
এই ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ থেকেই দশ নম্বর বিপদ সংকেত
কালের আয়নায়
সমকাল
২৩/০১/২০১০
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা দেউলিয়াত্বের যুগ শুরু হয়েছে মনে হয়। এটা প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে যেমন সত্য, তেমন সত্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সম্পর্কে। ওয়ান-ইলেভেনের মতো একটি ভয়ঙ্কর আঘাত খেয়েছে দেশের রাজনীতি। তারপরও দেশের দুটি প্রধান দলের নেতা-নেত্রীদের চৈতন্যোদয় হয়েছে তা তাদের কথাবার্তা ও কাজকর্মে মনে হয় না। তারা সেই আগের পারিবারিক ঝগড়া এবং দলবাজির রাজনীতিতেই নিজেদের আটকে রেখেছেন। ওয়ান-ইলেভেন বন্দুক দিয়ে দেশের রাজনীতি সংস্কার করতে চেয়েছিল। নিজেদের ক্ষমতালোভ ও সীমাহীন দুর্নীতির জন্য তারা তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের দুর্নীতির ঘাঁটি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং রাজনীতি আরও বেশি অন্ধগলির পথ ধরেছে। ...
এই ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ থেকেই দশ নম্বর বিপদ সংকেত
কালের আয়নায়
সমকাল
২৩/০১/২০১০
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা দেউলিয়াত্বের যুগ শুরু হয়েছে মনে হয়। এটা প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে যেমন সত্য, তেমন সত্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সম্পর্কে। ওয়ান-ইলেভেনের মতো একটি ভয়ঙ্কর আঘাত খেয়েছে দেশের রাজনীতি। তারপরও দেশের দুটি প্রধান দলের নেতা-নেত্রীদের চৈতন্যোদয় হয়েছে তা তাদের কথাবার্তা ও কাজকর্মে মনে হয় না। তারা সেই আগের পারিবারিক ঝগড়া এবং দলবাজির রাজনীতিতেই নিজেদের আটকে রেখেছেন। ওয়ান-ইলেভেন বন্দুক দিয়ে দেশের রাজনীতি সংস্কার করতে চেয়েছিল। নিজেদের ক্ষমতালোভ ও সীমাহীন দুর্নীতির জন্য তারা তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের দুর্নীতির ঘাঁটি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং রাজনীতি আরও বেশি অন্ধগলির পথ ধরেছে। আওয়ামী লীগের কাছেই আমার প্রত্যাশা ছিল বেশি। ...
ঢাকার রাস্তায় প্রত্যহ 'স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধ'
কালের আয়নায়
সমকাল
১৬/০১/২০১০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন ভারত জয় করে ঢাকায় ফিরছেন, সেদিন আমি অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য ঢাকার এক হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। আগেই আমাকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, আজ ভয়ানক যানজট হবে। তবু আশ্বস্ত হয়েছিলাম এই খবর জেনে যে, প্রধানমন্ত্রী যে পথ দিয়ে বিমানবন্দর থেকে তার সরকারি বাসভবন যমুনায় ফিরবেন, সেসব পথ ছাড়া অন্যসব পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ অথবা নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। সুতরাং যথাসময়ে হাসপাতালে পেঁৗছতে পারব, এই আশা নিয়েই গাড়িতে চেপে হাসপাতালে রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু রাজপথে নেমে দেখি হা হতোস্মি! যে পথেই যাই সে পথেই নড়ন-চড়ন গচ্ছামি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য যেসব পথ পুলিশি দখলে গেছে, তার ডাইভার্টেড যানবাহন অন্যান্য রাস্তায় যে জট তৈরি করেছে, তাকে শুধু এশিয়ার নয়, সারা আধুনিক বিশ্বের সেরা যানজট বলা চলে। এদিক থেকে ঢাকার নাম 'গিনেস বুক অব রেকর্ডস'-এ স্থান পাওয়া উচিত। ...
হরতাল যদি ঘৃণ্য হয়, অন্যান্য নাগরিক অধিকারের কী
কালের আয়নায়
সমকাল
০২/০৬/২০১২
হরতালকে এই দুর্নাম থেকে মুক্ত করতে হবে। বাকস্বাধীনতা বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে বাড়াবাড়ি হলেও যেমন কেউ বলে না, এই স্বাধীনতা বাতিল করা হোক, হরতালের বেলাতেও তেমনি তার অপব্যবহারের বাড়াবাড়িতে হরতাল নিষিদ্ধ করা অযৌক্তিক। তাতে নাগরিক অধিকার হরণ করা হবে, জনগণের দাবি আদায় এবং বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর শান্তিপূর্ণ পন্থাগুলো রোধ করা হবে। ...
আওয়ামী লীগের জন্য উভয় সংকট
কালের আয়নায়
দৈনিক সমকাল
১৫ জুন, ২০১৩
আমার এই লেখাটি যখন 'কালের আয়নায়' পাঠকদের চোখে পড়বে তখন (১৫ জুন শনিবার) বাংলাদেশে চারটি সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন চলছে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের জয়-পরাজয় সম্পর্কে আন্দাজ করে কিছু বলা কঠিন এবং তা বলাও উচিত নয়। তবে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গত বুধবার (১২ জুন) খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় যে হাঁকডাক দেওয়া হয়েছে তাতে মনে হয়, বিএনপি তাদের সমর্থিত প্রার্থীদর জয়লাভ সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, 'সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপি করা হলে ...
বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় এবং না যায়—
নি র্বা চ ন
ইত্তেফাক
০৯ জুন, ২০১৩
লন্ডনে বাস করছি চল্লিশ বছরের বেশি হয়ে গেছে। এতো দীর্ঘকালেও বিদেশি সাংবাদিক মহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে বড় ধরনের ঔত্সুক্য কালেভদ্রে ছাড়া কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ে না। হালে দেখছি বাংলাদেশ সম্পর্কে শুধু ব্রিটেনে নয়, ইউরোপের বহু দেশেই ঔত্সুক্য বেড়েছে। বিশেষ করে গত ৫ মে'র ঢাকায় শাপলা চত্বরে মৌলবাদী হেফাজতিদের উত্থান এবং তা দমনে হাসিনা সরকারের সাফল্য ইউরোপ-আমেরিকার অনেককেই বিস্মিত করেছে। জঙ্গি মৌলবাদ দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যকে তারা প্রকাশ্যেই প্রশংসা করছেন। আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের শুরু থেকেই বাংলাদেশেও যে ইসলামি জঙ্গিরা শক্ত ঘাঁটি গাড়ছে সে সম্পর্কে অধিকাংশ পশ্চিমা দেশের সরকারই অবহিত ছিলেন। কোনো কোনো পশ্চিমা মিডিয়া বাংলাদেশকে সতর্কও করেছে। কিন্তু হাসিনা সরকার কতোটা শক্ত হাতে এদের দমন করতে সমর্থ হবেন সে সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বে সন্দেহ ছিল। বাংলাদেশে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে বলে তারা শঙ্কিত ছিলেন। ৫ মে'র ঢাকার ঘটনা পশ্চিমা মিডিয়া ও অধিকাংশ সরকারের মন থেকে সেই শঙ্কা ও সন্দেহ অনেকটা দূর করেছে। ...
সংসদের এবারের অধিবেশন কি সমঝোতার স্থান হতে পারবে?
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০৪ জুন, ২০১৩
৩ জুন সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন আবার শুরু হয়েছে। এই অধিবেশনে জাতীয় বাজেট পেশ হবে বিধায় এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে বিশেষ গুরুত্ব এ জন্য যে এই অধিবেশনে বিরোধী দল যোগদান করেছে। তারা যে যোগদান করবে, সে কথা আগেই ঘোষণা করেছিল। তবে তখন সেটা স্পষ্ট হয়নি যে তারা নিয়মমাফিক সদস্য পদ রক্ষার জন্য সংসদে হাজিরা দেবে, না সরকারি দলের আহ্বানে নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি সম্পর্কে কোনো অর্থবহ আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে। বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ ও আরো দু-একজন নেতার কথায় মনে হয়েছিল, তাঁরা সংসদে ...
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সীমা ও তার প্রয়োগ
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
২৮ মে, ২০১৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী, সম্ভবত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অথবা সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী, সে কথা তিনি স্পষ্ট করে লেখেননি, আমাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, আমার সাম্প্রতিক কয়েকটি লেখা পড়ে তাঁর মনে হয়েছে, আমি অবাধ ও পূর্ণ বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নই। আমি তাঁকে ব্যক্তিগত জবাব দিয়েছি এবং তাঁর চিঠির প্রসঙ্গ টেনে এই লেখাটাও লিখছি। আমি তাঁকে লিখেছি, অবাধ স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। সুস্থ দায়বদ্ধতা থেকেই ব্যক্তিস্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, এমনকি সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও পূর্ণতা পায়। বার্নার্ড শ ও এইচ পি ওয়েলসের একটি কথোপকথন আমার খুব প্রিয়। বহুকাল আগে নাগরিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আমার লেখায় (অধুনালুপ্ত বাংলার বাণীতে প্রকাশিত) সেটি উল্লেখ করায় প্রয়াত কথাশিল্পী শওকত ওসমান আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। কথোপকথনটি আবারও লিখছি। লন্ডনে টেমস নদীর পাড়ে বার্নার্ড শ এক দিন মর্নিং ওয়ার্কে বেরিয়েছেন। উল্টো দিক থেকে এইচ পি ওয়েলসও আসছিলেন। তাঁর হাতে একটা ছড়ি। সেটা তিনি ঘোরাচ্ছিলেন। বার্নার্ড শর কাছে এসেও তিনি ছড়ি ঘোরানো বন্ধ করলেন না। শ বললেন, 'ছড়ি ঘোরানো থামাও। ওটা ...
তারেক রহমান কি বিএনপির সেভিয়ার হতে পারবেন?
রা জ নী তি
প্রথম আলো
২৬ মে, ২০১৩
১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তখন আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটা কলাম লিখেছিলাম। কলামটির শিরোনাম ছিল, "ম্যাডাম, ভুল পরামর্শদাতাদের কবলে পড়বেন না।" কলামটি ছাপা হয়েছিল তখনকার একটি জনপ্রিয় দৈনিক 'আজকের কাগজে'। আমি ধারণা করেছিলাম, বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নবজন্ম প্রাপ্ত হয়েছে। জেনারেল জিয়ার ক্যান্টনমেন্ট ভিত্তিক রাজনৈতিক দলটিকে তিনি গণতান্ত্রিক ভিত্তি দান করেছেন। বাংলাদেশে এখন প্রকৃতই একটি দ্বিদল ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি গড়ে উঠবে। আমার এই আশাবাদের কারণ ছিল। বেগম জিয়ার স্বামী জেনারেল জিয়া বিএনপি গঠন করেছিলেন ক্ষমতায় বসে এবং সামরিক বাহিনীর সহায়তায়। তার মৃত্যুর পর বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে ক্যান্টনমেন্টের আরেক জেনারেলের (এরশাদ) দ্বারাই। তারপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিকে রাজপথের আন্দোলনে নামতে হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শরিক হতে হয়েছে। বেগম জিয়া নিজে এরশাদ সরকারের আমলে নির্যাতিত হয়েছেন। ফলে বিএনপিকে আর কেবল ক্যান্টনমেন্টের পার্টি বলে বিবেচনা করা যায়নি। এই পার্টির একটা গণতান্ত্রিক ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। তখন বিএনপি সম্পর্কে আমার বিরূপ ...
আবার সংঘাত, না সংলাপ?
কালের আয়নায়
সমকাল
২৫ মে, ২০১৩
বিএনপির সাবেক প্রথম সারির নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং দল থেকে তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করেছেন। দলনেত্রী খালেদা জিয়া সম্প্রতি একটি হরতালের ডাক প্রত্যাহার করায় এবং সরকারবিরোধী হার্ডলাইন ত্যাগের আভাস দেওয়ায় ব্যারিস্টার হুদা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নেত্রীর ওপর তার আস্থার কথা আবার ব্যক্ত করেছেন। ব্যারিস্টার হুদার দলে ফেরার এই একক সিদ্ধান্তের তেমন গুরুত্ব দিতাম না, যদি তিনি বিএনপির মধ্যে একজন আপসপন্থি নেতা না হতেন এবং একবার (খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভার আমলে) এই আপসের কথা ...
সাভার ট্র্যাজেডি, শোকক্ষুব্ধ মানুষ এবং খাম্বাতত্ত্ব
কালের আয়নায়
সমকাল
২৭ এপ্রিল, ২০১৩
শুক্রবার সকালে (লন্ডন সময়) ঢাকায় এক অনুজপ্রতিম সাংবাদিককে মোবাইল টেলিফোনে জিজ্ঞাসা করলাম, সাভার ট্র্যাজেডির লেটেস্ট খবর কী? তখন ঢাকায় সকাল ১১টার মতো। অনুজ সাংবাদিক বাসে চেপে তার কর্মস্থল_ একটি দৈনিকের অফিসে যাচ্ছিলেন। তিনি জবাব দিলেন, লাশ বের করা হয়েছে তিনশ'র কাছাকাছি। আজও ৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রেগনেন্ট মহিলা ধ্বংসস্তূপে আটক অবস্থাতেই সন্তান প্রসব করেছেন। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। জীবিত উদ্ধারকৃতদের সংখ্যা এ পর্যন্ত দুই হাজারের মতো; কিন্তু জীবন্মৃত অবস্থা অনেকেরই। তিনি আরও জানালেন, সরকার বৃহস্পতিবার জাতীয় ...
মতিঝিল জমায়েতের সঙ্গে শাহবাগ সমাবেশের পার্থক্য
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০৯ এপ্রিল, ২০১৩
গত শনিবার (৬ এপ্রিল) সকালে, বাংলাদেশে তখন দুপুর, ঘুম থেকে উঠেই টেলিভিশন ও টেলিফোন দুটোই সামনে নিয়ে বসেছি। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ বা ঢাকা সমাবেশ কতটা সফল হলো সেটা দেখাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। শাহবাগের জাগরণ মঞ্চের দুজন সমর্থক-বন্ধুর সঙ্গে প্রথমেই কথা বলেছি। তাঁরা দুজনেই অকপটে বললেন, বিশাল সমাবেশ। মতিঝিলের শাপলা চত্বরের এই জমায়েত শাহবাগের সমাবেশের চেয়েও বড় হয়েছে। টেলিভিশনে নিজের চোখেও এই বিশাল সমাবেশ দেখেছি। ঢাকার চারদিক থেকে আগত মিছিলের বক্তাদের বক্তৃতা ও স্লোগানও শুনেছি। রীতিমতো রাজনৈতিক স্লোগান ও বক্তৃতা। ...
বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দাকে হবেন?
[ রা জ নী তি ]
ইত্তেফাক
২৪ মার্চ, ২০১৩
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর চারদিন হয়ে গেছে। তিনি এখন বনানীতে করবে শায়িত। তিনি ক্যারিসমাটিক নেতা ছিলেন না। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় লক্ষ মানুষের ঢল নামায় প্রমাণিত হয়েছে এই স্বল্পবাক, নিভৃতচারী মানুষটি দেশবাসীর কতোটা অন্তরের লোক ছিলেন। দলমত-নির্বিশেষে সকল মানুষের ভালোবাসায় তিনি আপ্লুত হয়েছেন। রাজনীতিতে অনেক সময় ক্যারিসমার চাইতেও কমিটমেন্ট যে মানুষের চোখে বড় হয়ে দেখা দেয় জিল্লুর রহমান তার প্রমাণ রেখে গেলেন। তিনি হাই প্রোফাইল রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। কিন্তু রাজনীতিতে নিজের অবস্থানের কথা কখনো আমলে আনেননি। তাঁর নীতিনিষ্ঠা ও কমিটমেন্টের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রাজনীতি করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মেনে নিতে কিছুমাত্র দ্বিধা দেখাননি। এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখিয়ে কোনো কোনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হাই প্রোফাইল নেতা আজ ইতিহাস এবং জনগণ দুইয়ের দ্বারাই প্রত্যাখ্যাত। হারাধনের একটি ছেলের মতো বনে বনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ এই সর্বোচ্চ পদে তাঁদেরই আগে বসার কথা। ...
গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত
কালের আয়নায়
সমকাল
১৬ মার্চ, ২০১৩
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গত বুধবার (১৩ মার্চ) ঢাকায় তার কেন্দ্রীয় অফিসের অলিন্দে দাঁড়িয়ে জনসমাবেশের উদ্দেশে যে বক্তৃতাটি দিয়েছেন, তার সারমর্ম জেনে ঢাকার আরেকটি দৈনিকে আমি একটি তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ লিখেছি। দেশনেত্রীর বক্তৃতার পুরো অংশটি হাতে পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, এটি অসুস্থ মনের প্রলাপ এবং সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত। বিশ্ব ইতিহাসে এমন একটি ঘটনা বিরল যে, যেখানে একটি দেশের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতার শত্রুদের বিচারের ও দণ্ডদানের বিরোধিতা করে সেই দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল ...
জনজাগরণ বনাম পকেট-সন্ত্রাস :জয় কার?
কালের আয়নায়
দৈনিক সমকাল
২ মার্চ, ২০১৩
গত বৃহস্পতিবার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা এবং তার বিরুদ্ধে জামায়াতের বিক্ষোভ-হরতাল পালন সম্পর্কে ওই দিনই ঢাকার অপর একটি দৈনিকে আমার একটা লেখা বেরিয়েছে। তাতে জামায়াতের ব্যর্থ হরতাল এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে 'পকেট-সন্ত্রাস' সৃষ্টিকে আমি বহ্বাড়ম্বরে লঘুক্রিয়া আখ্যা দিয়েছিলাম। এই লেখা পাঠ করে দেশের কয়েকজন পাঠক আমাকে টেলিফোনে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে চলি্লশের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর উল্লেখ করে বলেছেন, জামায়াত তার শক্তির পরিচয় দিয়েছে। ...
দেশ এখন একাত্তরমুখী
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
শাহবাগ-আন্দোলন এখনো অব্যাহত রয়েছে। জনজোয়ার হ্রাস হওয়ার বদলে তার কলেবর বাড়ছে। রাজনীতিবর্জিত আমাদের ক্রিকেট খেলোয়াড় দলও এই মহাসমাবেশে গিয়ে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ডাদেশের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এটা একটা অভূতপূর্ব গণজাগরণ। এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাত্মতা প্রকাশ না করে পারেননি। একটা গণতান্ত্রিক সরকার যা করে, তিনি তাই করেছেন; অর্থাৎ জনগণের সম্মিলিত দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। প্রমাণিত হলো, হাসিনা সরকার জনগণের দাবির বিরুদ্ধ-কাতারের সরকার নয়। ...
একাত্তরের অসমাপ্ত বিপ্লব এবার কি সফল হবে?
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
'মাঝে মাঝে ইতিহাস নিজে কথা কয়', এই কবিতার লাইনটি কার তা আমার সঠিকভাবে মনে পড়ছে না। জীবনানন্দ দাশের কি? মনে করতে পারছি না। কিন্তু ঢাকায় শাহবাগে আবার একাত্তরের মতো জনসমুদ্র এবং তার গর্জন শুনে মনে হল, মহাকবি নেই, কিন্তু তার মহাকাব্য আজ স্বঘোষিত। ইতিহাস আজ নিজে কথা কইছে। শত ভ্রূকুটি, শত বিকৃতি, শত চক্রান্ত ব্যর্থ করে একাত্তর আবার মাথা তুলেছে। নেতা নেই, জনতা আছে। যুব জনতা। মহাসমাবেশের বিরাট অংশই দেশের নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, যারা একাত্তর দেখেনি। একাত্তরের ইতিহাস যাদের বিকৃতভাবে শোনানো হয়েছে। তারা ভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়নি। তাদের কণ্ঠে বহুকাল পর বজ্র নির্ঘোষের মতো আবার শুনলাম জয়বাংলা ধ্বনি। বুকটা ভরে গেছে। ...
শাহবাগের মোমবাতিতে একাত্তরের চেতনার অগি্নস্ফুলিঙ্গ
কালের আয়নায়
সমকাল
৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
নিন্দা এবং গালি শুনেও যে এতটা আনন্দ পাওয়া যায়, তা জীবনে আগে কখনও এমন করে উপলব্ধি করিনি। ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় রায়ে রাজাকার কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া সম্পর্কে ঢাকার একটি দৈনিকে আমি লিখেছি, ট্রাইব্যুনাল জনমতের চাপে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারেন না। আবার এই দণ্ড না দেওয়ার জন্য কোনো অপশক্তির হুমকির কাছেও মাথানত করতে পারেন না। তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারেও ন্যায়বিচারে অটল থাকবেন এবং বিচারের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন_ এটাই আমাদের কাম্য। এই বক্তব্য আমার ...
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শ্রেণী-চরিত্র
উপ-সম্পাদকীয়
কালের কণ্ঠ
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
  ড. ক্লিনটন শিলি আমেরিকার একজন বহু ভাষাবিদ শিক্ষক। তিনি বাংলা ভাষা শিখে তাঁর সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনেরও ছাত্র হয়েছিলেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন এবং শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট লাভ করেছেন। তিনি প্রাক-যৌবনে প্রেসিডেন্ট কেনেডির মার্কিন পিস কোরের সদস্য হয়েছিলেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলেন, আমেরিকার এই শান্তিবাহিনী মোটেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত নয়, বরং তাদের প্রধান কাজ আমেরিকার আধিপত্যবাদী স্বার্থে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অশান্তি ...
বাংলাদেশে মানবতার শত্রুদের শেষ আশাও চূর্ণ হলো
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২২ জানুয়ারি ২০১৩
১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রথম রায়টি ঘোষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। ফরিদপুরের নগরকান্দার এই কুখ্যাত অপরাধী মানবতাবিরোধী আটটি জঘন্য অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিল। একটি ব্যতীত সাতটি অপরাধেই সে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এই নরপশু এখন অবশ্য পলাতক। কিন্তু পালিয়ে থেকে সে বিচারের দণ্ড শেষ পর্যন্ত এড়াতে পারবে কি? এই রায় রাহুর মতো সর্বত্র তার পশ্চাদ্ধাবন করবে। লক্ষ করার বিষয়, এই বাচ্চু রাজাকারও নিজ এলাকায় জামায়াত নেতা ছিল। ১৯৭১ ...
দেশের রাজনীতিতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি?
কালের আয়নায়
সমকাল
১৯ জানুয়ারি ২০১৩
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি' কথাটিতে অনেকে বিশ্বাস করেন, অনেকে করেন না। আমি মাঝে মধ্যে করি। তবে ধর্মের মতো এই ব্যাপারেও আমি সংশয়বাদী। আমার ধারণা, ইতিহাস হয়তো মাঝে মধ্যে পুনরাবৃত্তি ঘটায়, কিন্তু আগেরবার যা ঘটেছে তা আবার পুরোপুরি ঘটায় না। একটু ওলটপালট করে। এ জন্যই বাংলাদেশের যেসব রাজনৈতিক পণ্ডিত সিনা ফুলিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, ২০১৪ সালে দেশে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সংসদে ৬০টি আসনও পাবে না, বরং ২০০১ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, আমি তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করি না। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, ...
দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৬ জানুয়ারি ২০১৩
আমার স্ত্রীর মরদেহ সমাধিস্থ করার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলাম ডিসেম্বরের শেষদিকে এবং দিনসাতেক ছিলাম। তার আগে নবেম্বর মাসে তিন সপ্তাহ ঢাকায় ছিলাম। আমার এই কয়েক দিনের ঢাকা অবস্থানেই মনে হয়েছে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং রাজনীতিতে সকলের অলক্ষ্যে একটা বড় পরিবর্তন হয়ে গেছে। এই পরিবর্তনের স্রোতে সকলেই গা ভাসিয়েছে। ধনী, দরিদ্র, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, উচ্চ, নীচ সকলেই। পেশার ক্ষেত্রে এমনকি সেবামূলক পেশা, যেমন চিকিৎসা, সাংবাদিকতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে মূল্যবোধ ও নীতিনিষ্ঠা বহুলাংশে হারিয়ে গেছে। বিচার ও শিক্ষা ব্যবস্থাতেও দুর্নীতি ঢুকেছে। রাজনীতি তা ডান বা বাম যেদিকের হোক আদর্শ ও নৈতিকতা হারিয়েছে। ধার্মিকতা নেই, ধর্মান্ধতা বেড়েছে। অর্থের কাছে সব নীতিবোধ আদর্শ ও ধর্মবোধ বিলীন হয়ে গেছে। ঢাকার কাছে বাড্ডায় আমার এক গরিব বন্ধু বাস করতেন। পঞ্চাশ বছর আগের কথা বলছি। ষাটের দশকের গোড়ার কথা। আমিও তখন ঢাকায়। এই বন্ধুর নাম ধরে নিন হাফিজ মোল্লা। বেশি লেখাপড়া শেখেননি। সরকারী-বেসরকারী অফিসে টুকিটাকি সাপ্লায়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। তাতে সংসার চলত না। প্রায়শ আমার কাছে এসে টাকা ...
সমঝোতা চাই সমঝোতা; কিন্তু কিসের সমঝোতা?
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১৫ জানুয়ারি ২০১৩
বাংলাদেশে এখন একটাই রব, সমঝোতা চাই, সমঝোতা চাই। দেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী, যাঁরা দেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া অনেকটাই দখল করে আছেন, তাঁদের কণ্ঠেও একই রেটোরিক বা আপ্তবাক্য- 'সমঝোতা চাই, দুই নেত্রীর মধ্যে সমঝোতা চাই। সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। সমঝোতা না হলে দেশ সংঘাতের পথে এগিয়ে যাবে।' এই রেটোরিক আমাদের তথাকথিত সাহায্যদাতা দেশগুলো- বিশেষ করে আমেরিকার মুখেও। যে আমেরিকা ইউনিপোলার বিশ্বে নিজে একক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও কোথাও সমঝোতার সামান্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে না, কোথাও ড্রোন হামলা, কোথাও ন্যাটো ...
নির্মলদা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চেয়েছিলেন
কালের আয়নায়
সমকাল
১২ জানুয়ারি ২০১৩
নির্মল সেন, আমাদের সর্বজনীন নির্মলদাও চলে গেলেন। ৮২ বছর বয়সে মৃত্যু হলো। কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু হলো কি? দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন সন্ত্রাস, হত্যার রাজনীতির শুরু, তখন তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চেয়ে একটি বিখ্যাত কলাম লিখেছিলেন। এই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি তিনি চেয়েছিলেন দেশের সকল মানুষের জন্য। কেবল নিজের জন্য নয়। দেশের কোনো সরকার আজ পর্যন্ত তার এই দাবি পূরণ করতে পারেনি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড তার সাম্প্রতিক প্রমাণ। ৮২ বছর বয়সে নির্মলদার মৃত্যুকে পরিণত বয়সের স্বাভাবিক মৃত্যু বলতাম, যদি ...
ইতিবাচক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হোক কালের কণ্ঠ
কলাম
কালের কণ্ঠ
১০ জানুয়ারী ২০১৩
২০১০ সালের জানুয়ারি মাস। আমি তখন বাংলাদেশে। বগুড়া ও রংপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। রংপুরে নবপ্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেব এবং পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার গ্রামের বাড়ির ভগ্নাবশেষ দেখব- এটাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য। রংপুরের সার্কিট হাউসে উঠলাম। জেলার তখনকার ডিসি অত্যন্ত অমায়িক ভদ্রলোক। তাঁর স্ত্রী কবিতা লেখেন। তাঁর বাড়িতে নৈশভোজের সঙ্গে লালনগীতির একটা আসর বসবে- এমন ইঙ্গিত পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলাম। রংপুরের সার্কিট হাউসে উঠেছি ৯ জানুয়ারি রাতে। মনে পড়ল, পর দিন, ১০ জানুয়ারি 'কালের কণ্ঠ' নামে একটি ...
হে বন্ধু, বিদায়
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
৮ জানুয়ারি ২০১৩
শোক আর যুক্তির মধ্যে সম্ভবত মাসতুতো ভাইয়ের সম্পর্ক। আমার একটি উপলব্ধি হলো, যুক্তি দিয়ে শোক উপশম করা যায় না। নিজের জীবনে বহু আত্মীয়-বন্ধুকে আমি তাদের শোকে যুক্তি দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যে মা হারিয়েছে, তাকে বলেছি, মা কি কারো চিরকাল থাকে? যে স্ত্রী হারিয়েছে, তাকে বলেছি, তোমার আগে তিনি চলে গেলেন, ভালোই হলো। তুমি আগে চলে গেলে তাকে বৈধব্যের যন্ত্রণা সইতে হতো। গত ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার (২০১২) আমার স্ত্রী সেলিমা আফরোজ চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব একই ...
দিল্লির লাড্ডু খেয়েও বেগম জিয়া পস্তাতে পারেন
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
৬ নভেম্বর ২০১২
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে ব্রিটেনের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী জার্মানির সঙ্গে মিউনিখ শান্তিচুক্তি সম্পাদন করে লন্ডনে ফিরে এসে বলেছিলেন, আমি ইউরোপের জন্য আগামী ২০ বছরের শান্তির নিশ্চয়তা নিয়ে এসেছি। এর কিছুকালের মধ্যেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে এবং চেম্বারলেনকে 'অ্যাপিজমেন্ট নীতি'র অনুসারীর দুর্নাম নিয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। বেগম খালেদা জিয়া দিল্লি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি ভারত সরকারের সঙ্গে একটি অলিখিত শান্তিচুক্তিও করে এসেছেন বলে প্রকাশ। তিনি বলেছেন, 'আমরা আর অতীতের দিকে ফিরে তাকাব না।' অর্থাৎ অতীতের ভারতবিরোধী নীতি আর অনুসরণ করবেন না। বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে তৎপরতা চালাতে দেবেন না। চাই কি, ধর্মান্ধ দলগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক রাখবেন না। ভারত বিনিময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নেবে না বলে বিএনপি নেত্রীকে আশ্বাস দিয়েছে। ভারতের এই নতুন কূটনীতির সূচনা অবশ্য বহু আগেই, অর্থমন্ত্রী থাকাকালে প্রণব বাবুর ঢাকা সফরের সময় শুরু হয়। তিনি খালেদা জিয়াকে বলে গিয়েছিলেন, ভারত কোনো বিশেষ দলের আর বন্ধু হবে না। সে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চায়। ইঙ্গিতটা স্পষ্টভাবেই ছিল ...
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আরেক সহযোগীর বিদায়
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১৮ অক্টোবর ২০১২
সিঙ্গাপুরে ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবারের সকাল। সবে ঘুম থেকে উঠেছি। দ্য স্ট্রেইটস টাইমস কাগজটা এলো, প্রথম পাতাতেই খবরটা- প্রিন্স নরোদম সিহানুক মারা গেছেন। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। সঙ্গে সঙ্গে সত্তরের দশকের গোড়ার কথা মনে পড়ল। তখন সিহানুক পরিচিত ছিলেন প্রিন্স সিহানুক হিসেবে। কম্বোডিয়ার রাজা ছিলেন, মার্কিন ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তখন বেইজিংয়ে বসবাস করছিলেন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আলজিয়ার্সে ৭৩ জাতি জোটনিরপেক্ষ সম্মেলন হয়। বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেক রাষ্ট্রনায়ক এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। ...
সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব মৌলবাদীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২
গত রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ১২টি ইসলামী মৌলবাদী দলের আহ্বানে হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালের উদ্দেশ্য- সম্প্রতি আমেরিকায় নির্মিত একটি চলচ্চিত্রে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)কে অবমাননার প্রতিবাদ জানানো। হরতাল কতটা সফল হয়েছে জানি না। কিন্তু আমেরিকার মাটিতে একটি উস্কানিমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক ছবি বানানোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশেও প্রতিবাদ হওয়া দরকার ছিল। এই হরতাল সেই দরকার পূরণ করেছে। অবশ্য এই ছবি তৈরির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এটা সরকারি প্রতিবাদ। বাংলাদেশের জনগণের প্রতিবাদ রবিবারের হরতালের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। সম্ভবত কেবল মৌলবাদী দলগুলো এই হরতাল ডাকায় এই হরতালের সঙ্গে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়নি; তথাপি এই ছবি তৈরির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের মনেও যে গভীর ঘৃণা ও ক্ষোভ রয়েছে, তা এই হরতালের মধ্য দিয়ে উস্কানিদাতা পশ্চিমা দেশগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি উৎকণ্ঠিত ছিলাম, এই হরতালের মধ্যে জামায়াত, হিযবুত তাহ্রীরের মতো ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপ্রবেশ ঘটে কি না এবং তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য হরতালের সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়ে অথবা ...
মসিউর রহমান বিদায় নিলেই কি বিশ্বব্যাংক টাকা দেবে?
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
১৮/০৯/২০১২
সৈয়দ আবুল হোসেন কিছুকাল আগেই মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। বিশ্বব্যাংক তাঁর ওপর বিরূপ জেনে তাঁকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরানো হয়। তাতেও এক শ্রেণীর মিডিয়ায়, বিশেষ করে নিরপেক্ষতার মুখোশে ঢাকা একটি ইংরেজি ও বাংলা দৈনিকের চিৎকার বন্ধ হয়নি। তারা এমন প্রচারণা শুরু করে যে আবুল হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে চলে গেলেই যেন বিশ্বব্যাংক ছুটে এসে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থ ঢেলে দেবে! সৈয়দ আবুল হোসেন যখন পদত্যাগ করলেন, তখন এই দুটি পত্রিকার কি সহর্ষ নিনাদ! এমনকি আমাদের অর্থমন্ত্রী পর্যন্ত বলে ...
ড. কামাল হোসেনের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
উপ-সম্পাদকীয়
সমকাল
১৫/০৯/২০১২
ড. কামাল হোসেনের মতো একজন বর্ষীয়ান নেতা, যিনি বিএনপির কাছেও এখন সমান গ্রহণযোগ্য এবং আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাত, তিনি যদি তার গত ১১ সেপ্টেম্বরে দেওয়া আলটিমেটাম কার্যকর করেন এবং প্রাথমিকভাবে কোকোর দুর্নীতি জনসমক্ষে ফাঁস করেন, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে তারেক রহমানের সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিবরণও ফাঁস হতে দেরি হবে না। চাই কি বর্তমানের শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে হলমার্কের অর্থ কেলেঙ্কারির নায়কদের মুখোশ উন্মোচন এবং তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে সরকার বাধ্য হবে এগারো সেপ্টেম্বর দিনটি আমাদের উপমহাদেশ এবং সারাবিশ্বের জন্যই একটি দুর্ভাগ্যজনক দিন। ৬৪ বছর আগে এই দিন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রয়াত হন। আবার মাত্র কয়েক বছর আগে এই দিন আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে টুইন টাওয়ারে সেই বিশ্বত্রাস ঘটনাটি ঘটে। এ বছর এই দিনে বিশ্বের আর কোথাও ছোট-বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে একটি ছোট্ট ঘটনা ঘটেছে। দ্বিখণ্ডিত গণফোরামের (এক খণ্ড সম্ভবত পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সঙ্গে রয়েছে) নেতা, আন্তর্জাতিক খ্যাতির অধিকারী আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ঢাকার জাতীয় ...
লাভের গুড় শেষ পর্যন্ত পিঁপড়েয় না খায়
কালের আয়নায়
সমকাল
০১/০৯/২০১২
হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা আরও হতাশাব্যঞ্জক। এই বিরাট কেলেঙ্কারির সঙ্গে যে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অনেকের যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের তরুণ গভর্নর ড. আতিউর রহমানের অনুমান সঠিক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এখন তো শোনা যাচ্ছে, আরও ২৬টি ব্যাংক এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যে সোনালী ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টর পরিবর্তনের জন্য নোটিশ দিয়েছিলেন, এটাও একটা সঙ্গত ও বাস্তব পদক্ষেপ বলে দেশবাসীর ধারণা 'এতো ভঙ্গ বঙ্গদেশে তবু রঙ্গে ভরা।' কথাটি বলেছিলেন যে কবি, তাকে ...
সিরিয়ার যুদ্ধ চালাচ্ছে কারা এবং কি উদ্দেশ্যে?
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
২৬/০৮/২০১২
বাংলাদেশের অধিকাংশ জাতীয় দৈনিকে সিরিয়ার যুদ্ধ সংক্রান্ত খবর ও খবর-পর্যালোচনা পাঠ করলে মনে হয়, তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কখন প্রেসিডেন্ট আসাদের পতন হয়! আসাদের পতন হলেই যেন দেশটি স্বৈরতন্ত্রমুক্ত হবে এবং স্বৈরতন্ত্রের পতনে ‘গণযুদ্ধের’ জয় হবে। মার্কিন ও ব্রিটিশ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা, এমনকি সেনা কর্মকর্তারাও অনবরত আসাদ সরকারকে হুমকি দিয়ে চলেছেন এবং বলে চলেছেন, প্রেসিডেন্ট আসাদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশে বসে এই খবর আমরা শুনি এবং অনেকেই আনন্দে বগল বাজাই বলে মনে হয়। আমি বিস্মিত হয়ে ভাবি, আমাদের সকলকেই কি কালেকটিভ ব্লাইন্ডনেস বা সামগ্রিক অন্ধত্ব গ্রাস করেছে যে, আমরা সিরিয়ার যুদ্ধের আসল উদ্দেশ্য এবং এর আসল হোতা কারা তা বুঝতে পারছি না? এটা যে গণযুদ্ধ নয়, বরং গণযুদ্ধের ছদ্মাবরণে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, এই একুশ শতকে অবাধ তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সেই নগ্ন সত্যটি বুঝতে কি আমাদের খুব অসুবিধা হচ্ছে? যদি আমাদের একশ্রেণির জাতীয় মিডিয়ার দায়িত্বহীনতায় সে সত্য আমরা বুঝতে না পারি তাহলে-তা আমাদের ক্ষুদ্রবুদ্ধির দীনতা। আর বুঝতে পেরে থাকলে ...
কস্টা কফি কলোনিস্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত দুটি গ্রাম
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
২৪/০৮/২০১২
ঈদের ছুটিতে একদিনের জন্য লন্ডনের বাইরে গিয়েছিলাম। পাঠক সুজনদের আগেই জানিয়ে রাখা ভালো যে, লন্ডনে অর্থাত্ গোটা ব্রিটেনে ঈদের কোনো ছুটিছাটা নেই। আমার ছুটি বলতে ঈদের জন্য ঢাকায় চারদিন কাগজ বের হয়নি। আমাকেও লিখতে হয়নি। ওটাই আমার ছুটি। লন্ডনে এবার রোজার ঈদ হয়েছে রবিবার (১৯ আগস্ট)। আমার ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন। সকালে সানডে টাইমস-এর কমেন্টের পাতায় দেখলাম কলামিস্ট মিনেটি মেরিনের (Minette Marrin) কলাম— ‘Camerons no help against the costa coffee colonists (কস্টা কফি কলোনিস্টদের বিরুদ্ধে ক্যামেরন কোনো সাহায্য জোগাতে পারছেন না)। কস্টা কফির নাম এখন বিশ্ববিদিত। মার্কিন মালিকানাধীন কফির চেইন হাউস। লন্ডনসহ ব্রিটেনের এমন কোনো শহর নেই যেখানে পাড়ায় পাড়ায় কস্টা কফি হাউস নেই। সে সঙ্গে নিরো ও স্টারবাক নামে দুটি কফি হাউসের চেইন। ফলে লোকাল কফি হাউসগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমি জানি না, ঢাকা এবং কলকাতাতেও কস্টা কফি কলোনিস্টদের উপনিবেশের বিস্তার লাভ হয়েছে কিনা। এবং কলকাতায় কলেজস্ট্রিটের সেই প্রবাদসিদ্ধ লোকাল কফি হাউস আর আছে কিনা। বহুদিন আগেই মান্না ...
বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে একটি অভিনব ও অসম যুদ্ধ
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০৭/০৮/২০১২
বাংলাদেশে একটি অভিনব যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধটি আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে বর্তমান সরকার ও এক ব্যক্তির মধ্যে। সরকারটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের এবং ব্যক্তিটি হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক এমডি ড. মুহম্মদ ইউনূস। এক ব্যক্তি একটি সরকারের বিরুদ্ধে একা যুদ্ধ চালাতে পারে- এ নজির আধুনিক বিশ্বে নেই। কিন্তু সেই নজির বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হলো। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ড. ইউনূস একালের একজন হারকিউলিস। একাই মহাবিক্রমে লড়ছেন। কিন্তু চোখ একটু খোলা রেখে তাকালেই দেখা যাবে, সামনে যুদ্ধরত সরকারটি হচ্ছে একটি গরিব দেশের ...
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পঞ্চমবাহিনী কারা?
উপ সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে ইংরেজী ভাষার অভিধানে একটি নতুন কথা যুক্ত হয়েছিল ঋরভঃয পড়ষঁসহ। বাংলায় এর তর্জমা করা হয়েছিল পঞ্চমবাহিনী। বাংলাদেশ তখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত একটি প্রদেশ। স্কুলের একেবারে নিচের দিকে ক্লাসে পড়ি। তখন জাপানী সৈন্যরা বাংলাদেশের পূর্বপ্রান্তে এসে গেছে। গোটা বার্মা (বর্তমানের মিয়ানমার) দখল করে নিয়েছে। এই জাপানী অভিযান রোখার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রোপাগান্ডা অত্যন্ত জোরদার করেছিল। বাংলাদেশের শহর, বন্দর, গ্রামের বাড়িঘর, দোকান এবং রাস্তায় দেয়াল পর্যন্ত পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছিল, তাতে লেখা থাকত ‘পঞ্চমবাহিনী হইতে সাবধান।’ তখন পঞ্চমবাহিনী কথাটার অর্থ বুঝতাম না। একটু বড় হয়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই বুঝতে পেরেছি। কিন্তু ফিফ্থ কলাম বা পঞ্চমবাহিনী কথাটার অর্থ মিত্রবেশে দলের মধ্যে বা দেশের মধ্যে থেকে যারা শত্রুতা করে। তারা বাইরের শত্রু ও প্রকাশ্য শত্রুর চাইতেও ভয়ঙ্কর। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিসেস মার্গারেট থ্যাচার বলেছেন, ‘আমি বাইরের শত্রুকে ভয় করি না। ভেতরের শত্রুকে (বহবসু রিঃযরহ) ভয় করি।’ আমার ধারণা, বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি, তাতে হাসিনা সরকারের উচিত, বাইরের শত্রুর চাইতে ...
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পঁয়তাল্লিশ মিনিট
উপ সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
২৯/০৭/২০১২
প্রায় দেড় দুই বছর পর দেখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। তাও লন্ডনে। ব্রিটেনে নিযুক্ত আমাদের হাই কমিশনার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান অবশ্য আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন, লন্ডন অলিম্পিকের (২০১২) অতিথি হয়ে প্রধানমন্ত্রী ২৫ জুলাই লন্ডনে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা, আমি যেন ২৭ তারিখে লন্ডনে তার হোটেলে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করি। আমার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর বারোটা। আমার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে আসবেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড।  সুতরাং দু’টি সাক্ষাত্কার যেন ওভারল্যাপ না করে সেজন্য আমি যেন নির্দিষ্ট সময়ে যাই। আমার জন্য ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করেছিলেন হাই কমিশনই। সুতরাং একদিকে অলিম্পিকের অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও মধ্য লন্ডনে কিংসক্রসে ভিকটোরিয়ান আমলের রিনোভেটেড করা রেনেসাঁস হোটেলে পৌঁছতে আমার অসুবিধা ও দেরি কোনোটাই হয়নি। আমাকে হোটেলে পৌঁছে অপেক্ষা করতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার কক্ষের বাইরে চলে এসেছিলেন আমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি। আমার মনে হয়েছিলো গত তিন সাড়ে তিন বছর ধরে ...
নতজানু হয়েও কি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পদ্মা সেতুর টাকা মিলবে?
কালের আয়নায়
সমকাল
২৮/০৭/২০১২
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। সেজন্য বিদেশি সহায়তা পেতে সর্বপ্রকার চেষ্টা চালাতে হবে। তবে কোনোভাবেই যেন জাতীয় মর্যাদা ও গর্ব বিসর্জন দিয়ে সেটা করা না হয়। আমরা জানি যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই চীনের হোয়াং হো নদীর ওপর বাঁধ ও সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছিল। বাংলাদেশে পদ্মা সেতু নির্মাণও সম্ভব হবে, যদি জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে জনগণের মধ্যে উদ্দীপনা-উন্মাদনা সৃষ্টি করা যায় আবুল ইজ ডাউন_ সোল্লাসে কথাটা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সঙ্গে তিনি ...
‘প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে বড়াই’
উপ সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
২৭/০৭/২০১২
“মাঝে মাঝে বিধির-বিধানের প্রতি বড় বেশি বিশ্বাসী হয়ে উঠি। নিজের চারপাশের বিশ্বজগতের কোনো কোনো ঘটনা দেখে মনে হয় বিধির-বিধান কথাটি সত্য। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে বড়াই জেনো মনে তখন তাহার বিধির সঙ্গে লড়াই” এই লড়াইয়ে কোনো মহাশক্তিধরের পক্ষেও জেতা সম্ভব নয়। বিধির বিধানের কথাটি মনে পড়লো পৃথিবীর একমাত্র সুপার পাওয়ার আমেরিকার বর্তমান ও ভবিষ্যত্ সম্পর্কে ওই দেশেরই কিছু বিশিষ্ট সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞের অভিমত দেখে। সম্প্রতি আমেরিকার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেড ব্রেজনিস্কি ওবামা প্রশাসনকে এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, “ইরানের সঙ্গে কোনো প্রকার সামরিক সংঘাতে গেলে তা মার্কিন অর্থনীতির জন্য ভয়ানক বিপর্যয় ডেকে আনবে।” কথাটি তিনি বলেছেন মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে। তিনি বলেছেন, “বর্তমান অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা বছরের পর বছর ধরে চলবে। পরিণামে চড়া মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেবে এবং তা সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন আরেকটা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াটা নিশ্চিতভাবে ...
আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে তাড়ালেই কি বিশ্বব্যাংকের অর্থ পাওয়া যেত?
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
১১/০৭/২০১২
প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত একটি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সিদ্ধান্তটি হলো, তারা আর বিশ্বব্যাংকের অর্থ সাহায্যের জন্য ধরনা দেবে না। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করবে। এটি একটি সুসিদ্ধান্ত ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত। এখন লক্ষ রাখতে হবে, এই প্রকল্পের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে গরিবের ওপর যেন ট্যাক্সের বোঝা না বাড়ে। মোবাইল ফোনের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি বা ব্রিজ ট্যাক্স নামে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন কোনো কর না চাপিয়ে সরকার কি ওয়েলথ ট্যাক্স প্রবর্তনের ...
একটি স্পর্শকাতর অনভিপ্রেত ঘটনা
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
১৯/০৬/২০১২
কালের কণ্ঠের কিছু সহৃদয় পাঠক, যাঁরা আমার কলামটি নিয়মিত পাঠ করেন, তাঁরা জানতে চেয়েছেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার আবদুল হামিদ এবং উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরীর (মানিক) পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে বিতণ্ডা হয়ে গেল, তা নিয়ে আমি কিছু লিখিনি বা এখনো কিছু লিখছি না কেন? এক পাঠক বন্ধু টেলিফোনে আমাকে প্রশ্নটি করেছিলেন। তাঁকে বলেছি, বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে আলোচনা করতে চাইনি। পার্লামেন্ট এবং জুডিশিয়ারি- আধুনিক গণতন্ত্রের এই দুটি স্তম্ভের মর্যাদা সর্বোচ্চ। এই মর্যাদা রক্ষা করে কথা বলতে ...
গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থার একজন উদ্ভাবকের মৃত্য�
কালের আয়নায়
সমকাল
১৬/০৬/২০১২
রণজিত গুপ্তের পরিকল্পনায় গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা থাকবে গরিব শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। তাদের নির্বাচিত বোর্ড ব্যাংক পরিচালনা করবে এবং এই ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কোনো এক ব্যক্তির কর্তৃত্বের বদলে সরকারের নজরদারি থাকবে। ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের কার্যক্রম ও হিসাব সম্পর্কে অবহিত থাকবেন এবং মুনাফার অংশ পাবেন। সম্প্রতি কলকাতায় সাবেক পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তী জীবনে নৃতত্ত্ব ও কৃষি গবেষণার জন্য বিখ্যাত একজন পণ্ডিত রণজিত গুপ্ত প্রয়াত হয়েছেন। তিনি কেবল পশ্চিমবঙ্গের নকশাল যুগের একজন দাপুটে পুলিশকর্তা হলে সম্ভবত তার মৃত্যুতে পত্রপত্রিকায় এত অবিচুয়ারি প্রকাশিত হতো না। ...
গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থার একজন উদ্ভাবকের মৃত্যু
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৫/০৬/২০১২
সম্প্রতি কলকাতায় সাবেক পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তী জীবনে নৃতত্ত্ব ও কৃষি গবেষণার জন্য বিখ্যাত একজন পণ্ডিত রণজিত গুপ্ত প্রয়াত হয়েছেন। তিনি কেবল পশ্চিমবঙ্গের নকশাল যুগের একজন দাপুটে পুলিশকর্তা হলে সম্ভবত তার মৃত্যুতে পত্রপত্রিকায় এত অবিচুয়ারি প্রকাশিত হতো না। ইন্দিরা যুগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুলিশকর্তা হিসেবে তার নাম সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়লেও তার বিশেষ খ্যাতি নৃতত্ত্ব ও কৃষি অর্থনীতি সম্পর্কিত গবেষণায়। চাকরি জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায় ৩০ বছর তিনি এই গবেষণায় ও হাতে-কলমের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। এ জন্য নিউইয়র্ক টাইমস তাকে 'ংবষভ ঃধঁমযঃ ধমৎধৎরধহ বীঢ়বৎঃ ধহফ ধহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরংঃ' (স্বশিক্ষিত কৃষি বিশেষজ্ঞ ও নৃতত্ত্ববিদ) আখ্যা দিয়েছিল। রণজিত গুপ্তের জন্ম বাংলাদেশে। পরে তারা পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। তার ভাই অশোক গুপ্তের নামের সঙ্গেও আমরা পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অশোক গুপ্ত ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসে একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছিলেন। সেটা বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমল। সুবিমল দত্ত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের প্রথম হাইকমিশনার। ...
আন্দোলন কেন বারবার ব্যর্থ আস্ফালনে পরিণত হচ্ছে?
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
১২/০৬/২০১২
এগারোই জুন সোমবার এই লেখাটা লিখতে বসেছি। আজ বাংলাদেশে বিএনপির বহু বিঘোষিত বিক্ষোভ প্রদর্শন ও জনসমাবেশ দিবস। ১২ জুন মঙ্গলবার সকালে আমার এ লেখাটি যখন পাঠকদের চোখে পড়বে, তখন তাঁরা জেনে যাবেন, বিএনপি তার সরকারবিরোধী আন্দোলনের কতটা সূচনা করতে পারছে, নাকি তা আবার ব্যর্থ আস্ফালনে পরিণত হয়েছে। সাধারণত বিএনপি যেদিন হরতাল বা বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকে, তার আগের রাতেই কিছু বাস, গাড়ি পুড়িয়ে এবং নিরীহ বাস ড্রাইভার বা রিকশাওয়ালাকে পুড়িয়ে মেরে তাদের শক্তির আগাম মহড়া দেয়। এবার সেই মহড়া দেখা ...
আন্দোলন কেন বারবার ব্যর্থ আস্ফালনে পরিণত হচ্ছে?
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১২/০৬/২০১২
এগারোই জুন সোমবার এই লেখাটা লিখতে বসেছি। আজ বাংলাদেশে বিএনপির বহু বিঘোষিত বিক্ষোভ প্রদর্শন ও জনসমাবেশ দিবস। ১২ জুন মঙ্গলবার সকালে আমার এ লেখাটি যখন পাঠকদের চোখে পড়বে, তখন তাঁরা জেনে যাবেন, বিএনপি তার সরকারবিরোধী আন্দোলনের কতটা সূচনা করতে পারছে, নাকি তা আবার ব্যর্থ আস্ফালনে পরিণত হয়েছে। সাধারণত বিএনপি যেদিন হরতাল বা বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকে, তার আগের রাতেই কিছু বাস, গাড়ি পুড়িয়ে এবং নিরীহ বাস ড্রাইভার বা রিকশাওয়ালাকে পুড়িয়ে মেরে তাদের শক্তির আগাম মহড়া দেয়। এবার সেই মহড়া দেখা ...
অ-রূপকথার যুগের এক রানির গল্প
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
০৫/০৬/২০১২
আমি রানি ভিক্টোরিয়াকে দেখিনি, কিন্তু রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে দেখেছি। একবার নয়, কয়েকবার দেখেছি। দূর থেকে দেখেছি দুবার। সামনাসামনি দেখেছি দুবার। তাঁর সঙ্গে শেক হ্যান্ডও করেছি একবার, একেবারে তাঁর বাকিংহাম প্যালেসের দরবারকক্ষে দাঁড়িয়ে। ভিক্টোরিয়ার মতোই তিনি অল্প বয়সে সিংহাসনে বসেছেন। ভিক্টোরিয়ার মতোই দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন এবং এ বছর তাঁর রাজত্বের ৬০ বছর পূর্ণ হলো। এই জুন মাসের গোড়ায় আজ কদিন ধরে চলছে তাঁর সরকারি ডায়মন্ড জুবিলি উৎসব। আজ চার দিন ধরে (২ থেকে ৫ জুন) সারা লন্ডন শহর উৎসব ও ...
জন্মদিন পালন করা ভালো, বাড়াবাড়ি বুমেরাং হতে পারে
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৫/০৬/২০১২
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তাঁর ৪৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে। নানা মামলা-মোকদ্দমায় অভিযুক্ত এবং চিকিৎসাধীন আছেন বলা হয়। কামনা করি, তিনি এখন দ্রুত সুস্থ হোন, দেশে ফিরে আসার সাহস দেখান এবং মা ছেলের কাঁধে দল পরিচালনার যে দায়িত্বভার প্রদান করেছেন, সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জন্মদিন পালন করা এক কথা। কিন্তু সেই জন্মদিন পালন নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাড়াবাড়ি করাটা আরেক কথা। তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করে না; বরং তা বুমেরাং হয়। তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সতর্কবাণীটাও তাঁর জন্য উচ্চারণ করছি। কারণ তিনি দেশে নেই। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর দল এই জন্মদিন পালনের নামে যে আতিশয্য শুরু করেছে, তা দেশবাসীর মনে 'বীর পূজার' ভাব সৃষ্টি না করে বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। ...
হরতাল যদি ঘৃণ্য হয়, অন্যান্য নাগরিক অধিকারের কী হবে?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০১/০৬/২০১২
হরতালকে এই দুর্নাম থেকে মুক্ত করতে হবে। বাকস্বাধীনতা বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে বাড়াবাড়ি হলেও যেমন কেউ বলে না, এই স্বাধীনতা বাতিল করা হোক, হরতালের বেলাতেও তেমনি তার অপব্যবহারের বাড়াবাড়িতে হরতাল নিষিদ্ধ করা অযৌক্তিক। তাতে নাগরিক অধিকার হরণ করা হবে, জনগণের দাবি আদায় এবং বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর শান্তিপূর্ণ পন্থাগুলো রোধ করা হবে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা হঠাৎ একটি বোমা ফাটিয়েছেন। অবশ্য কথার বোমা। আমাদের মুরবি্ব পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা প্রায়ই এ ধরনের বোমা ফাটিয়ে থাকেন। এই বোমা ফাটানোর সঙ্গে তাদের দেশের কথা ও কাজের কোনো সঙ্গতি থাক আর না-ই থাক। মজিনা সাহেব ঠাস করে বলে ফেলেছেন, 'আমি হরতালকে ঘৃণা করি।' যদি তিনি বলতেন, আমি বাংলাদেশের সহিংস হরতালগুলোকে ঘৃণা করি, তাহলে এ কথার একটা অর্থ ছিল। কিন্তু তিনি যখন বলেন, একেবারে হরতালকেই তিনি ঘৃণা করেন, তখন প্রশ্ন উঠবে, যে হরতাল জনসাধারণের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের গণতান্ত্রিক অধিকার, সেই গণতান্ত্রিক অধিকার তথা গনতন্ত্রকেই তিনি কি ঘৃণা করেন? ...
আমরা কি সত্যই বিজয় দেখেছি?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৮/০৫/২০১২
ষোলই ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির একটি আনন্দ ও অশ্রুমাখা দিন। আনন্দের দিন এ জন্য যে এদিন পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলার মাটিতে যুদ্ধে পরাভূত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। আর দিনটি অশ্রুমাখা বলা হয় এ জন্য যে, এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লাখ লাখ বাঙালিকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছে এবং হাজার হাজার মা-বোনকে সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। এ বিজয় দিবসের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আলবদরের দল আরেক দফা বুদ্ধিজীবী নিধন ঘটায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে কোটি কোটি বাঙালিকে এক হাতে চোখের অশ্রু মুছে আরেক হাতে স্বাধীনতার পতাকা উঁচিয়ে উৎসবের মিছিলে যোগ দিতে হয়েছে। ৪০ বছর ধরে তাই এই দিনটি আমাদের আনন্দ-বিষাদের দিন। এ বছরও আমাদের এই আনন্দের দিনে একটি বিরাট বিষাদ এসে যুক্ত হয়েছে। ...
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মরণকাম
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
23/05/2012
১৭ ডিসেম্বর শনিবার ছিলাম জার্মানির অফেনবাখ (Offenbach) শহরে। ফ্রাঙ্কফুর্ট ও অফেনবাখ শহর প্রায় পাশাপাশি। অনেকটা আমাদের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মতো। আমন্ত্রণ জানিয়েছিল জার্মান আওয়ামী লীগ তাদের বিজয় দিবসের সমাবেশ ও সম্মেলনে যোগ দিতে। সকালে (জার্মান সময়) ঘুম থেক উঠে চা খাচ্ছি, তখন খবরটা পেলাম। ঢাকায় ধুমধুমাক্কা। বিজয় দিবসের পরদিনই বিএনপি-জামায়াত শুধু ঢাকা শহরে নয়, সিলেট, বরিশালসহ আটটি জেলায়-আটটি শহরে রণতাণ্ডবে মেতেছে। আর বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে রাস্তায় নামলে যা হয়, হয় কোনো ব্যবসায়ী তাঁর গাড়ির ভেতরে অথবা রিকশাচালক তাঁর গাড়িসহ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাবেন। এবারও তা-ই হয়েছে। যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। একজন হতভাগ্য যাত্রী বাস থেকে নামতে না পেরে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। ঢাকায়ও একজন নিহত হয়েছেন। যথারীতি বিএনপির ফখর মির্জা দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তি বিএনপির কর্মী। পুলিশের গুলিতে সে মারা গেছে। ...
নতুন ইংরেজী বছর নিয়ে ভাবনা ও দুর্ভাবনা.
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৩/০৫/২০১২
ইংরেজী নববর্ষে সকলকেই আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। বছরটি কেমন যাবে তা জানি না। এগারো সালটি সারা বিশ্বের জন্যই ভাল যায়নি। বাংলাদেশের জন্য তো নয়ই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দুর্বিপাক তো ছিলই। তার ওপর একের পর এক আমাদের প্রিয় মানুষগুলোকে কেড়ে নিয়েছে এগারো সাল। কবীর চৌধুরীর মতো আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের বোধিবৃৰ, আবদুর রাজ্জাকের মতো মুক্তিযুদ্ধের একজন অগ্রসেনা, তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরের মতো প্রতিভা এই নিষ্ঠুর বছরটি কেড়ে নিয়েছে। বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে একদল শিশু। সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে অকালমৃত্যু ঘটেছে আমার অনুজপ্রতিম রাজনীতিক ও এঙ্ বুরোক্র্যাট ড. মহীউদ্দীন আলমগীরের যুবা পুত্রের। মন্ত্রী নানকপুত্র সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। কেউ আবার ঢাকার অদূরে পিকনিক করতে গিয়ে সদলে পুকুরে ডুবে মারা গেছে। এ ছাড়া আরও অনেক প্রবীণ ও নবীনজনের প্রাণ হনন করেছে নিষ্ঠুর ২০১১ সাল। ...
একদিকে হরতাল, অন্যদিকে দমননীতি কোন্ পথে দেশের মুশকিল আছান?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২২/০৫/২০১২
বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচন যদি যথাসময়ে হয়, তার দূরত্ব এখনও দেড় বছরের মতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে গ্যাঞ্জাম শুরু হয়েছে, তাতে দেশের পরিস্থিতি কোন্ দিকে গড়াবে, নির্বাচন যথাসময়ে হতে পারবে কিনা, হলে তার ফল কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে দেশের মাথাওয়ালা মানুষের মধ্যে তেমন মাথাব্যথা দেখছি না, যত মাথাব্যথা নির্বাচনে এবার কোন্ দল জয়ী হবে তা নিয়ে। এ মাসের গোড়ায় দিন আটেক ঢাকায় ছিলাম। যাদের সঙ্গেই দেখা হয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনের ফল সম্পর্কে একটা না একটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। আমি তাদের প্রশ্ন করেছি, নির্বাচন যে যথাসময়ে হবে, সে সম্পর্কে আপনারা কি নিশ্চিত? বেগম খালেদা জিয়া তো বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়া না হলে তিনি নির্বাচন হতে দেবেন না। অন্যদিকে আমাদের আমেরিকান প্রভুরা বলছেন, বিরোধী দলের যোগদান ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠান তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হতে পারবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই, অথচ আমরা সেই নির্বাচনের ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছি। এটা হচ্ছে ...
আবার ক্যু-চক্রান্ত, আবার একজন মেজর জিয়া?
কালের আয়নায়
সমকাল
২১/০৫/২০১২
ক্যু-চক্রান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য গত ২৮ ডিসেম্বর একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। এটা সেনাবাহিনীর একশ্রেণীর কর্মকর্তার অপরাধ সম্পর্কে সেনাবাহিনীর নিজস্ব তদন্ত। কিন্তু এই রাষ্ট্রদ্রোহী চক্রান্তের পেছনে যে অসামরিক অশুভ চক্র কাজ করেছে এবং এখনও করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন ও চক্রান্তের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার জন্য সরকারের উদ্যোগে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন এবং এই তদন্তের পর সঠিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই 'ক্যান্টনমেন্ট রাজনীতি'র হোতাদের, তারা যতই শক্তিশালী হোক বিচার ও শাস্তি হওয়া দরকার। বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক ...
'রেখেছ আওয়ামী করে, মানুষ করোনি'
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২১/০৫/২০১২
২৫ ডিসেম্বরের ক্রিসমাসের দিনটিতে সারা লন্ডন শহর অচল হয়ে পড়ে। বছরের এই একটি দিনে বাস, ট্রেন, টিউব কিছুই চলে না। প্রাইভেট কার রাস্তায় বেরোয়, তাও খুব কম সংখ্যায়। আমি প্রতিবছর এই দিনে বাসাতেই থাকি। ছেলেমেয়ে, নাতি নানা জায়গা থেকে বাসায় এসে জড়ো হয়। এবার ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ছোট মেয়ে ইন্দিরাও কয়েক দিনের জন্য ছুটি কাটাতে লন্ডনে ফিরে এসেছে। সে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছে। আমার স্ত্রী হুইলচেয়ারে বসে রান্নাবান্না করেন। আমি আমার প্রিয় সোফাটিতে বসে বই ও কাগজ পড়ি, রবীন্দ্রসংগীত শুনি, টেলিফোন রিসিভ করি। নইলে ঘুমাই। এবার আমার নতুন সঙ্গী জুটেছেন সুইডিশ লেখক স্টিগ লারসন (Stig Larsson)। মাত্র তিনটি থ্রিলার লিখে তিনি জগদ্বিখ্যাত। মারাও গেছেন আকস্মিকভাবে অল্প বয়সে। তাঁর বইগুলো নিয়ে সাড়া জাগানো ছায়াছবি হয়ে গেছে। ...
সরকার হার্ডলাইনে গিয়ে লাভবান হবে কি?
কালের আয়নায়
সমকাল
১৯/০৫/২০১২
বিরোধী দলের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে গিয়ে সরকার নিজেদের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ানো ছাড়া আর কোনো লাভেরই অধিকারী হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার যখন রাজনৈতিক শক্তি দ্বারা বিরোধী পক্ষকে মোকাবেলা করার বদলে ক্ষমতার লাঠি দ্বারা তাদের দমন করতে চায়, তখনই বুঝতে হবে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারা এখন একটি উইক গভর্নমেন্ট, মোটেই স্ট্রং গভর্নমেন্ট নয়। অতীতে বিএনপি সরকার এ ধরনের হার্ডলাইন ও দমননীতি দ্বারা ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ...
ভালো কাজ করতে গিয়ে মন্ত্রীদের শাস্তি পাওয়া উচি�
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১৮/০৫/২০১২
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নাকি পদত্যাগ করতে চান। বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সম্পর্কে এতকাল যে অনিয়ম ও নৈরাজ্য চলছিল, সেগুলো একটা সুষ্ঠু নিয়ম-রীতির ভেতরে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নিজের দল ও মন্ত্রিসভায়ই সমালোচিত হয়েছেন এবং তাঁর হাত থেকে এ সম্পর্কিত ক্ষমতা শিক্ষা উপদেষ্টার হাতে অর্পণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষামন্ত্রী মর্মাহত হয়েছেন এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্তও নাকি নিয়ে ফেলেছিলেন। খবরটা শোনার পর থেকে আমি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার কয়েক দফা চেষ্টা করেছি। তাঁকে ধরতে পারিনি। ফলে গোটা খবরটিই কতটা সত্য তা বুঝে উঠতে পারিনি। পরে ঢাকার কাগজের খবর ও লেখালেখি দেখে অন্য বন্ধুবান্ধবের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রী সম্পর্কে খবরটি সত্য। ...
সোহেল তাজ-নাটকের যবনিকাপাত কবে?
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১৫/০৫/২০১২
আমি যতদূর জানি, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুজনেই নাটক দেখতে ভালোবাসেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত শেখ হাসিনা বর্তমানে তাঁর শত ব্যস্ততার জন্য হয়তো নাটক দেখার তেমন সময় আর পান না। কিন্তু ছোট বোন শেখ রেহানা সময় ও সুযোগ পেলেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে নাটক দেখেন বলে শুনেছি। গত ৭ ও ৮ মে লন্ডনে শেকসপিয়রের গ্লোব থিয়েটারে নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর পরিচালনায় তাঁর দ্বারা রূপান্তরিত টেমপেস্ট নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। এই নাটকের সম্পূর্ণ রূপান্তর এবং যাত্রার ঢংয়ে নব আঙ্গিকে তাঁর পরিবেশনা ...
হিলারি ঢাকা থেকে কলকাতায় ছুটে গেলেন কেন?
কালের আয়নায়
সমকাল
১২/০৫/২০১২
মমতা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হবেন না কেন? মনমোহন সিংকে তিনি থোড়াই কেয়ার করেন। অন্য অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরসহ মনমোহন ঢাকা এসেছেন। মমতা আসেননি। সাফ না বলে দিয়েছেন। দিলি্ল বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি চুক্তি করতে চাইলে কী হবে, মমতা রাজি নন। তিনি এখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী না হলে কী হবে? তিনি ভারতের ফুয়েরার। পশ্চিমবঙ্গে তার সাবেক সমর্থকদের কেউ কেউ এখন বলছেন, তার চরিত্রে ...
হিলারি ঢাকা থেকে কলকাতায় ছুটে গেলেন কেন?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১১/০৫/২০১২
মমতা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হবেন না কেন? মনমোহন সিংকে তিনি থোড়াই কেয়ার করেন। অন্য অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরসহ মনমোহন ঢাকা এসেছেন। মমতা আসেননি। সাফ না বলে দিয়েছেন। দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি চুক্তি করতে চাইলে কী হবে, মমতা রাজি নন। তিনি এখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী না হলে কী হবে? তিনি ভারতের ফুয়েরার। পশ্চিমবঙ্গে তার সাবেক সমর্থকদের কেউ কেউ এখন বলছেন, তার চরিত্রে সব রকম ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বর্তমান হিলারি ও প্রণব প্রায় একই সময়ে ঢাকায় এসেছিলেন। আবার প্রায় একই সময় চলে গেছেন। তারা একই উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসেছিলেন কি-না এখনই বোঝা যাবে না। কিন্তু এই উদ্দেশ্য নিয়ে ঢাকা-দিলি্ল-কলকাতা ও ওয়াশিংটনে নানারকম কথাবার্তা চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন যেদিন ঢাকা আসেন (৫ মে, শনিবার) সেদিন সকালে আমি ঢাকা ত্যাগ করেছি। বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখেছি। দু'একটি স্পাই ডগও বিমানবন্দরে ঘোরাফেরা করেছে। ...
গোলাম আযমের দীর্ঘজীবন লাভ এবং তার কার্যকারণ
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৮/০৪/২০১২
লন্ডনে এখন বেশ কিছুদিন ধরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার দাবিতে জোর মিছিল মিটিং চলছে। এটা বেড়েছে ঢাকায় গোলাম আযম গ্রেফতার হওয়ার পর। গত ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর এক গণমিছিল আলতাফ আলী পার্কে বাংলাদেশের ভাষা শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এই মিটিং মিছিল অব্যাহত থাকে পরবর্তী দু'দিন ধরে। পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশের জামায়াতীরা এখন খুবই শক্তিশালী ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। ইস্ট লন্ডন মসজিদটি তাদের দখলে। টাওয়ার হ্যামলেটস বার কাউন্সিলও তারা এখন প্রকারান্তরে দখল করেছে। বাংলা মিডিয়াগুলোতেও তাদের শক্তিশালী অবস্থান। তাদের শক্তির মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অঢেল পেট্রো ডলার। অঢেল অর্থ ছড়িয়ে এবং অপপ্রচার চালিয়ে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটা বড় অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেও পেরেছে। ...
ফয়েজ, তুই যা আমিও আসছি
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৪/০৪/২০১২
এম আর আখতার মুকুলের মৃত্যুর পর ফয়েজ আহ্‌মদ লিখেছিলেন, 'মুকুল তুই যা, আমিও আসছি।' সেই প্রতিশ্রুতি এত দিনে পূরণ করলেন ফয়েজ। তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা গতবার যখন ঢাকায় এসেছিলাম, তখন। তখনই দেখেছিলাম জরাজীর্ণ শরীর। বলেছিলেন, 'তোর সংবর্ধনা সভায় এলাম গাড়ি পেয়েছি বলে। কে কখন চলে যাই ঠিক নেই। হয়তো এটাই শেষ দেখা।' তাঁর কথাই সত্য হলো। আমি সোমবারই (২০ ফেব্রুয়ারি) সিঙ্গাপুর থেকে মাত্র এক দিনের জন্য ঢাকায় পৌঁছেছি। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই জানলাম, ফয়েজ নেই। আমার চেয়ে বয়সে দুই-তিন বছরের বড় এই ফয়েজের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব সেই পঞ্চাশের দশক থেকে। তখনই তিনি শিশুসাহিত্যিক হিসেবে বিখ্যাত। তাঁর পত্রিকাটির নাম ছিল মাসিক হুল্লোড়। সম্ভবত সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম শিশু মাসিক ছিল এই হুল্লোড়। ...
বিএনপির কর্মসূচি আওয়ামী লীগ সরকারই সফল করে দিল
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৮/০৪/২০১২
হজরত নিজামউদ্দীন আউলিয়া (র.)কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি এত ভদ্রতা ও আদব-তমিজ শিখেছেন কার কাছ থেকে? তিনি জবাব দিয়েছিলেন, 'বেয়াদবের কাছ থেকে। বেয়াদব যা করে এবং বলে, আমি তার উল্টোটা করি ও বলি এবং এই উল্টো কাজই হচ্ছে আদব বা ভদ্রতা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক আচরণ কাকে বলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তা শিখতে পারত বিএনপি-জামায়াতের গত সরকারের আচরণ থেকে। অর্থাৎ খালেদা-নিজামীর সেই সরকার তখন যা করেছিল, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তার উল্টো কাজটি করে, তারা যে গণতান্ত্রিক সরকার এবং তাদের আচরণ যে গণতান্ত্রিক- এটার প্রমাণ দিতে পারত। বিএনপির ডাকা ১২ মার্চের সমাবেশের দিনটি আওয়ামী লীগ সরকারকে সেই সুযোগই দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারল না। তারা গত বিএনপি সরকারের কাজের অনুকরণ করতে গিয়ে তাদের অভিসন্ধিই সফল করে দিল। ...
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমঝোতা কি সম্ভব?
কালের পুরাণ
দেশে বিদেশে
০৭/০৪/২০১২
রাজনীতি নিয়ে আলোচনা এলেই যে প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে, তা হলো: রাজনীতিতে কি সুস্থধারায় ফিরে আসবে না? সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এই অসুস্থ লড়াই কি চলতেই থাকবে? মত ও পথের পার্থক্য সত্ত্বেও দেশের দুটি প্রধান দলের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে না? নেতা-নেত্রীরা কি একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়াতে থাকবেন? তাঁরা কি নতুন প্রজন্মের কাছে এর চেয়ে ভালো কোনো দৃষ্টান্ত রেখে যাবেন না? রাজনীতিতে আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চলমান, সেগুলো হলো: আগামী নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে কি না? না হলে কী হবে? হলেও কীভাবে হবে? সেই নির্বাচনের সময় কোন ধরনের সরকার ক্ষমতায় থাকবে? আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার, নাকি বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার? আবার কেউ কেউ তৃতীয় বিকল্পের কথাও বলছেন। ...
বিশ্ববেহায়া খেতাবটির উত্তরাধিকারী বর্তমানে কে হতে পারেন?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৫/০৪/২০১২
লন্ডনের এক তরুণ বাঙালী সাংবাদিকের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি জমজমাট আড্ডা। আমার বয়সী মানুষের সংখ্যা কম। চল্লিশের নিচের মানুষের সংখ্যাই বেশি। সকলকে যে চিনি এমনও নয়। জোর আড্ডা চলছে। তার মধ্যে তরুণ সাংবাদিক বন্ধুটি আমাকে বললেন, আমরা একটা বিষয় নিয়ে তর্ক করছি, এ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই। জিজ্ঞাসা করলাম, বিষয়টা কি? বন্ধুটি বললেন, বেশ কয়েক বছর আগে শিল্পী কামরুল হাসান তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে তখনকার প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেবের একটি কার্টুন এঁকে তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘বিশ্ববেহায়া।’ দেশে তা নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। বলেছি, বিষয়টা আমার মনে আছে। তা নিয়ে এতোদিন পর তর্কাতর্কি কেন? তরুণ সাংবাদিক বললেন, তর্কাতর্কি করছি না, বহু বছর আগে শিল্পী কামরুল হাসান একজনকে বিশ্ব বেহায়া খেতাব দিয়েছিলেন। আমাদের মনে হয়, এখন তার চাইতেও বড় বিশ্ব বেহায়া বাংলাদেশে আছে। ...
গোলাম আযম কি ভাষাসৈনিক ছিলেন?
কালের আয়নায়
দৈনিক সমকাল
১০/০৩/২০১২
গোলাম আযম ভাষাসৈনিক হলে ভাষাশহীদদের স্মরণে নির্মিত ঢাকার শহীদ মিনার বর্বরোচিতভাবে ভাঙার কাজে তার দল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের সহায়তা ও সমর্থন জোগাতে পারত না। কামান দেগে শহীদ মিনারটি ভাঙার পরই জামায়াতিরা ওই ভগ্ন ও বিধ্বস্ত শহীদ মিনারে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং শহীদ মিনারকে মসজিদ ঘোষণা করে সেখানে নামাজ পড়ার জন্য একত্র হতে শহরবাসীকে আমন্ত্রণ জানায়। শহীদ মিনারটিকে এভাবে শহীদ করার প্রয়াসের সময় গোলাম আযম কোথায় ছিলেন? ঢাকার দৈনিক ইত্তেফাকের ২২ ফেব্রুয়ারির সংখ্যাটি লন্ডনে আমার হাতে দেরিতে এসেছে। তাই ...
মিথ্যাচারের জবাবে (৪)
কাচের ঘরে বাস করে অন্যের ঘরে ঢিল মারতে নেই
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
০২/০৮/২০১১
মনস্তাত্তি্বকরা বলেন, কোনো মানুষ যখন চরম হীনম্মন্যতায় (inferiority complex) ভোগে, তখন তার মধ্যে শ্রেয়ম্মন্যতার (superiority complex) লক্ষণ দেখা দেয় এবং তার সম্পর্কে অন্য লোকে যে যা-ই ভাবুক, নিজেকে সে সুপারহিরো ভাবতে শুরু করে এবং সে নকল বাহাদুর সেজে বসে। যোগ্যতাহীন, মেধাহীন ব্যক্তিরা যখন সমাজে কদর পায় না, তার সমসাময়িক যোগ্য ব্যক্তিদের তুলনায় সম্মান ও কদর লাভ করে না, তখনই তাদের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। আমি মনস্তাত্তি্বক নই; কিন্তু বিবিসি রেডিওর (লন্ডন) বাংলা বিভাগের সাবেক স্টাফ সিরাজুর রহমানের লেখা ...
আরেকটি বিমানবন্দর কি দরকার?
কালের আয়নায়
কালের কণ্ঠ
০৫/০২/২০১১
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি আন্তর্জাতিক উন্নত বিমানবন্দর অবশ্যই দরকার। বর্তমানে সে প্রয়োজন হয়তো সাদা চোখে ধরা পড়বে না। কিন্তু পাঁচ কি দশ বছর পরেই মনে হবে, আমরা নিজেদের নির্বুদ্ধিতার জন্য ট্রেন মিস করেছি। মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিল এলাকায় একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক ও বিক্ষোভ আপাতত শেষ। সরকার গণঅসন্তোষের মুখে পরিকল্পনাটি থেকে পিছিয়ে এসেছে। তাতে গণঅসন্তোষের সমাপ্তি ঘটলেও অন্য স্থানে বিমানবন্দর নির্মাণ সংক্রান্ত বিতর্কটি শেষ হয়নি। ...
শেখ হাসিনার এবারের লন্ডন সফরের গুরুত্ব
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
০১/০২/২০১১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পাঁচ দিনব্যাপী লন্ডন সফর শেষ করে গত রবিবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকায় ফিরে গেছেন। তাঁর লন্ডনে আসার খবর যখন প্রথম প্রকাশ পায়, তখন মনে হয়েছিল তিনি দলীয় কাজে আসছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন এবং কর্মকর্তা নির্বাচন উপলক্ষেই তিনি লন্ডনে আসছেন বলে প্রচারিত হয়েছিল। গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল, নেতৃত্বহীনতা, রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ইত্যাদি কারণে যে অরাজক অবস্থা বিরাজ করছিল, তাতে দলের সভানেত্রী হিসেবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনে ...
ক্ষমতাসীন দল জনপ্রিয়তা নয় ক্রমশ বিশ্বাসযোগ্যত
কালের আয়নায়
সমকাল
২৯/০১/২০১১
আওয়ামী লীগকে আগামী তিন বছরে দেশবাসীর কাছে একথা প্রমাণ করতে হবে যে, তারা সুশাসন উপহার দিতে সক্ষম। একমাত্র তাহলেই তারা তাদের সম্পর্কে জনসাধারণের নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে পারবেন। হবিগঞ্জে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় সংসদের দুই আসনের ফল জেনে একদিকে দুঃখিত হয়েছি, অন্যদিকে খুশিও হয়েছি। দুঃখিত হয়েছি প্রয়াত জননেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী যে হবিগঞ্জ আসনে এতকাল সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগ সে আসনটি হারানোর ফলে। আর খুশি হয়েছি এই নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হওয়ায়। নির্বাচন কমিশনও সে কথা বলেছে। তারা বলেছেন, ...
নেপোলিয়ন ও তাঁর জ্যোতিষীর গল্প : প্রেক্ষিত বাংল
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২৫/০১/২০১১
আমার বয়ঃকনিষ্ঠ এক রাজনীতিক এবং কলামিস্ট বন্ধু একসময় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার খুবই কাছের মানুষ ছিলেন। এককালে তিনি বাম রাজনীতি করতেন। ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে তাঁর দৃষ্টি ছিল স্বচ্ছ। শেখ হাসিনাকে তিনি নানা ধরনের পরামর্শ দিতেন। শেখ হাসিনা তাঁর সবটাই শুনতেন তা নয়, কিন্তু তাঁর পরামর্শকে গুরুত্ব দিতেন। ফলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলে ...
এক-এগারোর আবির্ভাবকে জুজুর আতঙ্কে পরিণত করেছি
কালের আয়নায়
সমকাল
১১/১২/২০১০
১৯৭৫ সালে দেশে যে ট্র্যাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো হয়, তারপর থেকে সামরিক বাহিনী এবং সুশীল সমাজের একটা বড় অংশকে বিতর্কিত ভূমিকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। সামরিক বাহিনীর অনেক নেতা দেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক গৃহযুদ্ধকে নিজেদের ক্ষমতা দখলের কাজে লাগিয়েছেন 'ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখে ডরায়' বলে বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থা থেকে স্বাধীন হওয়ার পরও বারবার সামরিক শাসন দ্বারা নিপীড়িত ও নির্যাতিত হওয়ায় এ দেশের মানুষের মনে এই শাসন সম্পর্কে ...
ষোল ডিসেম্বর কি সত্যই আমাদের সফল এবং সম্পূর্ণ ব
কালের আয়নায়
সমকাল
০৪/১২/২০১০
একাত্তরের অসমাপ্ত বিপ্লব সমাপ্ত এবং ১৬ ডিসেম্বরের অসম্পূর্ণ বিজয়কে সম্পূর্ণ করতে হলে কেবল নিজের নেতৃত্বের ক্যারিশমা এবং দল বা সরকারের শক্তির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। তাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে সংহত ও ঐক্যবদ্ধ করে সংগ্রামে নামতে হবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে লরেন্স লিফটসুজ গ্রন্থে তার অসমাপ্ত বিপ্লব (টহভরহরংযবফ জবাড়ষঁঃরড়হ) আখ্যা দিয়েছেন। যে বিপ্লব সমাপ্ত হয়নি, তার বিজয় অর্জনও সমাপ্ত হওয়ার কথা নয়। সুতরাং লরেন্স লিফটসুজের মতের সঙ্গে আমরা যারা সহমত পোষণ করি তাদের ধারণা, প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে যে ...
সমস্যা ও সংকট উত্তরণে আওয়ামী লীগের কাছে এখন প্
কালের আয়নায়
সমকাল
২৭/১১/২০১০
শুধু তৃণমূল নেতাদের জন্য টেবিল টকসর্বস্ব কর্মশালার ব্যবস্থা নয়, এই কর্মশালায় সাধারণ নেতাকর্মীদের দ্বারা উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং সময় থাকতে তার প্রতিকার ব্যবস্থা গ্রহণ আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডে এখন প্রায়োরিটি পাওয়া উচিত গত ৫ নভেম্বর শুক্রবার ঢাকায় গণভবনে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের কর্মশালার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৃণমূল নেতাদের নানা প্রশ্ন এবং অভাব-অভিযোগের কোনো কোনোটার জবাব দিয়েছেন। অন্যদিকে পরদিন ৬ নভেম্বর শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল নেতাদের কাছে লিখিত প্রশ্ন জমা দেওয়ার অনুরোধ জানালে কমপক্ষে ২৫ জন নেতা লিখিত প্রশ্ন জমা দেন এবং তার জবাব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দেশের রাজনীতিতে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পেঁৗছে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের এই ধরনের কর্মশালার অনুষ্ঠান অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কিন্তু কেবল কর্মশালা করাই নয়, কর্মশালায় আলোচনার ভিত্তিতে দলের কর্মসূচি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের ত্বরিত ব্যবস্থা হওয়া উচিত। ...
শেলী ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি সবিনয় নিবেদন
কালের আয়নায়
সমকাল
০৯/১০/২০১০
স্বাধীন বাংলার বয়স এখন ৪০ বছরও হয়নি। এরই মধ্যে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারী শাসনের বারম্বার আঘাতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেমন ভেঙেছে, তেমনি আর্থসামাজিক ব্যবস্থা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, দক্ষতা, যোগ্যতা সবকিছুই ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু এই সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন যা পারেনি তা হলো, এই গরিব ও অনুন্নত দেশটির মানুষের দুর্জয় মনোবল ও অধিকার স্পৃহা ভেঙে দিতে শ্রদ্ধেয় শেলী ভাই, দেশের সব মানুষের কাছে আপনি বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান নামে পরিচিত এবং বাংলাদেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সফল প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও খ্যাত ও ...
মানভঞ্জনের নয়, পারস্পরিক স্বার্থে মৈত্রী ও সম্প
কালের আয়নায়
সমকাল
০৪/০৯/২০১০
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সম্ভবত এ মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। কলকাতার 'আনন্দবাজার' পত্রিকার যে খবরটি ঢাকার কাগজগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, অনেকটা বাংলাদেশের মানভঞ্জনের জন্যই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই বাংলাদেশ সফর। এর আগে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মনমোহন সিং ঢাকায় এসেছিলেন। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছরে তিনি একবারও দ্বিপক্ষীয় সফরে ঢাকায় আসেননি। এটাই নাকি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিমান। 'আনন্দবাজার' পত্রিকার মতে, এই মান ভাঙানোই মনমোহন সিংয়ের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ...
নিজেদের সৃষ্ট ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মুখোমুখি এখন
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
৩১/০৮/২০১০
'একুশ শতকের জন্য নতুন ভাবনা' (New ideas for the 21st century) নাম দিয়ে পশ্চিমা জগতে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও পলিটিক্যাল সাইনটিস্ট স্যামুয়েল হান্টিংটনের ক্লাস অব সিভিলাইজেশনের থিওরিটি 'কালচার ওয়ার' নাম দিয়ে আবার নতুন করে প্রচার করা শুরু করেছেন। ওয়াশিংটনে গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব, সম্প্রতি মরক্কো থেকে আমেরিকান মিশনারিদের বহিষ্কার, সুইজারল্যান্ডে মসজিদের মিনার নির্মাণে এবং ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের বোরকা পরিধানে নিষেধাজ্ঞা_এসবই কালচার ওয়ারের নিদর্শন বলে প্রচার শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধটা প্রধানত ইসলাম ও খ্রিস্টান ওয়েস্টের মধ্যে চলছে বলা হচ্ছে। ইসরায়েলকে বা ইহুদিদের এই যুদ্ধে ইসলামের বিরুদ্ধে সামরিক ফ্রন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। ...
সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হওয়াই যেন দেশের জন্য শ
কালের আয়নায়
সমকাল
২৮/০৮/২০১০
ফ্রান্সের দুর্ভেদ্য ম্যাজিনো লাইন দেশটাকে নাৎসি জার্মানির আক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারেনি। তেমনি বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের রায়গুলোও অশুভ শক্তির অবৈধ কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি রোধের কোনো গ্যারান্টি নয় সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীও দেশের উচ্চ আদালত অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। অর্থাৎ জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সামরিক আইন বলে তার দেশ শাসন এবং তৎকালীন সমস্ত বিধিবিধান অর্ডিন্যান্স অবৈধ বলে ঘোষিত হলো। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী দ্বারা জেনারেল এরশাদ তার এই ক্ষমতা দখল এবং ক্ষমতা দখলের পরবর্তী চার বছরের ...
বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা (২০১০) এবং বঙ্গভবনের ভ
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২৪/০৮/২০১০
ঢাকার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ (বিএফডিআর) আকারে-প্রকারে হয়তো একটি ছোট সংগঠন। কিন্তু তার সাফল্য ও অবদান অনেক বড়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও অনেক আর্থিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি এক-দেড় দশক যাবৎ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাহাত্তরের সংবিধানের আদর্শ ও প্রেরণা এবং বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সেক্যুলার রাষ্ট্র সাধনার ওপর গবেষণাপ্রসূত যেসব তথ্য-উপাত্ত (বই, ছবি, মানচিত্র ও সিডি, ডিভিডির মাধ্যমে) প্রকাশ এবং দেশে-বিদেশে প্রচার করেছে তার কোনো তুলনা নেই। দেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ক্ষমতায় বসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা নির্মম ...
কেবল সংবিধান সংশোধন দ্বারা অবৈধ ক্ষমতা দখল ঠেক
কালের আয়নায়
সমকাল
৩১/০৭/২০১০
বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীও অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রেখেছেন। এসবই দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইতিবাচক দিক। নানা আর্থ-সামাজিক সমস্যা দেশে এখনও জট পাকানো অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি মৌলিক ব্যাপারে বর্তমান হাসিনা সরকারের আমলে যে সুবাতাস বইছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকার এবং মহামান্য আদালতকেও অভিনন্দন জানাতে হয়। আমাদের জাতীয়তার (হধঃরড়হধষরঃু) ব্যাপারেও সামরিক ও সাম্প্রদায়িক চক্রের দ্বারা সৃষ্ট সব উদ্দেশ্যমূলক বিতর্কের এখন অবসান হওয়া উচিত। পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা বহাল রাখতে গিয়ে আদালত জাতীয়তা প্রসঙ্গে যে রায় দিয়েছেন, তা নিয়ে মহলবিশেষ পানি ঘোলা করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট, আমাদের হধঃরড়হধষরঃু বা জাতীয়তার ভিত্তি বাঙালি পরিচয়। কিন্তু আমাদের নাগরিক পরিচয় (পরঃরুবহংযরঢ়) বাংলাদেশি। যেমন গ্রেট ব্রিটেনের মানুষ জাতি পরিচয়ে কেউ ইংলিশ, কেউ আইরিশ, কেউ স্কটিশ বা অন্য কিছু। কিন্তু সবার নাগরিক পরিচয় ব্রিটিশ। ...
একাত্তরের রাজাকার আলবদরদের নয়া স্পোকসম্যান-২
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২৭/০৭/২০১০
একাত্তরের রাজাকার-আলবদরদের নয়া স্পোকসম্যান (২) গত সপ্তাহের কালের কণ্ঠে 'একাত্তরের রাজাকার-আলবদরদের নয়া স্পোকসম্যান' শীর্ষ আমার লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, ভারত, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, কাতার, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন শহর, এমনকি সুদূর নাইজেরিয়া থেকেও বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পেয়েছি। এত রেসপন্স পাব তা আগে ভাবতে পারিনি। সবারই এক কথা, একাত্তরের রাজাকার-আলবদর এবং তাদের নব্য কোলাবরেটরদের অবিরাম মিথ্যা প্রচারের সমুচিত জবাব দেওয়া উচিত এবং আমার লেখাটি তাদের এই প্রত্যাশা যৎকিঞ্চিৎ পূর্ণ করেছে। এই পাঠকদের একটি বড় অভিযোগ এই যে, আওয়ামী লীগ অনেক ভালো কাজ করেও তাদের প্রচার ও মিডিয়া শক্তি অত্যন্ত দুর্বল বিধায় জনসাধারণের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে পারে না। ...
গউস খান মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর যিনি জনস্মৃতিতে ফির
কালের আয়নায়
সমকাল
২৪/০৭/২০১০
গউস খান একটি বিস্মৃতপ্রায় নাম। ত্রিশ বছর আগে ১৯৮০ সালে লন্ডনে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তার নামটি বিস্মৃতপ্রায় হলেও তিনি যে প্রকৃতই বিস্মৃত হননি তার প্রমাণ, ত্রিশ বছর পর লন্ডনে গউস খান নাগরিক স্মৃতিরক্ষা কমিটি, যুক্তরাজ্য কর্তৃক তার ত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের জন্য এ মাসেই একটি বড় রকমের আয়োজন করা। এ উপলক্ষে যে স্মরণিকা প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত রাজনৈতিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বাণী দিয়েছেন। ব্রিটেনের এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গউস খানের স্মৃতিতর্পণ করে এই স্মরণিকা গ্রন্থে লিখেছেন। মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর আবার বেঁচে ওঠা কম কথা নয়। যাদের 'মৃত্যুহীন প্রাণ' তারাই এটা পারেন। কত বড় বড় নেতা, বুদ্ধিজীবী মৃত্যুর দশ বছর না যেতেই বিস্মৃতির অতলে চিরকালের জন্য তলিয়ে যান। সেখানে গউস খান 'মৃত্যুহীন প্রাণ' না হলে মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর আবার তার স্বজাতির স্মৃতিতে ফিরে আসতে পারতেন না। ১৯৮০ সালে তার মৃত্যুসংবাদ শুনে ব্রিটিশ লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা, এমপি ও মন্ত্রী এবং 'বাঙালির বন্ধু' নামে ...
আজ তেসরা জুলাই : এরই পুনরাবৃত্তি কি পনেরোই আগস্ট
কালের আয়নায়
সমকাল
০৩/০৭/২০১০
গাছে যেমন পুরনো পাতা ঝরে যায় এবং নতুন পাতা গজায়, ইতিহাসেও তেমনি অনেক স্মরণীয় দিন ঝরে যায়, সেখানে নতুন স্মরণীয় দিন এসে যুক্ত হয়। তেসরা জুলাইও আমাদের জাতীয় জীবনের, জাতীয় ইতিহাসের তেমনি একটি স্মরণীয় দিন ছিল, যা বহুকাল ধরে বিস্মৃত। তেসরা জুলাইয়ের এই ট্র্যাজিক দিনটিকে পনেরোই আগস্টের আরেকটি মহাট্র্যাজিক দিন এসে ঢেকে দিয়েছে। ১৭৫৭ সালের তেসরা জুলাই এবং ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্টের ন্যাশনাল ট্র্যাজেডির মধ্যে সাদৃশ্য এত বেশি যে, অনেক সময় বিস্মিত হয়ে ভাবতে হয়, দুটি ঘটনার একটি আরেকটির পুনরাবৃত্তি কি-না? একই চরিত্রের লোক দ্বারা দুটি ঘটনাই সংঘটিত হয়েছে কি-না? আজ ২০১০ সালের ৩ জুলাই। আগের দিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দিনটির কথা মনে পড়েছে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন হয়েছিল পলাশীর যুদ্ধ আর দশ দিন পর ৩ জুলাই তারিখে ষড়যন্ত্র দ্বারা পরাভূত বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে অন্ধ বন্দিশালায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পাকিস্তান আমল থেকে এ দিনটি আর পালন করা হয় না। কিন্তু ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ...
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কি সত্যই রাজনীতিকদে
কালের আয়নায়
সমকাল
২৯/০৫/২০১০
ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এককালের ডাকসাইটে সচিব এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের একজন স্পষ্টবাদী নেতা। ওয়ান-ইলেভেনের সময় দারুণ নির্যাতন ভোগ করেছেন। মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং সেক্যুলার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে সমর্থন জানাতে গিয়ে বলতে গেলে তার গোটা পরিবারটিই দীর্ঘকাল ধরে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও সরকারের হাতে নানা ধরনের অকথ্য নির্যাতন ভোগ করেছে কিন্তু মাথানত করেনি। আলমগীরের একেবারে বড় ভাই ছিলেন আওয়ামী লীগদলীয় এমপি। তার ছোট ড. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর দেশের একজন প্রথিতযশা প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী। আমি তার কলেজ জীবনের সহপাঠী হিসেবে গৌরব অনুভব করি। ...
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কি সত্যই রাজনীতিকদে
কালের আয়নায়
সমকাল
২৯/০৫/২০১০
ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এককালের ডাকসাইটে সচিব এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের একজন স্পষ্টবাদী নেতা। ওয়ান-ইলেভেনের সময় দারুণ নির্যাতন ভোগ করেছেন। মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং সেক্যুলার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে সমর্থন জানাতে গিয়ে বলতে গেলে তার গোটা পরিবারটিই দীর্ঘকাল ধরে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও সরকারের হাতে নানা ধরনের অকথ্য নির্যাতন ভোগ করেছে কিন্তু মাথানত করেনি। আলমগীরের একেবারে বড় ভাই ছিলেন আওয়ামী লীগদলীয় এমপি। তার ছোট ড. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর দেশের একজন প্রথিতযশা প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী। আমি তার কলেজ জীবনের সহপাঠী হিসেবে গৌরব অনুভব করি। এদেরই ভ্রাতুষ্পুত্র ড. মুনতাসীর মামুন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ (ইতিহাসবিদ), লড়াকু কলামিস্ট, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনের একজন সর্বাধিক সোচ্চার মুখপাত্র এবং সাবেক বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বারবার নির্যাতন ভোগকারী বুদ্ধিজীবী। ...
নিজামী-মুজাহিদদের ইতিহাস চুরির চাতুর্য (২)
কালের আয়নায়
সমকাল
২৪/০৪/২০১০
গত সপ্তাহে সমকালে প্রকাশিত 'ইতিহাস চুরিতে জামায়াতিদের চাতুর্য' সম্পর্কিত আমার লেখাটি অসমাপ্ত ছিল। এই সপ্তাহখানেকের মধ্যে অসংখ্য পাঠকের টেলিফোন ও ফ্যাক্সবার্তা পেয়েছি, যেন লেখাটি অসমাপ্ত না রাখি এবং দরকার হলে আরও দু'এক কিস্তি বাড়িয়ে লিখি। পাঠকদের এই অনুরোধের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। জামায়াতিদের সব গোমর ফাঁক করতে হলে অবশ্যই কয়েক কিস্তির একটি লেখা দরকার। ভবিষ্যতে তা লেখার ইচ্ছা আমার আছে। আপাতত তাদের ইতিহাস চুরি ও ইতিহাস-জালিয়াতির একটা দিক নিয়েই আজকের লেখাটির ইতি টানব। ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম লীগ নেতা জিন্নাহ তার দলকে তিনটি মূলমন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। ...
নিজামী-মুজাহিদদের ইতিহাস চুরির চাতুর্য
কালের আয়নায়
সমকাল
১৭/০৪/২০১০
ব্রিটিশ আমলে মিস মেয়ো নামে এক ইংরেজ ভদ্রমহিলা (?) যখন উপমহাদেশের সব ধর্মগোত্রের মানুষের চরিত্রে জঘন্য কলঙ্ক আরোপ করে একটা বই লিখেছিলেন, তখন মহাত্মা গান্ধী তাকে খেতাব দিয়েছিলেন ড্রেন ইনস্পেক্ট্রেস (নর্দমা পরিদর্শনকারিণী)। অবিভক্ত বাংলার বিখ্যাত সাংবাদিক সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, 'দিনে-দুপুরে পুুকুর চুরি করা যায় শুনেছি, কিন্তু ইতিহাস চুরি করা যায় বলে শুনিনি। মিস মেয়োর বই পড়ে মনে হয়, তিনি ইতিহাসও চুরি করতে জানেন।' সত্যেন মজুমদার জানতেন, ইতিহাস চুরি করতে হলে যে চুরি করে তার পেটে কিছু বিদ্যা-বুদ্ধি থাকতে হয়। ...
নিজামী-মুজাহিদদের ইতিহাস চুরির চাতুর্য
কালের আয়নায়
সমকাল
১৭/০৪/২০১০
ব্রিটিশ আমলে মিস মেয়ো নামে এক ইংরেজ ভদ্রমহিলা (?) যখন উপমহাদেশের সব ধর্মগোত্রের মানুষের চরিত্রে জঘন্য কলঙ্ক আরোপ করে একটা বই লিখেছিলেন, তখন মহাত্মা গান্ধী তাকে খেতাব দিয়েছিলেন ড্রেন ইনস্পেক্ট্রেস (নর্দমা পরিদর্শনকারিণী)। অবিভক্ত বাংলার বিখ্যাত সাংবাদিক সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, 'দিনে-দুপুরে পুুকুর চুরি করা যায় শুনেছি, কিন্তু ইতিহাস চুরি করা যায় বলে শুনিনি। মিস মেয়োর বই পড়ে মনে হয়, তিনি ইতিহাসও চুরি করতে জানেন।' সত্যেন মজুমদার জানতেন, ইতিহাস চুরি করতে হলে যে চুরি করে তার পেটে কিছু বিদ্যা-বুদ্ধি থাকতে হয়। সেকালে সেটা ইংরেজ লেখিকা মিস মেয়োর ছিল। কিন্তু একালে সত্যেন মজুমদার যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে দেখতেন বাংলাদেশ নামে উপমহাদেশেরই এক স্বাধীন ভূখণ্ডে অজ্ঞ ও মূর্খরাই কীভাবে সামান্য ইতিহাস-জ্ঞানকেও পাত্তা না দিয়ে নির্বিবাদে ইতিহাসের সত্য চুরি করছে এবং নিজেরা ইতিহাস তৈরি করছে। সে সঙ্গে ধর্ম্য ব্যবসায়ীরা কীভাবে সে ইতিহাস চুরিকে তাদের অসৎ ধর্ম ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতির কাজে লাগাতে চাচ্ছে। ...
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ এবং রাজনীতিতে ন
কালের আয়নায়
সমকাল
১০/০৪/২০১০
আমার অনুজপ্রতিম রাজনীতিক এবং কলামিস্ট নূহ-উল-আলম লেনিন সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাকে তার একটি নিবন্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশের রাজনীতিতে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এই নিম্নচাপ থেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় দেখা দিতে পারে। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান। আমি লেনিনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করি। দেশ থেকে বহুদূরে লন্ডনে বসেও দেখছি, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য দেশি-বিদেশি চক্রান্ত জোট বাঁধছে। এ ব্যাপারে লন্ডনের পাকিস্তানি কূটনীতিকদের তৎপরতা প্রায় প্রকাশ্য। ...
সামরিক শাসন ও ওয়ান-ইলেভেন এবং বিএনপি-জামায়াতের
কালের আয়নায়
সমকাল
২০/০৩/২০১০
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা ব্যাপার বেশ লক্ষণীয়। এই দেশে যতবার সামরিক শাসন এসেছে বঙ্গবন্ধু হত্যা থেকে চার জাতীয় নেতা হত্যা বা পরবর্তীকালের শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, আইভি রহমানসহ যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার কোনোটারই নিন্দা জানায়নি বিএনপি ও জামায়াত। স্বতন্ত্রভাবে নয়, জোটবদ্ধভাবেও নয়। এমনকি কবি শামসুর রাহমানের মতো দেশের একজন প্রধান কবির ওপর যখন মৌলবাদীরা ছুরি হামলা চালায় এবং কবিপত্নীর সাহসিকতার জন্য কবির প্রাণ রক্ষা পায়, তখনও প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, 'ওর (কবি) ওপর আবার আক্রমণ চালাবে কে? এটা নাটক করা হচ্ছে।' হুমায়ুন আজাদ ছিলেন একজন জাত-বুদ্ধিজীবী। আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা থেকেও তিনি পিছপা হতেন না। তাকে যখন হিংস্র মৌলবাদীরা নৃশংসভাবে চুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করে এবং তিনি গুরুতরভাবে আহত হন (এই হামলায় তখনকার মতো বেঁচে গেলেও তারপর বেশিদিন তিনি বাঁচেননি), তখন খবরটা শুনে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যাত্রাবাড়ীতে ভাষণদানকালে বলেছিলেন, 'এই লেখককে ছুরি মেরেছে আওয়ামী লীগাররা। ...
সাত মার্চের মহাকাব্য এবং তার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসি
কালের আয়নায়
সমকাল
০৭/০৩/২০১০
সাত মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক আবাহনী দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রমনার ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতির ডাক দিয়েছিলেন। অনেকে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে আমেরিকার গেটিসবার্গে দেওয়া প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের বিশ্ববিখ্যাত ভাষণটির সঙ্গে তুলনা করেন। লিঙ্কনের বলা_ 'এ গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল' আজ যেমন সারাবিশ্বের গণতান্ত্রিক চেতনার মর্মবাণী, তেমনি ঢাকায় সাত মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবের বলা_ 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' কথাটিও আজ সারা দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের কাছে মুক্তিমন্ত্রতুল্য। বাংলাদেশের কবি নির্মলেন্দু গুণ শেখ মুজিবের সাত মার্চের ভাষণকে বলেছেন একটি মহাকাব্য। আর সেই মহাকাব্যের মহাকবি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কবি গুণের কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে কবি অভিহিত করার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকার মতো কাগজে। কাগজটি শেখ মুজিবকে নাম দিয়েছিল 'এ পোয়েট অব পলিটিক্স'। ...
একুশের ভাবনা : বাংলাভাষা কি আরেকটি চ্যালেঞ্জের
কালের আয়নায়
সমকাল
২১/০২/২০১০
দীর্ঘ দু'মাস স্বদেশে কাটিয়ে লন্ডনে ফিরেছি ষোল ফেব্রুয়ারি তারিখে। ১৯৭৪ সালে বিদেশে চলে আসার পর এত দীর্ঘ সময় আর দেশে কাটাইনি। কিছুটা সময় অসুখে ভোগায় সব কাজ শেষ করতে পারিনি। তবে তিনটা বড় কাজ এ সময় সারতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধুর ওপর ছবি করার প্রি-প্রোডাকশন স্টেজের অনেকটা কাজ সেরেছি। ঢাকায় রোকেয়া স্মারক বৃক্ততা দিয়েছি। উত্তরবঙ্গে (বগুড়া ও রংপুরে) গিয়ে পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটার ভগ্নাবশেষ দেখেছি এবং মহাস্থানগড়ে ঘুরেছি। স্বদেশে সম্মান পেয়েছি যথেষ্ট, যা আমার প্রাপ্য নয়। রংপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মাননা পেয়েছি। গার্লস কলেজের নামফলক উন্মোচন করেছি। সবচেয়ে বড় সম্মান পেয়েছি বাংলা একাডেমীতে। ...
এই খুনিদের ফাঁসি সারা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও গণত
কালের আয়নায়
সমকাল
৩০/০১/২০১০
গান্ধী-হত্যার পর ভারতে গান্ধী-রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিরোধী রাজনৈতিক দল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (অবিভক্ত) বাংলা মুখপত্র দৈনিক 'স্বাধীনতা'র প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত সম্পাদকীয়ের শিরোনাম ছিল_ 'বজ্রের কাছ থেকে ধ্বনি কেড়ে নেহরু বলো, গান্ধীজির হত্যাকারীর ক্ষমা নেই।' বর্ষীয়ান সাংবাদিক সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার তার কলামে লিখেছিলেন, 'হে ইতিহাস-বিধাতা, তোমার কাছে আজ আমি এটি প্রার্থনায় প্রণত, ভারতকে তুমি বাপুজি হত্যার কলঙ্ক থেকে মুক্ত কর।' ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে গান্ধীর মতো বঙ্গবন্ধুকে একা নয়, যখন সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে ইতিহাসের এ নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়নি বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীর কণ্ঠে। ঘাতক শক্তির ক্ষমতা দখলে তারা ভীত, নির্বাক ছিলেন। সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধুর নাম ও ছবি দীর্ঘকাল অনুপস্থিত ছিল। মনে হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম বুঝি আর কখনও উচ্চারিত হবে না। ইতিহাস থেকে তাকে বুঝি চিরতরে মুছে ফেলা হলো। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আমার একেক সময় মনে হতো, আমার জীবদ্দশায় হয়তো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার দূরের কথা, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ...
মতিঝিলের যুদ্ধ : একটি পোস্টমর্টেম
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০৭ মে, ২০১৩
অল কোয়ায়েট অন দ্য মতিঝিল ফ্রন্ট (?) পাঁচই মে রাত একটায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি (সামরিক বাহিনীর সাহায্য দরকার হয়নি) অ্যাকশন শুরু করে; এক ঘণ্টার মধ্যে মতিঝিল চত্বর সাফ। আমি ৫ মে সকালে ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে গিয়েছিলাম। কিন্তু সর্বক্ষণ চোখ ছিল টেলিভিশনের (বাংলাদেশের) খবরের দিকে। কার্ডিফে বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভায় বক্তৃতা দিয়েছি আধঘণ্টার মতো। কিন্তু সভায় জমায়েত মানুষের সঙ্গে উদ্বিগ্ন রয়েছি বাংলাদেশের খবরের জন্য। মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ যখন সংবাদ সম্মেলন ডেকে হেফাজতিদের তাদের প্রতিশ্রুতিমতো ...
সাভার ট্র্যাজেডির পর দেশের রাজনীতিতে বিতর্ক ও ধাঁধা
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
৩০ এপ্রিল, ২০১৩
৪৩ বছর আগের কথা। পাকিস্তানি জমানার শেষ বছর। ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাস। সামনেই সেই ঐতিহাসিক নির্বাচন। শীতের মৌসুম। পূর্ব পাকিস্তানে প্রাকৃতিক ঝড়-বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই এই মৌসুমে। আর তখনই ইসরাফিল ফেরেশতা যেন তাঁর প্রচণ্ড প্রলয়ের বাঁশিটি বাজালেন। ভয়াবহ সাইক্লোন আর সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলবর্তী জেলাগুলোয় এক রাতে মারা গেল ১০ লাখ মানুষ। শোকার্ত মানুষের আহাজারিতে সারা দেশের আকাশ-বাতাস ছেয়ে গিয়েছিল। আমি এ সময় ঢাকার অবজারভার হাউসের বাংলা দৈনিক 'পূর্বদেশে' সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করি। প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে সারা দেশের লণ্ডভণ্ড ...
বৈশাখী আন্দোলন এবং তার তাৎপর্য
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
১৬ এপ্রিল, ২০১৩
লন্ডনে বহু দিন পর একটা সুন্দর দিনের সাক্ষাৎ পেয়েছি। দিনটা রবিবার। তারিখটা বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪২০ সনের পহেলা বৈশাখ। ইংরেজি ২০১৩ সালের ১৪ এপ্রিল। এবার শুধু লন্ডনে বা ব্রিটেনে নয়, সারা ইউরোপে বেজায় ঠাণ্ডা আর বরফ পড়েছে। সূর্যের মুখ কত দিন দেখিনি, তা হিসাব করে বলতে হবে। মাঝেমধ্যে দু-এক দিন আচমকা দেখেছি বটে, তা সলাজ নববধূর আচমকা মুহূর্তের জন্য ঘোমটা খোলার মতো। কিন্তু লন্ডনে পহেলা বৈশাখ রবিবার দিনটা এবার সত্যি স্বর্ণোজ্জ্বল, সারা দিন রোদের কণা যেন সোজা হয়ে ছড়িয়েছে ...
আন্দোলনের নামে দুর্বৃত্তপনা এবং সরকারের করণীয়
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। গণসমর্থন-বঞ্চিত আন্দোলন সব সময়ই পথভ্রষ্ট হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশটিকে অশুভ অরাজক অবস্থার দিকে টেনে নিতে চায়। ব্রিটিশ আমলে মহাত্মা গান্ধীও যখন দেখতেন, তার কোনো আন্দোলন তেমন গণসমর্থন আদায়ের বদলে হিংসা ও রক্তপাত ঘটাচ্ছে, তখন সেই আন্দোলন বন্ধ করে দিতেন। সেই সময় চৌরিচেরিতে সহিংস ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে গান্ধীজী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশেও বর্তমানে ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন ছোট-বড় শহরে গাড়ি দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে প্রত্যহই যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, তাতে জনসমর্থন ও জনসহানুভূতি কিছুমাত্র নেই, তা প্রমাণ হয়ে গেছে। জনসমর্থন না থাকাতেই অতীতেও জামায়াত খুন-খারাবির ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছে, শিরকাটা, রগ কাটার রাজনীতি করেছে। বর্তমানেও অনুরূপভাবে গাড়িতে, রাজপথে চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিসংযোগ, পাবলিক প্রপার্টি ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এবারের উদ্দেশ্য, দেশময় অরাজকতা সৃষ্টি করে '৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তিদান বানচাল করা। ...
ছয় দফা দেওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু কি তৃতীয় সারির নেতা ছিলেন?
কালের আয়নায়
কালের কণ্ঠ
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
ঢাকার এক সাংবাদিক বন্ধু (যিনি নিজেও কলামিস্ট) আমাকে কয়েকদিন ধরেই টেলিফোনে প্রশ্ন রাখছেন, দেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে অনভিপ্রেত বিতর্কটি সৃষ্টি করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আপনি নীরব কেন? আমি তাকে বলেছি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে কোনো উদ্দেশ্যেই বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা এখন অহেতুক এবং অনর্থক। ইতিহাস বঙ্গবন্ধুকে এমন একটি স্থানে প্রতিষ্ঠাদান করেছে, সেখান থেকে তার অবস্থান নড়ানো অসম্ভব। একমাত্র মূর্খরাই এই চেষ্টা চালাতে পারে। সাংবাদিক ও কলামিস্ট বন্ধুকে আরও একটি কথা বলেছি, প্রত্যেক সভ্য এবং আত্মমর্যাদাসচেতন জাতিরই ঐক্য ও সংহতির একটা সূত্র ...
তিনি আমাদের ডা. বিধান রায় হতে পারতেন
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২৯ জানুয়ারি ২০১৩
জাতীয় অধ্যাপক ও দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসাবিদ ডা. নুরুল ইসলাম প্রয়াত হয়েছেন। আশি-ঊর্ধ্ব বয়সের এই মৃত্যুকে অনেকেই পরিণত বয়সের মৃত্যু বলবেন। কিন্তু এই মৃত্যু শুধু আমাদের চিকিৎসাজগতে নয়, সমাজজীবনেও কী বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, তা যত দিন যাবে, ততই আমরা অনুধাবন করব। উপমহাদেশখ্যাত চিকিৎসাবিদ ও রাজনীতিবিদ ডাক্তার বিধান রায়েরও পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে কলকাতার ইংরেজি দৈনিক 'অমৃতবাজার পত্রিকা' লিখেছিল, 'রোজ কত মানুষেরই তো মৃত্যু হয়। কিন্তু এত মৃত্যুর মধ্যে ডা. বিধান রায়ের মৃত্যুর পার্থক্য এই যে এই মৃত্যুর ...
‘রথ ভাবে আমি দেব, পথ ভাবে আমি মূর্তি ভাবে আমি দেব...।’ (২)
কলাম
দৈনিক জনকণ্ঠ
১০ জানুয়ারী ২০১৩
যেসব ব্যর্থ কবি সফল কবিদের ক্রমাগত ভুল ত্রুটি ধরেন, সমালোচনা করেন এবং তুখোড় সমালোচক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে চান, কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁদের নাম দিয়েছিলেন ‘ছায়াপি-।’ এই সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছিলেন, ‘বরং নিজেই তুমি লেখোনা’ক একটি কবিতা, ছায়াপি- দিলো না উত্তর।’ কারণ, এই ছায়াপি-দের কবিতা লেখার ক্ষমতা নেই। কবি ও কবিতার সমালোচনা করার ত্যাদরামি আছে। অধুনা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলে এই ছায়াপি-ের সংখ্যা বেশি। যে কাজ করার মুরোদ তাদের নেই, সেই কাজ অন্যে (বিশেষ করে রাজনীতিকরা) করতে পারছে না বলে এরা কোরাসে চিৎকার তোলেন, অনবরত সভা, সমিতি, সেমিনার করেন। এসব সেমিনারের অধিকাংশের পেছনে থাকে বিদেশী সাহায্য এবং সেই বিদেশী সাহায্যেরও মূল উদ্দেশ্য থাকে সংশ্লিষ্ট দেশটির গণতান্ত্রিক রাজনীতির সাফল্যগুলো নয়, ভুল ত্রুটিগুলো বড় করে তুলে ধরা এবং এই গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নিজেদের স্বার্থে ডিসক্রেডিট করা। দেশীয় ‘ছায়াপি-’ তাদের স্বার্থের তল্পি বহন করে। বাংলাদেশের এই ছায়াপি-- বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সাবেক আমলা ড. আকবর আলি খানকে আমি একটু আলাদা চোখে দেখতাম। গম্ভীর সম্ভীর মানুষ। ...
ওবামার বিজয় ও বাংলাদেশের রাজনীতি
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
১৩ নভেম্বর ২০১২
আমার একটা অনুমান ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মিট রমনি সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জিতে যাবেন বলে আমার ধারণা জন্মেছিল। আমি মিট রমনির সমর্থক নই। তদ্রূপ ওবামারও নই। তবে আমেরিকায় ওবামার জনপ্রিয়তায় ধস নামা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে তাঁর ব্যর্থতা, বিশেষ করে ইহুদি ভোট মিট রমনি বেশি পাবেন ধারণা করে তাঁর জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল আমার এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। ওবামা অবিশ্বাস্যভাবে ডিসাইসিভলি জিতে গেছেন। তাতে মনে হয়, বর্তমান ...
অথ তোফায়েল-মতি সমাচার ॥ চায়ের কাপে তুফান
উপ-সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
১৯/০৯/২০১২
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এবং দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রিত্ব গ্রহণের অফার পেয়েও মন্ত্রী হননি। আমার মতে কাজটা তিনি ঠিক করেননি। এই ছোট্ট ব্যাপারটা নিয়ে এখন চায়ের কাপে তুফান সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। বলা হয়েছে, ‘প্রথম আলোর’ সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি মন্ত্রিত্ব নেননি এবং এই পরামর্শ গ্রহণের জন্য তিনি মন্ত্রিত্বের অফার প্রত্যাখ্যান করার আগে মতিউর রহমানের সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হয়েছিলেন। খবরটি প্রচারিত হওয়ার পরই মতিউর রহমান তাঁর কাগজে স্বনামে বিবৃতি ছেপে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তোফায়েল আহমেদের সঙ্গেও এই ব্যাপারে আমার আলাপ হয়েছে। খবরটি আমার জানার পরদিনই তিনি আমাকে ঢাকা থেকে একটি সৌজন্য টেলিফোন কল দিয়েছেন এবং বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ‘প্রথম আলো’ সম্পাদকের কোন নৈশভোজ হয়নি এবং খবরটা মিথ্যা রটনা। আমি তার কথা বিশ্বাস করি। কারণ, আওয়ামী লীগের যে মন্ত্রী খবরটা রটিয়েছেন, মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনে তার অযোগ্যতা ও অবহেলায় এবং দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলার রেকর্ড রয়েছে। নিজ দলের প্রবীণ নেতাদের সম্পর্কে কথাবার্তা বলার ব্যাপারেও তাঁর মধ্যে সংযম ও ভদ্রতাবোধের ...
রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন অবশ্যই দরকার, কিন্তু কোন্ পথে?
উপ-সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
০২/০৯/২০১২
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং আইনজীবী মহলে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন একটি সুপরিচিত নাম। তিনি সাবেক একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণও করেন। সম্প্রতি তিনি দেশে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন -ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবি সম্পর্কে নিজের সুস্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন দ্বারা দেশকে সঙ্কটমুক্ত করা যাবে বলে মনে করেন না। গত মাসের গোড়ায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সোসাইটি ফর পিস এন্ড প্রোগ্রেস কর্তৃক আয়োজিত ‘রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেছেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখন আর হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে দেশকে বাঁচানো যাবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টিকে সঙ্কট উত্তরণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কারণ, চিরস্থায়ী নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক সমাধানের পথ রুদ্ধ করে রেখেছে। গোল টেবিল বৈঠকে ব্যক্ত ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের সকল বক্তব্যের (বিশেষ করে ড.ইউনূস সংক্রান্ত) সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করি না। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের আবশ্যকতা সম্পর্কিত বক্তব্যের সঙ্গে সহমত ...
বের বন্ধুর কাছে পল্লীবন্ধু হেরে গেলেন
উপ-সম্পাদকীয়
জনকন্ঠ
০১/০৯/২০১২
বাংলাদেশে এরশাদের জমানায় শিল্পী কামরুল হাসান একটি খেতাব আবিষ্কার ও প্রবর্তন করেছিলেন। এই খেতাবটির নাম বিশ্ব বেহায়া। একটি কার্টুন এঁকে খেতাবটি তিনি তখনকার স্বৈরাচারী শাসক জেনারেল এরশাদকে উপহার দিয়েছিলেন। এরশাদ সাহেব নিজে একটি খেতাব ধারণ করেছিলেন। সেটি হলো পল্লীবন্ধু। এই খেতাবটি দেশবাসীর কাছে স্বীকৃতি পায়নি। তিনি তাদের কাছে বিশ্ব বেহায়া এই খেতাবে পরিচিত হয়েছিলেন। তারপর বহু বছর কেটে গেছে। এই খেতাবটি নতুন করে আর কাউকে দেয়া হয়নি। যদিও এই খেতাব লাভের একাধিক যোগ্যপ্রার্থী এখন বাংলাদেশে আছেন। শিল্পী কামরুল হাসানের মৃত্যু হওয়ায় এই খেতাব পাওয়ার যোগ্যপ্রার্থী আর খোঁজা হয়নি, কাউকে দেয়া হয়নি। বর্তমানে অর্ধ নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যকলাপ দেখে কেউ কেউ বলছেন, বিশ্ব বেহায়া এই খেতাবটি যদিও এখনও জেনারেল এরশাদ ধারণ করে আছেন, কিন্তু এখন এই খেতাবটি নোবেল জয়ীর পাওয়া উচিত। তিনি ইতোমধ্যে গরিবের বন্ধু নামে একটি খেতাব নিজেই ধারণ করেছেন। কিন্তু বিশ্ব বেহায়ার ভূমিকায় তিনি বহু আগেই পল্লীবন্ধু এরশাদকে হারিয়ে দিয়েছেন। এক কথায় গরিবের বন্ধুর কাছে পল্লীবন্ধু ...
আক্রান্ত আবুল হোসেন টার্গেট শেখ হাসিনা
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
৩১/০৭/২০১২
গত রবিবার (২৯ জুলাই) ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজন বন্ধু টেলিফোনে জানালেন, রাজধানীতে বড় বেশি শোরগোল পড়ে গেছে। সবাই অধোমুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটা কী করলেন! তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে আবুল হোসেন বিদায় নেওয়ায় যেখানে অর্থমন্ত্রী মুহিত পর্যন্ত উল্লাসে লাফিয়ে উঠে বলেছেন, 'আবুল-ডাউন', সেখানে প্রধানমন্ত্রী কিনা সেই আবুল হোসেনকে 'দেশপ্রেমিক' বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। ছিঃ ছিঃ ছিঃ! সারা দেশে ঢি ঢি পড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বসে একি কথা বললেন! সতী সাংবাদিকতায় কুলতিলকমণি 'প্রথম আলো' ও 'ডেইলি স্টার' তো একেবারে কার্টুন ছেপে পাতা ...
'যেতে নাহি দিব, তবু যেতে দিতে হয়'
কালের আয়নায়
সমকাল
২১/০৭/২০১২
তার নাটকের একটি চরিত্র বাকের ভাইয়ের (আসাদুজ্জামান নূর অভিনীত) যাতে ফাঁসি না হয় তার দাবিতে ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র মিছিল অনুষ্ঠান ছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। হুমায়ূন আহমেদ অকালে, অসময়ে চলে গেলেন; কিন্তু তিনি তার বহুমুখী সৃষ্টিকর্মের অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের এক ক্রান্তিলগ্নের এক সাহিত্যিক কালপুরুষ হিসেবে যে চিহ্নিত হবেন, তাতে সন্দেহ নেই এই দুঃসংবাদটি যে কোনো সময় পাব, এ আশঙ্কাটি আমার মনে গত কয়েকদিন ধরেই ছিল। যখন শুনেছি নিউইয়র্কের হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদের অবস্থার অবনতি ঘটছে, তখনই মনে হয়েছে এবার বুঝি ...
দিল্লির সিংহাসনে এই প্রথম বসতে যাচ্ছেন এক ‘বঙ্গরত্ন’
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৫/০৭/২০১২
আগামী ১৯ জুলাই ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন। আর মাত্র তিন দিন বাকি। ভারতের রাষ্ট্রপতির আসন একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ। কোন নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তথাপি এবার দেশ-বিদেশের অনেকেরই দৃষ্টি এই নির্বাচনের দিকে। এমনকি লন্ডনের বহুল প্রচারিত দি ইকোনমিস্ট পত্রিকা পর্যন্ত ২৩ জুনের সংখ্যায় এক পাতাজোড়া প্রতিবেদন ছেপে ফেলেছে। তাতে বলা হয়েছে, ''Finance minister, Pranab Mukherjee is Poised to achieve his second-highest ambition'' (ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চাকাক্সক্ষা পূরণ করতে চলেছেন)। ইকোনমিস্টের এই লেখাটি ছাপা হয়েছে গত মাসে। এ মাসের খবর, প্রণব বাবুর নির্বাচনে জেতা প্রায় নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তার স্বভাবসুলভ কায়দায় প্রণব বাবুর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে বাধা দিতে চেয়েছিলেন। তাতে নিজের নাক নিজেই কেটেছেন। সুবিধা করতে পারেননি। প্রণব মুখার্জি ও মমতা ব্যানার্জি দু’জনেই চরিত্রে সুবিধাবাদী ও অতি উচ্চাকাক্সক্ষী। সুতরাং দু’জনের মধ্যে মিলমিশ প্রায় অসম্ভব। ...
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মৃত্যু হয়েছে কবে এবং কখন?
কালান্তরের কড়চা
সমকাল
৩০/০৬/২০১২
সংবিধানে ক্ষমতা ত্যাগের আগে বিএনপি কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুতর বিকৃতি সৃষ্টি করার ব্যাপারটি হয় বিচারপতির চোখে পড়েনি অথবা চোখে পড়লেও তাকে আমল দিতে চাননি। ফলে তার চড়া মাশুল দিতে হয়েছে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে এবং এখনও সেই মাশুল গুনতে হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার শুরুতেই বিএনপি তাতে ক্ষত সৃষ্টি করে রেখে গিয়েছিল। এই ক্ষত থেকেই ব্যবস্থাটিতে পচনের শুরু। প্রাচীনকালে হিন্দু তান্ত্রিকদের মধ্যে শব সাধনা বা প্রেত সাধনা নামে একটি সাধনার প্রচলন ছিল। এ সাধনার দ্বারা শবকে তারা জীবিত করে ...
গ্রামীন ব্যাংক ব্যবস্থার একজন উদ্ভাবকের মৃত্য�
কালের আয়নায়
সমকাল
১৬/০৬/২০১২
রণজিত গুপ্তের পরিকল্পনায় গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা থাকবে গরিব শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। তাদের নির্বাচিত বোর্ড ব্যাংক পরিচালনা করবে এবং এই ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কোনো এক ব্যক্তির কর্তৃত্বের বদলে সরকারের নজরদারি থাকবে। ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের কার্যক্রম ও হিসাব সম্পর্কে অবহিত থাকবেন এবং মুনাফার অংশ পাবেন। সম্প্রতি কলকাতায় সাবেক পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তী জীবনে নৃতত্ত্ব ও কৃষি গবেষণার জন্য বিখ্যাত একজন পণ্ডিত রণজিত গুপ্ত প্রয়াত হয়েছেন। ...
ড. ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি
কালের আয়নায়
সমকাল
০৯/০৬/২০১২
ধরে নেওয়া যাক, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন! তাহলে এই তদন্তে আপনার আপত্তি জানাবার বা ভীত হওয়ার কারণ কী থাকতে পারে? তাহলে আপনার আপত্তি কি তদন্ত কমিশন সম্পর্কে? তাদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তে আপনি আস্থা রাখেন না? যে চারজন তদন্ত কমিশনের সদস্য হয়েছেন, তারা আপনার বিরোধী মহলের ব্যক্তি নন এবং তাদের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার এখন পর্যন্ত অবকাশ ঘটেনি। ...
অ-রূপকথার যুগের এক রানির গল্প
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
০৫/০৬/২০১২
আমি রানি ভিক্টোরিয়াকে দেখিনি, কিন্তু রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে দেখেছি। একবার নয়, কয়েকবার দেখেছি। দূর থেকে দেখেছি দুবার। সামনাসামনি দেখেছি দুবার। তাঁর সঙ্গে শেক হ্যান্ডও করেছি একবার, একেবারে তাঁর বাকিংহাম প্যালেসের দরবারকক্ষে দাঁড়িয়ে। ভিক্টোরিয়ার মতোই তিনি অল্প বয়সে সিংহাসনে বসেছেন। ভিক্টোরিয়ার মতোই দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন এবং এ বছর তাঁর রাজত্বের ৬০ বছর পূর্ণ হলো। এই জুন মাসের গোড়ায় আজ কদিন ধরে চলছে তাঁর সরকারি ডায়মন্ড জুবিলি উৎসব। আজ চার দিন ধরে (২ থেকে ৫ জুন) সারা লন্ডন শহর উৎসব ও ...
আওয়ামী লীগের শক্তি ও দুর্বলতার উৎস একই (২)
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৪/০৬/২০১২
কবিয়াল রমেশ শীলের একটি গানের দুটি চরণ এখানে উদ্ধৃত করছি। ‘জনতা ছিনাইয়া আনে জয়/ নেতারা সেই জয় করে শুধু ক্ষয়।’ অর্থাৎ জনতা প্রবল যুদ্ধ করে গণশত্র“দের পরাজিত করে যে জয় ছিনিয়ে আনে, তাদের নেতারা ক্ষমতায় বসে নিজেদের ভুল, সুবিধাবাদিতা ও অযোগ্যতার জন্য সেই জয়কে পরাজয়ে পরিণত করে নিজেরা ডোবেন এবং দেশকেও ডোবান। এই কথাটা যে কত বড় সত্য, তা আমার নাতিদীর্ঘ সাংবাদিক জীবনেও বহুবার প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হল, জনতা ভুল করে না। ভুল করেন নেতারা। তার মাশুল দিতে হয় আবার জনতাকেই। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান আমলে আমরা কী দেখেছি? স্বৈরাচারী মুসলিম লীগ-শাহীর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে জনতার যে দুর্ভেদ্য ঐক্যের দুর্গ গড়ে উঠেছিল, তার ফলে নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক জয়ের অধিকারী হয়েছিল যুক্তফ্রন্ট। জনতা লীগ-শাহীকে সমূলে উৎখাত করেছিল পূর্ব পাকিস্তানের মাটি থেকে। জনতা জয় অর্জনে ভুল করেনি। ...
'লঙ ওয়েটিং' ছবির কাহিনী এবং বাংলাদেশের রাজনীতি
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০১/০৬/২০১২
আমার কৈশোর, সেই পঞ্চাশের দশকের গোড়ায় আমি যখন ঢাকা কলেজের ছাত্র, তখন হলিউডের ওয়েস্টার্ন ছবি দেখার খুব শখ ছিল (এখনও যে নেই তা বলছি না)। তখন ঢাকার দুটি প্রেক্ষাগৃহে কেবল ইংরেজী ছবি দেখানো হতো। একটি ছিল গুলিস্তান হলের কাছে। নাম ব্রিটানিয়া। অন্যটি ছিল পুরনো ঢাকায়, সেন্ট্রাল জেলের সম্মুখভাগের যে রাস্তাটি বংশালের দিকে চলে গেছে, তার এক বাইলেনে। সম্ভবত আলি নকির দেউড়ি নাম ছিল। সিনেমা হলটির নাম ছিল নিউ পিকচার প্যালেস অথবা নিউ পিকচার হাউস। এই দুটি সিনেমা হলের একটিও এখন নেই। ব্রিটানিয়া এবং নিউ পিকচার প্যালেসে আমি কেবল ওয়েস্টার্ন ছবি নয়, সে যুগের অনেক নাম করা ইংরেজী ছবি দেখেছি। যেমন 'ড. জেকিল এ্যান্ড মি. হাইড, 'গিভ আস দিস ডে', 'স্ট্রেঞ্জার ইন এ ট্রেন', 'থ্রি মাস্কেটিয়ার্স' এবং আরও অনেক ছবি। ঢাকার তখনকার এলিট ক্লাসের প্রায় সকলকেই এই দুটি ছবিঘরে দেখা যেত। আর কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা তো ভিড় জমাতই। ...
আমরা আমাদের শেষ বোধিবৃক্ষও হারালাম
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
৩০/০৫/২০১২
আমাদের শেষ বোধিবৃক্ষ চলে গেলেন। তেরো ডিসেম্বরের সকালেই (লন্ডন সময়) যখন এই খবরটা পেলাম, তখন মনে হলো আমরা একটি বিরাট বটের ছায়া থেকে আশ্রয়চ্যুত হলাম। আমাদের হাজার বছরের শাশ্বত বাংলার বিপন্ন সংস্কৃতি আরেকটি রৰা প্রাচীর হারাল। ১৯২৩ সালে তাঁর জন্ম। ৮৮ বছর বয়সে এই মহাপ্রয়াণকে পরিণত বয়সের মৃতু্যই বলা চলে। কিন্তু আমার শোক ও দুঃখ এইখানে যে, যাকে আজ হারালাম, তাঁকে আর পাব না এবং আমাদের জাতীয় জীবনের এই চরম আপতকালে তাঁকে আমাদের আরও কিছুকাল বড় বেশি প্রয়োজন ছিল। আমাদের বোধিবৃৰগুলো এক এক করে শূন্য হচ্ছে। সেই শূন্য স্থানগুলো দূর ভবিষ্যতেও পূর্ণ হবে সে আশা মনে জাগছে না। কবীর চৌধুরী একটি ব্যক্তি নন, একটি ইনস্টিটিউশন। তাঁর গোটা পরিবারটিকেই বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির একটি ইনস্টিটিউশন বলা চলে। তার ছোট ভাই মুনীর চৌধুরী একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী। এককালে বাম রাজনীতিতে ছিলেন উজ্জ্বল তারকা। একাধারে নাট্যকার, শিৰাবিদ এবং মুক্ত চিন্তার অগ্রপথিক। ...
ব্যারিস্টার হুদার আলটিমেটাম কি বেহুদা হুমকি?
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
২৯/০৫/২০১২
সম্প্রতি ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তাঁর দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে একটি আলটিমেটাম দিয়েছেন। আলটিমেটামটি হলো, 'আগামী ৫ জুনের মধ্যে খালেদা জিয়া যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক সংলাপে বসার আমন্ত্রণ না জানান, তাহলে ৬ জুন তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেবেন। সেদিন থেকে তাঁর নতুন রাজনীতি শুরু হবে।' তাঁর এই নতুন রাজনীতি কী হবে, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। নতুন কোনো রাজনৈতিক দল করবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ...
পাঁচ নেতার শেষ জীবনের অপূর্ণ ইচ্ছা ও পরিকল্পনা (২)
উপ সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
১০/০৭/২০১২
আজকের লেখাটি দৈনিক ইত্তেফাকের সহূদয় পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে শুরু করছি। “পাঁচ নেতার শেষ জীবনের অপূর্ণ ইচ্ছা ও পরিকল্পনা” শীর্ষক লেখাটির পরবর্তী অংশ নির্দিষ্ট সময়ে ‘ইত্তেফাকে’ পাঠাতে পারিনি। এ লেখা পাঠানোর ব্যাপারে যান্ত্রিক গোলযোগের সম্মুখীন হওয়ায় এই বিপত্তি। এজন্যেই সহূদয় পাঠকদের কাছে আজ প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই প্রবন্ধটির যে প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়েছে, তাতেই লিখেছিলাম, ‘লাস্ট ডেজ অব লেনিন’  নামে একটি বই পাঠ করে এই প্রবন্ধটি লেখার জন্য আমার ইচ্ছা জাগে। লেনিন এবং মাও  জে দুংয়ের শেষ জীবনের রাজনৈতিক ইচ্ছা যে পূর্ণ হয়নি এবং তাদের কয়েকজন রাজনৈতিক সহকর্মীই যে সেই ইচ্ছা পূরণের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সে ইতিহাসও সংক্ষেপে আলোচনা করেছি। লেনিন ও মাওয়ের শেষ জীবনের কাহিনীর সূত্র ধরেই লিখেছিলাম, আমাদের উপমহাদেশের তিন মহানায়ক গান্ধী, জিন্না এবং শেখ মুজিবও তাদের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করে যেতে পারেননি। তারাও নিজেদের একাধিক বিশ্বস্ত সহকর্মী দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছেন, কেউ কেউ প্রতারিত হয়েছেন। গান্ধী, জিন্না এবং শেখ মুজিব যদি তাদের জীবনের শেষ ...
ডা. আফ্রিদি ফেরেশতা না শয়তান?
কালের আয়নায়
সমকাল
২৬/০৫/২০১২
পাকিস্তানে শিশুদের মধ্যে পোলিও রোগের সংক্রমণ ব্যাপক। তার বিরুদ্ধে টিকাদান অভিযান একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। ডা. আফ্রিদির মাধ্যমে এই টিকাদান অভিযানকে কভার করে সিআইএর লাদেন হত্যা তৎপরতা চালিত হওয়ায় এই টিকাদান অভিযান শুধু ব্যাহত হওয়া নয়, অভিযানটি ক্রেডিবিলিটি হারিয়েছে। গত দু'বছরে পাকিস্তানে দু'লাখ শিশুকে পোলিওর টিকাদান সম্ভব হয়নি। গত মার্চ মাসে বিশ্বের দু'শ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান সিআইএর ডিরেক্টর ডেভিড পেট্রুজের কাছে যুক্তভাবে চিঠি লিখে তাদের এই অবৈধ, মানবতাবিরোধী কৌশলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমার আজকের লেখার শিরোনামটি সম্পর্কে সহৃদয় পাঠকদের আগেই জানিয়ে ...
রাজনীতিতে জনমত গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করেন কারা?
কালান্তরের কড়চা
কালের কন্ঠ
২২/০৫/২০১২
পশ্চিমবঙ্গের গত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের বেশ কিছু আগে কলকাতায় গিয়েছিলাম। তখন সিন্ধুর ও নন্দিগ্রামে কৃষক অসন্তোষ শুরু হয়ে গেছে। তবে মমতা-জোয়ার তখনো প্রবলভাবে দেখা দেয়নি। কলকাতার বাজারি পত্রিকা 'আনন্দবাজার' (ঢাকায় 'প্রথম আলোর' চরিত্রের কাগজ) তখনো ভোল পাল্টে মমতার পক্ষে তেমন জোরেশোরে কিছু লিখছে না। কেবল মহাশ্বেতা দেবীর নেতৃত্বে একদল প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী বামফ্রন্ট সরকার ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে সমালোচনা করা শুরু করেছেন মাত্র। এক দিন এক সাংবাদিক বন্ধু ক্যালকাটা ক্লাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। গিয়ে দেখি আরো দু-চারজন সাংবাদিক বন্ধু এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ...
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের আমলনামা
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
22/05/2012
বাংলাদেশের গত চলি্লশ বছরের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের পর আমার মনে এই ধারণাটি বদ্ধমূল হয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামী দলটি ইসলামের পবিত্র নামটি ব্যবহার করেছে বটে, আসলে তারা ইসলামের আদর্শে বিশ্বাসী নয়। তাদের বিশ্বাস, ত্রিশের দশকের জার্মানির নাৎসি দর্শনে। ইসলাম বলে, 'অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য বলা জিহাদ।' আর নাৎসিরা বলে, 'একটি মিথ্যাকে একশ'বার বলে সত্যে পরিণত করা যায়।' নাৎসিদের মিথ্যাচারিতার এই দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন হিটলারের ঘনিষ্ঠ অনুচর গোয়েবলস। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষে নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের যখন বিচারের সম্মুখীন করা হয় তখন গোয়েবলস আত্মহত্যা করে বিচার এবং শাস্তি এড়িয়েছিলেন। সম্প্রতি জার্মানিতে গিয়েছিলাম। আগেও বহুবার গেছি। কিন্তু এবার জার্মানিতে স্বল্পকালীন অবস্থানের সময়েও গোয়েবলস সম্পর্কে একটু জানাশোনার ইচ্ছে হয়েছিল। আমি কোথায় যেন গোয়েবলস ও নাৎসি-দর্শনের সঙ্গে গোলাম আযম এবং জামায়াতি রাজনীতির একটা মিল পাই। মিথ্যাচারে গোলাম আযম সম্ভবত গোয়েবলসকেও হার মানিয়েছেন। ...
ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল এবং সম্ভাব্য ঢাকা ট্রায়াল
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
২০/০৫/২০১২
আমার জার্মান বন্ধু ইভা স্যান্ডার্স একজন তরুণী আইনজীবী। তিনি বামঘেঁষা এবং মাঝে মাঝে বার্লিন থেকে লন্ডনেও আসেন। সৈয়দ মুজতবা আলীর চাচাকাহিনীখ্যাত বিপ্লবী নরেন গুপ্তের ভাইপো সুনীল গুপ্তের (এখন জার্মানির বাঙালি মাত্রেরই সুনীল দা) জার্মান স্ত্রীর সৌজন্যে সম্ভবত ইভার সঙ্গে আমার পরিচয়। সে বেশ কয়েক বছর আগের কথা। এই ইভা আমাকে একটি বই উপহার দিয়েছিলেন। নাম 'ট্রায়াল অব ন্যুরেমবার্গ'_একটি জার্মান বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ। ...
আমাদেরও একজন 'বাংলাদেশী কিসিঞ্জার' আছেন
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৯/০৫/২০১২
আমাদের পররাষ্ট্রসংক্রান্ত উপদেষ্টা পদে এখন একজন কিসিঞ্জার আছেন। তিনি বাঙালী না হলেও বাংলাদেশী। থাকেনও বিদেশে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি কারণে জানি না, তাঁকে একেবারে বিদেশসংক্রান্ত উপদেষ্টা পদে বসিয়ে দিয়েছেন। তবে আমেরিকার নিঙ্ন আমলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশী কিসিঞ্জারের একটা পার্থক্য আছে। আমেরিকার প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন-ইহুদী কিসিঞ্জার একজন সফল ডিপ্লোম্যাট ছিলেন (এখনও বেঁচে আছেন)। কথা খুবই কম বলতেন, গোপন কূটনীতিতেই বেশি সাফল্য দেখাতেন। আমাদের বাঙালী নন, বাংলাদেশী কিসিঞ্জার একজন সফল একাডেমিক কিন্তু তিনি সফল কূটনীতিক তার কোন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে কথা বলার কূটনীতিতে তিনি পারদর্শী। মার্কিন কিসিঞ্জারের ওপর প্রেসিডেন্ট নিঙ্ন একটি দুরূহ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কমিউনিস্ট রাষ্ট্র চীনের সঙ্গে আমেরিকার তখন প্রচ- বৈরিতা। ...
ভারতীয় গণতন্ত্রে ফাটল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিপদাশঙ্কা
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৮/০৫/২০১২
আমাকে এক সময় ভারত-প্রেমিক বলা হতো। যারা আমার লেখা বা আমাকে পছন্দ করেন না, তারা বলতেন, ‘ভারতের দালাল’। বিশেষ করে পাকিস্তানপন্থীরাই আমাকে এই গালিটা দিতেন। আমি তাতে কখনো দুঃখবোধ করিনি। কারণ, আমি তো একজন নগণ্য সাংবাদিক। পাকিস্তানের শাসক এবং তাদের অনুসারী ও অনুগৃহীত ব্যক্তিরা শেরে বাংলা ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানীর মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় জননেতাদের পর্যন্ত ‘ভারতের দালাল’, ‘হিন্দুদের দালাল’, ইত্যাদি বলে গালি দিত। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় যার অবদান সবচাইতে বেশি, সেই শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী করাচির জাহাঙ্গীর পার্কের জনসভায় দাঁড়িয়ে গালি দিয়েছিলেন, ‘ভারতের লেলিয়ে দেওয়া পাগলা কুত্তা’ (a mad dog let loose by India)। পাকিস্তান আমলে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) যেসব বাঙালি নেতা গণতন্ত্র, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন এবং ভাষা সংস্কৃতির অধিকারের পক্ষে কথা বলতেন, তাদেরই ঢালাওভাবে ভারতের দালাল আখ্যা দেওয়া হতো। ...
সরকার হার্ডলাইনে গিয়ে লাভবান হবে কি?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৮/০৫/২০১২
বিরোধী দলের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে গিয়ে সরকার নিজেদের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ানো ছাড়া আর কোনো লাভেরই অধিকারী হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার যখন রাজনৈতিক শক্তি দ্বারা বিরোধী পক্ষকে মোকাবেলা করার বদলে ক্ষমতার লাঠি দ্বারা তাদের দমন করতে চায়, তখনই বুঝতে হবে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারা এখন একটি উইক গভর্নমেন্ট, মোটেই স্ট্রং গভর্নমেন্ট নয়। অতীতে বিএনপি সরকার এ ধরনের হার্ডলাইন ও দমননীতি দ্বারা ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বাংলাদেশের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকার ও বিরোধী দল আবার রাজপথে মুখোমুখি। হরতালের প্রতি জনসমর্থন নেই, তবু সেই হরতালকে হাতিয়ার করে বিএনপি জোট আবার মাঠে নেমেছে। সরকারও হার্ডলাইনে গেছে। বিএনপি জোটের বিশালসংখ্যক নেতা রাজপথে অরাজকতা সৃষ্টি, ভাংচুরের দায়ে পুলিশি মামলায় জেলে বন্দি। ...
বাংলাদেশে প্রণব বাবুর প্রমোদভ্রমণ (?)
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
১৩/০৫/২০১২
আমাদের সর্বজনীন প্রণব দাদা সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তিনি অবশ্য রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে এসেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সার্ধজš§শত বার্ষিকীর সমাপ্তি অনুষ্ঠান ছিল ঢাকায়। এই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে খুশি হয়েই কিনা জানি না, তিনি বাংলাদেশকে কিছু বকশিশ দেয়ার ঘোষণা দিয়ে গেছেন। এই বকশিশটা হল, প্রণব বাবুর পূর্ব ঘোষিত ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে দেয়া ১০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তিতে বড় রকমের ছাড় দেয়া। তাতে বাংলাদেশের মিডিয়ায় ধন্য ধন্য রব ওঠা উচিত ছিল। তা ওঠেনি। কেউ কেউ বলেছেন, আগে প্রতিশ্র“তিটা পালিত হোক। না আঁচালে বিশ্বাস নেই। প্রণব মুখার্জি ভারতের অর্থমন্ত্রী হলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বিশেষভাবে পরিচিত। তখন তিনি যুবক ছিলেন। তবু মুক্তিযুদ্ধের অনেক তরুণ নেতার কাছে দাদা ছিলেন। সেই তরুণরা এখন প্রবীণ হয়েছেন। প্রণব বাবু হয়েছেন আরও প্রবীণ। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটির অধিকাংশ নেতার কাছেই তিনি প্রণব দা। ...
“স্বদেশ স্বদেশ করিস তোরা, স্বদেশ তো আর তোদের নয়”
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
০৯/০৫/২০১২
আটাশ দিন পর লন্ডনে ফিরে এসে ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। আমরা তাদের বলি জিপি বা জেনারেল প্র্যাকটিসনার। তিনি মধ্যবয়সী সুশ্রী মহিলা বেশ মিস্টি হেসে কথা বলেন। আমাকে দেখেই হেসে বললেন, এবার বাংলাদেশ থেকে কি কি রোগ নিয়ে এসেছ? বললাম, ডায়েরিয়া এবং জ্বর। তিনি বললেন, প্রতিবারই তো এই রোগ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ফের। এবার ক’দিন ছিলে ঢাকায়? মাত্র আট দিন। তাকে জানালাম। দু’সপ্তাহ ছিলাম সিঙ্গাপুরে। তখন কিছু হয়নি। ২৭ এপ্রিল লন্ডনে ফেরার পথে আটদিনের জন্য ঢাকায় থেমেছি। দু’দিন না যেতেই এই অসুখ। জিপি বললেন, বাংলাদেশে গেলেই দেখছি আমার সকল পেসেন্টই নানা রোগের ভাইরাস বহন করে ফিরে আসে। দীর্ঘদিন ভোগে। তোমরা এই দেশটাতে যাও কেন? বললাম, কি করব? এটা আমার স্বদেশ। এই দেশে জন্মেছি। তার অন্নে মানুষ হয়েছি। তা কি করে ভুলব? ...
কেন এসেছিলেন হিলারি-প্রণব
কালান্তরের কড়চা
কালের কণ্ঠ
০৮/০৫/২০১২
মাসখানেক লন্ডনের বাইরে ছিলাম। তাই লেখাজোখা আর হয়ে ওঠেনি। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ছিলাম ঢাকায়। যেদিন ঢাকায় পৌঁছেছি, তার পরদিনই দুই দিনব্যাপী হরতাল। তারপর ছুটিছাঁটা, ফলে কোথাও তেমন বেরোতে পারিনি, তবে দেশে আবহাওয়ার উত্তাপ এবং রাজনীতির উত্তাপ ভালোভাবেই অনুভব করেছি। যানজট, মশার উৎপাত এবং ঘন ঘন লোডশেডিং জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এসব নিয়ে একটু সুস্থ হয়ে লিখব বলে আশা রাখি। এখন পর্যন্ত ঢাকায় আট দিন অবস্থানের ধাক্কা আমি কাটিয়ে উঠতে পারিনি। একটু সুস্থ হয়ে বিস্তারিত লেখার ...
‘প্রতিবেশী শত্রু হলেও তার ঘরপোড়া আলু খেতে নেই’
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৯/০৪/২০১২
একটি বহু পুরনো এবং প্রচলিত গল্প হচ্ছে, এক বাড়িতে আগুন লেগেছে দেখে বাড়ির মালিকের সঙ্গে শত্রুতার সম্পর্ক এমন এক প্রতিবেশী খুব খুশি হলেন। আগুন লাগা বাড়িটিতে আলুর গুদাম ছিল। প্রতিবেশী আগুন নেভানোর কাজে সাহায্য জোগালেন না। চাইলেন আগুনে যাতে আলুগুলো ভালো করে পোড়ে। তাহলে তার দুই লাভ, পোড়া আলু খেতে পারবেন। অন্যদিকে শত্র“ নিপাতও হল। এই প্রতিবেশীর মোটা বুদ্ধিতে ধরা পড়েনি যে, তাও নিজের বাড়ির লাগসই বাড়িতে আগুন লাগলে তা তাও বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি যখন পরম আনন্দে পোড়া আলু খাওয়ায় ব্যস্ত, তখন সেই আগুন তাও বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে এবং তা পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। অধুনা পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে বিরোধে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী সন্ত্রাসীদের দমনের নামে কিছুদিন আগে পর্যন্ত যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তা দেখে ভারতের সরকারি-বেসরকারি একশ্রেণীর নেতা, রাজনীতিক, মিডিয়া ও সেনা কর্মকর্তা যেভাবে উল্লাস প্রকাশ করছেন, তাতে বাজারে প্রচলিত গল্পটির কথা মনে না পড়ে পারে না। ...
আবার ক্যু-চক্রান্ত, আবার একজন মেজর জিয়া?
কালের আয়নায়
দেশে বিদেশে
২৭/০৪/২০১২
বাংলাদেশে আবারও একটি সামরিক ক্যু ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল। আবারও একজন মেজর জিয়া (মেজর সৈয়দ মোঃ জিয়াউল হক) এই ব্যর্থ ক্যু-প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি এখন পলাতক। তবে পলাতক অবস্থাতেই ষড়যন্ত্র এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনী তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে। তাকেও অবিলম্বে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে এই নতুন মেজর জিয়াকেও কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতার পেছনে কারা আছে, কারা ইন্ধন জুগিয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল তা জানা যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাব, তিনি বিডিআর বিদ্রোহের মতো অসীম সাহস ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেও ধন্যবাদ জানাব, এবার তারা কোনো 'জিয়া-কুহকে' মজেননি। বরং নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি অনুগত থেকে কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছেন। ...